ক্যাটাগরি Uncategorized

ওমিক্রনে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন দেশের দুয়ার,,,

মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৪ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ‘ওমিক্রন’ শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে ১৭টি দেশে এই ধরন পৌঁছে যাওয়ায় বাংলাদেশসহ অনেক দেশ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং বিমান চলাচলে বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন দেশ বন্ধ করে দিচ্ছে তাদের দরজা।
টিকাদানের ফলে বিশ্ব বাজারে প্রায় দুই বছরের স্থবিরতা কাটতে শুরু করেছিল, কিন্তু নতুন ভ্যারিয়েন্টের কারণে আবারও থমকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখনো নতুন ভ্যারিয়েন্টের বিশদ জানার অপেক্ষায় প্রহর গুণছেন। জাপান গতকাল বলেছে, তারা বিদেশিদের জন্য সীমান্ত বন্ধ করছে। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এ দেশটি করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া ইসরাইলের পথে হেঁটেছে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার দুয়ার পুনরায় খুলে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সউদী আরব ৭ দেশের ওপর থেকে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই আগামী ৪ ডিসেম্বর থেকে বিশ্বের সকল দেশের জন্য দেশের বিমানবন্দরগুলো উন্মুক্ত করার ঘোষণা দেবার মাত্র দু’দিন পর ফের ১৮ দেশের ওপর ওমরাহ পালনে আগমনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

আরব আমিরাতও দক্ষিণ আফ্রিকার ৭ দেশ থেকে ফ্লাইট স্থগিত ঘোষণা করেছে। মডার্না জানিয়েছে, তারা আগামী বছরের শুরুর দিকেই করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রমের টিকা বানাতে সমর্থ হবে। এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা নতুন ভ্যারিয়েন্ট আবিষ্কার করে ধন্যবাদের পরিবর্তে শাস্তি পাচ্ছে বলে অনুযোগ করেছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী। আগের সব ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় সম্ভাব্য অতি-সংক্রামক ‘ওমিক্রন’ গত বুধবার দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত হয়। এরপর থেকে আরো যে ১৬টি দেশে ওমিক্রন ছড়িয়েছে সেগুলো হচ্ছে, ইসরাইল, হংকং, বতসোয়ানা, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ইতালি, সুইজারল্যান্ড, ডেনমার্ক, বেলজিয়াম, অস্ট্রিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, পর্তুগাল এবং নেদারল্যান্ড।

ওমিক্রনকে ‘উদ্বেগজনক ভ্যারিয়েন্ট’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলেছে, ‘এই ভ্যারিয়েন্টের তীব্রতার মাত্রা বোঝার জন্য কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত লাগতে পারে।’

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি এড়াতে সতর্কতা হিসেবে জাপান আজ মঙ্গলবার রাত থেকে বিদেশিদের জন্য সীমান্ত বন্ধ করে দেবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেছেন, জাপান প্রথমে বিদেশিদের প্রবেশ বন্ধ করবে। এছাড়া কিছু নির্দিষ্ট দেশ থেকে ফেরা জাপানিদের সরকার নির্ধারিত স্থাপনায় কোয়ারেন্টাইন পালন করতে হবে।

জাপানে এখন পর্যন্ত ওমিক্রন শনাক্ত না হলেও দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী শিগেইউকি গোটো বলেছেন, নামিবিয়া থেকে আগত একজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। তবে ওই ব্যক্তি ওমিক্রনে আক্রান্ত কি না তা জানতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। রোববার মধ্যরাত থেকে সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে ইসরাইল। নতুন ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সন্ত্রাসবিরোধী ফোন ট্র্যাকিং প্রযুক্তি ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে দেশটি।

প্রথম ওমিক্রন রোগী শনাক্ত হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়া বলেছে, তারা আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে দক্ষ অভিবাসী এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সীমান্ত পুনরায় খুলে দেয়ার পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করবে। সীমান্ত শিথিলতার বিষয়ে বুধবার দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা প্যানেলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন, বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য এখনই দুই সপ্তাহের হোটেল কোয়ারেন্টাইন বিধি চালু করা হলে তা আগাম হয়ে যাবে। দেশটির স¤প্রচারমাধ্যম নাইন নিউজকে তিনি বলেনে, এ মুহূর্তে আমাদের কেবল একটি পদক্ষেপ নিতে হবে, সেটি হলো, সবাইকে শান্ত থাকতে হবে। সেই সঙ্গে সঠিক তথ্য পেয়ে সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।

রোববার মরক্কোর সরকার বলেছে, ২৯ নভেম্বর থেকে পরবর্তী দুই সপ্তাহের জন্য আন্তর্জাতিক সব যাত্রীবাহী ফ্লাইটের অবতরণ বন্ধ থাকবে। কাতার, সউদী আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে টিকাগ্রহণকারীদের জন্য ভ্রমণ চালুর পরিকল্পনা পিছিয়ে দিয়েছে সিঙ্গাপুর। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই নগর-রাষ্ট্র এবং প্রতিবেশী মালয়েশিয়ার স্থল সীমান্ত পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই স্থল সীমান্ত বন্ধ রাখার পর স¤প্রতি টিকা নেওয়া দর্শনার্থীদের জন্য চালু করা হয়েছে। ব্রিটেন বলেছে, সোমবার জি৭ এর স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠক ডাকবে তারা।

হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন শনাক্ত ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেয়া পদক্ষেপের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে প্রতিনিয়ত হালনাগাদ তথ্য দেওয়া হচ্ছে।

ওমিক্রন অত্যন্ত বিপজ্জনক, প্রস্তুতি নিন : ডব্লিউএইচও
বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের রূপান্তরিত ধরন ওমিক্রন ‘অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি’ তৈরি করতে পারে বলে গতকাল সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। পাশাপাশি ভাইরাসের এই ধরনকে মোকাবিলায় বিশ্বকে দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে জাতিসংঘের স্বাস্থ্যবিষয়ক এই সংস্থা। গতকাল জেনেভায় ডব্লিউএইচওর সদর দফতর থেকে ওমিক্রন নিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে ১৯৪টি সদস্যদেশকে টিকাদান কর্মসূচির গতি আরো বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে। সংক্রমণের নতুন ঢেউ দেখা দিলে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে; সে বিষয়ে পরিকল্পনাও দ্রুত নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

