রিজার্ভ আবার ৪২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল।

রবিবার , ২২ মে ২০২২, ০৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২০ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

আমদানি ব্যয় হিসেবে গত ১০ মে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ২ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করায় রিজার্ভ কমে ৪১ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নেমেছিল; সেদিনের স্থিতি ছিল ৪১ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার।

রিজার্ভ সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্য বলছে, আকুর দেনা পরিশোধ এবং আরও কিছু অর্থ লেনদেনের ছয় কার্য দিবস পরে রিজার্ভে যুক্ত হয় আরও ২ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার। এতে গত ১৬ মে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৪২ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার।

রিজার্ভের এ পরিমাণ অর্থ দিয়ে বর্তমান আমদানির ধারা অনুযায়ী ছয় মাসের ব্যয় মেটানো যাবে।

এর আগে গত ৩০ এপ্রিল রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪৪ বিলিয়ন ডলার। আর দীর্ঘ সময় ঊর্ধ্বমুখী ধারায় থাকা বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ ২০২১ সালের অগাস্টে ৪৮ বিলিয়নের ঘর ছাড়িয়েছিল।

এদিকে চলতি মাসের প্রথম ১২ দিনে দেশে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স এসেছে ৮৩ কোটি ৬১ লাখ ডলার। দৈনিক গড় প্রবাহ বিবেচনায় প্রবাসী আয়ের এ ধারা আগের মাস এপ্রিলের চেয়ে বেশি।

টাকার বিপরীতে ডলারের দামের ঊর্ধ্বমুখী ধারা এবং চাহিদার তুলনায় সরবরাহ সংকটের মধ্যে সবশেষ আকুর দায় পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪১ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নেমে আসার দিনই টাকার মান ২৫ পয়সা কমানো হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ওই সময় রিজার্ভের উপর কিছুটা চাপ তৈরি হওয়ায় এমন পদক্ষেপ নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এরপর আরও একদফা টাকার অবমূল্যায়ন করা হয়। গত ১৬ মে টাকার মান আরও ৮০ পয়সা কমিয়ে প্রতি ডলারের বিপরীতে বিনিময় হার আন্তঃব্যাংকে নির্ধারণ করা হয় ৮৭ টাকা ৫০ পয়সায়।

কোভিড মহামারী পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে স্বাভাবিক হতে শুরু করলে দেশেও ব্যবসা বাণিজ্য গতি পায়। এতে ২০২১ সালের মাঝামাঝি থেকে আমদানি বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বাড়তে থাকায় আমদানিকারকদের বেশি ডলার গুনতে হয়। এতে করে দেশের ডলারের চাহিদা বাড়তে থাকে। এর প্রভাব দেখা যায় নগদ ডলারে কেনাবেচায়।

ব্যাংকের পাশাপাশি ডলারের সরবরাহ সংকট দেখা দেয় খোলা বাজারেও। গত ১৭ মে খোলাবাজারে ডলারের বিনিময় হার উঠেছিল ১০২ টাকায়। সরবরাহ বাড়ায় পরের দিন অবশ্য কিছুটা কমে ৯৭ টাকায় লেনদেন হয়।

ডলার সংকটকে পুঁজি করে কয়েকটি ব্যাংক নগদে ৯৯ টাকা পর্যন্ত হাতবদল করে, যা বাংলাদেশ ব্যাংকে ঘোষিত হারের চেয়ে সাড়ে ৯টাকা পর্যন্ত বেশি।

এমন প্রেক্ষাপটে রেমিটেন্সে ভর করে আবার রিজার্ভ ৪২ বিলিয়ন ডলারের ঘরে যায়।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) ৬ হাজার ১৫২ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। প্রতি মাসে গড়ে ৬ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে আমদানিতে।

এ হিসাবে বাংলাদেশের বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে ছয় মাসের বেশি সময়ের আমদানি বিল পরিশোধ করতে পারবে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, কোরবানির ঈদের সময় এগিয়ে আসলে রেমিটেন্সের ধারা আরও বাড়বে; তখন রিজার্ভের ওপরও চাপ কমবে।

রেমিটেন্স সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের আরেকটি প্রতিবেদন বলছে, “অর্থনীতির ওপর কোভিড-১৯ এর নেতিবাচক প্রভাব থাকা স্বত্বেও প্রবাসীদের রেমিটেন্স পাঠানোর ধারা ইতিবাচক রয়েছে।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, ১২ মে পর্যন্ত গড় হিসাবে দৈনিক রেমিটেন্স এসেছে ৬৯ দশমিক ৬৮ মিলিয়ন ডলার। গত এপ্রিলে দৈনিক গড় রেমিটেন্স প্রবাহ ছিল ৬৬ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন ডলার।

এ ধারা আরও বাড়বে বলে ১৯ মে আশা প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “এখন ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে কিছুটা… এতে প্রবাসীরা আগের চেয়ে বেশি অর্থ পাবেন। আর প্রণোদনা দেওয়ায় ব্যাংকিং চ্যানেলেই বেশি রেমিটেন্স পাঠাচ্ছেন।

“ব্যাংকে রেমিটেন্স পাঠানোয় সরকার সুবিধা দেওয়ায় তারা বেশি টাকা পাচ্ছেন আগের চেয়ে। সামনে কোরবানির ঈদ… সব মিলিয়ে আমরা আশা করছি এ উপলক্ষে রেমিটেন্সের ধারা আরও বেগবান হবে।”

খুলনা রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার গড়েছেন দুর্নীতির পাহাড়, হতবাক ঊর্ধ্বতন কর্তারাও।

রবিবার , ২২ মে ২০২২, ০৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২০ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

