বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত ব্যক্তিদের ৮০ শতাংশই ডেল্টা ধরনের সংক্রমিত। গত দুই মাসে আক্রান্তদের নমুনা পরীক্ষা করে গবেষণায় এ চিত্র পেয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)।
গবেষণার এই ফল মঙ্গলবার জানায় প্রতিষ্ঠানটি। এই ডেল্টা ধরনকে শুরুতে ভারতীয় ধরন বলা হতো।পরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পক্ষ থেকে করোনার ধরনটির নতুন নাম দেওয়া হয় ‘ডেল্টা ভেরিয়েন্ট’।
গত বছরের অক্টোবরে ভারতে প্রথম ডেল্টা ধরন শনাক্ত হয়। এ ধরন অতি সংক্রামক। দ্রুত একজনের কাছ থেকে অন্যের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ ধরনের কারণেই গত এপ্রিল ও মে মাসে ভারতে করোনা পরিস্থিতি ভয়ংকর রূপ নেয়।
চীন সীমান্তে এত দিনের রক্ষণাত্মক নীতির বদলে আক্রমণাত্মক রক্ষণনীতির দিকে যাচ্ছে ভারত। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানিয়েছে চীন সীমান্তে ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে দিল্লি। এই নিয়ে প্রায় ২ লাখ সেনা মোতায়েন করল ভারত।
এদিকে ব্লুমবার্গ আরও জানিয়েছে- শুধু সেনা সংখ্যাই নয়, এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাফায়েলের মতো ভয়ংকর যুদ্ধবিমানও। এর আগে ১৯৬২ সালে চীনের সঙ্গে ভারত যুদ্ধ লড়লেও দিল্লির সামরিক শক্তি এত দিন প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের প্রতি আক্রমণাত্মক নীতি ব্যবহার হতো। ২০২০ সালের লাদাখ সীমান্তের গালওয়ান সংঘর্ষের সময় থেকে এই পরিস্থিতি পাল্টে যেতে শুরু করে।ব্লুমবার্গ জানায়, বর্তমানে চীনের সঙ্গে ভারতের বিভিন্ন সীমান্তে মোতায়েন রয়েছে মোট ২ লাখ সেনা সদস্য, যা গতবছরের তুলনায় তা ৪০ শতাংশ বেশি। তাছাড়া তিনটি স্থানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর জেট স্কোয়াড্রনও মোতায়েন রয়েছে চীনা সীমান্তের কাছেই।অন্যদিকে তিব্বত থেকে জিনঝিয়াং সামরিক কমান্ডে চীনা সেনা বৃদ্ধি ছাড়াও নতুন করে রানওয়ে ভবন, বোমা প্রুফ বাংকার নির্মাণ, নতুন জঙ্গিবিমান ছাড়াও গত কয়েক মাসে দূরপাল্লার আর্টিলারি, ট্যাংক, রকেট রেজিমেন্টস মোতায়েন করেছে। তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক সুসন্ত সিং বলেন, ভারত পাকিস্তান সীমান্ত থেকে মনোযোগ সরিয়ে নিয়েছে যা পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা এ অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন আনবে।২০২০ সালের ১৫ জুন গালওয়ানে চীনা ও ভারতীয় সেনার সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় জওয়ান নিহত হওয়ার পর থেকেই সীমান্তে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ফেব্রুয়ারি মাসে উত্তেজনা কমিয়ে ভারত-চিন দু’পক্ষই প্যানগং সো থেকে তাদের সৈন্যবাহিনী, ট্যাংক, সাময়িক আস্তানাগুলো সরাতে শুরু করে। তবে নতুন করে সীমান্তে ৫০ হাজার সেনা মোতায়েনের কারণে আবারও উত্তেজনা বাড়বে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
করোনার তৃতীয় ধাপের সংক্রমণে বিপর্যস্ত দক্ষিণ আফ্রিকা। সংক্রমণরোধে তৃতীয় দফা লকডাউন, কারফিউ আর কঠোর স্বাস্থ্যবিধির পরও নিয়ন্ত্রণে আসছে না আক্রান্তের সংখ্যা।
করোনার তৃতীয় ধাপের সংক্রমণে বিপর্যস্ত দক্ষিণ আফ্রিকা। সংক্রমণরোধে তৃতীয় দফা লকডাউন, কারফিউ আর কঠোর স্বাস্থ্যবিধির পরও নিয়ন্ত্রণে আসছে না আক্রান্তের সংখ্যা।তৃতীয় দফায় করোনার বিস্তার রোধে নতুন করে ১৪ দিনের লকডাউন আর রাত্রিকালীন কারফিউ দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। জোহানেসবার্গ, খাউটেংসহ কয়েকটি প্রদেশের সংক্রমণ মারাত্মক হওয়ায় বাড়ানো হয়েছে বিশেষ নজরদারি। সিমিত করা হয়েছে বার, রেস্টুরেন্টে বেচাকেনা।নতুন করে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্কিত স্থানীয় ও প্রবাসীরা। ব্যাপক হারে আক্রান্ত হয়ে দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তারা বলেন, আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি। অনেকে মারা যাচ্ছে। কখন যে কি হয়, কিছুই বলা যাচ্ছে না।সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাইরে চলাচলে সতর্কতার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটিতে বসবাসকারী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভেন্যু নিয়ে এবার বিবৃতি দিল বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা-আইসিসি। ভারত থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে।
আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা ছিল। সে অপেক্ষা ফুরাল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভেন্যু নিয়ে এবার বিবৃতি দিল বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা-আইসিসি। ভারত থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে।এক বিবৃতিতে মঙ্গলবার (২৯ জুন) সংস্থাটি জানায়, এ বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হবে আরব আমিরাত ও ওমানে। তবে আয়োজক হিসেবে থাকবে ভারত। আগামী ১৭ অক্টোবর শুরু হবে টুর্নামেন্ট। শেষ হবে ১৪ নভেম্বর।দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম, আবু ধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়াম, শারজাহ স্টেডিয়াম ও ওমান ক্রিকেট একাডেমি-এই চাটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে এবারের বিশ্বকাপের খেলা।আইসিসির প্রধান নির্বাহী মনু সাহনি বলেন, ’টি২০ বিশ্বকাপ যাতে নিরাপদভাবে হয়, সেটা দেখভাল করা আমাদের দায়িত্ব। ভারতে এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে না পারায় আমরা দুঃখিত। তবে সবাই যেন উপভোগ করতে পারে তেমন আয়োজন করতে চাই।’প্রথম রাউন্ডে খেলবে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আয়ারল্যান্ড, পাপুয়া নিউগিনি, নামিবিয়া, নেদারল্যান্ডস, স্কটল্যান্ড ও ওমান। এখান থেকে চারটি দল যাবে পরের পর্বে। সেখানে সরাসরি জায়গা করে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানিস্তান।
মালয়েশিয়ায় বিপুল পরিমাণ জাল ভিসা, পাসপোর্ট, আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং লাইসেন্স জব্দসহ মিয়ানমারের রকার্স নামে এক মাস্টারমাইন্ডকে গ্রেপ্তার করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৮ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালক দাতুক খায়রুল যাইমি দাউদ জানান, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে এক বাংলাদেশি কর্মীকে গ্রেপ্তারের পর অননুমোদিত অস্থায়ী কর্মসংস্থান পরিদর্শন পাসের (পিএলকেএস) বিস্তারিত তদন্ত শুরু করে ইমিগ্রেশন বিভাগ।মহাপরিচালক জানান, সন্দেহভাজন এই ব্যক্তি যিনি ২০১৬ সাল থেকে ইমিগ্রেশনের ডকুমেন্টসহ অন্যান্য নথিপত্রের জালিয়াতি সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এমন অভিযোগে চার মাস নজরদারির পর গত শনিবার কুয়ালালামপুরের কোতারায়া শপিং সেন্টারে ‘রকার্স’ নামে ৩৮ বছর বয়সী মিয়ানমারের নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়।এ সময় চেরাসের বন্দর তাসিক সেলাতানের বিলাসবহুল একটি কন্ডোমিনিয়াম থেকে জাল ডকুমেন্ট প্রসেসিং ল্যাব থেকে প্রচুর পরিমাণ জাল ভিসা, ইউএনএইচসিআর কার্ড, বাংলাদেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিভিন্ন দেশের পাসপোর্ট, বিবাহের প্রশংসাপত্র, মিয়ানমারের জন্ম সনদপত্র, আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং লাইসেন্স, ইলেকট্রনিক হার্ডওয়্যার, রাসায়নিক পদার্থ, অফিসিয়াল রাবার স্ট্যাম্প, কম্পিউটার, নয়টি প্রিন্টার, দুটি ল্যামিনেশন মেশিন, একটি খোদাই মেশিন, স্ক্যানারসহ জাল নথিপত্র তৈরি করার বেশ কয়েকটি সরঞ্জামসহ নগদ ১৫ হাজার রিঙ্গিত জব্দ করা হয়।