সিরিয়ান পরিবারের এক মাত্র ছেলে ফাওয়াজ কেতাইফান কে অপহরণ করে প্রাথমিক অবস্থায় অপহরণকারীরা ৭০০ মিলিয়ন সিরিয়ান পাউন্ড দাবি করলেও পরে ৪০০ মিলিয়ন সিরিয়ান পাউন্ড দাবি করেছে সর্বশেষ।
গত বছরের ২ #নভেম্বর ভোরে স্কুলে যাওয়ার সময় ফাওয়াজকে অপহরণ করা হয়। অপহরণকারীরা দুইটি মোটরসাইকেলে চড়ে আসে এদের মধ্যে একজন নারীসহ মোট ৪ জন ছিল। অপহরণ করার প্লান আগে থেকে করা ছিলো কারন তাদেন সাথে থাকা মহিলা অপহরণকারীদের শিশু মোহাম্মদ ফাওয়াজের দিকে ইঙ্গিত করেছিলেন।
সিরিয়ার শিশু ফাওয়াজ কেতাইফানকে অপহরণকারী গ্যাং দ্বারা মুক্তিপণ দেওয়ার নির্ধারিত সময়ের সময় শেষ হয়ে গেছে। এবং সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস নিশ্চিত করেছে যে গ্যাংটি তাদের সাথে যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। এবং ফাওয়াজকে মারার ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত শিশু ফাওয়াজের ভাগ্য সম্পর্কে জানা যায়নি। যদিও তার পরিবার বরছে যে তারা প্রয়োজনীয় মুক্তিপণ আদায় করেছে।
ফাওয়াজ তাদের পরিবারের এক মাত্র ছেলে সন্তান ও তার তিনটি বোন রয়েছে।
আল্লাহ্ ফাওয়াজকে সহিহ সালামতে তার পরিবারের কাছে ফিরি দিন। 🤲
কানাডার পর এবার করোনার টিকাগ্রহণ ও বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে নিউজিল্যান্ডে। মঙ্গলবার, রাজধানী ওয়েলিংটনে পার্লামেন্ট ভবন ঘেরাও করেন হাজারো বিক্ষোভকারী। খবর বিবিসির। গোটা দেশ থেকে বিক্ষোভে যোগ দেন আন্দোলনকারীরা। গাড়ি দিয়ে ঘণ্টাব্যাপী অবরোধ করে রাখেন সড়ক। দাবি- বাধ্যতামূলক বিধিনিষেধ আরোপে ব্যক্তিস্বাধীনতা হরণ করছে সরকার। আইনপ্রণেতারদের সাথে আলোচনা বসার দাবিও জানান তারা। তবে বিক্ষোভকারীরদের সাথে আলোচনায় না বসার সিদ্ধান্ত নেন আইনপ্রণেতারা।
ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ও গ্রিসের মধ্যে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার প্রবাসী কল্যাণ ভবনে উভয় দেশের মধ্যে এ সমঝোতা স্মারকটি সই হয়। এতে বাংলাদেশের পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এবং গ্রিসের পক্ষে দেশটির মিনিস্টার অফ মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম প্যানাইয়োটিস মিতারাচি সই করেন। এসময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন এবং গ্রিসের সেক্রেটারি জেনারেল অফ মাইগ্রেশন পলিসি পেট্রোক্লস জর্জিওজিয়াডিস উপস্থিত ছিলেন। এ সমঝোতা স্মারকের ফলে বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য গ্রিসে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হলো। এছাড়া গ্রিসে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা পর্যায়ক্রমে বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ পাবেন বলে জানায় মন্ত্রণালয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে অজ্ঞাত বন্দুকধারীর গুলিতে এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রবাসী নিহত হয়েছেন। ব্রুকলিনের সাইপ্রেস হিলস সেকশনে নিজ বাড়ির বাইরে গুলিতে মোদাসসার খন্দকার (৩৬) নামে ওই ব্যক্তি প্রাণ হারান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার রাত (৯ ফেব্রুয়ারি) পৌনে ১২টার দিকে সাইপ্রেস হিলস এলাকা থেকে একজন গুলির শব্দ শুনে পুলিশে ফোন দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ফুটপাতে পড়ে থাকতে দেখে। পরে জ্যামাইকা হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
ইংল্যান্ডে অবশিষ্ট সব কোভিড বিধিনিষেধ শেষ করার পরিকল্পনা করছেন বরিস জনসন – যার মধ্যে সেলফ-আইসোলেট করার আইনি নিয়মও রয়েছে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কেউ যদি কোভিড টেস্টে পজিটিভ হয় তাহলে তাকে কমপক্ষে পাঁচ দিনের জন্য সেলফ-আইসোলেট থাকতে হবে।বর্তমান বিধিনিষেধের মেয়াদ ২৪ মার্চ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে জনসন এমপিদের বলেন, তিনি আশা করছেন যে শেষ অভ্যন্তরীণ নিয়মগুলি শীঘ্রই শেষ হয়ে যাবে “যদি ডেটার বর্তমান ফলাফলে উত্সাহজনক প্রবণতা অব্যাহত থাকে”।
করোনার টিকা বিক্রি করে গত বছর দ্বিগুণ মুনাফা করেছে মার্কিন ফার্মাসিউটিক্যাল জায়ান্ট ফাইজার। জার্মানির জৈবপ্রযুক্তি কোম্পানি বায়োএনটেকের সঙ্গে যৌথভাবে করোনার টিকা উদ্ভাবন করেছে ফাইজার। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রথম অনুমোদন পাওয়া টিকা ছিল এটি। কোম্পানিটি গতকাল মঙ্গলবার ২০২২ সালে তাদের বিক্রির পূর্বাভাসে বলেছে, এ বছর পাঁচ হাজার কোটি ডলারের টিকা ও ওষুধ বিক্রির আশা করছে তারা। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে। প্রধান নির্বাহী আলবার্ট বোরলা ২০২১ সালকে ফাইজারের ‘যুগান্তকারী বছর’ অভিহিত করে বলেন, ‘মহামারি আমাদের কোম্পানিকে চিরতরে বদলে দিয়েছে।’
গতকাল বাংলাদেশ থেকে সিংগাপুর আসার সময় কি পরিমাণ হয়রানির শিকার হইছি যা বলে প্রকাশ করা যাবে না। এমন হাজার অভিযোগ যুগ যুগ ধরে প্রবাসীদের মুখ থেকে শুনে আসছি, আজ আমি নিজেই ভুক্তভোগীদের একজন ছিলাম । আমাদের এয়ারপোর্টে কি পরিমাণ অযোগ্যদের দায়িত্বে বসানো হয়েছে তা গতকাল বুঝলাম। প্রথমে বোডিং পাস করতে গেলাম সেখানে বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক কর্মকর্তা আমাকে জিজ্ঞাসা করল আপনার (এন্টি এপ্রোভাল) মানে সিংগাপুরে প্রবেশ এর জন্য অনুমতি। কি সিংগাপুর থেকে দিছে? আমি ভদ্রতার সাথে উওর দিলাম স্যার এন্টি এপ্রোভাল তো সিংগাপুর থেকে দেয়। সে বলল এটা ফেক এন্টি এপ্রোভাল। আমি বললাম স্যার আমার এন্টি এপ্রোভাল টা সিংগাপুর সেফ ট্রাভল থেকে দিছে কারন আমি সার্ভিস সেক্রেটরে এসপাসে জব করি। তাই আমার এন্টি এপ্রোভাল টা অন্যরকম আর আমি ছুটিতে আসছি একমাসের জন্য। আমি তাকে মোবাইল বের করে অনলাইনে আমার এন্টি এপ্রোভাল টা চেক করে দেখাইলাম। সে কিছুই বিশ্বাস করল না সে আমাকে বলল আপনি এটা দিয়ে যেতে পারবেন না বাসায় চলে যান। কি আর করা সিংগাপুরে আমাদের অফিসের মেডাম কে কল দিলাম সে বলল আমি অফিসে যাচ্ছি পরে আমি এমওএম কল দিতাছি। তারপর আরেক সমস্যা আমার বাংলাদেশের কভিড টেস্টের রেজাল্ট এর তারিখ এর সাথে সময় লিখা নাই কেন? আমি বললাম স্যার এটা আমি অনলাইন থেকে ডাউনলোড করছি টাইম না আসলে আমি কি করব। বলল সাস্থ্য বিভাগ থেকে ঠিক করে আনতে। হাতে আমার সময় আছে এক ঘন্টা। সাস্থ্য বিভাগ আরেক যায়গায় যেতে বলল সেখানে একশত টাকার বিনিময়ে ঠিক করে দিল। পরে আসলাম বোডিং পাস করতে এসে দেখি বোডিং পাস বন্ধ করে ফেলছে। একজন বলতাছে আপনি জানেন না ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাইট এর কত ঘন্টা আগে এয়ারপোর্ট থাকতে হয়? আমি বললাম আমি তো ফ্লাইট এর 2.5 ঘন্টা আগে আসছি। সে আমাকে বলল এখন তো মাত্র 30 মিনিট সময় আছে দেখি হেড স্যার এর সাথে কথা বলে দেখি। এর মধ্যে অফিসের ম্যাডাম আমাকে কল দিয়ে বলল তর এন্টি এপ্রোভাল ঠিক আছে আমি মাত্র এমওএম এর সাথে কথা বলছি। বাংলাদেশের এয়ারলাইনসের বড় স্যার এসে বলল তুমি নিজের রিস্কে যেতে পারো যদি তোমাকে সিংগাপুর থেকে ফিরিয়ে দেয় সব খরচ তুমি বহন করবা জরিমানাসহ। আমি সাথে সাথে রাজি হইলাম বললাম স্যার আমার কাছে মাস্টার কার্ড আছে। তারপর আমাকে একজন সাথে নিয়ে বিমানে উঠায় দিয়ে আসল। গিয়ে দেখি শুধু বিমান আমার জন্য ওয়েট করতাছে। পরে আলহামদুলিল্লাহ্ সিংগাপুর আসলাম আর সিংগাপুর immigration আমাকে একাবারের জন্যও জিজ্ঞাসা করে নাই এন্টি এপ্রোভাল এর বেপারে। কারণ এই দেশের সব কিছুই অনলাইনের অন্তর্ভুক্ত কাউকে কিছু জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন নেই। এখন বুঝতে পারছি বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা কেন লোকসান হয়। এখন মনে চায় বাংলাদেশর এয়ারলাইন্সের বোডিং পাস কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসা করতে আমার এন্টি এপ্রোভাল টা আদৌ কি ফেক ছিল? বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুরোধ এয়ারপোর্টে প্রবাসীদের হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড গুলো বন্ধের ব্যবস্থা করুন।
লিবিয়ার বহুল আলোচিত জওয়ারা বন্দিশিবিরে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কাজ করা দুই বাংলাদেশিকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ইতালির একটি আদালত। এ দুজন হলেন ৩৭ বছর বয়সী পজুরল সোহেল ও ৩৩ বছর বয়সী মো. হারুন। তাদের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও চাঁদাবাজির অভিযোগে সাবেক চার বন্দির মামলায় সিসিলি প্রদেশের পালেরমোর আদালত এ দণ্ডাদেশ দেন। এ ধরনের মামলায় ইতালির বিচার বিভাগ প্রদত্ত সর্বোচ্চ সাজা এটি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইটালপ্রেস জানায়, আদালত ওই দুজনকে অবৈধ অভিবাসন, মানবপাচার এবং চাঁদাবাজির জন্য অপহরণে সহায়তার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছেন।
এই দুই বাংলাদেশি জুওয়ারার বন্দিশিবিরের প্রহরী ছিলেন, যেখানে দেশের অন্যান্য শিবিরের মতোই নির্বাসিতদের ওপর নির্যাতন, ধর্ষণ এবং সব ধরনের অশোভন আচরণ করা হয়ে থাকে।
২০২০ সালের ২৮ মে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালির লাম্পেদুসায় আসা অন্য চার বাংলাদেশি অভিবাসী সিসিলির রাগুসাতে স্থানান্তরের সময় এই দুই অভিযুক্তকে দেখতে পেলে সঙ্গে সঙ্গে কর্তৃপক্ষকে জানান।
পরে তারা ইতালি পুলিশের কাছে জওয়ারা বন্দিশিবিরে তাদের ওপর হওয়া নির্মম অত্যাচারের বর্ণনা দেন। ভুক্তভোগী বাংলাদেশি অভিবাসীরা সে সময় কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করেছিলেন যে, জওয়ারার এই দুই নিরাপত্তারক্ষী ছাড়াও সেখানে থাকা মানবপাচারকারী ও মিলিশিয়া নেতারাও ইতালিতে এসেছেন।
ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্যগ্রহণের ভিত্তিতে আদালতে শুরু হয় মূল বিচার প্রক্রিয়া ও বিশদ তদন্তের কাজ। বাংলাদেশে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আসামিদের স্থানীয় প্রতিনিধিরা বন্দিদের বাংলাদেশে থাকা পরিবারের কাছ থেকে দাবিকৃত মুক্তিপণ আদায় করছেন।
বিভিন্ন ছবিতে দেখা যায়, অভিযুক্ত দুই বাংলাদেশি জওয়ারা বন্দিশিবিরে প্রহরী থাকাবস্থায় অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে আছেন এবং বিভিন্ন পোজে ছবি তুলছেন। তাদের হাতে থাকা অস্ত্রগুলো দিয়ে জওয়ারা বন্দিশিবিরে নির্যাতন করা হতো।
লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাওয়ার পথে ঠান্ডায় প্রাণ হারানো সাত বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পাঠানো হচ্ছে। প্রথম দফায় ১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে পাঠানো হবে দুইজনের মরদেহ। রোমে বাংলাদেশ দূতাবাস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বাকি পাঁচজনের মরদেহ পর্যায়ক্রমে খুব শিগগির দেশে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।
ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় কর্নাটক রাজ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মুসলিম ছাত্রীদের হিজাব পরা নিয়ে বিতর্কের জেরে রাজ্য সরকার ‘আইন বিঘ্নকারী’ সব পোশাক নিষিদ্ধ করে আদেশ জারি করেছে।
শনিবার এক সরকারি অধ্যাদেশের মাধ্যমে এই আদেশ জারি করা হয়।
অধ্যাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘সমতা, অখণ্ডতা ও আইনকে বিঘ্নকারী’ যেকোনো পোশাককেই নিষিদ্ধ করা হয়।
এতে বলা হয়, ‘কর্নাটক এডুকেশন অ্যাক্ট-১৯৮৩-এর ১৩৩ (২) ধারা অনুসারে বাধ্যতামূলকভাবে যে কোনো একপ্রকার ইউনিফর্ম পরতে হবে। প্রাইভেট স্কুলের প্রশাসন তাদের পছন্দমতো ইউনিফর্ম বেছে নেবেন।’
এতে আরো বলা হয়, ‘যদি প্রশাসন কোনো ইউনিফর্ম ঠিক করে না দেয়, তবে এমন পোশাক পরা উচিত হবে না যা সমতা, অখণ্ডতা ও আইনশৃঙ্খলাকে বিঘ্ন করে।’
অধ্যাদেশে আরো বলা হয়, ‘শিক্ষা বিভাগ লক্ষ্য করেছে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছেলে-মেয়েরা তাদের ধর্ম অনুসারে আচরণ শুরু করেছে, যা সমতা ও ঐক্যকে বিঘ্ন করে।’
কর্নাটকে সম্প্রতি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মুসলিম ছাত্রীদের হিজাব পরে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে বাধা দেয়া হচ্ছে। এই জেরে পুরো কর্নাটকেই মুসলিম শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছেন।
অপরদিকে মুসলিম শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের জেরে একদল হিন্দু শিক্ষার্থী গেরুয়া শাল পরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস করতে যাচ্ছেন।
শনিবার কর্নাটকের উদুপি জেলার কুনদাপুরে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের হিন্দু শিক্ষার্থীদের তাদের ইউনিফর্মের উপরে গেরুয়া শাল জড়িয়ে ‘জয় শ্রি রাম’ স্লোগান দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দিকে যেতে দেখা যায়।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মুসলিম শিক্ষার্থীদের হিজাব পরা নিয়ে বিতর্কের জেরে কর্নাটকের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধীদল ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসের নেতা সিদ্দারামাইয়া ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ও হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘকে (আরএসএস) সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর জন্য অভিযুক্ত করেন।
তিনি বলেন, ‘সংবিধানে যেকোনো ধর্মের অনুশীলনের সুযোগ দেয়া হয়েছে যার অর্থ ধর্মীয় বিধান অনুসারে যেকেউ যেকোনো পোশাক পরতে পারবে। হিজাব পরা ছাত্রীদের স্কুলে প্রবেশে বাধা তাদের মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন।’
অপরদিকে বিজেপির কর্নাটক রাজ্য প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট সদস্য নলিন কুমার কাতিল জানান, সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাবের অনুমোদন করবে না এবং স্কুলের নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিশ্চিতে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
তিনি বলেন, ‘রাজ্যে বিজেপি সরকার রয়েছে, হিজাব বা এই সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়েরই স্থান নেই। স্কুল মা সরস্বতীর মন্দির, সেখানের আইন ও নিয়ম সবারই পালন করতে হবে। ধর্মকে সেখানে নিয়ে যাওয়া সঠিক নয়, শিক্ষার্থীদের সেখানে প্রয়োজন শিক্ষা। যদি কেউ নিয়ম মানতে না পারে, তারা যেনো তাদের পথ দেখে।’
এর আগে চলতি বছর জানুয়ারিতে প্রথম উদুপির সরকারি পিউ গার্লস কলেজে প্রথম হিজাব পরে ছয় মুসলিম ছাত্রীকে ক্লাস করতে বাধা দেয়া হয়। পরে বুধবার নতুন করে কুনদাপুর সরকারি জুনিয়র কলেজে মুসলিম ছাত্রীকে হিজাব পরে ক্যাম্পাসে প্রবেশে বাধা দেয়ার মাধ্যমে কর্নাটকের দ্বিতীয় এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব পরার কারণে বাধার ঘটনা ঘটে। পরে আরো বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব পরে মুসলিম ছাত্রীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশে বাধা দেয়া হয়।