একে একে বের হয়ে আসছে খুলনা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মানিক চন্দ্র সরকারের দুর্নীতির থলের বিড়াল। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে ভিআইপি টিকিট বিক্রিসহ রেলের তেল বিক্রিরও প্রমাণ মিলেছে। দুর্নীতির এমন খবরে বিস্মিত রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তারাও।

২০১৯ সালের ১৭ আগষ্ট খুলনা রেলওয়েতে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন। অভিযানে স্টেশন মাস্টার মানিক চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে অবসরপ্রাপ্ত স্টাফদের পেনশন গ্রহণ বাবদ উৎকোচ নেয়ার প্রমাণ পায় সংস্থাটি। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্টেশন মাস্টারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হলে তাকে বদলি করে কর্তৃপক্ষ।

এ নিয়ে টিএক্সআর বায়তুল ইসলাম বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকে তার ইনকোয়ারি আসার পর তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বদলি করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে কাউকে ধরে বা যেকোনো উপায়ে অল্প কয়েকদিনের মধ্যে আবার এখানে এসে নিজের এক নায়কতন্ত্র বিস্তার করে যাচ্ছে।

স্টেশন মাস্টারের স্বাক্ষরিত টিকিট বরাদ্দের কিছু তথ্য এসেছে যমুনা টেলিভিশনের হাতে। সেখানে দেখা যায়, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি টিকিট বরাদ্দ হয়েছে নাম সর্বস্ব ব্যক্তি, ব্যাংক-বিমাসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে। তালিকায় আছে লেবার সর্দারের নাম। আছে লোকখালাসি পপিদুরের নামও।

আধুনিক সিগনাল ব্যবস্থা চালু হওয়ায় ১৫ বছর আগেই বন্ধ হয় হারিকেনের ব্যবহার। অথচ কেরোসিন তেল বাবদ প্রতিমাসে, ১৪০ লিটারের টাকা উত্তোলন করেন স্টেশন মাস্টার মানিক চন্দ্র সরকার।

স্টেশন মাষ্টারের এসব কর্মকান্ডকে গর্হিত বলে মন্তব্য করলেন রেল কর্তারা। খুলনা রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পশ্চিম) অসীম কুমার তালুকদার বলেন, এটিকে একটি গর্হিত কাজ হিসেবে দেখছি। একটি তদন্ত কমিটি করে দেয়া হচ্ছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে মোবাইল ফোনে এবং একাধিকবার অফিসে গিয়েও পাওয়া যায়নি স্টেশন মাস্টার মানিক চন্দ্র সরকারকে।

সুত্র ঃ-https://lm.facebook.com/l.php?u=https%3A%2F%2Fwww.jamuna.tv%2Fnews%2F349055&h=AT3TlrJ5q-RpF2SkIFq1L2AVSk8ar_q3EJDTRsna9uirG9c2z4BibIcKv7Pqe0F40rYVA3dxDmo13PVmPNldcEJIiazXEgTf7Ikt_Hj8Ppr3If4YfQok8mlSpSz_ssk62M4l

প্রবাসে চার বছরে পরিবার ছাড়া সাত ঈদ, অষ্টম ঈদ আশা করি দেশে করবো ইনশাআল্লাহ।

শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ০৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৮ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

কিছু কথা অব্যক্ত রয়ে যায়, কিছু অনুভূতি মনের মধ্যে থেকে যায়।

কিছু স্মৃতি নীরবে কেঁদে যায়, শুধু এই একটি দিন সব ভুলিয়ে দেয়।

ঈদের এই আনন্দ শুধু তাঁরাই নিতে পারেন, যাঁরা পরিবার নিয়ে একত্রে আছেন। আর যাঁরা পরিবার ছাড়া অনেক অনেক দূরে আছেন, মানে দেশের বাইরে, তাঁদের কাছে ঈদ অন্য সব সাধারণ দিনের মতোই মনে হয়। পার্থক্য শুধু ঈদের নামাজ।

ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ—এ কথা সবাই মানলেও দেশের বাইরে থাকা প্রবাসীদের জীবনে এর বাস্তবতা খুঁজে পাওয়া দায়। কেউ জীবনের তাগিদে আর কেউ পড়াশোনার জন্য বিদেশে পাড়ি জমান। এই যেমন আমি গত চার বছর পরিবার ছাড়া ঈদ করছি। সাতটা ঈদ ভারতে উদ্‌যাপন করেছি। প্রথম দুটি ঈদ সত্যি অনেক কষ্টের ছিল। এরপরের সব ঈদ আর ঈদের মতোই মনে হয়নি। এখানে বিদেশি মুসলিম বন্ধুদের সঙ্গে ঈদের নামাজ পড়ে এসে বাড়িতে সবার সঙ্গে কথাবার্তা বলি; এরপর লম্বা একটা ঘুম।

এভাবেই কাটছে ঈদের দিন। এ ঈদেও ব্যতিক্রম কিছু হবে না। প্রবাসীদের কাছে ঈদ একটু অন্য রকম হয়। যাঁরা কাজের উদ্দেশ্যে আসেন, তাঁদের জন্য ঈদের দিনটা অত্যন্ত কষ্টের।

এত কিছুর পরও প্রবাসীরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর রেকর্ড গড়েছেন। যেন ঠিক সময়ে পরিবারে ঈদের টাকা পাঠাতে পারলেই প্রবাসীদের হৃদয় আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে। ঈদে পরিবারের মুখে হাসি দেখলে তাঁরা আনন্দে বিভোর হয়ে যান। ঈদের সারা দিন প্রবাসীর মনটা পড়ে থাকে পরিবারের কাছে।

মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ। এই ঈদ নিয়ে বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন আশা-আকাঙ্ক্ষা থাকে আর প্রস্তুতির কমতি থাকে না। ফজরের নামাজের পর দল বেঁধে ছোটাছুটি, দলবদ্ধ হয়ে পুকুরে গোসল করা। এরপর মিষ্টিমুখ করে নতুন জামাকাপড় পরে ঈদগাহে যাওয়া। ঈদের ছুটিতে অনেকে শহর থেকে গ্রামের বাড়িতে যায়। অনেক দিন পর সবার সঙ্গে দেখা, আড্ডা আর খুনসুটিতে সময় পার করা যেন ঈদের বিশেষ আনন্দ। সারা দিন বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়ানো বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে। ঈদের মেলায় ছোটাছুটি। ঈদের বর্ণিল সাজে মন হয়ে ওঠে উজালা। আরও একটা মজার বিষয়—ঈদের সময় একটা মেসেজ অনেকজনকে কপি করে পাঠানো। কোরবানির ঈদের একটা মেসেজের কথা মনে পড়লে এখনো হাসি পায়। লেখাটা ছিল এমন, ‘দিনে গরম রাতে শীত, সামনে আসছে কোরবানি ঈদ। সাদা রুটি–মাংসের ঝোল, খেতে তোমরা কোরো না ভুল। ঈদে থাকব হাসিখুশি, তোমাকে চাই পাশাপাশি।’ কুয়েতে আসার পর ঈদের দিনের সবকিছুই এখন স্মৃতি। এখন আর নামাজ পড়তে যাওয়ার আগে আমমা আর আমার বৌ তাড়াহুড়ো করে সেমাই রান্না করে টেবিলে রাখে না। নতুন জামা পরে আমমা ভাইয়ার কাছ থেকে সালামি চাওয়া হয় না। কারণ, একটাই আমি—এখন বাংলাদেশ থেকে অনেক দূরে। এখানে ঈদ মানে শূন্যতা, ঈদ মানে কোনো আনন্দই না। পরিবার-পরিজন ছাড়া ঈদ যে কতটা কষ্টের, সেটা একমাত্র প্রবাসীরই ভালো জানেন। যাঁরা পড়াশোনা করেন, তাঁদের জন্য কিছুটা হলেও বিষয়টা স্বাভাবিক; আর যাঁরা কাজ করতে বিদেশ আসেন, অনেকে তো ঈদের দিনও কাজে থাকতে হয়। দিন শেষে একটাই শান্তি—পরিবারের সবাই হাসিখুশি আছে। সুখে থাকুক সব পরিবার।

উত্তাপ কমাতে ৩৯ কোটি ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ০৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৮ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

দেশে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বেড়েছেই চলেছে। নানা ব্যবস্থা নেওয়ার পরও তা নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ডলারের দাম বাড়িয়েছে। তাতেও উত্তাপ কমেনি মুদ্রাটির। ডলারের জন্য ব্যাংকিং খাতে অনেকটা হাহাকার পড়ে গেছে। এমন অবস্থায় বাজারের উত্তাপ ৩৯ কোটি ডলার ছেড়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত চার দিনে দেশের বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকের কাছে এসব ডলার বিক্রি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এই এই তথ্য জানা গেছে।

সূত্র অনুসারে, আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মে) বিক্রি করা হয়েছে ১০ কোটি ৮০ লাখ ডলার। আগের দিন বিক্রি করা হয়েছিল ৮ কোটি ডলার। তার আগের দিন ৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার এবং সোমবার ১০ কোটি ৮০ লাখ ডলার বিক্রি করা হয়েছিল।

চলমান ডলার সঙ্কটে বিভিন্ন ব্যাংককে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক আলোচিত ডলার বিক্রি করেছে।

দেশে সাম্প্রতিক সময়ে রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্সের চেয়ে আমদানি ব্যয় অনেক বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকিং সেক্টরে ডলারের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কিছু ব্যাংকের অবস্থা মোটামুটি ভাল হলেও কয়েকটি ব্যাংক ডলার নিয়ে প্রচণ্ড চাপে আছে। নিজেদের কাছে পর্যাপ্ত ডলার না থাকায় অনেক ব্যাংক গ্রাহকদের ঋণপত্র খুলতে পারছে না। আবার অনেক ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত দামের চেয়ে বেশি দাম নিচ্ছে ডলারের। এ অবস্থায় সমস্যার তীব্রতা কমানোর লক্ষ্যে বাজারে ডলার ছেড়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মুনাফার লোভে ডলার কিনে মাথায় হাত।

শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ০৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৮ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

মঙ্গলবার হঠাৎ করেই বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর এই মুদ্রার দাম ১০০ টাকা ছাড়িয়ে ১০৪ টাকায় উঠে যায়। বুধবার তা ১০০ টাকায় নেমে আসে। বৃহস্পতিবার তা আরও কমে ৯৬ টাকায় নেমে এসেছে।

অতি মুনাফার আশায় যারা কার্ব মার্কেট বা খোলাবাজার থেকে ১০০ টাকার বেশি দরে ডলার কিনেছিলেন তাদের মাথায় হাত। পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটতে থাকা ডলার হোঁচট খেয়ে এখন উল্টো দিকে হাঁটছে।

বৃহস্পতিবার খোলাবাজারে ডলারের দর ৯৬ টাকায় নেমে এসেছে। মঙ্গলবার হঠাৎ করেই বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর এই মুদ্রার দাম ১০০ টাকা ছাড়িয়ে ১০৪ টাকায় উঠে যায়। বুধবার তা ১০০ টাকায় নেমে আসে। বৃহস্পতিবার তা আরও কমে ৯৬ টাকায় নেমে এসেছে।

আরও কমবে বলে জানিয়েছেন এই বাজারের ব্যবসায়ীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ডলার ব্যবসায়ী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যারা পাগলের মতো ডলার কিনেছিলেন তারা সবাই ধরা। সবাই এখন বিক্রি করতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। সরবরাহ বেড়েছে; তাই দাম কমছে। আরও কমবে বলে মনে হচ্ছে।’

তবে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজার ও ব্যাংকগুলো বৃহস্পতিবার বুধবারের দরেই ডলার বিক্রি করেছে।

বেশ কিছুদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমছে। সোমবার বড় দরপতন হয়। এক দিনেই আমেরিকান ডলারের বিপরীতে ৮০ পয়সা দর হারায় টাকা। দেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই এক দিনে টাকার এত বড় দরপতন হয়নি।

আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে সোমবার ১ ডলারের জন্য ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা খরচ করতে হয়। বৃহস্পতিবারও এই একই দামে বাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ৮৬ টাকা ৭০ পয়সায় কেনাবেচা হয়েছিল। ঈদের ছুটির আগে ২৭ এপ্রিল ডলারের বিপরীতে টাকার মান ২৫ পয়সা কমিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তার আগে প্রতি ডলারের জন্য ৮৬ টাকা ২০ পয়সা লাগত। এরপর ১০ এপ্রিল আরও ২৫ পয়সা কমিয়ে ৮৬ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণ করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সবশেষ সোমবার এক লাফে ৮০ পয়সা বাড়িয়ে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বেসরকারি ইস্টার্ন ও প্রাইম ব্যাংক বৃহস্পতিবার ৯৮ টাকা দরে নগদ ডলার বিক্রি করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক থেকে ১ ডলার কিনতে খরচ হয়েছে ৯৩ টাকা ৯০ পয়সা। অগ্রণী ব্যাংক ডলার বিক্রি করেছে ৯২ টাকা ৫০ পয়সায়। সোনালী ব্যাংক থেকে ডলার কিনতে লেগেছে ৯২ টাকা ৪৫ পয়সা।

টাকার মূল্য পতনে রপ্তানি আয় ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব পড়লেও আমদানি পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ হাবিবুর রহমান।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমানো ছাড়া বিকল্প কোনো পথ খোলা নেই। পাশের দেশ ভারতসহ পৃথিবীর সব দেশই তাদের মুদ্রার অবমূল্যায়ন করছে। এখন আমরা যদি না করি, তাহলে প্রতিযোগিতা থেকে পিছিয়ে পড়ব।’

তিনি বলেন, ‘এ কথা ঠিক, আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। কিন্তু একই সঙ্গে ডলারের দাম বেশি হওয়ায় আমদানিটা কিছুটা নিরুৎসাহিত হবে। অন্যদিকে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়বে। রিজার্ভ বাড়বে।’

‘ইতোমধ্যে আমদানি ব্যয় কমতে শুরু করেছে। বাজারের চাহিদা মেটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় ডলার ছাড়া হচ্ছে। রপ্তানি আয় বাড়ছে; রেমিট্যান্স প্র্রবাহও ভালো। বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। সে কারণেই কার্ব মার্কেটে দাম বেশ খানিকটা কমেছে। ব্যাংকগুলোও কমাতে বাধ্য হবে। আশা করছি খুব শিগগিরই বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় বিক্রি হয়। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এই একই জায়গায় স্থির ছিল ডলারের দর। এর পর থেকেই শক্তিশালী হতে থাকে ডলার; দুর্বল হচ্ছে টাকা।

হিসাব করে দেখা যাচ্ছে, এই ৯ মাসে বাংলাদেশি মুদ্রা টাকার বিপরীতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের দর বেড়েছে ৩ দশমিক ১৮ শতাংশ।

মহামারি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় আমদানি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা বাড়ায় বাজারে ডলারের সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা। আমদানির লাগাম টেনে ধরা ছাড়া ডলারের বাজার স্বাভাবিক হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তারা।

এদিকে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করেও দামে লাগাম পরানো যাচ্ছে না। মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক রাখতে ডলার বিক্রি করেই চলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সব মিলিয়ে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের সোমবার পর্যন্ত (সাড়ে ১০ মাসে, ২০২১ সালের ১ জুলাই থেকে ১৬ মে পর্যন্ত) ৫৫০ কোটি (৫.৫০ বিলিয়ন) ডলারের মতো বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

খোলাবাজারের ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো হাত নেই। তবে ব্যাংকগুলো বেশি দামে ডলার বিক্রি করলে বাংলাদেশ ব্যাংক হস্তক্ষেপ করে থাকে। কেননা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আন্তব্যাংক দরে ডলার কিনে সেই ডলার বিক্রি করে থাকে ব্যাংকগুলো।

এর আগে দেখা গেছে, ব্যাংকগুলোর বিক্রি করা ডলারের দর আর আন্তব্যাংক রেটের মধ্যে বেশি ব্যবধান হলে বাংলাদেশ ব্যাংক সেই পার্থক্যের একটা সীমা নির্ধারণ করে দিত; সেটা এক থেকে দুই টাকার মধ্যে থাকত।

কিন্তু কয়েক মাস ধরে ব্যাংকগুলো আন্তব্যাংক রেটের চেয়ে অনেক বেশি দামে ডলার বিক্রি করলেও এখন পর্যন্ত কোনো হস্তক্ষেপ করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক।

করোনা মহামারির কারণে গত ২০২০-২১ অর্থবছরজুড়ে আমদানি বেশ কমে গিয়েছিল। কিন্তু প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ে উল্লম্ফন দেখা যায়। সে কারণে বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যায়। সে পরিস্থিতিতে ডলারের দর ধরে রাখতে গত অর্থবছরে রেকর্ড প্রায় ৮ বিলিয়ন (৮০০ কোটি) ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তারই ধারাবাহিকতায় চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়েও ২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার কেনা হয়।

