ক্যাটাগরি Uncategorized

ঈদ, বেকার ও লিবিয়ার রেডক্রস ক্যাম্পে থাকা তরুণেরা

পৃথিবীতে যত দুঃখী মানুষ আছে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুঃখী হলো বেকারেরা। তাঁরা শিক্ষাজীবন পার করে এসেছেন। অথচ কর্মজীবনে ঢুকতে পারছেন না। শিক্ষার্থী থাকতে তাঁরা বাবার হোটেলে খেতেন। শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার পর তা আর সম্ভব নয়।
বাংলাদেশে এমন কম মা-বাবা আছেন, যাঁরা লেখাপড়া শেষ হওয়ার পরও সন্তানের খরচ জোগাতে পারেন। করোনার আগে বেকার নামক ট্রানজিট ক্যাম্পের বাসিন্দারা টিউশনি করে, টুকটাক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। চাকরির জন্য একটার পর একটা ইন্টারভিউ দিতেন। বাড়িতে মা-বাবাকে জানিয়ে দিতেন, কষ্টের দিন আর থাকবে না। তিন মাস, ছয় মাস পর একটা কিছু হয়ে যাবে।

করোনাকালে সেই সুযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হল বন্ধ। মেসের ভাড়া বাকি পড়ায় অনেক বাসিন্দা বাড়ি চলে গেছেন। তারপরও যাঁরা মাটি কামড়ে ছিলেন, তাঁদের পুঁজিপাট্টাও শেষ। কেউ কেউ ধারকর্জ করে, বন্ধুদের মেসে থেকে চেষ্টা-তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু চাকরির বাজার একেবারেই ফকফকে। সরকারি দপ্তরে দু-চারটি পদে যদিও-বা লোক নেয়, মামার বা টাকার জোর না থাকলে কাজ হবে না। অনেক চাকরিপ্রার্থী ইন্টারভিউ দিয়ে এসে বলেন, ইন্টারভিউ তো ভালো হয়েছে। কিন্তু চাকরি হবে না। তাঁরা কাকে নেবেন, আগেই ঠিক করে রেখেছেন। ইন্টারভিউ হলো নিয়মরক্ষা। আগে চাকরিদাতা মামারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত ছিলেন। এ দলের মামাকে দিয়ে না হলে ও দলের মামার কাছে যাওয়া যেত। এখন সব মামা এক দলের। সব জোরও এক দলের।

করোনা সব শ্রেণি-পেশার মানুষকেই বিপদে ফেলেছে। সবার আয় কমে গেছে। তবে বেশি বিপদে ফেলেছে বেকারদের। দেশে প্রতিবছর ২২ লাখ তরুণ কর্মবাজারে প্রবেশ করেন। সরকারি-বেসরকারি মিলে কাজের সুযোগ আছে খুব বেশি হলে ছয় থেকে সাত লাখের। বাকিরা কোথায় যাবেন? যাঁরা লেখাপড়ার তেমন তেমন পাননি, তাঁদের কেউ গ্রাম থেকে শহরে এসে রিকশা চালান, কেউ বড়লোকের প্রাসাদ বানানো কিংবা সেই প্রাসাদ পাহারা দেওয়ার কাজে নিয়োজিত হন, পুলিশের লাথি-গুঁতো খেয়ে বখরা দিয়ে ফুটপাতে হকারি করেন। কিন্তু কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি যাঁদের আছে, তাঁরা তো এসব কাজ করতে পারেন না। এ কারণে হয় তাঁরা আদম ব্যাপারীদের খপ্পরে পড়ে বিদেশে গিয়ে সমুদ্রে ডুবে মরেন কিংবা রেডক্রসের ক্যাম্পে ঠাঁই নেন। কারও কারও ঠিকানা হয় বিদেশের কারাগার। আর যাঁরা দেশে থাকেন, তাঁদের একাংশ সরকারি দলে ভিড়ে গিয়ে ফাও কামিয়ে নেন। নেতা বা উপাচার্যের বদৌলতে তৃতীয় শ্রেণির একটি চাকরি পেয়ে আহ্লাদিত হন।

