‘কর্মী সংকট ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে চলতি সপ্তাহে ১৪শ’র বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে আমেরিকান এয়ারলাইন্স। এর মধ্যে গত দুই দিনেই বাতিল করা হয়েছে এক হাজারের বেশি ফ্লাইট।
আমেরিকান এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভিড সেইমৌর সাংবাদিকদের জানান, খারাপ আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার থেকে এই সংকট শুরু হয়। প্রচণ্ড ঝড়ের কারণে ডালাস হাবে কোম্পানির কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
এ সময় ফ্লাইটগুলোর জন্য নির্ধারিত কর্মীদের শিডিউলে বিপর্যয় দেখা দেয়। কর্মী সংকটের কারণে অনেক ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। তবে নতুন মাসের শুরুতে এই সংকট কেটে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ডেভিড আরও জানান, করোনা মহামারীর কারণে চাকরি হারানো ১৮শ কর্মীকে কাজে ফিরিয়ে আনা হবে এসময়। এবং ডিসেম্বরের শেষে বিমানবন্দরসহ ফ্লাইট পরিচালনায় আরও সাড়ে চার হাজার কর্মী নিয়োগ দেয়া হবে।
আমেরিকান এয়ারলাইন্স প্রতিদিন ৫০টি দেশের ৩৫০টির বেশি শহরে ৬ হাজার ৭শ ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। এদিকে করোনার বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার পর ভ্রমণ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দেশটির অনেক এয়ারলাইন্স কোম্পানিই কর্মী সংকটে পড়েছে। সূত্র : সিএনএন
থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার ঘোষণা করেছে যে আজ ১ নভেম্বর থেকে এটি ১৭টি দেশের বিদেশী পর্যটকদের জন্য তার সীমানা খুলে দেয়া হয়েছে, যার মধ্যে কুয়েতও রয়েছে। পর্যটকদের টিকা দেওয়া বা নেতিবাচক পিসিআর পরীক্ষা জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিজ কোয়ারেন্টিন না করেই দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। ১৭টি দেশ হলো কুয়েত, ভারত, তাইওয়ান, লাওস, মায়ানমার, ফিলিপাইন, ক্রোয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, ওমান, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া, শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম এবং লুক্সেমবার্গ।
মোঃ আলাল, কুয়েত প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) নির্বাচনে ওমর ফারুক সভাপতি ও দীপ আজাদ মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব কুয়েত।
শনিবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানী হোটেলে অভিনন্দন সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আ হ জুবেদের সঞ্চালনায় বক্তারা বলেন,দেশের ন্যায় প্রবাসেও দায়িত্ব পালেন প্রবাসী সংবাদকর্মীরা নানা ভাবে হয়রানি শিকার হয়।
সংবাদকর্মীদের জন্য সুস্থ পরিবেশ তৈরী এবং দেশের উন্নয়ন ও প্রবাসীদের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই।
এসময় অন্যান্য সংবাদকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, শরীফ মিজান, আলা আমিন রানা, সাদেক রিপন, নাসির উদ্দিন খোকন, রুহুল আমিন মোহাম্মদ মোশাররফ, মোঃ আলাল আহমেদ, আবু বক্কর পাভেল,রবিউল হোসেন,আমবিয়া খোকন, কুয়েত ফ্যামিলি ফোরামের সভাপতি আব্দুল হাই ভূঁইয়া প্রমুখ।
ইয়েমেনের একটি বিমানবন্দরের বাইরে গাড়িবোমা বিস্ফোরণে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২০ জন। গতকাল শনিবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেনের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশমুখের কাছে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
দুবাই, আবুধাবি, সারজা সহ সকল আরব আমিরাত গামী প্রবাসী (ভিজিট,স্টুডেন্ট, ফ্যামিলি ব্যাতিত) এয়ারপোর্টে আসার আগে নিচের ফর্মটি পূরণ করে নিয়ে আসতে হবে। এয়ারপোর্টে ২ নং ইমিগ্রেশন এর গেইট থেকে ফর্মটির সত্যায়িত অংশ গ্রহণ করুন, এরপর আরটি পিসিআর টেস্ট কাউন্টারে স্লিপটি জমা দিয়ে বিনামূল্যে পিসিআর টেস্ট করতে বলা হয়েছে। আপনাদের এয়ারপোর্টের করোনা পরীক্ষার ১৬০০ টাকা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বহন করবে। ইতিমধ্যেই প্রায় ৫৫ হাজার প্রবাসী এ সুবিধা গ্রহণ করেছেন।
সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে মিয়ানমারে দিন দিন সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মিয়ানমারে সামরিক সরকারের বিরোধীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৮৫ জান্তা সেনা নিহত হয়েছেন। গত তিন দিনে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সাগাইং অঞ্চলে সরকার বিরোধী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে সরকারি বাহিনীর সদস্যদের প্রাণহানির এই ঘটনা ঘটে।
এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) ২৫ সেনা সদস্য নিহত হন। শুক্রবার (২৯ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতী।
প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, গত বুধবার মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী বাহিনী কাউলিন পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (কেএলপিডিএফ)-র যোদ্ধাদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৪০ জন সরকারি সেনা নিহত হয়েছিলেন। বুধবার সকালে সাগাইংয়ের কাউলিন শহরের কিউনবিনথা গ্রামের কাছে ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
জান্তাবিরোধী বাহিনী কেএলপিডিএফ’র সংবাদ প্রকাশ করে থাকে কাউলিন রিভ্যুলিউশন (কেআর)। সংস্থাটি বলছে, বুধবার ও বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষ-প্রাণহানির পাশাপাশি ওই এলকায় পৃথক আরেকটি লড়াইয়ে জান্তা সরকারের আরও ২০ জন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন।
কেআর’র বরাত দিয়ে ইরাবতী বলছে, সর্বশেষ বৃহস্পতিবার কাউলিন শহরের পূর্বাঞ্চলে সরকারি বাহিনী এবং প্রতিরোধ বাহিনী কেএলপিডিএফ’র যোদ্ধাদের মধ্যে গোলাগুলিতে ২৫ জন জান্তা সেনা নিহত হয়। একইসঙ্গে ওই সংঘর্ষে তিন জন প্রতিরোধ যোদ্ধাও নিহত হন।
এছাড়া বৃহস্পতিবার কেআর’র প্রকাশিত একটি ছবিতে স্থানীয় গ্রামবাসীদেরকে সঙ্গে নিয়ে সংঘর্ষে নিহত কয়েকজন সরকারি সেনার মৃতদেহ পোড়াতে দেখা যায় কেএলপিডিএফ’র যোদ্ধাদের।
গ্রুপটি জানিয়েছে, সংঘর্ষের পর ইয়ে হতুত ও নামে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এক মেজরের আংশিক পুঁতে রাখা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সরকারি সেনা সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে আংশিক পুতে রাখা অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। এছাড়া সংঘর্ষের আগে বৃহস্পতিবার সকালে ছয়টি গাড়িতে করে জান্তা সেনারা কাউলিনে প্রবেশ করে বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে মিয়ানমারের সামরিক সরকারবিরোধী ছায়া সরকার বলে পরিচিত ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট (এনইউজি)-র প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ইয়ে-ইউ ও বুদালিন শহরে বিরোধী বাহিনীর হামলায় ১৪ জনের মতো সরকারি সেনা নিহত হয়েছেন।
এনইউজি’র প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, অক্টোবরের ১৯ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে ১২৭টি ঘটনায় জান্তা সরকারের প্রায় ২০০ সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। আর আহত সেনাদের সংখ্যা ৪৪ জন।
চলতি বছরের ১ ফেব্রয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সুচির নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। রক্তপাতহীন এই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লেইং। অং সান সুচি ও তার দল এনএলডির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা বর্তমানে গৃহবন্দি বা কারাবন্দি অবস্থায় আছেন।
পর্যবেক্ষক সংস্থা অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপি)-র সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর থেকে জান্তা সরকারের হাতে দেশটিতে প্রায় ১২০০ জন নিহত হয়েছেন এবং ৭ হাজারের বেশি মানুষকে কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে।
গুরগাঁওয়ের মসজিদে নামাজ পড়ার সময় তাতে বাধা দিতে বিক্ষোভ দেখিয়েছে কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা। এ সময় তারা ‘বন্ধ করো, বন্ধ করো’ বলে স্লোগান দেয়। এ ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৩০ জন কট্টরপন্থীকে আটক করা হয়েছে।
