লেখক: AL- WATAN বাংলা

দেশে,ফের তীব্র হচ্ছে ডলার সংকট, ব্যাংকগুলো ডলার কিনছে বেশি দামে।রেকর্ড পরিমান দরয় পতন।

রবিবার  , ২৬ জুন ২০২২, ১২ আষাঢ় ১৪২৯, ২৫ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী

বাজারে আবার ডলারের সংকট দেখা দিয়েছে। মূলত কয়েকমাস আগে খোলা এলসিগুলো সেটেলমেন্টের চাপ আসায় ব্যাংকগুলো ডলারের স্বল্পতায় ভুগছে। ফলে এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো থেকে ডলার কেনার জন্য প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে দিয়েছে ব্যাংকগুলো। চাহিদা বেশি থাকায় এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোও ডলারের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। গতকাল বৃহষ্পতিবার এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো থেকে ৯৮.৫০ থেকে ৯৯ টাকা রেটে ডলার কিনেছে ব্যাংকগুলো।

বুধবার হাউজগুলো ৯৭-৯৭.৫০ টাকা রেটে ডলার বিক্রি করেছিল। সে হিসাবে একদিনেই ডলারের দাম বেড়েছে ১ থেকে ১.৫০ টাকা। একদিনে ডলারের দাম এক টাকা বেড়ে যাওয়াকে বড় ঘটনা বলছেন ব্যাংকাররা।

সূত্র জানায়, গত বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের চাহিদা দিয়েছিল বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মাত্র ২০৪ মিলিয়ন ডলার সরবরাহ করেছে। এর মধ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি পেমেন্টের জন্য অগ্রণী ব্যাংক পেয়েছে ৫৪ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া বাকি ১৫০ মিলিয়ন ডলার পেয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো।

প্রাইভেট ব্যাংকগুলো ডলারের চাহিদার কথা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানালেও সর্বশেষ বুধবার এসব ব্যাংক এক ডলারও পায়নি। ফলে, প্রাইভেট ব্যাংকগুলোকে বাধ্য হয়ে ডলার সংগ্রহ করতে এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোর কাছে ধর্না দিতে হচ্ছে।

ডলার সংকটের কারণে গত কয়েক দিনে বেশ কয়েকটি ব্যাংক সময়মতো এলসি মূল্য পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও জানিয়েছে সূত্র। অবশ্য বিষয়টি নতুন নয়। এলসি মূল্য পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার মতো ঘটনা আমাদের দেশে নিয়মিতই ঘটে। তবে এখন এই সংখ্যাটি বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন পলিসি নেওয়ার কারণে আমদানি এলসি খোলা আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে বলে উল্লেখ করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি বেসরকারি ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের প্রধান। তিনি টিবিএসকে বলেন, ‘এখন এলসি খোলার হার কমলেও কয়েকমাস আগে যেসব এলসি খোলা হয়েছিল, সেগুলোর পেমেন্টের প্রেশার আসছে এখন।’

এই মুহূর্তে ডলার কতোটা জরুরি তা বোঝাতে এ ব্যাংকার বলেন, ‘প্রতিটা ব্যাংককেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আমদানি এলসির টাকা পরিশোধ করতে হয়, নাহলে তারা ডিফল্টার হয়ে যাবে। এমন হলে, বিদেশি ব্যাংকগুলো এলসি খোলার ক্ষেত্রে আমাদের উপর আর ভরসা করতে পারবে না। এর প্রভাবে কনফার্মেশন চার্জ বেড়ে যেতে পারে। তাই, ডলার সংকটের কারণে আমাদের এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হলে, সেটি কোনো দিক থেকেই সুখকর হবে না।’

সাধারণত, একটি দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের সক্ষমতা ও পেমেন্টের নিশ্চয়তার ভিত্তিতে ব্যাংকগুলোকে মোট এলসি ভ্যাল্যুর উপর একটি নির্দিষ্ট এলসি কনফার্মেশন চার্জ দিতে হয়। বাংলাদেশে কাজ করা ব্যাংকগুলোকে মোট এলসি ভ্যাল্যুর ২% থেকে ৩% এলসি কনফার্মেশন চার্জ দিতে হয়। পাশ্ববর্তী ভারতের ব্যাংকগুলোকে দিতে হয় মাত্র ০.৫০% থেকে ০.৭৫%। এমনকি তুলনামূলক দূর্বল অর্থনীতির দেশ পাকিস্তানের ব্যাংকগুলো এই চার্জ দেয় ১.২৫% থেকে ১.৭৫%। এলসি পেমেন্ট করতে দেরি হওয়ার পরিমাণ বাড়তে থাকলে এই চার্জ আরো বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ব্যাংকগুলো।

অবশ্য, কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। চলতি অর্থবছরে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিক্রি করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১০০ মিলিয়ন ডলার সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। ফলে রিজার্ভও কমছে। গত আগস্টে রিজার্ভ যেখানে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলকে পৌঁছেছিল, সেটি এখন ৪২ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে।

এদিকে, ডলার সংকটের এই আঁচ লেগেছে দেশের কার্ব মার্কেটেও। গত কয়েকদিন ধরে এই মার্কেটে ৯৮ টাকার কাছাকাছি রেটে ডলার কেনাবেচা চলছে। গতকাল বৃহষ্পতিবারও এখান থেকে ডলার কিনতে রেট দিতে হয়েছে ৯৮.৩০ থেকে ৯৮.৫০ টাকা। নগদ ডলার বিক্রি করার ক্ষেত্রে ৯৮ থেকে ৯৮.১০ টাকা রেট পাওয়া গেছে। 

জেলায় শ্রেষ্ঠ অফিসার হলেন ফরিদগঞ্জ থানার এস আই আনোয়ার হোসেন।

রবিবার , ২৬ জুন ২০২২, ১২ আষাঢ় ১৪২৯, ২৫ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী

ফরিদগঞ্জ থানার এস আই মো. আনোয়ার হোসেন চাঁদপুর জেলায় শ্রেষ্ঠ অফিসার নির্বাচিত হয়েছে।

২২ জুন বুধবার জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে মাসিক কল্যাণ সভায় চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ, বিপিএম (বার) এর সভাপতিত্বে উক্ত সভায় মে মাসের সার্বিক অপরাধ সহ সকল দিক বিবেচনায় শ্রেষ্ঠ এস আই নির্বাচিত হয়েছেন মো. আনোয়ার হোসেন।

শ্রেষ্ঠ এস আই নির্বাচিত হওয়ায় তাঁর হাতে ক্রেষ্ট তুলে দেন জেলা পুলিশ সুপার। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) সহ জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

এস. আই আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি সরকারী নির্দেশনা ও ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মো. শহীদ হোসেন স্যারের সার্বিক দিক নির্দেশনায় সকল দায়িত্ব পালন করে থাকি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে নানা রকম অপরাধ সংঘটিত করছে অপরাধী চক্ররা। আর সকল অপরাধীদের বিরুদ্ধেই বাংলাদেশ পুলিশ জিরো টলারেন্স ঘোষনা করেছে। পুলিশ জনগনের বন্ধু এ কথার বাস্তবে রুপান্তিত করে জনগনের বন্ধু হয়ে কাজ করে যেতে চাই।

তিনি মাদক প্রতিরোধ প্রসঙ্গে বলেন, মাদকের সাথে কোনো রকম আপোষ করা যাবেনা। মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, চুরি, ডাকাতি সহ সকল ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ অনেক শক্ত অবস্থানে আছেন। অপরাধ করে কেউ পার পাবেনা বলে তিনি সর্ব সাধারনকে আশ্বস্ত করতে চান। তিনি সকলের কাছে দোয়া প্রার্থী।

দুর্ভোগের আরেক নাম বিমানবন্দরের লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড

শুক্রবার  , ২৪ জুন ২০২২, ১০ আষাঢ় ১৪২৯, ২৩ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী

আমেরিকা থেকে সেবা রানি দাস বাংলাদেশে আসেন গত ৮ জুন। ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বেল্টে গিয়ে তার সঙ্গে থাকা দুটি লাগেজ পাননি। শুধু সেবা রানি দাস নন, তার সঙ্গে আসা ৫ জনের ১৩ লাগেজ উধাও। নিয়ম অনুযায়ী অভিযোগ দিয়েছেন বিমানবন্দরের লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ডে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও হারানোর অভিযোগ না নিয়ে, যাত্রীদের সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের ফোন নম্বর দিয়ে বিদায় করে কর্তৃপক্ষ।

লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড থেকে জানানো হয়েছে, লাগেজ পাওয়া গেলে তাদের জানানো হবে। কিন্তু ১২ দিন পার হয়ে গেলেও যে নম্বর দেওয়া হয়েছিল, সেই নম্বরে ফোন দিলে কেউ কল রিসিভ করেন না। আর লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড থেকে কেউ লাগেজের তথ্য জানাতেও ফোন করেননি রানি দাসকে। এ রকম দিনের পর দিন বিমানবন্দরের লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড নিয়ে অভিযোগের পাহাড় জমলেও দেখার কেউ নেই।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের সব বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং করছে রাষ্ট্রয়াত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের আওতায় বিমানবন্দরগুলোর হারানো সংক্রান্ত অভিযোগ জানানোর ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’ বিভাগ পরিচালনা করছে বিমান। বিমান ছাড়াও সব এয়ারলাইনের যাত্রীদের লাগেজ হারানো, নষ্ট হওয়াসহ যাবতীয় অভিযোগ জানানোরও নির্ধারিত স্থান লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড।  তবে এ কাজে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল, পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি না থাকা ছাড়াও অব্যবস্থাপনার কারণে বছরের পর বছর ভুগছেন যাত্রীরা। বিদেশি এয়ারলাইনগুলোর কাছ থেকে চার্জ  নিলেও সময় মতো আশানুরূপ গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দিচ্ছে না বিমান।

গত এক মাসের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ডে নেই পর্যাপ্ত জনবল। সেখানে কর্মরতদের থাকতে হচ্ছে বাড়তি কাজের চাপে। সীমিত জনবল থাকায় যাত্রীদের অভিযোগ নেওয়া, এয়ারলাইনকে জানানো, যাত্রীদের ফোন রিসিভ করা, রিয়ারে ব্যাগ ডেলিভারি করাসহ যাবতীয় কাজ করতে হয়। চাপ কমাতে যাত্রীদের অভিযোগ নিতে অনীহা সেখানকার কর্মরত বিমানের কর্মীদের। লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড ব্যবস্থাপনায় বিমানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নেই মনিটরিং। অভিযোগের প্রতিকারে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তৎপরতা নেই বললেই চলে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কোনও যাত্রী লাগেজ না পেয়ে লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ডে গেলে তাদের সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করা হয় না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হারানোর অভিযোগ না নিয়ে যাত্রীকে সাদা কাগজে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের ফোন নম্বর দিয়ে বিদায় করে দেওয়া হয়। সেই নম্বরে ফোন দিলে কোনও প্রতিকার মিলে না। তথ্য না পেয়ে কয়েক দিন পরে বিমানবন্দরে ছুটে আসেন ভুক্তভোগীরা। এতে আরেক বিপত্তি, বিমানবন্দরে লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ডে পৌঁছানোর জন্য করতে হয় রীতিমতো যুদ্ধ। কারণ এটি বিমানবন্দরের এমন স্থানে যেখানে সবার প্রবেশের সুযোগ নেই।

৪ জুন এয়ার অ্যারবিয়ার ফ্লাইটে ঢাকায় আসেন মিজান হক। নিজের একটি লাগেজ না পেয়ে খোঁজ নিতে যান লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ডে। সেখান থেকে সাদা কাগজে একটি ফোন নম্বর দিয়ে মিজানকে চলে যেতে বলা হয়। বাড়িতে আসার ৪-৫ দিন পরেও কোনও তথ্য না পেয়ে মিজান সেই নম্বরে ফোন করলেও কেউ রিসিভ করেননি। মিজান ১৪ জুন ঢাকায় আসেন ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযোগ জানাতে। তাকে জানানো হয়, টঙ্গিতে তার বাড়ির কাছের এসএ পরিহনের কুরিয়ারের লাগেজ পাঠানো হয়েছে।

মিজান হক বলেন, ‘দিনের পর দিন অপেক্ষা করেছি কেউ আমাকে আপডেট তথ্য দেয়নি। ফোন করেছি কেউ ধরেনি। বাধ্য হয়ে আমি বিমানবন্দরে গেলাম। তারা জানালো কুরিয়ারে গেছে। কুরিয়ারে গিয়ে দেখি আমার লাগেজের জিনিসপত্র ঠিক নেই। চকলেট, দুধ, টর্চলাইট ছিল, এসব সামান্য জিনিসের লোভ সামলাতে পারলো না। কুরিয়ারে লোকজন বলছে, বাংলাদেশ মানে বুঝেনই তো, যা পাইছেন নিয়ে যান।’

এদিকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের জন্য বিমানকে টাকা দিয়েও কাঙ্ক্ষিত  সেবা না পেয়ে ক্ষুব্দ বিদেশি এয়ারলাইনগুলো। নিজের ব্র্যান্ড ইমেজ ধরে রাখতে নিজস্ব জনবল দিয়ে লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সাপোর্ট দিচ্ছে সিঙ্গাপুরসহ বিদেশি বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এয়ারলাইনের কর্মকর্তা বলেন, ‘নানা সমস্যার কারণে যাত্রীর সঙ্গে একই ফ্লাইটে লাগেজ নাও আসতে পারে। লাগেজ না পেলে যাত্রীরা লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড গিয়ে যে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন, তা আমাদের এয়ারলাইনের ইমেজের জন্য বড় ক্ষতি। কোনও যাত্রীর লাগেজ না পাওয়া গেলে, আমাদের কর্মীরা যাত্রীর হয়ে লস্ট ক্লেইম করাসহ যা যা প্রয়োজন তা করেন। বিমানকে আমরা সার্ভিসের জন্য টাকা দেই, কিন্তু সেই সার্ভিস পাই না।’

এ বিষয়ে বিমানের বক্তব্য জানতে ১২ জুন যোগাযোগ করা হলে প্রশ্ন পাঠাতে বলে এয়ারলাইনটির জনসংযোগ বিভাগ। প্রশ্ন পাঠানোর সপ্তাহ পার হলেও বিমানের পক্ষ থেকে কোনও জবাব পাওয়া যায়নি।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলাম বলেন, ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড নিয়ে আমরা কাজ করছি। কীভাবে অভিযোগ কমিয়ে আনা যায়, সে বিষয়গুলোই দেখা হচ্ছে। এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে কথা হচ্ছে, যেন আরও দ্রুত সেবা দেওয়া যায়।’

শুধু ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নয়, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিলেটের ওসমানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ডেও একই চিত্র।

এ নিয়ে চট্টগ্রামের শাহ্ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক উইং কমান্ডার মো. ফরহাদ হোসেন খান বলেন, ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তারা এখানের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে। কোনও যাত্রী যদি লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সম্পর্কে অভিযোগ নিয়ে আসে, তাহলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

৩,০৯২ কোটি টাকা দেনা রেখে ৩২৮ কোটির রেকর্ড লাভ দেখাল বিমান!

শুক্রবার , ২৪ জুন ২০২২, ১০ আষাঢ় ১৪২৯, ২৩ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স থেকে অ্যারোনটিক্যাল ও নন-অ্যারোনটিক্যাল মিলে তিন হাজার ৯২ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক)। কিন্তু পাওনা পরিশোধ না করেই চলতি বছর সর্বোচ্চ লাভ দেখিয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠানটি!

বিমান বলছে, গত দুই বছরে তারা বেবিচকের কোনো ধরনের চার্জ বকেয়া রাখেনি। পরিশোধ করেছে জেট ফুয়েলের (পদ্মা অয়েল) সব খরচ। তবে, এর আগের বকেয়া পরিশোধের পরিকল্পনা নেই তাদের।

অন্যদিকে বেবিচক বলছে, বাংলাদেশের বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের কাছে তাদের প্রায় চার হাজার কোটি টাকা পাওনা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি তিন হাজার ৯২ কোটি টাকা আটকে রেখেছে বিমান।

বিপুল অঙ্কের এই দেনা পরিশোধের চিন্তা ছাড়াই টানা দ্বিতীয় বছরের মতো লাভ দেখিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১৫৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা নিট লাভ দেখায়। ২০২১-২২ অর্থবছরের আট মাসে (ফেব্রুয়ারি-ডিসেম্বর পর্যন্ত) প্রতিষ্ঠানটি লাভ দেখায় ৩২৮ কোটি টাকা। সর্বশেষ ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৩২৪ কোটি টাকা মুনাফা করে। গত ১২ বছরের হিসাব করলে এটাই বিমানের সর্বোচ্চ মুনাফা। তবে, বেবিচকের দেনার বিষয়ে তথ্য নেই তাদের কাছে।

বিমানের সাবেক পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও বিশিষ্ট এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, ‘বেবিচকের দেনা বাদ রেখে বিমানের লাভ-ক্ষতি হিসাবের কোনো সুযোগ নেই। একটি এয়ারলাইন্সের খরচের ৫০ ভাগই যায় বেবিচকের চার্জ ও তেলের দামের পেছনে। এই দেনা বাদ দিয়ে লাভ-ক্ষতির হিসাব করতে গেলে সেটা কিন্তু জাস্টিফায়েড (ন্যায়সঙ্গত) হবে না। বুঝতে হবে তারা লাভটা টুইস্ট করছে। পৃথিবীর সব দেশের এয়ারলাইন্সগুলো তাদের আর্থিক প্রতিবেদন পাবলিকলি (সর্বসমক্ষে) প্রকাশ করে। কিন্তু বাংলাদেশে এটা করা হয় না। সেক্ষেত্রে তাদের লাভ নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।’
 
দুবার ৩ হাজার কোটি টাকা মাফ পেয়েছে বিমান

২০০৮ সালে প্রায় ১৮০০ কোটি টাকার পাহাড়সম দেনায় পড়ে বিমান। ওই সময় অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করে ১২১৬ কোটি টাকার সারচার্জ মওকুফ পায় প্রতিষ্ঠানটি। বাকি ৫৭৩ কোটি টাকা পরিশোধ করে দায়মুক্তি পায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

২০২১-২২ অর্থবছরের আট মাসে রেকর্ড পরিমাণ লাভের বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. আবু সালেহ্‌ মোস্তফা কামাল বলেন, ‘সময়োপযোগী প্রণোদনা পেয়েছিলাম। আমরা তা যথোপযুক্ত কাজে লাগাতে পেরেছি। বিমানে সব ধরনের মিতব্যয়িতা অবলম্বন করা হয়েছে। এছাড়া বিমানের কিছু পাওনা ছিল, সেগুলো আদায় করা হয়েছে। এছাড়া টিকিট কারসাজি বন্ধে আমরা একটি সফটওয়্যার তৈরি করেছি। সেখান থেকেও টাকা আয় হয়েছে।’

এদিকে, বেবিচকের দেনা পরিশোধ না করেই একের পর এক বিমান ক্রয় এবং নতুন নতুন রুট চালু করছে বিমান। ২০২১ সালে সর্বশেষ চারটি ড্যাশ- ৮ মডেলের উড়োজাহাজ নিজ বহরে যুক্ত করে তারা। এগুলোর নাম দেওয়া হয় ‘ধ্রুবতারা’, ‘আকাশতরী’, ‘শ্বেতবলাকা’ ও ‘হংসমিথুন’। এছাড়া ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঢাকা-টরেন্টো রুটে নিয়মিত ফ্লাইট চালু করবে বিমান। পাশাপাশি জাপানের নারিতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে ফ্লাইট চালানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বেবিচকের পাওনার বিষয়ে বিমানের এমডি বলেন, ‘পুরোনো বিষয়গুলো নিয়ে আমরা কথা বলতে চাই না। তবে, গত দুই বছরের বেবিচকের সব পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি টাকার মধ্যে অ্যারোনটিক্যাল চার্জগুলো রিকনসিলিয়েশন (সমন্বয়সাধন) করার জন্য আমরা বেবিচককে ৩২ কোটি টাকা দিয়ে রেখেছি। এটা হয়ে গেলে পুরোনো পাওনাগুলোও আপডেট হয়ে যাবে।’

বেবিচকের নিট মুনাফায় বিমানের দেনার প্রভাব

বেবিচকের অধীনে বর্তমানে তিনটি আন্তর্জাতিকসহ মোট আটটি বিমানবন্দর রয়েছে। তাদের আদায় করা অ্যারোনটিক্যাল চার্জগুলোর মধ্যে রয়েছে- বিমানের ল্যান্ডিং চার্জ, রুট নেভিগেশন সার্ভিস চার্জ, বোর্ডিং ব্রিজ ব্যবহার চার্জ ও এমবারকেশন। নন-অ্যারোনটিক্যাল চার্জগুলো হলো- গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, চেক-ইন কাউন্টার ভাড়া, কার পার্কিং ও এভিয়েশন ক্যাটারিং সার্ভিস।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক যুগ ধরে বিমানের বকেয়া টাকা পড়ে থাকায় এর প্রভাব পড়ছে বেবিচকের রাজস্ব আয় ও নিট মুনাফায়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বেবিচকের নিট মুনাফা ছিল ৬১১ কোটি টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ২৯২ কোটি টাকায়। ২০২১-২২ অর্থবছরের আট মাসে তা ঠেকে ১১৮ কোটি টাকায়।

বিমানের বকেয়ার বিষয়ে বেবিচক পরিচালক (অর্থ) মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘বিমান যেহেতু সরকারি প্রতিষ্ঠান, আমরা তাদের কেবল বলেই যাচ্ছি। আইন ও বিধি অনুযায়ী আমরা তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছি। তবে, তারা (বিমান বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ) বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে যাচ্ছে।’

বিমানের অনিয়ম খতিয়ে দেখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের

সম্প্রতি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে পাইলট নিয়োগের অনিয়ম খতিয়ে দেখে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্যাপ্টেন হিসেবে বোয়িং ৭৭৭ ও বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ পরিচালনার জন্য নির্ধারিত ঘণ্টা ফ্লাই করার অভিজ্ঞতা থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে, বিমানে যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তাদের নির্ধারিত ফ্লাইং আওয়ারের অভিজ্ঞতা নেই। কেউ কেউ ক্যাপ্টেন হিসেবে কয়েকবার পরীক্ষা দিয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন। আবার কেউ আগের এয়ারলাইন্স থেকে চাকরিচ্যুত হয়েছেন। কারও কারও বয়স আবার ৬০ এর অধিক। অন্যদিকে, নিয়োগ পাওয়া ফার্স্ট অফিসারদের যোগ্যতা ও দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।
উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা ও অদক্ষতার কারণে এর আগে চাকরিচ্যুত হয়েছেন— এমন বৈমানিকও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বিমানে।

ওই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো চিঠিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ক্যাপ্টেন ও ফার্স্ট অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রে উপযুক্ত জ্ঞান, দক্ষতা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাসূচক যাচাই-বাছাই করে ত্রুটিমুক্ত প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট

হজ পালন করতে গিয়ে মারা গেছেন বাংলাদেশি আরও দুই হজযাত্রী।

বুধবার  , ২২ জুন ২০২২, ০৮ আষাঢ় ১৪২৯, ২১ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী

পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে সৌদি আরবে মারা গেছেন বাংলাদেশি আরও দুই হজযাত্রী। মঙ্গলবার (২১ জুন) পবিত্র মদিনা আল-মুনাওয়ারায় ঢাকার বিউটি বেগম (৪৭) এবং রংপুরের মো. আবদুল জলিল খান মারা গেছেন।

বিউটি বেগমের পাসপোর্ট নম্বর- EA0009584। মো. আবদুল জলিল খানের পাসপোর্ট নম্বর- BX0552614।

মঙ্গলবার (২১ জুন) দিবাগত রাত ২টায় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইটি হেল্পডেস্ক হজ সম্পর্কিত প্রতিদিনের বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এ নিয়ে সৌদি আরবে গিয়ে মারা হয়েছে ৬ জন হজযাত্রীর। এর মধ্যে পুরুষ ৪ জন এবং নারী ২ জন। এই ৬ জনের ৪ জন মক্কায় এবং ২ জন মদিনায় মৃত্যু হয়েছে।

বাংলাদেশে থেকে সৌদিতে ফ্লাইট গেছে ৭৮টি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৪৩টি, সৌদি এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৩০টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৫ টি ফ্লাইট। সর্বমোট ইস্যুকৃত ভিসা ৮১.৪৬ শতাংশ।

এদিকে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ফ্লাইটের ৮ ঘণ্টা আগে হজক্যাম্পে যেতে হজযাত্রীদের অনুরোধ জানিয়েছে। অনেক হজযাত্রী সময় মতো হজ ক্যাম্পে না আসায় ঠিক সময়ে ফ্লাইট ছাড়তে পারছে না। অন্যদিকে নির্ধারত সময়ের মধ্যে হজযাত্রী পরিবহনকারী এয়ারলাইন্স না পৌঁছালে জরিমানা করবে সৌদি সরকার। এ কারণে ফ্লাইটের ৮ ঘণ্টা আগে হজযাত্রীদের হজক্যাম্পে যেতে অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
সুত্রঃ প্রবাস জার্নাল।

কুয়েতে লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালিয়ে আটক হলেন ৮৭ জন,

বুধবার  , ২২ জুন ২০২২, ০৮ আষাঢ় ১৪২৯, ২১ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী

কুয়েত সিটি: ট্রাফিক এবং অপারেশনস সেক্টর গত সপ্তাহে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ট্রাফিক ও অপারেশনস বিষয়ক সহকারী আন্ডার সেক্রেটারি মেজর জেনারেল জামাল আল-সায়েগের মাঠ তত্ত্বাবধানে বেশ কয়েকটি নিরাপত্তা ট্রাফিক প্রচারণা বাস্তবায়ন করেছে।

যার ফলস্বরূপ ৩০,২১৭টি ট্রাফিক লঙ্ঘন জারি করা, ১১টি গাড়ি আটক করা এবং ৮৭ জন কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যারা লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানোর সময় ধরা পড়েছিল।

সুত্র:আল-জারিদা৷

উন্মুক্ত হতে পারে কুয়েতের বিশাল শ্রমবাজার! গৃহকর্মী নিয়োগে বাংলাদেশের তরফে নতুন তৎপরতা ❤

বুধবার , ২২ জুন ২০২২, ০৮ আষাঢ় ১৪২৯, ২১ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী

কুয়েতের জনপ্রিয় আরবি দৈনিক আল কাবাসে কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের মাননীয় রাষ্ট্রদূত জনাব মেজর জেনারেল আশিকুজ্জামান স্যারের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে ….

কুয়েতের সাথে গৃহকর্মী নিয়োগে বাংলাদেশের কোন চুক্তি নেই উল্লেখ করে বাংলাদেশের মাননীয় রাষ্ট্রদূত শীঘ্রই চুক্তির ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন এবং ২ দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠকে চুক্তি স্বাক্ষরের ইংগিত দেন!

আল কাবাসের তরফে মাননীয় রাষ্ট্রদূত মহোদয় কে প্রশ্ন রাখা হয় : স্কুলে কর্মরত মহিলাদের নিয়ে কোন সমস্যা আছে কিনা?

উত্তরে বাংলাদেশী এই ডিপ্লোম্যাট বলেছেন : কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ কর্মীদের বেতন বিলম্বের অভিযোগ আছে !
সংক্ষিপ্ত ….

সোর্স : আল কাবাসের অনলাইন ফিড

কম দামে টিকিট বিক্রি বিমানের, বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর আপত্তি।

মঙ্গলবার , ২১ জুন ২০২২, ০৭ আষাঢ় ১৪২৯, ২০ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রুটে টিকিটের দাম কমিয়ে ‘অসুস্থ প্রতিযোগিতা’ সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর সংগঠন অ্যাভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি)। সংগঠনটির অভিযোগ, টিকিটের দাম কমানোর মাধ্যমে বিমান এ ব্যবসার ক্ষেত্র নষ্ট করছে। এতে বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো মুখ থুবড়ে পড়বে। ভর্তুকি দিয়ে চলা বিমানও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

রোববার (১৯ জুন) রাতে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে দেওয়া এক চিঠিতে এওএবির মহাসচিব ও নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মফিজুর রহমান এ অভিযোগ করেন।

চিঠিতে বলা হয়, ১৯৯৬-২০০১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের হাত ধরে দেশে বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো দাঁড়ানো শুরু করে। সেসময় যাত্রীদের কোনো ধরনের সেবা না দিয়েই দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান বাংলাদেশ একচেটিয়া ফ্লাইট পরিচালনা করতো। তখনকার মনোপলি মার্কেট বন্ধে প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দেন।

বর্তমানে দেশের ৮০ শতাংশ অভ্যন্তরীণ যাত্রী পরিবহন করছে, আর বিমান করছে ২০ শতাংশ। এ তথ্য উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে এরই মধ্যে জিএমজি এয়ারলাইন্স, রিজেন্ট ও ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের মতো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। এয়ারলাইন্সগুলো বন্ধের কারণ হিসেবে জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কাজের চার্জগুলোকে দায়ী করা হয় চিঠিতে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বর্তমানে বিমান বিভিন্ন রুটের টিকিটের দাম কমিয়ে রাষ্ট্রীয় টাকায় ভর্তুকি দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। বিমানের এ অপকৌশল দেশে বেসরকারি এয়ারলাইন্সকে দাঁড়াতে দেয়নি। দেশে মোট আটটি বেসরকারি এয়ারলাইন্স হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করলেও বিমানের কারণে তারা অপারেশন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। এখন বিমানের অপকৌশলের কারণে নভোএয়ার ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স কোনোরকমে টিকে আছে।

চিঠিতে বলা হয়, ২০০২-২০০৪ সাল পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চট্টগ্রাম রুটের ভাড়া ছিল ২ হাজার ৮৫০ টাকা। জিএমজি এয়ারলাইন্সের ভাড়া ছিল ৪ হাজার টাকা। তখন বিমান তাদের ভাড়া কমিয়ে ২ হাজার ৩০০ টাকা করে ফেলে। এছাড়া এক সময় যখন দুবাই রুটে জিএমজি এয়ারলাইন্স অধিকসংখ্যক যাত্রী বহন করতো, তখন বিমান তাদের ভাড়া ৪৭৫ মার্কিন ডলার থেকে নামিয়ে ৩৫০ ডলার করে ফেলে। এর পরপরই জিএমজি তাদের অপারেশন বন্ধ করতে বাধ্য হয়।

এওএবি জানায়, বেসরকারি এয়ারলাইন্সকে প্রতি বছর এওসি (এয়ার অপারেটর সার্টিফিকেট) নবায়নের সময় বেবিচকের সব ধরনের চার্জ নগদে পরিশোধ করতে হয়। নগদ অর্থের বিনিময়ে কিনতে হয় তেল। অথচ বিমান বছরের পর বছর বেবিচকের বিভিন্ন চার্জ বাকি রেখে এবং পদ্মা অয়েলের কাছ থেকে বাকিতে জেট ফুয়েল কিনছে। এ দুই ক্ষেত্রেও বিমানের সঙ্গে বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর বৈষম্য করা হয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বিমান প্রথমবারের মতো অভ্যন্তরীণ রুটে বড় সাইজের ফ্লাইট (বোয়িং-৭৩৭ এর মতো) পাঠিয়ে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা ভাড়ায় যাত্রী বহন করছে। বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো একসময় আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে অল্প কিছু যাত্রী নিয়ে অভ্যন্তরীণ রুটে কানেক্টিং ফ্লাইট পরিচালনা করেছিল। তবে ২০১৯ সালে চট্টগ্রামে বিমান ছিনতাই চেষ্টার ঘটনার পর থেকে এভাবে যাত্রী বহন বন্ধ করার নির্দেশ দেয় বেবিচক। অথচ বেবিচকের নির্দেশ অমান্য করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এখনো আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রী বহন করছে। এছাড়া এখনো বিমান অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইটের প্রতি সিটে ২ হাজার টাকা করে ভর্তুকি দিচ্ছে। এতে বছরে বিমানের ১৬০ কোটি থেকে ২০০ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আবু সালেহ মোস্তফা কামালের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

সংস্থাটির মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকারও এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এমএমএ/ইএ/এমএস

  1. বাংলাদেশ-বিমান
  2. বিমান
  3. নভোএয়ার
  4. ইউএস-বাংলা

বাংলাদেশের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বাংলাদেশের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন কুয়েত আমীর..! 🇧🇩❤️🇰🇼

মঙ্গলবার , ২১ জুন ২০২২, ০৭ আষাঢ় ১৪২৯, ২০ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী

কুয়েতের আমীর শেখ নওয়াফ আল-আহমদ আল-জাবের আল-সাবাহ মঙ্গলবার দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল সিলেটের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির কাছে একটি শোক বার্তা পাঠিয়েছেন,

একি সাথে কুয়েত এইচএইচ ক্রাউন প্রিন্স শেখ মিশাল আল-আহমাদ আল-জাবের আল- সাবাহ একটি শোকবার্তা পাঠিয়েছেন। এবং এইচএইচ প্রধানমন্ত্রী শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহও অনুরূপ পাঠিয়েছেন।

📌 নিউজ লিংক 👇 নিচে দেওয়া হয়েছে….

📌 নিউজ লিংক 👇
https://www.facebook.com/699729836728354/posts/5631673050200650/

✍️ Collected, translated and posted by #MN_Nahar_Hoque

বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণে এগিয়ে আলেমরা।

মঙ্গলবার , ২১ জুন ২০২২, ০৭ আষাঢ় ১৪২৯, ২০ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী

সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যার্ত মানুষদের মাঝে ত্রাণ বিতরণে সবার আগে এগিয়ে এসেছেন দেশের আলেম সমাজ। সঙ্কটাপন্ন মানুষের পাশে আলেমদের দাঁড়ানোর বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অন্যদিকে এবারের ত্রাণ কার্যক্রমে কথায় কথায় আলেম সমাজের সমালোচনা করা, তাদের চরমপন্থী হিসেবে উপস্থাপনকারী সেকুলারদের দেখা মেলেনি। এনিয়েও ক্ষোভ জানিয়েছেন নেটিজেনরা।

আলেমদের তত্ত্বাবধানে স্বেচ্ছাসেবীরা কয়েকদিন ধরে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে সিলেটের বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, সংস্থা ও অনেক মানবহিতৈষীও এগিয়ে এসেছেন। তবে আলেমরা এগিয়ে এসেছেন সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে। তাদের সেবাগুলো মানুষের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে।

বন্যার পানিতে দিশেহারা সুনামগঞ্জ ও সিলেটের মানুষ। কয়েকদিন থেকে বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন এখানকার মানুষ। বন্যার ভয়াবহতা বাড়তে থাকায় সারাদেশ থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে জেলা দুটি।

এমন পরিস্থিতিতেও গলাপানি অতিক্রম করে সেখানে খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন আলেম সমাজ। পানি পেরিয়ে বানভাসি মানুষগুলোর কাছে খাবার হাতে দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে গেছে জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা শায়খ আহমাদুল্লাহ প্রতিষ্ঠিত ‘আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন’, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি, খেলাফত মজলিশ, চরমোনাই পীরের ইসলামি আন্দোলন, ইসলামি ঐক্যজোট। এছাড়া সিলেট ও সুনামগঞ্জসহ বন্যার্ত জেলাগুলোর হাজার হাজার পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছেন মাওলানা আব্দুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, শায়খ আবদুর রাযযাক বিন ইউসুফ।

আলেম সমাজের সমালোচক গণজাগরণ মঞ্চ কিংবা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির (ঘাদানিক) কাউকেও ত্রাণ নিয়ে এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি। এদের অনেকেই ফেসবুকে পোস্ট দেয়া পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল। এছাড়া তারা নামেমাত্র ঢাকায় মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করেছেন বলে জানা যায়।

এদিকে, আলেমদের নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবা বিতরণের ক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতার মান-মর্যাদা ও সৌজন্যতার নানামাত্রিক দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। সেবাগ্রহীতার ছবি প্রচার থেকে নির্মোহ থেকে সঙ্কটগ্রস্ত মানুষকে খাবারের প্যাকেজ পৌঁছে দেওয়া প্রশংসা কুড়িয়েছে।

আলেম সমাজের প্রশংসা করে আব্দুল আলিম নুমান লিখেছেন, ‘‘জাতির ক্রান্তিকালে দুর্যোগে এবং দুর্ভোগে যেভাবে আপনারা অগ্রগামী, আলেমুল গায়েব মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে আপনাদের নাম ও কীর্তি সোনার হরফে খচিত হোক।

তিনি আরও লেখেন, আমার মতো কোটি ভক্তের হৃদয়ের টাইমলাইন জুড়ে ছড়িয়ে থাকুক অসামান্য কৃতজ্ঞতায়, শ্রদ্ধায় ও রক্তিম ভালোবাসা আপনাদের প্রতি।

এইচ এম আব্দুল্লাহ নামে একজন লিখেছেন, বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণে দেশের আলেম সমাজই এগিয়ে। আবারও প্রমাণ হলো আলেমরা সব সময় সবার আগে জনগণের পাশে দাঁড়ায়।

আকলিমা জাহান নামে একজন লিখেছেন, জাতির ক্রান্তিকালে আলেম সমাজই সবার আগে দাঁড়িয়েছেন। মহান আল্লাহ তাদের হেফাজত করুক।

নুর-ই আলম হাওলাদার নামে একজন লিখেছেন, আল্লামা নুরুল ইসলাম ওলিপুরীর নাম গণকমিশনের শ্বেতপত্রের এক নাম্বারে দিয়েছিল তারা। অথচ তিনি আর্ত-মানবতার সেবায় ব্যস্ত। প্রতিদিনই নৌকায় করে তিনি সিলেটবাসীকে ত্রাণ দিচ্ছেন। মহান আল্লাহ হুজুরের ছায়াকে আমাদের মধ্যে দ্বীর্ঘায়িত করুন!

তিনি আরও লেখেন, অথচ ঐসব ঘাদানিকদের সিলেট ও সুনামগঞ্জের কোনো জায়গায় খুঁজেও পাওয়া যাচ্ছে না। তারা এখন কোথায় জনগণ জানতে চায়।

মো. জামির উদ্দিন নামে একজন লিখেছেন, বন্যার শেষে যদি কখনো তোমার সুবুদ্ধির উদয় হয় তবে স্মরণ রেখো, হাত বাড়িয়ে ছিল মোল্লারা, গণকমিশনের লোকেরা নয়।

তিনি আরও লেখেন, প্রতিটি দুর্যোগে সবার আগে এই দাড়ি-টুপি ওয়ালারা এগিয়ে আসে। সিলেটে বন্যাকবলিত এলাকায় এই পর্যন্ত কয়েক কোটি টাকা এবং খাদ্যসামগ্রী নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন আলেমরা।

এছাড়াও বিভিন্ন আলেমদের সংগঠন প্রতিদিনই কোনো না কোনো কিছু দান করছেন। এর পাশাপাশি ব্যারিসটার সুমন, বিভিন্ন খেলোয়াড়রা, শোবিজ তারকারাও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।