ক্যাটাগরি বাংলাদেশ

খুলনা রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার গড়েছেন দুর্নীতির পাহাড়, হতবাক ঊর্ধ্বতন কর্তারাও।

রবিবার , ২২ মে ২০২২, ০৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২০ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

একে একে বের হয়ে আসছে খুলনা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মানিক চন্দ্র সরকারের দুর্নীতির থলের বিড়াল। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে ভিআইপি টিকিট বিক্রিসহ রেলের তেল বিক্রিরও প্রমাণ মিলেছে। দুর্নীতির এমন খবরে বিস্মিত রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তারাও।

২০১৯ সালের ১৭ আগষ্ট খুলনা রেলওয়েতে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন। অভিযানে স্টেশন মাস্টার মানিক চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে অবসরপ্রাপ্ত স্টাফদের পেনশন গ্রহণ বাবদ উৎকোচ নেয়ার প্রমাণ পায় সংস্থাটি। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্টেশন মাস্টারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হলে তাকে বদলি করে কর্তৃপক্ষ।

এ নিয়ে টিএক্সআর বায়তুল ইসলাম বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকে তার ইনকোয়ারি আসার পর তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বদলি করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে কাউকে ধরে বা যেকোনো উপায়ে অল্প কয়েকদিনের মধ্যে আবার এখানে এসে নিজের এক নায়কতন্ত্র বিস্তার করে যাচ্ছে।

স্টেশন মাস্টারের স্বাক্ষরিত টিকিট বরাদ্দের কিছু তথ্য এসেছে যমুনা টেলিভিশনের হাতে। সেখানে দেখা যায়, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি টিকিট বরাদ্দ হয়েছে নাম সর্বস্ব ব্যক্তি, ব্যাংক-বিমাসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে। তালিকায় আছে লেবার সর্দারের নাম। আছে লোকখালাসি পপিদুরের নামও।

আধুনিক সিগনাল ব্যবস্থা চালু হওয়ায় ১৫ বছর আগেই বন্ধ হয় হারিকেনের ব্যবহার। অথচ কেরোসিন তেল বাবদ প্রতিমাসে, ১৪০ লিটারের টাকা উত্তোলন করেন স্টেশন মাস্টার মানিক চন্দ্র সরকার।

স্টেশন মাষ্টারের এসব কর্মকান্ডকে গর্হিত বলে মন্তব্য করলেন রেল কর্তারা। খুলনা রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পশ্চিম) অসীম কুমার তালুকদার বলেন, এটিকে একটি গর্হিত কাজ হিসেবে দেখছি। একটি তদন্ত কমিটি করে দেয়া হচ্ছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে মোবাইল ফোনে এবং একাধিকবার অফিসে গিয়েও পাওয়া যায়নি স্টেশন মাস্টার মানিক চন্দ্র সরকারকে।

সুত্র ঃ-https://lm.facebook.com/l.php?u=https%3A%2F%2Fwww.jamuna.tv%2Fnews%2F349055&h=AT3TlrJ5q-RpF2SkIFq1L2AVSk8ar_q3EJDTRsna9uirG9c2z4BibIcKv7Pqe0F40rYVA3dxDmo13PVmPNldcEJIiazXEgTf7Ikt_Hj8Ppr3If4YfQok8mlSpSz_ssk62M4l

মুনাফার লোভে ডলার কিনে মাথায় হাত।

শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ০৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৮ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

মঙ্গলবার হঠাৎ করেই বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর এই মুদ্রার দাম ১০০ টাকা ছাড়িয়ে ১০৪ টাকায় উঠে যায়। বুধবার তা ১০০ টাকায় নেমে আসে। বৃহস্পতিবার তা আরও কমে ৯৬ টাকায় নেমে এসেছে।

অতি মুনাফার আশায় যারা কার্ব মার্কেট বা খোলাবাজার থেকে ১০০ টাকার বেশি দরে ডলার কিনেছিলেন তাদের মাথায় হাত। পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটতে থাকা ডলার হোঁচট খেয়ে এখন উল্টো দিকে হাঁটছে।