কিন্তু এর বাইরে লাখ লাখ তরুণ বেকারই থেকে যান। ২০১৪ সালে ইকোনমিস্ট ইনটেলিজেন্স ইউনিটের হিসাবে বাংলাদেশ ছিল সর্বাধিক শিক্ষিত বেকারদের দেশ। করোনাকালে দেড় বছর প্রায় সব নিয়োগ বন্ধ থাকার পর বেকার আরও বেড়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার আগে ঘরে ঘরে তরুণদের চাকরি দেওয়ার কথা বলেছিল। এখন ঘরে ঘরে বেকার। অর্ধবেকার, ছদ্মবেকার।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা দক্ষ মানবসম্পদ করে না; স্থায়ী বেকার তৈরি করে। করপোরেট হাউস, আইটি প্রতিষ্ঠান, এমনকি হাসপাতালের মতো সেবাপ্রতিষ্ঠানেও যেসব দক্ষ কর্মী দরকার, আমাদের শিক্ষা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তার জোগান দিতে পারে না। এ কারণে দেশের শিক্ষিত যুবকেরা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ান, আর অনেক প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নিয়ে আসে তাদের প্রয়োজনে। আমাদের রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষানীতি—সব ক্ষেত্রে উল্টো নীতি। আমরা মুখে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের কথা বলি; কাজ করি ঠিক তার উল্টো।

এখনো সরকারি চাকরির প্রধান আকর্ষণ বিসিএস বা বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস। কিন্তু বিসিএসে প্রতিবছর ক্যাডার, নন-ক্যাডার মিলে ছয় হাজার লোক নেওয়া হয়। পরীক্ষা দেন লক্ষাধিক শিক্ষার্থী। এক বছর ধরে সেই বিসিএস পরীক্ষাও বন্ধ। পরীক্ষা হলেও ফল প্রকাশ করা হচ্ছে না। ফল প্রকাশ করা হলেও নিয়োগ আটকে আছে। ৪১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হয়েছিল চার মাস আগে। করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় ফলাফল আটকে আছে। পিএসসি বলেছে, ঈদের পর বিধিনিষেধ শিথিল হলে ফলাফল প্রকাশ করা হবে। প্রিলিমিনারির পর লিখিত পরীক্ষা। লিখিত পরীক্ষার পর চূড়ান্ত মৌখিক পরীক্ষা। স্বাভাবিক সময়েই ১৫ থেকে ১৮ মাস লেগে যেত। করোনাকাল কবে পরীক্ষা শুরু ও শেষ হবে কেউ বলতে পারছেন না। প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী, যথাসময়ে ৪১তম বিসিএসের ফল প্রকাশ না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন প্রার্থীরা। তাঁরা জানান, এই চাকরির পরীক্ষার ফল সঠিক সময়ে প্রকাশ না হওয়ায় তাঁরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। ফল প্রকাশের পর তাঁরা জানতে পারতেন, লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি কীভাবে নেবেন। সামনে সেই লক্ষ্য না থাকায় লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিতে পারছেন না।

সরকার বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জন্য প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। কিন্তু বেকারদের জন্য কোনো প্রণোদনা নেই। বেকারেরাও যে এ দেশের নাগরিক, সে কথা হয়তো সরকারের নীতিনির্ধারকেরা ভুলেই গেছেন।

এত সব হতাশার মধ্যে শিক্ষক পদপ্রার্থীদের জন্য একটি সুখবর আছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অর্ধলক্ষাধিক শিক্ষক পদে নিবন্ধিত ব্যক্তিদের নিয়োগে সুপারিশ করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। গত শনিবার থেকে আইসিটি শিক্ষক পদে নির্বাচিত ১৫তম নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের সুপারিশ করা হয়েছে। এতে মোট ৫১ হাজার ৭৬১টি পদের বিপরীতে প্রার্থীদের সুপারিশ করা হয়েছে।

মোবাইলে এসএমএস পাওয়ার পাশাপাশি এনটিআরসিএর ওয়েবসাইটেও ফল পাওয়া যাবে। প্রার্থীরা নির্ধারিত লিংকে প্রবেশ করে (http://103.230.104.210:8088/ntrca/c3/app/) ফলাফল দেখতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীদের লিংকে প্রবেশ করে e-Results (Public Circular: 2021-03-30) বাটনে ক্লিক করতে হবে। সেখানে e-Results for Applicant View বাটনে ক্লিক করে নিবন্ধন ব্যাচের নম্বর ও রোল নম্বর বসিয়ে Find বাটন ক্লিক করে সুপারিশ পেয়েছেন কি না, তা দেখতে পারবেন।

