
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য অত্যাধুনিক রাডার সিস্টেমসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি কিনতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে কোন অর্থ দেবে না সরকার।
বুধবার (১৭ মার্চ) সচিবালয়ে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।কমিটি বলেছে, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রাডার সিস্টেমসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি কিনতে সরকারের পরিবর্তে সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থ দিতে হবে।
রাডার ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রথমে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ-পিপিপি পদ্ধতেত রাডার ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ২০১৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি নীতিগতভাবে অনুমোদন দেয়। তবে ২০১৭ সালের ১ মার্চে মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে রাডার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি ক্রয় সংক্রান্ত প্রকল্পটি পিপিপি-এর পরিবর্তে সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নের প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে ফ্রান্সের সরকারি এই সংস্থা থালাস-এর কাছ থেকে রাডার সিস্টেমসহ সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি জি-টু-জি প্রক্রিয়ায় সরাসরি কিনতে ২০১৯ সালের ৮ মে তারিখে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির নীতিগত অনুমোদন নেওয়া। পরবর্তী সময়ে ২০২০ সালের ৩ নভেম্বর তারিখে ফ্রান্সের সঙ্গে এই বিষয়ে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। বুধবার সরকারি অর্থায়নের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট সংস্থা অর্থাৎ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থায়নের কথা বলা হলো।বর্তমানে ৩০ বছরের বেশি পুরানো রাডার দিয়ে চলছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম। পুরনো রাডারের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ায় এয়ার ট্রাফিকসহ আকাশপথে নজরদারি চালাতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের। অন্যদিকে নজরদারির বাইরে থাকছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলসহ বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকা।ফলে ওই এলাকা দিয়ে কোন উড়োজাহাজ গেলে সেটার তথ্যও জানা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ওভার ফ্লাইং বাবদ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত বাংলাদেশ। অথচ এসব এলাকায় রাডার কাভারেজের মাধ্যমে এয়ার ট্রাফিকিং করে আয় করছে প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মিয়ানমার।