আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এ হত্যার চেষ্টা ব্যর্থ করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা।
শনিবার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। তুরস্কের গণমাধ্যমের বরাত মেহের নিউজ এজেন্সি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।null
রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম স্পুতনিক জানিয়েছে, সিরত শহরে এরদোগানের একটি অনুষ্ঠানে নিয়োজিত এক পুলিশ কর্মকর্তার ব্যক্তিগত গাড়ির নিচে বোমা পাওয়া গেছে। গাড়ির নিচে ওই বোমাটি প্রথম দেখতে পান ওই পুলিশ কর্মকর্তার এক বন্ধু। পরবর্তীতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, গাড়িতে বোমা বেঁধে রাখা হয়েছিল। তদন্তকারীরা বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বম্ব স্কোয়াড এটি নিষ্ক্রিয় করে। তবে এই ঘটনায় কেউ জখম বা আহত হয়নি।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা ওই গাড়ি এবং বোমায় থাকা হাতের ছাপ পরীক্ষা করে দেখছেন। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এরদোগানকে হত্যার জন্যই হয়তো এভাবে গাড়ির নিচে বোমা বেঁধে রাখা হয়েছিল।
বোমা আবিষ্কারের পূর্বে ওই কর্মকর্তার গাড়িটি নিয়ে তার বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে কোনো ধরনের দুর্ঘটনার আগেই গাড়ির নিচে বোমা থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে।
পরবর্তীতে সিরত শহরের একটি স্থানীয় র্যালিতে ভাষণ দেন এরদোগান। সেখানে তিনি মূলত দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকায় শনাক্ত করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তবে এটি মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। ডব্লিউএইচ’র শীর্ষ বিজ্ঞানী সৌম্য সোয়ামীনাথন গত শুক্রবার এক সম্মেলনে বলেছেন, এখনকার পরিস্থিতি এক বছর আগের চেয়ে একেবারেই আলাদা। বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশে ওমিক্রন পাওয়া গেলেও কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। ড. সোয়ামীনাথন দক্ষিণ আফ্রিকার তথ্য বিশ্লেষণ তুলে ধরে বলেন, এই ভ্যারিয়েন্ট ‘অতি সংক্রমণশীল’। সারা বিশ্বে এ ভ্যারিয়েন্ট প্রাধান্য বিস্তার করতে পারে। তবে এসব আগে থেকে ধারণা করা কঠিন বলেও জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, সারা বিশ্বে বর্তমানে করোনার যেসব সংক্রমণ ঘটছে তার ৯৯ শতাংশের জন্য দায়ী ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের কতোটা উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত? আমাদের প্রস্তুত ও সতর্ক থাকা প্রয়োজন, তবে আতঙ্কগ্রস্ত হওয়ার কারণ নেই। কারণ আমরা এখন এক বছর আগের চেয়ে আলাদা অবস্থানে আছি। নতুন এ ভ্যারিয়েন্ট অনেক বেশি পরিবর্তিত হলেও এটি আগেরগুলোর চেয়ে বেশি সংক্রমণশীল। ভাইরাসের এ ধরনটি আগের ভ্যারিয়েন্টগুলোর থেকে দ্রুত ছড়াচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বর্তমান টিকা এ ভ্যারিয়েন্ট প্রতিরোধে কতটা কার্যকর হবে সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি। এদিকে ভ্রমণের ওপর ঢালাও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে কোনো দেশ এই ভ্যারিয়েন্টের ঢোকা শুধু বিলম্বিত করতে পারবে, কিন্তু তা একেবারে ঠেকাতে পারবে না বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। ডব্লিউএইচ‘র আপদকালীন আঞ্চলিক পরিচালক ড. বাবাতুন্ডে ওলউকুরে বলেছেন, ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের গতিপ্রকৃতি বুঝতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশাল সংখ্যক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বর্তমানে একযোগে কাজ করছে। তবে এখনও পর্যন্ত তারা এমন কোনো তথ্য পায়নি, যার জন্য এই মহামারি মোকাবিলায় এই মুহূর্তে নতুন দিক নির্দেশনার প্রয়োজন রয়েছে। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, প্রতিটি দেশ যেন তাদের নিজস্ব ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে মাস্ক পরা, দূরত্ব বজায় রাখা, হাত ধোয়া, জনসমাগম এড়িয়ে চলা, সংক্রমিতদের ট্রেস করা, আক্রান্তদের আইসোলেশনে রাখা এবং টিকাদান অব্যাহত রাখার মতো বর্তমান পদক্ষেপগুলো জোরদার করে। সূত্র : বিবিসি বাংলা।
করোনা মহামারির মধ্যেও বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর দিলো ইতালি। শ্রমিক সংকট মেটাতে কৃষি ও স্পন্সর ভিসায় নতুন করে আরও ৮০ হাজার শ্রমিক নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। ২০২২ সালের জন্য এই ভিসা চালু হবে। কৃষি, নির্মাণ, পরিবহন, হোটেল,পর্যটন ও উৎপাদনশীল খাতে কাজের সুযোগ পাবেন তারা। ইতালিপ্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বড় সুখবর!