বৃহস্পতিবার খোলাবাজারে ডলারের দর ৯৬ টাকায় নেমে এসেছে। মঙ্গলবার হঠাৎ করেই বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর এই মুদ্রার দাম ১০০ টাকা ছাড়িয়ে ১০৪ টাকায় উঠে যায়। বুধবার তা ১০০ টাকায় নেমে আসে। বৃহস্পতিবার তা আরও কমে ৯৬ টাকায় নেমে এসেছে।

আরও কমবে বলে জানিয়েছেন এই বাজারের ব্যবসায়ীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ডলার ব্যবসায়ী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যারা পাগলের মতো ডলার কিনেছিলেন তারা সবাই ধরা। সবাই এখন বিক্রি করতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। সরবরাহ বেড়েছে; তাই দাম কমছে। আরও কমবে বলে মনে হচ্ছে।’

তবে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজার ও ব্যাংকগুলো বৃহস্পতিবার বুধবারের দরেই ডলার বিক্রি করেছে।

বেশ কিছুদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমছে। সোমবার বড় দরপতন হয়। এক দিনেই আমেরিকান ডলারের বিপরীতে ৮০ পয়সা দর হারায় টাকা। দেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই এক দিনে টাকার এত বড় দরপতন হয়নি।

আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে সোমবার ১ ডলারের জন্য ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা খরচ করতে হয়। বৃহস্পতিবারও এই একই দামে বাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ৮৬ টাকা ৭০ পয়সায় কেনাবেচা হয়েছিল। ঈদের ছুটির আগে ২৭ এপ্রিল ডলারের বিপরীতে টাকার মান ২৫ পয়সা কমিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তার আগে প্রতি ডলারের জন্য ৮৬ টাকা ২০ পয়সা লাগত। এরপর ১০ এপ্রিল আরও ২৫ পয়সা কমিয়ে ৮৬ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণ করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সবশেষ সোমবার এক লাফে ৮০ পয়সা বাড়িয়ে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বেসরকারি ইস্টার্ন ও প্রাইম ব্যাংক বৃহস্পতিবার ৯৮ টাকা দরে নগদ ডলার বিক্রি করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক থেকে ১ ডলার কিনতে খরচ হয়েছে ৯৩ টাকা ৯০ পয়সা। অগ্রণী ব্যাংক ডলার বিক্রি করেছে ৯২ টাকা ৫০ পয়সায়। সোনালী ব্যাংক থেকে ডলার কিনতে লেগেছে ৯২ টাকা ৪৫ পয়সা।

টাকার মূল্য পতনে রপ্তানি আয় ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব পড়লেও আমদানি পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ হাবিবুর রহমান।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমানো ছাড়া বিকল্প কোনো পথ খোলা নেই। পাশের দেশ ভারতসহ পৃথিবীর সব দেশই তাদের মুদ্রার অবমূল্যায়ন করছে। এখন আমরা যদি না করি, তাহলে প্রতিযোগিতা থেকে পিছিয়ে পড়ব।’

তিনি বলেন, ‘এ কথা ঠিক, আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। কিন্তু একই সঙ্গে ডলারের দাম বেশি হওয়ায় আমদানিটা কিছুটা নিরুৎসাহিত হবে। অন্যদিকে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়বে। রিজার্ভ বাড়বে।’

‘ইতোমধ্যে আমদানি ব্যয় কমতে শুরু করেছে। বাজারের চাহিদা মেটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় ডলার ছাড়া হচ্ছে। রপ্তানি আয় বাড়ছে; রেমিট্যান্স প্র্রবাহও ভালো। বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। সে কারণেই কার্ব মার্কেটে দাম বেশ খানিকটা কমেছে। ব্যাংকগুলোও কমাতে বাধ্য হবে। আশা করছি খুব শিগগিরই বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় বিক্রি হয়। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এই একই জায়গায় স্থির ছিল ডলারের দর। এর পর থেকেই শক্তিশালী হতে থাকে ডলার; দুর্বল হচ্ছে টাকা।

হিসাব করে দেখা যাচ্ছে, এই ৯ মাসে বাংলাদেশি মুদ্রা টাকার বিপরীতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের দর বেড়েছে ৩ দশমিক ১৮ শতাংশ।