বিপদে দক্ষিণ আফ্রিকা
এদিকে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করে দক্ষিণ আফ্রিকা বলেছে, বিশ্বের এ সিদ্ধান্ত অন্যায্য এবং দক্ষিণ আফ্রিকার অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। দক্ষিণ আফ্রিকার নতুন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত করার বৈজ্ঞানিক সক্ষমতাকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে দেশটি।

ডেলটা রূপের আবিষ্কার হওয়ায় বদনাম কুড়িয়েছিল ভারত। আর করোনার শুরুটা চীনে হওয়ায় দেশটি একরকম বিপদেই পড়েছিল। মোটামুটি করোনার নতুন রূপ যেসব দেশে পাওয়া গেছে সেসব দেশই গত দুই বছর ধরে বিপদে পড়েছে। প্রথম দিকে করোনার নতুন ধরনের নাম দেশের নামেই হতো। কিন্তু ‘ভারতীয় ধরন’ যখন ভারতের সম্মানের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দেখা দিল তখন ভারত ভ্যারিয়েন্টের অন্য কোনো নাম দেয়ার আবেদন জানায়। এরপর গ্রিক নামে ভ্যারিয়েন্টের নামকরণ করা হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের শেষ দিকে ভারতে শনাক্ত হওয়া ডেলটা রূপ বিশ্বের ১৬৩ দেশে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। আক্রান্ত বেশ কয়েক কোটি মানুষ। দ্বিতীয় ঢেউয়ের জন্য দায়ী ছিল এই রূপ। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে পাওয়া তথ্যমতে, ওমিক্রনের পক্ষে ডেলটার পরিসংখ্যানকে ছোঁয়ার পূর্বাভাস নেই। কেবল মানবদেহের সহজাত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নয়। ওমিক্রনকে লড়াই করতে হবে করোনা টিকার প্রতিরোধের বিরুদ্ধেও। ডেলটা ধরনের সংক্রমণের সময় বিশ্ব জুড়ে টিকাকরণের সংখ্যা ছিল অনেক কম। এখন টিকাকরণ অনেকটাই এগিয়েছে। ফলে ওমিক্রনের পরীক্ষা আরো কঠিন।

এছাড়া গত এক বছরে টিকা সংক্রান্ত গবেষণাও এগিয়েছে অনেকটা। ফাইজার ও বায়োএনটেকের মতো সংস্থা ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে, করোনা ভাইরাসের নয়া রূপ প্রতিরোধী টিকা তৈরির কাজ ৬ সপ্তাহের মধ্যে শুরু হবে। ১০০ দিনের মধ্যেই আসবে নতুন টিকা। সব মিলিয়ে এক বছর আগে ডেলটার ঢেউয়ের মোকাবিলার জন্য বিশ্ব যতটা প্রস্তুত ছিল, ওমিক্রন প্রতিরোধে প্রস্তুতি তার চেয়ে বেশি। আবার ডব্লিউএইচও দ্রুত উদ্বেগ জানিয়েছেন বলে অনেক বিজ্ঞানী মনে করছেন। যদিও এরও কারণ আছে। কারণ ডেলটা পাওয়ার পর ডব্লিউএইচও দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ায় সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছিল।

এক বিবৃতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে নতুন এই ধরনটি নিয়ে। এর সক্ষমতা ও কতদিন স্থায়ী হতে পারে, তা বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভ্যাকসিন নিয়েও আলোচনা করা হচ্ছে। ওমিক্রন প্রতিরোধে ভ্যাকসিন আনার কথা বলছে যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ কোম্পানি মডার্না। ২০২২ সালের শুরুতেই কোভিডের নতুন এই ধরন মোকাবিলায় টিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

মডার্না ইনকরপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা পল বার্টন বলেন, বিদ্যমান ভ্যাকসিনগুলোকে ফাঁকি দিতে পারে করোনার এই নতুন ধরন। সে কারণে ২০২২ সালের শুরুতে নতুন করে ভ্যাকসিন আনবে প্রতিষ্ঠানটি।

জার্মানির বায়োএনটেক ও যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজার বলেছে, তাদের টিকা পরিবর্তন করতে হবে কিনা তার জন্য দুই সপ্তাহের মধ্যে এ নতুন ধরনের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার আশা করছে। মডার্না বলেছে, তারা নতুন এ ধরনের জন্য সুনির্দিষ্ট একটি বুস্টার ডোজ তৈরি করবে।

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান টেড্রোস আডানোম গেব্রিয়াসিস বলেছেন, ‘নতুন ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার হচ্ছে ভবিষ্যত মহামারি মোকাবিলায় আমাদের যৌথ সামর্থ্যরে পরীক্ষা।’ ওমিক্রন ইস্যুতে গতকাল সোমবার শুরু হওয়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি অধিবেশনের উদ্বোধনে এসব কথা বলেন তিনি। তিন দিনের ওই অধিবেশনের শুরুতে টেড্রোস আডানোম গেব্রিয়াসিস বলেন, মহামারি অবসানের মূল হবে ‘সাহসী এবং সহানুভূতিশীল নেতৃত্ব’ এবং ‘পারস্পারিক সহমর্মিতার প্রতি অবিচল প্রতিশ্রুতি।’

ভ্যাকসিন বিতরণে বৈষম্যের কঠোর সমালোচনা করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান। টেড্রোস আডানোম গেব্রিয়াসিস বলেন, ‘ভাইরাসটির বিস্তার এবং এর পরিবর্তন ঠেকাতে সব দেশেই টিকাদান জরুরি।’ ডবিøউএইচও প্রধান বলেন, ‘ভ্যাকসিন বৈষম্য যত বেশি থাকবে, তত বেশি উপায়ে ভাইরাসটি বিস্তৃত হবে যা আমরা আগে ধারণা করতে পারবো কিংবা রুখতে পারবো না। আমরা সকলেই একসূত্রে গাঁথা।’

ওমরাহ পালনে ১৮ দেশের নাগরিকের সউদী প্রবেশ নিষিদ্ধ
করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের কারণে ওমরাহ পালনে তুরস্কসহ ১৮ দেশের নাগরিকের সউদী প্রবেশ নিশেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। টিকা নেয়া থাকলেও তুরস্ক, লেবানন ও আফগানিস্তানসহ ১৮ দেশের নাগরিককে সউদী প্রবেশে নিষেজ্ঞা আরোপ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা অন্য দেশগুলো হচ্ছে- মালাবি, জাম্বিয়া, মাদাগাস্কার, এঙ্গোলা, সিশেল, মরিশাস, কোমোরোস, দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া, বোতসোয়ানা, মোজাম্বিক, লেসোথু, ইউথুপিয়া ও এসওয়াতিনি।

