ক্যাটাগরি Uncategorized

দেশে,করোনা শনাক্ত আরও বাড়ল, মৃত্যু ৬

রোববার, ১২ ডিসেম্বর ২০২১, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ২৮ জনে।

রোববার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৩২৯ জনের শরীরে করোনা ধরা পড়েছে। এ নিয়ে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৭৯ হাজার ৩২৫ জনে। 

দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত বছরের ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই বছর সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছিল ৬৪ জনের। 

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় চলতি বছর জুন থেকে রোগীর সংখ্যা হু-হু করে বাড়তে থাকে। ২৮ জুলাই একদিনে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। 

চলতি বছরের গত ৭ জুলাই প্রথমবারের মতো দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৫ ও ১০ আগস্ট ২৬৪ জন করে মৃত্যু হয়, যা মহামারির মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। 

বেশকিছু দিন ২ শতাধিক মৃত্যু হয়। এরপর গত ১৩ আগস্ট মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ এর নিচে নামা শুরু করে। দীর্ঘদিন শতাধিক থাকার পর গত ২৮ আগস্ট মৃত্যু ১০০ এর নিচে নেমে আসে।

২০২০ সালের এপ্রিলের পর চলতি বছরের ১৯ নভেম্বর প্রথম করোনাভাইরাস মহামারিতে মৃত্যুহীন দিন পার করে বাংলাদেশ।সর্বশেষ দ্বিতীয়বারের মতো গেল বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) মৃত্যুশূন্য দিন পার করেছে দেশ। 

আজ রাতে তুরস্কে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

শনিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২১, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০৬ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে একটি পার্ক হচ্ছে। সেটি উদ্বোধন করতে শনিবার (১১ ডিসেম্বর) রাতে দুই দিনের সফরে দেশটিতে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। শুক্রবার (১০ ডিসেম্বর) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই। তিনি বলেন, ‘কালকে যাবার কথা। ছোট একটা সফর। সফরটা দুই দিনের হবে। তুরস্কে বঙ্গবন্ধুর নামে একটি পার্ক করা হয়েছে, সেটি উদ্বোধন করতে যাব।’

তুরস্ক সফরকালে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসুগ্লুর সঙ্গে বৈঠক হতে পারে ড. মোমেনের।
জানা যায়, তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে একটি আবক্ষ ভাস্কর্য ও একটি উদ্যান গড়ে তোলা হয়েছে। আগামী সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) পার্কটি উদ্বোধন করা হবে।
করোনা মহামারির মধ্যে গত বছরের সেপ্টেম্বরে তুরস্ক সফর করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেই সফরে তুরস্কের আঙ্কারায় বাংলাদেশ মিশনে ‘বাংলাদেশ ভবন’ উদ্বোধন করেন ড. মোমেন।

পাকিস্তানে ৪ নারীকে বিবস্ত্র করে ঘোরানো হলো বাজারে

শনিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২১, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০৬ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

চোর সন্দেহে পাকিস্তানে চার নারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তা–ই নয়, তাঁদের বিবস্ত্র করে বাজারে ঘোরানো ও ভিডিও ধারণও করা হয়েছে। গত সোমবার পাঞ্জাব প্রদেশের ফয়সালাবাদ শহরের বাওয়া চকবাজারে এ ঘটনা ঘটে। খবর দ্য ডনের।

এ ঘটনায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী নারীদের একজন। মামলার নথি থেকে জানা যায়, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই ৪ নারী ময়লা কুড়াতে বের হন। একপর্যায়ে পিপাসা পেলে তাঁরা বাওয়া চকবাজারের একটি দোকানে ঢোকেন। সেখানে গিয়ে পানি চাইলে দোকানের মালিক অভিযোগ আনেন, তাঁরা দোকানে চুরির উদ্দেশ্যে এসেছেন। একপর্যায়ে দোকানমালিকের চিৎকারে আশপাশের লোকজন সেখানে জড়ো হন।

ওই নারী অভিযোগ করেন, স্থানীয় লোকজন তাঁদের বিবস্ত্র করে বাজারের ভেতরে ঘোরান। এ সময় তাঁদের মারধর করা হয়। এমনকি বিবস্ত্র অবস্থায় ভিডিও ধারণও করা হয়। পরে চার নারীর পরিবারের সদস্য ও কয়েক পথচারীর অনুরোধে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

মামলায় বাদী বলেন, ‘মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আমাদের বিবস্ত্র করে বাজারে ঘুরিয়ে ও নির্যাতন করে চরম অবিচার করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।’

এদিকে সোমবারের ঘটনার পর পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফয়সালাবাদের পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবিদ খান। গতকাল মঙ্গলবার ডনকে তিনি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলছে। দোষী ব্যক্তিদের কঠিন শাস্তির মুখোমুখি করা হবে।

মালিতে বোমা হামলায় জাতিসংঘের ৭ শান্তিরক্ষী নিহত।

বৃহস্পতিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০৪ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে বোমা বিস্ফোরণে প্রাণ গেছে শান্তিরক্ষী বাহিনীর ৭ সদস্যের। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ৩ জন। গতকাল বুধবার (৮ ডিসেম্বর) মালির মধ্যাঞ্চলীয় এলাকায় রাস্তার পাশে পুঁতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে হতাহতের এই ঘটনা ঘটে বলে এক প্রতিদেনে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিচ নিশ্চিত করেছেন এ তথ্য। নিহতরা সবাই টোগোর নাগরিক। ভারি অস্ত্রসহ একটি সামরিক গাড়িতে করে যাচ্ছিলেন শান্তিরক্ষীরা। সেসময়ই ঘটে হামলার এ ঘটনা। দেশটিতে হামলায় চলতি বছর এই নিয়ে ১৯ শান্তিরক্ষীর মৃত্যু হলো।
জাতিসংঘ বলছে, এ বছর এটাই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। ২০১২ সাল থেকে জঙ্গি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করে যাচ্ছে মালি। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর প্রায় ১৬ হাজার ৬শ’ সদস্য কাজ করছে মালিতে।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিচ বলেন, এই জঘন্যতম হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন মহাসচিব। মালি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে হামলাকারীরা দ্রুত চিহ্নিত হয়। আর তাদের বিচারের মুখোমুখি করা যায়।
আফ্রিকা মহাদেশের অন্যতম বৃহৎ দেশ মালি খুবই দরিদ্র। ফ্রান্সের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী গত ৯ বছর ধরে দেশটিকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা করলেও অভ্যন্তরীণ সহিংসতা মোকাবিলায় মালি এখনও কার্যত সংগ্রাম করে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে মালিতে শান্তি ফেরানোর দায়িত্ব নেয় জাতিসংঘ। আফ্রিকার এই দেশটিতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনটি ‘মিনুজমা’ নামে পরিচিত। এই মিশনের আওতায় মালিতে বর্তমানে ১৩ হাজারেরও বেশি শান্তিরক্ষী মোতায়েন রয়েছে।
মালির উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীদের সহিংসতা ও সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যেই কাজ করছেন শান্তিরক্ষীরা। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, দায়িত্বপালন করতে গিয়ে ২০১৩ সাল থেকে দেশটিতে ২৩০ জনের বেশি শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন। সূত্র : আল জাজিরা

ভয়াবহ ধূলিঝড়ের কবলে মিসর

বৃহস্পতিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০৪ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

ভয়াবহ ধূলিঝড়ের কবলে পড়েছে মিসরের বিশাল এলাকা। গতকাল (৮ ডিসেম্বর) বুধবার কয়েক মিনিটের ধূলিঝড়ে অন্ধকারে ঢেকে যায় রাজধানী কায়রো।
অন্তত ৫ মিটার এলাকার মধ্যে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। এ সময় রাস্তায় থমকে যায় যানবাহন। বড় বড় রাস্তাগুলোয় গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, ভূমধ্যসাগরীয় এলাকায় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬৫ কিলোমিটার। এর কারণে দিনভর মেলেনি সূর্যের দেখা। বিভিন্ন রাজ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয় স্কুলসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয় বেশ কয়েকটি বন্দরেও। সূত্র : আল জাজিরা

চিলিতে সমলিঙ্গ বিয়ে নিয়ে বিল পাস

বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০৩ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

চিলিতে সমলিঙ্গ বিয়ে আইনি স্বীকৃতি পেতে চলেছে। চিলির কংগ্রেসে বিপুল ভোটে এই বিল পাস হয়েছে। এমনিতে চিলি ল্যাটিন আমেরিকার রক্ষণশীল দেশ। কিন্তু সেখানে সমানাধিকার নিশ্চিত করতে এই বিল পাস হলো বলে জানানো হয়েছে।

চিলির সিনেট ও নিম্নকক্ষ দুই জায়গাতেই বিপুল ভোটে এই বিল পাস হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এর ফলে সমলিঙ্গ বিয়ে নিয়ে দীর্ঘদিনের দাবিপূরণ হলো। রামন লোপেজ সংবাদসংস্থা এএফপিকে বলেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই আইনের জন্য অপেক্ষা করছেন, যাতে তিনি তার ২১ বছরের সঙ্গীকে বিয়ে করতে পারেন। লোপেজ বলেছেন, ”এটা অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ আইন। এর ফলে অনেক কুসংস্কার ভাঙবে।” ভোটাভুটির পরে চিলির সামাজিক উন্নয়নমন্ত্রী কার্লা রুবিলার বলেছেন, ”সমানাধিকার ও ন্যায়বিচার দেয়ার ক্ষেত্রে আমরা আরো এক পা এগোতে পারলাম।”

