ক্যাটাগরি বাংলাদেশ বিমানবন্দর

বিয়ে করতে দেশে এলেন দুবাই প্রবাসী, লাগেজের মালামাল গায়েব

ঢাকার ছেলে মির্জা সেলিম, ১৩ বছর ধরে থাকেন দুবাইয়ে। পরিবারের চাওয়া অনুযায়ী বসতে যাচ্ছেন বিয়ের পিঁড়িতে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১ মাসের ছুটি নিয়ে দেশে এসেছেন গত ৮ জুলাই। বিয়ে বলে কথা, বিয়ে উপলক্ষে বিদেশে কেনা নানান জিনিসপত্রে ভর্তি ছিল লাগেজ। কিন্তু ঢাকায় হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে সেই লাগেজ খুঁজে পাননি সেলিম। চার দিন পর লাগেজ ফিরে পেলেও প্রায় ১০ কেজি ওজনের জিনিসপত্র গায়েব। শুধু সেলিম নন, প্রতিনিয়ত এমন ভোগান্তিতে পড়ছেন তার মতো অনেক প্রবাসী।

ভুক্তভোগী মির্জা সেলিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ৮ জুলাই আমি দুবাই থেকে এয়ার এরাবিয়ার ফ্লাইটে (G9516) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসি। বিমানবন্দরের লাগেজ বেল্টে আমার লাগেজ পাইনি। সেদিন বিমানবন্দরে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছিলাম, কিন্তু লাগেজ আর পাইনি। এয়ার এরাবিয়ার কর্মকর্তারা সেদিন আমাকে বলেছিল, লাগেজ পরেরদিন বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে।

বিয়ের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসছে কিন্তু লাগেজ না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন সেলিম। লাগেজ পেতে তাকে ১২ জুলাই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। তিনি বলেন, আমি এয়ার এরাবিয়ার দেওয়া মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য চেষ্টা করেছি, কিন্তু তারা কেউ ফোন ধরেনি। ১২ জুলাই আমার মোবাইল নম্বরে কুরিয়ার সার্ভিস এসএ পরিবহন থেকে ফোন আসে, তারা তাদের অফিসে থেকে আমাকে লাগেজ সংগ্রহ করতে বলে।

রাজধানীর দনিয়া এলাকায় থাকেন প্রবাসী মির্জা সেলিম। যাত্রাবাড়ী এলাকায় এসএ পরিবহনের অফিসে গিয়ে নিজের লাগেজ নিয়ে আসলেন বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে দেখেন রূপার অলংকার, মেয়েদের ঘড়ি, কসমেটিকসহ প্রায় ২৫ হাজার টাকার জিনিসপত্র গায়েব। লাগেজের চেইন ভাঙ্গা।

মির্জা সেলিম বলেন, এসএ পরিবহনের অফিসে গেলে তারা বিভিন্ন কাগজে আমার স্বাক্ষর নেয়। দেখলাম আমার লাগেজ প্লাস্টিক দিয়ে র‌্যাপিং করা, কিন্তু আমি লাগেজ র‌্যাপিং করিনি। এসএ পরিবহনের কর্মীরা জানালেন, এভাবেই নাকি বিমানবন্দর থেকে লাগেজ এসেছে তাদের কাছে। লাগেজে র‌্যাপিং করা থাকায় তৎক্ষণাত আমি আর কোনও বিষয় খেয়াল করতে পারিনি। বাড়ি গিয়ে দেখি আমার লাগেজের চেইন ভাঙ্গা, জিনিসপত্র নেই।

ক্ষোভ প্রকাশ করে মির্জা সেলিম বলেন, বিয়ে উপলক্ষে পরিবার-পরিজনের জন্য কিছু জিনিসপত্র আনলাম, সেগুলো গায়েব। এমন যদি হতো পুরো লাগেজ হারিয়েছে, তাহলে ভিন্ন কথা। লাগেজে কিছু আছে, কিছু নেই মানে কী? কেউ না কেউ খুলে জিনিসপত্র নিয়ে গেছে। আমাদের টিকিটের টাকা থেকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা, উন্নয়নসহ নানা রকম চার্জ সরকার নেয়। এটাই কি নিরাপত্তার নমুনা। আমি প্রথম এমন ভুক্তভোগী এমন না— শত শত প্রবাসী হয়রানির শিকার, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আমি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে লিখিতভাবে এ বিষয়ে জানিয়েছি। আমি লিখিতভাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে জানিয়েছি।

জানা গেছে, সম্প্রতি ব্যাগেজ লেফট-বিহাইন্ড বেড়ে যাওয়ায় অসংখ্য যাত্রীকে এ ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। সাধারণত বাজেট (লো কস্ট ক্যারিয়ার) এয়ারলাইন্সগুলোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ব্যাগেজ লেফট-বিহাইন্ড হয়। বর্তমানে শুধু বাজেট এয়ারলাইন নয়, সবধরনের এয়ারলাইনের ক্ষেত্রে ব্যাগেজ লেফট-বিহাইন্ড বেড়েছ মাত্রাতিরিক্ত। এরমধ্যে জাজিরা এয়ারওয়েজ, সালাম এয়ার, কাতার এয়ারওয়েজ, সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইন্স, ফ্লাই দুবাই, এয়ার এরাবিয়া, ওমান এয়ার, গালফ এয়ার, কুয়েত এয়ারওয়েজের ক্ষেত্রে ব্যাগেজ লেফট-বিহাইন্ড বেশি হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী এয়ারলাইন লেফট-বিহাইন্ড হওয়া লাগেজ যাত্রীর বাড়িতে কুরিয়ার করে পাঠিয়ে দিবে। তবে অনেক যাত্রী অভিযোগ করছেন কুরিয়ার থেকে সংগ্রহ করা লাগেজে থেকে মাল চুরি হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, কোনও যাত্রীর ক্ষেত্রে যদি এমন ঘটনা ঘটে তাহলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য এয়ারলাইনগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যাত্রী যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন জানালে ক্ষতিপূরণ পাবেন।

বিদেশে যাবার সময় গ্রামের পরিচিত কেউ আপনাকে সাথে ওষুধ নিয়ে যেতে দিচ্ছে?

