বাহরাইনগামী বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য দেশ থেকে ৪৮ ঘণ্টা আগে করা পিসিআর পরীক্ষার করোনা নেগেটিভ সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আগামীকাল ২৭ এপ্রিল থেকে এ নিয়ম কার্যকর হবে। বাহরাইনে পৌঁছানোর পরই বিমানবন্দরে সব দেশের যাত্রীদের জন্য পিসিআর পরীক্ষা করার নিয়ম বহাল থাকলেও তিন দেশের জন্য বাড়তি এই নিয়ম যুক্ত করা হয়েছে। করোনাভাইরাস মোকাবিলার জন্য জাতীয় মেডিকেল টাস্কফোর্স বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের ৬ বছরের বেশি বয়সী যাত্রীদের জন্য নতুন এই পদ্ধতি যুক্ত করেছে। এদিকে, বাহরাইনে পৌছানোর পর ৫ম এবং ১০ম দিনে আবার পিসিআর পরীক্ষা করতে হবে। বাহরাইনে আসার আগে “BeAware Bahrain” মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনে নিবন্ধন বা ডাউনলোড করতে হবে। বাহরাইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, যাত্রীদের পায়ের ছাপের স্টিকার অনুসরণ করে টার্মিনালে সামাজিক দূরত্বের ব্যবস্থাগুলো অবশ্যই মেনে চলতে হবে। যাত্রীদের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। যেসব যাত্রী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাগুলো মেনে চলবেন না তাদের বিমানবন্দরে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে।
কোভিড-১৯ বিস্তাররোধে চলমান বিধি-নিষেধ আরও এক সপ্তাহ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) প্রজ্ঞাপন হতে পারে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। প্রজ্ঞাপন জারি হলে আগামী ৫ মে পর্যন্ত এই ‘বিধিনিষেধ’ বহাল থাকবে।
সোমবার (২৬ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আয়োজনে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় বিধিনিষেধের মধ্যে সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শপিংমল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।কোভিড-১৯ সংক্রমণ রোধে গত ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে আট দিনের কঠোর লকডাউন শুরু হয়। লকডাউনের মধ্যে পালনের জন্য ১৩টি নির্দেশনা দেয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে। সেই মেয়াদ শেষ হয় গত বুধবার (২১ এপ্রিল) মধ্যরাতে। তবে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় লকডাউনের মেয়াদ আগামী ২৮ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
আগের লকডাউন পালনের জন্য নির্দেশনাগুলো হলো- ১. সব সরকারি, আধাসরকারি, সায়ত্ত্বশাসিত ও বেসরকারি অফিস, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। প্রতিষ্ঠানের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করবেন। তবে বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থল বন্দর এবং তৎসংশ্লিষ্ট অফিসগুলো এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।২. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আদালতগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।৩. সব ধরনের পরিবহন (সড়ক, নৌ, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট) বন্ধ থাকবে। তবে পণ্য পরিবহন, উৎপাদন ব্যবস্থা ও জরুরি সেবাদানের ক্ষেত্রে এ আদেশ প্রযোজ্য হবে না।৪. শিল্প-কারখানাগুলো স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে। তবে শ্রমিকদের স্ব স্বপ্রতিষ্ঠান থেকে নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় আনা-নেওয়া নিশ্চিত করতে হবে।৫. আইন-শৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিষেবা, যেমন- কৃষি উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস/জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরগুলোর (স্থল, নদী ও সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতা বহির্ভূত থাকবে।৬. অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। তবে টিকা কার্ড প্রদর্শন সাপেক্ষে টিকা গ্রহণের জন্য যাতায়ত করা যাবে।৭. খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কেবল খাদ্য বিক্রয়/সরবরাহ করা যাবে। শপিংমলসহ অন্যান্য দোকান বন্ধ থাকবে।৮. কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। বাজার কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করবে।