বাংলাাদেশ আসা যাবে ৭ দেশ থেকে। দেশগুলো হচ্ছে, চীন, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার, সিঙ্গাপুর ও সৌদি আরব। অন্য দেশ থেকে এসব দেশে ট্রানজিট হয়েও আসা যাবে না। দেশে আসতে হলে প্রত্যেক যাত্রীকে দেশে আসার সময় কোভিড নেগেটিভ সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলকভাবে থাকতে হবে।
১। যাদের করোনার ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ নেওয়া আছে এবং করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে আসবেন তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকা লাগবে না। তারা বাড়িতে যেয়ে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকবেন। স্থানীয় প্রশাসন তা নিশ্চিত করবে।
২। যাদের করোনার জন্য ভ্যাকসিন নেন নাই, তাদের করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকটে থাকলে ৩ দিনের বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হবে। তাদের দেশে আসার পর আবার করোনা টেষ্ট করা হবে। তাতে নেগেটিভ রিপোর্ট আসলে বাকি ১১ দিন বাড়িতে গিয়ে কোয়ারেন্টিনে থাকবেন। স্থানীয় পুলিশ, প্রশাসন তা নজরদারি করবে।
৩। যাদের করোনার ভ্যাকসিনের একটি ডোজ নেওয়া আছে, কিন্তু ২য় ডোজ নেননি তারা করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকটে থাকলে ৩ দিনের বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। দেশে আসার পর আবার করোনা টেষ্ট করা হবে। তাতে নেগেটিভ রিপোর্ট আসলে বাকি ১১ দিন বাড়িতে গিয়ে কোয়ারেন্টিনে থাকবেন। স্থানীয় পুলিশ, প্রশাসন তা নজরদারি করবে।
৪। সেনা বাহিনী পরিচালিত কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে বিনামূল্যে থাকতে পারবেন প্রবাসীরা। তবে সেখানে খালি না থাকলে হোটলে নিজ খরচে কোয়ারান্টাইনে যেতে হবে।
ওমানঃ আজ ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬ টা থেকে ওমান ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে আসা সকল বিমান প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে ওমান সরকার।
পুর্ব এশিয়ার এসব দেশে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া্র কারণে এবং ওমানে করোনা রোধের অংশ হিসাবে সিওভিড -১৯ মোকাবেলা করার জন্য ওমানের সুপ্রিম কমিটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে বিদেশে আটকে পড়া প্রবাসী কর্মীদের দেশে ফেরাতে বিশেষ ফ্লাইট চালু করা হয়েছে। এসব ফ্লাইটে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীর সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন দেশ থেকে ২৫টি ফ্লাইটে মোট ৮৩৩ জন যাত্রী দেশে ফিরেছেন। এরমধ্যে ৭৪২ জনকে সরকার নির্ধারিত আবাসিক হোটেলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে এবং ৯১ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। গত ১৭ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ১১১টি বিশেষ ফ্লাইটে ৩ হাজার ৮২৬ জন যাত্রী দেশে ফিরলেন। শুরুর দিকে দেশে ফেরা এসব ব্যক্তিকে রাজধানীর দুটি সরকারি প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন সেন্টারে (আঁশকোনা হজ ক্যাম্প ও উত্তরার দিয়াবাড়ি) রাখা হয়েছিল। এই দুটি কোয়ারেন্টিন সেন্টারের ধারণক্ষমতা দুই হাজার। পরে স্থান সঙ্কুলান না হওয়ায় তাদের নিজ খরচে সরকার নির্ধারিত আবাসিক হোটেলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়। শাহজালাল বিমানবন্দরে স্থাপিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হেলথ ডেস্ক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ এপ্রিল থেকে ১১১টি বিশেষ ফ্লাইটে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে- ১৭ এপ্রিল চারটি