কুয়েত সিটি, ২৫শে মে: সংযুক্ত আরব আমিরাতে উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রথম কেস রেকর্ড হওয়ার পর মাঙ্কিপক্স রোগের জন্য প্রয়োজনীয় বর্তমান সতর্কতার আলোকে কুয়েত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বর্তমান মজুদ বাড়ানোর জন্য গুটিবসন্তের ভ্যাকসিনের ৫,০০০ডোজ ক্রয় করতে চায়। মঙ্গলবার, আল-রাই দৈনিক স্বাস্থ্য খাত থেকে জ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে রিপোর্টি করেছেন।
হজ্জ কিংবা উমরাহ করতে যাঁরা মক্কায় হারাম শরীফে গিয়েছেন, তাঁরা সবাই নিশ্চয়ই একটা ব্যাপার লক্ষ্য করেছেন- চামড়া পোড়ানো প্রখর রোদে খোলা আকাশের নিচে কাবার চারপাশে তাওয়াফ করার সময় পায়ের তলাটা পুড়ে যায় না, বরং বেশ ঠান্ডা অনুভূত হয়।
কারণ, এর নেপথ্যে রয়েছে এক চমকপ্রদ ইতিহাস।
ড. মোহাম্মাদ কামাল ইসমাইল (১৯০৮-২০০৮) একজন মিশরীয় প্রকৌশলী ও স্থপতি; লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। মিশরের ইতিহাসে তিনিই ছিলেন প্রথম সর্বকনিষ্ঠ শিক্ষার্থী- যিনি হাইস্কুল শেষে ‘রয়েল স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং’-এ ভর্তি হয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ইউরোপে পাঠানো ছাত্রদের ভেতরেও তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ, ইসলামি আর্কিটেকচার-এর ওপর তিনটি ডক্টরেট ডিগ্রিপ্রাপ্ত প্রথম মিশরীয় প্রকৌশলী।
ড. মোহাম্মাদ কামাল ইসমাইল প্রথম প্রকৌশলী- যিনি হারামাইন (মক্কা-মদিনা) সম্প্রসারণ প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ভার নিজের কাঁধে তুলে নেন। এই সুবিশাল কর্মযজ্ঞ তত্ত্বাবধান করার জন্য সৌদি বাদশাহ ফাহাদ এবং বিন লাদেন গ্রুপের সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও তিনি কোনো পারিশ্রমিক গ্রহণ করেননি; মোটা অংকের চেক উনি ফিরিয়ে দেন! তাঁর সততা ও কাজের প্রতি আন্তরিকতা তাঁকে বাদশাহ ফাহাদ, বাদশাহ আব্দুল্লাহসহ সকলের প্রিয়পাত্র ও বিশেষ আস্থাভাজন করে তোলে।
তিনি বাকার বিন লাদেনকে বলেছিলেন, এই দু’টি পবিত্র মসজিদের কাজের জন্য পারিশ্রমিক নিলে শেষ বিচারের দিনে আমি কোন মুখে আল্লাহর সামনে গিয়ে দাঁড়াবো?
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ৪৪ বছর বয়সে বিয়ে করেন। তাঁর স্ত্রী সন্তান জন্ম দিয়ে মারা যান। এরপর তিনি আর বিয়ে করেননি। মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর পুরোটা জীবন আল্লাহর ঘর রক্ষণাবেক্ষণে উৎসর্গ করেন। অর্থ-বিত্ত, খ্যাতি-যশ, মিডিয়ার লাইম লাইট থেকে দূরে সরে থেকে তিনি তাঁর ১০০ বছরের জীবনের পুরোটা সময় মক্কা ও মদীনার দুই মসজিদের সেবায় বিনিয়োগ করে গেছেন।
মক্কা-মদিনার হারাম শরীফের মার্বেলের কাজের সঙ্গে উনার জীবনের একটি বিস্ময়কর ঘটনা রয়েছে। উনি চেয়েছিলেন- মাসজিদুল হারামের মেঝে তাওয়াফকারীদের জন্য এমন মার্বেল দিয়ে আচ্ছাদিত করে দিতে- যার বিশেষ তাপ শোষণ ক্ষমতা রয়েছে। এই বিশেষ ধরনের মার্বেল সহজলভ্য ছিল না। এই ধরনের মার্বেল ছিল পুরো পৃথিবীতে কেবলমাত্র গ্রিসের ছোট্ট একটি পাহাড়ে।
ড. মোহাম্মাদ কামাল ইসমাইল গ্রিসে গিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে মার্বেল কেনার চুক্তিস্বাক্ষর করে মক্কায় ফিরে এলেন এবং সাদা মার্বেলের মজুদও চলে এলো। যথাসময়ে বিশেষ নকশায় মাসজিদুল হারামের মেঝের সাদা মার্বেলের কাজ সম্পন্ন হলো।
এর ঠিক ১৫ বছর পরে সৌদি সরকার তাঁকে মাসজিদুন নব্বীর চারদিকের চত্বরও একইভাবে সাদা মার্বেল দিয়ে ঢেকে দিতে বললেন। কিন্তু ড. মোহাম্মাদ কামাল ইসমাইল দিশেহারা বোধ করলেন! কেননা ওই বিশেষ ধরনের মার্বেল কেবলমাত্র গ্রিসের ওই ছোট্ট জায়গা বাদে গোটা পৃথিবীর কোথাও পাওয়া যায় না এবং সেখানে যতটুকু ছিল, তার অর্ধেক ইতোমধ্যেই কিনে মক্কার হারাম শরীফে কাজে লাগানো হয়ে গেছে। যেটুকু মার্বেল অবশিষ্ট ছিল- সেটা মাসজিদুন নব্বীর প্রশস্ত চত্বরের তুলনায় সামান্য!
ড. মোহাম্মাদ কামাল ইসমাইল আবার গ্রিসে গেলেন। সেই কোম্পানির সি.ই.ও-র সঙ্গে দেখা করে জানতে চাইলেন, ওই পাহাড় আর কতটুকু অবশিষ্ট আছে? সি.ই.ও জানালেন, ১৫ বছর আগে উনি কেনার পরপরই পাহাড়ের বাকি অংশটুকুও বিক্রি হয়ে যায়! এই কথা শুনে তিনি এতটাই বিমর্ষ হলেন যে, তাঁর কফি পর্যন্ত শেষ করতে পারলেন না! সিদ্ধান্ত নিলেন- পরের ফ্লাইটেই মক্কায় ফিরে যাবেন। অফিস ছেড়ে বেরিয়ে আসার আগে কী মনে করে যেন অফিস সেক্রেটারির কাছে গিয়ে সেই ক্রেতার নাম-ঠিকানা জানতে চাইলেন- যিনি বাকি মার্বেল কিনেছিলেন।
যদিও এটা অনেক দুরূহ কাজ, তবু কামালের পুনঃপুন অনুরোধে সে পুরোনো রেকর্ড চেক করে জানাবে বলে কথা দিলো। নিজের নাম এবং ফোন নম্বর রেখে বেরিয়ে আসার সময় কামাল মনে মনে ভাবলেন- কে কিনেছে, ১৫ বছর পরে তা জেনেই-বা আর লাভ কী?
পরদিন এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে অফিস সেক্রেটারি ফোনে জানাল, সেই ক্রেতার নাম-ঠিকানা খুঁজে পাওয়া গেছে! কামাল ধীর গতিতে অফিসের দিকে যেতে যেতে ভাবলেন- ঠিকানা পেয়েই-বা লাভ কী? মাঝে তো অনেকগুলো বছর পেরিয়ে গেছে…।
অফিসে পৌঁছলে সেক্রেটারি তাঁকে ওই ক্রেতার নাম-ঠিকানা দিলেন। ঠিকানা হাতে নিয়ে ড. মোহাম্মাদ কামাল ইসমাইলের হৃদ্স্পন্দন বেড়ে গেল, যখন তিনি দেখলেন- বাকি মার্বেলের ক্রেতা একটি সৌদি কোম্পানি!
কামাল সেদিনই সৌদি আরব ফিরে গেলেন। সেখানে পৌঁছে তিনি কোম্পানির ডিরেক্টর এডমিন-এর সঙ্গে দেখা করে জানতে চাইলেন- মার্বেলগুলো দিয়ে তাঁরা কী করেছেন, যা অনেক বছর আগে গ্রিস থেকে
দেশে ডলারের বাজারে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। হু হু করে বাড়ছে দাম। এমন পরিস্থিতিতে ডলারের সংকট কাটাতে বাংলাদেশ ব্যাংককে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা)।
সংগঠনটির প্রস্তাবে মধ্যে অন্যতম হলো, বৈধভাবে পাঠানো রেমিট্যান্সের প্রণোদনা আড়াই শতাংশ থেকে বাড়িয়ে পাঁচ শতাংশ করা, বাজারের চাহিদা বিবেচনা করে ডলার সরবরাহ করা, বাজারের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে ডলার ক্রয়-বিক্রয়ে আন্ত-ব্যাংক বিনিময় হার পুনঃনির্ধারণ করা।
আর সকল অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংক বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো থেকে ‘একক বিনিময় হারে’ লেনদেন করবে এবং সেই হার আন্ত-ব্যাংকের মধ্যে লেনদেনর থেকে কমপক্ষে শূন্য দশমিক এক শতাংশের কম হবে। এই একক বিনিময় হার কঠোরভাবে তদারকি করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ডলারের বাজারে অস্থিরতা কাটাতে গত ১৯ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে লেখা চিঠিতে বাফেদার পক্ষ থেকে এসব প্রস্তাব জানানো হয়েছে।
এ চিঠি পাঠানোর আগে নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেন বাফেদার নেতারা। এসব প্রস্তাব নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৃহস্পতিবার বিকেলে বৈঠকে বসবে বাফেদা।
বাফেদার প্রস্তাবে আরও বলা হয়, এডি ব্যাংকগুলো রপ্তানির ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী কর্তনমূল্যের সুযোগ নিশ্চিত করবে এবং রপ্তানির কাগজপত্র যাচাই করবে। এছাড়া একমাত্র বাংলাদেশ ব্যাংক আমদানির এলসি বিল ও সরকারি বাধ্যতামূলক পাওনা পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রার বাড়তি চাহিদার তারল্য সরবরাহ করবে। আর রাষ্ট্রায়ত্ত এডি ব্যাংকগুলো নিজস্ব উৎস থেকে কেবল সরকারের বাণিজ্য ও বাধ্যতামূলক পাওনা বড় জোড় তিন মাসের জন্য পরিশোধ করবে। তবে এসব ব্যাংক সরকারের আন্তঃব্যাংক বাজার পদ্ধতিতে বৈদেশিক মুদ্রার উৎস হিসাবে ব্যবহার হবে না।
বাফেদার চেয়ারম্যান ও সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আতাউর রহমান প্রধান সাংবাদিকদের জানান, দেশে এখন আমদানির জন্য যে পরিমাণ অর্থ বা ডলার খরচ হচ্ছে, তা রপ্তানি ও প্রবাসী আয় দিয়ে মিটছে না। এর ফলে সংকট তৈরি হয়েছে। এজন্য বাজারে ডলারের সংকট দেখা দিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক যে পরিমাণ ডলার বিক্রি করছে, সেটি চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। ফলে প্রতি মাসে প্রায় ১০০ কোটি ডলার ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
শখ মেটাতে মানুষ কী-ই না করে! কেউ সারা শরীরে ট্যাটু করেন। কেউ আবার নিজেকে কদাকার বানানোর জন্য রূপই বদলে ফেলেন। মাঝেমধ্যেই এই ধরনের খবর শোনা যায়। কিন্তু এই সব কিছুকে ছাপিয়ে গেছে জাপানের এক যুবকের। শখের বশে নিজেকে কুকুরের রূপ দিলেন তিনি।
অবিশ্বাস্য লাগলেও বিষয়টি সত্যি। টাকো নামে জাপানের এক যুবকের নাকি মানবজীবন ভাল লাগে না। ছোটবেলা থেকেই তার কুকুরের প্রতি আকর্ষণ। আর তাই কুকুরের মতো জীবনযাপন করতে নাকি তার ভাল লাগে। সেই শখপূরণের পিছনে ছুটতে ছুটতে অবশেষে লক্ষ্যভেদ করলেন তিনি। নিজের রূপ বদলে মানুষ থেকে উঠলেন ‘কুকুর’।
না, যেভাবে অস্ত্রোপচার করে নিজের রূপ বদলে ফেলার মতো ঘটনা শোনা যায়, টাকো কিন্তু সে রাস্তায় হাঁটেননি। বরং এর জন্য তিনি একটি পোশাক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাদের দিয়ে হুবহু কুকুরের মতো একটি কস্টিউম বানান। যার দাম ১১ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। তরে টাকোর শর্ত ছিল, পোশাকটি এমন হতে হবে যাতে, খুব ভাল করে দেখলেও যেন কোনোভাবে কেউ ধরতে না পারেন যে, এটা কোনো কুকুর নয়। শখ পূরণ হল টাকোর।
নিজে কুকুরের সেই পোশাক পরে হাঁটাচলা করলেন। কুকুরের মতোই জীবনযাপন শুরু করেছেন। তার এই নতুন শখের ছবিও নেটমাধ্যমে শেয়ার করেছেন। যা নিয়ে বিপুল হৈ চৈ শুরু হয়ে গেছে।
পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে দালাল ধরে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন পলি বেগম (৪৫)। সেখানে যাওয়ার পরই তাঁর ওপর শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। নির্যাতনের শিকার হয়ে সৌদির একটি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি হতে হয় পলিকে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান। সেখান থেকে ভোর পৌনে তিনটায় বিমানে ওঠেন পলি। আজ বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন। সংবাদ দৈনিক প্রথম আলোর ।
বিমানবন্দরে নেমে স্বামী আসির উদ্দিনের মুঠোফোনে পলি বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আট মাসের প্রথম ১৫ দিন ভালো ছিলাম। প্রথম প্রথম ঘরের দরজা খোলা রাখা হতো। এরপর থেকে তালা দেওয়া হয়। এই আট মাস বাইরে বের হতে পারিনি। স্বামীর সঙ্গে কয়েক দিন কথা বলেছি। পরে ফোনটিও ভেঙে ফেলা হয়। মারধর করে মৃতপ্রায় অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মনে হচ্ছিল মরেই যাব। মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরলাম। আমার স্বামী আমার জন্য অনেক করেছেন। আপনারাও পাশে ছিলেন। দেশে আপনজনের কাছে ফিরতে পেরে ভালো লাগছে।’
হাসপাতাল থেকে মঙ্গলবার রাতে তাঁকে কফিলের (মালিক) বাসায় নেন। সেখান থেকে হাতে তিন মাসের বেতন ধরিয়ে বিমানবন্দরের টিকিট কেটে দেয়। টিকিটও ওই তিন মাসের টাকা থেকে নেওয়া। কাপড়চোপড় কিছুই দেয়নি। মোবাইলও দেয়নি। আমি একটি নরকে ছিলাম। পলি বেগম পলি আরও বলেন, ‘হাসপাতাল থেকে মঙ্গলবার রাতে তাঁকে কফিলের (মালিক) বাসায় নেন। সেখান থেকে হাতে তিন মাসের বেতন ধরিয়ে বিমানবন্দরের টিকিট কেটে দেয়। টিকিটও ওই তিন মাসের টাকা থেকে নেওয়া। কাপড়চোপড় কিছুই দেয়নি। মোবাইলও দেয়নি। আমি একটি নরকে ছিলাম। এর জন্য বিচার চাই।’
পলির স্বামী আসির উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, গত রাতে তাঁর কাছে ফোন দেন পলি। জানান, বাংলাদেশ সময় ভোরে বিমানে দুবাই হয়ে বাংলাদেশে ফিরবেন তিনি। আরও কিছু শোনার আগেই ফোনটি কেটে যায়। সে জন্য আজ দুপুর থেকে বিমানবন্দরে স্ত্রীর অপেক্ষায় বসে ছিলেন তিনি। বিকেল সাড়ে পাঁচটায় পলি বিমান থেকে নামেন। এখন তিনি বাড়ির পথে। মোটামুটি সুস্থ পলি। তাঁর এখন বিশ্রাম দরকার।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পলির বাড়ি গাজীপুরে। তাঁর বিয়ে হয়েছে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বাটাজোর গ্রামে। পলিকে নির্যাতনের বিষয়ে ১১ মে ঢাকার জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সেলে লিখিত অভিযোগ করেন পলির স্বামী আসির উদ্দিন।
অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের ১৯ অক্টোবর মেসার্স জেনিয়া ওভারসিজের (আরএল-১২২০) মাধ্যমে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন পলি। সেখানে যাওয়ার পর থেকে তাঁর স্ত্রীকে অত্যাচার, মারধর, নির্যাতন করা হচ্ছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। তাঁর স্ত্রীকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। বিষয়টি তিনি এজেন্সিকে জানালেও সেখান থেকে কোনো সহায়তা পাননি বলে তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন।
অভিযোগের পরপরই পলির স্বামী জানতে পারেন, নির্যাতনের শিকার পলিকে ১৬ মে সৌদি আরবের রিয়াদের অ্যাটলাস জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। এই খবর পরিবার জানত না। ওই হাসপাতালে রিংকু শেখ নামের ভারতের কলকাতার এক নাগরিক কাজ করেন। রিংকু শেখের সহায়তায় পলি ইমোতে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় তাঁকে দেশে ফিরিয়ে নিতে আকুতি জানান পলি। সে সময় হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রথম আলোর সঙ্গেও পলি দেশে ফেরার আকুতি জানান। এ নিয়ে ১৮ মে প্রথম আলোর অনলাইনে ‘পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে সৌদি আরবে, নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (প্রশাসন) উপপরিচালক জোহরা মনসুর প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের কাছে অভিযোগ আসার পরপরই তাঁরা এজেন্সিকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছিলেন। পলির হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কথাও তাঁরা জানিয়েছিলেন। এরপরই এজেন্সি ব্যবস্থা নেয়।
জেনিয়া ওভারসিজ এজেন্সির কম্পিউটার অপারেটর মো. ইমাম হাসান প্রথম আলোকে বলেন, পলি গত রাতে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। কিন্তু তাঁরা জানতেন না যে আজই তিনি দেশে ফিরছেন। তাঁরা বিকেলে জানতে পেরেছেন আজ দেশে ফিরবেন পলি। তাঁর সব বকেয়া পরিশোধ করা হবে। তিনি দাবি করেন, তাঁদের সঙ্গে এ ব্যাপারে তাঁর স্বামী কোনো যোগাযোগ করেননি। বরং দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আগে যোগাযোগ করলে আগেই ব্যবস্থা নিতেন বলে তিনি
বৈধ উপায়ে রেমিট্যান্স পাঠানোর বিপরীতে নগদ সহায়তা প্রদানের পদ্ধতি সহজ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক । এখন থেকে পাঁচ হাজার ডলারের বেশি বা ৫ লাখ টাকার বেশি রেমিট্যান্স এলে কোনো ধরনের কাগজপত্র ছাড়াই পাওয়া যাবে প্রণোদনা ।
ব্যাংকিং ও চাকরির খবর এতদিন পাঁচ হাজার ডলারের বেশি রেমিট্যান্সের বিপরীতে কাগজপত্র জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল । কিন্তু বর্তমান ডলার সংকট নিয়ন্ত্রণে এখন সেটি শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক । কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়ে সোমবার ( ২৩ মে ) সার্কুলার জারি করেছে । এতে উল্লেখ করা হয় , পাঁচ হাজার ডলার অথবা পাঁচ লাখ টাকার বেশি রেমিট্যান্স দেশে পাঠালে প্রণোদনা বা নগদ সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রবাসীর কাগজপত্র বিদেশের এক্সচেঞ্জ হাউজ থেকে পাঠানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে । তবে এখন থেকে দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর বিপরীতে কোনো ধরনের কাগজপত্র ছাড়াই আড়াই ( ২ দশমিক ৫০ ) শতাংশ হারে নগদ সহায়তা পাওয়া যাবে । পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে । সোমবার থেকেই এটি কার্যকর হয়েছে ।
এপ্রিলে রেকর্ড ২০৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পেল বাংলাদেশ
বাংলাদেশ ব্যাংক, বৈদেশিক রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানোর জন্য নেয়া পদক্ষেপ হিসেবে,পাঁচ হাজার থেকে পাঁচ লাখ ডলার বা তার বেশি রেমিট্যান্স দেশে পাঠালে প্রণোদনা পাওয়ার জন্য বাধ্যতামূলক নথি জমা দেয়ার বিধান প্রত্যাহার করেছে।
সোমবার (২৩ মে), ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিপার্টমেন্টের জেনারেল ম্যানেজার কাজী রফিকুল হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে অনির্দিষ্টকালের জন্য নথি জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করা হয়।
ফলে, রেমিট্যান্স প্রেরকরা বিদেশের বৈদেশিক মুদ্রা সংস্থাগুলোতে নথি জমা না দিয়ে, আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে প্রেরিত যে কোনও পরিমাণ রেমিট্যান্সের জন্য দুই দশমিক পাঁচ শতাংশ তাৎক্ষণিক প্রণোদনা পাবেন।
২৩ মে (সোমবার) থেকেই, সব তফসিলি ব্যাংককে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত এক হাজার আটশ’ ৬২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে।
গত ২০২১ অর্থবছরে, বাংলাদেশ দুই হাজার চারশ’ ৭৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে, যা এখন পর্যন্ত এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ।এই খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছেন, মহামারির পর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলে, হুন্ডি এবং অন্যান্য অবৈধ চ্যানেলগুলো সক্রিয় হওয়ায়, অভ্যন্তরীণ রেমিট্যান্স প্রবাহ হ্রাস পেয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার বৈধ উপায়ে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বৃদ্ধিতে উৎসাহিত করছে। কারণ, আমদানির অর্থ পরিশোধের জন্য বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বেড়েছে।
বাংলাদেশে যন্ত্রপাতি, শিল্পের কাঁচামাল, এলপিজি-জ্বালানি তেল এবং অন্যান্য পণ্যের আমদানি ক্রমবর্ধমানহারে বাড়ছে।
এছাড়াও, মহামারির অবস্থা খুব খারাপ থাকার সময় করা এলসিগুলোর বিলম্বিত পেমেন্ট এখন পরিশোধ করতে হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, চলতি অর্থবছর ২০২১-২২ এর প্রথম ৯ মাসে ৬ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের এলসি খোলা হয়েছে।
মানুষের মতো দেখতে চার পায়ের এক বিরল প্রাণীর ছবি সামাজিক যোগাগোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যার মুখটা মানুষের মতো, গায়ে আরমাডিলোর মতো বর্ম, আঙুলগু’লো ব্যাঙের মতো।
সেইসঙ্গে কিছু মানুষের ছবি, যারা কোনো কিছুর আঘা’তে র’ক্তাক্ত। সঙ্গে লেখা বর্ণনায় দাবি করা হচ্ছে- বিরল ওই প্রাণীর হাম’লায় আ’হত হচ্ছেন অনেকেই।
সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া এসব পোস্টের কোথাও বলা হচ্ছে- ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পু’রুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ে ওই প্রাণীটিকে দেখা গেছে। কেউ কেউ আবার লিখেছেন-
রাজস্থান ও গু’জরাটের খেতে এই জীবটির দেখা মিলেছে। অ’স্ত্র নিয়ে চাষ করতে যাওয়ারও পরামর’্শ দেওয়া হচ্ছে চাষীদেরকে। অন্য এক জায়গায় বলা হয়েছে- এই প্রাণীটির নাম ‘কুইয়া বাঘ’।
ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে হিন্দি ও বাংলায় লেখা এমন বেশ কিছু পোস্ট। শুধু হিন্দিতে লেখা পোস্টে বলা হয়েছে- এই ঘটনা গু’জরাট ও রাজস্থানের।
আর বাংলায় লেখা পোস্টে দাবি করা হয়েছে- এই ঘটনা পু’রুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড় ও সংল’গ্ন জঙ্গলের। তবে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম বলছে- এই তথ্য সঠিক নয়।
ছবিটিতে যে জীবটিকে দেখা যাচ্ছে- ভূ-ভারত তো দূরে থাক, গোটা বিশ্বে এমন কোনও প্রাণীই আদতে নেই। পু’রুলিয়ায় স্থানীয় মানুষজনের ভাষ্য মতে, এক ধরনের গিরগিটিকে তারা ‘কুইয়া বাঘ’ বলে ডাকেন।
যেমন- স্থানীয় বিশ্বজিৎ দাশগু”প্ত বলছিলেন, “একটু মোটা, একটু সবজেটে রঙের এক রকম গিরগিটি আছে, যাকে আমর’া কুইয়া বাঘ বলে ডাকি। তবে এমন কোনও প্রাণী দেখিনি।
এ নিয়ে বিধাননগর সরকারি কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক অরূপ দত্তগু”প্ত বলছেন, “জীবজগতে এমন কোনও প্রাণীর অ’স্বিত্বই নেই।
সরীসৃপদের সামনে-পিছনে চার পায়েই পাঁচটা করে আঙুল থাকে। আর স্যালামান্ডার জাতীয় উভচর প্রাণীদের সামনের পায়ে চারটে এবং পিছনের পায়ে পাঁচটা আঙুল থাকে।
কিন্তু ছবিতে থাকা প্রাণীটির চেহারার বৈশি’ষ্ট্য এর কোনওটির সঙ্গে ই মেলে না। আবার প্রাণীটির গায়ের উপরের অংশে কিছু স্তন্যপায়ী বা সরীসৃপের মতো বর্ম থাকলেও শরীরের নীচের দিকে কোনও আঁশ নেই।”
চোখ দুটো সরীসৃপ বা স্যালামান্ডারের মতো মুখের দুপাশে নয়। অধ্যাপক দত্তগু”প্ত ের মতে, “ছবিতে থাকা প্রা’ণীটি আসলে সুকুমা’র রায়ের বকচ্ছপ বা হাঁসজারুর মতো, কল্পনা-জাত।” সত্যিটা কী’?
গু’গল ইমেজ সার্চে ওই প্রাণীটির ছবি দিয়ে বেশ কিছু পুরনো ওয়েবসাইট লি’ঙ্কের সন্ধান মেলে। দেখা যায় যে- ২০১৮ সালের অক্টোবরেও অদ্ভূ’ত দেখতে প্রাণীটির এই ছবিগু’লোই ভাইরাল হয়েছিল। তখন একাধিক জায়গায় এটিকে ‘বুশি বেবি’ বলে দাবি করা হয়। ছবিগু’লো প্রথম আপলোড হয় ২০১৮ সালের ৩ অক্টোবর লাইরা মাগানুকো বলে এক ইটালীয় ভাস্করের ফেসবুক প্রোফাইলে।
শিল্পী হাইপার রিয়েলিটি নিয়ে কাজ করেন, সিলিকোনের তৈরি এমনই সব ভাস্কর্যে নিজের কল্পনাকে ফুটিয়ে তোলেন।সুতরাং পু’রুলিয়া থেকে গু’জরাট- এমন কোনও প্রাণীর দেখা পাওয়া যায়নি। আর তাই তার হাম’লা করারও প্রশ্ন ওঠে না।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, যুদ্ধ অবসানে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে ইচ্ছুক।
সোমবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে দেওয়া ভাষণে জেলেনস্কি এ কথা বলেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
জেলেনস্কি বলেন, পুতিনই একমাত্র রুশ কর্মকর্তা, যুদ্ধের অবসান কীভাবে করা যায়, সে বিষয়ে যাঁর সঙ্গে আলোচনা করতে ইচ্ছুক তিনি।
একজন দোভাষীর মাধ্যমে জেলেনস্কি বলেন, ‘রাশিয়ান ফেডারেশনের সব সিদ্ধান্ত নেন প্রেসিডেন্ট। তাই আমরা যদি ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে (পুতিন) ছাড়া এ যুদ্ধের সমাপ্তির বিষয়ে কথা বলি, তাহলে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।’
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ছাড়া দেশটির আর কারও সঙ্গে কোনো ধরনের বৈঠকের বিষয়টি তিনি মেনে নিতে পারেন না।