সৌদি আরবের পবিত্র মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতার জন্য অনুমোদন দিয়েছেন। এবারের পুরস্কারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় সাত শত কোটি টাকা।
সৌদি প্রেস এজেন্সি জানায়, আগামী রজব ও শা’বান মাসে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় ছাত্র ছাত্রীদের আলাদাভাবে অংশ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। পবিত্র কুরআনের এ প্রতিযোগিতাটি শাহ সালমান ইসলামিক বিষয়ক, দাওয়াহ ও নির্দেশনা মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হবে। যার মোট পুরস্কারের অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১.২৬ মিলিয়ন রিয়াল।
এদিকে, ইসলামী বিষয়ক মন্ত্রী, দাওয়াহ ও নির্দেশনা শায়েখ ড. আব্দুল আজিজ আল শেখ প্রতিযোগিতার অনুমোদনের জন্য দুই পবিত্র মসজিদের রক্ষক বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, এটি পবিত্র কোরআনের মুখস্থ করণ, তিলাওয়াত ও তাফসীরের ২৩তম প্রতিযোগিতা। তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হবে যার মধ্যে প্রথম স্থান বিজয়ী ২০০.০০ রিয়াল, দ্বিতীয় স্থান বিজয়ী ১৮৫,০০০ রিয়াল এবং তৃতীয় স্থান বিজয়ী ১৭০,০০০ রিয়াল নগদ পুরষ্কার প্রদান করা হবে। সূত্র: সৌদি প্রেস এজেন্সি
বিশ্বের প্রথম ‘অলাভজনক’ শহর গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে সউদী আরব। স্থানীয় সময় গতকাল (রোববার) বিকেলে সউদী আরবের যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান এক লিখিত বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেন। তাঁর নামেই শহরের নামকরণ করা হবে।
জানা গেছে, প্রস্তাবিত শহরটি গড়ে উঠবে রাজধানী রিয়াদের পশ্চিমে ওয়াদি হানিফার কাছে। শহরের আয়তন হবে ৩.৪ বর্গকিলোমিটার। এই শহরে থাকবে একাডেমি, স্কুল, কলেজ, সম্মেলন কেন্দ্র ও বিজ্ঞান জাদুঘর। এ ছাড়া একটি সৃজনশীল কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে, যেখানে বিজ্ঞান এবং নতুন প্রজন্মের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে গবেষণার সুযোগ করে দেওয়া হবে। তা ছাড়া, শহরের ৪৪ শতাংশেরও বেশি জায়গা হবে সবুজ ও উন্মুক্ত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিকভাবে শহরটি অলাভজনক সেক্টরের উন্নয়নের মডেল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সউদী আরবের সরকারি বার্তা সংস্থা সউদী প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)-কে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে অনলাইন এমিরেটস নিউজ এজেন্সি। এতে বলা হয়েছে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর তরুণ বা যুবকদের কাজের জন্য এটি হবে একটি মডেল। এটি হবে বৈশ্বিক পর্যায়ে অলাভজনক উন্নয়নের একটি মডেল। ক্রাউন প্রিন্স বলেছেন, এমন শহর এটাই প্রথম হবে সউদী আরবে। এর মধ্য দিয়ে মোহাম্মদ বিন সালমান মিস্ক ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য অর্জনে অবদান রাখবে এই শহর। এতে সহায়তা দেয়া হবে উদ্ভাবন, উদ্যোক্ত এবং ভবিষ্যত মানসম্মত নেতৃত্বকে। যুব সমাজকে প্রশিক্ষণ ও সম্ভবনাময় কাজ করার মধ্য দিয়ে এই অলাভজনক কাজকে সংজ্ঞায়িত করা হবে। এখান থেকে এমন সব সুবিধা দেয়া হবে, যা আকর্ষণীয় কর্মপরিবেশ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবেন। এই শহরের নাম হবে প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান নন-প্রফিট সিটি, যা ডিজিটাল টুইন মডেল বাস্তবায়ন করবে। স্বাগত জানাবে শিক্ষাবিদ, কলেজ, মিস্ক স্কুলকে, কনফারেন্স সেন্টার হিসেবে কাজ করবে। কাজ করবে বিজ্ঞানের একটি জাদুঘর হিসেবে। বিজ্ঞান ও নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি খাত- যেমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্সের মতো প্রযুক্তিতে উচ্চাকাঙ্খী উদ্ভাবনীকে সমর্থন দেবে এই সেন্টার। সূত্র : সউদী প্রেস এজেন্সি
সৌদির নাগরিকত্ব পেলেন পবিত্র কাবার গিলাফের ক্যালিগ্রাফার বাংলাদেশি মুখতার আলম। বিভিন্ন পেশার দক্ষ বিদেশি নাগরিকদের সৌদি আরবে নাগরিকত্ব দেওয়ার ঘোষণার পর প্রথম দিনেই নাগরিকত্ব লাভ করেছেন বাংলাদেশের মুখতার আলম।
তিনি প্রধান ক্যালিগ্রাফার হিসেবে মক্কার পবিত্র কাবাঘরের গিলাফ (কিসওয়াহ) প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) সৌদি বাদশার এক রাজকীয় নির্দেশনায় বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব দেওয়া কথা জানানো হয়।