ফ্লাইটে আসা ৩০ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক ও একজনকে হোম কোয়ারেন্টিনে, ১৮ এপ্রিল ১১টি ফ্লাইটে আসা ২১১ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক ও পাঁচজনকে হোম কোয়ারেন্টিন, ১৯ এপ্রিল ১৩ টি ফ্লাইটে আসা ২৫৪ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক ও ১০ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ২০ এপ্রিল ১৯টি ফ্লাইটে আসা ৪৩৮ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক ও ২৩ জনকে হোম কোয়ারেন্টিন, ২১ এপ্রিল ১৫টি ফ্লাইটের ৮৩৫ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক ও চারজনকে হোম কোয়ারেন্টিন এবং ২২ এপ্রিল ২৪টি ফ্লাইটের এক হাজার ২২৫ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন ও আটজনকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়।
হাজতখানায় স্বামীকে শুকনা খাবারের সঙ্গে মাদকদ্রব্য দিতে গিয়ে ধরা খেলেন স্ত্রী। দিনাজপুরের পুলিশ কোর্টের হাজতখানায় বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) এই ঘটনা ঘটেছে। রুজিনা বেগম রিক্তা নামের ওই নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার স্বামী মিলন রহমান চুরির মামলার আসামি। হাজতখানায় ইয়াবা দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে মাদক আইনে কোতয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেছে।
কোতয়ালি থানার ওসি আবু ইমাম জাফর গণমাধ্যমকে জানান, একটি চুরি মামলার আসামি মিলন রহমান (২৭) পুলিশ কোর্টের হাজতখানায় নিয়ে আসা হয়। এ সময় তার স্ত্রী রুজিনা বেগম রিক্তা শুকনা খাবার দেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে যান। হাজতখানায় ডিউটিতে থাকা পুলিশ ওই শুকনা খাবার দিতে না চাইলে রুজিনা কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক শফিকুল ইসলামের কাছে যান এবং তার স্বামীকে খাবার দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। এ সময় শুকনা খাবারগুলো যাচাই করতে গিয়ে তার মধ্যে ১৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যাওয়া। ওসি আরও জানান, এই ঘটনায় রুজিনাকে ডিবি পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়। ডিবি পুলিশের এসআই আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে কোতয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। রুজিনাকে দুপুর আড়াইটার দিকে সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসলমাইল হোসেনের আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক তার জবানবন্দি গ্রহণ করে বিকেল ৪টায় জেলহাজতে প্রেরণ করেন।
ডিবি পুলিশের একটি সূত্র জানায়, রুজিনা বিচারকের কাছে স্বীকারোক্তিতে বলেছেন, তার স্বামী মিলন দীর্ঘদিন থেকে মাদক সেবন করেন। মাদক সেবন না করলে তিনি অস্থির হয়ে পড়েন। এতে তার শরীরে নানা ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়। স্বামীর সঙ্গে বৃহস্পতিবার হাজতখানায় দেখা করলে যেখান থেকে হোক ইয়াবা ট্যাবলেট সংগ্রহ করে দিতে বলে।
মালয়েশিয়ায় পুলিশ পরিচয়ে ঘরে ঢুকে ৫ বাংলাদেশিকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করেছে ডাকাতরা। আহতদের মধ্যে রাকিবুল ইসলাম নামে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে কুয়ালালামপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া মোহাম্মদ বাদশা বিশ্বাস , ফয়সাল, রফিকুল ইসলাম ও আতিকুর রহমান নামে বাকি চারজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় দেশটির পুলিশ ডাকাত দলের দুই সদস্যকে আটক করেছে। গত শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ১১ টার দিকে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে এই ঘটনা ঘটে।
♦জাকাত প্রদানের মাধ্যমে সম্পদ পবিত্র হয়, আত্মা পরিশুদ্ধ হয় এবং সম্পদে বরকত হয় ও মনে প্রাচুর্যের অনুভূতি তৈরি হয়।
♦জাকাত একটি নির্ধারিত ফরজ ইবাদত। আল কোরআনে নামাজের নির্দেশ যেমন ৮২ বার রয়েছে, অনুরূপ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জাকাতের নির্দেশনাও রয়েছে ৮২ বার। ‘জাকাত’ শব্দ দ্বারা ৩০ বার, ‘ইনফাক’ শব্দ দ্বারা ৪৩ বার এবং ‘সদাকা’ শব্দ দ্বারা ৯ বার।
♦জাকাত ও সদকাতুল ফিতর ব্যয়ের আটটি খাত কোরআন মাজিদে উল্লেখ রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মূলত সদকাত হলো ১.ফকির, ২.মিসকিন, ৩.জাকাত কর্মী, ৪.অনুরক্ত ব্যক্তি ও নওমুসলিম, ৫.ক্রীতদাস, ৬.ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি, ৭.আল্লাহর পথে জিহাদকারী ও ৮.বিপদগ্রস্ত বিদেশি মুসাফির ও পথ-সন্তানদের জন্য। এটি আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞানী ও পরম কৌশলী।’ (সুরা-৯ তওবা, আয়াত: ৬০)।
উক্ত আটটি খাতের মধ্যে সময়ের প্রয়োজন ও ফলাফল বিবেচনা করে নিকটাত্মীয়, প্রতিবেশী ও অন্যদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। এতে জাকাত ফিতরা আদায় হওয়ার পাশাপাশি নিয়ত অনুযায়ী ক্ষেত্রবিশেষ সওয়াবের পরিমাণও বাড়বে।
♦জাকাত গরিবের পাওনা বা অধিকার এবং দাতার নাজাত ও জান্নাতের মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মুত্তাকিরা জান্নাতে ফোয়ারার নিকটে থাকবে। তারা গ্রহণ করবে, যা তাদের পালনকর্তা তাদের দেবেন। নিশ্চয়ই ইতিপূর্বে তারা ছিল সৎকর্মপরায়ণ, তারা রাত্রির সামান্য অংশেই নিদ্রা যেত, রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমাপ্রার্থনা করত এবং তাদের ধনসম্পদে ছিল প্রার্থী ও বঞ্চিতের হক বা ন্যায্য অধিকার।’ (সুরা-৫১ জারিয়াত, আয়াত: ১৫-১৯)।
পরিকল্পিতভাবে জাকাত প্রদান করলেই সমাজ, দেশ, জাতি ও রাষ্ট্র এবং বিশ্ব দারিদ্র্যমুক্ত হবে। জাকাত দারিদ্র্য বিমোচন করে ও সম্পদের প্রবাহ তৈরি করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যাতে তোমাদের বিত্তবানদের মাঝেই শুধু সম্পদ আবর্তন না করে।’ (সুরা-৫৯ হাশর, আয়াত: ৭)
জাকাত যাঁদের দেওয়া যায় না:-
তাঁরা হলেন পিতা-মাতা ও ঊর্ধ্বতন পুরুষ, ছেলেমেয়ে ও অধস্তন পুরুষ, ধনী লোক যারা নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক, সাইয়্যেদ অর্থাৎ হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রকৃত বংশধর এবং অমুসলিম।
জাকাতের সামাজিক সুফল:- যেমন: (ক) অর্থের প্রবাহ বা সঞ্চালন: জাকাত প্রদান করলে নগদ অর্থ হাত বদল হয়, সম্পদে গতিশীলতা আসে, প্রচুর লোক ক্রয়ক্ষমতা অর্জন করে, চাহিদা বা ভোক্তা সৃষ্টি হয়। ক্রেতা সৃষ্টি হলে উৎপাদন বৃদ্ধি হয়, শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠা হয়, কর্মসংস্থান হয়। ফলে জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হয়।
(খ) দারিদ্র্য বিমোচন:
সঠিকভাবে জাকাত প্রদান করলে সমাজের দারিদ্র্য দূরীভূত হয়, অপরাধপ্রবণতা কমে এবং আর্থসামাজিক বিপর্যয় থেকে জাতি রক্ষা পায়। সর্বোপরি সুদের অভিশাপ থেকে মুসলমানগণ রক্ষা পায়।
(গ) মানবিক উন্নয়ন: জাকাত আদায়ের মাধ্যমে খাই খাই মানসিকতার অবসান হয়, দাতার তালিকায় নাম ওঠে ও আত্মসম্মানবোধের সৃষ্টি হয়। এতে ধনী–গরিবের বিভেদ দূর হয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ভালোবাসা সম্প্রীতি তৈরি হয়, সহমর্মিতা ও সামাজিক নিরাপত্তাবলয় গঠিত হয়।
তবে “সিএনএন ইন্টারন্যাশনাল” পোর্টাল থেকে জানানো হয় – সাবমেরিনসহ ৫৩ জন নাবিকের সন্ধ্যান পাওয়া গেছে। এছাড়া ইন্দোনেশিয়ান নৌবাহিনীর চিফ অফ স্টাফ ‘ইয়ুডো মারগোনো’ আজ শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ জানিয়েছেন। ♥
(মানে বুধাবারে হারিয়েছিলো আজ শনিবারে পাওয়া গেছে, তিন দিন পর)
ইন্দোনেশিয়াতে নাবিকদের এবং পরিবারের পক্ষে জাতীয় ট্র্যাজেডি হতে পারে বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
ঢাকার আরমানিটোলার মুসা ম্যানসনের অগ্নিকাণ্ডে নিহত চারজনের মধ্যে দুজনের বাড়ি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৮নং পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের খুরুমখালী গ্রামে।
শনিবার সরেজমিন ওই গ্রামের গনি মেম্বারের বাড়ির অলি উল্ল্যার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় সর্বত্র সুনশান নীরবতা। বাড়ির প্রবেশ পথেই গোরস্থানে দুটি নতুন কবর। একটি অলিউল্যাহর ও অপরটি তার ভাগ্নে রাসেলের।
অলি উল্যাহর ছোট ছেলে সারাফত উল্ল্যাহ রিয়াদ জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টা দিকে তার বাবা ও ফুফাতো ভাই রাসেলের মরদেহ বাড়িতে আসে। পরে রাত সাড়ে ১২টায় জানাজা শেষে উভয়কে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
রিয়াদ জানান, সর্বশেষ রোজা শুরু হওয়ার সপ্তাহখানেক আগে বাড়ি এসেছিলেন তার বাবা। রোজা শুরুর তিনদিন আগে কাজের টানে ঢাকা চলে যান। শুক্রবার ভোরে সেহরীর সময় অগ্নীকাণ্ডের কিছুক্ষণ পর তারা খবর পান ওই ভবনে আগুন লেগেছে। তার বাবার মোবাইল ফোনে বারবার কল করলেও তা রিসিভ করেননি। তার বাবার মরদেহ সকলের পরে পাওয়া যায়। তাকে মুসা ম্যানসনের ছাদের একটি কক্ষে কবির নামে একজনের সঙ্গে পোড়া অবস্থায় উদ্ধার করে লোকজন।
রিয়াদ জানান, কর্মের টানে তার বাবা অলি উল্ল্যাহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েত যান। সেখানে কয়েক বছর চাকরি করার পর ১৯৯২ সালে ইরাক যুদ্ধের সময় দেশে চলে আসেন। পরে এলাকায় দুবার দোকান দিলেও ব্যবসায় লোকসান গুনে তা বন্ধ করে দেন। প্রায় ৮/১০ বছর আগে তার বোন জামাই দেলোয়ার ও ভাগ্নে রাসেলের সূত্র ধরে ঢাকার আরমানিটোলার মুসা ম্যানসনে নিরাপত্তা কর্মীর চাকরি নেন।
অন্যদিকে অলি উল্ল্যার ভাগ্নে রাসেলও গত প্রায় ১১ বছর ধরে মুসা ম্যানসনে নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে চাকরি করতেন। সর্বশেষ ২০/২২ দিন আগে রাসেল বাড়ি ফেরেন।
এসময় কয়েকদিন থেকে চলে যান। ৫ বছর আগে তিনি বিয়ে করেন পার্শ্ববর্তী ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার কেরোয়া গ্রামের পাটওয়ারী বাড়িতে। তার তিন বছর বয়সী রাইসা ও ৬ মাস বয়সী নাফিসা নামে দুইটি মেয়ে রয়েছে।
রাসেলের বাড়িতে গেলে দেখা যায় মৃত্যুর সংবাদ শুনে লোকজন ভিড় করেছে। রাসেলের মা নুরজাহান বেগম ছেলে রাসেল ও ভাই অলি উল্যাহকে হারিয়ে শোকে কাতর হয়ে পড়েছে। লোকজন দেখলেই তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে।
রাসলের বাবা দেলোয়ার হোসেন জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে আরমানিটোলার মুসা ম্যানসনের পাশে ছোট দোকান করে বিকিকিনি করতেন। মুসা ম্যানসন তৈরির পর ১১ বছর আগে তিনি অসুস্থতার কারণে মুসা ম্যানসনের মালিক মোস্তাক আহমেদকে ধরে ছেলে রাসেলকে নিরাপত্তাকর্মীর চাকরি দেন। পরে তিনি এলাকায় এসে নিজে বাড়ির সামনে দোকান দিয়ে বসেন।
তিনি বলেন, ছোট ছোট শিশু দুইটি কিভাবে তাদের বাবার অভাব পূরণ করবে। কিভাবে চলবে আমার সংসার। জানি না, পর করুণাময় কেন আমার পরিবারের প্রতি এত নির্দয় হলো।
তিনি জানান, মুসা ম্যানসনে আগুন লাগার পর সেখান থেকে কয়েকজন পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে তাকে মোবাইল ফোনে কল করে আগুনের কথা জানান। পরে তিনি রাসেলের মোবাইল ফোলে কল করলেও কেউ তা রিসিভ করেননি। সুত্রঃ যুগান্তর ।