ডাঃ আবদুল্লাহ আল-সানাদ জানিয়েছেন আগামীকাল থেকে শীতকালীন রোগের জন্য টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে ৫৮ টি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এবং যারা ৬০ বছরের বেশি বয়সী রয়েছেন তাদের জন্য বর্তমানে বোস্টার ডোজ দেওয়ার নিবন্ধন খোলা হয়েছে।
আগামী রবিবার থেকে সরকারি হাসপাতালের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর্মীদের শীতকালীন শ্বাসকষ্টজনিত রোগের বিরুদ্ধে টিকা অভিযান শুরু হচ্ছে।
যারা কোভিড -১৯ ভ্যাকসিনের বুস্টার ডোজ (তৃতীয় ডোজ) পেয়েছেন তারা সময়মতো মৌসুমী ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিনও দিতে সক্ষম হবেন।
ডঃ আল-সানাদ আরো বলেন শীতকালীন শ্বাসকষ্ট রোগের বিরুদ্ধে টিকা অভিযান শুরু করার বিষয়ে যোগ করেছেন, এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন এবং নিউমোনিয়া ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে টিকা (নেমোকোকাল) ডাক্তারদের কাছে আগামী রবিবার পর্যন্ত অর্থাৎ এই মাসের ১০ তারিখের মধ্যে পৌঁছে যাবে ।
ডাঃ আল-সানাদ ব্যাখ্যা করেছেন যে ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ শ্রেণী, স্বাস্থ্যকর্মী এবং দুর্বল ও দীর্ঘ মেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শ্রেণীর মধ্যে যারা কোভিড -১৯ ভ্যাকসিনের বুস্টার ডোজ (তৃতীয় ডোজ) পেয়েছিল তাদেরকেও মৌসুমী ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
আমার বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যারা আমাকে”খাইতানের জারজ হিসেবে ফেলে দিয়েছে” এমন সংবাদ শিরোনাম করে খবর প্রকাশ করেছে কুয়েতের দৈনিক আল আনবা ও কয়েকটি পত্রিকা ।
সুত্রে প্রকাশ, কুয়েতের খাইতান এলাকায় নবজাতককে ফেলে যাওয়ার দুই দিন পরে জিলিব আল সুকের গোয়েন্দা খুঁজে বের করেন নব জাতকের মা ভারতীয় নারী এবং বাবা জর্ডানের এক প্রবাসীকে, যাদের অবৈধ মেলামেশায় এই নিস্পাপ শিশুর জম্ম হয় ।
জানাযায়, খাইতান এলাকার একটি মসজিদের পাশে ময়লার আঙিনায় ফেলে দেওয়া শিশুকে উদ্ধার করার পর দুই দিন পর মাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছিল।
নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে আল-আনবা জানিয়েছে যে, গোয়েন্দাদের তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর অপরাধের আলামত সংগ্রহ করে, যা খাইতান এলাকার একটি মসজিদের পাশে একটি শিশু (ফাউন্ডলিং) খুঁজে পাওয়া যায়, এবং সেই অনুযায়ী শিশুকে উদ্ধার করে সুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।
গোয়েন্দারা তদন্ত চালিয়ে সন্তানের মায়ের পরিচয় পেয়েছেন, যিনি একজন ভারতীয় প্রবাসী।
শিশুটির মায়ের পরিচয় নিশ্চিত করার পর, তাকে আটক করা হয়, এবং সে স্বীকার করে যে, শিশুটি এক জর্ডান প্রবাসীর সাথে সম্পর্কের ফল, যিনি এক বছর ধরে তার সাথে বাসায় ছিলেন এবং বলেছিলেন যে, মসজিদের পাশে শিশুটিকে ফেলে দিয়ে পরিত্রাণ পেতে।
সে জর্ডান প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং মামলা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য তাদেরকে কতৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হয় ।
বিশ্বমানের সেবা দিতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর যখন প্রস্তুত হচ্ছে, সে সময়ও বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীরা অহরহ হয়রানির শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীরা পড়ছেন নানা ভোগান্তিতে।গণশুনানিতে উঠে আসা এমন অভিযোগের তাৎক্ষণিক সমাধান দিতে উপস্থিত ছিলেন সব পর্যায়ের কর্মকর্তারা।তবে অভিযোগের কোনো উত্তর ছিল না কারো কাছে।করোনা মহামারিকালে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসায় শুরু হয়েছে বিমান চলাচল।তবে দানা বেঁধেছে নানা জটিলতা।যাত্রীদের নানা ভোগান্তির বিষয়ে জানতে
সোমবার বিমানবন্দর প্রাঙ্গণে গণশুনানির আয়োজন করে বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।বিভিন্ন জটিলতার কথা কর্তৃপক্ষের সামনে তুলে ধরেন বিমানবন্দরে উপস্থিত যাত্রীরা।এক্ষেত্রে অনেকটা কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেড়িয়ে আসার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত সোমবার রাতে ইতিহাদ এয়ারওয়েজের আরব আমিরাতগামী একটি ফ্লাইট ছিল। বিমানবন্দরে এসে করোনা পরীক্ষা করে ফল আসতে দেরি হওয়ায় অন্তত ৮০ জন যাত্রী ফ্লাইটটি ধরতে পারেননি। বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষার ফল দিতে বিলম্ব হওয়ায় তাঁরা নির্ধারিত সময়ে বোর্ডিং কাউন্টারে পৌঁছাতে পারেননি। আগেই কাউন্টার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আর ফ্লাইট ধরতে পারেননি তারা। তবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফ্লাইট ধরতে না পারা ওই যাত্রীদের আমিরাতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতিহাদ এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ওই ৮০ জন যাত্রীকে ইতিহাদের পরবর্তী ফ্লাইটে নেওয়া হবে।
গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল যা ছিল ২৩ জনে। এ নিয়ে দেশে ভাইরাসটিতে প্রাণ হারিয়েছেন ২৭ হাজার ৬৩৫ জন।
বুধবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৭০৩ জন। এখন পর্যন্ত মোট করোনা শনাক্ত হয়েছেন ১৫ লাখ ৬০ হাজার ১৫৫ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৪ হাজার ৩৭৬ জনের। নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ২ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৮১৭ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ২১ হাজার ১১৩ জন।
দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত বছরের ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই বছর সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছিল ৬৪ জনের।
ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় চলতি বছর জুন থেকে রোগীর সংখ্যা হু-হু করে বাড়তে থাকে। ২৮ জুলাই একদিনে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল।
চলতি বছরের গত ৭ জুলাই প্রথমবারের মতো দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৫ ও ১০ আগস্ট ২৬৪ জন করে মৃত্যু হয়, যা মহামারির মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু।
বেশকিছু দিন ২ শতাধিক মৃত্যু হয়। এরপর গত ১৩ আগস্ট মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ এর নিচে নামা শুরু করে। দীর্ঘদিন শতাধিক থাকার পর গত ২৮ আগস্ট মৃত্যু ১০০ এর নিচে নেমে আসে।
কাতারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কোভিড-১৯ ট্রাভেল এন্ড রিটার্ন পলিসি্তে কিছু আপডেট ঘোষণা করেছে যা ৬ অক্টোবর ২০২১ কাতারে পৌঁছানোর সময় দুপুর ২ টা থেকে কার্যকর হবে। বাংলাদেশ এক্সেপশনাল রেড কান্ট্রিজ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত। নিম্নে কিছু সাধারণ নীতি এবং বাংলাদেশ তথা এক্সেপশনাল রেড কান্ট্রিজ ক্যাটাগরির জন্য প্রযোজ্য কিছু নীতি দেয়া হলঃ
