ক্যাটাগরি প্রধানমন্ত্রী

মায়ের মমতায় দেশ চালালে জনগণ অবশ্যই সমর্থন দেবে: প্রধানমন্ত্রী

মঙ্গলবার, ০৮ মার্চ ২০২২, ২৩ ফাল্গুন ১৪২৮, ০৪ শাবান ১৪৪৩ হিজরী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘মায়ের মমতা নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করলে জনগণ অবশ্যই সমর্থন করবে।’ শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আমাদের একটা বিষয় অনুধাবন করতে হবে, নারী কেবল নারী নয়; নারীরা হলেন মা। তাই মায়ের মমতায় যদি আপনি রাষ্ট্র পরিচালনা করেন, অবশ্যই জনগণ আপনাকে সমর্থন দেবে।’

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার দুবাই এক্সিবিশন সেন্টারে আয়োজিত ‘রিডিফাইনিং দ্য ফিউচার অব উইমেন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ সরকারপ্রধান এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে স্পিকার, সংসদ নেতা, সংসদ উপনেতা এবং বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্বও যে নারীরা পালন করছেন, সে কথা তুলে ধরেন। বলেন, ‘এটাকে আমরা কীভাবে ব্যাখ্যা করব? আমাদের পুরুষরা খুব দুর্বল? না তা নয়। তারা খুব কো-অপারেটিভ। আমি অবশ্যই বিষয়টির প্রশংসা করি।’

বাংলাদেশের সমাজ একসময় ‘খুব বেশি রক্ষণশীল’ ছিল জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের একটি সংবিধান দেন। সেই সংবিধানে বলা হয়েছে, নারী ও পুরুষ সমান অধিকার ভোগ করবে।’

টানা ১৩ বছর ধরে বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্ব দিয়ে আসা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে নারী নেতৃত্বের বিকাশে জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য ৫০টি আসন সংরক্ষিত রাখার বিষয়টিও তুলে ধরেন।

শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বাংলাদেশে দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে গণতন্ত্র পাওয়ার কথা তুলে ধরার পাশপাশি স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে দেশ গঠনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যার পর সামরিক শাসকেরা রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করলে নারীরা কোনো সুযোগ পায়নি।  সামরিক শাসকরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দীর্ঘ ২১ বছর বাংলাদেশ শাসন করেছে। দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে নারীদের উন্নয়নে কাজ শুরু করে। আমি যখন সরকার গঠন করি, তখন দেখলাম কোথাও নারীর কোনো জায়গা ছিল না। তারা ছিল পুরোপুরি অবহেলিত।আপনারা জানেন এই পৃথিবীর যেখানেই সামরিক শাসকেরা শাসন করেন… তারা খুবই রক্ষণশীল। কিন্তু আমি নারীদের জন্য সব কিছু উন্মুক্ত করে দিই।’

অনুষ্ঠানে নারীদের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন ক্ষমতাসীন দলটির সভাপতি। 

ছাত্রজীবন থেকে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘আমি দেশটাকে জানতাম, সমস্যাগুলো কী সেটা জানতাম। আমি আমার বাবার থেকে শিখেছি। আমার বাবা আমার মেন্টর। আমি শিখেছি আমার জনগণ ও দেশকে কীভাবে ভালোবাসতে হয় এবং দরিদ্র মানুষের জন্য কীভাবে কাজ করতে হয়।’

বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এভাবেই আমি জনগণের সমর্থন অর্জন করেছি। এটাই আমার মূল শক্তি। জনগণের সমর্থন, জনগণের বিশ্বাস… জনগণ অনুভব করে যে আমি যদি এখানে থাকি (রাষ্ট্র ক্ষমতায়), অবশ্যই তারা লাভবান হবে।’

এ সময় তিনি শোষিত বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন সংগ্রামের কথা তুলে ধরে জাতির পিতাকে হত্যার পর ছয় বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরার কথা উল্লেখ করেন।

যখন সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়, তখন বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। ছয় বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ১৯৮১ সালে দেশে ফিরেন দুই বোন। বড় মেয়ে শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামী লীগের হাল ধরেন। সেসব দিনের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশে ফেরার পর আমার চলার পথও মসৃণ ছিল না। সব খুনি, যুদ্ধাপরাধী, তারা সেই সময় ক্ষমতায় ছিল।… কিন্তু আমি সেগুলো পরোয়া করিনি। আমি ভেবেছি আমাকে জনগণের জন্য কাজ করতে হবে।’

মায়ের মমতায় দেশ চালালে জনগণ অবশ্যই সমর্থন দেবে: প্রধানমন্ত্রী

মঙ্গলবার, ০৮ মার্চ ২০২২, ২৩ ফাল্গুন ১৪২৮, ০৪ শাবান ১৪৪৩ হিজরী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘মায়ের মমতা নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করলে জনগণ অবশ্যই সমর্থন করবে।’ শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আমাদের একটা বিষয় অনুধাবন করতে হবে, নারী কেবল নারী নয়; নারীরা হলেন মা। তাই মায়ের মমতায় যদি আপনি রাষ্ট্র পরিচালনা করেন, অবশ্যই জনগণ আপনাকে সমর্থন দেবে।’

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার দুবাই এক্সিবিশন সেন্টারে আয়োজিত ‘রিডিফাইনিং দ্য ফিউচার অব উইমেন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ সরকারপ্রধান এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে স্পিকার, সংসদ নেতা, সংসদ উপনেতা এবং বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্বও যে নারীরা পালন করছেন, সে কথা তুলে ধরেন। বলেন, ‘এটাকে আমরা কীভাবে ব্যাখ্যা করব? আমাদের পুরুষরা খুব দুর্বল? না তা নয়। তারা খুব কো-অপারেটিভ। আমি অবশ্যই বিষয়টির প্রশংসা করি।’

বাংলাদেশের সমাজ একসময় ‘খুব বেশি রক্ষণশীল’ ছিল জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের একটি সংবিধান দেন। সেই সংবিধানে বলা হয়েছে, নারী ও পুরুষ সমান অধিকার ভোগ করবে।’

টানা ১৩ বছর ধরে বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্ব দিয়ে আসা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে নারী নেতৃত্বের বিকাশে জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য ৫০টি আসন সংরক্ষিত রাখার বিষয়টিও তুলে ধরেন।

শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বাংলাদেশে দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে গণতন্ত্র পাওয়ার কথা তুলে ধরার পাশপাশি স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে দেশ গঠনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যার পর সামরিক শাসকেরা রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করলে নারীরা কোনো সুযোগ পায়নি।  সামরিক শাসকরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দীর্ঘ ২১ বছর বাংলাদেশ শাসন করেছে। দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে নারীদের উন্নয়নে কাজ শুরু করে। আমি যখন সরকার গঠন করি, তখন দেখলাম কোথাও নারীর কোনো জায়গা ছিল না। তারা ছিল পুরোপুরি অবহেলিত।আপনারা জানেন এই পৃথিবীর যেখানেই সামরিক শাসকেরা শাসন করেন… তারা খুবই রক্ষণশীল। কিন্তু আমি নারীদের জন্য সব কিছু উন্মুক্ত করে দিই।’

অনুষ্ঠানে নারীদের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন ক্ষমতাসীন দলটির সভাপতি। 

ছাত্রজীবন থেকে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘আমি দেশটাকে জানতাম, সমস্যাগুলো কী সেটা জানতাম। আমি আমার বাবার থেকে শিখেছি। আমার বাবা আমার মেন্টর। আমি শিখেছি আমার জনগণ ও দেশকে কীভাবে ভালোবাসতে হয় এবং দরিদ্র মানুষের জন্য কীভাবে কাজ করতে হয়।’

বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এভাবেই আমি জনগণের সমর্থন অর্জন করেছি। এটাই আমার মূল শক্তি। জনগণের সমর্থন, জনগণের বিশ্বাস… জনগণ অনুভব করে যে আমি যদি এখানে থাকি (রাষ্ট্র ক্ষমতায়), অবশ্যই তারা লাভবান হবে।’

এ সময় তিনি শোষিত বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন সংগ্রামের কথা তুলে ধরে জাতির পিতাকে হত্যার পর ছয় বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরার কথা উল্লেখ করেন।

যখন সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়, তখন বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। ছয় বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ১৯৮১ সালে দেশে ফিরেন দুই বোন। বড় মেয়ে শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামী লীগের হাল ধরেন। সেসব দিনের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশে ফেরার পর আমার চলার পথও মসৃণ ছিল না। সব খুনি, যুদ্ধাপরাধী, তারা সেই সময় ক্ষমতায় ছিল।… কিন্তু আমি সেগুলো পরোয়া করিনি। আমি ভেবেছি আমাকে জনগণের জন্য কাজ করতে হবে।’

দেশে,করোনার প্রকোপ বাড়লে আবার বন্ধ হতে পারে স্কুল ঃ-প্রধানমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২১, ১৫ পৌষ ১৪২৮, ২৫ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের ওপর জোর দিয়েছেন। নতুন করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, প্রাদুর্ভাব বেড়ে গেলে স্কুলগুলো হয়তো চালু রাখা সম্ভব হবে না। সে কারণে, অনলাইন শিক্ষাটা যাতে প্রত্যেক ঘরে পৌঁছায়, সেই ব্যবস্থা নিতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে ২০২১ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ ও এ–সংক্রান্ত পরিসংখ্যান প্রতিবেদন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যোগ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রমটা চালু রাখতেই হবে। কারণ করোনা কখনো বাড়ছে, কখনো কমছে। আমরা সব সময় লক্ষ করেছি, শীতে এর প্রাদুর্ভাবটা বেড়ে যায়। কাজেই, এখন থেকেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সেই প্রস্তুতিটা নিতে হবে।’

করোনার সংক্রমণ থেকে বাঁচতে দেশের প্রতিটি নাগরিককে কোভিড-১৯ টিকা গ্রহণের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে টিকাদান অভিযান সহজলভ্য করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সূত্রঃ প্রথম আলো

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন করে প্রাণঘাতী ভাইরাস সংক্রমণ থেকে বাঁচতে দেশের প্রতিটি নাগরিককে কোভিড-১৯ টিকা গ্রহণের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে টিকাদান অভিযান সহজলভ্য করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে কেউ আবার সংক্রামিত না হয় (করোনাভাইরাস দ্বারা) এবং কেউই যেন টিকা দান কভারেজের বাইরে না থাকে।’

তিনি বলেন, ‘সবাইকে কোভিড-১৯ টিকা নিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বৃহস্পতিবার সকালে ২০২১ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ ও এ সংক্রান্ত পরিসংখ্যান প্রতিবেদন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণ দিচ্ছিলেন।

তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দেন।

তার সরকারের টিকাদান কার্যক্রমের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের প্রথমে দিয়েছি, এখন শিক্ষার্থীদের দিচ্ছি এবং ১২ বছর বয়স পর্যন্ত সবাইকে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকের অনীহার উল্লেখ করে তিনি বলেন, গতকালই তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কথা বলে ব্যবস্থা নিয়েছেন সারা দেশের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর মাধ্যমে যেন এই টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত থাকে। একদম তৃণমূল পর্যায়ের মানুষও যেন দ্রুত টিকা নিতে পারে। কারণ, নতুনভাবে যাতে আবার সংক্রমিত না হয় সে ব্যবস্থা এখন থেকেই নিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আজকে এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমি আহ্বান জানাবো আমরা এই টিকাদান কার্যক্রমটা একদম তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে যেতে চাচ্ছি। কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমেই দেওয়া হবে বা অন্যান্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে দেওয়া হবে। কিন্তু যারা টিকা নেননি এখনো তাদেরকে টিকা নিতে হবে।’

পরিবারের শুধু অভিভাবক নয়, শিক্ষার্থীরাও যাতে টিকা নেয় সেজন্য ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

সূত্রঃ দ্য ডেইলি স্টার

জয়নাল হাজারীর মৃত্যুতে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর শোক

সোমবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২১, ১২ পৌষ ১৪২৮, ২২ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য, ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল হাজারীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

পৃথক শোক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জয়নাল হাজারী।হাসপাতালটির গণসংযোগ কর্মকর্তা চৌধুরী মেহের এ খোদা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ৭৮ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ কিডনি হৃদরোগসহ বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যা নিয়ে গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করবো, এটাই প্রতিজ্ঞা: প্রধানমন্ত্রী।

শনিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২১, ১০ পৌষ ১৪২৮, ২০ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বাধীনতাবিরোধী ও খুনিরা তৎপর রয়েছে, তৎপর থাকবে। তাদের ষড়যন্ত্রও চলতে থাকবে। কিন্তু এ ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই আমাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে। ইনশাল্লাহ, জাতির পিতা স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলব।

শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নাগরিক সংবর্ধনায় ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মালদ্বীপের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ইস্কান্ধার স্কুল অডিটোরিয়ামে, মালে চাঁদনী মাগুতে সমবেত হন।

শেখ হাসিনা বলেন, বারবার আমাকে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছে। কতবার আমাকে বন্দি করা হয়েছে। এমনকি আমাকে ক্যান্টনমেন্টে ডিজিএফআইয়ের সেলেও নিয়ে গেছে ইন্টারোগেশন করার জন্য।

তিনি বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর মেয়ে, জাতির পিতার মেয়ে। আমি এসবে কখনো পাত্তা দিইনি, ভয় পাইনি। আমার সবসময় একটা দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, যখন বেঁচে আছি, আল্লাহর একটা ইশারা। এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে আমি পারব। এটাই আমার প্রতিজ্ঞা।

জাতির পিতা সবসময় মানুষের খাদ্য, বস্ত্র, উন্নত জীবন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতেন উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আমার লক্ষ্য এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা। তাদের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যবস্থা করে একটা সুন্দর জীবন দেওয়া।

তিনি বলেন, এটুকু করতে পারাই হবে আমার সার্থকতা। আর এটুকু করতে পারলেই আমি মনে করি ষড়যন্ত্রকারীরা, যে খুনিরা আমার বাবাকে হত্যা করেছে বাংলাদেশের মানুষকে পদদলিত করে রাখার জন্য, তাদের উপযুক্ত জবাব আমি দিতে পারব।

’৭৫ এর বিয়োগান্তক অধ্যায় এবং এরপর ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করে জাতির পিতাকে হত্যার বিচারের পথ রহিত করায় তৎকালীন সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের পদক্ষেপ এবং ১৫ আগস্টের কালরাতে বিদেশে থাকায় বেঁচে যাওয়া তাদের দুই বোনকে (শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা) দেশে ফিরতে না দেওয়ায় ছয় বছর বিদেশে রিফিউজি জীবনযাপনে বাধ্য হবার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

অনেক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে সরকার গঠনের পর ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স রহিত করে জাতির পিতা হত্যার এবং একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করলেও যারা ষড়যন্ত্রকারী তাদের ষড়যন্ত্র এখনও থেমে নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রবাসীদের কল্যাণ করা আওয়ামী লীগ সরকারের দায়িত্ব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বর্তমানে যে সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হচ্ছেন তা সমাধানে সরকার ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমি একটি সফল দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেছি। অনথিভুক্ত বাংলাদেশি শ্রমিকদের বৈধ করার বিষয়টি সংলাপে প্রাধান্য পেয়েছে।

এখানে অকস্মাৎ এসে পড়ায় যারা এখনো বৈধতা পাননি, তাদের বিষয়ে মালদ্বীপ সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের এমওইউ সইয়ের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশি প্রবাসীরা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ সরাসরি মালদ্বীপের মুদ্রায় যাতে দেশে পাঠাতে পারেন সে ব্যবস্থাও নেব, যাতে তাদের লোকসানের মুখে পড়তে না হয়।

মালদ্বীপ থেকে সহজে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা হবে : প্রধানমন্ত্রী।

শনিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২১, ১০ পৌষ ১৪২৮, ২০ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে মালদ্বীপ থেকে সহজে দেশে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। এ কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা যাতে সরাসরি মালদ্বীপের মুদ্রায় দেশে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারেন সেই ব্যবস্থা করা হবে। দেশে টাকা পাঠাতে ডলার কেনার ফলে যে লোকসান হয় তা রোধ করতে প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংক মানি এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থা করে দেবে।

শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) মালদ্বীপে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। তিনি মালদ্বীপ সরকারের অতিথি ভবন থেকে এই অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন।
মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সফল দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, অনথিভুক্ত বাংলাদেশি শ্রমিকদের বৈধ করার বিষয়টি আলোচনায় প্রাধান্য পেয়েছে। মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বর্তমানে যেসব সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তার সমাধানে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
তিনি বলেন, বিদেশ যেতে বাড়ি-ঘর বিক্রি করে দালালের হাতে টাকা দেওয়ার কোনো দরকার নেই। বরং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে লোন নেওয়া যাবে। ক্ষেত্র বিশেষে এই লোন জামানত ছাড়াও দেওয়া হবে। ধীরে ধীরে সেই ব্যাংকেই লোন শোধ করবেন। তারপরও মানুষের মাঝে একটা প্রবণতা আছে, কেউ এসে সোনার হরিণ ধরার সুযোগ দেখালো, সবাই সেই পথে দৌঁড়ালেন। তারপর বিপদে পড়েন। অনেক সময় মৃত্যু হয়। এ রকম বহু ঘটনা ঘটে যায়। এভাবে সোনার হরিণ ধরার পেছনে ছোটার কোনো দরকার নেই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার বেসরকারি খাতে বিমান পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে কারণে আজ একটি বেসরকারি খাতের বিমান (ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স) মালদ্বীপে আসা শুরু করেছে। সরকারি বিমানে আমরা মালদ্বীপে যাতায়াতের একটা ব্যবস্থা করব, সেই লক্ষ্যও সরকারের রয়েছে। পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীরা মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে তাদের সমস্যার বিষয়ে কথা বলেছেন। সরকার সব সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
ভারতের চেন্নাই হয়ে বাংলাদেশ বিমান মালদ্বীপে যাতায়াতের বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় ঐক্যমতে পৌঁছেছে বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা
প্রবাসী আহমেদ মুত্তাকির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মালদ্বীপে বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, মালদ্বীপ আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব দুলাল মাদবর। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মালদ্বীপের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মালের চাঁদনী মাগুতে ইস্কান্ধার স্কুল অডিটোরিয়ামে সমবেত হন।