তিনি সাধারণত হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, উইচ্যাট এবং টেলিগ্রাম অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে তার ক্লায়েন্টদের সাথে যোগাযোগ করতেন। ক্লায়েন্টদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিলেন বাংলাদেশি ও মিয়ানমারের নাগরিক। তাদের কাছ জনপ্রতি ভুয়া অস্থায়ী ভিজিট পাসের জন্য ৩০০ থেকে এক হাজার রিঙ্গিত, পাসপোর্টে এরাইভাল ও ডিপার্চার সিলের জন্য ২০০ রিঙ্গিত, জাল পাসপোর্ট তৈরির জন্য ৫০০ রিঙ্গিত, মালয়েশিয়ান বিবাহ ও জন্ম সনদের জন্য ১০০ রিঙ্গিত করে চার্জ নিতেন।তিনি আরও জানান, সন্দেহভাজন এই ব্যক্তি বর্তমানে ১৪ দিনের রিমান্ডে রয়েছে এবং নথি জালিয়াতির অভিযোগে অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩ এর ৫৫(ডি) ধারায় তদন্ত করা হচ্ছে।
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুর মিছিলে যোগ হয়েছে আরও ১১২ জন। যা দেশে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু। এর আগে রোববার (২৭ জুন) দেশে একদিনে সর্বোচ্চ ১১৯ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া চলতি বছরের ১৯ এপ্রিলও ১১২ জনের মৃত্যু হয়।
এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৩৮৮ জনে। এছাড়া একদিনে নতুন করে করোনা পজিটিভ হয়েছেন আরও ৭ হাজার ৬৬৬ জন। এতে দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৯ লাখ ৪ হাজার ৪৩৬ জন।মঙ্গলবার (২৯ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ২৭ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ৮ লাখ ১১ হাজার ৭০০ জন। এদিন মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয় ৩২ হাজার ৬৫৯ জনের। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ (প্রায় ২৪ শতাংশ)।এর আগে, সোমবার (২৮ জুন) দেশে মৃত্যুর মিছিলে যোগ হয় আরও ১০৪ জন। এছাড়া রেকর্ড সংখ্যক ৮ হাজার ৩৬৪ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়।দেশের এ যাবতকালে করোনায় মৃত্যুর সব রেকর্ড ছিল গতকাল রোববার। ওইদিন মৃত্যুর মিছিলে যোগ হয়েছে আরও ১১৯ জন। এছাড়া, চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল দেশে করোনায় দ্বিতীয় সর্বাধিক ১১২ জনের মৃত্যু হয়। গত ২৫ জুন মারা যান ১০৮ জন। এছাড়া ১৮ এপ্রিল ১০২ জন মারা যান। ১৬, ১৭ ও ২৫ এপ্রিল মারা যান ১০১ জন করে।এদিকে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, মঙ্গলবার (২৯ জুন) সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে মারা গেছেন আরও ৬ হাজার ৫ জন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ১৪ হাজার ২৬৫ জন।এ নিয়ে বিশ্বে এখন পর্যন্ত মোট করোনায় মৃত্যু হলো ৩৯ লাখ ৪৫ হাজার ১৮৪ জনের এবং আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ কোটি ২১ লাখ ৮৩ হাজার ৭৯৩ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৬ কোটি ৬৭ লাখ ৩৯ হাজার ৩০৩ জন।করোনায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও মৃত্যু হয়েছে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশ যুক্তরাষ্ট্রে। তালিকায় শীর্ষে থাকা দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ৩ কোটি ৪৫ লাখ ১১ হাজার ৬৩৬ জন। মৃত্যু হয়েছে ৬ লাখ ১৯ হাজার ৫৯৫ জনের।আক্রান্তে দ্বিতীয় ও মৃত্যুতে তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে এখন পর্যন্ত মোট সংক্রমিত হয়েছেন ৩ কোটি তিন লাখ ১৬ হাজার জন এবং এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে তিন লাখ ৯৭ হাজার ৬৬৮ জনের।আক্রান্তে তৃতীয় এবং মৃত্যুতে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ব্রাজিলে এখন পর্যন্ত করোনায় এক কোটি ৮৪ লাখ ৪৮ হাজার ৪০২ জন সংক্রমিত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ৫ লাখ ১৪ হাজার ২০২ জনের।আক্রান্তের দিক থেকে চতুর্থ স্থানে রয়েছে ফ্রান্স। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫৭ লাখ ৭০ হাজার ৫৩০ জন। ভাইরাসটিতে মারা গেছেন এক লাখ ১১ হাজার ১২ জন।এ তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে রাশিয়া। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ৫৪ লাখ ৭২ হাজার ৯৪১ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন এক লাখ ৩৩ হাজার ৮৯৩ জন।এদিকে আক্রান্তের তালিকায় তুরস্ক ষষ্ঠ, যুক্তরাজ্য সপ্তম, আর্জেন্টিনা অষ্টম, ইতালি নবম ও কলম্বিয়া দশম স্থানে রয়েছে। এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৩০তম।২০১৯ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২১৮টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে কোভিড-১৯।