মহামারি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় আমদানি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা বাড়ায় বাজারে ডলারের সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা। আমদানির লাগাম টেনে ধরা ছাড়া ডলারের বাজার স্বাভাবিক হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তারা।

এদিকে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করেও দামে লাগাম পরানো যাচ্ছে না। মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক রাখতে ডলার বিক্রি করেই চলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সব মিলিয়ে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের সোমবার পর্যন্ত (সাড়ে ১০ মাসে, ২০২১ সালের ১ জুলাই থেকে ১৬ মে পর্যন্ত) ৫৫০ কোটি (৫.৫০ বিলিয়ন) ডলারের মতো বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

খোলাবাজারের ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো হাত নেই। তবে ব্যাংকগুলো বেশি দামে ডলার বিক্রি করলে বাংলাদেশ ব্যাংক হস্তক্ষেপ করে থাকে। কেননা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আন্তব্যাংক দরে ডলার কিনে সেই ডলার বিক্রি করে থাকে ব্যাংকগুলো।

এর আগে দেখা গেছে, ব্যাংকগুলোর বিক্রি করা ডলারের দর আর আন্তব্যাংক রেটের মধ্যে বেশি ব্যবধান হলে বাংলাদেশ ব্যাংক সেই পার্থক্যের একটা সীমা নির্ধারণ করে দিত; সেটা এক থেকে দুই টাকার মধ্যে থাকত।

কিন্তু কয়েক মাস ধরে ব্যাংকগুলো আন্তব্যাংক রেটের চেয়ে অনেক বেশি দামে ডলার বিক্রি করলেও এখন পর্যন্ত কোনো হস্তক্ষেপ করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক।

করোনা মহামারির কারণে গত ২০২০-২১ অর্থবছরজুড়ে আমদানি বেশ কমে গিয়েছিল। কিন্তু প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ে উল্লম্ফন দেখা যায়। সে কারণে বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যায়। সে পরিস্থিতিতে ডলারের দর ধরে রাখতে গত অর্থবছরে রেকর্ড প্রায় ৮ বিলিয়ন (৮০০ কোটি) ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তারই ধারাবাহিকতায় চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়েও ২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার কেনা হয়।

কিন্তু আগস্ট মাস থেকে দেখা যায় উল্টো চিত্র। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে আমদানি। রপ্তানি বাড়লেও কমতে থাকে রেমিট্যান্স। বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভও কমতে থাকে। বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়ে যায়; বাড়তে থাকে দাম। বাজার স্থিতিশীল রাখতে আগস্ট থেকে ডলার বিক্রি শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

ঝড়ে গাছ পরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট।

বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ০৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

নরসিংদীর রায়পুরায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ঝড়ে গাছ পরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মাহমুদাবাদ নামাপাড়া থেকে নীলকুঠি, নারায়ণপুর গুকুন নগর পর্যন্ত সড়কে ছোট বড় গাছ পরে এ যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজট নিরসনের কাজ করছে ভৈরব ফায়ারসার্ভিস সদস্যরা ও হাইওয়ে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৯ মে) বিকেলে দেখা যায়, মহাসড়কটির বারৈচা বাজার থেকে ভৈরব নজরুল ইসলাম সেতু পর্যন্ত প্রায় ১০-১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট ছড়িয়ে পড়েছে। বারৈচা থেকে ভৈরব পর্যন্ত ঘুরে দেখা গেছে যানজটের ভয়াবহ চিত্র।

সড়কে দীর্ঘ সময় যানচলাচল স্থবির হয়ে আছে। ভৈরব হাইওয়ে পুলিশের এসআই মাহবুবুর রহমান জানান, যানজট দীর্ঘ হওয়ার কারণে গাড়ি ধীরগতিতে চলছে।

সাজানো নৌকায় মন্ত্রীর বন্যা দেখা

বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ০৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

বানের পানিতে সয়লাব পুরো সিলেট। নিম্নাঞ্চল তো বটেই, আশ্রয়কেন্দ্রও ঢুকে পড়েছে পানি। অনেকেই তাই রয়ে গেছেন, অর্ধনিমজ্জিত নিজের ঘরে। যেখানে মানুষ-গবাদি পশুর পাশাপাশি বসবাস। ভুক্তভোগী মানুষগুলোর আতঙ্ক বাড়িয়েছে পাহাড়ি ঢল। না জানি কখন ভেঙে যায় শেষ আশ্রয়টুকুও। এমন পরিস্থিতিতে আরও অনেকের মতো বন্যা কবলিত মানুষের পাশে ত্রাণ সহায়তা নিয়ে দাঁড়িয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন।