আমিরাতে সাত দেশের ফ্লাইট স্থগিত
করোনার নতুন ধরনের সংক্রমণরোধে সাত দেশের সঙ্গে ফ্লাইট স্থগিত ঘোষণা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। গতকাল থেকে এ স্থগিতাদেশ কার্যকর হয়েছে। ফ্লাইট স্থগিত করা সাত দেশ হলো- দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া, বতসোয়ানা, জিম্বাবুয়ে, মোজাম্বিক, লিসোথো ও এসওয়াতিনি।

ভারতে পৌঁছেছে ওমিক্রন?
ওমিক্রন আতঙ্কের মধ্যেই ভারতে কোভিড পজেটিভ হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা ফেরত এক ব্যক্তি। যদিও তিনি করোনার নয়া প্রজাতি ‘ওমিক্রন’-এ আক্রান্ত কিনা, সেই বিষয়ে এখনও নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি। তবে তাঁকে কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হয়েছে। আইসেলেশনে রয়েছে ওই ব্যক্তির পরিবারও। একইসঙ্গে গতকালই তাদের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। ২৪ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন থেকে মহারাষ্ট্রের থানে জেলার দম্বিভালিতে ফেরেন ওই ব্যক্তি। দেখা যায়, তিনি কোভিড পজেটিভ।

থানের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফেরার পর থেকে এখনও পর্যন্ত কারো সংস্পর্শে আসেননি। তাঁকে আইসোলেশন সেন্টারে কোয়ারেন্টিন করে রাখা হয়েছে। এমনকি তার গোটা পরিবারও আইসোলেশনেই রয়েছে।

বিমানবন্দর থেকে লাপাত্তা বৎসোয়ানার মহিলা
এদিকে জব্বলপুরের দুমনা বিমানবন্দর থেকে ‘নিখোঁজ’ বৎসোয়ানার মহিলা। হন্যে হয়ে ওই বৎসোয়ানার মহিলাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে প্রশাসন। ১৮ নভেম্বর জব্বলপুরের দুমনা বিমানবন্দরে ‘পৌঁছেন’ ওরিমিট সেলিন নামে ওই মহিলা। আর তারপর থেকেই তিনি ‘নিখোঁজ’। বছর ২৪-এর ওই মহিলা ‘সাউথ আফ্রিকান ন্যাশনাল’ এয়ারলাইনসের বিমানে প্রথমে দিল্লি আসেন। তারপর সেখান থেকে জব্বলপুরে। তার খোঁজে জব্বলপুরের সমস্ত হোটেল, গেস্ট হাউজে তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু তার কোনও খোঁজ-ই এখনও পর্যন্ত মেলেনি।

তার দেয়া মোবাইল নাম্বারে ফোন করলে ওই মহিলা জব্বলপুরে আসার কথা-ই অস্বীকার করেন। তিনি দিল্লির দূতাবাসেই রয়েছেন বলে জানান! যারফলে কোনটা সত্যি, কোনটা ভুয়ো জানতে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। সূত্র : এএফপি, বিবিসি নিউজ, আল-জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান, বুমবার্গ, রয়টার্স, এনবিসি নিউজ।

জর্ডানে গার্মেন্টসে কাজ করছে ৫০ হাজার বাংলাদেশি নারী।

সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৩ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

জর্ডানে বাংলাদেশি নারী কর্মীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। অন্য দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশি নারীরা সরকারিভাবে জর্ডানে বেশি কর্মরত আছেন। জর্ডানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ৪৭ হাজার বাংলাদেশি নারী শ্রমিক পোশাকখাতে কাজ করছে।

বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং সেবা বিভাগের কোম্পানি সেক্রেটারি মো. আব্দুস সোবহান বলেন, ‘বাংলাদেশি নারীদের জন্য অর্থ উপার্জনের এটি একটি দারুণ মাধ্যম। বাংলাদেশের পোশাক কারখানায় কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকলেই একজন নারী জর্ডানে চাকরি পাওয়ার সুবিধা গ্রহণ করতে পারে।
জর্ডানের পোশাক কারখানায় কাজ করে একজন নারী প্রতি মাসে ২৬০ ডলার থেকে ৩৬০ ডলার পর্যন্ত উপার্জন কর‍তে পারে বলে জানান আব্দুস সোবহান। বাংলাদেশে যেখানে একজন নারী পোশাক কারখানায় কাজ করে প্রতি মাসে গড়ে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা করে পাচ্ছে, সেখানে একই অভিজ্ঞতায় জর্ডানের পোশাক কারখানায় কাজ করে বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত উপার্জন করা সম্ভব বলে তিনি জানান। 

এদিকে, করোনাভাইরাস থেকে স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে শুরু করেছে জর্ডান। ২০২০ সালে করোনা পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ থেকে মাত্র ৩ হাজার ৭০০ পোশাকশ্রমিক আমদানি করে জর্ডান। কিন্তু চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ১২ হাজার ৩০০ শ্রমিক জর্ডানে কাজের সুযোগ পেয়েছে বলে জানা যায়। দেশটি দুই বছর মেয়াদি চুক্তিতে বাংলাদেশ থেকে পোশাকশ্রমিক আমদানি করছে।
২০১০ সাল থেকেই ব্যবসায়িক চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ জর্ডানে শ্রমিক রপ্তানি করে আসছে।

বাংলাদেশ নারী শ্রমিক কেন্দ্রের (বিএনএসকে) একটি জরিপে দেখা যায়, বাংলাদেশের গ্রামঞ্চলের বিদেশগমনেচ্ছু নারীরা মূলত জর্ডানের দেওয়া এসকল সুবিধার জন্যই মধ্যপ্রাচ্যে কর্মসংস্থানের জন্য পছন্দের তালিকায় জর্ডানকে এগিয়ে রাখে।

এ ব্যাপারে ব্র্যাকের অভিবাসন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, জর্ডানে আরও নারী কর্মী পাঠানোর ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করছে ব্র্যাক। বাংলাদেশের নারীদের স্বনির্ভর হওয়ার জন্য জর্ডানের পোশাকখাতে কাজ করা একটি বড় সুযোগ বলে মনে করেন তিনি।
জর্ডানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। জর্ডানের শ্রম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য সরকারি এজেন্সি- জর্ডান চেম্বার অব কমার্স, জর্ডান গার্মেন্টস এক্সোসরিস এবং সংশ্লিষ্ট পোশাক কারখানার মালিকদের সঙ্গেও আমরা যোগাযোগ বজায় রাখছি।
সূত্র- আরব নিউজ

ওমিক্রন মোকাবিলায় দেশে স্বাস্থ্য বিভাগের ১৫ নির্দেশনা।

সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৩ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন মোকাবিলায় ১৫ দফা নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। রোববার রাতে অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক ডা. নাজমুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা দেয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন, ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের চেয়েও বেশি সংক্রামক। তাই করোনা আবারো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বন্দরগুলোতে স্ক্রিনিং জোরদার করা, সব ধরনের জনসমাগম নিরুৎসাহিত করা, পর্যটন কেন্দ্রে অর্ধেক মানুষের অংশগ্রহণ এবং রেস্টুরেন্টে অর্ধেক বা তারও কম মানুষ বসে খাওয়াসহ ১৫টি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সব ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় এবং অন্যান্য জনসমাগমও নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। বাইরে বের হলে সবাইকে সবসময় সঠিক নিয়মে মাস্ক পরাসহ সব স্বাস্থ্যবিধিও মানতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ভ্যারিয়েন্ট সম্পর্কে সতর্ক করেছে। যুক্তরাজ্যসহ অনেক দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া, জিম্বাবুয়ে, বতসোয়ানা এবং লেসোথোর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করেছে। করোনাভাইরাসের ভ্যারিয়েন্টটি ডেলটার চেয়েও বেশি সংক্রামক বলে বিশেষজ্ঞরা মতামত প্রকাশ করেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া ১৫ নির্দেশনাগুলো হচ্ছে-

১. দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া, জিম্বাবুয়ে, বতসোয়ানা, এসওয়াতিনি, লেসোথোসহ যেসব দেশে ওমিক্রনের সংক্রমণ ধরা পড়েছে, সেসব দেশ থেকে আসা যাত্রীদের বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্ক্রিনিং জোরদার করতে হবে।

২. সব ধরনের (সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও অন্যান্য) জনসমাগম নিরুৎসাহিত করতে হবে।

৩. বাড়ির বাইরে সবার সঠিকভাবে নাক-মুখ ঢেকে মাস্ক পরাসহ সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে।

৪. রেস্তোরাঁয় ধারণক্ষমতার অর্ধেক বা তার কম আসনে বসে খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

৫. সকল প্রকার জনসমাবেশ, পর্যটন স্থান, বিনোদনকেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার, সিনেমা হল/থিয়েটার হল ও সামাজিক অনুষ্ঠানে (বিয়ে, বৌভাত, জন্মদিন, পিকনিক পার্টি ইত্যাদি) ধারণক্ষমতার অর্ধেক বা তার কম সংখ্যক লোক অংশগ্রহণ করতে পারবে।

৬. মসজিদসহ সকল উপাসনালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে।

৭. গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে।

৮. যেসব দেশে এই ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে, সেসব দেশ থেকে আসা যাত্রীদের ১৪ দিন কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে হবে।

৯. সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (সকল মাদ্রাসা, প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়) ও কোচিং সেন্টারে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে।

১০. সকল স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে সেবাগ্রহিতা, সেবা প্রদানকারী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঠিকভাবে নাক-মুখ ঢেকে মাস্ক পরাসহ সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে।

১১. স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভ্যাকসিন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

১২. কোভিড উপসর্গ/লক্ষণযুক্ত সন্দেহজনক ও নিশ্চিত করোনা রোগীর আইসোলেশন ও কোভিড পজিটিভ রোগীর সংস্পর্শে আসা অন্যান্যদের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে হবে।

১৩. কোভিড-১৯ এর লক্ষণযুক্ত ব্যক্তিকে আইসোলেশনে রাখা এবং তার নমুনা পরীক্ষার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সহায়তা করা যেতে পারে।

১৪. অফিসে প্রবেশ এবং অবস্থানকালীন বাধ্যতামূলক নাক-মুখ ঢেকে মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাটা দাপ্তরিকভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

১৫. মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সচেতনতা তৈরির জন্য কমিউনিটি পর্যায়ে মাইকিং ও প্রচার চালানো যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে মসজিদ/মন্দির/গির্জা/প্যাগোডার মাইক ব্যবহার করা যেতে পারে এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলর/ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যসহ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা যেতে পারে।

যুক্তরাজ্য, জার্মানি এবং ইতালির পর অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডসেও শনাক্ত হয়েছে ওমিক্রন। সংক্রমণ ঠেকাতে আফ্রিকার দেশগুলোর উপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে বিভিন্ন দেশ।

Bizarre: স্বামী আমার সঙ্গে যা করতেন ও তা-ই করে, গরুকে বিয়ে করে ফের সংসার পাতলেন মহিলা।

সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৩ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

তাঁর মুখের কাছে মুখ এনে আদর করেছিল গরুটি। তখন থেকেই মহিলার মনে হত মৃত স্বামীর পুনর্জন্ম হয়েছে গরুরূপে। সেই অনুভূতি গভীর হতেই আর দেরি করেননি। বিয়ে করেছেন গরুকে। সম্প্রতি এ রকম ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ কম্বোডিয়ায়।  

কম্বোডিয়ার ক্রাতি প্রদেশে থাকেন খিম হাং। ৭৪ বছরের ওই বৃদ্ধার স্বামী মারা গিয়েছে গত বছর। এর মধ্যেই একটি বাছুর তাঁর মুখের কাছে মুখ এনে আদর করেছিল। যদিও ওই মহিলার দাবি তাঁকে চুম্বন করেছিল গরুটি। তার পর থেকেই খিমের মনে হচ্ছে, এই গরুটিই তাঁর মৃত স্বামী। তা মনে হওয়ার পর গরুকে বিয়েও করেছেন ৭৪ বছরের খিম। গ্রামবাসীদের অনেকেই জানিয়েছেন তাঁরা উপস্থিত ছিলেন খিমের সঙ্গে গরুর বিয়েতে।

গরুটিকে বিয়ে করে নিজের একতলা ঘরেই রেখেছেন খিম। নিয়মিত স্নান করানো, খেতে দেওয়ার পাশাপাশি স্বামী হিসাবেই তিনি যত্ন নিচ্ছেন গরুটির। এমনকি আরাম করে ঘুমের জন্য নরম বালিশ-বিছানার ব্যবস্থাও করেছেন গোরূপী ‘স্বামী’র জন্য।