রক্ষণশীল চিলির কাছে এটা ঐতিহাসিক বিল। সাবেক প্রেসিডেন্ট ২০১৭ সালে প্রথম এই উদ্যোগ নেন। বর্তমান প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান পিনেরা এই বিলের সমর্থক। মার্চে তার পদে থাকার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তার আগেই তিনি এই বিলে সই করবেন বলে মনে করা হচ্ছে। বিলে বলা হয়েছে, যারা সমলিঙ্গে বিয়ে করবেন, তারা ভিন্ন লিঙ্গে বিয়ে করা দম্পতির সমান অধিকার পাবেন। চিলির সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হওয়ার ৯০ দিন পরে আইন চালু হবে। বিলে আরো বলা হয়েছে, সমলিঙ্গ বিয়ে করলে যদি তাদের আগে বাচ্চা থাকে, তাহলে তারাও আইনি স্বীকৃতি পাবে। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, উরুগুয়ের মতো ২০টিরও বেশি দেশে সমলিঙ্গ বিয়ে আইনসঙ্গত। এবার চিলিতেও তা স্বীকৃতি পাচ্ছে।

চিলিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আসন্ন। সেখানে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন প্রগতিশীল গ্যব্রিয়েল বরিক ও রক্ষণশীল জোস কাস্ট। চিলির সমাজ এমনিতে রক্ষণশীল হলেও অধিকাংশ মানুষ সমলিঙ্গ বিয়ের পক্ষে। রক্ষণশীল প্রার্থী কাস্ট জানিয়েছেন, তিনি প্রেসিডেন্ট হলে বিল পাস করতেন। সম্প্রতি চিলিতে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়ে রক্ষণশীলতার বাইরে বেরোবার একটা প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সূত্র: এএফপি, রয়টার্স।

নাগাল্যান্ডের ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে মিলছে না পুলিশের রিপোর্ট

বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০৩ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

মঙ্গলবার ভারতের সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নাগাল্যান্ডের ঘটনা নিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। সেখানে কার্যত সেনার গুলি চালানোর কৈফিয়ত দিয়েছেন তিনি। শাহ বলেছেন, সেনা খনি শ্রমিকদের গাড়ি থামাতে বলেছিল, তারা তা না থামানোয় সেনা গুলি চালাতে বাধ্য হয়। কারণ, সেনার কাছে জঙ্গি কার্যকলাপের খবর ছিল। সে কারণেই কম্যান্ডোরা ওই অঞ্চলে অভিযান চালানোর জন্য পৌঁছেছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে মিলছে না নাগাল্যান্ড পুলিশের দেয়া প্রাথমিক রিপোর্ট। প্রশ্ন উঠছে, সেনার কথা মতো যদি খনি শ্রমিকদের গাড়ি না দাঁড়াতো, তাহলে গাড়ির পিছনে গুলি করার কথা ছিল সেনার। কিন্তু বাস্তবে খনি শ্রমিকদের গাড়ির সামনে গুলি লেগেছিল। অর্থাৎ, সামনে থেকে গুলি চালিয়েছিল কম্যান্ডোরা। শুধু তাই নয়, খনি শ্রমিকরা সেনার উপর আক্রমণ চালিয়েছিল বলে যে কথা সেনা সূত্রে বলা হচ্ছে, তারও কোনো প্রমাণ মেলেনি বলে নাগাল্যান্ড পুলিশের দাবি।

প্রশ্ন এখানেই শেষ নয়। কম্যান্ডোরা যে গাড়ি নিয়ে নাগাল্যান্ডে গিয়েছিল, তা আসামের গাড়ি বলে জানা গেছে। সেনা আসামের গাড়িতে ভুয়া নম্বরপ্লেট লাগিয়ে সেখানে পৌঁছেছিল বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। কেন সেনা নিজেদের গাড়ি ব্যবহার না করে, আসামের গাড়িতে ভুয়া নম্বর প্লেট লাগিয়ে সেখানে পৌঁছালো, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। নাগাল্যান্ডের নাগরিক সমাজের একাংশ দ্রুত ঘটনার তদন্তের আর্জি জানিয়েছে এবং অভিযুক্ত সেনা অফিসারদের নাম প্রকাশের দাবি জানিয়েছে।

