দেশের,স্বার্থে,দল,মত নির্বিশেষে ইতালিতে সরকার গঠন।

প্রধানমন্ত্রী প্রফেসর ড. মারিও দ্রাঘি’র নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের সর্বদলীয় ইতালীয় মন্ত্রীসভায় স্থান পেয়েছেন সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রফেসর জুসেপ্পে কন্তে’র কোয়ালিশন সরকারের ৭ প্রভাবশালী মন্ত্রী। ২৩ মন্ত্রীর মধ্যে অবশ্য আছেন ৮ জন টেকনোক্রেট। রাজনীতিবিদ ১৫ মন্ত্রী নেয়া হয়েছে ডান, বাম, মধ্য এবং কট্টরপন্থী সব মিলিয়ে ৬টি রাজনৈতিক দল থেকে। ১২ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সন্ধ্যার পর ঘোষিত নতুন মন্ত্রীসভার ২৩ সদস্যের মাঝে আবার ৮ জনই নারী। প্রধানমন্ত্রী প্রফেসর দ্রাঘি এদিন রাষ্ট্রপতি ভবন কুইরিনালে গিয়ে নতুন মন্ত্রীদের তালিকা হস্তান্তর করেন। মন্ত্রীসভার আনুষ্ঠানিক শপথ শনিবার দুপুরে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রফেসর কন্তে সরকারের দায়িত্বে থাকা পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ফাইভ স্টার মুভমেন্টের ‘আইকনিক লিডার’ লুইজি দি মাইও করোনাকালে তাঁর অবিসংবাদিত ‘মহামারি কূটনীতি’ তথা পেনডেমিক ডিপ্লোম্যাসির সফলতার স্বীকৃতিস্বরূপ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেই থাকছেন। পাশাপাশি ফ্রি এন্ড ইক্যুয়েল পার্টি (লিবেরি এ উগুয়ালি – লেউ) নেতা তথা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বহুল আলোচিত মন্ত্রী রবের্তো স্পেরান্সা করোনাকালে তাঁর ইস্পাতকঠিন মনোবলের জন্য বহাল থাকছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে। ডেমোক্রেটিক পার্টির লরেন্সো গুয়েরিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পুরনো দায়িত্বেই থাকছেন।

১৫ জন নন-টেকনোক্রেট অর্থাৎ পলিটিশিয়ান মিনিস্টারদের মধ্যে মধ্যপন্থী ফাইভ স্টার মুভমেন্টের (মভিমেন্তো চিনকুয়ে স্তেল্লে) সর্বোচ্চ ৪ জন মন্ত্রী হয়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বেরলুসকনি’র ডানপন্থী দল কাম অন ইটালি (ফোরছা ইতালিয়া) থেকে ৩ জন মন্ত্রী আছেন নতুন ক্যাবিনেটে। বামপন্থী ডেমোক্রেটিক পার্টি (পার্তিতো দেমোক্রাতিকো – পি দি) এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি’র কট্টরপন্থী নর্দার্ন লীগ (লেগা নর্দ) উভয় দলের ঝুলিতে রয়েছে ৩ জন করে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী। অন্যদিকে যিনি সমর্থন প্রত্যাহার করায় প্রফেসর জুসেপ্পে কন্তে’র সরকারের পতন অবধারিত হয়ে উঠে, সেই ‘গেইম মেকার’ পলিটিশিয়ান তথা আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাত্তেও রেনজি’র দল এলাইভ ইটালি (ইতালিয়া ভিভা) থেকেও একজনকে মন্ত্রীর গুরুদায়িত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী প্রফেসর ড. মারিও দ্রাঘি।

ইতালিতে বসবাসরত বিভিন্ন দেশের লাখ লাখ অভিবাসীদের জন্য সুখকর সংবাদ হচ্ছে, জুসেপ্পে কন্তে সরকারের টেকনোক্রেট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুশানা লামোরজেসে’র হাতেই যথারীতি থাকছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিয়ারিং। স্বার্থসংশ্লিষ্ট অতীব গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয় থেকেই প্রবাসীদের আনুষঙ্গিক ভাগ্য নির্ধারিত হয়। প্রবাসী বান্ধব রাজনৈতিক দল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা, সাবেক আইন ও বিচার মন্ত্রী আন্দ্রেয়া অরলান্দো নতুন ক্যাবিনেটে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ার বিষয়টিও দারুণ আশাব্যঞ্জক প্রবাসীদের জন্য। ডান ও কট্টরপন্থী দলের নেতাদেরকে ভিন্ন ভিন্ন মন্ত্রণালয় দেয়াতে তাঁরা ইমিগ্রান্টদের পথের কাঁটা হচ্ছেন না নতুন জাতীয় সরকারের এই নবযাত্রায়।

সুত্র-মাঈনুল ইসলাম নাসিম, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান