আজ মঙ্গলবার ইতালির অ্যাগ্রিজেনটো শহরের প্রসিকিউটর লুইগি প্যাট্রোনাজ্জিও এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছেন। ল্যাপিডুজার নিকটবর্তী জনবসতিহীন দ্বীপ ল্যাম্পিওয়নের উপকূল থেকে ১৮ মাইল দূরে একটি নৌকায় তাদের দেখতে পান উপকূলরক্ষীরা 😔
পরে তাদের উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তখন সাত বাংলাদেশির লাশ পাওয়া গেছে
ইন্টিগ্রেটেড সাবস্কাইবার আইডেন্টিটি মডিউল সংক্ষেপে আইসিম (iSIM) ফোনের প্রসেসরের মধ্যেই সংযুক্ত থাকবে। বেশ কিছুদিন থেকেই ইসিমের হিড়িক লক্ষ করা গিয়েছিল। যদিও ইসিম খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি। এর মধ্যেই আবার আইসিম প্রযুক্তির নাম শোনা যাচ্ছে। আজকের আয়োজনে আইসিম প্রযুক্তি কী, কীভাবে কাজ
করে এ প্রযুক্তি তারই বিস্তারিত লিখেছেন- ফয়সাল আহমাদ
শোনা যাচ্ছে আইসিম এনাবেল স্মার্টফোনে কোনো সিম কার্ড স্লট থাকবে না। আর থাকবে না বলেই সেই ফোনের ডিজাইন ভালো হবে, ব্যাটারি হবে আরও শক্তিশালী। আকার বা আয়তনের দিক থেকে সিম কার্ড পরিবর্তিত হলেও মূল ধারণা কিন্তু একই রয়েছে। মার্কেট থেকে এখনো ফিজিক্যাল সিম কার্ডের দৌরাত্ম্য কাটেনি। প্রথাগত ফিজিক্যাল সিম কার্ডের থেকে আকারে খুবই ছোট্ট ইসিম কার্ডের মাধ্যমে যে কোনো টেলিকম অপারেটরের কানেকশন ব্যবহার করা যায়। চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কোয়ালকম নতুন ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে। অপারেশনাল স্মার্টফোনে এ আইসিম প্রদর্শনের জন্য ভোডাফোন এবং থেলসের সঙ্গে জোটও বেঁধেছে সেমিকন্ডাক্টর প্রস্তুতকারক মার্কিন এ কোম্পানিটি।
কী এই আইসিম প্রযুক্তি?
আইসিম নতুন প্রযুক্তি হলেও এতে প্রথাগত সিম কার্ডের সব গুণাবলি থাকবে। কিন্তু তা ডিভাইসের প্রসেসরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। অর্থাৎ ফোনে কোনো সিম কার্ড স্লট থাকবে না কিন্তু আইসিম ফোনের ইন-বিল্ট প্রসেসর ইন্টিগ্রেট করা থাকবে। এ প্রযুক্তি এলে অনেকটাই ইসিমের মতো। অবশ্য আইসিম ডিভাইসের সঙ্গে অ্যামবেডেড থাকবে, যেটা ইসিমে ছিল না। জিএসএমএ স্পেসিফিকেশন্স মেনে চলে আইসিম, ডিভাইসের মূল প্রসেসরেই সিম ফাংশনালিটি অ্যামবেড করা রাখতে পারে এ প্রযুক্তি। কোয়ালকমের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আইসিম ব্যবহার করলে স্মার্টফোনের পারফরমেন্স আরও ভালো হবে, মেমোরি ক্যাপাসিটি আরও বাড়বে এবং সেই বৃহত্তর সিস্টেম ইন্টিগ্রেশনও পাওয়া যাবে।
আইসিমের সুবিধা কী?
স্মার্টফোনের বাইরে গিয়েও একটা সিম কার্ডের ব্যবহার তুলে ধরা আইসিম প্রযুক্তির মূল উদ্দেশ্য। আইসিম প্রযুক্তি ল্যাপটপ থেকে শুরু করে আইওটি, ডিভাইস, স্মার্টওয়াচ, এমনকি ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি প্ল্যাটফরমেও ব্যবহার করা যেতে পারে। কোয়ালকম-জানিয়েছে, এর সুবিধা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম হতে পারে। উদাহরণ হিসাবে বলা যেতে পারে, ডিভাইসের ডিজাইন এবং পারফরমেন্স আগের থেকে আরও উন্নত হবে। কারণ এ প্রযুক্তি ডিভাইসে অনেকটাই জায়গা খালি করে দেবে। সিম কার্ড স্লট না থাকার ফলে স্মার্টফোন প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলো ফোনের ডিজাইনে আরও পরিবর্তন আনতে পারবে। একটা ডিভাইসে সিম কার্ড না দিয়েই তার সব সুবিধা উপভোগ করতে দেবে এ আইসিম প্রযুক্তি।
আইসিমের প্রভাব বাজারে কবে আসবে?
