ক্যাটাগরি Uncategorized

বিমান দুর্ঘটনায় ব্রাজিলিয়ান গায়িকার মর্মান্তিক মৃত্যু।

শনিবার, ০৬ নভেম্বর ২০২১, ২১ কার্তিক ১৪২৮, ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

ব্রাজিলের জনপ্রিয় গায়িকা মারিলিয়া মেনডোনকা বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। মারিলিয়াসহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও চারজন। তারা হলেন মারিলিয়ার এক আত্মীয়, তার প্রযোজক ও দুইজন ক্রু সদস্য। দেশটির মিনাস গেরাইস রাজ্যে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে স্থানীয় সময় শুক্রবার (৫ নভেম্বর)। জানা গিয়েছে, একটি কনসার্টের জন্য বিমানে পাড়ি দিয়েছিলেন মারিলিয়া। সে সময় বিমান থেকে নিজের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতেও শেয়ার করেন তিনি। কিন্তু তারপরই তার এই আচমকা মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না ভক্তরা।

দুর্ঘটনার খবর প্রথমে প্রকাশ্যে আসার পরে মারিলিয়ার টিমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, তিনি ভাল আছেন। পরে টেলিভিশনে বিমান দুর্ঘটনার ছবি, ভিডিও দেখানো হয়। একটি পাহাড়ি এলাকায় ঝর্ণার পাশে পড়ে রয়েছে বিমানের ধ্বংসাবশেষ, এমন ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ওই বিমানের কোনও যাত্রীরই যে আর বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা নেই, তা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে যায়।

কী ভাবে এই বিমান দুর্ঘটনা হল তা নিয়ে ব্রাজিলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তের পর আসল কারণ অনুসন্ধান করে তা প্রকাশ্যে জানাবেন। তবে প্রাথমিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বিমানের চাকা মাটি ছোঁয়ার আগে একটি বৈদ্যুতিক তারে ধাক্কা খায়। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন পাইলট। আর তাতেই মাটিতে আছড়ে পড়ে বিমানটি।

এই ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনার খবরে শোকাহত ব্রাজিলিয়ানরা। মাত্র ২৬ বছর বয়সে মারিলিয়ার এই অকাল মৃত্যু কেউই মেনে নিতে পারছেন না। নেইমারের মতো বিখ্যাত ফুটবল তারকা শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই দুর্ঘটনার খবর তিনি বিশ্বাস করেন না।

২০১৯-এ মারিলিয়ার অ্যালবাম ‘এমন টোডোস ওস কানটোস’ লাতিন গ্র্যামি পুরস্কার জিতেছিল। চলতি বছরেও একই পুরস্কারের জন্য ‘পাতরোআস’ অ্যালবামেরের জন্য মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিনি। অল্প বয়সেই খ্যাতি পেয়েছিলেন মারিলিয়া। তার পারফরম্যান্স তাকে জনপ্রিয় করে তুলেছিল। ২০২০ সালে ইউটিউবে সর্বোচ্চ সংখ্যক গান শোনা হয়েছে যেসব শিল্পীদের, তার মধ্যে তিনি অন্যতম।

তেলের ট্যাংকার বিস্ফোরণ হয়ে সিয়েরা লিওনে নিহত ৯১

শনিবার, ০৬ নভেম্বর ২০২১, ২১ কার্তিক ১৪২৮, ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওনের রাজধানী ফ্রিটাউনে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৯১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এতে আরও কয়েক ডজন আহত হয়েছেন; যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। শুক্রবার ফ্রিটাউনের কাছের ওয়েলিংটনের ব্যস্ত চোইথরাম সুপার মার্কেটের পাশের একটি মোড়ে বিস্ফোরণের এই ঘটনা ঘটেছে। -বিবিসি, রয়টার্স

বিবিসি বলছে, শুক্রবার ফ্রিটাউনের এক ব্যস্ত জংশনে ৪০ ফুট দীর্ঘ তেলবাহী একটি ট্যাংকারের সাথে অন্য একটি বাহনের সংঘর্ষ হয়। এতে মুহূর্তের মধ্যে সেখানে বিকট বিস্ফোরণের পর আগুন ধরে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিস্ফোরিত ট্যাংকারের চারপাশে আগুনে পোড়া মরদেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। ফ্রিটাউনের মেয়র ইভন আকি-সায়ার এই ঘটনাকে ‘দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করলেও বিস্ফোরণে হতাহত কিংবা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও পরিষ্কার নয় বলে জানিয়েছেন।

ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে গুজব ছড়িয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত মৃতের সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি। তবে হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন তিনি। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত মর্গের ব্যবস্থাপক রয়টার্সকে বলেছেন, তারা এখন পর্যন্ত ৯১ জনের মরদেহ পেয়েছেন। সিয়েরা লিওনের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান ব্রিমা বুরেহ সিসে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত ভয়াবহ, ভয়াবহ দুর্ঘটনা।

দেশটির প্রেসিডেন্ট জুলিয়াস মাদা বায়ো এক টুইট বার্তায় বলেছেন, ‘যারা প্রিয়জনকে হারিয়েছেন এবং যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন; তাদের প্রতি আমার গভীর সহানুভূতি। আমার সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা করার জন্য সবকিছু করবে।’ বিবিসি বলছে, মাত্র ১০ লাখের কিছু বেশি মানুষের এই শহরটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকটি মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে। গত মার্চে ফ্রিটাউনের একটি বস্তিতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৮০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি এবং ৫ হাজারের বেশি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন।

বিশ্বে খাদ্যের দাম ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ : জাতিসংঘ

শুক্রবার, ০৫ নভেম্বর ২০২১, ২০ কার্তিক ১৪২৮, ২৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

বিশ্বজুড়ে নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে খাদ্যপণ্যের দাম। গত দশ বছরের মধ্যে খাদ্যের এই দাম এখন সর্বোচ্চ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানিয়েছে, এক দশকের মধ্যে বিশ্বে খাবারের দাম সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। গত বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে এ বছর দাম সর্বোচ্চে পৌঁছায়।
এফএও’র হিসাবে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে খাদ্যশস্য ও ভোজ্য তেলের। অক্টোবরে ভোজ্য তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
বিবিসি জানায়, সরবরাহ সমস্যা, নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া, কারখানা বন্ধ হওয়া এবং বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে খাবারের দাম বেড়ে যাচ্ছে।
খাদ্য ও কৃষি সংস্থা বলেছে, খাদ্যশস্যের দাম এক বছর আগের তুলনায় ২২ শতাংশ বেড়েছে।
গত ১২ মাসে গমের দাম ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি খাদ্যশস্যের দাম বাড়ায় বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছে। বলা হচ্ছে, প্রধান রফতানিকারক দেশ কানাডা, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে গমের আবাদ কম হওয়াই এর দাম বাড়ার কারণ।
খাদ্যশস্য উৎপাদন কমে যাওয়ার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনকেও দায়ী করেছে এফএও।
বিবিসি-কে অস্ট্রেলিয়ার ‘কার্টিন বিজনেস স্কুল’ এর কৃষিবাণিজ্য বিশেষজ্ঞ পিটার ব্যাট বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে খাদ্যশস্যের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। বিশ্বের অনেক জায়গায় আমরা শস্য উৎপাদনে কয়েক বছর ধরে খুব খারাপ সময় পার করেছি।”
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা বলছে, পাম, সয়াবিন, সূর্যমূখীর তেল ও সরিষার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ভোজ্য তেলের দাম বাড়ছে। তাছাড়া, শ্রমিক সংকটের কারণে খাবার উৎপাদন ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে তা পরিবহনের ব্যয় বেড়েও খাবারের দাম বেড়ে যাচ্ছে। সূত্র : বিবিসি, রয়টার্স।

১০৬ বছর পর তুরস্কের আমানত ফেরত দিলো ফিলিস্তিনি পরিবার

শুক্রবার, ০৫ নভেম্বর ২০২১, ২০ কার্তিক ১৪২৮, ২৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