এদের মধ্যে প্রথম দিন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, ইতিহাসবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও চিকিৎসক, বিনিয়োগকারক, প্রযুক্তিবিদ, ক্রীড়াবিদসহ পাঁচ বিদেশি নাগরিক আছেন।
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ঘোষিত ‘ভিশন-২০৩০’ -এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন পেশার দক্ষ বিদেশিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার এ রাজকীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সৌদি সংবাদ মাধ্যম আশ শারাক আল আওসাতের বরাত দিয়ে সৌদি গেজেট জানায়, নাগরিকত্ব পাওয়া বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন, পবিত্র কাবার গিলাফের (কিসওয়া) প্রধান ক্যালিগ্রাফার মুখতার আলম, ইতিহাসবিদ ড. আমিন সিদো, ড. আবদুল করিম আল সামমাক, প্রখ্যাত গবেষক ড. মুহাম্মদ আল বাকাই ও প্রখ্যাত নাট্যশিল্পী সামান আল আনি।
সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে মুখতার আলমের পরিচয়ে বলা হয়, মুখতার আলম বর্তমানে মক্কার কিসওয়া কারখানায় পবিত্র কাবার কিসওয়ার প্রধান ক্যালিগ্রাফার হিসেবে কাজ করছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ও ফোরামে তার প্রধান ক্যালিগ্রাফিগুলো প্রদর্শিত হয়েছে। ক্যালিগ্রাফি দক্ষতাবিষয়ক প্রশিক্ষণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পাঠদান করেন।
মক্কার দ্য ইনস্টিটিউট অব হলি মসকো তথা পবিত্র মসজিদুল হারাম পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে ক্যালিগ্রাফিবিষয়ক তার পাঠ শোখানো হচ্ছে। মুখতার আলম মক্কার বিখ্যাত উম্মুল কোরা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে বর্তমানে পিএইচডি গবেষণারত। তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপ্লোমা, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের সার্টিফিকেটের ক্যালিগ্রাফার হিসেবেও কাজ করেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সংস্থা থেকে অসংখ্য পুরস্কার ও প্রশংসার সনদ পেয়েছেন তিনি।
মুখতার আলম চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের রশীদের ঘোনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম জনাব মুফিজুর রহমান বিন ইসমাঈল শিকদার। মায়ের নাম শিরিন বেগম।
তার বাবা কর্মজীবনের শুরুতে কিছুদিন ঐতিহ্যবাহী চুনতি হাকীমিয়া আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি দীর্ঘ সময় সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফার্মাসিস্ট হিসেবে বিভিন্ন হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেন।
মূলত বাবার কর্মসূত্রে পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ সময় সৌদি আরবে কাটিয়েছেন। বর্তমানে মুখতার তার মা, স্ত্রী ও চার মেয়েকে নিয়ে মক্কায় আছেন। সুত্রঃ সময় নিউজ ।
হাইলের গভর্নরের সাথে রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর বৈঠক রিয়াদ, ০৩ নভেম্বর, ২০২১; সৌদি আরবের সবুজায়ন উদ্যোগের আওতায় ১০ বিলিয়ন বৃক্ষরোপণ প্রকল্পে বাংলাদেশ সহযোগিতা করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বিপিএম (বার)। তিনি আজ হাইলের গভর্নর প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সাদ এর সাথে বৈঠককালে এ সহযোগিতার বিষয়ে জানান। এ সময় রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, সৌদি আরবের সবুজায়ন উদ্যোগের আওতায় ১০ বিলিয়ন বৃক্ষরোপণ কর্মসুচিতে বাংলাদেশ তাঁদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দিয়ে সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক। মরুভূমির জন্য উপযোগী ও সহনশীল বৃক্ষের চারা সরবরাহ করার বিষয়ে ও আগ্রহ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত। হাইলের গভর্নর সৌদি আরবে বৃক্ষরোপণ ও মরুভূমিতে বিলুপ্ত বৃক্ষসমূহ পূনরুদ্ধারে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথ গবেষণার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের ভিত্তিতে সৌদি আরবের সাথে কারিগরি ও বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা করলে দুদেশ সবুজায়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে আরো