কিন্তু আগস্ট মাস থেকে দেখা যায় উল্টো চিত্র। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে আমদানি। রপ্তানি বাড়লেও কমতে থাকে রেমিট্যান্স। বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভও কমতে থাকে। বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়ে যায়; বাড়তে থাকে দাম। বাজার স্থিতিশীল রাখতে আগস্ট থেকে ডলার বিক্রি শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

ঝড়ে গাছ পরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট।

বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ০৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

নরসিংদীর রায়পুরায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ঝড়ে গাছ পরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মাহমুদাবাদ নামাপাড়া থেকে নীলকুঠি, নারায়ণপুর গুকুন নগর পর্যন্ত সড়কে ছোট বড় গাছ পরে এ যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজট নিরসনের কাজ করছে ভৈরব ফায়ারসার্ভিস সদস্যরা ও হাইওয়ে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৯ মে) বিকেলে দেখা যায়, মহাসড়কটির বারৈচা বাজার থেকে ভৈরব নজরুল ইসলাম সেতু পর্যন্ত প্রায় ১০-১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট ছড়িয়ে পড়েছে। বারৈচা থেকে ভৈরব পর্যন্ত ঘুরে দেখা গেছে যানজটের ভয়াবহ চিত্র।

সড়কে দীর্ঘ সময় যানচলাচল স্থবির হয়ে আছে। ভৈরব হাইওয়ে পুলিশের এসআই মাহবুবুর রহমান জানান, যানজট দীর্ঘ হওয়ার কারণে গাড়ি ধীরগতিতে চলছে।

সাজানো নৌকায় মন্ত্রীর বন্যা দেখা

বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ০৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

বানের পানিতে সয়লাব পুরো সিলেট। নিম্নাঞ্চল তো বটেই, আশ্রয়কেন্দ্রও ঢুকে পড়েছে পানি। অনেকেই তাই রয়ে গেছেন, অর্ধনিমজ্জিত নিজের ঘরে। যেখানে মানুষ-গবাদি পশুর পাশাপাশি বসবাস। ভুক্তভোগী মানুষগুলোর আতঙ্ক বাড়িয়েছে পাহাড়ি ঢল। না জানি কখন ভেঙে যায় শেষ আশ্রয়টুকুও। এমন পরিস্থিতিতে আরও অনেকের মতো বন্যা কবলিত মানুষের পাশে ত্রাণ সহায়তা নিয়ে দাঁড়িয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন।

তবে মন্ত্রীর এ সফর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। বন্যা কবলিত অঞ্চলের বেশকিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করছেন নেটিজেনরা। যেখানে দেখা গেছে, সাজানো নৌকায় সস্ত্রীক বন্যা কবলিত অঞ্চল পরিদর্শন করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। হলুদ, সবুজ, সাদা ও হলুদ রঙের কাপড় দিয়ে সুসজ্জিত ছিল নৌকাটি। সামনে চেয়ারে বসে আছেন মন্ত্রী। পেছনে তার সহধর্মিনী সেলিনা হোসেন ও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা। অনেকে মন্তব্য করেছেন, মানুষ যখন বন্যায় নিঃস্ব হওয়ার পথে তখন সাজানো নৌকায় নৌবিহারের গিয়েছেন মন্ত্রী।

বুধবারের এ সফরে মন্ত্রী বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। এ সময় মন্ত্রী বলেন, আপনারা সাহস রাখেন। শেখ হাসিনা অনেক দুর্যোগ মোকাবেলা করে এতদূর অগ্রসর হয়েছেন। সুতরাং ওনার ওপর ভরসা রাখেন। যতদিন শেখ হাসিনা সরকার আছে, আপনাদের সাহায্য আছে, বন্ধু আছে।

বাংলাদেশের চেয়ে যেসব দেশের টাকার মান কম?

বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ০৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

দেশের বাইরে বেড়াতে গেলে মানি এক্সচেঞ্জ জরুরি বিষয়। মুদ্রা বদল করতে গিয়ে যদি দেখেন বাংলাদেশি ১ হাজার টাকা ভাঙিয়ে স্থানীয় মুদ্রায় পাচ্ছেন প্রায় দুই লাখ টাকা! হ্যাঁ, হাজার দ্বীপের দেশ ইন্দোনেশিয়া বেড়াতে গেলে এমন অভিজ্ঞতাই হবে আপনার। সেখানে ১০ হাজার টাকার বদলে পাবেন ১৭ লাখ ৪৭ হাজার ৩৬০ ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়াহ। চলুন দেখে নিই এমন কিছু দেশ সম্পর্কে যাদের মুদ্রার মান বাংলাদেশের চেয়ে কম।
নেপাল