১৯১৪ সালের ২৮ জুলাই শুরু হওয়া প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় উসমানিয়া সামরিক বাহিনীর এক সৈন্যের আমানত রাখা অর্থ তুরস্কের কাছে ফেরত দিয়েছে ফিলিস্তিনি এক পরিবার।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পশ্চিম তীরের নাবলুস শহরে এক অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনি আল-আলউল পরিবার তুর্কি কনস্যুল জেনারেল আহমদ রিজা দেমিরের হাতে এই অর্থ ফেরত দেয়।
ওই পরিবারের সূত্রে জানা যায়, যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ওই সৈন্য তাদের কাছে এই অর্থ নিরাপদে রাখার জন্য দিয়ে বলেছিলেন, ‘যদি আমরা জয়ী হয়ে ফিরতে পারি, তখন আমি তা ফেরত নেবো।’
কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধে উসমানিয়াদের হারিয়ে ব্রিটেন ফিলিস্তিন দখল করার ফলে ওই সৈন্য আর ফেরত আসেননি।
কনস্যুল জেনারেল আল-আলাউল পরিবারের কাছে তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান, ফিলিস্তিনি ও তুর্কি জনগণের মধ্যে সাদৃশ্য বিপুল।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘এক শ’ বছর আগে আমাদের শাসনগত বিচ্ছেদ হলেও আমাদের হৃদয় সর্বদাই একত্রে ছিলো।’
আল-আলাউল পরিবারের বর্তমান প্রধান রাগিব আল-আলউল বলেন, এই অর্থ তার চাচা ওমর আল-আলাউলের কাছে গচ্ছিত রাখা হয়েছিলো।
তিনি বলেন, ‘তিনি (উসমানিয়া সৈন্য) আমার চাচার কাছে তা গচ্ছিত রেখেছিলেন এবং আজ পর্যন্ত তা আমাদের কাছেই গচ্ছিত ছিলো। আমরা জানি না যে ওই তুর্কি সৈন্য কি যুদ্ধে নিহত হয়েছেন বা পরে মারা গেছেন। আমার চাচাও ওই সৈন্যের নাম ভুলে গিয়েছিলেন, তাই আমরা তার নাম জানি না।’
রাগিব আল-আলাউল জানান, ওই সৈন্য ১৫২ উসমানিয়া লিরা আমানত রেখেছিলেন। ঐতিহাসিকদের বিবেচনায় তা বর্তমানে ৩০ হাজার ডলার (২৫ লাখ ৭৩ হাজার সাত শ’ ২৫ টাকা) সমপরিমাণ।
১৯১৭ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটেনের কাছে ফিলিস্তিন হারানোর আগে চার শ’ বছর উসমানিয়া সুলতানাত ভূখণ্ডটি শাসন করে। সূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড

পুনিতের দান করা চোখেই দেখতে পাচ্ছেন ৪ তরুণ-তরুণী

শুক্রবার, ০৫ নভেম্বর ২০২১, ২০ কার্তিক ১৪২৮, ২৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

ভারতের কন্নড় সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা পুনিত রাজকুমার মারা গেছেন। গেল ২৯ অক্টোবর মাত্র ৪৬ বছর বয়সে বেঙ্গালুরুর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুর আগে নিজের চোখ দান করে গেছেন এই সুপারস্টার।

মূলত পুনিত রাজকুমারের বাবা কিংবদন্তি অভিনেতা ডা. রাজকুমার ১৯৯৪ সালে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তার পুরো পরিবার মরণোত্তর চক্ষুদান করবে। বাবার সেই কথা রেখেছেন পুনিত। তার মৃত্যুর ছয় ঘণ্টার মধ্যে চক্ষুদান প্রক্রিয়া সম্পাদন করেন চিকিৎসকদের একটি দল। তার দান করা চক্ষুতে ৪ তরুণ-তরুণী তাদের দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়েছেন।

ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, নারায়ণ নেত্রালয় হাসপাতালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ভুজঙ্গ শেট্টির নেতৃত্বাধীন কর্নিয়া টিম পুনিতের জোড়া চোখ সংগ্রহ করে। সাধারণত এক জোড়া সুস্থ চোখ থেকে দু’জনের দৃষ্টি ফেরানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পুনিতের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে চারজনের দৃষ্টি ফেরাতে সক্ষম হয়েছে চিকিৎসকরা। সেখানে সম্ভবত এই প্রথমবার একজনের মরণোত্তর চক্ষুদানে উপকৃত হলেন চারজন।

বেঙ্গালুরুর নারায়ণ নেত্রালয় চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসক জানিয়েছেন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে একই দিনে চারজনের সার্জারি করা হয়। বিধি ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় রোগীদের নাম প্রকাশ করেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

পুনিতের অকালে চলে যাওয়া কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তার ভক্তরা। প্রিয় অভিনেতার চিরবিদায় সহ্য করতে না পেরে জীবন দিতেও দ্বিধা করেননি এক ভক্ত! এই সুপারস্টারের মৃত্যুর খবর শুনেই আত্মহত্যা করেছেন ওই ভক্ত! আরেক ভক্ত আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। এ ছাড়া হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও দুই জন।

প্রসঙ্গত, গেল শুক্রবার (২৯ অক্টোবর) জিমে ওয়ার্কআউট করার সময় হার্ট অ‌্যাটাক হয় পুনিতের। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বুকে ব্যথা নিয়ে বেঙ্গালুরুর বিক্রম হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। যখন তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়, তখনই তার শারীরিক অবস্থা খারাপ ছিল। ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি।

আমি হিউম্যান না রোবট, তা জেনে গুগলের কাজ কী

বৃহস্পতিবার, ০৪ নভেম্বর ২০২১, ১৯ কার্তিক ১৪২৮, ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

গুগল মাঝেমধ্যে প্রেমিকার মতো আচরণ করে। এই গলায় গলায় ভাব তো এই আবার ঠোঁট উল্টিয়ে বলে, তুমি আমার কে!

তখন আমি কে, তা নানাভাবে বোঝাতে হয় গুগলকে। ছবিতে ট্র্যাফিক লাইটগুলো বেছে দিতে হয়। কোন ছবিতে বাইসাইকেল আছে, তা দেখিয়ে দিতে হয়। আবার ছবিতে দেখানো অক্ষরগুলো টাইপ করতে হয়।

সবচেয়ে দুঃখ লাগে, যখন দেখি দুনিয়ায় ৮৭ লাখ প্রজাতির জীব থাকতে গুগল আমাকে কিনা রোবট সাব্যস্ত করে। তখন ক্যাপচা কপচে নিজেকে মানুষ বলে প্রমাণ করতে হয়।

গুগল ব্যবহার করতে গিয়ে ক্যাপচার ফেরে পড়েননি, এমন মানুষ পাওয়া কঠিন। মনে করুন, আপনি নির্ভাবনায় নির্বিঘ্নে গুগল ব্রাউজ করছেন। এমন সময় হুট করে আপনাকে অগ্নিপরীক্ষায় ফেলে দেবে। আপনি যে রোবট নন, তা প্রমাণ করতে বলবে। আর ওই যে বললাম, পরীক্ষায় উতরে যেতে চাইলে প্রশ্নপত্রের ঠিকঠাক উত্তর না দিলেই নয়।

উত্তর সঠিক হলে আপনি আবার আগের মতো গুগলে তথ্যের খোঁজ করতে পারবেন। ভুল হলে আবার অক্ষর টাইপ করতে হবে কিংবা নতুন এক সেট ছবি থেকে নির্দিষ্ট ছবিগুলো নির্বাচন করে দিতে হবে।

গুগল আপনাকে যে অক্ষর কিংবা ছবি মেলাতে বলে, তার নাম ক্যাপচা। ইংরেজিতে খটমট একগুচ্ছ শব্দের আদ্যক্ষর নিয়ে ক্যাপচা শব্দটি গড়া হয়েছে। যিনি গুগল ব্রাউজ করছেন, তিনি যে রক্তমাংসের গড়া মানুষ এবং স্বয়ংক্রিয় কোনো প্রোগ্রাম নয়, তা প্রমাণ করার জন্য গুগলের এই ব্যবস্থা।

গুগল জানিয়েছে, স্প্যাম বট, ম্যালওয়্যারে আক্রান্ত কম্পিউটার, পুরোনো ডিএসএল রাউটার কিংবা এসইও র‍্যাঙ্কিং টুলের কারণে ক্যাপচা দেখায়। এখন প্রশ্ন হলো, ক্ষতিকর স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার ঠেকানোর জন্য ক্যাপচা তৈরি হলে আপনাকে কেন দেখায়?

এ প্রশ্নের সরল উত্তর হলো, গুগল আপনাকে স্বয়ংক্রিয় প্রোগ্রাম বা বট ভেবে ভুল করে থাকতে পারে। তখন আপনাকে ক্যাপচার উত্তর হিসেবে ছবির অক্ষরগুলো লেখা কিংবা নির্দিষ্ট ছবিতে ক্লিক করতে হতে পারে। তবে বারবার ক্যাপচা দেখালে কম্পিউটার ম্যালওয়্যারে আক্রান্ত কি না, তা জানতে অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার দিয়ে স্ক্যান করে দেখতে পারেন। এবার দ্বিতীয় প্রশ্নে যাওয়া যাক, স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার কেন ঠেকাতে চায় গুগল?

গুগলে তথ্য খোঁজার সেবা বিনা মূল্যে দিলেও এর পেছনে প্রতিষ্ঠানটির ব্যয় বিশাল। সার্ভার খরচ আছে, ব্যান্ডউইডথের ব্যয় আছে, কর্মীদের বেতন আছে। খরচের এমন ১০০টি খাত দেখানো যাবে।

বিজ্ঞাপন দেখানোর বিনিময়ে আপনাকে বিনা মূল্যে সেবা দেয় গুগল। সে সঙ্গে বিপুল আয়ও করে। কিন্তু স্বয়ংক্রিয় টুল বা রোবটকে সেবা ব্যবহার করতে দিয়ে গুগলের লাভ কী? রোবটকে তো আর বিজ্ঞাপন দেখিয়ে লাভ নেই। রোবট নিশ্চয় চানাচুরের বিজ্ঞাপন দেখে দোকানে চানাচুর কিনতে যাবে না।