• কাতার আসার আগে ভ্রমণকারীদের একটি আন্ডারটেকিং ও একনলেজমেন্ট ফর্ম পূরণ করে স্বাক্ষর করতে হবে। ফর্মটি এমওপিএইচ ওয়েবসাইট, অনলাইন রেজিস্ট্রেশন প্ল্যাটফর্ম (এহতেরাজ ওয়েবসাইট) এবং এয়ারলাইন্সের টিকিট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাওয়া যাবে।
• ভ্রমণকারীদের এহতেরাজ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনটি ডাউনলোড করে কাতারের স্থানীয় বা আন্তর্জাতিক সিম কার্ড ব্যবহার করে তাদের মোবাইল ফোনে সক্রিয় করতে হবে।
• কাতারে আসার পূর্বে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পিসিআর পরীক্ষা করতে হবে ও ফলাফল নেগেটিভ হতে হবে।
• কাতারের রেসিডেন্টদের জন্য কাতারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত পূর্ণডোজ ভ্যাকসিন নেয়া থাকলে দুই দিনের হোটেল কোয়ারেন্টাইন সম্পন্ন করতে হবে। আর যারা টিকা নেননি বা যাদের ডোজ সম্পন্ন হয়নি, তাদের ৭ দিনের হোটেল কোয়ারেন্টাইন সম্পন্ন করতে হবে।
• পূর্ণ ডোজ ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন এমন ভিজিটরদের দুই দিনের হোটেল কোয়ারেন্টাইন সম্পন্ন করতে হবে। পূর্ণ ডোজ ভ্যাকসিন গ্রহণ করেননি এমন টুরিস্ট/ ভিজিটরদের ক্ষেত্রে আগমণ নীতি পূর্বের ন্যায় বহাল থাকবে, অর্থাৎ তারা কাতারে প্রবেশ করতে পারবেন না।
• কাতারের নন-রেসিডেন্টদের ( টুরিস্ট, ভিজিটর) কাতারে আসার আগে অনলাইন নিবন্ধন প্ল্যাটফর্ম (www.ehteraz.gov.qa) এর মাধ্যমে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক।
• শর্তসাপেক্ষে অনুমোদিত ভ্যাকসিন তালিকা আপডেট করা হয়েছে। পূর্বের সিনফার্মের সাথে নতুন করে সিনোভ্যাক এবং স্পুটনিক (ভি) এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
• শর্তসাপেক্ষে অনুমোদিত ভ্যাকসিনের দুই ডোজ নিয়েছেন এবং দ্বিতীয় ডোজের ১৪ দিন পর কাতার ভ্রমণ করবেন এমন যাত্রিদের ভ্রমণের আগে সেরোলজি অ্যান্টিবডি পরীক্ষা বাধ্যতামূলক এবং ফলাফল পজেটিভ আসতে হবে। এরূপ পরীক্ষার বৈধতার মেয়াদ ৩০ দিন।
**কাতার কর্তৃপক্ষ সময়ে সময়ে তাদের নীতিমালা পরিবর্তন করে থাকে, তাই সকলকে কাতারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইট সমূহ নিয়মিত ভিজিট করে আপডেট থাকার জন্য অনুরোধ করা হল।
বিদেশ থেকে অনুমতি ছাড়া আপনি ৮ টি মোবাইল আনতে পারবেন। নতুন কিংবা পুরাতন, কিংবা আপনার নিজের ব্যবহার করা, যাই হোক এই ৮টির মধ্যে ২টি ফোনের জন্য আপনাকে কোন শুল্ক দিতে হবে না। ৮ টির বেশি ফোন আনলে কাস্টমস তা আটক করবে। আটক রশিদ (Detention Memo) বুঝে নিবেন।
বাকি ৩-৮টি মোবাইলের জন্য আপনাকে শুল্ক-কর পরিশোধ করতে হবে। যা মোবাইলের ক্রয় মুল্যের ৩৫ শতাংশ। যদি আপনি বিমানবন্দরে ঘোষণা না দেন, তখন শুল্ক আদায়ের পাশাপাশি জরিমানাও করা হবে। বিমানবন্দরে আপনি শুল্ক পরিশোধ করতে পারবেন। শুল্ক পরিশোধ না করলে কাস্টমস মোবাইল আটক করবে। আটক রশিদ (Detention Memo) বুঝে নিবেন। আটককৃত মোবাইল ফোন শুল্ক কর এবং অর্থদণ্ড পরিশোধ সাপেক্ষে ফেরত পেতে পারেন। ডিএম করা মোবাইল ফেরতের জন্য কাস্টম হাউজে বিচার শাখায় আবেদন করতে হয়। বিচার আদেশে উল্লেখিত শুল্ক ও জরিমানা সরকারী কোষাগারে জমা দেওয়ার পর এয়ারপোর্টে গুদাম কর্মকর্তার নিকট প্রয়োজনীয় দলিলাদি দাখিল করলে ডিএম এ উল্লেখিত ব্যক্তির অনুকূল জব্দকৃত মোবাইল ফেরত দেওয়া হয়।