২০২২ সালে ইতালিতে প্রবেশে সুযোগ পেতে যাচ্ছে ৮০ হাজার বিদেশি শ্রমিক। সম্প্রতি ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরে এক বিবৃতি প্রকাশ করেন। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের কথা রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ, আলজেরিয়া, আইভরিকোস্ট, মিশর, এল সালভাদর, বসনিয়া হার্জেগোভিনা, দক্ষিণ কোরিয়া, তিউনেশিয়া এবং আরও কিছু দেশ থেকে এসব শ্রমিক নেবে ইতালি সরকার। তবে কোন ক্যাটাগরিতে কত শ্রমিক নেয়া হবে তা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি। কৃষি, নির্মাণ, পরিবহন, পর্যটন ও উৎপাদনশীল খাতের জন্য স্থায়ী ও মৌসুমি কাজের ভিত্তিতে এই শ্রমিক নেবে ইতালি সরকার। এই সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশিদের জন্য বড় একটা সুযোগ হিসেবে দেখছেন প্রবাসীরা। আরও পড়ুন: ওমিক্রনে ব্যাপকহারে পাঁচের কম বয়সী শিশুরা হাসপাতালে
গতবছর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৩০ হাজারের বেশি নতুন স্পন্সরশিপ ভিসা দিয়েছিল ইতালি। কিন্তু এবছর তা বেড়ে ৮০ হাজার নেয়ার কথা রয়েছে। নতুন নিয়মে মোট কত সংখ্যক বাংলাদেশি ইতালিতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন তা আগামী সপ্তাহে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ হবার পর জানা যাবে। সুত্রঃ সময় নিউজ ।
ইউক্রেন সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ নিয়ে রাশিয়ার সাথে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার পশ্চিমা সামরিক মিত্রদের বাদানুবাদ দিনকে দিন বিপজ্জনক মোড় নিচ্ছে। আর সেই বাদানুবাদের বিস্ফোরণ দেখা গেছে বৃহস্পতিবার সুইডেনে ইউরোপীয় নিরাপত্তা বিষয়ক এক বৈঠকে।
স্টকহোমের বৈঠকে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাবরভ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের পাশে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট করে বলেছেন রাশিয়া তার ঘরের পাশে নেটো সামরিক জোটের নতুন কোনো তৎপরতা কোনোভাবেই সহ্য করবে না। মি. লাবরভ সতর্ক করেছেন, আমেরিকা এবং নেটো জোট রুশ এই বার্তা অগ্রাহ্য করলে ইউরোপে আবারো যুদ্ধ শুরু হতে পারে। তার মন্তব্য ছিল – ইউরোপকে আবারো “যুদ্ধের দুঃস্বপ্ন” দেখতে হতে পারে।
সুইডেনের বৈঠকে রাশিয়া ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে যার মূল কথা – নেটো জোটকে ইউরোপের পূর্বে নতুন কোনো বিস্তৃতির চেষ্টা বন্ধ করতে হবে। মি. ব্লিঙ্কেন রাশিয়ার সেই সেই প্রস্তাব বা দাবির ব্যাপারে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি। বরং তিনি পাল্টা সতর্ক করেছেন ইউক্রেনে যে কোনো সামরিক অভিযান চালালে রাশিয়াকে তার “ভয়াবহ পরিণতি” ভোগ করতে হবে।
২০১৪ সালে রাশিয়ার ক্রাইমিয়া দখল এবং ইউক্রেনের জাতিগত রুশ অধ্যুষিত ডনবাস অঞ্চলে সশস্ত্র বিদ্রোহকে কেন্দ্র করে গত সাত বছর ধরে রাশিয়ার সাথে পশ্চিমা নেটো জোটের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। অনেক পর্যবেক্ষক বলছেন এই টানাপড়েন দিনকে দিন বিপজ্জনক চেহারা নিচ্ছে। সুইডেনে বৃহস্পতিবারের বৈঠকটি হয়েছে ইউক্রেন সীমান্তে ৯০ হাজারেরও বেশি রুশ সৈন্য সমাবেশ নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে। জানা গেছে, বৈঠকটি বহু-দেশীয় হলেও আলাদাভাবে মুখোমুখি কথা বলেছে মি. লাবরভ এবং মি. ব্লিঙ্কেন।
মার্কিন কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের পরে জানিয়েছেন, দু পক্ষই ইউক্রেন নিয়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে একমত হয়েছে। এমনকি অদূর ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্ট পুতিন এবং প্রেসিডেন্ট বাইডেনের মধ্যে একটি শীর্ষ বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়েও কথা হয়েছে। তবে কবে তা হতে পারে তা নিয়ে কোনো ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি। তবে জুন মাসে জেনেভাতে মি পুতিন ও মি বাইডেনের মধ্যে মুখোমুখি যে বৈঠক হয়েছিল সেখানেও ইউক্রেন এবং নেটোর সম্প্রসারণ নিয়ে কথা হয়। কিন্তু তাতে যে কোনো ফল হয়নি তা রাশিয়ার নতুন এই সৈন্য সমাবেশের ঘটনায় স্পষ্ট।