তবে মন্ত্রীর এ সফর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। বন্যা কবলিত অঞ্চলের বেশকিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করছেন নেটিজেনরা। যেখানে দেখা গেছে, সাজানো নৌকায় সস্ত্রীক বন্যা কবলিত অঞ্চল পরিদর্শন করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। হলুদ, সবুজ, সাদা ও হলুদ রঙের কাপড় দিয়ে সুসজ্জিত ছিল নৌকাটি। সামনে চেয়ারে বসে আছেন মন্ত্রী। পেছনে তার সহধর্মিনী সেলিনা হোসেন ও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা। অনেকে মন্তব্য করেছেন, মানুষ যখন বন্যায় নিঃস্ব হওয়ার পথে তখন সাজানো নৌকায় নৌবিহারের গিয়েছেন মন্ত্রী।

বুধবারের এ সফরে মন্ত্রী বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। এ সময় মন্ত্রী বলেন, আপনারা সাহস রাখেন। শেখ হাসিনা অনেক দুর্যোগ মোকাবেলা করে এতদূর অগ্রসর হয়েছেন। সুতরাং ওনার ওপর ভরসা রাখেন। যতদিন শেখ হাসিনা সরকার আছে, আপনাদের সাহায্য আছে, বন্ধু আছে।

সিলেটে ২৫ লাখ টাকা ও ২০০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী।

বুধবার ,১৮ মে ২০২২, ০৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

সিলেটের বন্যাদুর্গত এলাকায় ২৫ লাখ টাকা ও ২০০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এনামুর রহমান। বুধবার (১৮ মে) সিলেট নগরের চালিবন্দরের আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে এ কথা বলেন তিনি।

এ সময় ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকার প্রস্তুত আছে। প্রয়োজনে দুর্গত এলাকায় আরও সহায়তা পৌঁছে দেয়া হবে। যেকোনো দুর্যোগে সরকার জনসাধারণের পাশে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বন্যার প্রকোপ রোধে বর্ষা মৌসুমের আগেই সুরমা কুশিয়ারা নদী খনন করা দরকার।

এদিকে, পাহাড়ি ঢলের কারণে সিলেটে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েকশ’ মানুষ। চাল-ডালসহ খাদ্য পণ্য ভাসিয়ে নেয়ার আগে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন অনেকেই। আশ্রয়কেন্দ্রে আসা মানুষদেরও আছে নানা অভিযোগ। তলিয়ে গেছে সিলেটের উপশহর তালতলা, মাছিমপুর, দক্ষিণ সুরমাসহ মহানগরের বেশ কয়েকটি এলাকা। কোথাও হাঁটু পানি, কোথাও কোমর সমান। রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় নৌকায় করেই যাতায়াত করছে নগরবাসী।

সুত্র ঃ-https://lm.facebook.com/l.php?u=https%3A%2F%2Fwww.jamuna.tv%2Fnews%2F348055&h=AT20QpetT5Qh-HtilsXdi8TvBDHYlqrWKy7EvorBxeL82YnIGtLEyPCFXREa_b1JsYxSNe26NCtiBxo7lHVzvaMvSjoE8-gcSxLjAe75CEoFYHk3C1DwtX1xBc3jM9CzDzrY

সয়াবিন তেল শরীরের জন্য ক্ষতিকর: বাণিজ্যমন্ত্রী

বুধবার ,১৮ মে ২০২২, ০৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

সয়াবিন তেল শরীরের জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেছেন বানিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। বলেন, সয়াবিনের চেয়ে রাইস ব্র্যান ভালো। সয়াবিনের বিকল্প হিসেবে রাইস ব্র্যান ও শর্ষে উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

