কুয়েতে গড়ে ১১০ দিনার মাসিক বেতন পায় ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৬০০ শ্রমিক এবং গৃহকর্মী । তবে ২০২১ সালে শুধু খাদেম / খাদ্দামাদের বেতন দেওয়া হয়েছিলো ৭৮৪ মিলিয়ন দিনার বা ( ২.৬ বিলিয়ন ডলার ) । 8 প্রকাশিত তথ্যে আরো জানা যায় , বেতন প্রদানে ৯৪ % কুয়েতি নাগরিকেরা ৪ জাতীয়তার প্রবাসী কর্মীদের বেতনে প্রদানে সবচাইতে বেশি দিনার ব্যায় করেছে । তারা হলো – ভারতীয় গৃহকর্মীরা বেতন পেয়েছে ৪৭ % ভাগ । ** → যার বার্ষিক হিসাব ১.২ বিলিয়ন ডলার । ** · ফিলিপিনোরা দ্বিতীয় বৃহত্তম বেতন ভোগী । → যার বার্ষিক হিসাব ৫৮৮ মিলিয়ন ডলার । ** ৩ য় স্থানে বাংলাদেশি গৃহকর্মীরা বেতন ভোগী ১৩ % । → যার বার্ষিক হিসাব ৩৩৩.৫ মিলিয়ন ডলার । গৃহস্থালী খাতে বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য কুয়েতি নাগরিকেরা বেতন প্রদানে মোট ব্যায় করেছে ১৩ % । এমনকি আমাদেরকে এই তৃতীয় স্থানে আসতে উক্ত হিসাবের বার্ষিক ১০১.৪ মিলিয়ন দিনার ( ৩৩৩.৫ মিলিয়ন ডলার ) আয়ের সাথে মাসিক আয়ের হিসাব ছিলো ৮.৫ মিলিয়ন দিনার । যেখানে বাংলাদেশী সিংহভাগ পুরুষদের বার্ষিক আয় ১০০.২৯ মিলিয়ন দিনার ।
মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মান একদিনে রেকর্ড পরিমাণ কমিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার (১৬ মে) আন্তঃব্যাংক বিনিময় হার প্রতি ডলারের বিপরীতে টাকার মান আরও ৮০ পয়সা কমিয়েছে। ফলে প্রতি ডলারের দাম দাঁড়িয়েছে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সায়, যা রবিবার ছিলো ৮৬ টাকা ৭০ পয়সা। এটি একদিনে টাকার মান কমার হিসাবে সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগে আর কখনোই এমনটা ঘটেনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, অভ্যন্তরীণ বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাজার স্থিতিশীল করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবারও টাকার অবমূল্যায়ন করেছে।
এছাড়াও, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে সোমবার পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে প্রায় ৫.১ বিলিয়ন বিক্রি করেছে।
চলতি মাসের ১০ মে বাংলাদেশি মুদ্রার ২৫ পয়সা অবমূল্যায়ন করা হয়েছিল, তখন ডলার প্রতি বিনিময় হার ছিল ৮৬.৭০ টাকা। ২৩ মার্চ ডলারের আন্তঃব্যাংক বিনিময় হার ছিল ৮৬.২০ টাকা, যা ২৭ এপ্রিল বেড়ে দাঁড়ায় ৮৬.৪৫ টাকায়। জানুয়ারিতে বিনিময় হার ছিল প্রতি ডলার ৮৬ টাকা।
২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের আগস্ট পর্যন্ত আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় স্থিতিশীল ছিল। করোনার মহামারির ধকল কেটে যাওয়ায় বড় ধরনের আমদানি রফতানির ব্যয় পরিশোধ করতে গিয়ে ডলার সংকট দেখা দেয়। ফলে ডলারের বিপরীতে টাকার মান শুধু কমছেই। ৩ আগস্ট থেকে দুই-এক পয়সা করে বেড়ে ২২ আগস্ট প্রথমবারের মতো ৮৫ টাকা ছাড়িয়ে যায়। ২০২২-এর ৯ জানুয়ারিতে আবারও টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বেড়ে পৌঁছায় ৮৬ টাকায়। গত ৯ মাসের ব্যবধানে প্রতি ডলারে দাম বেড়েছে এক টাকা ৯০ পয়সা। এখন দাম গিয়ে ঠেকেছে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সায়।
কুয়েত প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার রাজনগরের করতল সমাজ কল্যাণ যুব সংঘের সভাপতি কুয়েত প্রবাসী আলাল আহমেদ এর দেশে আগমন উপলক্ষে করতল সমাজ কল্যাণ যুব সংঘের পক্ষ থেকে গতকাল ১৩ এপ্রিল শুক্রবার টেংরা বাজার খান বেঙ্গল ফুডে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মোঃ আলাল আহমেদকে বিশেষ সম্মাননা ক্রেষ্ট প্রদান করেন সংগঠনের শীর্ষ স্হানীয় নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্টানে এ সময় উপস্তিত ছিলেন করতল সমাজ কল্যাণ যুব সংঘের অর্থ সম্পাদক, আব্দুর রহমান লিংকন, সহ অর্থ সম্পাদক, আশরাফুল ইসলাম, মিজানুর রহমান ইমন, আরো উপস্তিত ছিলেন মাওলানা জুনেদ তরফদার বাবুল আহমেদ প্রমুখ।
সৌজন্যে মোঃ লিপন আহমদ সৌদি আরব প্রবাসী করতল সমাজ কল্যাণ যুব সংঘের সাধারণ সম্পাদক।
লিবিয়ায় বিভিন্ন সময় আটক বাংলাদেশি অভিবাসীদের মধ্যে ১৬২ জন শূন্য হাতে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে তাদের বহনকারী একটি ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার ও কল্যাণ অনুবিভাগ এবং জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) সূত্রে জানা যায়, এই ১৬২ জন বাংলাদেশি লিবিয়ায় বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ছিলেন। দেশে ফেরার পর প্রথমে তাদের বিমানবন্দরেই রাখা হয়। বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহের পর গতকালই তাদের পরিবারের কাছে যেতে দেওয়া হয়েছে।
লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল এসএম শামীম উজ জামান বলেন, বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় আইওএমের মাধ্যমে প্রায়ই দেশে ফেরত পাঠানো হয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের। তারই ধারাবাহিকতায় আবারও ১৬২ বাংলাদেশি আইওএমের চার্টার্ড ফ্লাইটে ঢাকায় ফিরেছেন। গতকাল ফেরত আসাদের অনেকেই আক্ষেপ করে বলেন, অনেক আশা নিয়ে ভাগ্যোন্নোয়নের জন্য তারা পাড়ি জমিয়েছিলেন লিবিয়া। কিন্তু কয়েক বছরেও ভাগ্য বদলানো তো দূরে থাক, শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে দেশে। তবে তাদের দেশে পাঠাতে সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে ফ্লাইটটি যথাসময়ে পরিচালনা করেছেন। এ সহযোগিতা করার জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়ার বেনগাজি প্রবাসী, বেনিনা বিমানবন্দরসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ এবং বিশেষ করে আইওএমকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তারা।
এদিকে জিও ব্যারেন্টস নামে একটি উদ্ধারকারী জাহাজ ভূমধ্যসাগরের লিবিয়া উপকূল থেকে একটি রাবারের নৌকায় থাকা ৫৯ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করেছে। ইউরোপীয় সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস সমুদ্রে দুর্দশায় পড়া অভিবাসনপ্রত্যাশীদের উদ্ধারে জিও ব্যারেন্টস জাহাজটি পরিচালনা করে। সংস্থাটি বলছে, সম্প্রতি উদ্ধার হওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অনেকের চেহারা বাংলাদেশিদের মতো। তবে সেখানে কতজন বাংলাদেশি আছেন তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ করম বলেছেন, সক্রিয় উত্তর-পশ্চিম বাতাসের ফলে শুক্রবার এবং শনিবার অস্থিতিশীল আবহাওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যার গতিবেগ ঘণ্টায় ৫৫ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যাবে।
তিনি আরো বলেন শুক্রবারের বাতাসের গতির কারণে ধুলো বাড়বে, যা কিছু এলাকায় অনুভূমিক দৃশ্যমানতা কমিয়ে ১০০০ হাজার মিটারের নিচে নামিয়ে দেবে।
অস্থিতিশীল আবহাওয়ার ফলে প্রত্যাশিত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে।
আসামীদের বিরুদ্ধে সংগঠিত অপরাধী চক্র গঠন করে জাতীয় স্বার্থের ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
কুয়েতের একটি ফৌজদারি আদালত অবৈধভাবে ৬০ মিলিয়ন দিনারেরও বেশি অর্থ পাচারের অভিযোগে সাত প্রবাসীর বিচার শুরু করেছেন, একটি স্থানীয় সংবাদপত্র জানিয়েছেন।
আরবী দৈনিক আল আনবা যোগ করেছেন, তিনটি স্থানীয় বাণিজ্য কোম্পানি ছাড়াও আসামিরা হলেন দুইজন ইরানি নাগরিক, তিনজন জর্দানিয়ান নাগরিক এবং দুইজন মিশরীয় নাগরিক।
টাকার মান আরেক দফা কমালো বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ২৭ এপ্রিল মার্কিন ডলারের বিপরীতে ২৫ পয়সা কমিয়ে টাকার মান ৮৬ টাকা ৪৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সোমবার (৯ মে) আরেক দফায় ২৫ পয়সা কমিয়ে প্রতি ডলারের মূল্য ৮৬ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ বেঁধে দেওয়া দরে ডলার লেনদেন করতে পারছেন না ব্যাংকগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া দরের চেয়ে দুই থেকে তিন টাকা বেশি দরে লেনদেন হচ্ছে।
ব্যাংকাররা জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকার মান কমিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু বাজারে লেনদেন হচ্ছে আরও বেশি দামে। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকও ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নিতে পারছে না। কারণ আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই ব্যাংকগুলো লেনদেন করছে। বেশিরভাগ ব্যাংক ৮৬ টাকা ৪৫ পয়সার সঙ্গে ৪ টাকা যুক্ত করে ৯০ টাকায় লেনদেন করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে আকুর (এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন) দায় মেটাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। গত দুই মাসে (মার্চ-এপ্রিল) আকুর দায় পরিশোধ করতে হয়েছে ২২৪ কোটি মার্কিন ডলার, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। একইসঙ্গে সামগ্রিক আমদানি দায় অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোয় মূলধনী যন্ত্রপাতি, শিল্পের কাঁচামাল আমদানি বাড়ছে। এছাড়া জ্বালানি তেল ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি আমদানি খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। সব মিলিয়ে আমদানি ব্যয় মেটাতে ডলারের চাহিদা বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, বছরখানেক আগে যেখানে সামগ্রিক আমদানি দায় পরিশোধ করতে হতো সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার থেকে ৪ বিলিয়ন ডলার, এখন তা দ্বিগুণ হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে যেখানে আমদানি দায় পরিশোধ করতে হয়েছে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার, গত ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে হয়েছে প্রায় সাড়ে ৮ বিলিয়ন ডলার।
ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, তারা চাহিদা অনুযায়ী, ডলার সংগ্রহ করতে পারছে না। বাধ্য হয়ে বেশির ভাগ ব্যাংক সংকট মেটাতে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার থেকে ডলার সংগ্রহ করতে না পেরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আসছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার রিজার্ভ থেকে অতিপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি ব্যয় মেটাতে ব্যাংকগুলোকে ডলার সরবরাহ করছে।
এদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে প্রায় ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যাংকগুলোকে জোগান দেওয়া হয়েছে। এদিকে গত রবিবার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪১ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে গেছে; যা দুই বছরের আগের অবস্থানে চলে গেছে। বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে সর্বোচ্চ ৫ মাসের আমদানি দায় মেটানো যাবে। এর আগে ২০২০ সালের নভেম্বরে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪১ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত বৃহস্পতিবার এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মার্চ-এপ্রিল মেয়াদের ২ দশমিক ২৪ বিলিয়ন (২২৪ কোটি) ডলারের আমদানি বিল পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে কখনোই আকুর এত বেশি বিল শোধ করেনি বাংলাদেশ। এর ফলে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক ৪১ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মহামারি করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার পর থেকেই দেশে আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। ২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার আগে মাসে আমদানি খাতে গড়ে ৪ থেকে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার খরচ হতো। করোনার মধ্যে তা কমে গড়ে ৩ থেকে সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।
কিন্তু চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের শুরু থেকেই আমদানিতে উলম্ফন লক্ষ করা যায়। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ৫ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হয়। আগস্টে তা বেড়ে ৬ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলারে ওঠে। সেপ্টেম্বরে তা গিয়ে ঠেকে ৭ বিলিয়ন ডলারে। অক্টোবরে পণ্য আমদানিতে ব্যয় হয় ৭ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার। নভেম্বরে তা বেড়ে ৭.৮৫ বিলিয়ন ডলারে উঠে। ডিসেম্বরে আরও বেড়ে ৮ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে। জানুয়ারি মাসে ৮ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা। সবশেষ ফেব্রুয়ারি মাসে আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৮ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার।
২০২১-২২ অর্থবছর শেষে মাথাপিছু আয় বেড়ে হবে ২ হাজার ৮২৪ মার্কিন ডলার। যা টাকার হিসাবে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৭০ টাকা। চলতি অর্থবছরের মার্চ পযর্ন্ত অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক বিশ্লেষণ করে মাথাপিছু আয়ের বছর শেষের হিসাব প্রাক্কলন করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।
মঙ্গলবার (১০ মে) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে বিবিএস-এর এই হিসেব তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
গত বছরে ২০-২১ ছিল দুই হাজার ৫৯১ মার্কিন বা দুই লাখ ১৯ হাজার ৭৩৮ টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছর শেষে প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ, গত বছর শেষে যা ছিল ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
বছর শেষে জিডিপির আকার বেড়ে দাঁড়াবে ৪৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এছাড়া ২০১৯-২০ অর্থবছরে জিডিপির আকার ছিল ৩৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
২০-২১ মার্চ পযর্ন্ত ৬ দশমিক ৯৪, জিডিপির আকার ৪১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা টাকার পরিমাণে ৩৫ হাজার ৩০২ লাখ।
কৃষিখাত: সার্বিক বিবেচনায় কৃষি খাতের ২০২১-২২ অর্থবছরে সাময়িক হিসাবে শতকরা ২ দশমিক ২০ ভাগ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে। এর মধ্যে শস্য উপখাতে শতকরা ১ দশমিক ০৬ ভাগ, পশুপালন উপখাতে শতকরা ৩ দশমিক ১০ ভাগ, বন উপখাতে শতকরা ৫ দশমিক ০৮ ভাগ ও মৎস্যখাতে শতকরা ২ দশমিক ০৮ ভাগ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে।
শিল্পখাত: ২০২১-২২ অর্থবছরে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের প্রবৃদ্ধি পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ১২ দশমিক ৩১ শতাংশ প্রাক্কলন করা হয়েছে। এছাড়া বছর সাময়িক হিসাবে বিদ্যুৎখাতে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ ও নির্মাণ খাতে ৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে। সার্বিকভাবে শিল্পখাতে গত অর্থবছরের (২০২০-২১) তুলনায় ২০২১-২২ অর্থবছরে ১০ দশমিক ৪৪ ভাগ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে।
সেবাখাত: ২০২১-২২ অর্থবছরের সাময়িক হিসাবে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা খাতে ৮ দশমিক ৭২ শতাংশ, যানবাহন খাতে ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ, ব্যাংক ও বিমা খাতে ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ, শিক্ষাখাতে ৬ দশমিক ২৩ শতাংশ ও স্বাস্থ্যখাতে ৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে। সার্বিকভাবে সেবাখাতে গত অর্থবছরের (২০২০-২১) তুলনায় ২০২১-২২ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৩১ ভাগ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে।
জিডিপির হার করোনার আগের অবস্থায় এসেছে, তাহলে কি দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার হয়েছে? এমন প্রশ্নে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম বলেন, করোনা থেকে অর্থনৈতিক পুরোটা পুনরুদ্ধার হয়নি। কতদূর বৃত্তের বাইরে বিভিন্ন সামাজিক সূচকে বাংলাদেশের অনেক উন্নতি হয়েছে। গত দুই বছরে আমাদের রেমিট্যান্স বেড়েই চলেছে। রপ্তানি আয় ও অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। তাছাড়া মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির বাড়ছে। আমরা আশা করছি বছর শেষে আমাদের প্রবৃদ্ধির হার ৭.২৫ শতাংশের বেশি হতে পারে।
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭.২৫ শতাংশ। করোনার এই পরিস্থিতিতে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হার অনেক ভালো। মার্চ পর্যন্ত ৭.২৫ হলে জুন শেষে এটা আরো বাড়তে পারে, ৭.৫ শতাংশও হতে পারে। আগামী সেপ্টেম্বর নাগাদ জিডিপির চূড়ান্ত হিসাব পাওয়া যাবে।
অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় বিচারিক আদালতে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন তিনি। আপিলের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট হাজী সেলিমের ১০ বছরের সাজা বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।
রায়ের ওই অংশের (তিন বছরের সাজা থেকে খালাসের) বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)।
মঙ্গলবার (১০ মে) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আপিল করা হয়েছে বলে দুদকের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি গত ১০ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়। এ রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে হাজী সেলিমকে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৭ এ আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান বলেন, আত্মসমর্পণ করতে বলার ১৪ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো তা করেননি হাজী সেলিম। তার উচিৎ ছিল এটা দ্রুত করা। তবে তাকে তিন বছরের যে সাজা সেটা থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে, সেটার সঠিক হয়নি বলেই এ আপিল করা হয়েছে।
এই আপিলের বিষয়ে শুনানির জন্য চেম্বার জজ আদালতে উপস্থাপন করা হবে বলেও জানান দুদকের এই আইনজীবী।
এর আগে ২০২১ সালের ৯ মার্চ হাজী মোহাম্মদ সেলিমকে বিচারিক আদালতের দেওয়া ১০ বছর কারাদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন হাইকোর্ট। তবে তিন বছরের দণ্ড থেকে খালাস পান তিনি।
অন্যদিকে, গত ২৫ এপ্রিল পূর্ণাঙ্গ রায়ের নথি হাতে পান হাজী সেলিম। নথি পাওয়ার পরপরই হাজী সেলিম ঈদের পর যেকোনো দিন আত্মসমর্পণ করবেন বলে সেসময় জানিয়েছিলেন তার আইনজীবী সিনিয়র অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমেদ রাজা।