পুলিশের কাছে প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ জানিয়েছেন, গুলির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা দেখেন কম্যান্ডোরা নিহত শ্রমিকদের জামা বদলানোর চেষ্টা করছে। যদিও পুলিশের প্রাথমিক রিপোর্টে এ বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই। নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেফিউ রিও রাজ্য থেকে আফস্পা প্রত্যাহারের দাবি তুলেছেন। একই সঙ্গে তিন আইপিএস অফিসারকে নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি তৈরি করা হয়েছে। নাগাল্যান্ডের সবচেয়ে বড় উৎসব হর্নবিলও মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুধু নাগাল্যান্ডে নয়, গোটা দেশেই নাগাল্যান্ডের ঘটনা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপি বিরোধী দলগুলিও অমিত শাহের বিবৃতি নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে নাগাল্যান্ডের কন্যাক জনজাতি সংগঠন রাষ্ট্রপতির কাছে একটি স্মারকলিপি পাঠিয়েছে। তাতে কয়েকটি দাবি করা হয়েছে। ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে। অভিযুক্ত কম্যান্ডোদের নাম প্রকাশ করতে হবে। সূত্র: পিটিআই।

আল-আকসায় ইসরাইলি নেতার সফর যেভাবে দ্বিতীয় ইন্তিফাদার সূচনা করেছিল

সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ৩০ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

ফিলিস্তিনিদের দ্বিতীয় ইন্তিফাদার সূচনা হয় আল-আকসায় অ্যারিয়েল শ্যারনের সফরের পর। অ্যারিয়েল শ্যারন ছিলেন ইসরাইলের সবচেয়ে বিতর্কিত এক রাজনীতিক। ২০০০ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নিলেন, তিনি আল আকসা মসজিদ সফরে যাবেন।

জেরুসালেমের পুরনো অংশে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ ইসলামের পবিত্রতম স্থানগুলোর একটি। ফিলিস্তিনিদের কাছে এটি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আল-আকসার অবস্থান এমন এক জায়গায়, যার ঠিক পাশেই আবার ইহুদীদের পবিত্রতম এক জায়গা টেম্পল মাউন্টের অবস্থান। এই পুরো কম্পাউণ্ডটি মুসলিম, ইহুদী এবং খ্রিস্টান- এই তিন ধর্মের মানুষের কাছেই খুব পবিত্র এবং স্পর্শকাতর এক জায়গা। জেরুসালেম নিয়ে যে শত শত বছরের লড়াই, তার কেন্দ্রে কিন্তু এই ধর্মীয় তীর্থগুলো, কে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করবে, সেই প্রশ্ন।

কাজেই, ইসরাইলের বিরোধী দল লিকুদ পার্টির তৎকালীন নেতা মিস্টার শ্যারনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মারাত্মক উদ্বেগ তৈরি হলো। সবাই এটিকে খুবই উস্কানিমূলক এক সিদ্ধান্ত বলে বর্ণনা করলেন এবং এটি ফিলিস্তিনিদের মারাত্মকভাবে ক্ষুব্ধ করে তুললো। এরিয়েল শ্যারন আল-আকসা কম্পাউন্ড সফর করলেন কড়া নিরাপত্তায়। কিন্তু তার এই পদক্ষেপের পর বিক্ষুব্ধ ফিলিস্তিনিরা হাজারে হাজারে রাস্তায় নেমে আসে এবং পুরো ফিলিস্তিনি অঞ্চল জুড়ে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এটি ছিল ফিলিস্তিনিদের দ্বিতীয় ইন্তিফাদা।

বলা হয়ে থাকে অ্যারিয়েল শ্যারনের আল-আকসা সফরই আসলে দ্বিতীয় ইন্তিফাদার জন্য দায়ী। তার সফরটি একটি মারাত্মক উস্কানি হিসেবে কাজ করেছে। একজন ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারী সেদিন বলেছিলেন, “তিনি হচ্ছেন একজন উস্কানিদাতা। তিনি এবং তার সঙ্গে আর যারা যোগ দিয়েছেন তারা সবাই। তিনি এখানে এসেছেন আমাদের এই এলাকা থেকে নিষিদ্ধ করতে। আল আকসা একটি ইসলামী তীর্থ। আল আকসা ফিলিস্তিনিদের জায়গা।”

অ্যারিয়েল শ্যারন অবশ্য দাবি করেছিলেন, তিনি সেখানে গিয়েছিলেন শান্তির বার্তা নিয়ে। তিনি বলেছিলেন, “ইহুদী জনগণের কাছে খুবই পবিত্র এক স্থানে আমি এসেছি। আমি এসেছি তাদের অনুভূতির কথা জানতে। একথা জানতে, কিভাবে আমরা বর্তমান সমস্যা থেকে সামনে আগাতে পারি। উস্কানি দেয়ার জন্য আমি এখানে আসিনি। উস্কানি যেটা, সেটা অন্যপক্ষ থেকে।”