রবিবার  , ২৬ জুন ২০২২, ১২ আষাঢ় ১৪২৯, ২৫ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী

কিংবা নিজের প্রয়োজনে ওষুধ নিয়ে যাবেন ?

ফেনসিডিল, মূলত কাশির ওষুধ। তবে এই ওষুধ মাত্রাতিরিক্ত খেলে নেশা হয়। যার কারণে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে মাদক হিসেবে পরিচিত ফেনসিডিল।

ঠিক তেমনি, অনেক ধরণের ওষুধ মধ্যপ্রাচ্যের কাতার, সৌদি আরব, কুয়েত, আরব আমিরাতে নিষিদ্ধ। না জেনে নিষিদ্ধ ওষুধ পরিবহনের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে অনেক প্রবাসীকে ওষুধ সহ আটক করেছে দেশটির কাস্টমস কিংবা মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা।

বাংলা এভিয়েশন অনুরোধ করছে, আপনি যে দেশে যাচ্ছেন, সেদেশে নিজের সাথে ওষুধ নেওয়ার আগে জেনে নিন, সেই ওষুধের বিষয়ে কোন বিধি নিষেধ আছে কী না। যেহেতু বাংলাদেশে নিষিদ্ধ নয়, তাই বাংলাদেশ থেকে আপনাকে আটনো হবে না। তবে যেদেশে যাচ্ছেন, সেদেশে নিষিদ্ধ হলে,সেখানে গিয়ে আইনি ঝামেলার মুখোমুখি হতে পারেন।

সৌদি আরবে ২০১৯ সালে দুই মিশরীয় ও একজন পাকিস্তানিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় মাদকের মামলায়। ২০১৮ সালে কমপক্ষে 59 জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

বাংলা এভিয়েশনের পক্ষ থেকে পরামর্শ হচ্ছে, বিদেশ যাবার সময় অন্যের দেওয়া ওষুধ সহ সকল ধরণের জিনিসপত্র বহন থেকে বিরত থাকুন। নিজের ওষুধ সঙ্গে নেওয়ার ক্ষেত্রে কমপক্ষ ৬ মাসের মধ্যে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন সঙ্গে রাখতে হবে। প্রেসক্রিপশনে ইংরেজিতে রোগীর নাম ও ব্যক্তিগত তথ্য, রোগ, ওষুধের জেনেরিক নাম, ডোজ এবং ডোজ ফর্ম, ওষুধ কত দিন খেতে হবে, চিকিৎসা পরিকল্পনাসহ ডাক্তারের সাক্ষর ও সিল মোহর থাকতে হবে।

বিদেশে পাওয়া যায় না এমন ওষুধ বাংলাদেশ থেকে নেওয়ার আগে জেনে নিন সেটি ওই দেশে নিষিদ্ধ কী না। একই সাথে সেই দেশের একজন ডাক্তারের মাধ্যমে সার্টিফিকেট নিতে হবে আপনার এ ধরণের ওষুধ প্রয়োজন।

BanglaAviation #বাংলা_এভিয়েশন

দুর্ভোগের আরেক নাম বিমানবন্দরের লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড

শুক্রবার  , ২৪ জুন ২০২২, ১০ আষাঢ় ১৪২৯, ২৩ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী

আমেরিকা থেকে সেবা রানি দাস বাংলাদেশে আসেন গত ৮ জুন। ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বেল্টে গিয়ে তার সঙ্গে থাকা দুটি লাগেজ পাননি। শুধু সেবা রানি দাস নন, তার সঙ্গে আসা ৫ জনের ১৩ লাগেজ উধাও। নিয়ম অনুযায়ী অভিযোগ দিয়েছেন বিমানবন্দরের লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ডে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও হারানোর অভিযোগ না নিয়ে, যাত্রীদের সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের ফোন নম্বর দিয়ে বিদায় করে কর্তৃপক্ষ।

লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড থেকে জানানো হয়েছে, লাগেজ পাওয়া গেলে তাদের জানানো হবে। কিন্তু ১২ দিন পার হয়ে গেলেও যে নম্বর দেওয়া হয়েছিল, সেই নম্বরে ফোন দিলে কেউ কল রিসিভ করেন না। আর লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড থেকে কেউ লাগেজের তথ্য জানাতেও ফোন করেননি রানি দাসকে। এ রকম দিনের পর দিন বিমানবন্দরের লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড নিয়ে অভিযোগের পাহাড় জমলেও দেখার কেউ নেই।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের সব বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং করছে রাষ্ট্রয়াত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের আওতায় বিমানবন্দরগুলোর হারানো সংক্রান্ত অভিযোগ জানানোর ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’ বিভাগ পরিচালনা করছে বিমান। বিমান ছাড়াও সব এয়ারলাইনের যাত্রীদের লাগেজ হারানো, নষ্ট হওয়াসহ যাবতীয় অভিযোগ জানানোরও নির্ধারিত স্থান লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড।  তবে এ কাজে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল, পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি না থাকা ছাড়াও অব্যবস্থাপনার কারণে বছরের পর বছর ভুগছেন যাত্রীরা। বিদেশি এয়ারলাইনগুলোর কাছ থেকে চার্জ  নিলেও সময় মতো আশানুরূপ গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দিচ্ছে না বিমান।

গত এক মাসের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ডে নেই পর্যাপ্ত জনবল। সেখানে কর্মরতদের থাকতে হচ্ছে বাড়তি কাজের চাপে। সীমিত জনবল থাকায় যাত্রীদের অভিযোগ নেওয়া, এয়ারলাইনকে জানানো, যাত্রীদের ফোন রিসিভ করা, রিয়ারে ব্যাগ ডেলিভারি করাসহ যাবতীয় কাজ করতে হয়। চাপ কমাতে যাত্রীদের অভিযোগ নিতে অনীহা সেখানকার কর্মরত বিমানের কর্মীদের। লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড ব্যবস্থাপনায় বিমানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নেই মনিটরিং। অভিযোগের প্রতিকারে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তৎপরতা নেই বললেই চলে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কোনও যাত্রী লাগেজ না পেয়ে লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ডে গেলে তাদের সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করা হয় না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হারানোর অভিযোগ না নিয়ে যাত্রীকে সাদা কাগজে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের ফোন নম্বর দিয়ে বিদায় করে দেওয়া হয়। সেই নম্বরে ফোন দিলে কোনও প্রতিকার মিলে না। তথ্য না পেয়ে কয়েক দিন পরে বিমানবন্দরে ছুটে আসেন ভুক্তভোগীরা। এতে আরেক বিপত্তি, বিমানবন্দরে লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ডে পৌঁছানোর জন্য করতে হয় রীতিমতো যুদ্ধ। কারণ এটি বিমানবন্দরের এমন স্থানে যেখানে সবার প্রবেশের সুযোগ নেই।

৪ জুন এয়ার অ্যারবিয়ার ফ্লাইটে ঢাকায় আসেন মিজান হক। নিজের একটি লাগেজ না পেয়ে খোঁজ নিতে যান লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ডে। সেখান থেকে সাদা কাগজে একটি ফোন নম্বর দিয়ে মিজানকে চলে যেতে বলা হয়। বাড়িতে আসার ৪-৫ দিন পরেও কোনও তথ্য না পেয়ে মিজান সেই নম্বরে ফোন করলেও কেউ রিসিভ করেননি। মিজান ১৪ জুন ঢাকায় আসেন ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযোগ জানাতে। তাকে জানানো হয়, টঙ্গিতে তার বাড়ির কাছের এসএ পরিহনের কুরিয়ারের লাগেজ পাঠানো হয়েছে।

মিজান হক বলেন, ‘দিনের পর দিন অপেক্ষা করেছি কেউ আমাকে আপডেট তথ্য দেয়নি। ফোন করেছি কেউ ধরেনি। বাধ্য হয়ে আমি বিমানবন্দরে গেলাম। তারা জানালো কুরিয়ারে গেছে। কুরিয়ারে গিয়ে দেখি আমার লাগেজের জিনিসপত্র ঠিক নেই। চকলেট, দুধ, টর্চলাইট ছিল, এসব সামান্য জিনিসের লোভ সামলাতে পারলো না। কুরিয়ারে লোকজন বলছে, বাংলাদেশ মানে বুঝেনই তো, যা পাইছেন নিয়ে যান।’

এদিকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের জন্য বিমানকে টাকা দিয়েও কাঙ্ক্ষিত  সেবা না পেয়ে ক্ষুব্দ বিদেশি এয়ারলাইনগুলো। নিজের ব্র্যান্ড ইমেজ ধরে রাখতে নিজস্ব জনবল দিয়ে লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সাপোর্ট দিচ্ছে সিঙ্গাপুরসহ বিদেশি বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এয়ারলাইনের কর্মকর্তা বলেন, ‘নানা সমস্যার কারণে যাত্রীর সঙ্গে একই ফ্লাইটে লাগেজ নাও আসতে পারে। লাগেজ না পেলে যাত্রীরা লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড গিয়ে যে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন, তা আমাদের এয়ারলাইনের ইমেজের জন্য বড় ক্ষতি। কোনও যাত্রীর লাগেজ না পাওয়া গেলে, আমাদের কর্মীরা যাত্রীর হয়ে লস্ট ক্লেইম করাসহ যা যা প্রয়োজন তা করেন। বিমানকে আমরা সার্ভিসের জন্য টাকা দেই, কিন্তু সেই সার্ভিস পাই না।’

এ বিষয়ে বিমানের বক্তব্য জানতে ১২ জুন যোগাযোগ করা হলে প্রশ্ন পাঠাতে বলে এয়ারলাইনটির জনসংযোগ বিভাগ। প্রশ্ন পাঠানোর সপ্তাহ পার হলেও বিমানের পক্ষ থেকে কোনও জবাব পাওয়া যায়নি।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলাম বলেন, ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড নিয়ে আমরা কাজ করছি। কীভাবে অভিযোগ কমিয়ে আনা যায়, সে বিষয়গুলোই দেখা হচ্ছে। এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে কথা হচ্ছে, যেন আরও দ্রুত সেবা দেওয়া যায়।’

শুধু ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নয়, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিলেটের ওসমানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ডেও একই চিত্র।

এ নিয়ে চট্টগ্রামের শাহ্ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক উইং কমান্ডার মো. ফরহাদ হোসেন খান বলেন, ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তারা এখানের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে। কোনও যাত্রী যদি লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সম্পর্কে অভিযোগ নিয়ে আসে, তাহলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

৩,০৯২ কোটি টাকা দেনা রেখে ৩২৮ কোটির রেকর্ড লাভ দেখাল বিমান!

শুক্রবার , ২৪ জুন ২০২২, ১০ আষাঢ় ১৪২৯, ২৩ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স থেকে অ্যারোনটিক্যাল ও নন-অ্যারোনটিক্যাল মিলে তিন হাজার ৯২ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক)। কিন্তু পাওনা পরিশোধ না করেই চলতি বছর সর্বোচ্চ লাভ দেখিয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠানটি!