যে সব কাজের জন্য ভিসা খুলা হবে বলে জানিয়েছেন, ১, মাজরা – ভিসা । ২, মাতাম ও ব্যাকারীর- যে কোন দোকান ( বাকালা) ভিসা। ৩, মাছের দোকান ও মাছ ধরার ভিসা। ৪, মুরগীর ফার্ম- ভিসা। ৫, মিনারেল ওয়াটারের ফ্যাক্টরীর ভিসা। ৬, খাদ্য সামগ্রী প্যাকেট জাত কোম্পানির ভিসা।
বিনাদোষে সৌদি আরবে স্বামীর ২০ বছরের জেল হওয়ার খবর শুনে পাঁচ বছরের শিশুকে কোলে নিয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মেহেন্দিগঞ্জের মেয়ে রাবেয়া। তিনি জানান, সৌদি আরবে মাদক পাচারের অভিযোগে স্বামী আবুল বাশারকে জেল দেয় দেশটির কর্তৃপক্ষ। কিন্তু যার দোষে তার স্বামী জেল খাটছেন তার বিরুদ্ধে মামলা হলেও তিনি জামিনে বের হয়ে ঘুরছেন। আর এখন তিনি স্বামীর রেখে যাওয়া ঋণের ৮ লাখ টাকা শোধ করতে সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে কাজের সন্ধানে ঢাকায় ঘুরছেন।
রাবেয়া জানান, তার স্বামী আবুল বাশার গত বছরের ডিসেম্বরে ছুটি কাটাতে দেশে আসেন। ছুটি শেষে ১১ মার্চ দিবাগত রাতে সৌদি আরবে যাওয়ার সময় তিনি ঘটনার শিকার হন। তাদের বিয়ে হয়েছে ৭ বছর।
রাবেয়ার অভিযোগ, সৌদি আরবে যাওয়ার পথে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নূর মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তি তার স্বামীর ব্যাগে আচার রয়েছে বলে জোর করে ইয়াবা ঢুকিয়ে দেন।
নূর মোহাম্মদ বিমানবন্দর পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠান একে ট্রেডার্সের এসআর সুপারভাইজার হিসেবে ওই সময় কাজ করতেন। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে নূর মোহাম্মদকে শনাক্ত করে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ গ্রেফতারও করে। কিন্তু তিনি গ্রেফতারের চার দিন পরই জামিনে বেরিয়ে এসেছেন। সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসে সবকিছুই জানানো হয়েছিল। তারা যথেষ্ট সক্রিয় ছিল না। সে কারণে তার স্বামীকে এখন কারাভোগ করতে হচ্ছে। হাতে সময় খুব কম। এক মাসের মধ্যে আপিল করতে হবে।
নির্দোষ বাশারের মুক্তির জন্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও কোনো সমাধান পাচ্ছেন না তার স্ত্রী রাবেয়া। তার দাবি, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো যেন বাশারকে মুক্ত করার ব্যবস্থা নেয়। পাঁচ বছরের মেয়েকে নিয়ে স্বামীর মুক্তির জন্য সরকারের ঊর্ধ্বতনদের দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি।
রাবেয়া বলেন, ‘অপরিচিত ওই ব্যক্তির প্যাকেট নিতে অস্বীকৃতি জানান আমার স্বামী। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি নিজেকে বিমানের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখান। প্যাকেট না নিলে তাকে ফ্লাইটে উঠতে দেবেন না বলেও ভয় দেখান। এতেও নিতে রাজি না হলে একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি নিজেই জোর করে আমার স্বামীর ব্যাগে প্যাকেটটি ঢুকিয়ে দেয়। ভয়ভীতি দেখানোয় এবং ফ্লাইটের সময় হয়ে যাওয়ায় কারও কাছে কোনো অভিযোগ না দিয়ে আমার স্বামী ফ্লাইটে উঠে পড়েন। কিন্তু সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর নিরাপত্তাকর্মীরা তার ব্যাগ তল্লাশি করলে ইয়া