নিবিড়ভাবে কাজ করতে পারে বলে গভর্নর জানান। এ বিষয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণার ও প্রস্তাব দেন তিনি। এছাড়া, হাইল গভর্নর বাংলাদেশের সাথে পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে যৌথ গবেষণার প্রস্তাব দেন যার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্জিত জ্ঞান ব্যবহারের মাধ্যমে দুদেশ উপকৃত হতে পারে। রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী হাইলের জেলখানায় বিভিন্ন কারণে বন্দী বাংলাদেশী অভিবাসীদের মুক্তির ব্যাপারে গভর্নরের সহযোগিতা কামনা করেন। হাইলের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সুন্দরবন, কক্সবাজার ও বিভিন্ন পর্যটন স্থানের সাথে সহযোগিতার মাধ্যমে দুদেশের মধ্যে পর্যটক বৃদ্ধির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়া দুদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিনিময়ের কথা ও রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রদূত করোনা আক্রান্ত অভিবাসীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও করোনা ভাইরাসের টিকা প্রদান করায় সৌদি সরকারের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। আজ সকালে রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী হাইলের পুলিশ প্রধান মেজর জেনারেল ড. কিতাব আল ওতাইবির সাথে বৈঠক করেন। এ সময় হাইলের পুলিশ প্রধান অভিবাসী বাংলাদেশীদের প্রশংসা করেন। রাষ্ট্রদূত নারী গৃহকর্মীসহ বাংলাদেশি অভিবাসীদের যেকোন জরুরী সমস্যা সমাধানে পুলিশ প্রধানের সহযোগিতা কামনা করেন। হাইলের পুলিশ প্রধান এ সময় বাংলাদেশিদের ভাই সম্বোধন করে যেকোন প্রয়োজনে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বাংলাদেশের সাথে সৌদি আরবের সরকারি-বেসরকারি অংশীদারীত্ব (পিপিপি) বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুদেশের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। রিয়াদের বাদশাহ আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে চলমান ফিউচার ইনভেষ্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ এর সম্মেলন চলাকালে এর প্লেনারি হলে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সৌদি আরবের বিনিয়োগ বিষয়ক মন্ত্রী খালিদ আল ফালিহ ও সৌদি সফররত প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান নিজ নিজ পক্ষে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বিষয়ক সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
তিন বছর আগে সুস্থ, স্বাভাবিক অবস্থায় গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি আরব গিয়েছিলেন এক নারী। ফিরে এসেছেন মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে।
চায়না খাতুন, বয়স চল্লিশের কাছাকাছি। গেল তিন দিন ধরে এভাবেই পড়ে আছেন ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। বলতে পারছেন না নিজের নাম-পরিচয়। খাচ্ছেন না কিছু। আশেপাশে মানুষ দেখলেই ভয়ে চিৎকার করছেন। শুক্রবার তাকে উদ্ধার করেছে বিমানবন্দর আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন। পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার দুপুরে ইত্তেহাদ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে সৌদি থেকে ঢাকায় আসেন এই নারী।
পরে তার ট্রাভেল পাস দেখে নাম, পরিচয় শনাক্ত করা হয়। ওই নারীর বাড়ি পাবনার ঈশ্বরদীতে।
ব্র্যাকের অভিবাসন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, গৃহকর্মী হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়া অনেক নারীর পরিণতিই হয় চায়না খাতুনের মতো।
ব্রাকের অভিবাসন বিভাগের সাইকো সোশ্যাল কাউন্সিলর ফাহমিদা খান উর্মি জানান, অনেক অভিবাসী কর্মীই মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে ফেরত আসছেন। তাদের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা নারী কর্মীর সংখ্যাই বেশি। এ বিষয়ে সরকারের নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।
ব্রাকের অভিবাসন বিভাগের তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হান কবীর জানান, অনেকেই চায়না খাতুনের মতো মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে দেশে ফেরত আসেন।
চায়না খাতুনের পরিবারকে তার ফেরার কথা জানানো হয়েছে। দু’একদিনের মধ্যে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