গোলযোগের আশংকায় সেদিন সকাল থেকেই আল-আকসা মসজিদের চারপাশ ছিল শত শত পুলিশে সয়লাব। পুলিশ কার্যত আল আকসা মসজিদ বন্ধ করে দেয়, এমনকি যারা ফজরের নামাজ পড়তে এসেছিল, তাদেরও মসজিদের ভেতর আটকে রেখেছিল পুলিশ। খালিদ সিগারি একজন ফিলিস্তিনি ক্যামেরাম্যান, তিনি তখন কাজ করেন রয়টার্স বার্তা সংস্থার সঙ্গে। সেদিন খুব ভোরেই দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি চলে যান আল-আকসায়। “শ্যারন, মসজিদে আসার দু ঘণ্টা আগে থেকে আমি মসজিদের ভবনের ভেতরেই অপেক্ষা করছিলাম। শ্যারনের নিরাপত্তা টিমের সদস্যরা এবং ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী তখন সব কিছু স্ক্যান করছে, নিরাপত্তা তল্লাশি চালাচ্ছে, শ্যারন যাতে নিরাপদে সেখানে যেতে পারেন তার জন্য সবকিছু ঠিক আছে কিনা দেখছে।”

সারি সারি পুলিশ তখন মসজিদের চারপাশ ঘেরাও করে পাহারা দিচ্ছে। সেখানে যেন কেউ নামাজ পড়তে না পারে, এবং মসজিদ থেকে যেন কেউ বেরুতে না পারে, তারা সেটা দেখছিল। খালিদ সিগারি পুলিশের সঙ্গে বাদানুবাদের পর মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেন। অ্যারিয়েল শ্যারন এবং তার ২০ জন সমর্থক তখন জেরুসালেমের পুরোনো অংশের সরু ঘোরানো রাস্তা ধরে উপরে উঠছেন। তারা ওয়েলিং ওয়াল বা ওয়েস্টার্ন ওয়াল পেরিয়ে এগুতে শুরু করলেন আল-আকসা মসজিদের দিকে।

যালমান শোভাল হচ্ছেন ওয়াশিংটনে ইসরাইলের সাবেক রাষ্ট্রদূত। সেদিন আল-আকসা সফরে তিনি অ্যারিয়েল শ্যারনের সঙ্গী হয়েছিলেন। “আমরা যখন ওয়েস্টার্ন ওয়ালের কাছে পৌঁছলাম, যেটা আসলে টেম্পল মাউন্ট, তখন সেখানে কয়েকটি প্রার্থনা চলছিল। তারা আমাদের দেখে উল্লাস করছিল, আমাদের করতালি দিয়ে সমর্থন জানাচ্ছিল। অবশ্যই সেখানে কিছুটা উত্তেজনা ছিল, তবে খুব বেশি নয়।”

এর আগের সপ্তাহেই লিকুদ পার্টির এক বৈঠক শেষে আল-আকসা মসজিদে অ্যারিয়েল শ্যারনের এই বিতর্কিত সফরের কথা জানানো হয়েছিল। মিস্টার শোভাল সেই বৈঠকেও ছিলেন। তখনই তিনি মিস্টার শ্যারনের সঙ্গী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেদিন লিকুদ পার্টির সভায় নানা গুজব ভেসে বেড়াচ্ছিল। সভার শুরুতে মিস্টার শ্যারন তার আল-আকসা সফর সম্পর্কে কিছুই জানাননি।

যালমান শোভেল জানান, “হঠাৎ তিনি উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, হ্যাঁ, এরকম একটা কাজ আমরা করতে যাচ্ছি। কেউ যদি তার সঙ্গে যোগ দিতে চান, তিনি খুশি হবেন। আমাদের অনেকেই তার সঙ্গে যোগ দিতে চেয়েছি, কিন্তু তিনি কিন্তু বলেননি, আমাদেরকে তার সঙ্গে যেতে হবে। আমরা সবাই স্বেচ্ছায় গিয়েছি।” অ্যারিয়েল শ্যারনের এই পদক্ষেপ যে ফিলিস্তিনিরা একটা মারাত্মক উস্কানি হিসেবে দেখবে, এটা কি তাদের একবারও মনে হয়নি?

“এটা হয়তো মনে হয়েছিল। কিন্তু আপনাকে মনে রাখতে হবে, এখানে আরেকটা দিক আছে। কিছু আরব, বা বিশেষ করে কিছু মুসলিমের কাছে তো সেখানে ইহুদীদের উপস্থিতিটাই এক বিরাট উস্কানি। কাজেই ‌এখানে একটা যুক্তি ছিল-সেটা হচ্ছে, দেখ আমরা তোমাদের ধর্মীয় আচারে কোন বাধা দিচ্ছি না, মাথা গলাচ্ছি না, তোমরাও আমাদের ধর্মীয় আচার নিয়ে মাথা গলাতে যেও না। তোমরা যা করছো আমরা তার প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল।

”ইসরাইলি সরকারতো এমনকি টেম্পল মাউন্টে ইহুদীদের দলবদ্ধ সংগঠিত প্রার্থনা পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু আমরা যদি সেই জায়গাটা পরিদর্শনে যাই, সেটাতে হস্তক্ষেপ করতে এসো না।” কিন্তু অ্যারিয়েল শ্যারনের এই কাজটি ছিল একটা রাজনৈতিক চাল। ইসরাইলি এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে যে শান্তি আলোচনা চলছিল, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও সেটা ভেঙ্গে গিয়েছিল।

এরকম এক অগ্নিগর্ভ সময়ে অ্যারিয়েল শ্যারন আল-আকসা কম্পাউন্ডে ঢুকলেন। ফিলিস্তিনি ক্যামেরাম্যান খালিদ সিগারি তখন তার ছবি ধারণ করার জন্য ক্যামেরা কাঁধে ছোটাছুটি করছেন। “আমি তখন এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়াচ্ছি, দেখতেই পাচ্ছেন আমার ক্যামেরায় তোলা ভিডিওগুলো বেশ কাঁপা হাতে ধারণ করা। আপনি হয়তো কণ্ঠগুলো শুনতে পাচ্ছেন। আমাকে মাঝে মধ্যে তার দেহরক্ষী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা এসে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিচ্ছিল।

”ওরা আমাদেরকে মিস্টার শ্যারনের কাছ থেকে দূরে রাখতে চাইছিল। কারণ তারা ভয় পাচ্ছিল মিস্টার শ্যারনের কিছু একটা হতে পারে। কিছু লোক তার কাছাকাছি পর্যন্ত যেতে পেরেছিল। শ্যারনের বিরুদ্ধে তারা শ্লোগান দিচ্ছিল। উনার মুখের ভিডিও ধারণ করা কঠিন হচ্ছিল। কারণ তাকে ঘিরে রাখা হয়েছিল কড়া নিরাপত্তায়। শ্যারনের যে বিখ্যাত ফ্রেমটি, বিখ্যাত ছবিটি আপনারা দেখেন, সেটি তার একটি ক্লোজ আপ, তবে তার মুখ প্রায় আড়াল করে রেখেছে তার দেহরক্ষী,” বলেন খালিদ সিগারি।

মিস্টার শ্যারন এবং তার দলবল সেদিন বেশ সতর্ক ছিলেন যেন তারা খোদ আল-আকসা মসজিদে না ঢোকেন। ইসরাইলি সরকারের সঙ্গে এক বিষয়ে আগেই তাদের একটা সমঝোতা হয়েছিল। তবে যালমান শোভেলের মতে, ফিলিস্তিনিরা প্রতিবাদ শুরু করার পরেই কেবল বিষয়টা তিক্ততার দিকে গড়িয়েছিল। “প্রথমে, আমাকে বলতেই হচ্ছে, সবকিছু শান্তিপূর্ণভাবেই হচ্ছিল। সেখানে অবশ্যই কিছু আরব ছিল। কিন্তু আমরা আমাদেরকে নিয়েই ছিলাম, ওরা ওদের মতো ছিল। আমার যতদূর মনে পড়ে, এক আরব লোকের সঙ্গে বেশ একটা হাস্যরসাত্মক সাক্ষাতের ঘটনাও সেখানে ঘটেছিল।

”মোটামুটি বয়স্ক এক আরব লোক, একদম সাদা পোশাক পরা, আমার কাছে এসে বললো, তুমি জানো, আমিও কিন্তু ওয়াশিংটনে থাকতাম, সেখানে তোমার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। তখন আমরা ওয়াশিংটনে আমাদের অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করতে শুরু করলাম। কিন্তু সব কিছু নাটকীয়ভাবে পাল্টে গেল যখন ইসরাইলি পার্লামেন্টের একজন আরব সদস্য বিক্ষোভে উস্কানি দিতে লাগলেন। তিনি অনেক ধরনের উস্কানিমূলক বিবৃতি দিচ্ছিলেন। তখন থেকেই আসলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে শুরু করলো।”

অ্যারিয়েল শ্যারন সেদিন আল-আকসা ছেড়ে চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গোলযোগ শুরু হয়ে গেল। শত শত মানুষ সেখানে বিক্ষোভ করছিল, তারা ইসরাইলি পুলিশের দিকে পাথর ছুঁড়তে শুরু করলো। ইসরাইলি পুলিশ তখন রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার গ্যাস ছুঁড়ে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করছিল। সেদিনের বিক্ষোভ স্তিমিত হয়ে আসলো। কিন্তু পরের দিন খালিদ সিগারিকে আবার ফিরে আসতে হলো জেরুসালেমের পুরোনো অংশে। এরিয়েল শ্যারনের কাজে বিক্ষুব্ধ শত শত ফিলিস্তিনি শুক্রবারের জুমার নামাজের পর আল আকসা মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসছিল।