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ত্যাগের পর থেকেই আমার স্বামীর খোঁজ পাচ্ছিলাম না। ২০ দিন পর ঘটনার বিস্তারিত এবং জেলে থাকার কথা জানিয়ে সৌদি থেকে টেলিফোন করেন তিনি। পরে ১৩ এপ্রিল বিমানবন্দরে গিয়ে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাই।
‘আর্মড পুলিশ আমার অভিযোগের ভিত্তিতে বিমাবন্দরের সিসি ক্যামেরার রেকর্ড চেক করে ঘটনার সত্যতা পায়। ১৪ এপ্রিল বিমানবন্দরে পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত একে ট্রেডার্সের এসআর সুপারভাইজার নূর মোহাম্মদকে আটক করে তারা। এ ঘটনায় আমি বিমানবন্দর থানায় মামলা করি। এরই মধ্যে নূর মোহাম্মদকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’
বাশারের স্ত্রী রাবেয়া বলেন, ‘আমার স্বামী অপরাধ না করেও প্রায় ৭ মাস ধরে জেলে আছেন। সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে আইনি সহায়তা না পাওয়ায় এক পক্ষীয়ভাবে আদালত তাকে ২০ বছরের সাজা দিয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সহায়তা না পেলে আমার স্বামীকে বিনা অপরাধে ২০ বছর জেল খাটতে হবে। আমি আমার পাঁচ বছর বয়সী কন্যাসন্তানকে নিয়ে দেশে মানবেতর জীবন যাপন করছি।’
মঙ্গলবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে স্বামীর মুক্তিতে সরকারের সাহায্য চেয়ে আবেদন করেছেন রাবেয়া।
এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘১৩ মার্চ সৌদিপ্রবাসী বাশারের স্ত্রী রাবেয়ার অভিযোগ পেয়ে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে নূর মোহাম্মদকে শনাক্ত করি। পরদিন তাকে আটক করি। তিনি আমাদের কাছে অপরাধের কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন। পরে বিমানবন্দর থানায় করা রাবেয়ার মামলায় নূর মোহাম্মদ কারাগারে রয়েছেন।’
জিয়াউল হক বলেন, ‘আমরা অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের বিশেষ শাখায় বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠিয়েছি। বিশেষ শাখা ইন্টারপোলের বাংলাদেশ ডেস্কে পাঠিয়েছে। তারাও সৌদি আরবের ইন্টারপোলকে চিঠি লিখেছে বলে জানি।’
গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল যা ছিল ১৮ জনে। এ নিয়ে দেশে ভাইরাসটিতে প্রাণ হারিয়েছেন ২৭ হাজার ৬১৪ জন।
মঙ্গলবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৬৯৪ জন। এখন পর্যন্ত মোট করোনা শনাক্ত হয়েছেন ১৫ লাখ ৫৯ হাজার ৪৫২ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৫ হাজার ৪৯৯ জনের। নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ২ দশমিক ৭২ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৭০৮ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ২০ হাজার ২৯৬ জন।
দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত বছরের ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই বছর সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছিল ৬৪ জনের।
চলতি বছরের গত ৭ জুলাই প্রথমবারের মতো দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৫ ও ১০ আগস্ট ২৬৪ জন করে মৃত্যু হয়, যা মহামারির মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু।
বেশকিছু দিন ২ শতাধিক মৃত্যু হয়। এরপর গত ১৩ আগস্ট মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ এর নিচে নামা শুরু করে। দীর্ঘদিন শতাধিক থাকার পর গত ২৮ আগস্ট মৃত্যু ১০০ এর নিচে নেমে আসে।