আরেকটি কারণ হলো, অনেক সময় এসইও র‍্যাঙ্কিং টুলের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু কি-ওয়ার্ড লিখে গুগলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বারবার খোঁজা হয়। মূলত কোনো ওয়েবসাইটকে গুগলে র‍্যাঙ্ক বা ওই কি-ওয়ার্ডগুলো লিখে খুঁজলে যেন ফলাফলের শুরুর দিকে দেখায়, তা নিশ্চিত করতে কাজটি করে থাকেন অনেকে। তবে সেটা তো অনৈতিক। আর সে কারণেই গুগল এই স্বয়ংক্রিয় টুলের ব্যবহার বন্ধ করতে ক্যাপচা ব্যবহার করে।

তবে ক্যাপচা দেখানোর পেছনে আরও বড় উদ্দেশ্য থাকতে পারে গুগলের। যেমন তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সফটওয়্যারকে প্রশিক্ষিত করার কাজে লাগতে পারে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রোগ্রামে যত বেশি ডেটা ইনপুট দেওয়া হয়, সেটি তত বেশি শিখতে পারে। তবে বিপুল পরিমাণ তথ্যের জোগান দেওয়া সহজ কাজ নয়। প্রক্রিয়াটি সহজ করার জন্য গুগল আপনার-আমার মতো ব্যবহারকারীর সাহায্য নিয়ে থাকে।

আগে যেমন ক্যাপচা হিসেবে ছবিতে দেখানো এলোমেলো বা ঘোলাটে অক্ষর কিংবা সংখ্যা ইনপুট দিতে বলত গুগল। সেটি স্ক্যান করা বইয়ের পাতায় লেখা বুঝতে সাহায্য করেছে গুগলের সফটওয়্যারকে। কিংবা গুগলকে ছবিতে দেখানো বস্তু শনাক্তে সাহায্য করেছে।

আবার মনে করুন, ক্যাপচায় আপনাকে ট্র্যাফিক বাতি শনাক্ত করতে বলা হলো। আপনি অনেকগুলো ছবির মধ্যে তা শনাক্ত করে দেখালেন। সে ডেটা অতি সামান্য হলেও চালকবিহীন গাড়ি প্রযুক্তি উন্নয়নে গুগলকে সাহায্য করবে। হয়তো আজ না হলেও ভবিষ্যতে কোনো একদিন। আপনার ইনপুট দেওয়া সে তথ্যের মতো হাজার–কোটি তথ্য এক করে চালকবিহীন গাড়ি হয়তো রাস্তায় ট্র্যাফিক বাতি দেখামাত্র চিনতে শিখবে।

একদিক থেকে ভাবলে আপনি বিনা পারিশ্রমিকে গুগলের হয়ে কাজ করে দিলেন। অন্যদিকে ছোট্ট পদক্ষেপে হলেও একটি চমৎকার প্রযুক্তিকে এক ধাপ এগিয়ে নিলেন।

সে যাহোক, ক্যাপচা সামনে এলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তো নেই। জীবন থেকে মহামূল্যবান দুটি সেকেন্ড ব্যয় করে না হয় দিলেন গুগলের প্রশ্নের উত্তর। আর চমৎকার কোনো প্রযুক্তির উন্নয়নে নিজের ছোট্ট অবদানের কথা ভেবে মনে মনে খানিকটা গর্বিতও হতে পারেন।

এক সহকর্মীর প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে এই লেখা। গুগল তাঁকে রোবট মনে করায় গাল ফুলিয়ে বসে ছিলেন তিনি। পাঠক, চাইলে কমেন্টে আপনিও প্রযুক্তিবিষয়ক কোনো প্রশ্ন করতে পারেন। নিজে জানলে তো ভালোই। না জানলে গুগল তো আছেই!

সম্ভাবনাময় শ্র্রমবাজার ইউরোপের রোমানিয়া, বেতন ৫৬০ ডলার।

বৃহস্পতিবার, ০৪ নভেম্বর ২০২১, ১৯ কার্তিক ১৪২৮, ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

মধ্যেপ্রাচ্যে আশিয়ান দেশের পর বাংলাদেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারিত হয়েছে ইউরোপের দিকে। এবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে ইউরোপের দেশ রোমানিয়ায় কর্মী যাওয়া শুরু হয়েছে।
সর্বশেষ রোমানিয়ার জাহাজ নির্মাণ কোম্পানিতে অর্ধশত শ্রমিক যাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পরবর্তী সময়ে আরো বেশকিছু কর্মী জাহাজ, ইমরাত নির্মাণ ও গার্মেন্ট কোম্পানিতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। সে লক্ষ্যে আগামী ৭ নভেম্বর কর্মী বাছাইয়ের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে বলে রিক্রুটিং এজেন্সি এশিয়া কন্টিনেন্টাল বিডির কর্ণধার লোকমান শাহ ও ঢাকায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার আব্দুস সালাম নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন। এর আগে গত ১৪ অক্টোবর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মসংস্থান শাখা-১ উপসচিব সুষমা সুলতানা স্বাক্ষরিত নিয়োগানুমতি সংক্রান্ত একটি চিঠি দেয়া হয় এশিয়া কন্টিন্টোল গ্রুপকে।
চিঠিতে বলা হয়, উপযুক্ত বিষয়ে রিক্রুটিং এজেন্ট মেসার্স এশিয়া কন্টিনেন্টাল গ্রুপের (বিডি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোমানিয়ায় ‘সান্তেরুল নেভাল কন্সটানটা সা’ কোম্পানির অধীনে মোট তিনটি ক্যাটাগরিতে শর্তসাপেক্ষে ৬০ জন পুরুষ কর্মী নিয়োগানুমতি জ্ঞাপন করা হলো।’
লকস্মিথস ফর স্টিল হুল ব্লক ফেব্রিকেশন, পাইপ ওয়ার্কার্স ফর ফেব্রিকেশন অ্যান্ড ইন্সটলেশন অব পাইপ অ্যান্ড ওয়েল্ডার পদে ৬০ জন কর্মী নেয়ার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, প্রত্যেক কর্মীর মাসিক বেতন হবে ৫৬০ মার্কিণ ডলার, যা বাংলাদেশী টাকায় অর্ধলক্ষ টাকার কাছাকছি।
নিয়োগানুমতির অন্যান্য সুবিধার বিষয়ে বলা হয়েছে, চুক্তির মেয়াদ দুই বছর (নবায়নযোগ্য), শিক্ষনবিসকাল ৯০ দিন, বিমানভাড়া রিক্রুটিং এজেন্ট বহন করবে, বাসস্থান, রেসিডেন্স পারমিট, যাতায়াত, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী কোম্পানি বহন করবে, আহার নিজের, চাকরির অন্যান্য শর্ত রোমানিয়ার শ্রমআইন অনুযায়ী প্রযোজ্য হবে।
মন্ত্রণালয় থেকে নিয়োগানুমোদন পাওয়া ওই চিঠির শর্তে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিটি ফ্লাইটে রিক্রুটিং এজেন্সির একজন প্রতিনিধি কর্মীর সাথে রোমানিয়া যাবেন অথবা সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরে কর্মীদের গ্রহণ করার জন্য রিক্রুটিং এজেন্সির একজন প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন। কর্মীদের কোভিড টেস্ট নিশ্চিত করা, প্রত্যেক গ্রুপে বাংলাদেশের কর্মীরা রোমানিয়া পৌঁছার পর রিক্রুটিং এজেন্সি অত্র মন্ত্রণালয়, বিএমইটি এবং বুখারেস্ট রোমানিয়া দূতাবাসে প্রতিবেদন দাখিল করবে। বহির্গমন ছাড়পত্র ইস্যু করার আগে নির্বাচিত প্রত্যেক কর্মীর সাথে নিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে, বহির্গমন ছাড়পত্র প্রদানের আগে বিএমইটিতে মূল চাহিদাপত্র/ক্ষমতাপত্র ও অন্যান্য মূল কাগজ দাখিল করতে হবে। কর্মীর ভিসা ও ফ্লাইট নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে রিক্রুটিং এজেন্সি কর্তৃক অভিবাসন ব্যয় বাবদ সর্বোচ্চ চার লাখ ৯০ হাজার টাকা কর্মীর কাছ থেকে চেক/ব্যাংক ড্রাফট/পে-অর্ডারের মাধ্যমে গ্রহণ করা যাবে এবং তার প্রমাণপত্র বিএমইটির মহাপরিচালক বরাবর উপস্থাপন করার পাশাপাশি চুক্তিপত্রের কোনো শর্ত লঙ্ঘন হবে না, অনুমোদিত কর্মীরা সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে অবশ্যই চাকরি পাবে এবং প্রত্যেক কর্মীকে প্রস্তাবিত বেতন, আবাসন

ও অন্য সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটলে রিক্রুটিং এজেন্সিকে কর্মীর থাকা-খাওয়া থেকে শুরু করে প্রত্যাবাসনের সম্পূর্ণ ব্যয় প্রদানে বাধ্য থাকবে মর্মে ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে দাখিল করতে হবে এবং ডাটাবেজ থেকে কর্মী নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। অনুমোদিত কর্মী কর্মস্থলে ঠিকভাবে নিয়োজিত হয়েছেন কি না তা সরেজমিন যাচাইপূর্বক রোমানিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস প্রধানকে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে বলে শর্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
গতকাল রোমানিয়ার নতুন শ্রমবাজারে ৬০ জনের নিয়োগানুমতি পাওয়া রিক্রুটিং এজেন্সির স্বত্বাধিকারী লোকমান শাহ নয়া দিগন্তকে বলেন, রোমারিয়ার শ্রমবাজার সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার। ইতোমধ্যে জাহাজ নির্মাণ ও ইমারত নির্মান কোম্পানিতে লোক পাঠানোর লক্ষ্যে আমার প্রতিষ্ঠান নিয়োগানুমতি পেয়েছে। আগামী ৭ নভেম্বর উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানে আরো বেশকিছু শ্রমিক পাঠানোর চিন্তাভাবনা রয়েছে। সে লক্ষ্যে বাংলাদেশে আসছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

ইতোমধ্যে রোমানিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস কর্মী নিয়োগের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে এসব কর্মীর ফ্লাইট শুরু হতে পারে। সূত্র ঃ- নওগাঁ দর্পন

২০২৩ সালে ঢাকা-নিউইয়র্ক ফ্লাইট পরিচালনা করবে ইউএস বাংলা

বৃহস্পতিবার, ০৪ নভেম্বর ২০২১, ১৯ কার্তিক ১৪২৮, ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের মধ্যে ঢাকা থেকে নিউইয়র্কে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী বছরের মধ্যে বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশনের ক্যাটাগরি-ওয়ান অর্জন করতে পারলে ইউএস বাংলা ২০২৩ সালের মধ্যে নিউইয়র্কে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে। এছাড়া ইউরোপের বিভিন্ন গন্তব্যে লন্ডন, আমস্টারডাম, রোম, প্যারিসসহ বেশ কয়েকটি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষে বা আগামী বছরের জানুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এছাড়া একই বছর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে নতুন অনেক গন্তব্যে ফ্লাইট শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে ইউএস-বাংলার। এ লক্ষ্যে আগামী বছর ইউএস বাংলার বহরে তিনটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এবং ৪টি এটিআর ৭২-৬০০ এয়ারক্রাফট যুক্ত হতে যাচ্ছে।

২০২৩ সালের মধ্যে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজের বহরে আরও ৮টি এয়ারবাস, ৩২১-এলআর সিরিজের এয়ারক্রাফট যোগ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর ইউএস বাংলা একমাত্র দেশীয় এয়ারলাইন্স যারা প্রথমবারের মতো চীনের গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পেয়েছে। ২৬ এপ্রিল ২০১৮ থেকে এখন পযর্ন্ত ঢাকা থেকে গুয়াংজু রুটের ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পেয়েছে। এছাড়া চেন্নাই বাংলাদেশি নাগরিক যারা চিকিৎসা নিতে যান তাদের সেবা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে ইউএস বাংলা।

তিনি জানান, করোনাকালে বিভিন্ন দেশে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনতে ইউএস-বাংলা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১৫০টির বেশি স্পেশাল ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। কোভিড মহামারির মধ্যে বাংলাদেশ সরকার তথা সিভিল এভিয়েশন অথরিটির অনুমতি নিয়ে ইউএস-বাংলা প্যাসেঞ্জার এয়ারক্রাফটগুলোকে সাময়িকভাবে কার্গো এয়ারক্রাফটে রূপান্তর করে আয়ের পথকে কিছুটা সচল রাখার চেষ্টা করেছে।

দেশের এভিয়েশন ও ট্যুরিজম ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম ইন্ডাস্ট্রি বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারি সহায়তা চেয়ে আবেদন করেছে বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো। বিশেষ করে অ্যারোনটিক্যাল ও নন-অ্যারোনটিক্যাল চার্জকে সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা, জেট ফুয়েল প্রাইসকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিরূপণ করা ইত্যাদি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলো গঠনমূলক লেখনির মাধ্যমে ভূমিকা রাখতে আহ্বান জানান তিনি।

আজাদ কাশ্মীরে যাত্রীবাহী বাস খাদে, নিহত ২৩

বৃহস্পতিবার, ০৪ নভেম্বর ২০২১, ১৯ কার্তিক ১৪২৮, ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর বা আজাদ কাশ্মীরের পালান্দ্রি এলাকায়  একটি যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে ২৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো অন্তত নয়জন।