বিমান বলছে, গত দুই বছরে তারা বেবিচকের কোনো ধরনের চার্জ বকেয়া রাখেনি। পরিশোধ করেছে জেট ফুয়েলের (পদ্মা অয়েল) সব খরচ। তবে, এর আগের বকেয়া পরিশোধের পরিকল্পনা নেই তাদের।

অন্যদিকে বেবিচক বলছে, বাংলাদেশের বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের কাছে তাদের প্রায় চার হাজার কোটি টাকা পাওনা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি তিন হাজার ৯২ কোটি টাকা আটকে রেখেছে বিমান।

বিপুল অঙ্কের এই দেনা পরিশোধের চিন্তা ছাড়াই টানা দ্বিতীয় বছরের মতো লাভ দেখিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১৫৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা নিট লাভ দেখায়। ২০২১-২২ অর্থবছরের আট মাসে (ফেব্রুয়ারি-ডিসেম্বর পর্যন্ত) প্রতিষ্ঠানটি লাভ দেখায় ৩২৮ কোটি টাকা। সর্বশেষ ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৩২৪ কোটি টাকা মুনাফা করে। গত ১২ বছরের হিসাব করলে এটাই বিমানের সর্বোচ্চ মুনাফা। তবে, বেবিচকের দেনার বিষয়ে তথ্য নেই তাদের কাছে।

বিমানের সাবেক পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও বিশিষ্ট এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, ‘বেবিচকের দেনা বাদ রেখে বিমানের লাভ-ক্ষতি হিসাবের কোনো সুযোগ নেই। একটি এয়ারলাইন্সের খরচের ৫০ ভাগই যায় বেবিচকের চার্জ ও তেলের দামের পেছনে। এই দেনা বাদ দিয়ে লাভ-ক্ষতির হিসাব করতে গেলে সেটা কিন্তু জাস্টিফায়েড (ন্যায়সঙ্গত) হবে না। বুঝতে হবে তারা লাভটা টুইস্ট করছে। পৃথিবীর সব দেশের এয়ারলাইন্সগুলো তাদের আর্থিক প্রতিবেদন পাবলিকলি (সর্বসমক্ষে) প্রকাশ করে। কিন্তু বাংলাদেশে এটা করা হয় না। সেক্ষেত্রে তাদের লাভ নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।’
 
দুবার ৩ হাজার কোটি টাকা মাফ পেয়েছে বিমান

২০০৮ সালে প্রায় ১৮০০ কোটি টাকার পাহাড়সম দেনায় পড়ে বিমান। ওই সময় অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করে ১২১৬ কোটি টাকার সারচার্জ মওকুফ পায় প্রতিষ্ঠানটি। বাকি ৫৭৩ কোটি টাকা পরিশোধ করে দায়মুক্তি পায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

২০২১-২২ অর্থবছরের আট মাসে রেকর্ড পরিমাণ লাভের বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. আবু সালেহ্‌ মোস্তফা কামাল বলেন, ‘সময়োপযোগী প্রণোদনা পেয়েছিলাম। আমরা তা যথোপযুক্ত কাজে লাগাতে পেরেছি। বিমানে সব ধরনের মিতব্যয়িতা অবলম্বন করা হয়েছে। এছাড়া বিমানের কিছু পাওনা ছিল, সেগুলো আদায় করা হয়েছে। এছাড়া টিকিট কারসাজি বন্ধে আমরা একটি সফটওয়্যার তৈরি করেছি। সেখান থেকেও টাকা আয় হয়েছে।’

এদিকে, বেবিচকের দেনা পরিশোধ না করেই একের পর এক বিমান ক্রয় এবং নতুন নতুন রুট চালু করছে বিমান। ২০২১ সালে সর্বশেষ চারটি ড্যাশ- ৮ মডেলের উড়োজাহাজ নিজ বহরে যুক্ত করে তারা। এগুলোর নাম দেওয়া হয় ‘ধ্রুবতারা’, ‘আকাশতরী’, ‘শ্বেতবলাকা’ ও ‘হংসমিথুন’। এছাড়া ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঢাকা-টরেন্টো রুটে নিয়মিত ফ্লাইট চালু করবে বিমান। পাশাপাশি জাপানের নারিতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে ফ্লাইট চালানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বেবিচকের পাওনার বিষয়ে বিমানের এমডি বলেন, ‘পুরোনো বিষয়গুলো নিয়ে আমরা কথা বলতে চাই না। তবে, গত দুই বছরের বেবিচকের সব পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি টাকার মধ্যে অ্যারোনটিক্যাল চার্জগুলো রিকনসিলিয়েশন (সমন্বয়সাধন) করার জন্য আমরা বেবিচককে ৩২ কোটি টাকা দিয়ে রেখেছি। এটা হয়ে গেলে পুরোনো পাওনাগুলোও আপডেট হয়ে যাবে।’

বেবিচকের নিট মুনাফায় বিমানের দেনার প্রভাব

বেবিচকের অধীনে বর্তমানে তিনটি আন্তর্জাতিকসহ মোট আটটি বিমানবন্দর রয়েছে। তাদের আদায় করা অ্যারোনটিক্যাল চার্জগুলোর মধ্যে রয়েছে- বিমানের ল্যান্ডিং চার্জ, রুট নেভিগেশন সার্ভিস চার্জ, বোর্ডিং ব্রিজ ব্যবহার চার্জ ও এমবারকেশন। নন-অ্যারোনটিক্যাল চার্জগুলো হলো- গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, চেক-ইন কাউন্টার ভাড়া, কার পার্কিং ও এভিয়েশন ক্যাটারিং সার্ভিস।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক যুগ ধরে বিমানের বকেয়া টাকা পড়ে থাকায় এর প্রভাব পড়ছে বেবিচকের রাজস্ব আয় ও নিট মুনাফায়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বেবিচকের নিট মুনাফা ছিল ৬১১ কোটি টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ২৯২ কোটি টাকায়। ২০২১-২২ অর্থবছরের আট মাসে তা ঠেকে ১১৮ কোটি টাকায়।

বিমানের বকেয়ার বিষয়ে বেবিচক পরিচালক (অর্থ) মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘বিমান যেহেতু সরকারি প্রতিষ্ঠান, আমরা তাদের কেবল বলেই যাচ্ছি। আইন ও বিধি অনুযায়ী আমরা তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছি। তবে, তারা (বিমান বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ) বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে যাচ্ছে।’

বিমানের অনিয়ম খতিয়ে দেখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের

সম্প্রতি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে পাইলট নিয়োগের অনিয়ম খতিয়ে দেখে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্যাপ্টেন হিসেবে বোয়িং ৭৭৭ ও বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ পরিচালনার জন্য নির্ধারিত ঘণ্টা ফ্লাই করার অভিজ্ঞতা থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে, বিমানে যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তাদের নির্ধারিত ফ্লাইং আওয়ারের অভিজ্ঞতা নেই। কেউ কেউ ক্যাপ্টেন হিসেবে কয়েকবার পরীক্ষা দিয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন। আবার কেউ আগের এয়ারলাইন্স থেকে চাকরিচ্যুত হয়েছেন। কারও কারও বয়স আবার ৬০ এর অধিক। অন্যদিকে, নিয়োগ পাওয়া ফার্স্ট অফিসারদের যোগ্যতা ও দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।
উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা ও অদক্ষতার কারণে এর আগে চাকরিচ্যুত হয়েছেন— এমন বৈমানিকও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বিমানে।

ওই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো চিঠিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ক্যাপ্টেন ও ফার্স্ট অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রে উপযুক্ত জ্ঞান, দক্ষতা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাসূচক যাচাই-বাছাই করে ত্রুটিমুক্ত প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট

কম দামে টিকিট বিক্রি বিমানের, বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর আপত্তি।

মঙ্গলবার , ২১ জুন ২০২২, ০৭ আষাঢ় ১৪২৯, ২০ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রুটে টিকিটের দাম কমিয়ে ‘অসুস্থ প্রতিযোগিতা’ সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর সংগঠন অ্যাভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি)। সংগঠনটির অভিযোগ, টিকিটের দাম কমানোর মাধ্যমে বিমান এ ব্যবসার ক্ষেত্র নষ্ট করছে। এতে বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো মুখ থুবড়ে পড়বে। ভর্তুকি দিয়ে চলা বিমানও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

রোববার (১৯ জুন) রাতে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে দেওয়া এক চিঠিতে এওএবির মহাসচিব ও নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মফিজুর রহমান এ অভিযোগ করেন।

চিঠিতে বলা হয়, ১৯৯৬-২০০১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের হাত ধরে দেশে বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো দাঁড়ানো শুরু করে। সেসময় যাত্রীদের কোনো ধরনের সেবা না দিয়েই দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান বাংলাদেশ একচেটিয়া ফ্লাইট পরিচালনা করতো। তখনকার মনোপলি মার্কেট বন্ধে প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দেন।

বর্তমানে দেশের ৮০ শতাংশ অভ্যন্তরীণ যাত্রী পরিবহন করছে, আর বিমান করছে ২০ শতাংশ। এ তথ্য উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে এরই মধ্যে জিএমজি এয়ারলাইন্স, রিজেন্ট ও ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের মতো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। এয়ারলাইন্সগুলো বন্ধের কারণ হিসেবে জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কাজের চার্জগুলোকে দায়ী করা হয় চিঠিতে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বর্তমানে বিমান বিভিন্ন রুটের টিকিটের দাম কমিয়ে রাষ্ট্রীয় টাকায় ভর্তুকি দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। বিমানের এ অপকৌশল দেশে বেসরকারি এয়ারলাইন্সকে দাঁড়াতে দেয়নি। দেশে মোট আটটি বেসরকারি এয়ারলাইন্স হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করলেও বিমানের কারণে তারা অপারেশন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। এখন বিমানের অপকৌশলের কারণে নভোএয়ার ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স কোনোরকমে টিকে আছে।

চিঠিতে বলা হয়, ২০০২-২০০৪ সাল পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চট্টগ্রাম রুটের ভাড়া ছিল ২ হাজার ৮৫০ টাকা। জিএমজি এয়ারলাইন্সের ভাড়া ছিল ৪ হাজার টাকা। তখন বিমান তাদের ভাড়া কমিয়ে ২ হাজার ৩০০ টাকা করে ফেলে। এছাড়া এক সময় যখন দুবাই রুটে জিএমজি এয়ারলাইন্স অধিকসংখ্যক যাত্রী বহন করতো, তখন বিমান তাদের ভাড়া ৪৭৫ মার্কিন ডলার থেকে নামিয়ে ৩৫০ ডলার করে ফেলে। এর পরপরই জিএমজি তাদের অপারেশন বন্ধ করতে বাধ্য হয়।

এওএবি জানায়, বেসরকারি এয়ারলাইন্সকে প্রতি বছর এওসি (এয়ার অপারেটর সার্টিফিকেট) নবায়নের সময় বেবিচকের সব ধরনের চার্জ নগদে পরিশোধ করতে হয়। নগদ অর্থের বিনিময়ে কিনতে হয় তেল। অথচ বিমান বছরের পর বছর বেবিচকের বিভিন্ন চার্জ বাকি রেখে এবং পদ্মা অয়েলের কাছ থেকে বাকিতে জেট ফুয়েল কিনছে। এ দুই ক্ষেত্রেও বিমানের সঙ্গে বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর বৈষম্য করা হয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বিমান প্রথমবারের মতো অভ্যন্তরীণ রুটে বড় সাইজের ফ্লাইট (বোয়িং-৭৩৭ এর মতো) পাঠিয়ে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা ভাড়ায় যাত্রী বহন করছে। বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো একসময় আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে অল্প কিছু যাত্রী নিয়ে অভ্যন্তরীণ রুটে কানেক্টিং ফ্লাইট পরিচালনা করেছিল। তবে ২০১৯ সালে চট্টগ্রামে বিমান ছিনতাই চেষ্টার ঘটনার পর থেকে এভাবে যাত্রী বহন বন্ধ করার নির্দেশ দেয় বেবিচক। অথচ বেবিচকের নির্দেশ অমান্য করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এখনো আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রী বহন করছে। এছাড়া এখনো বিমান অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইটের প্রতি সিটে ২ হাজার টাকা করে ভর্তুকি দিচ্ছে। এতে বছরে বিমানের ১৬০ কোটি থেকে ২০০ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আবু সালেহ মোস্তফা কামালের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

সংস্থাটির মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকারও এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এমএমএ/ইএ/এমএস

  1. বাংলাদেশ-বিমান
  2. বিমান
  3. নভোএয়ার
  4. ইউএস-বাংলা

বিমানের ক্যাটারিং দিয়ে বের হচ্ছে চোরাচালানের সোনা।

বুধবার , ০৮ জুন ২০২২, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ০৭ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী

গত পাঁচ মাসে বিমানবন্দর থেকে ২০ মণেরও বেশি সোনা উদ্ধার হয়েছে। যাত্রী ছাড়াও এসব চোরাচালানে জড়িত ছিলেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) অসাধু কর্মীরা। বিভিন্ন সময় হাতেনাতে আটক হয়েছেন তারা। আগে বিমানের প্রকৌশল শাখার কর্মীরা হ্যাঙ্গার গেটের মাধ্যমে চোরাচালানের সোনা বের করে নিয়ে আসতেন বলে অভিযোগ ছিল। হ্যাঙ্গার গেটে নিরাপত্তা জোরদার হওয়ায় এখন চোরাচালানের সোনা বের করার নিরাপদ রুট হয়ে দাঁড়িয়েছে বিমান ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টার (বিএফসিসি)।

২৫ মে বিএফসিসি’র প্যান্ট্রিম্যান মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ আকন্দের কাছ থেকে ৮ কেজি সোনার বার উদ্ধার করে ঢাকা কাস্টম হাউস। যদিও ওই কর্মীকে আটক করতে দিনভর নানা প্রতিকূলতার মধ্যে পড়তে হয়েছিল কাস্টম কর্মকর্তাদের।

সেদিন দুপরে বিএফসিসি’তে প্রবেশ করতেই বাধার মুখে পড়েন কাস্টম কর্মকর্তারা। আজিজ আকন্দের কাছে সোনা থাকার পরও তাকে রক্ষায় এগিয়ে আসেন সেখানকার কর্মকর্তারা। পরে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার চাপের মুখে প্রায় ৮ ঘণ্টা পর তাকে কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সূত্র জানায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উত্তর পাশে বিমানবন্দরের সঙ্গে লাগোয়া ভবনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ক্যাটারিং সেন্টার। যেখানে বিমানের ফ্লাইটের খাবার রান্না হয়। সেখান থেকেই ফ্লাইটে খাবার সরবরাহ করা হয়।

দেখা গেছে, বিমানবন্দরের সঙ্গে যুক্ত থাকায় বিএফসিসি থেকে বিমানবন্দরের অ্যাপ্রোন এলাকায় প্রবেশ করা যায়। বিএফসিসি’র কর্মীদের প্রবেশে বিমানের নিরাপত্তাকর্মীদের তল্লাশি থাকলেও সেখানে এভিয়েশন সিকিউরিটি কিংবা কাস্টমসের তল্লাশি নেই। ফলে বিভিন্ন সময়ে বিএফসিসি’র কর্মী ও বিএফসিসির গাড়ি থেকে সোনা উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। বিএফসিসি থেকে বিমানবন্দরে প্রবেশের সময়ও যথাযথ তল্লাশি হয় না বলে অভিযোগ আছে।

ঢাকা কাস্টম হাউসের উপ-কমিশনার (প্রিভেন্টিভ) মো. সানোয়ারুল কবীর বলেন, বিএফিসিসি’তে প্রবেশ ও বিএফসিসি থেকে বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে বিমানের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে। তবে সেটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় হয় না বলেই চোরাচালানের ঘটনা ঘটছে। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালাতে গেলেও বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।

সূত্র জানায়, বিভিন্ন সময়ে চোরাচালানের ঘটনায় লোক দেখানো তদন্ত কমিটি করে বিমান। আটক হওয়া কর্মী ছাড়া কাউকেই সনাক্ত করতে পারেনি ওই কমিটি। নিরাপত্তা জোরদারের ব্যবস্থাও নেয়নি বিমান কর্তৃপক্ষ।

তবে বিভিন্ন সংস্থার তদন্তে বিমানের প্রকৌশল বিভাগ ও বিএফসিসির কর্মীদের চোরাচালানে জড়িত থাকার তথ্য উঠে এসেছে। বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহায়তায় স্বর্ণ বিমানে উঠিয়ে দক্ষ টেকনিশিয়ানের মাধ্যমে তা বিমানে লুকানো হয়। যাত্রীরা নেমে যাওয়ার পর বিমানের লোকজন ছাড়া অন্য কারও উড়োজাহাজে ওঠার সুযোগ নেই। তাই চোরাচালানে বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশের বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ উঠেছে অনেকবার।

বিষয়টি স্বীকার করেছেন বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী এবং বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সালেহ মোস্তফা কামাল। সম্প্রতি আবু সালেহ মোস্তাফা কামাল বলেছেন, এটা এক দিনে বন্ধ করতে পারবো না। তবে এর আগে চোরাচালানে জড়িত ১৩ জনকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বিমানকর্মীদের বিমানবন্দরে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় তল্লাশি বাড়ানোর প্রয়োজন বলে মনে করছেন কাস্টম কর্মকর্তারা। ঢাকা কাস্টম হাউসের উপ-কমিশনার (প্রিভেন্টিভ) মো. সানোয়ারুল কবীর বলেন, ‘কেউই সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময়ও তল্লাশি বাড়াতে হবে।’

এ প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বলেন, বিএফসিসি’র বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। এখানে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। কেউ যেন তল্লাশি ছাড়া বিমানবন্দরে ঢুকতে ও বের না হতে পারে তা নিশ্চিত করা হবে।

শাহজালালে চালু হলো ই-গেট, ১৮ সেকেন্ডেই ইমিগ্রেশন।

মঙ্গলবার  , ০৭ জুন ২০২২, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ০৬ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালু হয়েছে ই-গেট (স্বয়ংক্রিয় বর্ডার কন্ট্রোল ব্যবস্থা)। আজ থেকে একজন যাত্রী মাত্র ১৮ সেকেন্ডে নিজেই নিজের ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে পারছেন।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিমানবন্দরের ডিপার্চার (বহির্গমন) এলাকায় মোট ১২টি এবং অ্যারাইভাল (আগমনী) এলাকায় ৩টি ই-গেট স্থাপন করা হয়েছে। রবি ও সোমবার পরীক্ষামূলকভাবে এ গেট ব্যবহার করা হয়েছিল। এতে দেখা গেছে মাত্র ১৮ সেকেন্ডেই একজন যাত্রী নিজের ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে পারছেন। খবর ঢাকা পোস্ট

কামরুল ইসলাম বলেন, সোমবার পরীক্ষামূলকভাবে কিছু যাত্রীকে ই-গেটের মাধ্যমে সফলভাবে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করা হয়। মঙ্গলবার যাত্রীদের জন্য পুরোপুরি ই-গেট চালুর ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ১৮ সেকেন্ডে ই-পাসপোর্টধারী যাত্রী ভেরিফিকেশন শেষে ই-গেট অতিক্রম করতে পারেন।

আজ এ কার্যক্রম উদ্বোধনের সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম, এবং ই-পাসপোর্ট ইমিগ্রেশন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাদাত। তাদের সামনে ই-গেটের মাধ্যমে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ই-গেট চালুর স্বীকৃতি পেল।

এর আগে দেশের বিমানবন্দরে ২০১৯ সালে বিমানবন্দরে ই-গেট স্থাপন করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে তা চালু করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বেশ কয়েকবার ই-গেট চালুর তাগিদ দিয়েছিলেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কাজ শুরু করে বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং ইমিগ্রেশন পুলিশ। 

যেভাবে কাজ করবে ই-গেট

বাংলাদেশ পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন অধিদপ্তর জানায়, ই-পাসপোর্ট নিয়ে যখন ই-পাসপোর্টধারী একজন ব্যক্তি ই-গেটের কাছে যাবেন, তখন একটি নির্দিষ্ট স্থানে ই-পাসপোর্টটি রাখলে সঙ্গে সঙ্গে গেট খুলে যাবে। নির্দিষ্ট নিয়মে গেটের নিচে দাঁড়ানোর পর ক্যামেরা ছবি তুলে নেবে। এরপর সব ঠিকঠাক থাকলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই যাত্রী ইমিগ্রেশন পেরিয়ে যেতে পারবেন। তবে কেউ যদি ভুল করেন তা হলে লাল বাতি জ্বলে উঠবে। তখন সেখানে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সঠিকভাবে ই-পাসপোর্ট ব্যবহারে সহযোগিতা করবেন।

বিমানবন্দরে দুই যাত্রীর কাছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৫০০ অবৈধ ডলার

প্রকাশ: ২০২২-০৬-০২ ১২:১৯:৫৯ || আপডেট: ২০২২-০৬-০২ ১২:২৩:১৮

বৈধ ঘোষণা ছাড়া বিপুল পরিমাণ মার্কিন ডলার সঙ্গে নিয়ে বিমানবন্দর দিয়ে দেশের বাইরে যাওয়ার চেষ্টাকালে দুই যাত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুই যাত্রীর কাছ থেকে মোট ২ লাখ ৩০ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার জব্দ করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ও রাতে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক এই ঘটনা ঘটে। ঢাকা কাস্টমস হাউস কর্তৃপক্ষ এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

মার্কিন ডলারসহ গ্রেপ্তার দুই যাত্রীর নাম মাহমুদা ফিরোজ ও মেহমেত রেমজি।

মাহমুদা ফিরোজ বাংলাদেশি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছিলেন। আর মেহমেত রেমজি তুরস্কের নাগরিক। তিনি তুরস্কে যাচ্ছিলেন।

ঢাকা কাস্টমস হাউস কর্তৃপক্ষ জানায়, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে মাহমুদা ফিরোজ নামের যাত্রীকে বিমানবন্দরের ৭ নম্বর বোর্ডিং গেটে আটক করা হয়। তাঁর কাছে ৩০ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার পাওয়া যায়। তিনি এমিরেটস এয়ারলাইনের ইকে-৫৮৭ ফ্লাইটের যাত্রী ছিলেন।

ঢাকা কাস্টমস হাউস কর্তৃপক্ষ জানায়, একই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে মেহমেত রেমজি নামের যাত্রীকে বিমানবন্দরের ১০ নম্বর বোর্ডিং গেটে আটক করা হয়। তাঁর কাছে দুই লাখ মার্কিন ডলার পাওয়া যায়। তিনি টার্কিশ এয়ারলাইনসের টিকে ৭১৩ ফ্লাইটের যাত্রী ছিলেন।

ঢাকা কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তারা বলেন, কোনো প্রকার বৈধ ঘোষণা ছাড়াই এই দুই যাত্রী মোট ২ লাখ ৩০ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার সঙ্গে নিয়ে বিমানবন্দর পার হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তাঁদের কাছ থেকে জব্দ করা ডলার কাস্টমসের গুদামে জমা দেওয়া হয়েছে।

দুই যাত্রীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে বলে জানায় ঢাকা কাস্টমস হাউস কর্তৃপক্ষ। দুজনকে ইতিমধ্যে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আগামি কাল থকে শাহজালাল বিমানবন্দরে চালু হচ্ছে ই-গেট

মঙ্গলবার, ৩১ মে ২০২২, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৯ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

উদ্‌বোধনের প্রায় ১১ মাসেও চালু হয়নি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ই-গেট কার্যক্রম। তবে, আগামী জুনের মধ্যে ই-পাসপোর্টধারী যাত্রীরা আধুনিক এ সেবা পাবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