সরকার বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জন্য প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। কিন্তু বেকারদের জন্য কোনো প্রণোদনা নেই। বেকারেরাও যে এ দেশের নাগরিক, সে কথা হয়তো সরকারের নীতিনির্ধারকেরা ভুলেই গেছেন। বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছর। কিন্তু করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় কোনো পরীক্ষা হতে পারেনি। এ কারণে তাঁরা দেড় থেকে দুই বছর পিছিয়ে গেছেন। তাই চাকরির বয়সসীমা বাড়ানোর যে দাবি উঠেছে, তা অত্যন্ত যৌক্তিক বলেই মনে করি। আগে থেকে তরুণদের একাংশ চাকরির বয়সসীমা ৩৫ বছর করার দাবিতে আন্দোলন করে এসেছিলেন। এই তরুণেরা স্পিকার-মন্ত্রীদের কাছে ধরনা দিয়েছেন। আদালতে রিট করেছেন। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। সরকার তখন বলেছিল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেশনজট কমেছে। এ কারণে বয়সসীমা বাড়ানোর প্রয়োজন নেই। আসলেই কি সেশনজট কমেছে? কমেনি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলোয় গড়ে দুই বছর সেশনজট লেগে আছে। কোনো বিষয়ে আরও বেশি।

ঈদ মানে খুশি। করোনার সংক্রমণের মধ্যেও সবাই চেষ্টা করবেন নিজ নিজ সামর্থ্যের মধ্যে পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দ ভাগ করে নিতে। কিন্তু বাংলাদেশে যে লাখ লাখ বেকার আছে—যাঁরা বেকারত্বের কারণে নিজের পরিবার-পরিজন থেকেও পালিয়ে থাকেন, হররোজ রোজা থাকেন—তাঁদের জীবনে এ ঈদ কোনো আনন্দ নিয়ে আসবে না। আনন্দ নিয়ে আসবে না, যাঁরা ভাগ্যের সন্ধানে গিয়ে লিবিয়ায় রেডক্রসের আশ্রয়শিবিরে আছেন।

রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এসব দুঃখী মানুষকে সহায়তা তো দূরের কথা, একটু সহানুভূতি প্রকাশ করতেও দেখা যায়নি। কেননা, বেকারেরা তো মানুষ নন, কেবলই সংখ্যা।

ব্যাংক বন্ধের মধ্যেও প্রবাসী আয় আসছে বিকাশে

ঈদ উপলক্ষে টানা পাঁচ দিন বন্ধ দেশের ব্যাংকগুলো। এই সময়ে ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী আয় এলেও গ্রাহকেরা তুলতে পারছেন না। আপনি দেশের বাইরে থাকেন। ভাবছেন, এখন জরুরি টাকা দেশে পাঠাবেন। আপনি যে দেশে থাকেন, সেখানে তো সব খোলা।

এই বন্ধেও বিকাশের হিসাবে আপনি দেশে টাকা পাঠাতে পারেন। বিকাশের মাধ্যমে আয় এলে গ্রাহকেরা ঈদের বন্ধেও তা তুলতে পারছেন। কারণ, খোলা রয়েছে অনেক এজেন্টের দোকান। এ ছাড়া কেনাকাটা, বিল প্রদান, মোবাইল রিচার্জসহ বিভিন্ন লেনদেনে ব্যবহার করতে পারছেন বিকাশ হিসাবে আসা প্রবাসী আয়ও।

ঈদের বন্ধে এই সুবিধা প্রবাসী ও তাঁদের স্বজনদের স্বস্তি দিয়েছে। কারণ, টাকা পাঠানো ও গ্রহণের জন্য ব্যাংক, এক্সচেঞ্জ হাউস বা অন্য কোথাও যেতে হচ্ছে না। আবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হচ্ছে ২ শতাংশ প্রণোদনাও।

করোনাভাইরাসের কালে ঈদের বন্ধে এই সুবিধা প্রবাসী ও তাঁদের স্বজনদের স্বস্তি দিয়েছে। কারণ, টাকা পাঠানো ও গ্রহণের জন্য ব্যাংক, এক্সচেঞ্জ হাউস বা অন্য কোথাও যেতে হচ্ছে না। আবার বিকাশ হিসাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হচ্ছে সরকারঘোষিত ২ শতাংশ আর্থিক প্রণোদনাও।