হিমালয়কন্যা নেপাল। এটি এমন এক জনপদ যেখানে দুনিয়ার সর্বোচ্চ উচ্চতম পবর্তশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট অবস্থিত। ফলে পর্বতারোহনের জন্য প্রতি বছর দেশটিতে ভিড় করে দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্তের বিপুলসংখ্যক পর্যটক। তবে নেপালি রুপির দাম অনেক কম। বাংলাদেশি ১ টাকার বিনিময়ে ১ দশমিক ৩৪ নেপালি রুপি পাবেন আপনি। কাজেই বাংলাদেশি ১০ হাজার টাকা পকেটে থাকলে মিলে যাবে ১৩ হাজার ৪১৭ টাকা।
শ্রীলঙ্কা
সার্কভুক্ত দেশ শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশি ১ টাকার বিনিময়ে পাওয়া যাবে ১ দশমিক ৯২ শ্রীলঙ্কান রুপি। দক্ষিণ এশিয়ার এই দ্বীপরাষ্ট্র ‌’পার্ল অব ইন্ডিয়ান ওশান’ বা ’ভারত মহাসাগরের মুক্তা’ নামেও পরিচিত।
ইরান
মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক রাজনীতিতে প্রভাবশালী দেশ ইরান। সেখানে বাংলাদেশি ১ টাকার বিনিময়ে পাওয়া যাবে ৫৭১ দশমিক ৭২ ইরানিয়ান রিয়াল। পারস্য উপসাগরের তীরে অবস্থিত ইরান বিশ্বের সবচেয়ে পর্বতময় দেশগুলোর একটি। এই রাষ্ট্রে রয়েছে এশিয়ার অন্যতম সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্গ দামভান্দ। দেশটিতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডার আছে। পারস্য উপসাগরের অন্যান্য তেলসমৃদ্ধ দেশের মতো ইরানেও তেল রফতানি অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ দেশটির অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
ইরাক
প্রাচীন মেসোপটেমিয়া সভ্যতার দেশ ইরাক। বাংলাদেশি ১ টাকার বিনিময়ে সেখানে পাওয়া যায় ১৪ দশমিক ২২ ইরাকি দিনার। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাকে পর্যটন শিল্প স্থবির হয়ে পড়লেও দেশটিতে পর্যটকদের জন্য অনেক আকর্ষণীয় স্থান রয়েছে। দেশটির সামারা শহর ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য স্থাপনার একটি। সেখানকার প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলোতে প্রায় ৭ হাজার বছরের পুরনো সংস্কৃতির সন্ধান পাওয়া গেছে। এসবের মধ্যে মূলত মৃৎশিল্পের নিদর্শনই বেশি। আব্বাসীয় খলিফারা অষ্টম শতকে বাগদাদ থেকে রাজধানী সামারায় সরিয়ে নেন। ফলে অনেক নতুন স্থাপত্যের সৃষ্টি হয় ইরাকে।
আলবেনিয়া
দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশ আলবেনিয়ায় বাংলাদেশি ১ টাকার বিনিময়ে পাওয়া যাবে ১ দশমিক ৩২ আলবেনিয়ান লিক। সমৃদ্ধ ইতিহাসের দেশটি বিভিন্ন সময়ে রোমান, বাইজেন্টাইন ও উসমানীয় খিলাফতের অধীনে শাসিত হয়েছে। দুই ডজনেরও বেশি আলবেনীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তি অটোমান সুলতানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।
আলজেরিয়া
ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত আলজেরিয়া হলো আফ্রিকা মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্র। দেশটির একটি বড় অংশই সাহারা মরুভূমিতে অবস্থিত। আলজেরিয়ায় বাংলাদেশি ১ টাকার বিনিময়ে পাওয়া যাবে ১ দশমিক ৪২ আলজেরিয়ান দিনার।
আলজেরিয়ার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মুসলিম ও আরবিভাষী। ফ্রান্সের সাবেক এই উপনিবেশটিতে ফরাসি ভাষাও প্রচলিত রয়েছে।
অ্যাঙ্গোলা
মধ্য আফ্রিকার দেশ অ্যাঙ্গোলায় বাংলাদেশি ১ টাকার বিনিময়ে পাওয়া যাবে ৩ দশমিক ২৩ অ্যাঙ্গোলান কানজা। আটলান্টিক মহাসাগরের তীরে অবস্থিত দেশটিতে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত পর্তুগালের উপনিবেশ ছিল।
আর্মেনিয়া
পশ্চিম এশিয়ার দেশ আর্মেনিয়ায় বাংলাদেশি ১ টাকার বিনিময়ে পাওয়া যাবে ৫ দশমিক ৭৭ আর্মেনিয়ান ড্রাম। ১৯৩৬ সালে দেশটি আর্মেনীয় সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়। ১৯৯১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করে এই রাষ্ট্র।
কম্বোডিয়া
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ কম্বোডিয়ায় বাংলাদেশি ১ টাকার বিনিময়ে পাওয়া যাবে ৪৮ দশমিক ৫৯ কম্বোডিয়ান রিয়েল। ১৯৫৩ সালে ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে দেশটি। কম্বোডিয়ার উত্তর-পূর্বে লাওস, পূর্বে ও দক্ষিণ-পূর্বে ভিয়েতনাম, পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমে থাইল্যান্ড এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে রয়েছে থাইল্যান্ড উপসাগর।
কেপ ভার্দে
সংগীত, সংস্কৃতি ও সমুদ্র সৈকতের জন্য বিখ্যাত আফ্রিকার দেশ কেপ ভার্দে। সেখানে বাংলাদেশি ১ টাকার বিনিময়ে পাওয়া যাবে ১ দশমিক ১৬ কেপ ভার্দেয়ান ইস্কুডো।
চিলি
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলিতে বাংলাদেশি ১ টাকার বিনিময়ে পাওয়া যাবে ৭ দশমিক ৯৮ চিলিয়ান পেসো। চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোকে একটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ইয়েমেন
মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রাচীন বসতি মধ্যপ্রাচ্যের ইয়েমেন। দেশটিতে বাংলাদেশি ১ টাকার বিনিময়ে পাওয়া যাবে ২ দশমিক ৯৯ ইয়েমেনি রিয়াল। তবে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের কয়েক বছরের সামরিক আগ্রাসনে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে এই রাষ্ট্রে।
লেবানন
ভূমধ্যসাগরের উপকূলে হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যমণ্ডিত দেশ লেবানন। সেখানে বাংলাদেশি ১ টাকার বিনিময়ে পাওয়া যাবে ১৮ দশমিক ২ লেবানিজ পাউন্ড। লেবাননের সরকারি ভাষা আরবি। এছাড়া আন্তর্জাতিক যোগাযোগের জন্য ব্যবহার হয়ে থাকে ফরাসি ভাষা।
উজবেকিস্তান
মধ্য এশিয়ার দেশ উজবেকিস্তানে বাংলাদেশি ১ টাকার বিনিময়ে পাওয়া যাবে ৯৩ দশমিক ১ উজবেকিস্তানি সম। হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যমণ্ডিত দেশটি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্য।
ভিয়েতনাম
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ভিয়েতনামে বাংলাদেশি ১ টাকার বিনিময়ে পাওয়া যাবে ২৭৮ দশমিক ১৩ ভিয়েতনামিজ ডং।
বুরুন্ডি
পূর্ব আফ্রিকার দেশ বুরুন্ডিতে বাংলাদেশি ১ টাকার বিনিময়ে পাওয়া যাবে ২১ দশমিক ৩ বুরুন্ডিয়ান ফ্রাঙ্ক।

প্রবাসীদের জন্য যতখুশি সীমাহীন বিনিয়োগের সুযোগ!

বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ০৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড ও ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডের মুনাফার হার প্রায় অর্ধেক কমিয়ে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। দুটি বন্ডেই এত দিন চার স্তরে মুনাফা দেওয়া হয়েছে। এখন স্তর করা হয়েছে তিনটি। আগে বন্ড দুটিতে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকার সমমূল্যের ডলার বিনিয়োগ করা গেলেও এখন সীমাহীন বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। বন্ড দুটি জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আর্থিক পণ্য। কিন্তু সূত্রগুলো জানায়, অধিদপ্তর এ বিষয়ে কিছুই জানে না। অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে এ প্রজ্ঞাপন আপলোডও করা হয়নি। আবার আইআরডি প্রজ্ঞাপন জারি করলেও এ নির্দেশনা মূলত অর্থ বিভাগ থেকে এসেছে বলে জানা গেছে।

ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ডে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের বিপরীতে প্রথম বছর শেষে এত দিন ৬ দশমিক ৫ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যেত। এখন পাওয়া যাবে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ মুনাফা। একইভাবে দ্বিতীয় বছর শেষে ৭ শতাংশের বদলে ৫ শতাংশ এবং তৃতীয় বছর শেষে ৭ দশমিক ৫ শতাংশের বদলে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ পাওয়া যাবে।

এ ছাড়া ১ লাখ ১ থেকে ৫ লাখ ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ করে প্রথম বছর শেষে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ, দ্বিতীয় বছর শেষে ৪ শতাংশ ও তৃতীয় বছর শেষে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যাবে। আর ৫ লাখ ১ ডলার থেকে তার বেশি অর্থ বিনিয়োগের বিপরীতে প্রথম বছর শেষে ২ দশমিক ৫ শতাংশ, দ্বিতীয় বছর শেষে ৩ শতাংশ ও ৩ বছর শেষে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যাবে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের চালু করা আরও একটি বন্ড রয়েছে। এর নাম ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড। এ বন্ডের মুনাফার হার ও স্তর কমানোর কথা কিছুই নেই নতুন প্রজ্ঞাপনে। এ বন্ডে ৫ বছর শেষে মুনাফার হার ১২ শতাংশ। বন্ডে বিনিয়োগের সীমা বেঁধে দেওয়া, নবায়নের সুবিধা তুলে নেওয়া ও করোনার ধাক্কায় বন্ডে প্রবাসীদের বিনিয়োগ কমে আসছিল।

বিষয়টি সম্প্রতি সরকারের নজরে এসেছে। সরকার ২০২০ সালের ২১ ডিসেম্বর তিনটি বন্ডে প্রবাসীদের প্রতি জনের বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা এক কোটি টাকা বেঁধে দেয়। আবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিনিয়োগ নবায়নের সুবিধাও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে একশ্রেণির প্রবাসী ব্যবসায়ী অসন্তুষ্ট ছিলেন বলে আইআরডির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

কোন বন্ডে কত বিনিয়োগ: বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে এসব বন্ডে প্রবাসীদের বিনিয়োগের স্থিতি ছিল ১২ হাজার ৬৫৮ কোটি টাকা, যা ২০২০ সালের জুনে ১৩ হাজার ৯০৩ কোটি, ২০২১ সালের জুনে ১৪ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা হয়। কিন্তু সীমা বেঁধে দেওয়ার পর স্থিতি কমতে থাকে। দেশে ১৯৮৮ সালে পাঁচ বছর মেয়াদি ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড এবং ২০০২ সালে তিন বছর মেয়াদি ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড ও ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড চালু করা হয়।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড বিক্রি হয় ১ হাজার ৯০২ কোটি টাকার, যা ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১ হাজার ৩৬৬ কোটি, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১ হাজার ৩৪১ কোটি ও ২০২০-২১ অর্থবছরে ১ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা হয়। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি ৭ মাসে বিক্রি হয়েছে ৫৫৮ কোটি টাকার বন্ড। এ সময় বন্ড ভাঙানো হয় ৫২৫ কোটি টাকার।

ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ডে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৩ কোটি টাকা, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪৭ কোটি টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩০ কোটি টাকা ও ২০২০-২১ অর্থবছরে ২৩ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন প্রবাসীরা। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) বিনিয়োগ হয় মাত্র ৪ কোটি টাকা। আর এ সময় ৫৩ কোটি টাকার বন্ড নগদায়ন বা ভাঙানো হয়।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড বিক্রি হয় ২৪৩ কোটি টাকার। এরপর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩৪৪ কোটি টাকার, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪৭১ কোটি টাকার, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২৪৯ কোটি টাকার ও ২০২০-২১ অর্থবছরে ১৮০ কোটি টাকার বন্ড বিক্রি হয়। আর চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে বিক্রি হয় মাত্র ২৮ কোটি টাকার। একই সময়ে প্রবাসীরা ৬০৩ কোটি টাকার ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড নগদায়ন করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক, এক্সচেঞ্জ হাউস, এক্সচেঞ্জ কোম্পানি ও তফসিলি ব্যাংকের বিদেশি ও অনুমোদিত ডিলার (এডি) শাখায় এসব বন্ড কেনা যায়। এসব বন্ডের মুনাফা আয়করমুক্ত। আবার বন্ডের বিপরীতে ঋণ নেওয়ার সুযোগও আছে। এ ছাড়া বন্ড কিনতে ফরেন কারেন্সি বা বৈদেশিক মুদ্রায় (এফসি) হিসাব থাকারও বাধ্যবাধকতা নেই।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোছা. মাকছুদা খাতুনকে মুঠোফোনে বারবার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তবে অধিদপ্তরের পরিচালক মো. শাহ আলম প্রথম আলোকে বলেন, প্রবাসীদের বিনিয়োগের জন্য তিনটি বন্ড থাকলেও দুটিতে মুনাফার হার কমিয়ে বিনিয়োগসীমা তুলে নেওয়া হয়েছে। আরেকটির মুনাফার হার ও বিনিয়োগসীমা আগের মতোই আছে। তথ্যসূত্র: প্রথমআলো।