আইসিম বিশ্বের কাছে একটা নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করবে, বিশেষ করে আইওটি ডিভাইসের ক্ষেত্রে। একজন মানুষ আইসিম কানেক্টেড ডিভাইস নিয়ে নিরাপদভাবে আইওটি নেটওয়ার্কে থেকে বিশ্বের যে কোনো জায়গায় ঘুরে বেড়াতে পারবেন। মেইনস্ট্রিমে ছড়িয়ে দিতে এ প্রযুক্তিকে আপন করে নিতে হবে টেলিকম সংস্থাগুলোকে। আইসিম কানেক্টেড ডিভাইস হাতে পেতে এখনো অনেকটাই দেরি, বেশ কিছু বছর লেগে যেতে পারে। প্রথমে প্রযুক্তিটি লঞ্চ হবে আর তার পরে তা দেওয়া হবে বিভিন্ন ডিভাইসে।
ভোডাফোনের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ইউরোপে এ ডেমনস্ট্রেশন করা হয়েছিল। যে ডিভাইস ব্যবহৃত হয়েছিল, সেটি হলো স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফ্লিপ থ্রি ৫জি, যাতে কোয়ালকমেরই স্ন্যাপড্রাগন ৮৮৮ ৫জি প্রসেসর রয়েছে। সেই প্রসেসরের সঙ্গেই ইন্টিগ্রেট করা হয়েছিল আইসিম এবং থেলসের আইসিম অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহৃত হয়েছিল।
সম্প্রতি ইতালিতে কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে সিজনাল ও স্পন্সর ভিসার ডিক্রি ও গেজেট প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা ধরনের চটকদার বিজ্ঞাপন।
বাংলাদেশসহ আরও বেশ কিছু দেশ থেকে ৬৯ হাজার ৭০০ জন অভিবাসী কর্মী আনার অনুমতি দিয়ে ২০২১ সালের ২১ ডিসেম্বর একটি ডিক্রি জারি করে ইতালির শ্রম ও সামাজিক পরিকল্পনা বিষয়ক মন্ত্রণালয়। যেখানে কোন খাতে কতজন এবং কোন কোন দেশ থেকে আসতে পারবেন সেটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
জারিকৃত ডিক্রিটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয় ১৭ জানুয়ারি ২০২২ তারিখে। প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী নন সিজনাল ওয়ার্কার, স্টার্ট আপ বা উদ্যোক্তা ভিসায় ইতালিতে আসতে আগ্রহীরা ২৭ জানুয়ারি থেকে সরকারের নির্দিষ্ট দপ্তরে আবেদন করতে পারবেন।
অপরদিকে সিজনাল বা মৌসুমি ভিসার আবেদন করা যাবে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২২ থেকে। উভয় ক্ষেত্রে আবেদনের সময়সীমা থাকবে ১৭ মার্চ, ২০২২ পর্যন্ত। এই কাজের ভিসাগুলো বিশেষ করে বাংলাদেশ, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, বসনিয়া ও হ্যারৎসেগোভিনা, উত্তর কোরিয়া, আইভরি কোস্ট এবং মিশর থেকে আসা অভিবাসী কর্মীদের দেওয়া হবে।
ইতালির শ্রম ও সামাজিক পরিকল্পনা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মোট ভিসার মধ্যে ১৪ হাজার কোটা কৃষিখাতের মৌসুমি বা সিজনাল ভিসার জন্য নির্ধারিত থাকবে। এছাড়া ২৬ হাজার কোটা স্পন্সর ও উদ্যোক্তা ভিসার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে যার মধ্যে ২০ হাজার কোটা নির্মাণখাত, সড়ক ও যোগাযোগ এবং হোটেল রেস্তোরাঁর জন্য বরাদ্দ থাকবে।
ইতালি বা যেকোন দেশে কর্মী নিয়োগের কোনো সার্কুলার দেওয়া হলে বাংলাদেশ থেকে আগ্রহী বেশিরভাগ আবেদনকারী সাধারণত বেসরকারি এজেন্সিগুলোতে ভিড় করেন। কিন্তু এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে মধ্যপ্রাচ্য বা অন্যান্য দেশগুলোর মতো ইতালিতে চাইলেই কোনো এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করা যায় না।
কৃষি, হোটেল-রেস্তোরাঁ, নির্মাণ খাতসহ সার্কুলারে তালিকাভুক্ত খাতগুলোতে মৌসুমি ও স্পন্সর উভয় ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন একমাত্র নিয়োগকর্তা। অর্থাৎ, ইতালিতে কৃষি বা অন্যান্য খাতে ব্যবসা করছেন এমন কোনো মালিক যদি তার প্রতিষ্ঠানের জন্য কর্মীর প্রয়োজন হয়, সেক্ষেত্রে তিনি আবেদনকারীর বিস্তারিত তথ্য ও যাবতীয় সরকারি নিয়ম অনুসরণ করে সরকারের নির্দিষ্ট দপ্তরে আবেদন করবেন।
সরকার যাচাই বাছাই করে আবেদন মঞ্জুর করলে পরবর্তীতে নিয়োগকর্তা ভিসাসহ অন্যান্য প্রস্তুতির জন্য আবেদনকারীকে অবহিত করবেন।
অবৈধ এজেন্সি ও অবাস্তব বেতন নিয়ে সতর্কতা
বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আবেদনকারীরা ইতালির বেতন কাঠামো এবং যাবতীয় তথ্য যাচাই না করেই অনেক সময় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার মতো বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ হয়ে যান।
পরবর্তীতে দেখা যায় একজন ব্যক্তি যে পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে ইতালিতে এসেছেন সেটি তার পুরো বছরের বেতনের সমান বা তার থেকেও কম। অনেক অসাধু ব্যবসায়ী আছেন যারা তাদের ব্যবসায় প্রয়োজনীয় কর্মী না লাগার পরেও শুধু মৌসুমি মুনাফা লাভের আশায় বিপুল অর্থের বিনিময়ে লোকজনকে ভিসার প্রস্তাব দিয়ে থাকেন।
যেখানে একটি মৌসুমি ভিসার মেয়াদ থাকে মাত্র ছয় মাস সেখানে চুক্তিতে থাকা কর্মঘণ্টার দ্বিগুণ কাজ করার পরেও একজন ব্যক্তির পক্ষে এত বিশাল অংকের টাকা আয় করা সম্ভব হয়ে উঠে না। এছাড়া অনেক অভিবাসীকে মৌসুমি ভিসার মেয়াদের পরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যেতে বলা হয়।
এমন পরিস্থিতিতে তারা বিপদে পড়েন। বসবাসের অনুমতি দেওয়ার যৌক্তিক কারণ না থাকায় পরবর্তীতে বিভিন্ন দেশে তাদের আশ্রয় আবেদন বাতিল হয়ে যায়। এরই মধ্য়ে গ্রিস ও জার্মানি থেকে এমন অনিয়মিত বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানো শুরু হয়েছে।
ভাষা ও কারিগরি দক্ষতা
কোনো আবেদনকারী যদি যথাযথ নিয়োগকর্তা যোগাড় করতে সক্ষম হোন তাহলে আবেদনের পাশাপাশি তিনি যে কাজের জন্য যাবেন সেই বিষয়ে তার পর্যাপ্ত কারিগরি দক্ষতা এবং ন্যূনতম ইতালীয় ভাষা জানা থাকা উচিত।
যেমন কেউ যদি নির্মাণ খাতে সাধারণ বা আধাদক্ষ কর্মী হিসেবে আসতে আগ্রহী হন তাহলে ইতালির আবহাওয়া এবং নির্মাণখাতের কাজের পরিবেশ সম্পর্কে মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।
এটি হোটেল-রেস্তোরাঁ, কৃষিসহ সবখাতে আসতে আগ্রহীদের জন্যই প্রযোজ্য। গত বছরগুলোতে এসব ভিসায় এসে অনেকেই অনিয়মিত অভিবাসীতে পরিণত হওয়ার পর তাদের পুনরায় বৈধতা পেতে বছরের পর বছর সময় লেগেছে। আবার অনেককে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে বাংলাদেশে।
সর্বোপরি একজন আবেদনকারীর উচিত সরকারি বেতন কাঠামো এবং থাকা-খাওয়াসহ যাবতীয় খরচ সম্পর্কে অবগত হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া। বিপুল অংকের অর্থের বিনিময়ে ভিসার প্রস্তাব দেওয়া নিয়োগকর্তারা অনেক ক্ষেত্রেই অসাধু ব্যবসায়ী হয়ে থাকেন।
ভূমধ্যসাগরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কয়েকদিনে সাতশ জনের বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করা হয়েছে। লিবিয়ার উপকূল থেকে সাগর পাড়ি দিয়ে এসব অভিবাসনপ্রত্যাশী ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলেন।
বেসরকারি সংস্থা ডক্টর্স উইদাউট বর্ডার্স পরিচালিত জাহাজ ‘গেও বারেন্টস’ এবং ইতালির ‘মারে ইয়োনিও’ তাদের উদ্ধার করে।
এক টুইট বার্তায় ডক্টর্স উইদাউট বর্ডার্স জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে ভূমধ্যসাগরে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত তাদের জাহাজ গেও বারেন্টস একটি ছোট নৌকা থেকে ৬৭ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করেছে। উদ্ধারদের অনেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।
এদিকে শুক্রবার আরেক অভিযানে সংস্থাটি ১২ জন শিশুসহ ৭৬ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করেছে। এছাড়া বৃহস্পতিবার পরিচালিত আলাদা আলাদা অভিযানে প্রায় তিনশজন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে ভূমধ্যসাগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারদের মধ্যে দুজন শিশুও আছে বলে। ছোট ছোট নৌকায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় তারা প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় সারারাত সমুদ্রে ভাসছিলেন। নৌকায় থাকা অনেকেই হাইপোথার্মিয়ায় ভুগছিলেন বলে জানা গেছে।
সংস্থাটি জানায়, তাদের জাহাজটিতে এই মুহূর্তে ৪৩৯ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী রয়েছেন। এদিকে মেডিটারিয়ান সেভিং হিউম্যানস নামে ইতালির বেসরকারি সংস্থার পরিচালিত জাহাজ মারে ইয়োনিও গত কয়েকদিনে দুইশ আট জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে ভূমধ্যসাগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে।
শুক্রবার সকালে সাগরে পরিচালিত এক অভিযানে নৌকায় বিপদাপণ্ন অবস্থায় ভাসতে থাকা মোট একশ সাত জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করে জাহাজটি। উদ্ধারদের মধ্যে ১৪ জন নারী রয়েছেন।
মঙ্গলবার রাতে ভূমধ্যসাগরের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় চার ঘণ্টার একটি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে তারা একশজন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করে।
সংস্থাটি জানায়, উদ্ধারকৃত এ অভিবাসনপ্রত্যাশীরা কাঠের নৌকায় করে সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনকারী নৌকাটি প্রায় ডুবে যাচ্ছিল।
করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের দাপটে বিশ্বে প্রতিদিন লাফিয়ে বাড়ছে শনাক্ত রোগী। এর সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যু, যা এখন ৫৬ লাখ ছাড়িয়েছে।
২০১৯ সালের শেষ দিকে চীনের উহানে প্রথমবার কভিড-১৯ শনাক্ত হয় ও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। পরের বছরের জানুয়ারি থেকে অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ার খবর আসতে থাকে।
গত দুই বছরে দেশে দেশে লকডাউন, বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্যবিধি পালন ও সর্বশেষ গণ টিকাদান সত্ত্বেও করোনা এখনো দাপট দেখিয়ে যাচ্ছে। অতি সংক্রমণশীল ডেল্টার পর এখন আরও দ্রুত ছড়াচ্ছে ওমিক্রন।
পরিসংখ্যান ভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার শনিবার সকাল ৯টা নাগাদ জানায়, এ পর্যন্ত বিশ্বে মারা গেছে ৫৬ লাখ ৩ হাজার ১৬০ জন।
মোট শনাক্ত হয়েছে ৩৪ কোটি ৬৮ লাখ ৫৬ হাজার ৪৩২ জন রোগী। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২৭ কোটি ৬৫ লাখ ৮৫ হাজার ৩৪৩ জন।
আক্রান্তের তালিকায় শীর্ষে আছে যুক্তরাষ্ট্র। মৃত্যুতেও দেশটি এক নম্বরে। যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৭ কোটি ১৩ লাখ ৯৪ হাজার ৫৭৯ জন। মারা গেছে ৮ লাখ ৮৭ হাজার ৬৪৩ জন।
৩ কোটি ৮৯ লাখ ১ হাজার ৪৮৫ জন শনাক্তের হিসাব নিয়ে সংক্রমণে দ্বিতীয় ভারত। দেশটিতে মারা গেছে ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৯১১ জন।
ডিঙি নৌকায় আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছার চেষ্টাকালে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন অভিবাসনপ্রত্যাশী এক মা। স্পেনের কোস্টগার্ড সদস্যরা নবজাতকসহ নৌকায় থাকা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের উদ্ধার করেছেন৷
নবজাতক ও তার মা দুজনেই সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন কোস্টগার্ড সদস্যরা।
জানা গেছে, স্পেনের উপকূলরক্ষীরা গত বুধবার রাতে দেশটির ক্যানারি দ্বীপের উপকূল থেকে প্রায় ৪৪ কিলোমিটার দূরে সাগরে ভাসমান এ ডিঙি নৌকাটি উদ্ধার করে। নৌকাটিতে মোট ৬০জন অভিবাসী ছিলেন বলে জানা গেছে। তারা সবাই উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে ইউরোপে পাড়ি জমাতে উঠেছিলেন।
এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আটলান্টিক মহাসাগর ও ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা ইউরোপে পৌঁছার চেষ্টা করেন। অনেকক্ষেত্রে যাত্রার জন্য ব্যবহৃত হয় মাঝারি আকারের রাবারের ডিঙি, যা এই বিপদসঙ্কুল যাত্রার জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।
প্রায় নৌকাডুবিতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। তাছাড়া স্পেন, ইটালি, গ্রিস এবং লিবিয়ার উদ্ধারকারীরা বিভিন্ন সময়ে বিপজ্জনক অবস্থায় নৌকায় ভাসমান অভিবাসীদের উদ্ধার করে, এমন খবরও প্রতিনিয়তই পাওয়া যায়।
স্পেনের বার্তাসংস্থা ইএফই এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ৬০ জন অভিবাসীর এ দলটি রাবারের ডিঙিতে করে যাত্রা করছিল।পথিমধ্যে ডিঙিতে থাকা এক নারী সন্তান জন্ম দেন। নবজাতক ও তার মা সুস্থ আছেন উল্লেখ করে বার্তা সংস্থাটি জানায়, উদ্ধারকৃত অভিবাসীদের গ্রান তারজালা বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এ অলৌকিক ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের হায়দরাবাদের খাম্মাম জেলায়। জানা যায়, একজন গর্ভবতী নারী কোমায় চলে গিয়েছিলেন, এবং ডাক্তাররা তার সন্তানকে বাঁচাতে তার অপারেশন করতে বাধ্য হয়েছিল। পরে তার সদ্যোজাত শিশুর কান্না তাকে কোমা থেকে ফিরিয়ে আনে। ঘটনাটি ঘটেছে ভদ্রাচলম সরকারি হাসপাতালে।