৯. বোরো ধান কাটার জরুরি প্রয়োজনে কৃষি শ্রমিক পরিবহনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন সমন্বয় করবে।১০. সারাদেশে জেলা ও মাঠ প্রশাসন উল্লিখিত নির্দেশনা বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত টহল জোরদার করবে।১১. স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক তার পক্ষে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেবেন।১২. স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জুম্মা ও তারাবি নামাজের জমায়েত বিষয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্দেশনা জারি করবে।১৩. এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ প্রয়োজনে সম্পূরক নির্দেশনা জারি করতে পারে।যদিও আগের লকডাউনের প্রজ্ঞাপন জারির পর দোকানপাট ও শপিংমল খুলে দেয় সরকার। তবে নতুন করে আর এক সপ্তাহের যে লকডাউনের ঘোষণা দিল সরকার তা প্রজ্ঞাপন জারির পর জানা যাবে কী কী নির্দেশনা সেখানে আছে।
কাতারে করোনার আক্রান্তের হার কমলেও কোনোভাবে কমছে না মৃতের সংখ্যা। দেশটিতে রোববারও (২৫ এপ্রিল) করোনায় আক্রান্ত হয়ে এক বাংলাদেশিসহ ১০ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে দেশটিতে ৪৫ বাংলাদেশি করোনায় প্রাণ হারালেন।
কাতারে করোনার দ্বিতীয় ডেউয়ে ব্যাপক সংক্রমণ হলেও বর্তমানে কিছুটা কমেছে আক্রান্তের সংখ্যা।মৃতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা আতঙ্কিত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। কাতার সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ প্রবাসীদের।অভিবাসী ও স্থানীয় নাগরিক মিলিয়ে ২৬ লাখের বেশি জনসংখ্যার দেশটিতে এরইমধ্যে প্রায় ১৪ লাখের বেশি মানুষকে বিনামূল্যে করোনা ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। দেশটিতে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ২০ হাজারের বেশি। এখন পর্যন্ত ৪৫ জন বাংলাদেশিসহ করোনায় মারা গেছেন ৪২৮ জন।
প্রতি বছর ফ্রান্সে রমজানে ইফতার পার্টিসহ নানা আয়োজন থাকলেও কারোনা মহামারির কারণে এবারে চিত্র একেবারেই উল্টো। করোনা বিধিনিষেধের কারণে বাইরে কোনো আয়োজন নেই। তবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ঘরোয়া পরিবেশে আত্মীয়-পরিজন নিয়ে একসঙ্গে ইফতারের আয়োজন করছেন। সৃষ্টিকর্তার কাছে করোনামুক্তির প্রার্থনা থাকছে ইফতারের আগমুহূর্তে।
ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুসলমানের বসবাস ফ্রান্সে। সে কারণে প্রতি বছর এ মাসে মুসলিম-অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে পবিত্র রমজানের আলাদা আবহ বিরাজ করে। প্রতি বছর রমজান মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আঞ্চলিক সংগঠনের উদ্যোগে ফ্রান্সে ইফতারের আয়োজন করা হয়। দেশটিতে করোনা মহামারি কারণে গত দুই বছর ধরে তা আর সম্ভব হচ্ছে না।তবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা এ বছরও আত্মীয়-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে দেশের মতো ঘরোয়া ইফতারের আয়োজন করছেন। এ সময় তারা করোনা সংকট থেকে উত্তরণের জন্য মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন।
নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান না থাকলেও ৫০ থেকে ৬০ লাখ মুসলমান ফ্রান্সে বসবাস করেন। অন্যান্য বছর এ মাসকে ঘিরে মুসলমানদের নানা আয়োজন থাকলেও এবার ঘরোয়া পরিবেশে ইফতার আর বাসায় তারাবির নামাজ আদায় করছেন তারা।আক্রান্তের দিক থেকে চতুর্থ স্থানে রয়েছে ফ্রান্স। সোমবার ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুসারে ফ্রান্সে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫৪ লাখ ৯৮ হাজার ৪৪ জন, মারা গেছেন এক লাখ ২ হাজার ৮৫৮, আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৩ লাখ ৬৩ হাজার ৯৮ জন।