ফাইজারের টিকা পাবেন প্রবাসী কর্মীরা বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীদের জন্য সুখবর!
বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীরা তাদের ভ্যাকসিনেশনের জন্য অনেক দিন থেকেই অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা, ফাইজার, মডার্না অথবা জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা দাবি করে আসছিলেন। শেষ পর্যন্ত সরকার তাদের প্রাথমিকভাবে ফাইজার ও পরবর্তীতে মডার্নার টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম গতকাল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমরা প্রবাসী কর্মীদের (সৌদি আরব ও কুয়েতগামী কর্মী) ফাইজারের ভ্যাকসিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
একইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কিন্তু, দেশে যখন মডার্নার ভ্যাকসিন আসবে, তখন সেটাও তাদের দেওয়া হবে।’
প্রথম দিকে সরকার অভিবাসী কর্মীদের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু, ভ্যাকসিনের স্বল্পতার কারণে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ হয়ে গেলে সমস্যা তৈরি হয়।
পরবর্তীতে চীন সরকারের কাছ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া সিনোফার্মার টিকা হাতে আসলে তা দিয়েই সরকার প্রবাসী কর্মীদের টিকাদান প্রক্রিয়া চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
কিন্তু, কর্মীরা জানান, সৌদি সরকার সিনোফার্মার টিকার অনুমোদন দেয়নি। তাই তাদের সেখানে পৌঁছেই হোটেলে নিজ খরচে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের আরেকটি দেশ কুয়েতও জানায়, ফাইজার বা বায়োটেক, অ্যাস্ট্রাজেনেকা, মডার্না অথবা জনজন অ্যান্ড জনসনের টিকা না নেওয়া কোনো অভিবাসী কর্মীকে তারা দেশে ঢুকতে দেবে না।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অভিবাসী কর্মীদের একটা তালিকা অধিদপ্তরে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, ‘তখন আমরা সবার টিকা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করব।’
সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী হায়দার চৌধুরী। তিনি জানান, তারা প্রবাসী কর্মীদের জন্য জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা দাবি করেছিলেন। কিন্তু, ফাইজারের টিকাও তাদের জন্য ভালো।
আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। টিকা নিলে যেহেতু কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না, সেহেতু প্রবাসী কর্মীরা এখন ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা সাশ্রয় করতে পারবেন।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, ফাইজারের টিকা আসার পর থেকে অনেকে এই টিকা পেতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে শুরু করেছেন।
গত ৩১ মে কোভ্যাক্স প্রকল্পের আওতায় এক লাখ ছয় হাজার ডোজ ফাইজারের টিকার প্রথম চালানটি দেশে আসে।
পরে সরকার ঢাকার তিনটি কেন্দ্রে ফাইজারের এই টিকা দিতে শুরু করে। কেন্দ্রগুলো হচ্ছে— শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার জগতবেড় ইউনিয়নের পূর্ব জগতবেড় সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ছোঁড়া গুলিতে বাংলাদেশি যুবক রিফাত হোসেন নিহত হয়েছেন। সীমান্ত ও বিজিবি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (২৯ জুন) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ওই ইউনিয়নের মুন্সিরহাট গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে রিফাত হোসেনসহ ৮-১০ জনের গরু পারাপাকারী একটি দল শংলী নদী পার হয়ে সীমান্তের ৮৬২ নম্বর মেইন পিলার ও ১ নম্বর সাব পিলারের নিকট দিয়ে ভারতীয় গরু ব্যবসায়ীদের সহায়তায় গরু আনতে যায়।
এ সময় ভারতের কোচবিহার জেলার ১৪০ বিএসএফ রাণীনগর ব্যাটালিয়নের চোয়াঙ্গারখাতা ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। এতে ঘটনাস্থলে রিফাত হোসেন গলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। লাশ ভারতের মাথাভাঙ্গা থানার ভগরামপুর গ্রামের সীমান্তে পড়ে থাকে। সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে লাশ ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায় বিএসএফ।
জগতবেড় ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রাবিউল হোসেন জানান, নিহত রিফাত হোসেনের ছবি দেখে তার বাবা লাশ শনাক্ত করেন।
৬১ ব্যাটালিয়নের শমসের নগর বিজিবি কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার বিল্লাল হোসেন বাংলাদেশি যুবক নিহতের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, চোঙ্গারখাতা বিএসএফ ক্যাম্পের কমান্ডার একটি চিঠি দিয়েছে। আজ বিকেল ৫টার দিকে সীমান্তে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এ ব্যাপারে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ৬১ (বিজিবি) রংপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মীর হাসান শাহরিয়ার মাহমুদ বলেন, নিহতের ব্যাপারে জানার চেষ্টা চলছে। বিএসএফের সাথে বৈঠক করে বিস্তারিত জানানো হবে।। সুত্রঃ মানবজমিন।
যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে ভবনধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১ জন। গতকাল সোমবার আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে দুর্ঘটনার পর গত ৫ দিনে জীবিত কাউকে উদ্ধার করা যায়নি। আরও দেড় শতাধিক নিখোঁজের সন্ধানে চলছে তাদের উদ্ধার তৎপরতা। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে ধসে পড়ে ১২ তলা চ্যাম্পলিন টাওয়ারের বিশাল অংশ।
গ্রীসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আসুদ আহ্মেদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি টিম গতকাল সোমবার (২৮ জুন) পশ্চিম গ্রীসের মানোলাদা নামক স্থানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থ বাংলাদেশীদের আবাসস্থল পরিদর্শন করেন। গত ২৭ জুন গ্রীসের মানোলাদা এলাকায় এক ভয়াবহ আগুনে প্রায় ৩০০ জন প্রবাসী বাংলাদেশী কৃষি শ্রমিকের ৩৮টি ফারাঙ্গা (অস্থায়ী আবাসস্থল) সম্পূর্ণরুপে পুড়ে যায়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন কালে প্রবাসী বাংলাদেশীরা তাদেরকে বিনা ফিতে পুনরায় পাসর্পোট প্রদানসহ অন্যান্য সকল সহযোগিতা প্রদানের জন্য রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ জানান। এ সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ক্ষতিগ্রস্থ প্রবাসীদের দ্রুত পাসর্পোট প্রাপ্তিসহ আবাসস্থল, খাবার সরবরাহ এবং আইনগত সহযোগিতার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
দূর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বিকেলে রাষ্ট্রদূত আসুদ আহ্মেদ স্থানীয় ভারদা অঞ্চলের মেয়র মি. লেজাস ইয়ানিস এর সঙ্গে দূর্ঘটনা ও এর থেকে স্থায়ীভাবে উত্তরণের উপায় নিয়ে বৈঠক করেন। রাষ্ট্রদূত প্রবাসী বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য অস্থায়ী আবাসস্থলের পরিবর্তে পাকা ও স্বাস্থ্যসম্মত বাসস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য মেয়রকে অনুরোধ জানান। মেয়র বাংলাদেশী প্রবাসীদের জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন অস্থায়ী বাসস্থান নির্মাণসহ ক্ষতিগ্রস্থদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের বিষয়ে রাষ্ট্রদূতকে আশ্বাস প্রদান করেন।