কর্নটকে মসজিদের ভেতর হনুমান উপাসনার দাবি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের

বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ০৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

ভারতের সমস্ত মুসলিম ধর্মস্থানে হিন্দু অনুসঙ্গ খুঁজতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে দেশটির হিন্দুত্ববাদী দলগুলো। জ্ঞানবাপী মসজিদের ওজুখানায় শিবলিঙ্গ খুঁজে পাওয়ার দাবি কেন্দ্র করে উত্তাল ভারত। যদিও মুসলিম পক্ষের দাবি, শিবলিঙ্গ নয়, আসলে ফোয়ারারই একটি অংশ সেটি। এ নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। জ্ঞানবাপীর পরে সন্দেহজনক মসজিদের তালিকায় রয়েছে উত্তরপ্রদেশের ঈদগাহ মসজিদ। এমনকি ওই তালিকা থেকে বাদ যায়নি তাজমহলও। তাজমহলের তালাবন্দি ২২টি ঘরে কী আছে, তা জানতে আদালতে দায়ের হয় জনস্বার্থ মামলাও। যদিও সেই আরজি পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছে আদালত। ইতিমধ্যেই নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে জ্ঞানবাপী মসজিদ চত্বর। অশান্তির আশঙ্কা আঁচ করে আঁটঘাট বেঁধেছে স্থানীয় প্রশাসন। বাড়ানো হয়েছে ঈদগাহ মসজিদের নিরাপত্তাও।

দিন কয়েক ধরেই সাম্প্রদায়িক অশান্তির জেরে ব্যতিব্যস্ত ভারত। দেশটির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায়শই ধর্মীয় হানাহানি, হিংসার খবর কানে এসেছে। ধর্মস্থানে, বিশেষত মসজিদে লাউড স্পিকার ব্যবহার বন্ধের দাবি করে কার্যত সেই হিন্দুত্ববাদী বিতর্কেই ঘি ঢেলেছেন মহারাষ্ট্রের এমএনসি-নেতা রাজ ঠাকরে। তা নিয়ে অশান্তি তৈরি হয়েছিল দিল্লি-সহ ভারতের একাধিক জায়গায়। কর্নাটকেও সেই তাপ ছড়াতে দেরি হয়নি।

জ্ঞানবাপী মসজিদ ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন মসজিদের ভিতরে হিন্দু দেবদেবীর মূর্তি রয়েছে বলে দাবি করেছিল বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো। এবার সেই আঁচ পৌঁছল কর্নাটকেও। মান্ডিয়া জেলার একটি মসজিদে হনুমান পুজো করার দাবিও জানাল সেখানকার একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন।

মসজিদ-এ-আলা নামে এই মসজিদটি নাকি গড়ে উঠেছিল ‘মুদালা বাগিলপ আনজানেয়া স্বামী’ মন্দির ভেঙে। ১৮ শতকের দিকে মহিশূরের রাজা টিপু সুলতান ওই মন্দিরটি নষ্ট করে দেন। তার জায়গায় ওখানে গড়ে ওঠে মসজিদ–এ-আলা তৈরি করান। তেমনটাই দাবি নরেন্দ্র মোদি বিচার মঞ্চ নামে ওই হিন্দুত্ববাদী সংগঠনটির। ইতিমধ্যেই মান্ডিয়া জেলার ডেপুটি কমিশনের কাছে বিষয়টি নিয়ে তদবির করেছেন তারা।

কিছু দিন ধরেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে উস্কে উঠেছে হনুমান চালিশা পাঠের রমরমা। মসজিদে লাউড স্পিকার ব্যবহার বন্ধ না করলে উচ্চস্বরে হনুমান চালিশা পাঠেরও হুমকি দিয়েছিল মহারাষ্ট্রের এমএনসিসহ ভারতের বেশ কিছু হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। এবার আরো একধাপ এগিয়ে মসজিদের ভেতরেই হনুমান বন্দনার ডাক দিয়ে বসেছে নরেন্দ্র মোদি বিচার মঞ্চ । মসজিদ-এ-আলার ভিতরেও আর্কিওলজিকাল সার্ভেকে দিয়ে সমীক্ষা করানোর দাবিও তুলেছে তারা তাদের আরজিতে।

ব্যাপারটিকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে প্রবল হয়েছে সহিংসতার আশঙ্কা। রাজ্য়ের আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করলে বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করলে তার ফল ভালো হবে না বলে ইতিমধ্যেই হিন্দুত্ববাদী দলটিকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগা জ্ঞানেন্দ্র। সহিংসতার পথে নয়, সমস্যা থেকে থাকলে আইনের পথেই সমাধান বেরোক, এমনই মত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা বাড়িয়েছে কর্নাটক প্রশাসন। সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন