অ;বৈধ স;ম্পদ অ;র্জন ও অ;র্থপা;চারের মাম;লায় কুয়েতে দণ্ডিত লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলে;র স্ত্রী সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলাম ও মেয়ে ওয়াফা ইসলামের জামিন বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে করা আবেদনের শুনানি আজ।
জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।
তিনি জানান, সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দীন শামিমের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
অ;বৈধ স;ম্পদ ;অর্জন ও অ;র্থপা;চারের মাম;লায় পাপুলের স্ত্রী এমপি সেলিনা ইসলাম ও মেয়ে ওয়াফা ইসলামের জা;মিন ;আবেদন মঞ্জুর করে গত ১১ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেন ঢাকার একটি বিচারিক আদালত। গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশের আদালতে আ;ত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছিলেন সেলিনা এবং ওয়াফা।
এ জামিনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ আদালতে দুদকের আবেদনের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে, গত বছরের ২২ ডিসেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে তাদেরকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
তারও আগে ১০ ডিসেম্বর অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের মামলায় সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের স্ত্রী ও মেয়েকে ১০ দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ওই আদেশের পর তারা নিম্ন আদালতে যান। কিন্তু আদালত ছুটি থাকায় বিষয়টি নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। পরবর্তীতে তারিখ পিছিয়ে ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে তাদেরকে আত্মসমর্পণের আদেশ দেন হাইকোর্ট।
এদিকে, ১০ ডিসেম্বর কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের স্ত্রী ও মেয়ের বি;রুদ্ধে অ;র্থপাচা;রের অভি;যো;গ প্রতীয়মান হয়নি মর্মে প্রতিবেদন দেয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের উপপরিচালক মো. আরেফিন আহসান মিঞাকেও তলব করেন আদালত।
গত বছরের ১১ নভেম্বর দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে দুই কোটি ৩১ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ ও ১৪৮ কোটি টাকা পা;চারের অ;ভিযোগে পাপুল ও তার স্ত্রী সেলিনা এবং মেয়ে ওয়াফাসহ চারজনের বি;রুদ্ধে মাম;লা করেন।অর্থ ও মানবপাচারের অভিযোগে কুয়েতের কারাগা;রে আছেন পাপুল।
লে’বাননে করো;নাভাইরা’সে আ;ক্রান্ত হয়ে মঞ্জু বেগম নামে এক বাংলা;দেশি নারী ক;র্মীর মৃ;ত্যু হয়েছে।শনিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে স্থানীয় র;ফিক আল হারিরি হাসপাতালে চিকি;ৎসাধীন তার মৃ;ত্যু হয়। বর্তমানে ম;র;দে;হ হাসপা;তালের হি;মঘ;রে আছে।
জানা গেছে, মঞ্জু বেগম ১০ বছর আগে গৃহকর্মীর ভিসায় লেবা;নন আসেন। থাকতেন দেশটির বিগফায়া এলাকায়। ক;রো;নায় আ;ক্রা;ন্ত হলে গত তিন সপ্তাহ আগে তাকে রফিক আল হা;রিরি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎ;সাধীন শ;নিবার ভো;রে তিনি মা; রা যান।
মঞ্জু বেগমের বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার ছেউরিয়া গ্রামে। তার বাবার নাম মজনু মণ্ডল।
লে;বাননে এখন পর্যন্ত ক;রো;না;য় আ;ক্রা;ন্ত হয়ে ১৫ জন বাংলাদেশি প্রা;ণ হারিয়েছেন। ;;;;