বিশ্বব্যাপী করোনা সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। কোনোভাবেই থামছে না এর প্রভাব। মৃত্যু ও সংক্রমণ দুটোই বেড়েছে। এ সময়টাতে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যায় শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর মধ্যে দিয়ে। সেই দিকটা বিবেচন করে নিমের গুণাগুণটা তুলে ধরা হলো। এরইমধ্যে নিমের বহু গুণাগুণের কথা বিবেচনা করেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘একুশ শতকের বৃক্ষ’ বলে ঘোষণা করেছে।সেক্ষেত্রে টিকার পাশাপাশি অনেক প্রাকৃতিক উপাদানও বেশ উপকারী বলেও জানায় মেডিকেল নিউজ টুডে। শরীরের সৌন্দর্য চর্চা থেকে সব কিছুতেই নিমপাতা উপকারী। মেডিকেল নিউজ টুডের তথ্যানুযায়ী নিম, একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। এটি ফ্রি র্যাডিকেলগুলির প্রভাবকে হ্রাস করে।
নিম পাতায় থাকা অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল, অ্যান্টি-ভাইরাল এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখতে সহায়তা করে। এরসঙ্গে এটি দেহের অভ্যন্তরে উপস্থিত অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াকেও মেরে ফেলে। এটি পেট পরিষ্কার রাখে এবং সে কারণেই এটি ত্বকের জন্যও কার্যকর। নিম পাতা হজমের জন্যও উপকারী। এক কাপ নিমপাতায় ক্যালোরি থাকে ৩৫ গ্রাম। ফলে প্রতিদিন নিমপাতার রস খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে।নিম পাতার নির্যাসে ডায়াবেটিস, ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার বৈশিষ্ট্য রয়েছে। নিমের কাণ্ড, মূল, বাকল এবং কাঁচা ফল সব ধরনের রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা রয়েছে। নিমের ছালও গ্রামাঞ্চলে ত্বকের রোগ নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। এটি এমন একটি ওষুধি যা শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থগুলো বের করতে সাহায্য করে। এটি রক্ত সঞ্চালনও ঠিক রাখে।রক্তের সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রাখে নিম পাতার রস:নিম ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে চমৎকার ভাবে কাজ করে। নিমের পাতা রক্তের সুগার লেভেল কমতে সাহায্য করে। এছাড়াও রক্তনালীকে প্রসারিত করে রক্ত সংবহন উন্নত করে। ভালো ফল পেতে নিমের কচি পাতার রস প্রতিদিন সকালে খালি পেটে পান করুন। সকালে খালি পেটে ৫টি গোলমরিচ ও ১০টি নিম পাতা বেটে খেলে তা ডায়াবেটিস কমাতে সাহায্য করে। আর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ থাকলে সব রোগই নিয়ন্ত্রণে আসে।কীভাবে খাবেন নিম পাতা:আয়ুর্বেদের মতে, নিম চিনি বা চিনির মিছরির সঙ্গে খেলে কাশি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। চাইলে প্রতিদিন একটি করে নিম ক্যাপসুলও নিতে পারেন। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিমপাতা অনেক রোগ নিরাময়েরও ক্ষমতা রাখে। এটি লিভার এবং হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখে। তিতা স্বাদের কারণে অনেকে নিম পাতার রস খেতে চান না তবে আয়ুর্বেদের মতে, প্রতিদিন সকালে খালি পেটে নিম পাতার রস খাওয়া শুধু শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় না, শারীরিক নানা অসুস্থতাও কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করে।যেভাবে বানাতে পারেন: নিম পাতা ডাল থেকে ছড়িয়ে সিল-পাটায় বেটে মিহি করে নিতে হবে। এরপর ছোট ছোট বড়ি করে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। তারপর কাঁচের বোতলে রাখতে পারেন। এটি অনেকদিন পর্যন্ত আপনি এভাবে সংরক্ষণ করতে পারবেন। এর গুণাগুণ ভালো থাকবে। প্রতিদিন কাঁচা পাতা পাওয়া না গেলে এভাবে সেটি সংরক্ষণ করা যাবে।
বয়স আর রোগে-শোকে চলা ও বলার ক্ষমতা অনেক আগেই হারিয়ে ফেলেছেন খাইরুন। নিজের পেটে চার চারটি সন্তান ধরে মানুষ করেছেন, কিন্তু জীবনের পড়ন্ত বেলায় ঠাঁই হয়নি তাদের কারও ঘরে। রোববার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে রংপুর মহানগরীর আলমনগর এলাকার রাস্তায় ফেলে যায় আপনজনরা।
স্থানীয়রা জানান, খাইরুন নামে ওই বৃদ্ধাকে এক ছেলের বাড়ি থেকে ওই এলাকায় বসবাসকারী আরেক মেয়ের বাড়িতে রাখতে যান নাতি-নাতনিরা। কিন্তু ওই মেয়ে গ্রহণ করতে অস্বীকার করলে রাস্তায় ফেলে যায় তারা।পরিস্থিতি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় এক নারী বলেন, সন্তানকে জন্ম দেওয়ার পর তাকে মানুষ করেছে। এখন মা বৃদ্ধ হয়ে গেছে বলে তাকে ফেলে দিতে হবে?
স্থানীয়রা জানান, খায়রুনের স্বামী মারা গেছেন অনেক আগেই। এই শহরে বাস করে তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। পরে তার সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা খাইরুনকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। এ বিষয়ে বৃদ্ধার মেয়ে বলেন, উনি আমার সৎমা। তার মেয়ে ওনাকে আমার কাছে এনেছিল। কিন্তু আমার খারাপ পরিস্থিতি দেখে আমার কাছে না রেখে তাকে নিয়ে যায়।
রংপুর সমাজসেবা অফিসার শফিকুল ইসলাম পাইকার বলেন, জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বিষয়টি অবগত হলে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে উদ্ধার করে ওল্ডহোমে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
হাজার চেষ্টা করেও অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায়নি। তাই গাড়ির ছাদে বাবার মরদেহ বেঁধে নিয়ে সৎকার করতে গেছেন এক ছেলে।
সোমবার (২৬ এপ্রিল) ভারতের উত্তর প্রদেশের আগরায় এ ঘটনা ঘটেছে। যদিও উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বারবার বলে আসছেন, পরিষেবায় কোনও ঘাটতি নেই। সবশেষ গত রোববারও (২৫ এপ্রিল) এই দাবি করেছেন তিনি। তারপর দিনই সোমবার আগরায় এই দৃশ্য চোখে পড়ল।
মৃত ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন কি না জানা যায়নি। তবে বাঁশের মাচাসহ মরদেহ গাড়ির ছাদে বেঁধে নিয়ে যেতে দেখে শিউরে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এমনকি স্থানীয় মোক্ষধাম শ্মশানে তিনি উপস্থিত হলে ওই দৃশ্য দেখে চমকে ওঠেন সবাই। এদিকে, ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন লাখ ৫৪ হাজার ৫৩১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে এবং মারা গেছে দুই হাজার ৮০৬ জন।করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, সোমবার (২৬ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত দেশটিতে মোট করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এক কোটি ৭৩ লাখ ৬ হাজার ৩০০ জন এবং মারা গেছেন এক লাখ ৯৫ হাজার ১১৬ জন। আক্রান্তের দিক থেকে দেশটি বিশ্বে দ্বিতীয় ও মৃত্যুতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
ফিলিস্তিনের হামাস সশস্ত্র গোষ্ঠী তাদের যোদ্ধাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। সেই সঙ্গে গাজাবাসীকে বন্দুকের ট্রিগারে আঙুল রাখার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
ফিলিস্তিনের অধিকৃত ভূখণ্ডে ইসরাইলের সামরিক বাহিনী ও ফিলিস্তিনি জনগণের মধ্যে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সহিংস সংঘর্ষ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এ আহ্বান জানাল হামাস।রোববার (২৫ এপ্রিল) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, পবিত্র আল-কুদস জেরুজালেম শহরের সব নারী-পুরুষ ও তরুণদের প্রতি হামাস এই আহ্বান জানাচ্ছে যে, সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকুন। এর মাধ্যমে এ কথা প্রমাণ করে দিন যে, পবিত্র আল-কুদস ফিলিস্তিনিদের হৃদয়ের গভীরে রয়েছে।
হামাস আরও বলেছে, গাজার প্রতিটি প্রতিরোধকামী গ্রুপকে বন্দুকে ট্রিগারে তাদের আঙুল রাখতে হবে এবং ইসরাইলের শক্তিশালী ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনায় আঘাত করতে হবে।পবিত্র জেরুজালেম শহরের আল-আকসা মসজিদ চত্বরে ফিলিস্তিনি মুসলমানদের ওপর ইসরাইলি সেনাবাহিনী কয়েক দফা সহিংস হামলার পর হামাসের পক্ষ থেকে এ বিবৃতি দেওয়া হলো বলে জানিয়েছে ইরানের গণমাধ্যম পার্সটুডে।
ইরাকের রাজধানী বাগদাদের একটি করোনা হাসপাতালে গত রোববার ভোরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত বেড়ে কমপক্ষে ৮২ জন এবং ১১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরাকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইবনে খতিব হাসপাতালের একটি অক্সিজেন ট্যাঙ্কে বিস্ফোরণের ফলে হাসপাতালে আগুন লাগে। আগুনের শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো হাসপাতালে। হাসপাতালটিতে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছিল না এবং ফলস সিলিংয়ের কারণে আগুনের শিখা অত্যন্ত দাহ্য বস্তুর মাধ্যমে দ্রুত পুরো হাসপাতালে ছড়িয়ে পড়েছিল বলে জানা গেছে।
ইতালিতে নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী মোহাম্মদ বাবলুর মরদেহ বিমানবন্দর থেকে নিতে আসলে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক তার পরিবারকে মরদেহ পরিবহন ও দাফনের জন্য ৩৫ হাজার টাকার চেক প্রদান করেন।