ঘটনা নিয়ে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে খিম বলেছেন, ‘‘আমি মনে করি ওই গরু আমার স্বামী। কারণ ওই গরু আমার সঙ্গে একই আচরণ করে, যা স্বামী বেঁচে থাকার সময় করতেন।’’ প্রথম কবে তাঁর এই অনুভূতি হয়েছিল, সে কথাও সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন খিম। তিনি বলেছেন, ‘‘গরুটি আমার ঘাড়, চুলের কাছে এসে চেটে দেয়। তার পর আমাকে চুমু খেয়ে সিঁড়ি দিয়ে আমার পিছনে আসছিল। ঠিক যেমন আমার স্বামী করতেন। তার পর থেকেই আমার মনে হচ্ছে আমার স্বামী গরু হয়ে ফের আমার কাছে এসেছেন।’’

কুয়েত প্রবাসীদের জন্য বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য বীমা ১৩০ দিনার থেকে শুরু হয়ে ১৯০ দিনার পর্যন্ত পৌঁছাবে..!!

সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৩ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

কুয়েতে প্রবাসীদের জন্য বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য বীমা ১৩০ দিনার বার্ষিক ফি থেকে শুরু হবে এবং প্রতি দুই বছরে ২০ দিনার বৃদ্ধি করে নয় বছরে জনপ্রতি সর্বোচ্চ ১৯০ দিনারে পৌঁছাবে, নির্ভর যোগ্য একজন কর্মকর্তা প্রকাশ করেছেন।

হেলথ ইসুরেন্স হসপিটাল কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ধামান, থামের আরব, যোগ করেছেন যে নতুন পরিষেবাটি কুয়েতের সমস্ত প্রবাসীদের জন্য প্রযোজ্য হবে।

একজন প্রবাসীর ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য বীমা বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য বীমাকে প্রতিস্থাপন করে না যা রেসিডেন্সি পারমিট নবায়নের জন্য প্রয়োজন হবে, তিনি বলেছিলেন।

আধিকারিক ব্যাখ্যা করেছেন যে পরিষেবাটির মূল মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং কুয়েতের অন্যান্য সরকারী সংস্থাগুলির দ্বারা পরিচালিত বেশ কয়েকটি গবেষণার উপর ভিত্তি করে। “স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুসারে কুয়েত জনপ্রতি যে স্বাস্থ্যসেবার গড় খরচ বহন করে তা বছরে ৪১৩ দিনারে পৌঁছেছে,” এই তথ্যটি তিনি কুয়েতের সংবাদপত্র আল আনবাকে বলেছেন৷

“আরো বলেছেন,১৩০ দিনার এর খরচ, যা প্রতি দুই বছরে ২০ দিনার করে বৃদ্ধি পাবে, এটি একটি খুব যুক্তিসঙ্গত খরচ যা স্বাস্থ্যসেবাতে বর্তমান ব্যয়ের পরিপ্রেক্ষিতে বার্ষিক ছয়টি সরকারি হাসপাতাল এবং অধিভুক্ত কেন্দ্রে মোট ৮৬৭ মিলিয়ন দিনার।”

নতুন ব্যবস্থাটি কবে নাগাদ কার্যকর হবে তা তিনি নিশ্চিত করে বলেননি।

SOURCE — গাল্ফ-নিউজ।

📌নিউজ লিংক 👇 নিচে দেওয়া হয়েছে….

📌 নিউজ লিংক 👇
https://www.facebook.com/1411668162380394/posts/3068037853410075/

✍️ Collected, translated and posted by Nahar Hoque

শিল্প নগর পরিদর্শনে মীরসরাইয়ে সৌদি মন্ত্রী

সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৩ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

সৌদি আরব সরকারারের সৌদি পরিবহন ও লজিস্টিক সার্ভিস মন্ত্রী সালেহ নাসের এ আল জাসের মীরসরাইয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর পরিদর্শন করেন। সোমবার (২৯ নভেম্বর) সকালে সফর সঙ্গীদের নিয়ে বেজা অফিসের সামনে বৃক্ষরপন ও ৩নং সুপার ডাইক সংলগ্ন ভূমি পরিদর্শন সহ বেজা কনফারেন্স রুমে মতবিনিময় করেন।

এ সময় সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্টদূত জাবেদ পাটোয়ারী, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কতৃপক্ষের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অতিরিক্ত সচিব মো: ইরফান শরীফ, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল সহকারী ব্যাবস্থাপক আমজাদ হোসেন, মীরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিনহাজুররহমান,মীরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মজিবুর রহমান পিপিএম সহ বেজার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সৌদি আরব মন্ত্রী সালেহ নাসের এ আল জাসের সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন কর্মকান্ড দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। সৌদি সরকার সব সময় বাংলাদেশের সাথে ছিলো এবং ভবিষ্যতে এধারা অব্যাহত থাকবে।এই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প অঞ্চলে সৌদি সরকারের সাথে কথা বলে বিনিয়োগ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পঙ্গু স্ত্রীকে শহর দেখানোর ইচ্ছা থেকেই রিকশা আবিষ্কার!

সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৩ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

পৃথিবীর অনেক দেশ থেকে রিকশার ব্যবহার উঠে গেলেও বাংলাদেশে রয়েছে এর বহুল প্রচলন। ঢাকাকে অনেকে বলেন রিকশার নগরী। সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধুমাত্র ঢাকায় বৈধ অবৈধ মিলে প্রায় ১৫ লাখ রিকশা চলাচল করছে। আর পুরো দেশে কি পরিমাণ রিকশা চলছে সেটার সঠিক কোন পরিসংখ্যান নেই।

গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের ২০১৫ সালের প্রকাশনা অনুযায়ী, ঢাকার ৪০ শতাংশ মানুষ নিয়মিত চলাচলের ক্ষেত্রে রিকশার ওপর নির্ভরশীল। অথচ এই রিকশার উদ্ভব বাংলাদেশে হয়নি। হয়েছে জাপানে। বেশিরভাগ গবেষণা তাই বলছে। আবার কোন কোন গবেষকদের মতে এই রিকশা তৈরি করেছেন মার্কিনীরা। রিকশা আবিষ্কারের সঠিক ইতিহাস নিয়ে এমন অনেক মতভেদ আছে। বাংলাদেশে যে প্যাডেল দেয়া সাইকেল রিকশার প্রচলন সেটা সিঙ্গাপুর থেকে এসেছে বলে ইতিহাসবিদ ও গবেষক মুনতাসির মামুনের স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী ঢাকা বইটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিকশা’ শব্দটি এসেছে জাপানি ‘জিন্‌রিকিশা’ শব্দ থেকে। যেখানে জিন্ অর্থ মানুষ, রিকি অর্থ শক্তি এবং শা অর্থ বাহন। শব্দগুলোকে যোগ করলে রিকশার আভিধানিক অর্থ দাঁড়ায় মানুষের শক্তিতে চলা বাহন বা মানুষ চালিত বাহন। তবে শুরুর দিকে কোন রিকশাই তিন চাকার ছিল না। সেগুলো মূলত দুই চাকায় ভর করে চলতো এবং সামনে ছিল লম্বা হাতল। এই হাতল ধরে একজন মানুষ ঠেলাগাড়ির মতো হেঁটে বা দৌড়ে এই রিকশা টেনে নিতেন। সে সময় ‘রিকশা’ বলতে এ ধরনের হাতে টানা রিকশাকেই বোঝানো হতো। পরে দুই চাকার রিকশার ডিজাইন তিন চাকার রিকশায় বিকশিত হয়।

গবেষক এম উইলিয়াম স্টিলির “রিকশা ইন সাউথ এশিয়া, ইন্ট্রোডাকশন টু স্পেশাল সেকশন” গবেষণা প্রবন্ধে দাবি করা হয়েছে, ১৮৬৯ সালের দিকে জাপানে কাহার-টানা পালকির বিকল্প হিসেবে এই হাতে টানা রিকশার উদ্ভব হয়। পালকি টানা ছিল কষ্টসাধ্য, গতি ছিল অনেক কম। সে হিসেবে রিকশা অপেক্ষাকৃত দ্রুত বাহন হওয়ায় এটি বাজারে আসতেই বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। দেশটির মিজি সাম্রাজ্যের শাসনামলে এই রিকশা তৈরি হয়।

শুরুর দিকে কেবল ভারী মালপত্র বহনের জন্য রিকশা ব্যবহৃত হতো, যা ১৮৭০ সালের পর মানুষের চলাফেরার জনপ্রিয় বাহন হয়ে ওঠে। ওই গবেষণা অনুযায়ী ১৮৭৫ সাল নাগাদ জাপানে রিকশার সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যায়। এরপর আকিহা দাউসুকে নামে এক ব্যবসায়ী রিকশার আকার ছোট, আকর্ষণীয় ও আরামদায়ক করে তোলেন। তখন থেকেই নরম সিট, হুড এবং ফুট রেস্ট, টায়ার যুক্ত করা হয়। সেখান থেকেই এসব রিকশা চীন (১৮৭৩) , হংকং (১৮৭৪), সিঙ্গাপুরে (১৮৮০), ছড়িয়ে পড়ে।

জাপানের ইতিহাসবিদ সিডেনস্টিকার, এই রিকশা প্রথম তৈরি করেছিলেন ইজুমি ইয়োসুকি নামের এক রেস্তোরাঁর মালিক, ১৮৬৯ সালে। অবশ্য এই রিকশা আবিষ্কারের পেছনে ইজুমি ইয়োসুকির সাথে আরও দুজনের নামও জুড়ে দেয়া হয়। তারা হলেন: সুজুকি টোকোজিরো ও তাকায়ামা কোসুকি। মানুষ বহনের কাজে বাহনটি জনপ্রিয়তা পেলে ১৮৭০ সালের জাপান সরকার ওই তিনজনকে এই বাহনটি বাণিজ্যিকভাবে তৈরি ও বিক্রির অনুমোদন দেয়। রিকশা চালানোর লাইসেন্স হিসেবে এ তিনজনের যে কোনও একজনের অনুমোদনের সিল লাগতো। গবেষণায় তাই তাদেরকেই রিকশা আবিষ্কারের কৃতিত্ব দেয়া হয়েছে।

এভাবে আস্তে আস্তে রিকশা জাপান থেকে ভারত, চীন, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। একেক দেশে এই রিকশার গঠন ও আকৃতি একেকরকম, নামও হয় আলাদা। চীনে একে বলা হয় সানলুঞ্চে, কম্বোডিয়ায় সিক্লো, মালয়েশিয়ায় বেকাক, ফ্রান্সে স্লাইকো নামে রিকশা পরিচিতি পায়। আবার ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এটি পেডিক্যাব নামেও পরিচিত। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জ্বালানি সংকটের কারণে বিভিন্ন দেশে রিকশার প্রচলন ব্যাপক বেড়ে যায়।

রিকশা জাপানে উদ্ভাবিত হলেও সেটির নকশা করেছিলেন জোনাথন স্কোবি বা জোনাথন গোবলে নামের একজন মার্কিন খ্রিস্টান মিশনারী। পারকার এফ ক্যালভিনের লেখা জোনাথন গোবলে ইন জাপান বইয়ে এমনটাই দাবি করা হচ্ছে। মি. জোনাথন ধর্ম প্রচারের কাজে জাপানের ইয়োকোহামা শহরে থাকতেন। তার স্ত্রী এলিজা গোবলে হাঁটতে চলতে পারতেন না। স্ত্রীকে ইয়োকোহামা শহর ঘুরিয়ে দেখাতে মি. স্কোবি ১৮৬৯ সালে দুই চাকার সামনে হাতল বিশিষ্ট বাহনের নকশা আঁকেন এবং কাঠ দিয়ে তৈরি করেন। সেই বাহনের নাম তিনি দেন জিনরিকশা। যা কালের বিবর্তনে রিকশা নামেই পরিচিতি পায়।

দুই চাকার এই হাতে টানা বাহনটি রিকশার প্রাথমিক সংস্করণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পেটেন্ট নিবন্ধন পায়। তারপর সেটির অনুকরণে জাপানে এই বাহনটি নির্মাণ শুরু হয়। তবে এটি কোন মানুষ পরিবহনে নয় বরং ব্যবহৃত হতো মালপত্র পরিবহনের জন্য। আবার এমনটাও বলা হয় যে, ১৮৮৮ সালে এক মার্কিন এক ব্যাপ্টিস্ট রিকশা আবিষ্কার করেছেন। উইলিয়াম ই লুইসের থ্রু দ্য হার্টল্যান্ড অন ইউএস বইয়ে বলা হয়েছে, রিকশা আবিষ্কার হয়েছিল ১৮৪৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের ওরচেস্টারে। সেখানকার এক কামার অ্যালবার্ট টোলম্যান দক্ষিণ আমেরিকান মিশনারীর চলাচলে সুবিধার জন্য রিকশাটি তিনি আবিষ্কার করেছিলেন বলে জানা যায়।