বিকাশের যোগাযোগ বিভাগের প্রধান শামসুদ্দিন হায়দার প্রথম আলোকে বলেন, ব্যাংক বন্ধ থাকলেও বিকাশের মাধ্যমে আয় আসছে। কারণ, বিকাশের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা প্রবাসী আয় আসার সুযোগ রয়েছে। আয় আসার পুরো প্রক্রিয়াটা স্বয়ংক্রিয়। ব্যাংক বন্ধের এই সময়ে প্রবাসীরা তাঁদের আয় বিকাশের হিসাবে পাঠাতে পারেন।

বিকাশ কর্তৃপক্ষ জানায়, বিকাশের হিসাবে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় আসছে সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, কাতার, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও যুক্তরাজ্য থেকে। আর বিশ্বের ৯৩টি দেশ থেকে ৫০টির বেশি অর্থ স্থানান্তর প্রতিষ্ঠান থেকে বিকাশ হিসাবে টাকা পাঠানো যাচ্ছে।

বিকাশ কর্তৃপক্ষ জানায়, বিকাশের হিসাবে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় আসছে সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, কাতার, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও যুক্তরাজ্য থেকে। আর বিশ্বের ৯৩টি দেশ থেকে ৫০টির বেশি অর্থ স্থানান্তর প্রতিষ্ঠান থেকে বিকাশ হিসাবে টাকা পাঠানো যাচ্ছে। এগুলোর মধ্যে অনেক দেশে থাকা প্রবাসীরা নিজেই সেই দেশে ব্যবহৃত ওয়ালেট ও অনলাইন হিসাব থেকে দেশে টাকা পাঠাতে পারছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার হানপাস ও জিমানির মতো ওয়ালেটভিত্তিক সেবার মাধ্যমে প্রবাসীরা মোবাইল ওয়ালেট থেকে সহজেই দেশে স্বজনদের বিকাশ হিসাবে টাকা পাঠাতে পারছেন।

আবার ওয়ার্ল্ড রেমিট, ট্রান্সফার ওয়াইজ, রিয়া, গালফ এক্সচেঞ্জ, বাহরাইন ফিন্যান্সিং কোম্পানি (বিএফসি), ব্র্যাক সাজান, সিবিএল মানি ট্রান্সফার, অগ্রণী এক্সচেঞ্জ, এনবিএল এক্সচেঞ্জের মতো অর্থ স্থানান্তর প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে সহজে বিকাশ হিসাবে টাকা পাঠানো যায়। দেশের নয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে এই অর্থ লেনদেন বৈদেশিক মুদ্রায় নিষ্পত্তি হচ্ছে।

বিকাশের মাধ্যমে দেশে প্রবাসী আয় বিতরণ শুরু হয় ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে। ২০১৮ সালে বিকাশের মাধ্যমে আসে ১৩৪ কোটি টাকা। আর ২০২০ সালে আসে ১ হাজার ১৫১ কোটি টাকার বেশি প্রবাসী আয়।

বিকাশে আসা প্রবাসী আয়ের অর্থ দেশের ২ লাখ ৭০ হাজার এজেন্টের কাছ থেকে তোলা যাচ্ছে। আবার ব্র্যাক, বেসিক, ফার্স্ট সিকিউরিটি, আইএফআইসি, যমুনা, মিডল্যান্ড, শাহজালাল ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের সব এটিএম থেকেও বিকাশের টাকা তোলা যাচ্ছে।

বিকাশের মাধ্যমে দেশে প্রবাসী আয় বিতরণ শুরু হয় ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে। ২০১৮ সালে বিকাশের মাধ্যমে আসে ১৩৪ কোটি টাকা, ২০১৯ সালে যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৭১ কোটি টাকার বেশি। আর ২০২০ সালে আসে ১ হাজার ১৫১ কোটি টাকার বেশি প্রবাসী আয়।

১৫ দিনে প্রবাসী আয় এসেছে ১১ হাজার কোটি টাকা

পবিত্র ঈদুল আজহার আগে প্রবাসীরা যে আয় পাঠিয়েছেন, তা অব্যাহত থাকলে প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড হতে পারে। ঈদের মাসের প্রথম ১৫ দিনে ১২৬ কোটি ৪১ লাখ মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ ১০ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা। তবে ১৫ জুলাইয়ের পরে কী পরিমাণ আয় এসেছে, তার হিসাব পাওয়া যায়নি।

চলতি জুলাই মাসের প্রথম ১৫ দিনে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছে ৩৮ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে ১৬ কোটি ৯২ লাখ ডলার, অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে ১৩ কোটি ৭৬ লাখ ডলার, সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে ৭ কোটি ৬৪ লাখ ডলার।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, প্রবাসে অবস্থানকারী বাংলাদেশিরা অনেকেই দেশে কোরবানি দিয়ে থাকেন। আবার ঈদের আগে পরিবারের সদস্যদের কাছেও অন্য সময়ের চেয়ে বেশি টাকা পাঠান প্রবাসীরা। আর করোনার কারণে যোগাযোগ সীমিত হয়ে পড়ায় এখন প্রবাসীদের পাঠানো পুরো অর্থ বৈধ পথে দেশে আসছে। এ কারণে ঈদের আগে আয় আসা বেড়ে গেছে।

প্রবাসী আয়সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি জুলাই মাসের প্রথম ১৫ দিনে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছে ৩৮ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে ১৬ কোটি ৯২ লাখ ডলার, অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে ১৩ কোটি ৭৬ লাখ ডলার, সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে ৭ কোটি ৬৪ লাখ ডলার।

এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা এখন ইউনিয়ন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। তাই প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ পেতে স্বজনদের ব্যাংক শাখায় যেতে হয় না। বাড়ির পাশের এজেন্টদের কাছ থেকে এই অর্থ সংগ্রহ করা যায়।

আবুল কাশেম মো. শিরিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডাচ্–বাংলা ব্যাংক

বৈধ চ্যানলে আয় বাড়ার কারণ হিসেবে ব্যাংকাররা কয়েকটি কারণের কথা বলছেন। তার মধ্যে রয়েছে সরকারের ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা। পাশাপাশি অনেক ব্যাংক নিজে ১ শতাংশ অতিরিক্ত প্রণোদনা দিচ্ছে। আর ব্যাংকগুলো উপশাখা ও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রামেগঞ্জে পৌঁছে যাওয়ায় স্বজনেরা সহজে বাড়ির পাশ থেকে আয় তুলতে পারছেন। এ কারণে বৈধ পথে আয় আসা বেড়েছে।

জানতে চাইলে ডাচ্–বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম মো. শিরিন প্রথম আলোকে বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা এখন ইউনিয়ন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। তাই প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ পেতে স্বজনদের ব্যাংক শাখায় যেতে হয় না। বাড়ির পাশের এজেন্টদের কাছ থেকে এই অর্থ সংগ্রহ করা যায়। এ জন্য ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংকের মাধ্যেম প্রবাসী আয় আসা বেড়েছে। ব্যাংকের শাখার চেয়ে এখন এজেন্টদের মাধ্যমে বেশি আয় বিতরণ হচ্ছে।

গত এক অর্থবছরে প্রবাসীরা যে অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন, সেই অর্থে দেশে সাতটি পদ্মা সেতু বানানো সম্ভব। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, পদ্মা সেতু তৈরিতে ব্যয় হবে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা।

বিদায়ী ২০২০–২১ অর্থবছরে দেশে সব মিলিয়ে প্রবাসী আয় এসেছে ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ধরে)। এই আয় ২০১৯-২০ অর্থবছরের ১ হাজার ৮০৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের চেয়ে ৩৬ শতাংশ বেশি এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরের তুলনায় দ্বিগুণ। গত এক অর্থবছরে প্রবাসীরা যে অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন, সেই অর্থে দেশে সাতটি পদ্মা সেতু বানানো সম্ভব। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, পদ্মা সেতু তৈরিতে ব্যয় হবে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা।

২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকার দেশে প্রবাসী আয় পাঠানোর বিপরীতে ২ শতাংশ প্রণোদনা ঘোষণা করে। এরপর থেকেই বৈধ পথে প্রবাসী আয় আসা বাড়তে শুরু করে। এদিকে করোনার মধ্যে আমেরিকা থেকে আয় আসা হঠাৎ বেড়ে গেছে। আর কমেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। ২০১৮-১৯ সাল পর্যন্ত আয় পাঠানো শীর্ষ দেশের মধ্যে সৌদি আরবের পর ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। ২০১৯-২০ সাল থেকে সৌদি আরবের পরই আয় বেশি আসছে আমেরিকা থেকে।

আবুধাবিতে বাংলাদেশি যুবকের লাশ উদ্ধার

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে একদিন নিখোঁজ থাকার পর এক বাংলাদেশি যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার উদ্ধারকৃত ওই মৃতদেহটি বাংলাদেশি যুবক মোহাম্মদ জিয়া উদ্দীন জিকুর (৩৩) বলে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি  থানার ধর্মপুর গ্রামের অলি মোহাম্মদ  বাড়ির  মৃত মোহাম্মদ শুক্কুর এর একমাত্র ছেলে।

নিহত জিয়ার প্রতিবেশী নুরুল আবছার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সোমবার রাত থেকে জিকু তার আবুধাবির ইলেক্ট্রা স্ট্রিটের বাসা থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পরে মঙ্গলবার স্থানীয় পুলিশ তার মৃতদেহ উদ্ধার করে আবুধাবির কেন্দ্রীয় শবাগারে রেখেছে।

আবুধাবির শবাগার সূত্র জানিয়েছে, তাদের রেকর্ডে মৃত্যুটি একটি আত্মহত্যা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সেলর আবদুল আলিম মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি জিকুর মৃতদেহ উদ্ধারের খবর শুনে এ ঘটনার পেছনের কারণ জানতে ইতোমধ্যে স্থানীয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথাবার্তা শুরু করেছেন।

করোনাভাইরাস:সংকটে-উৎকণ্ঠায় কাটছে আমিরাত প্রবাসীদের ঈদের ছুটি

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রিত বিমান যোগাযোগের কারণে নানামুখী অনিশ্চয়তা মাথায় নিয়ে কোরবানি ঈদের ছুটি কাটাচ্ছেন সংযুক্ত আমিরাত থেকে দেশে আসা এবং সেখানে অবস্থানকারী প্রবাসীরা। 

আমিরাত সরকার দেশটিতে বসবাসকারী প্রায় ৭৪ শতাংশ লোককে এরইমধ্যে করোনাভাইরাসের টিকার আওতায় এনেছে। ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপালসহ ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ বাড়তে থাকা দেশগুলো থেকে বিমানে যাওয়া সাধারণ যাত্রীদের আমিরাতে প্রবেশের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দেশটির সরকার।

আবুধাবিতে বাংলাদেশি ট্রাভেল এজেন্সি ডেজার্ট  কিং ট্রাভেলস এর ব্যবস্থাপক মঈন উদ্দীন বলেন, “অন্যান্য সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে পরিবারের সঙ্গে কোরবানি ঈদ উদযাপন করতে দুই লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি দেশে ফেরেন। কিন্তু এ বছর মাত্র ৫০ হাজার বাংলাদেশি জুন-জুলাই মাসজুড়ে দেশে ফিরেছেন। যারা দেশে ফিরেছেন তাদের আসা এখন অনিশ্চিত হয়ে গেছে।”

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে  বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স অন্যান্যদের তুলনায় বেশি ভাড়া রাখছে বলেও জানান মঈন উদ্দীন।

তিনি বলেন, “এ পরিস্থিতিতে অন্যান্য দেশ যখন বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে, তখন বাংলাদেশে ফেরার টিকেটের দাম অন্যান্য এয়ারলাইন্সের চেয়ে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান আরও বেশি নিচ্ছে। ফলে অনেক প্রবাসী দেশে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেও টিকেটের চড়ামূল্যের কারণে যেতে পারছেন না।”  

তলিয়ে গেল সাবওয়ে স্টেশন-ঘরবাড়ি, ১২ জনের প্রাণহানি

চীনে প্রবল বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় তলিয়ে গেছে সাবওয়ে স্টেশন। ডুবে গেছে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি। এতে অন্তত ১২ জনের প্রাণহানি হয়েছে বলে বুধবার বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। 

চীনের হেনান প্রদেশে বহু যুগের মধ্যে একদিনে এত বৃষ্টি হয়নি বলে দেশটির আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকা থেকে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার সকালে হেনান প্রদেশে ক্যাটাগরি তিন থেকে ক্যাটাগরি দুইয়ের বিপর্যয় সংকেত জারি হয়েছে।