২০২১ সালের ৩০ জুন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ই-গেট উদ্‌বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
তখন বলা হয়েছিল—এত দিন ইমিগ্রেশন পুলিশ ম্যানুয়ালি যে কাজ করতো, সেটি এখন ই-গেটের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।

কিন্তু, উদ্‌বোধনের প্রায় এক বছরেও এত দিন ই-গেট ব্যবহারের উপযোগী ছিল না। তাই ই-পাসপোর্টধারী যাত্রীরা কোনো সুফল পাচ্ছিল না।
অবশেষে আগামী জুন মাসের মধ্যেই ই-গেট চালু হচ্ছে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগে অতিরিক্ত সচিব (নিরাপত্তা ও বহিরাগমন অনুবিভাগ) আবদুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরী বলেন, ‘শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনে ই-গেট ব্যবহার করা যাবে জুন মাসের মধ্যে। এ বিষয়ে আমাদের কাজ প্রায় শেষ দিকে।’

আবদুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরী জানান, অন্যান্য উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশে ই-পাসপোর্টধারী যাত্রীদের জন্য ই-গেট চালু হতে যাচ্ছে। ই-গেট চালু হলে ইমিগ্রেশনে যাত্রী খুব সহজে কম সময়ে ইমিগ্রেশন কাজ শেষ করতে পারবেন।

কিন্তু, ই-গেট ব্যবহার বা চালু করতে এত সময় লাগছে কেন, জানতে চাইলে আবদুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরী বলেন, ‘দেখুন ই-পাসপোর্টের সব তথ্য ই-গেটে সফটওয়্যারে অটোমেটিক সব ডেটা দেখাবে। সেজন্য এ কাজটি যে কোম্পানি করছে, একটু সময় লাগছে। এখন কাজ শেষ পর্যায়ে। আমরা আগামী জুন মাসের মধ্য চালু করতে পারব।’

ই-গেটের সুবিধা নিয়ে আবদুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরী বলেন, ‘ই-গেট চালু হলে যাত্রী নিজে নিজেই ইমিগ্রেশন করতে পারবে, কোনো ধরনের হয়রানি হবে না, সময় বাঁচবে, দ্রুত সময়ে ইমিগ্রেশন শেষ করতে পারবে।’

বিমানে চড়ে ঢাকায় ফিরে দেখলেন লাগেজে থাকা লাখ টাকা গায়েব।

সোমবার ৩০ মে ২০২২, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৮ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

নেপাল থেকে গত ২৩ মে দুপুরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ‘বিজি ৩৭২’ ফ্লাইটে ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন  আওয়ামী লীগ নেতা তৌহিদ হোসেন। বাড়িতে গিয়ে দেখেন তার লাগেজে থাকা লাখ টাকা গায়েব। বিমান বাংলাদেশ  এয়ারলাইন, বিমানবন্দর আর্মড পুলিশে অভিযোগও দেন তিনি। কিন্তু ৭ দিন পার হয়ে গেলেও কোনও সদুত্তর পাননি।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক উপ-কমিটি সদস্য তৌহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ কন্টাক সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিংয়ের সাধারণ সম্পাদক এবং নিজ প্রতিষ্ঠান ফিফোটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আমাকে ব্যবসার প্রয়োজনে প্রতিমাসে কয়েকবার বিভিন্ন দেশে যেতে হয়। নেপালে ব্যবসায়িক কাজ শেষে ২৩ মে দুপুরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে ঢাকায় আসি। নেপাল যাওয়ার পর আমার কাপড়ের লাগেজে টাকা ছিল। বাংলাদেশে ফেরার সময় লাগেজ থেকে টাকাগুলো আমি হ্যান্ডব্যাগে নিতে ভুলে যাই। আমার লাগেজে ১১শ ডলার ও কিছু বাংলাদেশি মুদ্রা ছিল। ঢাকায় ফিরে বাসায় এসে দেখি টাকা নেই, চেইনও খোলা।

এমন পরিস্থিতিতে নেপালে যোগাযোগ করেন তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, আমার পরিচিত বন্ধু নেপাল ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রমোদকে বিস্তারিত জানাই। তিনি ২৩ তারিখে নেপাল এয়ারপোর্টে গিয়ে অভিযোগ জানিয়ে সিসি ক্যামেরার  ভিডিও ফুটেজ চেক করেন। হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কল করে আমাকে নেপাল এয়ারপোর্টের সম্পূর্ণ ভিডিও ফুটেজ দেখান। প্লেনে উঠা পর্যন্ত কাউকে লাগেজ খুলতে দেখা যায়নি। নেপাল এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমান কিংবা বাংলাদেশের কোনও কর্তৃপক্ষ যদি অনুসন্ধান করে তবে তারা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দিয়ে সহায়তা করবে।

তৌহিদ হোসেন বলেন, ২৪ মে বিমানবন্দরে এপিবিএনের কাছে দরখাস্ত করি যেন  তারা সুষ্ঠু তদন্ত করে। আমাকে এপিবিএন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ চেক করে জানাবেন।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনের  গ্রাহক সেবা বিভাগের পরিচালকের কাছেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, বিমান থেকে লাগেজ বের করা থেকে শুরু করে বেল্ট এ আসা পর্যন্ত সম্পূর্ণ ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় তাহলে প্রকৃত অপরাধী ধরা যাবে। কিন্তু যদি কোনও জায়গায় ফুটেজ না থাকে তাহলে সম্ভব হবে না। কারণ যারা এ কাজটি করে তারা জেনেশুনেই করে।

তৌহিদ হোসেন বলেন,  ৭ দিন পার হয়ে গেলো। আমি লিখিত অভিযোগ বিমান প্রতিমন্ত্রী, সচিব, বিমানের পরিচালককে মেইল করেছি। বিমানবন্দর আর্মড পুলিশে গিয়ে অভিযোগ দিয়ে এসেছি। কিন্তু কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক তাহেরা খন্দকার বলেন, যাত্রী যদি যথাযথ প্রক্রিয়ায় অভিযোগ করে থাকেন, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে বিমানের কেউ দায়ী হলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।