খালিদ সিগারির স্পষ্ট মনে আছে সেদিনের বিক্ষোভের কথা। “খুবই মারাত্মক সংঘর্ষ চলছিল। এর আগে আমি কখনো এরকম তীব্র সংঘর্ষ দেখিনি। সবাই, তরুণ, বৃদ্ধ, শিশু- সবাই পাথরের টুকরো হাতে বা যা পাচ্ছে সেটা নিয়ে ইসরাইলি পুলিশের দিকে ছুঁড়ে মারছে।” এরপর শুধু জেরুসালেম নয়, খুব দ্রুত এই সংঘর্ষ ছড়িয়ে গেল সব ফিলিস্তিনি এলাকায়। পশ্চিম তীর এবং গাযা এলাকাতেও সংঘর্ষ শুরু হলো। প্রচণ্ড বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন ফিলিস্তিনিরা। বিক্ষোভের আগুনে জ্বলছিল পুরো অঞ্চল।

এই সংঘাত পরে ফিলিস্তিনিদের দ্বিতীয় ইন্তিফাদায় রূপ নিল। এই গণবিক্ষোভে প্রথম বছরেই মারা গেল আটশোর বেশি মানুষ। ইসরাইলি-ফিলিস্তিনি শান্তি প্রক্রিয়া একেবারে ভেস্তে গেল। কিন্তু এরিয়েল শ্যারনের আল আকসা মসজিদে যাওয়ার কারণেই যে এটা ঘটেছে, তা মানতে নারাজ যালমান শোভাল। “এই আল-আকসা ইন্তিফাদা ছিল আসলে পূর্ব-পরিকল্পিত একটি ব্যাপার। ক্যাম্প ডেভিডে এহুদ বারাক, ইয়াসির আরাফাত এবং বিল ক্লিনটনের মধ্যে যে সম্মেলন হয়, সেটি ব্যর্থ হয়েছিল আরাফাত কোন ছাড় দিতে অস্বীকৃতি জানানোর জন্য। ইন্তিফাদা শুরুর পরিকল্পনা তাদের আগে থেকেই ছিল, সেটি তারা হাতে রেখেছিলেন। কাজেই আল-আকসা নিয়ে বিক্ষোভ শুরুর পর তারা পরে সেটিকেই ইন্তিফাদা বলা শুরু করলেন। অথচ এরকম একটি ইন্তিফাদার ব্যাপারে তারা আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলেন।”

ইসরাইলে পরের বছরের নির্বাচনে অ্যারিয়েল শ্যারন বিপুল ভোটে জয়ী হলেন। তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হলেন। কিন্তু ২০০৬ সালে তিনি এক ম্যাসিভ স্ট্রোকে অচেতন হয়ে গেলেন, ২০১৪ সালে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি কোমাতেই ছিলেন। জেরুসালেম নগরীর ভবিষ্যৎ এবং আল-আকসার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, সেটি এখনো অমীমাংসিত। এই স্পর্শকাতর বিষয়গুলো এখনো ইসরাইলি-ফিলিস্তিনি বিরোধের একেবারে কেন্দ্রে। সূত্র: বিবিসি।

ওমিক্রন রোগির চাপ সামলাতে হাসপাতাল প্রস্তুত করছে দক্ষিণ আফ্রিকা

সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ৩০ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

নতুন ধরন ওমিক্রনের ধাক্কায় কোভিড-১৯ সংক্রমণের চতুর্থ ঢেউয়ের মুখোমুখি হওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা রোগীর চাপ সামলাতে দেশের সব হাসপাতাল প্রস্তুত করছে। সোমবার দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা সাপ্তাহিক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছেন।
গত ২৪ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকায় বহুবার রূপ বদলে ফেলা করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন প্রথম শনাক্ত হয়। তারপর থেকে এই ধরন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় দেশে দেশে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় গত সপ্তাহে করোনার দৈনিক সংক্রমণ ২ হাজার ৩০০ জনের শনাক্ত হলেও পরবর্তী সপ্তাহে শুক্রবার পর্যন্ত ১৬ হাজারের বেশি হয়েছে।
রামাফোসা বলেছেন, দেশের ৯টি প্রদেশের বেশিরভাগে করোনার নতুন সংক্রমণের ঘটনায় ওমিক্রনের আধিপত্য রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। দেশটির আরও বেশি লোকজনকে কোভিড-১৯ টিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেছেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় এখন ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে। আমাদের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য টিকাদান প্রয়োজনীয়। কারণ যত বেশি মানুষ টিকা নেবেন তত বেশি এলাকা অর্থনৈতিক কার্যক্রমের জন্য খুলে যাবে।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট বলেছেন, সরকার শিগগিরই মহামারি পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য জাতীয় করোনাভাইরাস কমান্ড কাউন্সিল গঠন করবে। জনগণকে নিরাপদ রাখতে আরও ব্যবস্থা নেওয়া দরকার কি-না; সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ওই কাউন্সিল।
ওমিক্রন করোনার অন্যান্য ধরনের তুলনায় আরও বেশি সংক্রামক অথবা বিদ্যমান টিকাপ্রতিরোধী কি-না তা জানতে দক্ষিণ আফ্রিকার পাশাপাশি ও বিশ্বের অন্যান্য দেশের বিজ্ঞানীরা জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে দক্ষিণ আফ্রিকার চিকিৎসক এবং বিশেষজ্ঞরা ওমিক্রনের সংক্রমণ মৃদু হতে পারে বলে তাদের প্রাথমিক পর্যালোচনায় ইঙ্গিত দিয়েছেন। রামাফোসা বলেছেন, আমরা সংক্রমণ এবং হাসপাতালে ভর্তির হারের ওপর নিবিড় দৃষ্টি রাখছি। সূত্র: রয়টার্স।

মালদ্বীপ থেকে ভারতীয় সেনাদের অপসারণের আহ্বান প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিনের

সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ৩০ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন আনুষ্ঠানিকভাবে মালদ্বীপে ভারতীয় সেনাদের অপসারণের আহ্বান জানিয়েছেন।মালদ্বীপের বিরোধী দলীয় নেতা গত রাতে অনুষ্ঠিত বিরোধীজোটের রাজনৈতিক সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান। ২০১৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর থেকে মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত এটাই বৃহত্তম রাজনৈতিক সমাবেশ যেখানে বিপুলসংখ্যক লোক অংশগ্রহণ করে।–পিপলস রিভিউ

২০২১ সালের ৩০শে নভেম্বর মালদ্বীপের সুপ্রিমকোর্ট তার সাজা বাতিল করার পরে বিরোধী নেতা প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিনের প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বক্তৃতায়, সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন প্রথমে জনগণ, তার ডেপুটিদের, উপদেষ্টাদের এবং তার আইনিদলকে তাদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান। জাতির মুখোমুখি হওয়া অনেক আর্থ-সামাজিক সমস্যার উপর আলোকপাত করে জনপ্রিয় বিরোধীদলীয় এই নেতা বর্তমান প্রশাসন এবং ভারত সরকারের দ্বারা করা অনেকগুলি নিরাপত্তা চুক্তির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

তিনি বলেন, আমরা ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণকে সম্মান করি কিন্তু মালদ্বীপ একটি স্বাধীন দেশ। একটি অভূতপূর্ব পদক্ষেপ হিসেবে বিরোধী দলীয় নেতা প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন ঘোষণা করেছেন যে, ভারতীয় সৈন্যরা মালদ্বীপে নিজেদের অবস্থান করতে পারবে না। তিনি বলেন, আমি আনুষ্ঠানিকভাবে বলছি।মালদ্বীপ ছাড়তে হবে ভারতীয় সেনাদের। আমি এটা বলছি একজন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হিসেবে, পিপিএমপিএনসি জোটের নেতা হিসেবে, হাজার হাজার মালদ্বীপের প্রতিনিধি হিসেবে। আমরা চাইনা একজন ভারতীয় সামরিক কর্মী, এমন কি বুটও এখানে আমাদের মাটিতে থাকুক।

বিরোধী নেতা তখন মালদ্বীপের জাতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর সৈন্যদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন যে, তারাও মালদ্বীপবাসী এবং তাদের আনুগত্য সরকারের প্রতি নয়, ইসলাম, জনগণ ও জাতির প্রতি তাদের শপথ অনুযায়ী বলা হয়েছে।প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন তার প্রশাসনের সময় কীভাবে ভারতীয় হেলিকপ্টারগুলির সাথে সংযুক্ত ভারতীয় সামরিক কর্মীদের নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন, সে বিষয়েও স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেছিলেন যে, ভারতীয় সামরিক কর্মীরা তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও চলে যেতে অস্বীকার করে এবং তারা অবৈধভাবে মালদ্বীপে নিজেদের অবস্থান করে।

ভারতের সাথে বর্তমান প্রশাসনের গোপন নিরাপত্তা চুক্তিকে জনসাধারণ ব্যাপকভাবে সমালোচনা করেছে এবং মালদ্বীপে ভারতীয় সামরিক কর্মীদের অপসারণের আহ্বান জানিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রতিবাদের একটি ঝড় তুলে।প্রতিবাদের কারণে যথেষ্ট আন্তর্জাতিক চাপও তৈরি হয়।