বুধবার (১৮ মে) দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত সচিবালয়ে দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত টাস্কফোর্স কমিটির ২য় বৈঠক শেষে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। জানিয়েছেন, দেশে এখন রাইস ব্র্যান ৫০ থেকে ৬০ হাজার টন উৎপাদন হয়। এটিকে সাত লাখ টনে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। সেটি করতে পারলে মোট চাহিদার ২৫ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হবে।

দেশে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েই চলেছে, এ জন্য আন্তর্জাতিক বাজারকে দায়ী করেছেন টিপু মুনশি। বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম না কমলে কিছুই করতে পারবো না।

নিত্যপণ্যের দাম কবে মানুষের নাগালে আসবে এমন প্রশ্নের উত্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই। উত্তর জানতে হলে আমাকে আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিলে যেতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম না কমা পর্যন্ত আমরা কিছুই করতে পারবো না। কলকাতায় খবর নিন, সেখানে কত দামে তেল বিক্রি হয়। মানুষকে বৈশ্বিক বাজারের অবস্থা অবশ্যই জানাতে হবে।

ডলারের দাম বাড়ায় সমস্যা তৈরির বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দুই বছর আমাদের আমদানি কম ছিল। এখন বাজার খুলে যাওয়ায় ক্যাপিটালে দুই বছরের চাপ পড়েছে একসাথে। সবকিছু মিলেই একটা প্রভাব পড়েছে। আমাদের বৈদেশিক রিজার্ভেও চাপ পড়েছে। গত দুই বছর আমদানি কমায় বেড়েছিল রিজার্ভ। এখন চাপ পড়ায় এ সমস্যা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, সঙ্কট সমগ্র বিশ্বে, এজন্য প্রধানমন্ত্রী বলেছেন সাশ্রয়ী হতে। এই সঙ্কট আমাদের কষ্ট দিচ্ছে। কিন্তু এখন আমাদের নতুন উৎস খুঁজতে হবে। আশা করছি, ভোজ্যতেল সংক্রান্ত সঙ্কট সামনে কেটে যাবে।

ভারত থেকে গম রফতানি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভারত বাংলাদেশে গম রফতানি বন্ধ করেনি। যে নিষেধাজ্ঞা আছে তা বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য না। এছাড়া বাংলাদেশে গমের যথেষ্ট মজুদও আছে। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এর সুযোগ নিচ্ছে।

পেঁয়াজ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে এখনও চিন্তার কিছু হয়নি। আশার বিষয় পেঁয়াজের উৎপাদন অনেক বেড়েছে। এভাবে চললে ২০২৫ সাল নাগাদ আর পেঁয়াজ আমদানি করা লাগবে না। তাই পেঁয়াজ নিয়ে ভয়ের কিছু নেই।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বিপদ যখন বাড়ে তখন সবাইকে নিয়েই সে বিপদ মোকাবেলা করতে হয়। দুই-আড়াই বছরে রফতানি কম হয়েছে। এর জন্য এখন আমদানি বেড়েছে। যখন আমদানি কম হয়েছে তখন রিজার্ভ বেড়েছে। এখন যে রিজার্ভ আছে, তাতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এরকমই রিজার্ভ থাকে সব সময়। তাই ঘাবড়ানোর কোনো কারণ নেই। এর সাথে শ্রীলংকার সাথে তুলনা করে কোনো লাভ নেই।

সুত্র ঃ-https://lm.facebook.com/l.php?u=https%3A%2F%2Fwww.jamuna.tv%2Fnews%2F348072&h=AT2bEsZ_7P9VXyf28WqzMmJEhlIh6fjaGBnD53ZdGj5AsaqfcPAZzsJO3WemUw8AqdHVqLP45ShpRX5cJtKA_ZxDuvmY4X2IXnVjBUtncQWuvtGvcwBrqesa8yY7e8Uui4bC

৩ বছরের দণ্ড থেকে হাজী সেলিম খালাস, দুদকের আপিল

মঙ্গলবার, ১০ মে ২০২২, ২৭ বৈশাখ ১৪২৯, ০৮ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় বিচারিক আদালতে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন তিনি। আপিলের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট হাজী সেলিমের ১০ বছরের সাজা বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।

রায়ের ওই অংশের (তিন বছরের সাজা থেকে খালাসের) বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)।

মঙ্গলবার (১০ মে) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আপিল করা হয়েছে বলে দুদকের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি গত ১০ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়। এ রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে হাজী সেলিমকে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৭ এ আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান বলেন, আত্মসমর্পণ করতে বলার ১৪ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো তা করেননি হাজী সেলিম। তার উচিৎ ছিল এটা দ্রুত করা। তবে তাকে তিন বছরের যে সাজা সেটা থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে, সেটার সঠিক হয়নি বলেই এ আপিল করা হয়েছে।

এই আপিলের বিষয়ে শুনানির জন্য চেম্বার জজ আদালতে উপস্থাপন করা হবে বলেও জানান দুদকের এই আইনজীবী।

এর আগে ২০২১ সালের ৯ মার্চ হাজী মোহাম্মদ সেলিমকে বিচারিক আদালতের দেওয়া ১০ বছর কারাদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন হাইকোর্ট। তবে তিন বছরের দণ্ড থেকে খালাস পান তিনি।

অন্যদিকে, গত ২৫ এপ্রিল পূর্ণাঙ্গ রায়ের নথি হাতে পান হাজী সেলিম। নথি পাওয়ার পরপরই হাজী সেলিম ঈদের পর যেকোনো দিন আত্মসমর্পণ করবেন বলে সেসময় জানিয়েছিলেন তার আইনজীবী সিনিয়র অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমেদ রাজা।

মহান স্বাধীনতা দিবস আজ।

শনিবার , ২৬ মার্চ ২০২২, ১২ চৈত্র ১৪২৮, ২২ শাবান ১৪৪৩ হিজরী

আজ ২৬শে মার্চ। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। বিশ্বের বুকে লাল-সবুজের পতাকা ওড়ানোর দিন আজ। ১৯৭১ সালের এই দিন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষিত হয়েছিল। ২৫ মার্চের কালরাতের ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বাঙালি এই দিন থেকে মুক্তিযুদ্ধ ও দেশ স্বাধীন করার শপথ গ্রহণ করে। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের স্ফুলিঙ্গে উজ্জীবিত সশস্ত্র জনযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের মুক্তির ইতিহাস-স্বাধীনতার ইতিহাস। দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র যুদ্ধ শেষে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হয়। কষ্টার্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সংহত করার নতুন শপথে বলীয়ান হওয়ার দিন আজ। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় একের পর এক মাইলফলক অর্জন এবারের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনকে মহিমান্বিত করেছে।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর পাশাপাশি স্বাধীন বাংলাদেশের স্রষ্টা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর বছর মুজিববর্ষ উদযাপনের পর এবার মহান স্বাধীনতা উদযাপনে যোগ হয়েছে ভিন্ন মাত্রা। এর আগে স্বাধীনতার ৫০ বছরে আর একটি নতুন পালক যোগ হয় স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ। অনেক প্রাপ্তি নিয়ে এবার স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হবে। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এদিন ঢাকাসহ সারা দেশে প্রত্যুষে তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে। এ উপলক্ষে জাতির শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত হতে পুরোপুরি প্রস্তুত সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ। সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে জাতির বীর সন্তানদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া রাজনীতিবিদ, কূটনীতিকসহ বিশিষ্ট জনেরা শ্রদ্ধা জানাবেন।

এ দিবসে সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা এবং ঢাকা শহরে দৃশ্যমান ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাসমূহ আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে এদিন সংবাদপত্রসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা; সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান; শিশুদের চিত্রাঙ্কন, রচনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা; মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করবে। এছাড়া মহানগর, জেলা ও উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহিদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান করা হবে। কোস্ট গার্ডের জাহাজসমূহ এদিন দুপুর ২টা হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।

রাষ্ট্রপতির ভাষণ
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তার বাণীতে বলেন, স্বাধীনতার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে জনমুখী ও টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশে ও প্রবাসে বসবাসরত সব বাংলাদেশিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এই দিনে আমি পরম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। টেকসই উন্নয়নের এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে ২০৪১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে, ইনশাল্লাহ।


প্রধানমন্ত্রীর বাণী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবসের এই মাহেন্দ্রক্ষণে সব বাংলাদেশিকে ভেদাভেদ ভুলে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শকে লালন করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত, আত্মপ্রত্যয়ী ও আত্মমর্যাদাশীল ‘সোনার বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশে উন্নয়নের যে গতিধারা সৃষ্টি হয়েছে তা অব্যাহত থাকলে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ অচিরেই একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহিদের রক্ত এবং ২ লাখ সম্ভ্রমহারা মা-বোনের আত্মত্যাগের ঋণ কখনো শোধ হবে না। সম্মান জানাই যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাসহ সব অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাকে। আমি কৃতজ্ঞতা জানাই সব বন্ধুরাষ্ট্র, সংগঠন, সংস্থা, ব্যক্তি এবং বিশেষ করে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর প্রতি, যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় সর্বোতভাবে সহায়তা করেছিলেন।


মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্য রয়েছে, সূর্যোদয় ক্ষণে বঙ্গবন্ধু ভবন, কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং সারা দেশে সংগঠনের সব কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৬টায় সীমিত পরিসরে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন। সকাল ৭টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে আওয়ামী লীগ শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করবে। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আগামীকাল রবিবার বিকাল ৩টায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের পক্ষ থেকে এক আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছে। সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভাপতিত্ব করবেন এবং বক্তব্য রাখবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় পার্টি-জেপির বিবৃতি
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫২তম দিবস উপলক্ষে জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি ও দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম দেশবাসীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। গতকাল এক বিবৃতিতে জেপি নেতৃদ্বয় বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ কারাগারে নিহত জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী, এ এইচ এম কামরুজ্জামান এবং ৩০ লাখ শহিদ ও বীর মুক্তিযুদ্ধা যারা দেশ মাতৃকাকে শৃঙ্খল মুক্ত করতে নিজেদের আত্মোৎসর্গ করেছেন তাদের সবাইকে গভীর শ্রদ্ধা ও বিনম্র ভালোবাসায় স্মরণ করছি। বঙ্গবন্ধুর আজন্ম লালিত স্বপ্ন ‘সোনার বাংলা’ গঠনের শপথ গ্রহণ করতে হবে। অর্থনীতির অগ্রগতির পাশাপাশি আমাদের সামাজিক ন্যায়বিচার, মানবিক মূল্যবোধ, অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ এমন এক বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলোর দৃপ্ত শপথ গ্রহণ করতে হবে।

জেপির কর্মসূচি
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় পার্টি-জেপি দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির প্রথম দিন আজ সকাল ৬টায় জাতীয় পার্টি-জেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দলের সব কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৯টায় সাভারস্থ জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও মুক্তিযুদ্ধে বীর শহিদদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন। বাদ জোহর মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ে শহিদদের জন্য প্রার্থনা। দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি হলো :আগামীকাল রবিবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জহুর হোসেন হলে’ (২য় তলায়) আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান এমপি। আলোচনাসভায় অংশ নেবেন বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক ও লেখক অজয় দাস গুপ্ত প্রমুখ। জাতীয় পার্টি-জেপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম জেপির সব শাখাকে কেন্দ্রের অনুরূপ কর্মসূচি গ্রহণ করে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা দিবস পালনে নির্দেশ দিয়েছেন।


জাতীয় স্মৃতিসৌধ সড়কে তোরণ নয়
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে রাজধানীর গাবতলী থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত সড়কে কোনোভাবেই ত্রিমাত্রিক অথবা বক্স আকারে তোরণ তৈরি করা যাবে না। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

শুক্রবার ১ মিনিট অন্ধকারে থাকবে পুরো বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার, ২৪ মার্চ ২০২২, ১০ চৈত্র ১৪২৮, ২০ শাবান ১৪৪৩ হিজরী

অতীতের ন্যায় এবারও শুক্রবার (২৫ মার্চ) গণহত্যা দিবসে এক মিনিট অন্ধকারে (ব্ল্যাক আউট) থাকবে সারাদেশ। এদিন রাত ৯টা থেকে ৯টা ১ মিনিট পর্যন্ত জরুরি স্থাপনা ছাড়া সারাদেশে প্রতীকী ‘ব্ল্যাক আউট’ পালন করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সরকারি তথ্য বিবরণীতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, ২৫ মার্চ রাতে সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি ভবন ও স্থাপনায় কোনো আলোকসজ্জা করা যাবে না। তবে ২৬ মার্চ সন্ধ্যা থেকে আলোকসজ্জা করা যাবে।

২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসের জাতীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সর্বসাধারণকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা মুছে দেওয়ার চেষ্টায় ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গণহত্যা শুরু করেছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনী। তারপর নয় মাসের সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে এসেছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

ইউক্রেন ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রতি রাশিয়ার কৃতজ্ঞতা।

বৃহস্পতিবার, ২৪ মার্চ ২০২২, ১০ চৈত্র ১৪২৮, ২০ শাবান ১৪৪৩ হিজরী

ইউক্রেন ইস্যুতে জাতিসংঘের জরুরি অধিবেশনে প্রবল চাপ সত্ত্বেও বাংলাদেশ নিরপেক্ষতা বজায় রাখায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে রাশিয়া।

বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) রুশ দূতাবাস আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার মান্টিটস্কি।ইউক্রেনে রাশিয়ার ‘বিশেষ সামরিক অভিযানের’ এক মাস পূর্তি উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

তিনি বলেন, ২ মার্চ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের জরুরি অধিবেশনের এক প্রস্তাবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে বাংলাদেশ। ভোটাভুটির আগে বাইরের প্রবল চাপ সত্ত্বেও বাংলাদেশ নিরপেক্ষতা বজায় রাখায় আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

আলেক্সান্ডার মান্টিটস্কি বলেন, ওই প্রস্তাবের বিষয়ে বাংলাদেশ দায়িত্বশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ আচরণ করেছে। যা সত্যিই প্রশংসনীয়।

রুশ রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞা শুধু রাশিয়ার জন্য নয়, বাংলাদেশসহ সবার জন্য হুমকি তৈরি করেছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং নির্বিঘ্নে বহুমাত্রিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে ঢাকার সাথে কাজ করতে আগ্রহী মস্কো। এজন্য বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা ও লেনদেন অব্যাহত রাখতে বার্টার বাণিজ্যের পাশাপাশি তৃতীয় দেশের ব্যাংকিং সুবিধা গ্রহণের মতো নানা বিকল্প নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে।

পাশ্চাত্যের নিষেধাজ্ঞার কারণে বাংলাদেশ-রাশিয়ার অর্থনৈতিক সহযোগিতায় প্রভাব নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে আলেক্সান্ডার মান্টিটস্কি বলেন, আমরা বুঝতে পারি, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে বাংলাদেশের দুশ্চিন্তা রয়েছে। এখন পর্যন্ত সব কাজ নির্ধারিত সময় ধরেই এগোচ্ছে। কাজেই প্রকল্প শেষ করার জন্য আগে যে সময়সীমা ঠিক করা হয়েছিল, সে অনুযায়ী তা হবে।

যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পাশ্চাত্যের মিত্ররা সুইফট ব্যবস্থার ওপর রাশিয়ার আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এতে বাংলাদেশের সঙ্গে রাশিয়ার লেনদেনে একধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে জানতে চাইলে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত বলেন, গত সপ্তাহে মস্কোতে বাংলাদেশ দূতাবাস বার্টার বাণিজ্যের (পণ্যের বিনিময়ে পণ্য, যা বার্টার বা কাউন্টার ট্রেড নামে পরিচিত) বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে প্রস্তাব দিয়েছে। আমি এটুকু বলতে পারি, দুই দেশ ব্যবসা ও লেনদেন অব্যাহত রাখার স্বার্থে বার্টার, এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশের মুদ্রা বিনিময় (রুবল ও টাকার মধ্যে) এবং তৃতীয় দেশের ব্যাংক ব্যবহারের মতো বিকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা করছে।

রুশ রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, রাশিয়া বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য কমানো নয়, বাড়াতে আগ্রহী। এ মুহূর্তে পশ্চিমা অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের সরকারের চাপে রাশিয়া থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে।যা আমাদের বাংলাদেশের অংশীদারদের জন্য এক দারুণ সুযোগ তৈরি করেছে।