মরুভূমিতে সবুজ বিপ্লব ঘটাতে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সউদী আরব। দেশজুড়ে ৫ কোটি হেক্টর ভূমিতে এক হাজার কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে তারা। এই কাজে অংশ নিতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সরকার। খবর আরব নিউজের সৌদির পানি, পরিবেশ ও কৃষি মন্ত্রী আব্দুল রহমান আল-ফাদলি বলেন, সরকারের একার পক্ষে এটি করা অসম্ভব। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে চূড়ান্ত বাজেট ও পুরো প্রকল্পের তহবিলের বিষয়টি পর্যালোচনাধীন রয়েছে। রিয়াদে সউদী গ্রিন ইনিশিয়েটিভ ফোরামের সাইডলাইনে তিনি বলেন, ‘সকল বেসরকারি খাত, বেসরকারি সংস্থা, নাগরিক, কৃষি সমিতি, পরিবেশ সমিতি, কোম্পানি, সরকারি কোম্পানি এবং সরকারও গাছ লাগানোর কাজে অংশ নেবে।’ সৌদি মন্ত্রী জানান, এক হাজার কোটি গাছ রোপণ সউদীর একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ। দেশের পতিত ভূমির ৫০ শতাংশকে সবুজে পরিণত করা হবে। এর মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কমবে। এসব ভূমি বন্যপ্রাণীর সুরক্ষার জন্য মনোনীত করা হবে। বৈশ্বিক বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রার এক শতাংশ রোপণ করবে সউদী। আব্দুল রহমান আল-ফাদলি বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে বলতে গেলে এক হাজার কোটি গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে দেশের পরিবেশ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আমি বিশ্বাস করি যে আমরা পুনর্নবীকরণযোগ্য পানি, বিশুদ্ধ পানি ব্যবহারের মাধ্যমে এই উদ্যোগ কার্যকর করতে সক্ষম হব।’ ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ঘোষণা অনুযায়ী এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের অনেক সুযোগ এবং অবদান থাকবে। এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে স্থানীয় ও অধিক সহনশীল গাছ রোপণ করবে সউদী। যাতে পানি কম খরচ হয় এবং দেশটির আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে এসব গাছ বেড়ে উঠতে পারে। সূত্র : আরব নিউজ
তিন দিনের সফরে সৌদি আরব গিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে তিনি এ সফরে গিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ডন জানিয়েছে, ২৫ অক্টোবর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত মিডল ইস্ট গ্রিন ইনিশিয়েটিভ (এমজিআই) সামিট বা মধ্যপ্রাচ্য সবুজ উদ্যোগ সম্মেলনে অংশ নেবেন তিনি। এ ছাড়া দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেবেন ইমরান খান।
শনিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মদিনায় পৌঁছালে ডেপুটি গভর্নর সউদ বিন খালিদ আল ফয়সাল তাকে স্বাগত জানান। পরে মদিনায় মহানবী হজরত মুহাম্মদের (সা.) রওজা জিয়ারত করেন তিনি।
ইমরান খানের সঙ্গে এ সফরে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশিসহ উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দলও রয়েছে।
রেডিও পাকিস্তানের খবরে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে, সে বিষয়ে এমজিআই সম্মেলনে মতামত দেবেন ইমরান খান।
এ ছাড়া পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় পাকিস্তানের পদক্ষেপ সম্পর্কেও আলোচনা করবেন তিনি।
এতদিন পবিত্র মক্কায় ওমরাহ পালনে ছিল নানা বিধি-নিষেধ। তবে এবার বড় পরিসরে শুরু হলো পবিত্র ওমরাহ পালন। প্রথমবারের মতো মানতে হবে না সামাজিক দূরত্ব। গতকাল রোববার (১৭ অক্টোবর) তাওয়াফের ক্ষেত্রে মানতে হয়নি নির্ধারিত লাইন। কাঁধে কাঁধ মিলিয়েই মুসল্লিরা আদায় করেছেন নামাজ। মহামারি চলাকালে প্রথমবার বিধিনিষেধ শিথিল করলো দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে, কাবা শরীফে প্রবেশ এবং নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই মাস্ক পড়তে হবে। এছাড়া ওমরাহ্ পালনের আগেই পূর্ণ করতে হবে ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ। সরকারের নির্ধারিত অ্যাপের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে শর্তগুলো। রোববার থেকে খোলা জায়গায় নেই মাস্ক পরিধাণের বাধ্যবাধকতা। এছাড়া রাস্তাঘাট, গণপরিবহন, রেস্তোঁরা, সিনেমা হলগুলোয় থাকছে না সামাজিক দূরত্ব মানার কঠোর নীতিমালা।