গত সপ্তাহেও নামাজ চলাকালীন একদল কট্টরপন্থী হিন্দুকে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে দেখা গিয়েছিল। চলতি সপ্তাহে ফের নামাজে বিঘ্ন ঘটানোর ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে প্রচুর পরিমাণে পুলিশ। আপাতত পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রয়েছে বলেই জানিয়েছেন গুরগাঁওয়ের পুলিশ কর্মকর্তা।
জানা গিয়েছে, গুরগাঁওয়ের সেক্টর ৪৭ এলাকায় এক মসজিদে নামাজ চলাকালীন সেখানে হাজির হয় কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা। তাদের হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড। তাতে লেখা ছিল ‘গুরগাঁও প্রশাসন ঘুম থেকে জেগে ওঠো।’ পরিস্থিতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে গুরগাঁওয়ের এসডিএম অনীতা চৌধুরী এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘এখন এই এলাকা শান্তিপূর্ণই রয়েছে। যারা নামাজে বাধা সৃষ্টি করছিল তাদের আটক করা হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই তাদের সম্পর্কে খবর আসছিল। অবশেষে আজ পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হল।’
ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভের ভিডিও ফুটেজ। সেখানে দেখা গিয়েছে তাদের ‘বন্ধ করো, বন্ধ করো’ স্লোগান দিতে। তাদের হাতে ছিল নানা রকম পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড। অধিকাংশেরই মুখে মাস্ক পরা ছিল না। আরেকটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ঘটনাস্থলে হাজির হয়েছেন পুলিশকর্মীরা। কট্টরপন্থীদের ঠেকাতে পুলিশ ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে।
এই নিয়ে টানা তিন সপ্তাহ ওই এলাকায় নামাজ পড়ার সময় এই ধরনের ঘটনা ঘটল। গত সপ্তাহে সেক্টর ১২-এ অঞ্চলে কট্টরপন্থীদের ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিতে দেখা গিয়েছে। গত তিন বছর ধরে নামাজ পড়তে আসা এক ব্যক্তির দাবি, কয়েক সপ্তাহ ধরেই এমন হচ্ছে। আসলে এখানে অশান্তি সৃষ্টি করতে চাইছে কিছু মানুষ। সূত্র: ডন।
স্থানীয় পুলিশ বলছে কিছু হয়নি। আর সেখানকার মিডিয়া নীরব ভূমিকা পালন করছে। এই সুযোগে উগ্রবাদী হিন্দুরা একের পর এক মসজিদে হামলা ও আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। উচ্ছে করা হচ্ছে মুসলিমদের। তাদের বাড়ী-ঘরে আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছে। শত শত মুসলিম ঘরবাড়ী ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।
ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে নাকি ‘অল ইজ ওয়েল’। পুলিশ তেমনটাই বলছে। তাদের দাবি, তেমন কিছুই হয়নি। আইন-শৃঙ্খলা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মঙ্গলবার ভিইএইচপির তাণ্ডবের দিনেই মুসলিম নারীর শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মাকতুব মিডিয়ার খবর অনুযায়ী, পানিসাগরের রাওবাজার এলাকার মুসলিমদের বাড়ি ও দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়েছিল। থানায় যে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল তাতে অবশ্য নারীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ থাকলেও, তা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়নি।
মানবাধিকার সংগঠন এপিসিআর সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখে বলেছে, হিন্দুত্ববাদীরা কমপক্ষে ২৭টি হামলা চালিয়েছিল। ভিএইচপির লোকেরা ১৬টি মসজিদে হামলা চালিয়েছিল। কয়েকটি মসজিদে জোর করে ভিএইচপির পতাকা পুঁতে দেয়া হয়েছিল। কমপক্ষে তিনটি মসজিদে আগুন ধরানো হয়েছিল। উনাকটি জেলার পালবাজার মসজিদ, গোমতী জেলার ডোগরা মসজিদ এবং বিশালগড় জেলার নারোলা টিলা মসজিদে আগুন লাগানো হয়।
বিশ্বহিন্দুপরিষদের দুষ্কৃতিকারীরা স্থানীয় রোয়া জামে মসজিদে হামলার ছক কষেছিল। পুলিশ বলছে কিছু হয়নি, তবে উত্তর ত্রিপুরার পানিসাগর থানায় জমা পড়েছে অভিযোগ। সাতজন পুরুষ ও তিন নারী অভিযোগ দায়ের করেন।
বাংলাদেশে পূজামণ্ডপে সহিংসতার পর থেকে বিজেপি শাসিত অসম ও ত্রিপুরায় গেরুয়া তাণ্ডবকারীরা সংখ্যালঘু মনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ। ত্রিপুরার এসআইও কর্মী সুলতান হুসেন টুইটারে ভিএইচপি কর্মীদের নির্লজ্জ কাণ্ড-কারখানা সামনে এনেছেন।
অন্য সমাজকর্মী নূর উল ইসলাম বলেন, পুলিশ কেন হিন্দুত্ববাদী দুষ্কৃতিকারীদের এমন মিছিলের অনুমতি দিয়েছিল? তার অভিযোগ গোটা ব্যাপারটা হয়েছে বিপ্লব দেব সরকারের যোগসাজসে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে করতে পারেনি। মুসলিমদের নিরাপত্তা দিতে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ।
স্থানীয় মুসলিমদের অনেকের অভিযোগ, মুসলিমদের ওপর হামলার অভিযোগ দেখেও চুপ করে রয়েছে। সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা দেখেও একইভাবে চুপ করে রয়েছে মূলধারার মিডিয়া। এটা আসেল দ্বিচারিতা।
টুইটারে কেউ কেউ অবশ্য অগ্নিদগ্ধ মসজিদের ছবি ও মুসলিমদের বাড়ি ভাঙচুরের ছবি পোস্ট করেছে। হ্যাসট্যাগ সেভ ত্রিপুরা মুসলিম নাম চালানো হয়েছে ক্যাম্পেনও। সামনে ভোট, সে কারণেই এমন সহিংতা দেখেও চুপ করে রয়েছে সিপিএমের মতো তথাকথিত দলগুলোও। কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপিকে নিশানা করে বলেছে ত্রিপুরার আইন শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে।
ত্রিপুরার রাজপরিবারের অন্যতম সদস্য প্রদ্যোত মাণিক্য বলেছেন, এটি আমার রাজনৈতিক জীবনের একটি লজ্জাজনক অধ্যায়। সূত্র : পুবের কলম
ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করায় এবার ইসরাইলের বর্বর আচরণের নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন সংসদ সদস্যরা।
বর্ণবাদী ও বর্বর আচরণের জন্য ডেমোক্র্যাট দলের এমপি বেটি ম্যাককুলামের নেতৃত্বে একদল মার্কিন এমপি বৃহস্পতিবার ইসরাইলের বিরুদ্ধে সংসদে নিন্দা প্রস্তাব আনে। খবর আনাদোলুর।
এতে বলা হয়েছে, তেলআবিব এবার ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কণ্ঠরোধ করে তাদের মৌলিক অধিকার হরণ করেছে। ইসরাইলের হামলা-মামলা উপেক্ষা করে সংগঠনগুলো ফিলিস্তিনিদের চালানো ইসরাইলি নৃশংসতার চিত্র বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের কাজের মূল্যায়ন করতে হবে।
ইসরাইলকে প্রতি বছর ৩.৮ বিলিয়ন ডলার আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। এ কারণে তাদের কর্মকাণ্ডকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে চান মার্কিন এমপিরা।
এর আগে ইসরাইলের এ পদক্ষেপে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জার্মানি। জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বুধবার বার্লিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ উদ্বেগের কথা জানান।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অ্যান্ড্রিয়া সাসে বলেন, আমরা ইসরাইলের এ ধরনের কর্মকাণ্ডে উদ্বিগ্ন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনে আমরা ইসরাইলের সঙ্গে আলোচনা করব। আমরা বিষয়টি নিয়ে অন্য আরব দেশগুলোর সঙ্গেও কথা বলব।
কীসের ভিত্তিতে মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, সেই তথ্যও জানতে চেয়েছে জার্মানি।
ইহুদিবাদী ইসরাইল নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে সম্প্রতি ফিলিস্তিনের ৬ মানবাধিকার সংগঠনকে সন্ত্রাসী তালিকায় ফেলেছে।
এসব সংগঠনের নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করছে ইসরাইলি বাহিনী।
এ ঘটনায় ফিলিস্তিনে নতুন করে ইসরাইলবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ, মানবাধিকার সংগঠন ও জাতিসংঘ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেন, ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সঙ্গে পপুলার ফ্রন্ট অব দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইনের (পিএফএলএম) যোগাযোগ রয়েছে।
ফিলিস্তিনের বামপন্থি এ সংগঠনটি ইসরাইলের অভ্যন্তরে সশস্ত্র হামলায় জড়িত বলে দাবি তেলআবিবের।
১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠন আল হক, ডিফেন্স ফর চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল প্যালেস্টাইন, দ্য বিসান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, দ্য ইউনিয়ন অব প্যালেস্টিনিয়ান ওম্যানস কমিউনিটিস এবং দি অ্যাগ্রিকালচারাল ওয়ার্ক কমিটিসকে সন্ত্রাসী তালিকায় ফেলেছে ইসরাইল।
ফিলিস্তিনে প্রতিনিয়ত মানবতাবিরোধী অপরাধ করে গেলেও এখন উল্টো মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে সন্ত্রাসী তালিকায় ফেলে আবারও বর্বরতার পরিচয় দিল ইহুদিবাদী ইসরাইল।