আবার বার্লিংটন কাউন্টি হিস্ট্রিকাল সোসাইটির গবেষণায় বলা হয়েছে, মার্কিন গাড়ি নির্মাতা জেমস বার্চের জাদুঘরে এ ধরণের একটি রিকশার মডেল প্রথম প্রদর্শন করতে দেখা যায়। সেটাও ১৮৬৭ সালের দিকে। মি. বার্চের দাবি করেছিলেন, এটি তার ডিজাইন করা বাহন। রিকশা আবিষ্কারের পেছনে যেসব দেশের নাম উঠে এসেছে, সেখানকার কোথাও এই বাহনটির কোন অস্তিত্ব নেই।

বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে, জাপানি ভাষায় ‘নিনতাকু’ নামে পরিচিত রিক্সার উৎপত্তি জাপানে হলেও বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকের মধ্যে জাপান থেকে সাইকেল রিক্সা উঠে যায়। বরং বাংলাদেশে এসেই এই বাহনটি প্রসার ও জনপ্রিয়তা পেয়েছে। মুনতাসির মামুনের গবেষণা প্রবন্ধ অনুযায়ী বাংলাদেশে এই রিকশা এসেছে ১৯৩০ এর দশকে ভারত থেকে। আর ভারতে প্রথম রিকশার প্রচলন শুরু হয় ১৮৮০ সালের দিকে সিমলা শহরে। বলা হয়, রেভারেন্ট জে ফরডাইস নামের এক স্কটিশ মিশনারী প্রথম এই রিকশা এনেছেন।

এর প্রায় ২০ বছর পর ১৮৯০ সালে সেই রিকশা কলকাতায় আসে। সেখানেও প্রথমে যাত্রী বহনের জন্য নয় বরং মালামাল টানার জন্য রিক্সা ব্যবহার করা হত। কলকাতায় রিকশায় যাত্রী বহন শুরু হয় ১৯১৪ সাল থেকে। তখনকার পৌরসভা কর্তৃপক্ষ, প্রথমবারের মতো রিকশায় যাত্রী পরিবহনের অনুমতি দিয়েছিল বলে জানা গেছে। মিয়ানমারের রেঙ্গুনে ততদিনে রিকশা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বলে বাংলাপিডিয়ায় উল্লেখ করা হয়। কথিত আছে সেই রেঙ্গুন থেকেই চট্টগ্রামে প্রথম রিকশা আসে ১৯১৯ সালের দিকে। এরপর রিকশা আসে ঢাকায়। তবে ঢাকার রিকশা এসেছিল ভারতের কলকাতা থেকে। ১৯৩০ এর দশকে। এ কারণে দুই রিকশার কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য ছিল আলাদা।

তবে মুনতাসির মামুনের গবেষণা প্রবন্ধে এই সময়কাল কিছুটা ভিন্নভাবে উল্লেখ আছে। সেখানে বলা হয়েছে ১৯৩০ এর দশকে কলকাতায় প্যাডেল চালিত সাইকেল রিকশা চালু হয়েছিল। এরপর ১৯৩০ এর দশকের মাঝামাঝি সেই রিকশা বাংলাদেশে আসে এবং ১৯৩৭ সালে আসে ঢাকায়। বাংলাদেশে শুরু থেকে এই সাইকেল রিকশার প্রচলন ঘটে, মানুষের হাতে টানা রিকশা নয়। মুনতাসির মামুন বলেছেন, সিঙ্গাপুরে গত শতকের ত্রিশের দশকে ব্যাপক হারে সাইকেল রিকশা চালু করা হয়। সেখান থেকে ঢাকাসহ এশিয়ার বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে মোমিনুল হকের আত্মজীবনীতে এ সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, ১৯৪০ সালের জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতে নারায়ণগঞ্জের পাট কোম্পানি রেলি ব্রাদার্সের এক কেরানী কলকাতা থেকে একটি রিকশা নারায়ণগঞ্জে নিয়ে আসেন। তার মতে, “এর আগে পূর্ববঙ্গে কেউ রিকশা দেখেনি।”

প্রথম রিকশার মালিক ছিলেন যদু গোপাল দত্ত। প্রথম রিকশা চালকের নাম নরেশ বলে মোমিনুল হকের আত্মজীবনীতে উল্লেখ আছে। এরপর যদু গোপাল দত্তের প্রতিবেশী শিশির মিত্র ৪টি রিকশা আমদানি করেন। সেই থেকেই অল্প অল্প করে রিকশা আমদানি শুরু হয়। হাতে টানা কিছু রিকশাও আমদানি করা হয়েছিল কিন্তু তাতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হওয়ায় পৌরসভা তা বন্ধ করে দেয়। মূলত আমদানি করা রিকশাগুলোয় চেইন লাগানো ছিল বলে বইটিতে উল্লেখ করা হয়। যেন মানুষের পরিশ্রম কম হয়।

বাংলাপিডিয়া বলছে, নারায়ণগঞ্জ এবং নেত্রকোনা শহরে বসবাসরত ইউরোপীয় পাট রপ্তানিকারকরা তাদের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য, ১৯৩৮ সালে প্রথম কলকাতা থেকে চেইন লাগানো রিকশা আমদানি করে। এরপর ঢাকার সূত্রাপুর এলাকার একজন বাঙালি জমিদার এবং ওয়ারীর এক গণ্যমান্য ব্যক্তি রিকশা কিনে ঢাকায় প্রচলন করেন বলে জানা যায়। এভাবেই বাংলাদেশে রিকশা চলাচল শুরু হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে বলা যেতে পারে ঢাকায় রিকশা প্রচলিত হয়েছে ১৯৪০ সালে বা তার কিছু পরে।

তবে তখনও রিকশা তেমন একটা জনপ্রিয় বাহন হয়ে ওঠেনি। পৌরসভার রেকর্ড মতে ১৯৪১ সালেও ঢাকায় রিকশার সংখ্যা ছিল মাত্র ৩৭টি। ১৯৪৭ সালে সেটি বেড়ে ১৮১টিতে দাঁড়ায়। ১৯৫১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ঢাকার জনসংখ্যা ছিল মাত্র চার লাখ। কিন্তু ১৯৯৮ সালে, শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৮০ লাখে গিয়ে দাঁড়ায় এবং নিবন্ধভুক্ত রিকশার সংখ্যা দাঁড়ায় ১,১২,৫৭২-এ। সে বছর বাংলাদেশের অন্যান্য সব জেলায় রিকশার সংখ্যা ২,৭৪,২৬৫ এবং দেশের গ্রামাঞ্চলে এর মোট সংখ্যা ছিল ৯১,০৪০টি। এরপর ধীরে ধীরে এই সংখ্যা বাড়তেই থাকে। ঢাকাতে প্রথম রিকশার লাইসেন্স ১৯৪৪ সালের দিকে দেয়া হয় বলে জানা গেছে।

ঢাকায় রিকশা আসার আগে শহরের মানুষ ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ি, পালকি এবং শহরের খালে নৌকা ব্যবহার করত। রিকশা আসার পর এই যান ঢাকার অধিবাসীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল জাগায়। ধীরে ধীরে রিকশা এবং রিকশা ভ্যান এখন দ্রুত ঘোড়ার গাড়ি এবং গরুর গাড়ির মতো সনাতন যানের স্থান দখল করে নেয় বলে বাংলাপিডিয়া সূত্রে জানা গেছে। এখন বাংলাদেশে যেসব রিকশা চলতে দেখা যায়, সেগুলো আগের চাইতে অনেকটাই আলাদা।

ভিক্ষা করতে নদী সাঁতরে বাংলাদেশে ভারতীয় নাগরিক!

নদী সাঁতরে বাংলাদেশে এসেছেন ভারতের ছত্তিশগড়ের সীতারাম (৫০)! অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে অনুপ্রবেশ করায় তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৭ নভেম্বর) সিলেট নগরীর রেলস্টেশন সংলগ্ন ভার্থখলা এলাকায় বাংলা ও হিন্দি ভাষায় কথা বলে ভিক্ষা করার সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সীতারাম অনুপ্রবেশের বিষয়ে পুলিশকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশে আসার পেছনে তার অসৎ কোনো উদ্দেশ্য নেই। শুধুমাত্র দু’মুঠো ভাতের জন্যই নদীর ওপার থেকে সাঁতরে এপারে এসেছেন।

ভারতের এই নাগরিকের পুরো নাম শ্রী সীতারাম লাল চন্দ। তিনি ভারতের ছত্তিশগড়ের বিলাসপুর জেলার মরোয়ারী থানাধীন মাটিয়াঢাল এলাকার শ্রী শ্যামলাল চন্দ্র দাসের ছেলে।

সীতারামের কাছে কোনো পাসপোর্ট কিংবা কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। গ্রেফতারের পর দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ একটি মামলা করে।

এ বিষয়ে দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, সীতারাম বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর ৫৩ দিন ভারতের অভ্যন্তরেই ভিক্ষা করেন। এরপর জাফলং সীমান্ত দিয়ে নদী সাঁতরে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। সিলেটে আসার পর রেলওয়ে স্টেশনসহ বিভিন্ন স্থানে ভিক্ষাবৃত্তিতে নেমে পড়েন তিনি।

দেশে,করোনায় আরও তিনজনের প্রাণহানি.

রোববার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ২৭ হাজার ৯৭৮ জনে। 

রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন করে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ধরা পড়েছে আরও ২০৫ জনের শরীরে। এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৭৫ হাজার ৭৮৪ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয় ১৯ হাজার ৮১১টি। পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১ দশমিক ৩ শতাংশ।

আর এই সময়ে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ২৯৯ জন। এ পর্যন্ত মোট ১৫ লাখ ৪০ হাজার ৩১৭  জন করোনা থেকে সেরে উঠেছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ২ জন পুরুষ, ১ জন নারী। ঢাকা বিভাগে মারা গেছেন ২ জন, ১ জন মারা গেছেন চট্টগ্রাম বিভাগে। বাকি বিভাগগুলোতে কারো মৃত্যু হয়নি।

দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত বছরের ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই বছর সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছিল ৬৪ জনের। 

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় চলতি বছর জুন থেকে রোগীর সংখ্যা হু-হু করে বাড়তে থাকে। ২৮ জুলাই একদিনে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। 

চলতি বছরের গত ৭ জুলাই প্রথমবারের মতো দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৫ ও ১০ আগস্ট ২৬৪ জন করে মৃত্যু হয়, যা মহামারির মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। 

বেশকিছু দিন ২ শতাধিক মৃত্যু হয়। এরপর গত ১৩ আগস্ট মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ এর নিচে নামা শুরু করে। দীর্ঘদিন শতাধিক থাকার পর গত ২৮ আগস্ট মৃত্যু ১০০ এর নিচে নেমে আসে।

২০২০ সালের এপ্রিলের পর গত ১৯ নভেম্বর প্রথম করোনাভাইরাস মহামারিতে মৃত্যুহীন দিন পার করেছে বাংলাদেশ।

তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীর কাছে হারল নৌকা.

রোববার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ৬নং ত্রিলোচনপুর ইউনিয়ন নির্বাচনে আনারস প্রতীকের তৃতীয় লিঙ্গের স্বতন্ত্র প্রার্থী নজরুল ইসলাম ঋতুর কাছে পরাজিত হয়েছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম সানা।

রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আনারস প্রতীকের প্রার্থী ঋতু বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। আনারস প্রতীক নিয়ে তৃতীয় লিঙ্গের এই প্রার্থী পেয়েছেন ৯ হাজার ৫৬৯ ভোট।  নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীকের নজরুল ইসলাম সানা পেয়েছেন ৪ হাজার ৫১৭ ভোট। 

ভোটে জয়ী হয়ে মুঠোফোনে ঋতু বলেন, এ জয় ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নবাসীর। প্রতিটি মানুষের কাছে আমি ঋণী। কাজের মাধ্যমে মানুষের ঋণ শোধ করার চেষ্টা করব।  

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৮২৫ জন ভোটার। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৯৫ হাজার ৩৭৪ জন এবং নারী ভোটার ৯২ হাজার ৪৫১ জন। ইউপি চেয়ারম্যান পদে ২৯ জন, পুরুষ সদস্য পদে ৩১৫ জন ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ৯৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। 

কালীগঞ্জ উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে ইতোমধ্যে তিনজন চেয়ারম্যান প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে ১নং সুন্দরপুর-দুর্গাপুর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের ওহিদুজ্জামান ওদু, ৭নং রায়গ্রাম ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের আলী হোসেন অপু ও ৯নং বারবাজার ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের আবুল কালাম আজাদ বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।