রাশিয়া গত বছরগুলোতে বিভিন্নভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে ইউক্রেনে আমেরিকা বা নেটো জোটের কোনো সামরিক উপস্থিতি তারা মানবে না। সপ্তাহখানেক আগে প্রেসিডেন্ট পুতিন আবারো বলেছেন আমেরিকাকে এ ব্যাপারে নিশ্চয়তা দিতে হবে। আর বৃহস্পতিবার স্টকহোমে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মি. লাবরভ খোলাখুলি বলেন ইউক্রেন দিয়ে বিপজ্জনক কোনো পরিস্থিতি এড়ানোর কোনো সদিচ্ছা নেটো দেখাচ্ছে না। তিনি বলেন, “নেটো জোটের সামরিক অবকাঠামো রাশিয়ার সীমান্তে নিয়ে আসা হচ্ছে। রোমানিয়া এবং পোল্যান্ডে আমেরিকান ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ব্যবস্থা মোতায়েন করা হচ্ছে। আমেরিকার তৈরি মধ্যপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ইউরোপে নিয়ে আসা হচ্ছে। যার অর্থ ইউরোপে সামরিক সংঘাতের দুঃস্বপ্ন পুনরায় ফিরে আসছে।” মি. লাবরভ হুঁশিয়ার করেন আমেরিকা এবং পশ্চিমা মিত্ররা যেন ইউক্রেনসহ রাশিয়ার প্রতিবেশীদেরকে সামরিক “সংঘাতের চারণভূমি” বানিয়ে না ফেলে।
যদিও ইউক্রেন এবং তার পশ্চিমা মিত্ররা ক্রমাগত বলছে রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের পাঁয়তারা করছে, তবে বিবিসির সংবাদদাতা সারা রেইন্সফোর্ড – যিনি সম্প্রতি মস্কো থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন – বলছেন সিংহভাগ বিশ্লেষক এখনও মনে করছেন না যে, রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক কোনো অভিযান চালাবে। বরঞ্চ, বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, ক্রেমলিন স্পষ্ট একটি বার্তা দিতে চাইছে যে ইউক্রেনকে যেন কখনই নেটো জোটের সদস্য না করা হয় এবং তাদের এই ‘রেড লাইন’ ভাঙলে রাশিয়া তা প্রতিহত করতে প্রস্তুত। “পুতিনের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করছেন নেটোতে ঢোকার ব্যাপারে পশ্চিমারা ইউক্রেনের বর্তমান ক্ষমতাসীনদের আশা যোগাচ্ছে,” বিবিসিকে বলেন মস্কোতে রুশ রাজনৈতিক বিশ্লেষক তাতিয়ানা স্তানোভায়া। “নেটোর পক্ষ থেকে যেভাবে ইউক্রেনকে অস্ত্র এবং সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে তাতে মি. পুতিন প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত। লাল কাপড় দেখলে ষাঁড় যেমন ক্ষেপে যায় অনেকটা তেমন,” বলেন মিজ স্তানোভায়া। “পুতিন ভাবছেন এখনই যদি তিনি কিছু না করেন, আগামিকাল ইউক্রেনে নেটো ঘাঁটি হবে। সুতরাং এখনই তাকে তা আটকাতে হবে।”
ইউক্রেন যে নেটোতে যোগ দিতে উদগ্রীব তা অজানা কিছু নয়। আর তার দোরগোড়ায় আরেকটি নেটো দেশের উপস্থিতি যে রাশিয়া মানবে না, তাও নতুন কিছু নয়। কিন্তু রাশিয়া দেখছে যে তাদের আপত্তির তোয়াক্কা না করে নেটো দেশগুলো থেকে ইউক্রেনে অস্ত্র যাচ্ছে। পূর্ব ইউক্রেনে রুশ সমর্থিত বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে প্রয়োগের জন্য তুরস্কে তৈরি ড্রোন কিনেছে ইউক্রেন। ক্রাইমিয়ার কাছে আকাশে সম্প্রতি পারমানবিক বোমা ফেলতে সক্ষম দুটো আমেরিকান যুদ্ধ বিমান উড়তে দেখার ঘটনায় মস্কো প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত। সেই সাথে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনেস্কির সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যে রাশিয়া ক্ষিপ্ত। তিনি সম্প্রতি বলেছেন রাশিয়ার কাছ থেকে ক্রাইমিয়াকে “মুক্ত করা” তার সরকারের লক্ষ্য। ডনবাস অঞ্চলে রুশ সমর্থিত বিদ্রোহীদের দমনে বড় ধরণের সামরিক অভিযান চালানোর ইঙ্গিতও ইউক্রেন দিচ্ছে। এসব কথাকে রাশিয়া উস্কানি হিসাবে দেখছে। মস্কো মনে করছে পশ্চিমাদের ভরসায় ইউক্রেন এসব কথা বলার সাহস পাচ্ছে।
ইউক্রেনের সরকার এবং তাদের পশ্চিমা মিত্রদের সতর্ক করতেই যে সীমান্তে এই সেনা সমাবেশ তা নিয়ে রাশিয়া রাখঢাক করছে না। ইউক্রেন নিয়ে মস্কোতে গত সপ্তাহে রুশ কূটনীতিকদের সাথে এক বৈঠকে বলেন মি. পুতিন বলেন, “আমাদের হুঁশিয়ারিতে তারা যে কান দিচ্ছে তার লক্ষণ পরিষ্কার। কারণ তারা উত্তেজিত … পশ্চিমা দেশগুলো যেন রাশিয়ার কথা কানে দেয় তার জন্য উত্তেজনা অব্যাহত রাখতে হবে।” মস্কোতে গবেষণা সংস্থা আইআইএসির গবেষক অন্দ্রেই কর্তুনভ বিবিসিকে বলেন, ইউক্রেনের সীমান্তে সৈন্য সমাবেশের অর্থ এই নয় যে রাশিয়া সৈন্য ঢুকিয়ে দেবে।
“মি পুতিন আসলে একটি বার্তা দিতে চাইছেন, আর বার্তাটি হচ্ছে ইউক্রেনকে সতর্ক করা যে পশ্চিমাদের ভরসায় ডনবাস অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পথে তারা যেন পা না বাড়ায়।” আর পশ্চিমাদের জন্য মি পুতিনের বার্তা, মি. কর্তুনভ বলেন, “ইউক্রেনে নেটোর তৎপরতা চলবে না, ইউক্রেনেকে অস্ত্র জোগানো চলবে না।” নানাভাবে ইউক্রেনের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করছে রাশিয়া। গত সপ্তাহে রুশ গুপ্তচর সংস্থা, এসভিআর, ইউক্রেন সম্পর্কিত এক বিবৃতিতে ২০০৮ সালে জর্জিয়ার যুদ্ধের অবতারণা করেছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া জাতিগত রুশ অধ্যুষিত দক্ষিণ ওসেটিয়া কব্জা করতে গিয়ে তৎকালীন জর্জিয়ান প্রেসিডেন্ট সাকাশভিলিকে কতটা মূল্য দিতে হয়েছিল – এসভিআর এর বিবৃতিতে তা স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে। জর্জিয়া ওসেটিয়া দখল করতে গেলে রাশিয়া সামরিক অভিযান চালিয়েছিল।
তাতিয়ানা স্তানোভায়া বলেন, “জর্জিয়ার ফর্মুলা ক্রেমলিনের টেবিলে রয়েছে। ইউক্রেনের বেলাতেও তার প্রয়োগ হতেই পারে।” “তবে তার অর্থ এই নয় যে রাশিয়া তার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমি মনে করি যে একটি বিকল্প রয়েছে, কিন্তু তার প্রয়োগ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।” মি. কর্তুনভ বলেন দরকার হলে রাশিয়া যুদ্ধ করতে প্রস্তুত এমন একটি বার্তা মি পুতিন দিতে চাইছেন ঠিকই কিন্তু ইউক্রেনে সরাসরি সামরিক অভিযান চারিয়ে উদ্দেশ্য হাসিল হবে বলে তিনি মনে করেন না। তেমন কোনো সামরিক, অভিযানের ফলাফল যাই হোক না কেন, প্রাপ্তির চেয়ে ক্ষতির মাত্রা বেশি হতে পারে।” সুতরাং প্রেসিডেন্ট পুতিন হয়তো ফাটকা খেলছেন।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মার্ক গ্যালিওটি মনে করেন মস্কো হয়তো তার সমস্ত বিকল্প প্রস্তুত করছে কিন্তু সামরিক অভিযান নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত তারা নেয়নি। তিনি বলেন, নতুন করে কোনো নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি এবং পশ্চিমের সাথে সম্পর্ক আরো খারাপ করার ঝুঁকি হয়তো মি পুতিন এখন নিতে চাইবেন না। অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেন ইউক্রেন সীমান্তে ট্যাংক আর সৈন্য পাঠিয়ে মস্কো আমেরিকাকে আরেকবার আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসতে চাইছে। মি. পুতিন ও মি, বাইডেনের সাথে আরেকটি টি শীর্ষ বৈঠক চাইছে তারা। “জুন মাসের বৈঠকে মি. পুতিন এবং বাইডেন কেউই কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি, কিন্তু ইউক্রেনে সামরিক সাহায্যের ইস্যুতে খুব অল্প হলেও একটি বোঝাপড়া হয়তো সেখানে হয়েছিল,” বলেন মি কর্তুনভ।
বৃহস্পতিবার স্টকহোমের বৈঠকে তেমন একটি শীর্ষ বৈঠক নিয়ে কথা হয়েছে। তবে তার কোনো নিশ্চয়তা যুক্তরাষ্ট্র দেয়নি। “পুতিন হয়তো এখনও বিশ্বাস করেন যে তিনি মি. বাইডেনের সাথে একটি বোঝাপড়া করতে পারবেন। কিন্তু তিনি যদি দেখেন তার কোনো আশাই নেই তাহলেই সম্ভাব্য বিপদ। পুতিন তখন এমন পথ তিনি নিতে পারেন যা ধারণা করা কঠিন”, বলেন মিস তাতিয়ানা। সূত্র: বিবিসি।
দক্ষিণ চীন সাগর ও তাইওয়ান প্রণালীতে চীন যেভাবে একতরফা কার্যকলাপ করছে, তানিয়ে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ। এ কারণে তারা আরো ঘনিষ্টভাবে কাজ করার ব্যাপারে একমত হয়েছে।
সম্প্রতি ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানেই চীনের কার্যকলাপ নয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চীন যা করছে, তাতে এই অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। এরপর অ্যামেরিকার ডেপুটি সেক্রেটারি অফ স্টেটের সঙ্গে ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের সেক্রেটারি জেনারেল আলোচনায় বসেন। সেখানে চীনের উইগুর ও তিব্বতের জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিয়ে কথা বলেছেন তারা। হংকং-এর স্বশাসন এবং কূটনৈতিক ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিয়েও কথা হয়েছে।
ইইউ মিলিটারি স্টাফের ডিরেক্টর জেনারেল জানিয়েছেন, ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সহযোগিতা আরো বাড়ানোর জায়গা আছে। দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিং একতরফা ব্যবস্থা নিচ্ছে। তাই আন্তর্জাতিক আইন যাতে মানা হয়, সেটা দেখা দরকার।
তিনি বলেছেন, ফ্রান্স হলো প্রশান্ত মহাসাগর এলাকায় বড় শক্তি। জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও ডেনমার্ক এই অঞ্চল নিয়ে তাদের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। নিউ ক্যালিডোনিয়া সহ বেশ কিছু দেশের প্রশাসন ফ্রান্সের হাতে। গতবছর স্বাধীনতার দাবি নিয়ে নিউ ক্যালিডোনিয়ায় গণভোট হয়েছিল। কিন্তু সেই দাবি গণভোটে খারিজ হয়েছে। এছাড়াও বেশ কয়েকটি ছোট দ্বীপরাষ্ট্র ফ্রান্সের অধিকারে আছে। তাই দক্ষিণ চীন সাগরে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে চায় ইইউ।
ইইউ-র সামরিক কর্তা জানিয়েছেন, দক্ষিণ চীন সাগরে ইইউ একটি মেরিটাইম এরিয়া অফ ইন্টারেস্ট তৈরি করতে চায়। অ্যাটলান্টিক মহাসাগরে গালফ অফ গিনিতে ইইউ-র উপস্থিতি আছে। সেখানে এরকম একটি পাইলট প্রজেক্ট চলছে। দক্ষিণ চীন সাগরে একই ধাঁচে কাজ করতে চায় ইইউ।
তাইওয়ান নিয়ে এখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। গত মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সাবধান করে দিয়ে বলেছেন, তারা ঠান্ডা যুদ্ধের উত্তেজনা চান না। বাইডেন বলেছেন, তাইওয়ানকে সুরক্ষা দেয়ার ব্যাপারে অ্যামেরিকা দায়বদ্ধ।
বেইজিং দক্ষিণ চীন সাগরে তাদের উপস্থিতি আরো বাড়াতে চাইছে। এই এলাকা নিয়ে চীন ছাড়াও ফিলিপাইন্স, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়ার দাবি রয়েছে। সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার দুইটি নৌকাকে ওই এলাকায় ঢুকতে দেয়নি চীন। ২০১৬ সালে পার্মানেন্ট কোর্ট অফ আরবিট্রেশন রায় দেয়, দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে চীনের অধিকাংশ দাবিই বেআইনি। সূত্র: রয়টার্স।
বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন আতঙ্কের জেরে গত সপ্তাহে একদিনেই জ্বালানি তেলের দাম কমেছে প্রায় ১০ মার্কিন ডলার। তবে এর আগে থেকেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছিল নিম্নমুখী। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের খবর অনুসারে, টানা ছয় সপ্তাহ তেলের দাম কমেছে আন্তর্জাতিক বাজারে। সপ্তাহের হিসাবে ২০১৮ সালের পর টানা এতদিন তেলের দরপতনের ধারা অব্যাহত থাকতে আর দেখা যায়নি।
চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম কমেছে অন্তত ২ দশমিক ৮ শতাংশ। এতে বড় প্রভাব রয়েছে ওমিক্রন আতঙ্কের। বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, করোনার নতুন এই ধরন ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়লে জ্বালানি তেলে চাহিদায় আবারও ধস নামতে পারে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ছয়টি অঙ্গরাজ্যে ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে। এর বিষয়ে বিশ্বকে প্রথম সতর্ক করা দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় গত মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) থেকে সংক্রমণের হার অন্তত চারগুণ বেড়ে গেছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী জানুয়ারি মাসে বিশ্ববাজারে দৈনিক আরো চার লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওপেক ও এর মিত্ররা। ফলে চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কার মধ্যে তেলের সরবরাহ বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে এর দাম আরও কমে আসবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ওন্ডা করপোরেশনের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক এড ময়া বলেন, এমনিতে স্বল্পমেয়াদী চাহিদা পরিস্থিতি খুবই নড়বড়ে, তার ওপর যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন বিধিনিষেধ দেয়, তাহলে চলতি মাসের শেষের দিকে বাজারে অতিরিক্ত তেল সরবরাহ দেখা যেতে পারে। শনিবার (৪ ডিসেম্বর) সকালে এই প্রতিবেদন লেখার সময় অয়েল প্রাইস ডটকমে দেখা গেছে, এদিন বিশ্ববাজারে ডব্লিউটিআই তেলের দাম ০.৩৬ শতাংশ অর্থাৎ ০.২৪ ডলার কমে প্রতি ব্যারেল বিক্রি হচ্ছে ৬৬ দশমিক ২৬ ডলারে। অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্টের দাম ০.৩০ শতাংশ অর্থাৎ ০.২১ ডলার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৬৯ দশমিক ৮৮ ডলার। এছাড়া হিটিং অয়েলের দাম ০.২৪ শতাংশ কমে হয়েছে ২ দশমিক ০৯৮ ডলার।
আজ শনিবার (৪ ডিসেম্বর) বছরের শেষ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। গ্রহণটি হবে বলয়গ্রাস গ্রহণ, মানে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হতে চলেছে অমাবস্যার এদিনে। সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে যখন চাঁদ চলে আসে এবং সূর্যকে ঢেকে ফেলে তখন সূর্যের অন্ধকার দিকটি পৃথিবীর দিকে আসে।
ভারতীয় গণমাধ্যম এবিপি জানিয়েছে, শনিবার সূর্যগ্রহণ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সকাল ১১.২৯ মিনিটে। পূর্ণগ্রাস শুরু হবে দুপুর ১টা থেকে। পূর্ণগ্রাস সম্পন্ন হবে দুপুর ১.৩৩ মিনিটে। দুপুর ২.০৩ মিনিটে পূর্ণগ্রাস গ্রহণ শেষ হবে। ৩.৩৭ মিনিটে আংশিক সূর্যগ্রহণ শেষ হবে। মোট, ৪ ঘণ্টা ৮ মিনিট স্থায়ী হবে এই গ্রহণকাল। পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ শুধুমাত্র দক্ষিণ আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং অ্যান্টার্কটিকা ছাড়াও দক্ষিণ আটলান্টিকের কিছু অংশে দৃশ্যমান হবে। ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে এ গ্রহণ দেখা যাবে না।
সূর্যগ্রহণ দেখার সময় যথাযথ চোখের সুরক্ষা নিতে হবে। কারণ দীর্ঘ সময় ধরে খালি চোখে সূর্যের দিকে তাকালে তাতে চোখের ক্ষতি করতে পারে। গ্রহণ দেখার জন্য লেন্সে একটি বিশেষ সৌর ফিল্টার প্রয়োজন। সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো উচিত নয়। পানিতে সূর্যের প্রতিফলনের দিকে তাকাবেন না। গ্রহণ দেখার জন্য সাধারণ সানগ্লাস ব্যবহার করবেন না।
গান গেয়েছেন তিনি, কিন্তু পাচ্ছেন না তাঁর প্রাপ্য টাকা। ইউটিউবাররা সে গান রেকর্ডিং করে সোশ্যাল মাধ্যমে রোজগার করছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। এই অভিযোগ নিয়ে এবার দুবরাজপুর থানার দ্বারস্থ হলেন বীরভূমের বাদাম বিক্রেতা ভুবন বাদ্যকর। ‘বাদাম বাদাম দাদা কাঁচা বাদাম’ (Kacha Badam Song), আমার কাছে নাই গো বুবু ভাজা বাদাম। এই গানটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। এমনকি সারা বিশ্বে কয়েক মিলিয়ন মানুষ দেখে ফেলেছেন এই গানের ভিডিও। এখন মোবাইলে ফেসবুক, ইউটিউব, রিলসে চোখ রাখলেই বেজে উঠছে এই গান। কিন্তু যে মানুষটি এই গান করেছেন তিনি পেশায় একজন বাদাম বিক্রেতা। তাঁর নাম ভুবন বাদ্যকর। বীরভূম জেলার দুবরাজপুর ব্লকের অন্তর্গত লক্ষ্মীনারায়ণপুর পঞ্চায়েতের কুড়ালজুড়ি গ্রামের বাসিন্দা।
ভুবনবাবুর দাবি, তাঁর এই গান ইতিমধ্যে ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। ইউটিউব মাধ্যমে এই গান গেয়ে প্রচুর মানুষ টাকা রোজগার করছেন, কিন্তু তিনি কিছুই পাচ্ছেন না। ভুবনবাবু জানান, তাঁর গান ভাইরাল হওয়ায় প্রচুর মানুষ প্রত্যেকদিন তাঁর বাড়িতে ভিড় করছেন। সকলে তাঁর গানের ভিডিও রেকর্ডিং করছেন। আজ সেগুলি সোশ্যাল মাধ্যমে দিয়ে টাকাও আয় করছেন, কিন্তু তিনি কিছুই পাচ্ছেন না। এমনকি ইউটিউবেও ওই গানে তাঁর কপিরাইটই দেখাচ্ছে, কিন্তু তিনি নিজে কোনও গানই আপডেট করেননি। তাই তাঁর দাবি, পুলিস প্রশাসন ঘটনার তদন্ত করুক এবং তাঁর প্রাপ্য টাকাটুকু তাঁকে পেতে সাহায্য করুক।
তাঁর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার কারণে তিনি এতই আতঙ্কিত যে, তিনি জানান, থানায় আসবার সময়েও তিনি হেলমেট পরে এসেছেন। কারণ তাঁর সন্দেহ, কেউ তাঁকে কিডন্যাপও করে নিতে পারে। আবার, থানাতেও তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতে ভিড় জমিয়েছিলেন প্রচুর মানুষ।
করোনার নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’ সংক্রমণ ঠেকাতে দক্ষিণ আফ্রিকাসহ কয়েকটি দেশ থেকে এলে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। যদি কেউ কোয়ারেন্টিন থেকে পালায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থাপিত বিদেশগামীদের করোনাভাইরাস নমুনা পরীক্ষাগার পরিদর্শনে গিয়ে এই হুশিয়ারি দিয়েছেন।
গত বছর দেশে বিদেশ ফেরতদের কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক ছিল। সে সময় কোয়ারেন্টিন থেকে পালানোর বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটে। এতে দেশকে অনেক ভুগতে হয়েছে।তাদের মাধ্যমে অনেকে সংক্রমিত হয়েছিলেন তখন।
করোনার দেড় বছর পর এবার ভাইরাসটির নতুন ধরন ওমিক্রন সংক্রমণ ঠেকাতে আফ্রিকার দেশগুলো থেকে ফিরলে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। এ ছাড়া ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে- এমন দেশগুলো থেকে কেউ আসলেও তাকে ৪৮ ঘণ্টা আগে নমুনা পরীক্ষা করে রিপোর্ট নিয়ে আসতে হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হবে, তাদের পাসপোর্ট রেখে দেওয়া হবে। কোনো হোটেল থেকে পালিয়ে গেলে ওই হোটেলকেও জরিমানা করা হবে।অনেক দায়িত্বহীন লোক যারা নিজের কথা, দেশের কথা ভাবে না, তারা হোটেল থেকে বেরিয়ে গেছে। ঘোরাফেরা করেছে, বাড়িতে চলে গেছে। এই বিষয়টা আমরা জেনেছি। আমরা এ বছর একটা কঠোর অবস্থানে যাচ্ছি।’
জাহিদ মালেক আরও বলেন, যতদিন কোয়ারেন্টিন ততদিন আমরা তাদের পাসপোর্ট ধরে রাখব। সামরিক বিভাগ, পুলিশ এবং আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগও বিষয়টি তদারক করবে। আরেকটি জিনিস আমরা করব, যে হোটেল থেকে রোগী বেরিয়ে যাবে, সেই হোটেলকেও আমরা পেনাল্টিতে নিয়ে আসব।
বর্তমানে বিমানবন্দরের টার্মিনাল-২-এ দুই হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে বিদেশগামীদের করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর পরিবর্তে বিমানবন্দরের গাড়ি পার্কিংয়ের ভবনের দোতলায় ৩৬ হাজার বর্গফুট জায়গায় নমুনা পরীক্ষাগার করা হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, এই গবেষণাগার তৈরি হয়ে গেলে বিদেশগামীদের করোনার নমুনা পরীক্ষায় ভোগান্তি কমবে। এ ছাড়া বিশ্রামাগার, টয়লেট, খাওয়া-দাওয়ার সুবিধা রাখা হচ্ছে।কাজ শেষ হয়ে গেলে ‘অল্প কিছুদিনের মধ্যেই’ নতুন পরীক্ষাগারটি তা চালু হয়ে যাবে।
দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দেশে আসা ২৪০ জনকে খুঁজে পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের খুঁজে বের করতে স্থানীয় প্রশাসন কাজ করছে। এটা একমাস আগের কথা, তারপরও আমরা ছাড়ছি না, সবাইকে খুঁজে বের করব।’
মানুষের আগামী বহু বছর ধরে প্রতি বছর কোভিডের টিকা নেবার প্রয়োজন হতে পারে বলে বিবিসিকে দেয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন ওষুধ কোম্পানি ফাইজারের প্রধান। ওই সাক্ষাৎকারে ড. আলবার্ট বুর্লা বলেছেন যে ”খুবই উঁচু মাত্রার সুরক্ষা” নিশ্চিত করতে প্রতি বছর টিকা নেয়ার প্রয়োজন হবে।
সাক্ষাৎকারে ফাইজারের প্রধান নির্বাহী টিকা নিয়ে তার স্ত্রী মারা গেছেন এমন ভুয়া খবর ছড়ানোর কড়া সমালোচনা করেছেন। ফাইজারের প্রধান নির্বাহী বিবিসিকে এই সাক্ষাৎকার দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ার আগে। তিনি এই সাক্ষাৎকার দেবার আগেই ব্রিটেন ২০২২ এবং ২০২৩ সালের জন্য অতিরিক্তি ১১ কোটি ৪০ লাখ কোভিড টিকা কেনার চুক্তি করেছে, যার মধ্যে পাঁচ কোটি ৪০ লাখ টিকা ব্রিটেন কিনবে ফাইজার থেকে, আর বাকি ছয় কোটি মডার্না থেকে।
ড. বুর্লা বলেন, করোনাভাইরাসের বেটা ভ্যারিয়েন্ট – যেটিও প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকায় শনাক্ত হয়েছিল – এবং ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট, যা প্রথম ধরা পড়ে ভারতে, সেগুলো মোকাবেলায় ফাইজারের টিকা কার্যকর করার পদক্ষেপ তারা ইতোমধ্যেই নিয়েছেন। যদিও তিনি বলেছেন, ওই দুটি ধরন মোকাবেলায় তাদের টিকায় তেমন কোন বদল ঘটাতে হয়নি। তিনি আরও বলেন, অমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে টিকা কার্যকর করার কাজ এখন তারা করছেন এবং আগামী ১০০ দিনের মধ্যে তাদের টিকা হালানাগাদ করার কাজ শেষ হবে।
ড. বুর্লা মনে করেন যে মহামারির সময় টিকা লাখ লাখ মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে, এবং এই টিকা না হলে “আমাদের সমাজের মূল কাঠামোই ঝুঁকির মুখে পড়ত”। ফাইজার আশা করছে যে এ বছর শেষ হবার আগেই তারা তাদের এমআরএনএ টিকার তিনশো’ কোটি ডোজ সরবরাহ করতে পারবে এবং আগামী বছর তাদের পরিকল্পনা রয়েছে চারশো’ কোটি ডোজ টিকা সরবরাহ করার। কোম্পানির প্রধান নির্বাহী বলেন, মানুষেকে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেবার জন্য বিশ্ব জুড়ে একটা প্রতিযোগিতা চলছে, তবে ২০২২ সালে দেশগুলো “যত প্রয়োজন তত ডোজ টিকা পাবে”।
বিশ্বে স্বাস্থ্য বিষয়ক যেসব দাতব্য সংস্থা আছে, তারা বলছে যে ফাইজার, বায়োএনটেক এবং মডার্না এই মহামারির সময় যে পরিমাণ অর্থ বানিয়েছে তা অনৈতিক। এ বছর কোভিডের টিকা বিক্রি থেকে ফাইজার আয় করবে ৩৫ বিলিয়ন বা সাড়ে তিন হাজার কোটি ডলার। তাদের শেয়ারের দামও এখন আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। এরপরেও পৃথিবীর অনেক দেশে বেশিরভাগ মানুষ অন্তত কোভিডের এক ডোজ টিকা পেলেও আফ্রিকার অনেক দেশের মানুষ টিকা প্রায় পায়ইনি – এসব দেশে প্রতি বিশ জনে একজনেরও কম মানুষ টিকা পেয়েছে।
মুনাফা লাভের প্রশ্নে কোনরকম দুঃখ প্রকাশ করেননি ড. বুর্লা। তিনি বলেছেন, “মূল কথা হল, লাখো লাখো জীবন রক্ষা পেয়েছে। “ট্রিলিয়ন ডলারের বিশ্ব অর্থনীতিকে আমরা ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচিয়েছি। আগামী মহামারি রুখতে উদ্ভাবনের কাজে এটা জোরালো অনুপ্রেরণা হিসাবে কাজ করবে,” এই মন্তব্য করেন তিনি। মহামারিকে কাজে লাগিয়ে লাভ করার অভিযোগ তিনি নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, ধনী দেশগুলোর জন্য এই ব্যয় “সস্তার খাবার কেনার খরচের সমান”, তবে নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে টিকা বিক্রি করা হয়েছে কোন মুনাফা না রেখে। সূত্র: বিবিসি।