টেকুলাবরুগাঁও কোটাওয়ারাম মন্ডলের বাসিন্দা নাগমণির ৪ ফেব্রুয়ারি প্রসব হওয়ার কথা ছিল। তবে, রক্তচাপের ওষুধ ব্যবহার করার কারণে তার শ্বাসকষ্ট হয়েছিল যার কারণে তাকে প্রাথমিকভাবে কর্তালাগুত্তার সিএইচসি কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। সেখানকার চিকিৎসক তাকে ভদ্রাচলম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর ভদ্রাচলম হাসপাতালে ভর্তির সাথে সাথেই কোমায় চলে যান তিনি। হাসপাতালের ডাক্তারদের অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও, নারীটি তার চেতনা ফিরে পাননি।
অন্যদিকে রোগীর শারীরিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ডা. কোটিরেড্ডি এবং ডা. পালিয়া ভদ্রাচলম হাসপাতাল সুপার রামকৃষ্ণের অনুমতি নিয়ে শিশুটিকে বাঁচাতে চেয়েছিলেন। যার জেরে তার স্বামী সত্যনারায়ণ এবং তার ভাই নাগেশ্বর রাওয়ের কাছ থেকে অনুমোদন নেয়ার পর, ডা. রামকৃষ্ণনের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকদের একটি দল গর্ভবতী নারীর সন্তান প্রসবের জন্য অপারেশন করেন।
আর এরপরেই নবজাতক শিশুর কান্না অলৌকিকভাবে নারীটিকে তার কোমা থেকে নিয়ে এসেছে। সদ্যোজাত শিশুর কান্না শুনে তার জ্ঞান ফিরে পাওয়ার ঘটনায় চিকিৎসকরাও অবাক হয়ে যান। তাকে অবিলম্বে যথাযথ চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। বর্তমানে মা ও শিশু দুজনেই ভালো আছে। সূত্র : পুবের কলম
আবিদা ইসলাম। মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। বেছে নিয়েছেন চ্যালেঞ্জিং জীবন। দেশের মানুষকে সেবা দিতে গিয়ে জীবনটাকে উপভোগ যেমন করছেন, তেমনি গড়ছেন একে একে সাফল্যের সিঁড়ি, যে সাফল্যের সঙ্গে মিশে আছে উচ্ছল-উজ্জ্বল বাংলাদেশের গল্প। পেশাদার এ কূটনীতিক মুখোমুখি হন জাগো নিউজের। কথা বলেন নানা বিষয় নিয়ে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ওমর ফারুক হিমেল-
মেক্সিকোর সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয় ১৯৭৫ সালের জুলাই মাসে। ২০১১ সালে প্রয়াত পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েসের নেতৃত্বে একটি ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং’ দল মেক্সিকো সফর করেন। ওই প্রতিনিধি দলের সুপারিশে ২০১৩ সালে মেক্সিকো সিটিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কার্যক্রম শুরু হয়। তবে ঢাকায় মেক্সিকোর কোনো দূতাবাস বা ভিসা অফিস এখনো স্থাপিত হয়নি। নয়াদিল্লির মেক্সিকো দূতাবাস বাংলাদেশের সমবর্তী দায়িত্বে নিয়োজিত। যদি ঢাকায় মেক্সিকোর একটি কনস্যুলেট বা কূটনৈতিক মিশন স্থাপন করা যায়, তাহলে মেক্সিকোর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আমার বিশ্বাস।
উদার গণতন্ত্র এবং বাজার অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশ-মেক্সিকোর মধ্যে আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং অর্জনের ক্ষেত্রে অনেক মিল রয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন, জাতিসংঘে শান্তিরক্ষা- এসব ক্ষেত্রে আমরা একে অপরের অভিজ্ঞতা থেকে জ্ঞান লাভ করতে পারি। বিগত আট বছরে দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কে কিছুটা অগ্রগতি হলেও ভৌগলিক দূরত্ব এবং ভাষার প্রতিবন্ধকতার কারণে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যান্য ক্ষেত্রগুলো এখনও পূর্ণ মাত্রায় বিকশিত হতে পারেনি। তবে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বিস্তৃত করার অনেক সুযোগ রয়েছে। মেক্সিকো সিটির বাংলাদেশ দূতাবাস এ কাজে নিয়োজিত।
গেল কয়েক বছর আগে দুই দেশের মধ্য কূটনৈতিক সম্পর্ক গভীর হয়। কিন্তু এখনো দুই দেশের প্রেসিডেন্ট পর্যায়ে ও প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে সফর হয়নি। দুই দেশের সরকার প্রধানদের রাষ্ট্রীয় সফরের কোনো পরিকল্পনা আছে কি?
দুই দেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে সফর না হলেও বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মন্ত্রী পর্যায়ের সফর হয়েছে। যা এখনো চলমান। এছাড়া করোনা মহামারির কারণে দ্বিপাক্ষিক ভ্রমণে স্থবিরতা বিরাজ করছে। তবে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে আমাদের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মেক্সিকোর স্বাধীনতার ২০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে মেক্সিকো সিটি সফর করেন। এছাড়া মেক্সিকোর রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করার সময় আমি তাকে আমাদের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আশা করি শিগগির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুসংহত হবে। দুই দেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিপাক্ষিক সফর। আমি এ বিষয়ে অত্যন্ত আশাবাদী।
২০১৩ সালে বাংলাদেশ তার প্রথম আবাসিক দূতাবাস চালু করে মেক্সিকো শহরে। এরপর ২০১৫ সালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম দুই দেশের ৪০ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্ক উদযাপন করতে মেক্সিকো সফর করেছিলেন। সেখানে থাকাকালীন মেক্সিকোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোসে আন্তোনিও মেইডের সঙ্গে সাক্ষাতে মিলিত হন শাহরিয়ার আলম। এই সফর সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন
২০১৫ সালে প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম মেক্সিকো সফর করেন। যেটি ছিল মেক্সিকোর সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের প্রথম দ্বিপাক্ষিক সম্পৃক্ততা। তখন মেক্সিকোর স্বাধীনতার ২০০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে যোগদানসহ বাংলাদেশ থেকে একটি সামরিক দল এবং একটি সাংস্কৃতিক দল পাঠানোর জন্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো হয়। এছাড়া বাংলাদেশে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে অংশ নিতে একটি সামরিক প্রতিনিধি দল পাঠাতে চায় মেক্সিকো।
মেক্সিকোর উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূত কারমেন আর্থ-সামাজিক উন্নয়নসহ নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অসাধারণ অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। বাংলাদেশ থেকে প্রস্তাবিত শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকটি তার সরকারের বিবেচনার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমডিজি ও এসডিজিতে বাংলাদেশের অর্জন সম্পর্কে বিশদভাবে অবহিত করেন। তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে অব্যাহতভাবে সমর্থনের জন্য মেক্সিকো সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
সেই সঙ্গে, নিয়মিত দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক পরামর্শ সভা, সাংস্কৃতিক সহযোগিতা, ভাষা প্রশিক্ষণসহ উভয় দেশের কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ একাডেমির মধ্যে সহযোগিতার ওপরে গুরুত্ব প্রদান করেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা অব্যাহতি সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকটি দ্রুত স্বাক্ষর করার বিষয়ে মেক্সিকোর উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কারমেনকে অনুরোধ জানান।
বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে বাংলাদেশ-মেক্সিকোর কাজের অগ্রদূত কতটুকু?
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম মেক্সিকোর উপ-বাণিজ্য উপমন্ত্রী লুজ মারিয়া দে লা মোরা সানচেজের সঙ্গে বৈঠক করেন। তখন প্রতিমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং দ্বিপাক্ষিকভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গভীর আগ্রহের কথা প্রকাশ করেন। তিনি এসময় মেক্সিকো সিটিতে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত ‘কানেক্টিং থ্রু বিজনেস’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে দুই দেশের শীর্ষ ব্যবসায়িক সংস্থা এফবিসিসিআই এবং মেক্সিকান বিজনেস কাউন্সিল ফর ফরেন ট্রেড, ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক সম্পর্কে মেক্সিকোর উপ-বাণিজ্য উপমন্ত্রীকে অবহিত করেন।
এছাড়া মেক্সিকোর উপমন্ত্রী বাংলাদেশকে জানান, এসএমই, কৃষি এবং খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে উভয় দেশ একে অপরের অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে পারে। তিনি এফবিসিসিআই এবং মেক্সিকান বিজনেস কাউন্সিল ফর ফরেন ট্রেড, ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ সময় দুই দেশের বাণিজ্যিক লক্ষ্যমাত্রা ১ বিলিয়ন নির্ধারণের প্রস্তাব দেন। আশা করা যাচ্ছে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে একটি গতির সঞ্চার হবে।
অপরদিকে ২০১৫ সালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমের সফর ছিল মেক্সিকোতে মন্ত্রী পর্যায়ের প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর। এরপর ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় দ্বিপাক্ষিক সফর হয়। যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করে। এর মধ্যে ২০২১ সালের ১৬ নভেম্বর বাংলাদেশ ও মেক্সিকোর মধ্যে প্রথম দ্বিপাক্ষিক পরামর্শ সভা ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে মহাপরিচালক পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়া শাহরিয়ার আলমের মেক্সিকো সফরকালে এক অনুষ্ঠানে দেশটির ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তারা মিলিত হন। সে সময় ব্যবসায়িক সহযোগিতার সংক্রান্ত বিষয়ে এফবিসিসিআই এবং সিওএসিইর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমইউ) স্বাক্ষরিত হয়। যা ছিল মেক্সিকোর সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে একটি ব্যবসায়িক কাঠামো প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গৃহীত প্রথম পদক্ষেপ।
মেক্সিকোর স্বাধীনতার ২০০ বছর উদযাপনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি সামরিক কন্টিনজেন্ট এবং সাংস্কৃতিক দল অংশ নেয়। এ বিষয়ে কিছু বলেন।
তখন বাংলাদেশ থেকে ১৪ সদস্যের একটি সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি দল পাঠানো হয় মেক্সিকোতে। তারা মেক্সিকোর ভেরাক্রজে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেয় এবং বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উপস্থাপন করে যা এ দেশে অত্যন্ত সমাদৃত হয়। বিষয়টি প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচার হয়েছে। তাদের আগমন, অংশগ্রহণ এবং উপস্থাপনা আমাদের দ্বিপাক্ষিক সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক গতির সঞ্চার করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার প্রস্তাবিত একটি সাংস্কৃতিক সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক নিয়ে মেক্সিকো সরকার পর্যালোচনা করছে।
এছাড়া বাংলাদেশের সামরিক প্রতিনিধি দলের মেক্সিকো সফরের ফলে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী অনুষ্ঠানে পাঁচ সদস্যের একটি সামরিক প্রতিনিধি দল পাঠায় দেশটির সরকার। এছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধিতে আগ্রহ প্রকাশ করে মেক্সিকো।
বাংলাদেশ ও মেক্সিকোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। বাণিজ্যের ভারসাম্য সর্বদা বাংলাদেশের অনুকূলে থাকলেও উভয় দেশের সামগ্রিক বাণিজ্যের পরিমাণ একেবারেই সন্তোষজনক নয়। মেক্সিকো থেকে বাংলাদেশ সাধারণত ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য, নির্মাণসামগ্রী, পোশাক উৎপাদনের জন্য মেশিনারি ইত্যাদি আমদানি করে থাকে। মেক্সিকো বাংলাদেশ থেকে প্রধানত টেক্সটাইল এবং পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, খেলাধুলার সরঞ্জামাদি, চিকিৎসার যন্ত্রপাতি, পাটজাত পণ্য, কাঠ, প্লাস্টিক ও রাবার জাতীয় পণ্য, সিরামিক এবং কাচ জাতীয় পণ্য সামগ্রী আমদানি করে থাকে।
বাংলাদেশ দূতাবাস মেক্সিকোর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত হওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি তাদের সঙ্গে আলোচনায় জানা গেছে, মেক্সিকান ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ থেকে আইসিটি, তৈরি পোশাক, ওষুধ, প্রক্রিয়াজাত খাবার, আসবাবপত্র, আলোক-সজ্জায় ব্যবহৃত আলো ও ডাইপার পণ্য আমদানিতে আগ্রহী। তারা সামুদ্রিক লবণ ক্রেতা এবং বাংলাদেশের সুপার মার্কেট কোম্পানিগুলোর সাথেও যুক্ত হতে চায়। তারা বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক্স পণ্য, অটো পার্টস, তেল এবং তেলের ডেরিভেটিভস রপ্তানি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
মহামারির কারণে, ২০২০ সালে অবৈধ অভিবাসীদের প্রবাহ তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও ২০২১ সালে তা উল্লেখযোগ্যহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। ২০২১ সালে আমাদের দূতাবাস ১১৮ জন অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে এবং এই সংখ্যাটা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। বিভিন্ন দেশ ঘুরে তারা মেক্সিকোকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে আমেরিকা প্রবেশ করতে চান এবং এজন্য ১৭-২২ লাখ টাকা ব্যয় করে থাকেন। যা বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য কাম্য নয়। দূতাবাস বিষয়টি বাংলাদেশের যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে সে সম্পর্কে দূতাবাস অবহিত নয়।
আমার মেয়াদকালে অর্থনৈতিক কূটনীতি ছাড়াও, আমি দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিসহ সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত আদান-প্রদানের ওপর জোর দেওয়ার চেষ্টা করছি।
আমরা এরই মধ্যে ওয়েবসাইট আপগ্রেড করার জন্য কাজ করছি। আপনি আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করলে আমাদের নতুন উদ্যোগগুলো লক্ষ্য করতে পারবেন।
শুধুমাত্র আমাদের ফেসবুকে নয় আমাদের টুইটার অ্যাকাউন্টেও আমরা এই ধরনের সংবাদ আপলোড করে থাকি।
আমি এরই মধ্যে মেক্সিকো সিটিতে কর্মরত কোস্টারিকা এবং গুয়াতেমালার রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে দেখা করেছি। আমাদের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমি আমার সমবর্তী দায়িত্বভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করবো।
পৃথিবীর ইতিহাস অথবা মানব সভ্যতার ইতিহাস জানলে কত যে রহস্যের উদ্ঘাটন করা যায়, তা আমাদের কাছে অজানা। সম্প্রতি এমনই একটি রহস্যের সন্ধান পেয়েছেন পুরাতত্ত্ব বিজ্ঞানীরা। এবার আরো একবার তেমনি একটি রহস্যের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা। ২০০০ আগের পুরনো এক যোদ্ধার মাথার খুলি খুঁজে পাওয়া গেছে। গত বছর এই খুলির সন্ধান পেয়েছেন পুরাতত্ত্ববিদেরা। খুলি দেখেই চমকে যান তাঁরা।
কিন্তু কেন? এই খুলিতে খুব যত্ন সহকারে ধাতুর পাত বসানো রয়েছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, কঙ্কালটি পেরুভিয়ান কোন এক যোদ্ধার। মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন ওই যোদ্ধা খুব সম্ভবত। তারপর হয়তো তার চিকিৎসা করানো হয়। অস্ত্রোপচার করে মাথায় এই পাত বসানো হয়েছে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।
এতদিন এই বিশেষ খুলিটি জনসমক্ষে আনা হয়নি। কিন্তু এবার এটিকে রাখা হয়েছে ওকলাহোমার মিউজিয়াম অফ অস্ট্রলজিতে। জনসাধারণের সমক্ষে আনার পর আরও বেশি উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে সকলের মধ্যে। মিউজিয়ামের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে সম্প্রতি এই খুলির ছবি পোস্ট করা হয়েছে। ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, এটি মানুষেরই খুলি।
কিন্তু আজ থেকে ২০০০ বছর আগে কিভাবে মানুষের মাথার খুলিতে এইভাবে ধাতুর পাত বসানো হলো তা নিয়ে পর্যালোচনা করছেন বিজ্ঞানীরা। কেউ কেউ দাবি করেছেন, হয়তো ধাতু গলিয়ে মাথার খুলির ভাঙা অংশে ঢেলে দেওয়া হয়েছিল। আবার কোনো কোনো বিজ্ঞানীদের মতে, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মাথার ভিতর ক্ষত সারানোর জন্য এই পাত ব্যবহার করা হয়েছে।
এই খুলির সন্ধান পাওয়ার পরে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, তখনকার শল্যচিকিৎসা অনেকটাই উন্নত ছিল। যুদ্ধক্ষেত্রে দক্ষ চিকিৎসকরা উপস্থিত থাকবেন বলেও মনে করা হচ্ছে। তবে এই ধাতুর পাতে কোন ধাতু ব্যবহার করা হয়েছে তা এখনো বোঝা যায়নি।
করোনার সংক্রমণ এড়াতে বহু দেশই ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। বুধবার ডাব্লিউএইচও জানিয়েছে, এভাবে করোনাকে আটকানো সম্ভব নয়।
করোনার বিভিন্ন ঢেউয়ে বিশ্বের একাধিক দেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। ওমিক্রন আসার পরে গত নভেম্বর থেকে আফ্রিকার একাধিক দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে বহু দেশ। বুধবার জাতিসংঘে এ বিষয়ে বৈঠকে বসেছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তারা। দীর্ঘ বৈঠকের পর তারা যে বিবৃতি প্রকাশ করেছেন, তাতে বলা হয়েছে, ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে করোনাকে আটকানো সম্ভব নয়। এর ফলে কেবল অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়।
বস্তুত, ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার কারণে হসপিটালিটি ইন্ডাস্ট্রি ধুঁকছে। বহু বিমান সংস্থা কর্মী ছাঁটাই করেছে। কোনো কোনো বিমান সংস্থা বন্ধ হওয়ার মুখে। শুধু তাই নয়, বিমান চলাচল বন্ধ থাকার জন্য দেশগুলিও আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছে। এই অবস্থায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছে ডাব্লিউএইচও। তাদের বক্তব্য, ভ্রমণের ক্ষেত্রে দুইটি ভ্যাকসিনের সার্টিফিকেট দেখানো বাধ্যতামূলক করা উচিত নয়। কারণ, পৃথিবীর সর্বত্র সমানভাবে ভ্যাকসিন দেওয়া যায়নি। বিশেষ করে আফ্রিকার দেশগুলিতে ভ্যাকসিন ঠিক সময়ে পৌঁছায়নি। এই পরিস্থিতিতে সকলের কাছে দুইটি ভ্যাকসিনের সার্টিফিকেট চাওয়া অন্যায়। বরং বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
ডাব্লিউএইচও-র পরামর্শ, দুইটি ভ্যাকসিনের সার্টিফিকেট না থাকলে সেই ব্যক্তিকে আইসোলেশনে পাঠানো হোক। নেগেটিভ রিপোর্ট দেখতে চাওয়া হোক। ১৪ দিন আইসোলেশনের খরচ তার কাছ থেকে নেওয়া হোক। কিন্তু তাকে কোনো দেশে ঢুকতেই দেওয়া হবে না, এ নিয়ম ঠিক নয়।
সামগ্রিকভাবে গোটাবিশ্বেকরোনার সংক্রমণ গত এক সপ্তাহে ২০ শতাংশ বেড়েছে বলে বুধবার ডাব্লিউএইচও জানিয়েছে। তবে মৃত্যুর হার একই আছে। সুস্থ হয়ে ওঠার সংখ্যাও বেশি। সবচেয়ে আশ্চর্যের, গত এক সপ্তাহে করোনা সংক্রমণ চোখে পড়ার মতো কমেছে আফ্রিকায়। সূত্র: রয়টার্স, এএফপি।