বন্যার কারণে হেনান প্রদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে । সাবওয়েগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। 

সেখানকার একটি সাবওয়ে ট্রেনে কোমর উচ্চতার পানিতে আটকা পড়েছে যাত্রীরা। তাদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।মঙ্গলবার মধ্যাঞ্চলীয় হেনান প্রদেশের ঝেংঝু যাওয়ার পথে বন্যার পানিতে যাত্রীসহ ট্রেনটি আটকা পড়েছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে আটকে পড়া যাত্রীদের ছবি ও ভিডিও। যাত্রীদেরই কেউ একজন নিজেদের করুণ অবস্থার বিষয়টি ভিডিও করে টুইটারে আপলোড করে। এরপর তা ভাইরাল হয়ে যায়।

ভিডিওতে দেখা গেছে, ট্রেনের সিটে যাত্রীরা উঠে দাঁড়িয়ে চেষ্টা করছেন পানির ওপরে থাকার জন্য। ঘোলা পানি দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের কোমর সমান হয়ে গেছে। তারা ভয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে। পানি ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আবহাওয়া দফতরের মতে মঙ্গলবার যে বেগে বৃষ্টি হয়েছে, তা স্বাভাবিক নয়। প্রদেশের কোনো কোনো শহরে এক ঘণ্টায় ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে পানির নিচে তলিয়ে গেছে প্রায় পুরো প্রদেশ। প্রবল বন্যায় দুইটি বাঁধ ভাঙার খবর পাওয়া গেছে। হোয়াংহো নদীর উপরের বাঁধও ভেঙেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে বন্যার পানি আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী কাজ শুরু করেছে। বন্যায় আটকে পড়াদের এখনো উদ্ধার করা হচ্ছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বন্যা আক্রান্তদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছেন।

ঈদের নামাজে অংশ নেয়ায় ৪৮ বাংলাদেশি আটক

মালয়েশিয়ায় আইন ভঙ্গ করে ঈদের নামাজে অংশ নেয়ায় ৪৮ বাংলাদেশি আটক করেছে দেশটির পুলিশ। আটক করেছে সে দেশের স্থানীয় একজন নাগরিককেও।

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় পেনাং রাজ্যের জুরু তামান পেলাংগি মসজিদে নামাজ আদায় করতে গেলে কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্যবিধি মেনে একশ মানুষকে নামাজ আদায়ের জন্য প্রবেশের অনুমতি দেয়।

এসময় মসজিদে প্রবেশ করতে পারেননি এমন দুই শতাধিক মানুষ মসজিদের বাইরে ঈদের নামাজ আদায় করে, যাদের বেশিরভাগই বাংলাদেশি। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ঈদের নামাজ আদায়ের এ ঘটনায় সমালোচনায় পড়েছে প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

সরকারের বেঁধে দেয়া আইন অমান্য করে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে নামাজ আদায়ের এ দৃশ্যের ভিডিও স্থানীয় একজন নাগরিক সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আপলোড করার সঙ্গে সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।

এর পাশাপাশি স্থানীয় নাগরিকদের অভিযোগ, কাজের স্থানে না থেকে ওই এলাকার ২৩টি ব্লকে ৮ হাজারেরও বেশি অভিবাসী অবস্থান করছে।

দুই শতাধিক মানুষের নামাজ আদায়ের একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর রাজ্যজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে স্থানীয় প্রশাসন। সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনায় স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গের ঘটনায় রাজ্যের পুলিশ প্রধান ক্ষমা চান। এর পরেই আইন লঙ্ঘনকারীদের আটক করা হয়।

এ ঘটনায় আইন লঙ্ঘনকারীদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না উল্লেখ করে প্রয়োজনে এসব অভিবাসীদের দেশে পাঠানো হবে বলেও কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হামজা জয়নুদ্দিন।

এদিকে করোনা ঠেকাতে দেশজুড়ে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো স্থানে অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন। করা হচ্ছে আইন অমান্যকারীদের জেল-জরিমানা।

করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২০০ জনের মৃত্যু

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত দেশে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৩২৫ জনে। এছাড়া নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১১৫৭৯ জনের।   এ নিয়ে দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১১ লাখ ২৮ হাজার ৮৮৯ জনে।