স্থানীয় সময় বুধবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রায় ৪০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে বাসটি রাওয়ালপিন্ডি যাচ্ছিল। যাত্রাপথে সেটি কারিগরি ত্রুটির কারণে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে  পাহাড়ের গায়ে ধাাক্কা লেগে প্রায় ৫০০ মিটার গভীর গিরিখাতে পড়ে যায়।

স্থানীয় পুলিশ প্রথমে নিহতের সংখ্যা সাতজন বলে জানিয়েছিল। কিন্তু পরে মৃতের সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে জানানো হয়। হতাহতদের সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পালান্দ্রির উপ পুলিশ কমিশনার জানান, দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন নারী ও শিশু রয়েছে। প্রতিকূল পরিবেশের কারণে উদ্ধারকারীদের বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। তবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজ না পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মালয়েশিয়ায় বন্দীদের দেশে ফেরানোর উদ্যোগ।

বুধবার, ০৩ নভেম্বর ২০২১, ১৮ কার্তিক ১৪২৮, ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

মালয়েশিয়ায় অবৈধ হয়ে কিংবা বিভিন্ন কারণে গ্রেফতার হয়ে কারাভোগের পর ডিটেনশন সেন্টারে বন্দী রয়েছেন সহস্রাধিক বাংলাদেশী অভিবাসী। কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হলে অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আগে এই ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হয়। দেশে ফেরত পাঠাতে যে তথ্য উপাত্ত দরকার হয় সেগুলো নিশ্চিত হলেই নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়। কিন্তু বিভিন্ন কারণে অনেক সময় এই প্রক্রিয়া বিলম্ব হয়।

মালয়েশিয়ায় এই বন্দীদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদককে জানিয়েছেন কুয়ালালামপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম সারোয়ার।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী এসব বন্দী অবৈধ হয়ে অথবা দেশটির অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের কারণে গ্রেফতার হয়ে কারাভোগ করেন। তবে বেশিরভাগ বন্দী ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর অবৈধ হিসেব আটক হন। আবার এক কোম্পানির নামে ভিসা নিয়ে অন্য কোম্পানিতে কাজ করলেও তাদের আটক করা হয়, যাকে বলে ‘ছালা কিরজা’।

করোনায় টানা লকডাউন, এসওপি বিধিনিষেধের কারণে বন্দীদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে। কম বেশি এক হাজার ৬৭৮ জন বাংলাদেশী দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছেন। এ সময় ফ্লাইট শিডিউল নিয়মিত ছিল না। স্বাভাবিক বিমান চলাচল এখনো স্থগিত রয়েছে। শুধু স্পেশাল ও চাটার্ড ফ্লাইটগুলো যাতায়াত করছে।

দূতাবাস থেকে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস একজন বন্দীর পক্ষে দেশটির ইমিগ্রেশন ও ডিটেনশন সেন্টারে পৌঁছানো ছাড়া বন্দী প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া বিলম্ব হয়। অনেক সময় দূতাবাস থেকে এসব তথ্যাদি পৌঁছাতে বিলম্ব হয়। তাছাড়া সর্বশেষ যে জটিলতা সৃষ্টি হয় সেটা হলো, বিমানের টিকেট নিয়ে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একজন প্রবাসী দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে যখন আটক হন তখন খালি হাতে আটক হন। এয়ার টিকেট ক্রয় করার মতো সামর্থ্য থাকে না। এ কারণে অনেক বন্দী আছেন টিকেট সংগ্রহ করতে না পেরে মাসের পর মাস বা বছরের পর বছর ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকেন। তাই বাংলাদেশী কমিউনিটি ও প্রবাসীদের পরিবারের দাবি, সরকারিভাবে যেন এই বিমান টিকেটের ব্যবস্থা করা হয়। তাহলে ভোগান্তি অনেক কমবে।

যোগাযোগ করা হলে রাষ্ট্রদূত গোলাম সারোয়ার প্রতিবেদককে আরো জানান, করোনায় বিভিন্ন বিধিনিষেধ যেমন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং সিস্টেমের (এসওপি) কারণে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ আমাদের বন্দী বাংলাদেশী ভাই-বোনদের সাথে দেখা করার অনুমতি দেয়নি। তাছাড়া আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী দূতাবাস চাইলেই বন্দীদের সাথে দেখা করতে পারে না। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমোদন লাগে, যেটা একটু সময় সাপেক্ষও বটে। তবে সম্প্রতি আমরা দূতাবাস থেকে সকল কারাগার, ডিটেনশন সেন্টার ভিজিট শুরু করেছি। ইনশাআল্লাহ শিগগিরই আমরা প্রত্যাবসন প্রক্রিয়া আরো বেগবান করতে পারবো।