আফ্রিকা মহাদেশের দ্বীপরাষ্ট্রে যাচ্ছে বাংলাদেশি কর্মী। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় এক হাজার ১০০ শ্রমিক পাঠানোর চিন্তা করা হচ্ছে। কর্মী নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশে আসছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। মাদাগাস্কারের নির্মাণ
প্রকল্পে কাজ করবেন এই কর্মীরা। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ দূতাবাস কর্মী নিয়োগের বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে। ফলে আগামী মার্চের মাঝামাঝি এসব কর্মীর ফ্লাইট শুরু হবে আশা করা যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পৃথিবীর বৃহত্তম দ্বীপগুলোর মধ্যে অন্যতম মাদাগাস্কার দক্ষিণ-পূর্ব আফ্রিকা মহাদেশের উপকূলে অবস্থিত। এটি দ্বীপরাষ্ট্র হলেও মাদাগাস্কারের আয়তন বাংলাদেশের প্রায় চারগুণ। তবে জনসংখ্যা প্রায় আড়াই কোটি।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি মাদাগাস্কার অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে চলছে। মাদাগাস্কার সরকার প্রায় ১০ হাজার সোশ্যাল হোম নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এ প্রকল্পের কাজ পেয়েছে মালয়েশিয়ার এম সিটি ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট।
মালয়েশিয়ার এই কোম্পানিটি প্রাথমিক পর্যায়ে ইঞ্জিনিয়ার ও দক্ষ নির্মাণ শ্রমিক এবং অদক্ষ শ্রমিক মিলিয়ে ১২টি ক্যাটাগরিতে প্রায় এক হাজার ১০০ কর্মী নিয়োগ করবে বাংলাদেশ থেকে। কর্মী নিয়োগের সাক্ষাৎকারের জন্য এম সিটি ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্টের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে বাংলাদেশ সফরে আসছেন।
পরবর্তীতে আরও কর্মী নেওয়ার চিন্তা আছে কোম্পানিটির। বাংলাদেশের জন্য নতুন এই মাদাগাস্কারের শ্রমবাজার নিয়ে কাজ করছে এশিয়া কন্টিনেন্টাল গ্রুপ (বিডি)। এই কোম্পানি এর আগে রোমানিয়ায় নতুন শ্রমবাজার তৈরিতে ভূমিকা রাখে। এ প্রসঙ্গে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক লোকমান শাহ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, করোনা মহামারীসহ বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশের শ্রমবাজার সংকুচিত হয়ে আসছিল।
এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন নতুন শ্রমবাজার সন্ধানের নির্দেশ দেন। এ কাজটি শুধু সরকারের হাতে ছেড়ে না দিয়ে আমরাও বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যক্তি উদ্যোগে নতুন বাজার খুঁজতে সচেষ্ট হই। পরে পরিশ্রমের ফসল হিসেবে রোমানিয়া, মাদাগাস্কারের মতো বাজার তৈরি করি।
সবার সহযোগিতা পেলে আরও নতুন নতুন শ্রমবাজার পাওয়ার আশা রাখি। জানা যায়, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি পর্যুদস্ত হলেও সেই মধ্যপ্রাচ্যেই আটকে আছে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি। এর বাইরে অন্য দেশে বাংলাদেশি শ্রমিকরা গেলেও তার হার অনেক কম।
কভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে তেলনির্ভর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কাজের সুযোগ কমে যেতে পারে। ইতিমধ্যেই কয়েক লাখ
শ্রমিক দেশের ফিরে এসেছেন। নতুন করে যাদের যাওয়ার কথা ছিল সেই সংখ্যা অনেক কমে গেছে। ফলে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের স্বাভাবিক গতি ধরে রাখতে নতুন শ্রমবাজার চালু করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ১৪ মাসের শিশু সন্তানকে রেখে আয়েশা আক্তার প্রিয়া নামের এক গৃহবধু মারুফ হোসেন নামের এক প’রকী’য়া প্রেমিকের হাত ধরে পা’লি’য়েছে। গত ২৮ জানুয়ারি সকালে রামগঞ্জ ইসলামী ব্যাংক শাখা থেকে টাকা
উ’ত্তো’লন করে সাত ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ তিন লাখ টাকা নিয়ে বখা’টে মারুফের সঙ্গে পা’লি’য়ে যায়। প্রিয়া রামগঞ্জ উপজেলার ১নং কানপুর ইউনিয়ননের ব্র-পাড়া বেপারি বাড়ির মো. দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে ও বখাটে মারুফ একই গ্রামের সাইন্নার বাড়ির দুলাল হোসেনের ছেলে।
এদিকে গৃহবধু প্রিয়া তার ১৪ মাসের শি’শু পুত্রসন্তান আমির হামজাকে বাড়িতে রেখে যাওয়ায় তার লালন পালন নিয়ে
প্রবাসীর পরিবারের লোকজন বি’পা’কে পড়েছেন। এছাড়াও এমন ঘটনায় প্রবাসীর ভাই থানায় জি’ডি করার ছয়দিন অ’তিবা’হিত হলেও পুলিশ অদ্যবধি পর্যন্ত ওই গৃহবধুকে উ’দ্ধা’র করতে পারেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আয়েশা আক্তার প্রিয়ার সঙ্গে ২০১৭ সালে চাটখিল উপজেলার ৩নং পরকোট ইউনিয়নের পশ্চিম শোশালিয়া গ্রামের আব্দুল হাই ডাক্তার বাড়ির মৃ’ত শহীদ উল্যার ছেলে সৈয়দ আহম্মদের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়।
এরপর থেকে সুখে শান্তিতেই চলে তাদের পারিবারিক জীবন। এরই মধ্যে ২৮ জানুয়ারি আয়েশা আক্তার প্রিয়া ব্যাংক থেকে টাকা উ’ত্তোল’ন করে স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে ব’খা’টের হাত ধরে পা’লি’য়ে যায়। বখাটে মারুফের বাড়ির লোকজন জানান, বিয়ের আগে থেকেই মারুফের স’ঙ্গে প্রি’য়ার প্রেমের সম্প’র্ক ছিলো। আর সেই সম্প’র্কে’র জে’র ধরে তারা দুজন পা’লি’য়েছে।
এ ব্যাপারে প্রবাসীর ভাই ফয়েজ আহম্মেদ জানান, প্রিয়া পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে শিশুপুত্র আমির হামজার কা’ন্না
কোনো অবস্থাতেই থা’মা’নো যাচ্ছে না এবং খাবারও খাওয়ানো যাচ্ছে না। প্রিয়ার বাবা দেলোয়ার হোসেন জানান, বখাটে মারুফের সঙ্গে আমার যোগাযোগের বিষয়টি সঠিক নয়। ঘটনার পর থেকে মেয়েকে খুঁ’জতে খুঁজ’তে আমি অ’সু’স্থ হয়ে গিয়েছি।
দী;র্ঘ সম;য় ধ;রে অ;ভিনয় অ;ঙ্গনে অব;স্থান করছেন মডেল ও অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। ছোটপর্দায় বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন অল্প সময়েই। ব্যক্তিগত কারণে বি;ত;র্কে;র মুখেও পড়তে হয় তাকে। তবে নতুন করে ফের আলোচনায় এই অভিনেত্রী।
সম্প্রতি প্রেম এবং প্রেমিক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। দেশীয় এক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া ভিডিও সাক্ষাৎকারে প্রভা বলেন, আমার প্রেমিক বা পাত্র হতে হলে দুটি গুণ বা যোগ্যতা থাকলেই চলবে।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমত, শতভাগ বিশ্বস্ত হতে হবে। দ্বিতীয়ত, মাদকের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক থাকা যাবে না। এই দুটি গুণ বা যোগ্যতা থাকলেই চলবে। বাকিগুলো মানিয়ে নেব।’
সাক্ষাৎকারে প্রভা আরও জানান, তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় প্রথম প্রেমের চিঠি পান। তখন ঈদের সময় ছিল। চিঠি পেয়ে খুব ভয় পেয়েছিলেন।
প্রভা বলেন , ‘আম্মু যদি জানতে পারে, আমাকে তো মেরেই ফেলবে। প্রথম পাওয়া চিঠি কুচি কুচি করে কেটে ফেলে দেই।’
সার্বিয়ার বিভিন্ন স্থানে আ’ট’কা পড়েছেন কয়েকশ বাংলাদেশি অভি’বাসনপ্রত্যাশী। মূলত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত দেশ হাঙ্গেরি কিংবা ক্রোয়ে’শিয়ায় অ’বৈ’ধভাবে অনুপ্রবেশের জন্য তারা সেখানে অবস্থান নিয়েছেন।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউনাইটেড ন্যাশনস হাইকমিশনার ফর রিফিউজিসের তথ্য অনুযায়ী, বলকান পেনিনসুলার এ দেশটিতে ৬ হাজার ৫৯১ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী আশ্রয় নিয়েছেন যাদের মধ্যে প্রায় ২৬০ জনের মতো বাংলাদেশি। তবে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর দাবি অনুযায়ী দেশটিতে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীর সংখ্যা এর চেয়েও বেশি।
অর্থনৈতিকভাবে সার্বিয়া ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর মধ্যে একটি। ১৯৯১ সালে যুগোস্লাভিয়া ফেডারেশনের পতন ঘটলে নাটকীয়ভাবে দেশটির অর্থনীতিতে ধস নেমে আসে। সেই সঙ্গে যুক্ত হয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি। মানবাধিকার সূচকে দেশটি ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক নিচের অবস্থানে রয়েছে।
সার্বিয়াতে দুর্নীতির মাত্রা অত্যন্ত বেশি এবং ইউরোপের মধ্যে সাংবাদিক নির্যাতনের হারের দিক থেকে রাশিয়া ও বেলারুশের পর সার্বিয়ার অবস্থান।
সার্বিয়া ও হাঙ্গেরির সীমান্তবর্তী শহর সুবোটিচায় আ;টকাপড়া এক বাংলাদেশি বলেন, প্রায় তিন মাস ধরে সার্বিয়াতে আটকা পড়েছি। এখন লক্ষ্য যে কোনোভাবে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশ ফ্রান্সে পা রাখা। ফ্রান্সে যদি রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণও না হয়, তাহলে অন্যান্য উপায়েও কিছু নির্দিষ্ট শর্তপূরণের মাধ্যমে সেখানকার কাগজ পাওয়া যায়। অবৈধভাবেও বছরের পর বছর সেখানে বসবাস করলে কেউ কিছু বলে না।
কীভাবে তিনি সার্বিয়াতে পৌঁছালেন এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ২০১৬ সালে স্টুডেন্ট ভিসায় আজারবাইজানে আসি। আজারবাইজান থেকে তুরস্কে ট্যুরিস্ট ভিসা পাওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ। এ সুযোগটি কাজে লাগিয়ে তাই এক বছর পর ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে তুরস্কে চলে যাই।
তুরস্ক থেকে গ্রিস, গ্রিস থেকে মেসিডোনিয়া এবং মেসিডোনিয়া থেকে সার্বিয়াতে আসি। এখন লক্ষ্য হচ্ছে হাঙ্গেরি কিংবা ক্রোয়েশিয়া হয়ে স্লোভেনিয়ার ভেতর দিয়ে ইতালি এবং ইতালি থেকে ফ্রান্সে যাওয়া।
কীভাবে তিনি ইতালি যাবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, বিভিন্ন ধরনের দালাল আছে এখানে। নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকার চুক্তির মাধ্যমে দালালদের সহায়তায় হাঙ্গেরি কিংবা ক্রোয়েশিয়া পৌঁছানোর পর সেখানে দালালদের আগে থেকেই নির্ধারিত গাড়িতে করে ইতালিতে যাওয়া যায়। এজন্য রুট ভেদে বিভিন্ন রকম প্যাকেজ আছে। সেক্ষেত্রে টাকার অঙ্কের হেরফের হয়।
সাধারণত ২ হাজার থেকে ৬ হাজার ইউরো দালালকে দিতে হয়। যাত্রাপথের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, জঙ্গলের ভেতর দিয়ে হেঁটে বর্ডার পার হতে কয়েকদিন লাগে। পানি ও কয়েকদিনের শুকনো খাবার সঙ্গে নিয়ে রাজা-বাদশাহদের রাজ্য জয়ের মতো সীমান্ত জয় করতে হয়। জঙ্গলেই রাত কাটাই।
এত কষ্ট করে সীমান্তে পৌঁছানোর পর সীমান্ত পুলিশের হাতে ধরা পড়লে তারা ফেরত পাঠায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ কেউ পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে ঢুকতে পারে। কেউবা কয়েকবার চেষ্টার পর অবশেষে সফল হয়। অনেকে পথে মারাও যায়। সার্বিয়া কিংবা ক্রোয়েশিয়া অথবা হাঙ্গেরিতে পুলিশের হাতে ধরা পড়লে অনেক সময় নির্যাতনের শিকার হতে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাংলাদেশি জানান, কয়েক মাস আগে ঢাকার এক এজেন্সির মাধ্যমে আমি সার্বিয়াতে আসি ট্যুরিস্ট ভিসায়। অ্যাজেন্সি থেকে জানতে পারি সার্বিয়াতে পৌঁছানোর পর না কি আরব আমিরাতের মতো ভিসার ক্যাটাগরি পরিবর্তনের সুযোগ আছে।
সে অনুযায়ী অ্যাজেন্সি আমাকে বলেছিল সার্বিয়াতে পৌঁছানোর পর তারা আমার জন্য এক কনস্ট্রাকশন কোম্পানিতে চাকরির ব্যবস্থা করে দেবে যেখানে প্রতি মাসে আমার বেতন ৫৭০ ইউরো। কিন্তু এখানে আসার পর দেখি বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই এখন চিন্তা করছি গেইম মেরে প্রথমে রোমানিয়া যাব এবং রোমানিয়ার মধ্য দিয়ে হাঙ্গেরির সীমানা পাড়ি দিয়ে চেষ্টা করব ইতালি কিংবা ফ্রান্সের দিকে চলে যেতে।
সাইপ্রাস প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মাহফুজুল হক চৌধুরী বলেন, সাইপ্রাসের ভিসা কিংবা বৈধ রেসিডেন্ট পারমিট থাকলে যে কেউ সহজে রোমানিয়া, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, সার্বিয়া কিংবা মেসিডোনিয়াতে যাতায়াত করতে পারবেন।
তবে অতীতের ইতিহাসে যারা সাইপ্রাস থেকে এ সকল দেশে যাতায়াত করেছেন বিশেষত দক্ষিণ এশিয়ার অনেকে পরবর্তীতে আর সাইপ্রাসে ফিরে আসেননি। এজন্য বর্তমানে লারনাকার এয়ারপোর্ট ইমিগ্রেশন সাইপ্রাস থেকে দক্ষিণ এশিয়ার কাউকে সহজে এসব দেশে ফ্লাই করার অনুমতি দিচ্ছে না।
মাহফুজ আরও যোগ করেন, অতীতে সার্বিয়ার হরগোশ অঞ্চলের মধ্য দিয়ে সাইপ্রাসে আসা অনেক বাংলাদেশি হাঙ্গেরিতে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছিলেন। সাইপ্রাসের ভাষা গ্রিক, তাই হাঙ্গেরির পুলিশ সাইপ্রাসের রেসিডেন্ট পারমিটকে গ্রিসের রেসিডেন্ট পারমিট মনে করে অনেককে হাঙ্গেরিতে প্রবেশের অনুমোদন দিয়েছে তবে বর্তমানে সাইপ্রাসের রেসিডেন্ট পারমিট দিয়ে কেউই আর এভাবে হাঙ্গেরিতে প্রবেশ করতে পারছেন না।
তাই বাধ্য হয়ে অনেকে রোমানিয়া কিংবা বুলগেরিয়া যাচ্ছেন এবং সেখানকার কোনও নাগরিকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ বিবাহের মাধ্যমে সেনজেনভুক্ত কোনও দেশে প্রবেশ করার চেষ্টা করছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এ সকল বিয়ের কাগজ সম্পূর্ণভাবে ফেইক হয়ে থাকে, ফলে রোমানিয়া কিংবা সার্বিয়া থেকে হাঙ্গেরিতে প্রবেশের সময় অনেকে সেখানকার পুলিশের হাতে আটক হচ্ছেন।
কাউকে আবার সার্বিয়া কিংবা রোমানিয়াতে ডিপোর্ট করা হচ্ছে। এভাবে দেশ দুইটিতে অনেক বাংলাদেশি আটকা পড়েছেন। দালালদের মিথ্যা প্রলোভনের ফাঁদে পা দিয়ে অনেকে এভাবে ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে সেনজেনের যাওয়ার পথ বেছে নিচ্ছেন। কেউ কেউ আবার সর্বশান্ত হয়ে সার্বিয়া থেকে বাংলাদেশে ফেরত আসছেন।
লন্ডন ১৯৭১ এর প্রতিষ্ঠাতা ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞ উজ্জ্বল দাশ বলেন, এভাবে অ;বৈ;ধ উপায়ে বাংলাদেশ থেকে যতে বেশি মানুষ বিদেশে পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করবেন, বৈধ উপায়ে বিদেশে আমাদের সম্ভাবনা তত সঙ্কুচিত হবে। এ ধরনের অনিয়মিত অভিবাসনের ক্ষেত্রে জীবনের যে রকম ঝুঁকি থাকে, ঠিক তেমনি অনেকে সব সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। বিদেশেও আমাদের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাবের সৃষ্টি হয়।
নিউজিল্যান্ডের বৃহত্তম অকল্যান্ড শহরে নতুন করে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। আজ সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাজ্যে পাওয়া করোনার নতুন সংক্রমণ অকল্যান্ডে দেখা দেয়ায় সরকার দেশটির সরকার এই ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে, অকল্যান্ডে বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ মানুষ বসবাস করে। গতকাল থেকে সেখানে তিনদিনের লকডাউন থাকবে বলে জানানো হয়েছে। সম্প্রতি ওই শহরে তিনজনের দেহে করোনার নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
মহামারি করোনা ভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরও ১১ জন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮ হাজার ২৮৫ জনে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও ৪৪৬ জনের শরীরে। এ নিয়ে দেশে মোট করোনা শনাক্ত দাঁড়াল ৫ লাখ ৪১ হাজার ৩৮ জন।
সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে করোনাভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।সংস্থার অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এদিন সুস্থ হয়েছেন আরও ৬৪১ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৮৭০ জন।
এর আগে রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দেশে আরও ৩২৬ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। এছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে মারা যান ৮ জন।এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল পর্যন্ত বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১০ কোটি ৯৩ লাখ ৮৬ হাজার ২২৮ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২৪ লাখ ১১ হাজার ৪৩৬ জনের। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮ কোটি ১৪ লাখ ৬৯ হাজার ৭২৮ জন।
করোনায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। তালিকায় শীর্ষে থাকা দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন দুই কোটি ৮২ লাখ ৬১ হাজার ৪৭০ জন। মৃত্যু হয়েছে চার লাখ ৯৭ হাজার ১৭৪ জনের।আক্রান্তে দ্বিতীয় ও মৃত্যুতে তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে এখন পর্যন্ত সংক্রমিত হয়েছেন এক কোটি ৯ লাখ ১৬ হাজার ১৭২ জন এবং মারা গেছেন এক লাখ ৫৫ হাজার ৭৬৪ জন।আক্রান্তে তৃতীয় এবং মৃত্যুতে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে এখন পর্যন্ত করোনায় ৯৮ লাখ ৩৪ হাজার ৫১৩ জন সংক্রমিত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৩৯ হাজার ২৯৪ জনের।আক্রান্তের দিক থেকে রাশিয়া চতুর্থ স্থানে রয়েছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪০ লাখ ৭১ হাজার ৮৮৩ জন। ভাইরাসটিতে মারা গেছে ৮০ হাজার ১২৬ জন।আক্রান্ত ও মৃত্যুর হিসাবে যুক্তরাজ্য বিশ্বে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ৪০ লাখ ৩৮ হাজার ৭৮ জন। এর মধ্যে মারা গেছে এক লাখ ১৭ হাজার ১৬৬ জন। এদিকে আক্রান্তের তালিকায় ফ্রান্স ষষ্ঠ, স্পেন সপ্তম, ইতালি অষ্টম, তুরস্ক নবম এবং জার্মানি দশম স্থানে আছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের অবস্থান ৩২তম।গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২১৮টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে কোভিড-১৯।১৫ ফেব্রুয়ারি (সোমবার)-এর আপডেট
বাংলাদেশি গৃহকর্মী আবিরন বেগম হত্যায় সৌদি আরবে একজনের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রিয়াদের ক্রিমিনাল কোর্ট এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সৌদি গৃহকর্ত্রীর মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি গৃহকর্তার কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার রিয়াল জরিমানা করা হয়েছে।
বাংলাদেশি গৃহকর্মীকে হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান আসামি ওই গৃহকর্ত্রীর নাম আয়েশা আল জিজানী। সুনির্দিষ্টভাবে ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করার কারণে তার বিরুদ্ধে রায় দেওয়া হয়।আদালত রায়ে গৃহকর্তা বাসেম সালেমের বিরুদ্ধে আলামত ধ্বংসের অভিযোগ, আবিরন বেগমকে নিজ বাসার বাইরে বিভিন্ন জায়গায় কাজে পাঠানো ও চিকিৎসার ব্যবস্থা না করায় পৃথক পৃথক অভিযোগে মোট ৩ বছর ২ মাস কারাদণ্ডের আদেশ দেন ও ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানা করেন।
আদালত অন্য আসামি সৌদি দম্পতির কিশোর পুত্র ওয়ালিদ বাসেম সালেমের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা করার প্রমাণ পাননি বলে জানান। তবে আবিরন বেগমকে বিভিন্নভাবে অসহযোগিতা করায় তাকে সাত মাসের কিশোর সংশোধনাগারে থাকার আদেশ দেওয়া হয়। রায়ের বিরুদ্ধে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ রয়েছে বলে আদালত জানান।এর আগে আবিরনের মৃত্যুতে আদালত দুঃখ প্রকাশ করেন। হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে সৌদি শরিয়া আইন অনুযায়ী যথাযথভাবে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হবে বলেও আদালত উল্লেখ করেছেন।উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৪ মার্চ রিয়াদের আজিজিয়ায় আবিরন বেগম সৌদি গৃহকর্ত্রীর নির্যাতনে মৃত্যুবরণ করেন যা পরবর্তীতে হত্যাকাণ্ড বলে হাসপাতালের ফরেনসিক রিপোর্টে জানা যায়।রিয়াদের ক্রিমিনাল কোর্টের ৬ নম্বর আদালতে আবিরন বেগমের মামলা পরিচালনার জন্য রোববার দূতাবাসের শ্রম উইংয়ের প্রথম সচিব মো. সফিকুল ইসলাম ও আইন সহায়তাকারী সোহেল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।উল্লেখ্য খুলনার আবিরন বেগম সরকারিভাবে গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে সৌদি আরবের রিয়াদে গিয়েছিলেন ২০১৭ সালে। দুই বছর তিন মাস পরে গত বছর আবিরন লাশ হয়ে দেশে ফেরেন। লাশের সঙ্গে থাকা আবিরনের মৃত্যুসনদে মৃত্যুর কারণের জায়গায় লেখা ছিল- মার্ডার (হত্যা)।
রোমস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস গত ১৩ ফেব্রুয়ারি শনিবার এবং গতকাল ১৪ ফেব্রুয়ারি রবিবার ছুটির দুইদিনে সাপ্তাহিক কর্মদিবসের বাইরেও বিশেষ ব্যবস্থাপনায় পাসপোর্ট বিতরণ করেছে। প্রায় সাত শতাধিক সেবা-প্রার্থী এই দুই দিনে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছেন। যারা এখনো পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারেননি তাঁদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, সেবা-প্রত্যাশীদের সুবিধার্থে সাপ্তাহিক কর্মদিবসের বাইরেও বিশেষ ব্যবস্থাপনায় নেয়া দূতাবাসের এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।