আজ মঙ্গলবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৯ হাজার ৯৯৭ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ৯ লাখ ৫১  হাজার ৩৪০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৯ হাজার ৫১০ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ২৯ দশমিক ৩১ শতাংশ। 

সুত্র ঃ- বিডি প্রতিদিন/

যেভাবে ফেসবুক ভেরিফায়েড করবেন

জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভেরিফায়েড প্রোফাইল বা পেইজের কথা প্রায়ই শোনা যায়। জনপ্রিয় কোনও ব্যক্তিত্ব বা প্রতিষ্ঠানের সোশ্যাল মিডিয়ার প্রোফাইল বা পেইজের দিকে তাকালে লক্ষ্য করবেন পাশে একটা যাচাইকৃত প্রোফাইল বা নীল টিক চিহ্নযুক্ত ব্যাজ দেওয়া রয়েছে। এই যাচাইকৃত প্রোফাইল বা নীল টিক চিহ্নযুক্ত ব্যাজের মর্ম অনেকেই জানেন। অর্থাৎ প্রোফাইল বা পেইজটি ওই প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ভেরিফিকেশন পদ্ধতিতে ‘ব্লু-ব্যাজ’ স্বীকৃত।

ফেসবুক সবার জন্য উন্মুক্ত, যে কেউ ইচ্ছা করলেই তার নিজের প্রোফাইল ও পেজ তৈরি করতে পারেন। সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, তারকা হিসেবে সহজেই ফেসবুক প্রোফাইল ভেরিফায়েড করা যায়। এছাড়া নির্ধারিত ক্যাটাগরির ফেসবুক পেইজও ভেরিফায়েড করা সম্ভব। আলোচিত প্রতিষ্ঠান অথবা ব্যক্তির নামে এমন ভুয়া অ্যাকাউন্ট বা পেইজ থেকে প্রচারণা চালানো হলে ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য সেটি ক্ষতির কারণও হতে পারে। তাই নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে প্রোফাইল বা পেইজের সত্যতা নিশ্চিতকরণ ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে ফেসবুক দীর্ঘদিন ধরে এমন সুবিধা দিচ্ছে।

যেভাবে ফেসবুক ভেরিফায়েড করবেন :

* প্রথমে এই ঠিকানায় প্রবেশ করুন।

এরপর পেজ বা প্রোফাইল নির্বাচন করুন।

* প্রোফাইল হলে নির্ধারিত বক্সে প্রোফাইলে লিংক দিন।

* অফিশিয়াল আইডি কার্ডের (যেমন- জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ফোন বা ইউটিলিটি বিল ইত্যাদি) স্ক্যান কপি আপলোড করুন।

* অফিশিয়াল পেজের লিংক সাবমিট করুন।

* ‘Additional Information’ বক্সে কেন ভেরিফাই করতে চান তা উল্লেখ করুন।

* এবার Send বাটনে ক্লিক করে সাবমিট করুন।

এই ধাপগুলো অনুসরণ করার সঙ্গে সঙ্গেই যে প্রোফাইল বা পেজে ভেরিফায়েড হয়ে যাবে, এমন নয়।কিন্তু এই তথ্যগুলো দিলে অন্যান্য সাধারণ ব্যবহারকারীও পেজের মালিক বা যিনি পরিচালনা করছেন, সেই বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারবেন।

সুত্র ঃ-বিডি-প্রতিদিন/

কুয়েতে ঈদুল আদহার নামাজ ৫.১৬ মিনিটে’

ফাইল ছবি

কুয়েতে কাল পবিত্র ঈদুল আজাহা পালিত হবে। মঙ্গলবার (২০ জুলাই) সকাল ৫,১৬ মিনিটে কুয়েতের সব মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

কুয়েতের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল টুইটে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে ।

গতকাল সোমবার কুয়েতের আমীর শেখ নওয়াফ আহমদ জাবের আল সাবাহ ও ক্রাউন প্রিন্স শেখ মিশাল আহমদ জাবের আল সাবাহ এক বার্তায় পবিত্র ঈদুল আদহা উপলক্ষে নাগরিক ও বিদেশীদের ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ।

পবিত্র ঈদ আদহা উপলক্ষে কুরবানীর পশু ক্রয়ে বিভিন্ন দেশের লোকের পাশাপাশি বাংলাদেশীরাও বাজারে ভীড় করেছেন ।