কুয়েত সিটি, ২০শে জুন: সাংসদ সদস্য মুবারক আল-হাজরাফ পররাষ্ট্র মন্ত্রী শেখ আহমদ নাসের আল-মুহাম্মদকে এই গুজব সম্পর্কে প্রশ্ন পাঠিয়েছেন যে কিছু ভারতীয় গৃহকর্মী দেশে আসার সময় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট জাল করেছে। তিনি বলেন, গুজব রয়েছে যে এই গৃহকর্মীদের স্পনসররা যখন তাদের কর্মচারীদের কাজের পারমিট পুনর্নবীকরণের জন্য আবেদন করেছিল, তখন তাদের জানানো হয়েছিল যে এই নথিগুলি ভারতের কুয়েত দূতাবাস দ্বারা স্ট্যাম্প করা হলেও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট জাল।
তিনি জানতে চান ভারতে কুয়েতের দূতাবাস তার স্ট্যাম্প চুরির রিপোর্ট করেছে কি না, চুরি হওয়া স্ট্যাম্পের সংখ্যা যদি ইতিবাচক হয়, এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না এবং কুয়েতের দূতাবাসগুলিতে ডাকটিকিট চুরি রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না।
কুয়েত সিটি, ২০জুন: জনশক্তি পাবলিক অথরিটি গতকাল রবিবার ব্যবসার মালিকদের জন্য ইলেকট্রনিক পরিষেবা ‘আশাল’ এর মাধ্যমে একজন শ্রমিকের পারমিটের ডেটা সংশোধন করার পরিষেবা চালু করেছেন। কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক, আসিল আল-মাজিদ একটি প্রেস বিবৃতিতে বলেছেন যে এই পরিষেবাটিতে নিয়োগকর্তা চাইলে কর্মীর নাম, শিক্ষাগত যোগ্যতার ডেটা, পাসপোর্ট ডেটা, কর্মীর ডেটা সংশোধন করতে সক্ষম হবে, আল-মাজিদ ব্যাখ্যা করেছেন যে যদি সংশোধনের অনুরোধ গৃহীত হয়, ভিসা ডেটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে ইলেকট্রনিক সংযোগের মাধ্যমে পরিবর্তন করা হবে।
তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে পরিষেবার শর্তগুলির মধ্যে একটি হল যে পেশাটি সংশোধন করা হবে তা প্রয়োজনের মূল্যায়ন করার অনুমতি দেওয়া হবে এবং ড্রাইভারের পেশা পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না। (কুনা)
📌 নিউজ লিংক 👇 কমেন্টে দেওয়া হয়েছে….
✍️ Collected, translated and posted by #MN_Nahar_Hoque
মদিনা থেকে ৪৮০ কিলোমিটার দূরে সৌদি আরবের মালাগার দক্ষিণে আল-বার অঞ্চলের আজমান উপত্যকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।😭💔
কুয়েতি নাগরিক সৌদিতে অবস্থারত তার পরিবার, বাড়ি ও জাকর দেখার জন্য মরুভূমি দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাবার সময় দুর্ভাগ্যবশত গাড়িটি বালিতে আটকে যায়। এতে গাড়িতে থাকা (বাবা) তার গাড়িটিকে বালি থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করে কিন্তু তিনি ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে সহায়তার জন্য পায়ে হেঁটে নিকটবর্তী আচ্ছাদিত এলাকায় যাওয়ার। কিন্তু এলাকাটিতে যাবার পথে মোবাইলের ট্রান্সমিশন হারিয়ে ফেলেন এবং হাঁটতে হাঁটতে গরমে ক্লান্তি, তৃষ্ণা এবং সূর্যের কড়া তাপে পথেই মৃত্যুবরণ করেন।
আর এদিকে গাড়িতে রেখে যাওয়া ৭ বছরের সন্তান বাবা ফিরে আসবে বলে সেও অপেক্ষায় পানির তৃষ্ণার্থে এবং গরম তাপে মৃত্যুবরণ করেন। মেডিকেল রিপোর্টে জানা যায় – বাবার মৃত্যুর ৪ ঘণ্টার পর সন্তানের মৃত্যু ঘটে। 💔
পিতা পুত্রের মরদেহ উদ্ধারের কাজে সহযোগিতা করেছিলো সৌদি অভ্যান্তরিন বেশ কয়েকটি মকফর (থানা) এবং কুয়েত দূতাবাস। মরহুমের বড় ছেলে তাদের সহযোগিতার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান।তিনি বলেন এটি একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে। এবং সতর্কবার্তা প্রেরণ করবে। যারাই মরুভূমিতে যাবে তারা যেনো সর্বদা সতর্ক ও সাবধান থাকে।😕
গত মঙ্গলবার, সালমিয়ার অ্যাম্বাসেডর সুপার মার্কেটের বাহিরে তার যাত্রীর জন্য অপেক্ষারত ফিলিপিনো ট্যাক্সি চালক উইলগ্রি গ্যাপাসকে তিনবার ছুরিকাঘাত করা হয় বলে জানানো হয়, একজন #বাংলাদেশি নাগরিক সহ আরও দুইজন স্টাফ এবং সুপারমার্কেটের একজন #ভারতীয় ম্যানেজার সহ।
দৈনিক টাইমস কুয়েতের সাথে তার হাসপাতালের বিছানা থেকে একটি সাক্ষাৎকারে, গ্যাপাস ব্যাখ্যা করেছিলেন যে গত রমজানের সময়কালে, অ্যাম্বাসেডর সুপার মার্কেটের বাহিরে গ্রাহকদের জন্য অপেক্ষারত ফিলিপিনো ট্যাক্সি ড্রাইভারদের স্টোর ম্যানেজারকে ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। চালকদের সঙ্গে তুমুল তর্ক-বিতর্কের পর একই দোকানের কর্মীরা এক ট্যাক্সি চালককে মারধর করেছিলেন।
আবারো যখন গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একই লোক ( ট্যাক্সি ড্রাইভার) সুপারমার্কেটের বাহিরে এসে একজন যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ফিলিপাইনো ড্রাইভার বলেন হঠাৎ আমাকে ম্যানেজার দেখতে পায়, ম্যানেজারকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি যে আমি যাত্রী খুঁজতে আসিনি এবং আগেও সেখানে ছিলাম না, এরপর ম্যানেজার চলে গেলেন এবং ছুরি হাতে আরও তিনজন কর্মী নিয়ে ফিরে আসেন। তাদের হুমকিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি দেখে, আমি জীবনের তাগিদে দৌড়ে যাই। যাইহোক, দৌড়ানোর সময়, আমি ছিটকে পড়ে যাওয়ার ফলে সুপারমার্কেটের কর্মীরা আমার চারপাশে ভিড় করে এবং তাদের একজন আমাকে পায়ে ছুরিকাঘাত করেন।
তিনি বলেন আমাকে অন্যান্য ফিলিপিনো ট্যাক্সি ড্রাইভাররা হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং বর্তমানে পায়ে একটি ভাঙ্গা হাড় এবং ছুরিকাঘাতের ক্ষত নিয়ে মোবারক আল কাবীর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। গাপাসের( ট্যাক্সি ড্রাইভার) নিয়োগকর্তা এবং পৃষ্ঠপোষক তার মেডিকেল ফলাফল সহ একটি পুলিশ রিপোর্ট দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। “তদন্তকারীরা গতকাল আমার বিবৃতি নিতে এসেছিলেন এবং আমি তাদের পুরো ঘটনাটি বলেছি, বর্তমানে সাক্ষীদেরও তদন্ত করা হচ্ছে এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করার জন্য বিবৃতি সংগ্রহ করা হচ্ছে” যোগ করেছেন গাপাস।
বাংলাদেশি ও ভারতীয় নাগরিক সহ অন্যান্য কর্মীদের বিরুদ্ধে আইনি মামলা দায়েরে সহায়তা করার জন্য ফিলিপাইন দূতাবাসের ভাইস কনসাল আরন লোজাদার কাছে ঘটনার প্রতিবেদনও পাঠানো হয়েছে।
ভারত থেকে কেনা গম এবং গমজাত আটা-ময়দা রফতানির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করলো সংযুক্ত আরব আমিরাত। আগামী চার মাসের জন্য ভারত থেকে গম কেনার ওপরেও নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘এমিরেটস নিউজ এজেন্সি’ এই তথ্য জানিয়েছে।
দৈনিক ইত্তেফাকের সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আরব আমিরাতের এমন পদক্ষেপের কোনো কারণ ব্যাখ্যা করেনি দেশটির সরকার। তবে ভারতের কূটনীতি বিশেষজ্ঞদের একাংশ আমিরারাতের এমন সিদ্ধান্তের নেপথ্যে নূপুর শর্মা-নবীন জিন্দলদের সাম্প্রতিক বিতর্কিত মন্তব্যকে দায়ী করছেন।
ঘরোয়া বাজারের চাহিদা মেটাতে গত ১৪ মে গম রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে নরেন্দ্র মোদি সরকার। আর ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে দিল্লির এই সিদ্ধান্তের জেরে ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়ায় গমের দাম বাড়তে শুরু করে।
একাধিক দেশ এবং আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার (আইএমএফ)-এর তরফে ইতোমধ্যেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানানো হয়েছে ভারতের কাছে। এই পরিস্থিতিতে কেন ‘উল্টো পথে’ হাঁটল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সরকার?
কূটনীতি বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ভারতের শাসকদলের নেতা-নেত্রীদের একাংশের বিতর্কিত মন্তব্যই এমন সিদ্ধান্তের কারণ। তবে আমিরশাহি সরকারের এমন সিদ্ধান্তের পিছনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতি সংক্রান্ত কোনও কারণ থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
প্রসঙ্গত, বিজেপি মুখপাত্র (বর্তমানে বরখাস্ত) নূপুর ও তার সহকর্মী নবীন জিন্দালের বিতর্কিত মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আরব দুনিয়ায় প্রবল সমালোচনার মুখে পড়ে ভারত। #এনডিটিভি, #আনন্দবাজার #ইত্তেফাক’
মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করছে। সোমবারও রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিক্রি করা হয়েছে। এর প্রভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ দেড় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ৪১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার। যা ২০২০ সালের নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন। ২০২০ সালের নভেম্বরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজর্ভ ছিল ৪১ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার।
এদিকে ব্যাংকগুলোর হাতে দাম ছেড়ে দেওয়ার পর বেড়েই চলেছে ডলারের দাম, বিপরীতে মান হারাচ্ছে টাকা। এবার ডলারের বিপরীতে টাকার দাম আরও ৫০ পয়সা কমিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন দামে প্রতি ডলারের বিনিময়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৯২ টাকা ৫০ পয়সা, আগে যা ছিল ৯২ টাকা।
মুক্তবাজার পদ্ধতিতে চাহিদা বেশি থাকায় কয়েক মাস ধরে চড়া ডলারের মান। গত মঙ্গলবার ডলারের দাম সর্বোচ্চ ৯২ টাকায় বিক্রি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ঠিক একদিন পরই বুধবার হঠাৎ করে ডলারের দাম উল্টো ৫০ পয়সা কমে ৯১ টাকা ৫০ পয়সা হয়। এর ঠিক তিনদিন যেতে না যেতে আবারও ডলারের দাম ৫০ পয়সা বেড়ে ৯২ টাকায় দাঁড়ায়। একদিন পরই আবারও দাম বাড়লো ডলারের। এর বিপরীতে একদিনের ব্যবধানে ৫০ পয়সা দর হারালো টাকা।
সোমবার (১৩ জুন) আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ৯২ টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের দাম নির্ধারণ করছে না। ব্যাংকগুলো যে দামে লেনদেন করে, তার মধ্যে একটি দর বিবেচনায় নেওয়া হয়। আজ ৯২ টাকা ৫০ পয়সাকে বিবেচনায় নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
তিনি আরও বলেন, বাজারের চাহিদা মেটাতে সোমবার (১৩ জুন) ১০ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিক্রি করা হয়েছে। এর ফলে রিজার্ভ কিছুটা কমে এসেছে। তবে রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়লে রিজার্ভ আবারও বাড়বে।
আবারও শুরু হয়েছে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া। প্রায় চার বছর বন্ধ থাকার পর সোমবার (১৩ জুন) শুরু হয়েছে নিবন্ধন কার্যক্রম। এই প্রক্রিয়ায় দেশটিতে যেতে ইচ্ছুক কর্মীরা নিবন্ধন করতে পারবেন।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো বিএমইটির মহাপরিচালক মোহাম্মদ শহিদুল আলম জানান, মালয়েশিয়ায় যেতে ইচ্ছুক কর্মীদের ডাটাবেজ করা হচ্ছে। আগ্রহী কর্মীদের প্রথমে বিএমইটির ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। তারপর তারা এখান থেকে কর্মী বাছাই করবে।
কোন কোন কাজে কর্মী নেবে মালয়েশিয়া মূলত কৃষি, নির্মাণ, খনি, গৃহকর্ম, বাগান ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবেই কর্মী নেবে তারা।
যেভাবে নিবন্ধন করবেন
মোহাম্মদ শহিদুল আলম জানান, দেশের বিভিন্ন জেলায় বিএমইটির ৪২টি কার্যালয় রয়েছে। এছাড়া দেশের ১১টি সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে সরাসরি নিবন্ধন করা যাবে। সেক্ষেত্রে আগ্রহী কর্মীদের সঙ্গে পাসপোর্ট, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, মোবাইল নম্বর, ইমেইল আইডি এবং কোনো সার্টিফিকেট থাকলে তা নিয়ে যেতে হবে।
নিবন্ধন প্রক্রিয়া
নিবন্ধন কেন্দ্রে আগ্রহী শ্রমিকের আঙুলের ছাপ নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে কেন্দ্রের নির্ধারিত কর্মীরা আগ্রহীর তথ্য নিবন্ধন পোর্টালে সংযুক্ত করতে সহায়তা করবেন। এছাড়া সরকার অনুমোদিত ‘আমি প্রবাসী’ অ্যাপেও নিবন্ধন করা যাবে। সেক্ষেত্রে নিবন্ধন ফি ২০০ টাকার সঙ্গে অ্যাপটির সার্ভিস চার্জ হিসেবে ১০০, অর্থাৎ ৩০০ টাকা পরিশোধ করতে হবে। তবে সশরীরে কেন্দ্র থেকে নিবন্ধন করতে ২০০ টাকা পরিশোধ করতে হবে।
নিবন্ধনের যোগ্যতা
১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী যে কেউ নিবন্ধন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। নিবন্ধনের ক্ষেত্রে দক্ষতা সনদের প্রয়োজন নেই। তবে আগ্রহী কর্মীর নামে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। এই নিবন্ধনের কার্যকারিতা থাকবে দুই বছর। এই সময়ের মধ্যে আগ্রমী কর্মী নিজের সম্পের্কে যেকোনো তথ্য আপডেট অথবা এডিট করতে পারবেন। কর্মীর নতুন কোনে ডিগ্রি, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা অর্জন করলে সেই সম্পর্কিত সার্টিফিকেট আপলোড করা যাবে। তবে বিদেশ যাওয়ার জন্য যারা আগে বিএমইটিতে নিবন্ধন করেছেন তাদের ক্ষেত্রে নতুন করে নিবন্ধন করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আগে থেকে নিবন্ধিত কর্মীও আপডেট করতে পারবেন। নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে কর্মীর ফোন নম্বরে একটি বার্তা যাবে।
নিবন্ধনের পর যেভাবে নিয়োগ হবে
বিএমইটি থেকে রোববার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যেসকল কর্মীর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি অথবা অন্যকোনো বৈধ কারিগরি প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো ধরণের প্রশিক্ষণ রয়েছে তারা সেই প্রশিক্ষণের সনদ নিবন্ধনের সময় আপলোড করলে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।
গত বছরের ডিসেম্বর মাসে এনিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। সেসময় কিছু যোগ্যতা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে নূন্যতম ইংরেজির জ্ঞান। মালয় ভাষার জ্ঞান বাড়তি যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে মালয় ভাষার জ্ঞান না থাকলে তাকে অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।
বিএমইটির মহাপরিচালক মোহাম্মদ শহিদুল আলম জানান, আগ্রহীরা কে কোন খাতে কাজ করতে চান নিবন্ধনে তা উল্লেখ করতে হবে। নিবন্ধনে যে তথ্য থাকবে তা এজেন্সি ও মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তারাও দেখতে পাবেন। বিভিন্ন খাতের নিয়োগকর্তা নিবন্ধিত কর্মীদের কেমন যোগ্যতা, বয়স এমনকি ছবিতে চেহারা দেখে সেই অনুযায়ী তাদের কেমন কর্মী দরকার, কত দরকার তা চেয়ে পাঠালে বিএমইটি যে ধরনের পদ চাওয়া হয়েছে, যোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে থেকে তার চেয়ে হয়ত দ্বিগুণ নাম পাঠাবে হবে রিক্রুটিং এজেন্সির কাছে।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো বিএমইটির মহাপরিচালক বলেন, তারা (নিয়োগদাতা) কর্মী বাছাই করার পর ওই কাজের জন্য প্রশিক্ষণ ও মেডিকেল পরীক্ষা করাবেন। এখান থেকে যারা বাদ পড়বেন তাদের নাম আবার নিবন্ধিত তালিকায় ফেরত যাবে। নিয়োগ চূড়ান্ত হয়ে গেলে ভিসার আবেদন পাঠাবে এজেন্সি। পরে মালয়েশিয়া থেকে নিয়োগদাতা বিমান টিকেট পাঠাবেন। তবে বাংলাদেশ অংশের স্বাস্থ্য পরীক্ষার খরচ কর্মীকে বহন করতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার যারা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত হবেন, মালয়েশিয়া সরকার যদি সেগুলো নির্বাচন করে শুধুমাত্র তারাই মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা করতে পারবেন।
সুযোগ সুবিধা
মালয়েশিয়া পৌঁছানোর পর বাংলাদেশি কর্মীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার খরচ, ইনস্যুরেন্স-সংক্রান্ত খরচ, মানসম্মত আবাসন, বিমা, চিকিৎসা ও কল্যাণ ইত্যাদি সেখানকার নিয়োগকর্তা বা কোম্পানি বহন করবে। তবে একেক খাতে কর্মীদের বেতন একেক রকম।
মোহাম্মদ শহিদুল আলম বলেন, নিবন্ধন প্রক্রিয়া অনেকটা সিভি আপলোড করে রাখার মতো। যা বিএমইটি, এজেন্সি ও মালয়েশিয়ায় নিয়োগদাতা কোম্পানি দেখতে পাবেন। কর্মী যখন একবার বুঝবেন যেকোনো ধরণের দক্ষতা থাকলে অগ্রাধিকার পাওয়া যায়, তখন তিনি নিজেই প্রশিক্ষণ নেবে। কয়দিন পরে ক্লিনারের কাজেও নানা মেশিন ব্যবহারের দক্ষতা লাগবে। না হলে কেউ নিয়োগ পাবে না।
বাংলাদেশের বৈদেশিক শ্রমবাজার হিসেবে মালয়েশিয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দুর্নীতি আর অনিয়মের অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ থেকে দুইবার কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয় মালয়েশিয়া। সর্বশেষ ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ রয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার সরকার কর্মী প্রেরণবিষয়ক একটি সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষর করে। এরপরও কর্মী নিয়োগ বন্ধ ছিল। কারণ মালয়েশিয়ার তরফ থেকে শুধুমাত্র ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। পরে বাংলাদেশের এজেন্সিগুলো এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে। এছাড়া বাংলাদেশের সরকারও বিষয়টি নিয়ে দ্বিমত পোষণ করে। এরপর থেকে ছয়মাস ধরে দুই দেশের সরকারের মধ্যে শুধু চিঠি চালাচালি হয় এবং বারবার মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক পিছিয়ে দেওয়া হয়। অবশেষে চলতি মাসের দুই তারিখ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ এবং মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী এম সারাভানানের উপস্থিতিতে ঢাকায় দুই দেশের একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে বিষয়টির এক ধরণের সুরাহা হয়। নিদিষ্ট সংখ্যায় এজেন্সির উল্লেখ না থাকলেও মালয়েশিয়া শুধুমাত্র তার পছন্দমতো এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নেবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।
তবে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি বলছে, যে ১২টি দেশ থেকে মালয়েশিয়া কর্মী নেয় তাদের কোনোটির ক্ষেত্রেই রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচনের বিষয়টি এমন নয় যেমনটা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে চাওয়া হচ্ছে।
র্থবছরের ১১ মাসে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের মে পর্যন্ত দেশে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ ১৯ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছরে যা ছিল ২২ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এই ১১ মাসে রেমিট্যান্স ৩ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার কমেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বব্যাপী করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় টাকা পাঠানোর অবৈধ চ্যানেল হুন্ডি কার্যক্রম আবারও স্বাভাবিক হওয়ায় প্রবাসীকর্মীরা এর মাধ্যমেই টাকা পাঠাচ্ছেন। এ ছাড়াও, ডলারের বিপরীতে টাকার দর বাড়াও এর অন্যতম একটি কারণ।
মহামারিতে কাজ হারানো অনেক প্রবাসীকর্মী তাদের সব সঞ্চয় নিয়ে দেশে ফিরে আসায় ২০২০-২১ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ রেমিট্যান্স বেড়েছে বলেও তারা বলেন।
রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিটের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১ এপ্রিল থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪ লাখ ৮ হাজার প্রবাসীকর্মী দেশে ফিরেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার ও ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এসেছে ১৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার।
২০২১-২২ অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রেমিট্যান্স সবচেয়ে বেশি কমেছে সৌদি আরব থেকে, যেখানে রয়েছে ২২ লাখ বাংলাদেশি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরব থেকে ২০২১-২২ অর্থবছরের ১০ মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। অথচ এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।
রেমিট্যান্স কম আসার তালিকায় দ্বিতীয়তে রয়েছে মালয়েশিয়া। ২০২১-২২ অর্থবছরের ১০ মাসে দেশটি থেকে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৮৪৯ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন ডলার। এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।
একই সময়ের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কুয়েত, কাতার ও যুক্তরাজ্য থেকে আসা রেমিট্যান্সের প্রবাহও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপকালে বেশ কয়েকজন অর্থনীতিবিদ বলেন, মহামারিকালে দেশে টাকা পাঠানোর অবৈধ চ্যানেল বন্ধ থাকায় ব্যাংকগুলো যে সুবিধা পাচ্ছিল, এখন আবার তা কমতে শুরু করেছে। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার প্রবাসীকর্মীরা এখন আবার সেই অবৈধ চ্যানেলের দিকেই ঝুঁকতে শুরু করেছেন।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের বিশেষ ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘যারা দেশে রেমিট্যান্স পাঠায়, তাদেরকে বৈধ চ্যানেল ব্যবহারে উৎসাহিত করতে বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
বৈদেশিক মুদ্রার বাজারের সাম্প্রতিক অস্থিরতার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘ডলারের বিনিময় হারের ক্ষেত্রে বৈধ ও অবৈধ চ্যানেলের মধ্যে ৬-৭ টাকার মতো পার্থক্য রয়েছে।’
এই ব্যবধান ২-৩ টাকার বেশি হওয়া উচিত নয় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘এত বেশি ব্যবধান থাকায় অবৈধ চ্যানেলের ব্যবহার বাড়বে কি না, সেটাই এখন উদ্বেগের বিষয়।’
ফরেক্স মার্কেটকে স্থিতিশীল করতে গতকাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারপ্রতি বিনিময় হার ৯২ টাকা নির্ধারণ করেছে। এ নিয়ে চলতি বছরে ১২ বারের মতো টাকার অবমূল্যায়ন হলো।
গত এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো গত ২ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হারকে বাজারমূল্য অনুযায়ী নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগের বিষয়ে মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এই উদ্যোগ প্রবাসীকর্মীদের বৈধ চ্যানেল থেকে অবৈধ চ্যানেলে স্থানান্তরিত হওয়ার প্রবণতাকে হ্রাস করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঐতিহাসিক ধারা’ বজায় রেখে মহামারি-পূর্ববর্তী (২০১৯-২০) সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরে দেশে অভ্যন্তরীণ রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিএমইটির তথ্যে দেখা যায়, ২০১৭ সাল থেকে টানা ৫ বছর বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ রেমিট্যান্সে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
মুস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে যাওয়ায় এক বছরের মধ্যে অভ্যন্তরীণ রেমিট্যান্স আরও বাড়তে পারে। তবে, অবৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর ঝুঁকি তুলে ধরে এক্ষেত্রে নজরদারি বাড়ানো ও জোরালো প্রচারের প্রয়োজন রয়েছে।
নতুন অভিবাসীদের লক্ষ্য করে একটি শক্তিশালী প্রচার কার্যক্রমের মাধ্যমে আগামী অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ রেমিট্যান্স ২০২০-২০২১ সালে প্রাপ্ত ২৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারও স্পর্শ করতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে ৭ লাখ ৯৯ হাজার বাংলাদেশি কর্মী বিভিন্ন দেশে গিয়েছেন।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, মহামারির মধ্যে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে অবৈধ চ্যানেল থেকে বৈধ চ্যানেলে যাওয়াই ২০২০-২০২১ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ রেমিট্যান্স বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
তিনি আরও বলেন, এ ছাড়াও মহামারিকালে অনেক বিদেশিকর্মী তাদের সব সঞ্চয় নিয়ে দেশে ফিরে এসেছেন। তাই অভ্যন্তরীণ রেমিট্যান্স বেড়েছে।
‘কোভিড পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় ও অবৈধ চ্যানেলগুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসায় অনেকেই টাকা পাঠানোর জন্য এখন সেই মাধ্যমকেই বেছে নিচ্ছেন’, বলেন তিনি।
জাহিদ হোসেন আরও বলেন, অবৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর আরেকটি কারণ হলো ‘ভিসা বাণিজ্য’।
‘আন্ডার-ইনভয়েসিং’ শনাক্ত করা জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে তাদের গোয়েন্দা সক্ষমতা আরও বাড়ানোর পরামর্শও দেন জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, ‘আন্ডার-ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে অনেক আমদানিকারক অবৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর সুযোগ তৈরি করে কর ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘করোনার সংক্রমণ যখন বেশি ছিল, সেসময় চলাফেরা সীমিত থাকায় প্রবাসীকর্মীরা বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ পাঠিয়েছেন। এ ছাড়াও অনেক অভিবাসীকে স্থায়ীভাবে দেশে ফিরে আসতে হয়েছে।
‘সরকার নগদ প্রণোদনা দিয়ে অভ্যন্তরীণ রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর চেষ্টা করছে’, বলেন তিনি।
ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর জন্য নগদ প্রণোদনা ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে উল্লেখ করে সিরাজুল আসলাম আরও বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই প্রণোদনা আরও বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।’
সোমবার ৫০ পয়সা কমে আন্তঃব্যাংক লেনদেনে প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য এখন ৯২ টাকা ৫০ পয়সা।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার আন্তঃব্যাংক লেনদেনে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ৯২ টাকা হয়েছিল।
এ নিয়ে এ বছর ১৩ দফা টাকার অবমূল্যায়ন হলো।
বিশ্ব বাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে গত বছরের শেষ থেকে দেশের আমদানির মূল্য পরিশোধের অর্থের পরিমাণ বেড়ে যায়। এতে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়।
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিলের মধ্যে আমদানি ব্যয় ৪১ শতাংশ বেড়ে ৬৮ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যায়।
এতে রেকর্ড ২৭ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়।
এছাড়া, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ বছরে ১৬ শতাংশ কমে ১৯ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার হয়।
এসব কারণে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর ৪৬ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার থাকলেও, তা কমে গত ১ জুন ৪১ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।
উদরশান নিউজ, একটি হিন্দি সংবাদ চ্যানেল, যেটি মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো এবং সহিংসতাকে উস্কে দেওয়ার জন্য কুখ্যাত।
গত ১৫ মে তার শো ‘বিন্দাস বোল’-এ মদিনার মসজিদ আল-নবীতে বোমা হামলার একটি চিত্রিত চিত্র প্রচার করে, যেটি তার বিদ্বেষপূর্ণ বিরোধীদের দ্বারা আয়োজিত করেছিল মুসলিম বিরোধী সম্পাদক সুরেশ চাভাঁ।
চ্যানেলের শো, ‘বিন্দাস বোল – আও ইজারাইলের সাথে, কালের যুদ্ধ কা সঙ্গী আছে ইজারাইল’ (এসো ইসরাইলকে সমর্থন করি, ইজরায়েল আগামীকালের লড়াইয়ের অংশীদার), ইসলামের দ্বিতীয় পবিত্রতম স্থানে বোমা হামলার চিত্র তুলে ধরে উসকানিমূলক গ্রাফিক্স সম্প্রচার করেছে, ইসরায়েলকে সমর্থন করার জন্য তার দর্শকদের আহ্বান জানিয়ে, সে বলেছে, ভবিষ্যতের যুদ্ধে ভারতের পাশে দাঁড়াবে ইসরাইল।
অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি শহর গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় গত সপ্তাহে (রমজানে) নারী ও শিশুসহ ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
ফিলিস্তিনিদের উপর ইসরায়েলের সর্বশেষ সন্ত্রাসী হামলা গত মাসে পূর্ব জেরুজালেমে শুরু হয়েছিল যখন ফিলিস্তিনিরা অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারী শেখ জাররাহ আশেপাশের কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি পরিবারকে হুমকির মুখে উচ্ছেদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছিল।
গত রমজান মাসে, ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী মসজিদে মুসল্লিদের ছত্রভঙ্গ করতে ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদ আল আকসা কমপ্লেক্সে হামলা চালায়। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের মতে ঐ হামলায় শতাধিক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
গাজায় হামলা ইউরোপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশ্বের অন্যান্য অংশের শহরগুলিতে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে, তবে, ভারতে, চাভাঙ্কের মতো ডানপন্থী চরমপন্থীরা টিভি চ্যানেলে অনুষ্ঠান প্রচার করছে এবং প্রবণতা করছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে হ্যাশট্যাগ ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন দেখাচ্ছে।
পবিত্র নগরী মদীনায় হামলাকে চিত্রিত করার জন্য চ্যানেলের নির্লজ্জ প্রচেষ্টা মুসলমানদের ক্ষুব্ধ করেছে, অনেকে এটি এবং এর সম্পাদকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
চাভাক এবং তার চ্যানেল মুসলমানদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উস্কানি এবং ইসলাম সম্পর্কে ভুল তথ্য ছড়িয়েছে।
গত বছর, সুপ্রিম কোর্ট সুদর্শন নিউজকে চ্যানেলের অনুষ্ঠানের পর্বগুলি সম্প্রচার করা থেকে নিষেধ করেছিল, যেটি “কীভাবে মুসলিমরা নাগরিক পরিষেবাগুলিতে অনুপ্রবেশ করেছে” এর পিছনে একটি কথিত ষড়যন্ত্র উন্মোচন করার দাবি করেছিল।
আদালত উল্লেখ করেছিল যে, অনুষ্ঠানটি ছিল “প্রতারণামূলক” এবং মুসলমানদের অপমান করার অভিপ্রায় এবং অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে প্রচার করা হয়েছিল।