করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের কারণে প্রবাসীদের দেশে না আসার অনুরোধ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
রোববার (৫ ডিসেম্বর) ঢাকার সাভার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যানেজমেন্টের নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ অনুরোধ করেন।
তিনি বলেন, আমি অনুরোধ করি, যারা বিদেশে আছেন, তাদের এই মুহূর্তে দেশে না আসা উত্তম। নিজেদের পরিবারকে নিরাপদে রাখতে হবে, দেশকেও সুরক্ষিত রাখতে হবে। কাজেই আপনারা যেখানে আছেন, সেখানেই নিরাপদে থাকুন।
ষাটোর্ধ্ব বয়সীদের বুস্টার ডোজ দেওয়া হবে জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদন দিয়েছেন। আপনারা জানেন ইতোমধ্যে অনেক দেশেই বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু করেছে। ভারতসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশেও এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আমাদের টিকার কোনো অভাব নেই। আমরা বুস্টার ডোজ দ্রুত দিতে পারব।
এই মুহূর্তে সীমান্ত বন্ধের পরিকল্পনা নেই উল্লেখ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, করোনা টেস্টের ব্যবস্থা ও কোয়ারিন্টেনের ব্যবস্থা জোরদার করেছি। আমাদের দেশ ভালো ও নিরাপদ আছে। বর্তমানে প্রতিদিন করোনা আক্রান্তে দুই থেকে তিনজনের মৃত্যুর খবর আসছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে বাংলাদেশে মৃত্যুর হার শূন্যে নেমে আসবে।
সবাইকে টিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, টিকা নেওয়া থাকলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। কেউ আক্রান্ত হলে চিকিৎসা নিলে ভালো হয়ে যাবেন। আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা এখন অনেক উন্নত।
তিনি আরও বলেন, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে আমরা বিভিন্ন কার্যালয়ে চিঠি দিয়েছি, তারা যেন করোনা মোকাবিলায় প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। দেশের বাইরে থেকে কেউ দেশে আসলে তাদেরকে কোয়ারিন্টেনের ব্যবস্থা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুত্রঃ আরটিভি ।
দক্ষিণ আফ্রিকায় শনাক্ত করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তবে এটি মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। ডব্লিউএইচ’র শীর্ষ বিজ্ঞানী সৌম্য সোয়ামীনাথন গত শুক্রবার এক সম্মেলনে বলেছেন, এখনকার পরিস্থিতি এক বছর আগের চেয়ে একেবারেই আলাদা। বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশে ওমিক্রন পাওয়া গেলেও কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। ড. সোয়ামীনাথন দক্ষিণ আফ্রিকার তথ্য বিশ্লেষণ তুলে ধরে বলেন, এই ভ্যারিয়েন্ট ‘অতি সংক্রমণশীল’। সারা বিশ্বে এ ভ্যারিয়েন্ট প্রাধান্য বিস্তার করতে পারে। তবে এসব আগে থেকে ধারণা করা কঠিন বলেও জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, সারা বিশ্বে বর্তমানে করোনার যেসব সংক্রমণ ঘটছে তার ৯৯ শতাংশের জন্য দায়ী ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের কতোটা উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত? আমাদের প্রস্তুত ও সতর্ক থাকা প্রয়োজন, তবে আতঙ্কগ্রস্ত হওয়ার কারণ নেই। কারণ আমরা এখন এক বছর আগের চেয়ে আলাদা অবস্থানে আছি। নতুন এ ভ্যারিয়েন্ট অনেক বেশি পরিবর্তিত হলেও এটি আগেরগুলোর চেয়ে বেশি সংক্রমণশীল। ভাইরাসের এ ধরনটি আগের ভ্যারিয়েন্টগুলোর থেকে দ্রুত ছড়াচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বর্তমান টিকা এ ভ্যারিয়েন্ট প্রতিরোধে কতটা কার্যকর হবে সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি। এদিকে ভ্রমণের ওপর ঢালাও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে কোনো দেশ এই ভ্যারিয়েন্টের ঢোকা শুধু বিলম্বিত করতে পারবে, কিন্তু তা একেবারে ঠেকাতে পারবে না বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। ডব্লিউএইচ‘র আপদকালীন আঞ্চলিক পরিচালক ড. বাবাতুন্ডে ওলউকুরে বলেছেন, ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের গতিপ্রকৃতি বুঝতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশাল সংখ্যক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বর্তমানে একযোগে কাজ করছে। তবে এখনও পর্যন্ত তারা এমন কোনো তথ্য পায়নি, যার জন্য এই মহামারি মোকাবিলায় এই মুহূর্তে নতুন দিক নির্দেশনার প্রয়োজন রয়েছে। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, প্রতিটি দেশ যেন তাদের নিজস্ব ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে মাস্ক পরা, দূরত্ব বজায় রাখা, হাত ধোয়া, জনসমাগম এড়িয়ে চলা, সংক্রমিতদের ট্রেস করা, আক্রান্তদের আইসোলেশনে রাখা এবং টিকাদান অব্যাহত রাখার মতো বর্তমান পদক্ষেপগুলো জোরদার করে। সূত্র : বিবিসি বাংলা।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট দেশে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ২৭ হাজার ৯৯৫ জনে।
শনিবার (৪ ডিসেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা ধরা পড়েছে ১৬৭ জনের শরীরে। এ নিয়ে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১৫ লাখ ৭৭ হাজার ২৪৬ জনে।
দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত বছরের ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই বছর সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছিল ৬৪ জনের।
ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় চলতি বছর জুন থেকে রোগীর সংখ্যা হু-হু করে বাড়তে থাকে। ২৮ জুলাই একদিনে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল।
চলতি বছরের গত ৭ জুলাই প্রথমবারের মতো দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৫ ও ১০ আগস্ট ২৬৪ জন করে মৃত্যু হয়, যা মহামারির মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু।
বেশকিছু দিন ২ শতাধিক মৃত্যু হয়। এরপর গত ১৩ আগস্ট মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ এর নিচে নামা শুরু করে। দীর্ঘদিন শতাধিক থাকার পর গত ২৮ আগস্ট মৃত্যু ১০০ এর নিচে নেমে আসে।
২০২০ সালের এপ্রিলের পর চলতি বছরের ১৯ নভেম্বর প্রথম করোনাভাইরাস মহামারিতে মৃত্যুহীন দিন পার করেছে বাংলাদেশ।
কুয়েতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুয়া সার্টিফিকেট নিয়ে চিকিৎসা পেশায় অনুশীলন করার অভিযোগে কুয়েতে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কুয়েত মিডিয়া।
একটি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে, ফারওয়ানিয়া পুলিশ আল হাসাউই এলাকায় তাদের অ্যাপার্টমেন্টে লোকেদের চিকিৎসা করার সময় বাংলাদেশি ডাক্তার এবং নার্সকে হাতেনাতে ধরেছিল, যা তারা রোগীদের ‘চিকিৎসা’ করার জন্য একটি লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিকে পরিণত করেছিল।
আল কাবাস পত্রিকার মতে, সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে তিন দিন ধরে নজরদারি করা হয়েছে।
অ্যাপার্টমেন্টে অভিযান চালিয়ে, পুলিশ সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে হাতেনাতে ধরে ফেলে এবং তাদের ফ্ল্যাটে প্রচুর পরিমাণে মাদক পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদের সময়, দুজনেই স্বীকার করেছেন যে তাদের বেশিরভাগ গ্রাহকই আবাসিক আইন লঙ্ঘনকারী (অবৈধ) এবং পুনরাবৃত্তি অপরাধী যারা হাসপাতালে যেতে পারে না।
আলহামদুলিল্লাহ, কুয়েতের করনা ( কোভিড ১৯) পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক, আমরা আশা প্রকাশ করি ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে ও কুয়েতের এই ধারা অব্যাহত থাকতে। কুয়েতের সরকার, প্রশাসন, কুয়েতি নাগরিক ও সাধারণ অভিবাসীরাও স্বাস্থ্যবিধির প্রতি আন্তরিক।
গতকাল সিভিল এভিয়েশন অফ বাংলাদেশের জারি করা সার্কুলার নিয়ে অনেক মাতামাতি হয়েছে দেখেছি,আমি বিষয়টি পরিষ্কার করি ….
সার্কুলারে উল্লেখ করা ৭ টি দেশ হচ্ছে যথাক্রমে বতসোয়ানা, এসাওয়াতিনি (সোয়াজিল্যান্ড), জিম্বাবুয়ে, সাউথ আফ্রিকা, ঘানা, লেসোথো, নামিবিয়া!
উল্লেখিত, ৭ দেশ থেকে আসা, বা শেষ ১৪ দিন আগে কারো ভ্রমন / ট্রানজিট থাকে, তাহলে উক্ত প্যাসেঞ্জার কে অবশ্যই বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারাইন্টনে থাকা লাগবে, বাধ্যতামূলক। কুয়েত বা অন্যান্য দেশের জন্য কোয়ারাইন্টন বা অন্য কোন পন্থা অবলম্বনের কথা বলা হয়নি, তবে পিসিআর আগের মতোই বাধ্যতামূলক।
আর কুয়েত? আলহামদুলিল্লাহ, এখনো না করনা অনিয়ন্ত্রিত , না ওমিক্রন! অন্যতম নিরাপদ দেশ ….
হোপফুলি, কুয়েত ওমিক্রন ঢেউ ও উতরে যাবে,কেননা গত করনার অভিজ্ঞতা ও আছে এবার, এবং কুয়েত স্বাস্থ্য বিধি মানার ব্যাপারে খুবই শক্ত!
কুয়েত পেইজ ফর বাংলাদেশী আন্তর্জাতিক ও কুয়েতের মিডিয়া নিয়মিত মনিটর করছে, কুয়েতের লোকাল মিডিয়া গত কয়েকদিন ওমিক্রন নিয়ে তৎপরতা দেখালে ও গত ২ দিন একদম সাইলেন্ট, আর হু ও স্টেটমেন্ট দিয়েছে যে, ওমিক্রন এর প্রতিক্রিয়া মৃদু।
এনডিটিভি / দ্য গার্ডিয়ান মতে, সারা বিশ্বে এখনো ওমিক্রন থেকে মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করা হয়নি।
করোনা মহামারির মধ্যেও বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর দিলো ইতালি। শ্রমিক সংকট মেটাতে কৃষি ও স্পন্সর ভিসায় নতুন করে আরও ৮০ হাজার শ্রমিক নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। ২০২২ সালের জন্য এই ভিসা চালু হবে। কৃষি, নির্মাণ, পরিবহন, হোটেল,পর্যটন ও উৎপাদনশীল খাতে কাজের সুযোগ পাবেন তারা। ইতালিপ্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বড় সুখবর!
২০২২ সালে ইতালিতে প্রবেশে সুযোগ পেতে যাচ্ছে ৮০ হাজার বিদেশি শ্রমিক। সম্প্রতি ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরে এক বিবৃতি প্রকাশ করেন। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের কথা রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ, আলজেরিয়া, আইভরিকোস্ট, মিশর, এল সালভাদর, বসনিয়া হার্জেগোভিনা, দক্ষিণ কোরিয়া, তিউনেশিয়া এবং আরও কিছু দেশ থেকে এসব শ্রমিক নেবে ইতালি সরকার। তবে কোন ক্যাটাগরিতে কত শ্রমিক নেয়া হবে তা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি। কৃষি, নির্মাণ, পরিবহন, পর্যটন ও উৎপাদনশীল খাতের জন্য স্থায়ী ও মৌসুমি কাজের ভিত্তিতে এই শ্রমিক নেবে ইতালি সরকার। এই সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশিদের জন্য বড় একটা সুযোগ হিসেবে দেখছেন প্রবাসীরা। আরও পড়ুন: ওমিক্রনে ব্যাপকহারে পাঁচের কম বয়সী শিশুরা হাসপাতালে
গতবছর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৩০ হাজারের বেশি নতুন স্পন্সরশিপ ভিসা দিয়েছিল ইতালি। কিন্তু এবছর তা বেড়ে ৮০ হাজার নেয়ার কথা রয়েছে। নতুন নিয়মে মোট কত সংখ্যক বাংলাদেশি ইতালিতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন তা আগামী সপ্তাহে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ হবার পর জানা যাবে। সুত্রঃ সময় নিউজ ।
ইউক্রেন সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ নিয়ে রাশিয়ার সাথে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার পশ্চিমা সামরিক মিত্রদের বাদানুবাদ দিনকে দিন বিপজ্জনক মোড় নিচ্ছে। আর সেই বাদানুবাদের বিস্ফোরণ দেখা গেছে বৃহস্পতিবার সুইডেনে ইউরোপীয় নিরাপত্তা বিষয়ক এক বৈঠকে।
স্টকহোমের বৈঠকে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাবরভ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের পাশে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট করে বলেছেন রাশিয়া তার ঘরের পাশে নেটো সামরিক জোটের নতুন কোনো তৎপরতা কোনোভাবেই সহ্য করবে না। মি. লাবরভ সতর্ক করেছেন, আমেরিকা এবং নেটো জোট রুশ এই বার্তা অগ্রাহ্য করলে ইউরোপে আবারো যুদ্ধ শুরু হতে পারে। তার মন্তব্য ছিল – ইউরোপকে আবারো “যুদ্ধের দুঃস্বপ্ন” দেখতে হতে পারে।
সুইডেনের বৈঠকে রাশিয়া ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে যার মূল কথা – নেটো জোটকে ইউরোপের পূর্বে নতুন কোনো বিস্তৃতির চেষ্টা বন্ধ করতে হবে। মি. ব্লিঙ্কেন রাশিয়ার সেই সেই প্রস্তাব বা দাবির ব্যাপারে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি। বরং তিনি পাল্টা সতর্ক করেছেন ইউক্রেনে যে কোনো সামরিক অভিযান চালালে রাশিয়াকে তার “ভয়াবহ পরিণতি” ভোগ করতে হবে।
২০১৪ সালে রাশিয়ার ক্রাইমিয়া দখল এবং ইউক্রেনের জাতিগত রুশ অধ্যুষিত ডনবাস অঞ্চলে সশস্ত্র বিদ্রোহকে কেন্দ্র করে গত সাত বছর ধরে রাশিয়ার সাথে পশ্চিমা নেটো জোটের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। অনেক পর্যবেক্ষক বলছেন এই টানাপড়েন দিনকে দিন বিপজ্জনক চেহারা নিচ্ছে। সুইডেনে বৃহস্পতিবারের বৈঠকটি হয়েছে ইউক্রেন সীমান্তে ৯০ হাজারেরও বেশি রুশ সৈন্য সমাবেশ নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে। জানা গেছে, বৈঠকটি বহু-দেশীয় হলেও আলাদাভাবে মুখোমুখি কথা বলেছে মি. লাবরভ এবং মি. ব্লিঙ্কেন।
মার্কিন কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের পরে জানিয়েছেন, দু পক্ষই ইউক্রেন নিয়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে একমত হয়েছে। এমনকি অদূর ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্ট পুতিন এবং প্রেসিডেন্ট বাইডেনের মধ্যে একটি শীর্ষ বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়েও কথা হয়েছে। তবে কবে তা হতে পারে তা নিয়ে কোনো ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি। তবে জুন মাসে জেনেভাতে মি পুতিন ও মি বাইডেনের মধ্যে মুখোমুখি যে বৈঠক হয়েছিল সেখানেও ইউক্রেন এবং নেটোর সম্প্রসারণ নিয়ে কথা হয়। কিন্তু তাতে যে কোনো ফল হয়নি তা রাশিয়ার নতুন এই সৈন্য সমাবেশের ঘটনায় স্পষ্ট।
রাশিয়া গত বছরগুলোতে বিভিন্নভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে ইউক্রেনে আমেরিকা বা নেটো জোটের কোনো সামরিক উপস্থিতি তারা মানবে না। সপ্তাহখানেক আগে প্রেসিডেন্ট পুতিন আবারো বলেছেন আমেরিকাকে এ ব্যাপারে নিশ্চয়তা দিতে হবে। আর বৃহস্পতিবার স্টকহোমে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মি. লাবরভ খোলাখুলি বলেন ইউক্রেন দিয়ে বিপজ্জনক কোনো পরিস্থিতি এড়ানোর কোনো সদিচ্ছা নেটো দেখাচ্ছে না। তিনি বলেন, “নেটো জোটের সামরিক অবকাঠামো রাশিয়ার সীমান্তে নিয়ে আসা হচ্ছে। রোমানিয়া এবং পোল্যান্ডে আমেরিকান ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ব্যবস্থা মোতায়েন করা হচ্ছে। আমেরিকার তৈরি মধ্যপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ইউরোপে নিয়ে আসা হচ্ছে। যার অর্থ ইউরোপে সামরিক সংঘাতের দুঃস্বপ্ন পুনরায় ফিরে আসছে।” মি. লাবরভ হুঁশিয়ার করেন আমেরিকা এবং পশ্চিমা মিত্ররা যেন ইউক্রেনসহ রাশিয়ার প্রতিবেশীদেরকে সামরিক “সংঘাতের চারণভূমি” বানিয়ে না ফেলে।
যদিও ইউক্রেন এবং তার পশ্চিমা মিত্ররা ক্রমাগত বলছে রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের পাঁয়তারা করছে, তবে বিবিসির সংবাদদাতা সারা রেইন্সফোর্ড – যিনি সম্প্রতি মস্কো থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন – বলছেন সিংহভাগ বিশ্লেষক এখনও মনে করছেন না যে, রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক কোনো অভিযান চালাবে। বরঞ্চ, বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, ক্রেমলিন স্পষ্ট একটি বার্তা দিতে চাইছে যে ইউক্রেনকে যেন কখনই নেটো জোটের সদস্য না করা হয় এবং তাদের এই ‘রেড লাইন’ ভাঙলে রাশিয়া তা প্রতিহত করতে প্রস্তুত। “পুতিনের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করছেন নেটোতে ঢোকার ব্যাপারে পশ্চিমারা ইউক্রেনের বর্তমান ক্ষমতাসীনদের আশা যোগাচ্ছে,” বিবিসিকে বলেন মস্কোতে রুশ রাজনৈতিক বিশ্লেষক তাতিয়ানা স্তানোভায়া। “নেটোর পক্ষ থেকে যেভাবে ইউক্রেনকে অস্ত্র এবং সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে তাতে মি. পুতিন প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত। লাল কাপড় দেখলে ষাঁড় যেমন ক্ষেপে যায় অনেকটা তেমন,” বলেন মিজ স্তানোভায়া। “পুতিন ভাবছেন এখনই যদি তিনি কিছু না করেন, আগামিকাল ইউক্রেনে নেটো ঘাঁটি হবে। সুতরাং এখনই তাকে তা আটকাতে হবে।”
ইউক্রেন যে নেটোতে যোগ দিতে উদগ্রীব তা অজানা কিছু নয়। আর তার দোরগোড়ায় আরেকটি নেটো দেশের উপস্থিতি যে রাশিয়া মানবে না, তাও নতুন কিছু নয়। কিন্তু রাশিয়া দেখছে যে তাদের আপত্তির তোয়াক্কা না করে নেটো দেশগুলো থেকে ইউক্রেনে অস্ত্র যাচ্ছে। পূর্ব ইউক্রেনে রুশ সমর্থিত বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে প্রয়োগের জন্য তুরস্কে তৈরি ড্রোন কিনেছে ইউক্রেন। ক্রাইমিয়ার কাছে আকাশে সম্প্রতি পারমানবিক বোমা ফেলতে সক্ষম দুটো আমেরিকান যুদ্ধ বিমান উড়তে দেখার ঘটনায় মস্কো প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত। সেই সাথে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনেস্কির সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যে রাশিয়া ক্ষিপ্ত। তিনি সম্প্রতি বলেছেন রাশিয়ার কাছ থেকে ক্রাইমিয়াকে “মুক্ত করা” তার সরকারের লক্ষ্য। ডনবাস অঞ্চলে রুশ সমর্থিত বিদ্রোহীদের দমনে বড় ধরণের সামরিক অভিযান চালানোর ইঙ্গিতও ইউক্রেন দিচ্ছে। এসব কথাকে রাশিয়া উস্কানি হিসাবে দেখছে। মস্কো মনে করছে পশ্চিমাদের ভরসায় ইউক্রেন এসব কথা বলার সাহস পাচ্ছে।
ইউক্রেনের সরকার এবং তাদের পশ্চিমা মিত্রদের সতর্ক করতেই যে সীমান্তে এই সেনা সমাবেশ তা নিয়ে রাশিয়া রাখঢাক করছে না। ইউক্রেন নিয়ে মস্কোতে গত সপ্তাহে রুশ কূটনীতিকদের সাথে এক বৈঠকে বলেন মি. পুতিন বলেন, “আমাদের হুঁশিয়ারিতে তারা যে কান দিচ্ছে তার লক্ষণ পরিষ্কার। কারণ তারা উত্তেজিত … পশ্চিমা দেশগুলো যেন রাশিয়ার কথা কানে দেয় তার জন্য উত্তেজনা অব্যাহত রাখতে হবে।” মস্কোতে গবেষণা সংস্থা আইআইএসির গবেষক অন্দ্রেই কর্তুনভ বিবিসিকে বলেন, ইউক্রেনের সীমান্তে সৈন্য সমাবেশের অর্থ এই নয় যে রাশিয়া সৈন্য ঢুকিয়ে দেবে।
“মি পুতিন আসলে একটি বার্তা দিতে চাইছেন, আর বার্তাটি হচ্ছে ইউক্রেনকে সতর্ক করা যে পশ্চিমাদের ভরসায় ডনবাস অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পথে তারা যেন পা না বাড়ায়।” আর পশ্চিমাদের জন্য মি পুতিনের বার্তা, মি. কর্তুনভ বলেন, “ইউক্রেনে নেটোর তৎপরতা চলবে না, ইউক্রেনেকে অস্ত্র জোগানো চলবে না।” নানাভাবে ইউক্রেনের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করছে রাশিয়া। গত সপ্তাহে রুশ গুপ্তচর সংস্থা, এসভিআর, ইউক্রেন সম্পর্কিত এক বিবৃতিতে ২০০৮ সালে জর্জিয়ার যুদ্ধের অবতারণা করেছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া জাতিগত রুশ অধ্যুষিত দক্ষিণ ওসেটিয়া কব্জা করতে গিয়ে তৎকালীন জর্জিয়ান প্রেসিডেন্ট সাকাশভিলিকে কতটা মূল্য দিতে হয়েছিল – এসভিআর এর বিবৃতিতে তা স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে। জর্জিয়া ওসেটিয়া দখল করতে গেলে রাশিয়া সামরিক অভিযান চালিয়েছিল।
তাতিয়ানা স্তানোভায়া বলেন, “জর্জিয়ার ফর্মুলা ক্রেমলিনের টেবিলে রয়েছে। ইউক্রেনের বেলাতেও তার প্রয়োগ হতেই পারে।” “তবে তার অর্থ এই নয় যে রাশিয়া তার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমি মনে করি যে একটি বিকল্প রয়েছে, কিন্তু তার প্রয়োগ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।” মি. কর্তুনভ বলেন দরকার হলে রাশিয়া যুদ্ধ করতে প্রস্তুত এমন একটি বার্তা মি পুতিন দিতে চাইছেন ঠিকই কিন্তু ইউক্রেনে সরাসরি সামরিক অভিযান চারিয়ে উদ্দেশ্য হাসিল হবে বলে তিনি মনে করেন না। তেমন কোনো সামরিক, অভিযানের ফলাফল যাই হোক না কেন, প্রাপ্তির চেয়ে ক্ষতির মাত্রা বেশি হতে পারে।” সুতরাং প্রেসিডেন্ট পুতিন হয়তো ফাটকা খেলছেন।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মার্ক গ্যালিওটি মনে করেন মস্কো হয়তো তার সমস্ত বিকল্প প্রস্তুত করছে কিন্তু সামরিক অভিযান নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত তারা নেয়নি। তিনি বলেন, নতুন করে কোনো নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি এবং পশ্চিমের সাথে সম্পর্ক আরো খারাপ করার ঝুঁকি হয়তো মি পুতিন এখন নিতে চাইবেন না। অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেন ইউক্রেন সীমান্তে ট্যাংক আর সৈন্য পাঠিয়ে মস্কো আমেরিকাকে আরেকবার আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসতে চাইছে। মি. পুতিন ও মি, বাইডেনের সাথে আরেকটি টি শীর্ষ বৈঠক চাইছে তারা। “জুন মাসের বৈঠকে মি. পুতিন এবং বাইডেন কেউই কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি, কিন্তু ইউক্রেনে সামরিক সাহায্যের ইস্যুতে খুব অল্প হলেও একটি বোঝাপড়া হয়তো সেখানে হয়েছিল,” বলেন মি কর্তুনভ।
বৃহস্পতিবার স্টকহোমের বৈঠকে তেমন একটি শীর্ষ বৈঠক নিয়ে কথা হয়েছে। তবে তার কোনো নিশ্চয়তা যুক্তরাষ্ট্র দেয়নি। “পুতিন হয়তো এখনও বিশ্বাস করেন যে তিনি মি. বাইডেনের সাথে একটি বোঝাপড়া করতে পারবেন। কিন্তু তিনি যদি দেখেন তার কোনো আশাই নেই তাহলেই সম্ভাব্য বিপদ। পুতিন তখন এমন পথ তিনি নিতে পারেন যা ধারণা করা কঠিন”, বলেন মিস তাতিয়ানা। সূত্র: বিবিসি।
দক্ষিণ চীন সাগর ও তাইওয়ান প্রণালীতে চীন যেভাবে একতরফা কার্যকলাপ করছে, তানিয়ে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ। এ কারণে তারা আরো ঘনিষ্টভাবে কাজ করার ব্যাপারে একমত হয়েছে।
সম্প্রতি ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানেই চীনের কার্যকলাপ নয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চীন যা করছে, তাতে এই অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। এরপর অ্যামেরিকার ডেপুটি সেক্রেটারি অফ স্টেটের সঙ্গে ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের সেক্রেটারি জেনারেল আলোচনায় বসেন। সেখানে চীনের উইগুর ও তিব্বতের জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিয়ে কথা বলেছেন তারা। হংকং-এর স্বশাসন এবং কূটনৈতিক ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিয়েও কথা হয়েছে।
ইইউ মিলিটারি স্টাফের ডিরেক্টর জেনারেল জানিয়েছেন, ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সহযোগিতা আরো বাড়ানোর জায়গা আছে। দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিং একতরফা ব্যবস্থা নিচ্ছে। তাই আন্তর্জাতিক আইন যাতে মানা হয়, সেটা দেখা দরকার।
তিনি বলেছেন, ফ্রান্স হলো প্রশান্ত মহাসাগর এলাকায় বড় শক্তি। জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও ডেনমার্ক এই অঞ্চল নিয়ে তাদের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। নিউ ক্যালিডোনিয়া সহ বেশ কিছু দেশের প্রশাসন ফ্রান্সের হাতে। গতবছর স্বাধীনতার দাবি নিয়ে নিউ ক্যালিডোনিয়ায় গণভোট হয়েছিল। কিন্তু সেই দাবি গণভোটে খারিজ হয়েছে। এছাড়াও বেশ কয়েকটি ছোট দ্বীপরাষ্ট্র ফ্রান্সের অধিকারে আছে। তাই দক্ষিণ চীন সাগরে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে চায় ইইউ।
ইইউ-র সামরিক কর্তা জানিয়েছেন, দক্ষিণ চীন সাগরে ইইউ একটি মেরিটাইম এরিয়া অফ ইন্টারেস্ট তৈরি করতে চায়। অ্যাটলান্টিক মহাসাগরে গালফ অফ গিনিতে ইইউ-র উপস্থিতি আছে। সেখানে এরকম একটি পাইলট প্রজেক্ট চলছে। দক্ষিণ চীন সাগরে একই ধাঁচে কাজ করতে চায় ইইউ।
তাইওয়ান নিয়ে এখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। গত মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সাবধান করে দিয়ে বলেছেন, তারা ঠান্ডা যুদ্ধের উত্তেজনা চান না। বাইডেন বলেছেন, তাইওয়ানকে সুরক্ষা দেয়ার ব্যাপারে অ্যামেরিকা দায়বদ্ধ।
বেইজিং দক্ষিণ চীন সাগরে তাদের উপস্থিতি আরো বাড়াতে চাইছে। এই এলাকা নিয়ে চীন ছাড়াও ফিলিপাইন্স, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়ার দাবি রয়েছে। সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার দুইটি নৌকাকে ওই এলাকায় ঢুকতে দেয়নি চীন। ২০১৬ সালে পার্মানেন্ট কোর্ট অফ আরবিট্রেশন রায় দেয়, দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে চীনের অধিকাংশ দাবিই বেআইনি। সূত্র: রয়টার্স।
বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন আতঙ্কের জেরে গত সপ্তাহে একদিনেই জ্বালানি তেলের দাম কমেছে প্রায় ১০ মার্কিন ডলার। তবে এর আগে থেকেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছিল নিম্নমুখী। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের খবর অনুসারে, টানা ছয় সপ্তাহ তেলের দাম কমেছে আন্তর্জাতিক বাজারে। সপ্তাহের হিসাবে ২০১৮ সালের পর টানা এতদিন তেলের দরপতনের ধারা অব্যাহত থাকতে আর দেখা যায়নি।
চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম কমেছে অন্তত ২ দশমিক ৮ শতাংশ। এতে বড় প্রভাব রয়েছে ওমিক্রন আতঙ্কের। বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, করোনার নতুন এই ধরন ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়লে জ্বালানি তেলে চাহিদায় আবারও ধস নামতে পারে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ছয়টি অঙ্গরাজ্যে ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে। এর বিষয়ে বিশ্বকে প্রথম সতর্ক করা দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় গত মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) থেকে সংক্রমণের হার অন্তত চারগুণ বেড়ে গেছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী জানুয়ারি মাসে বিশ্ববাজারে দৈনিক আরো চার লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওপেক ও এর মিত্ররা। ফলে চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কার মধ্যে তেলের সরবরাহ বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে এর দাম আরও কমে আসবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ওন্ডা করপোরেশনের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক এড ময়া বলেন, এমনিতে স্বল্পমেয়াদী চাহিদা পরিস্থিতি খুবই নড়বড়ে, তার ওপর যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন বিধিনিষেধ দেয়, তাহলে চলতি মাসের শেষের দিকে বাজারে অতিরিক্ত তেল সরবরাহ দেখা যেতে পারে। শনিবার (৪ ডিসেম্বর) সকালে এই প্রতিবেদন লেখার সময় অয়েল প্রাইস ডটকমে দেখা গেছে, এদিন বিশ্ববাজারে ডব্লিউটিআই তেলের দাম ০.৩৬ শতাংশ অর্থাৎ ০.২৪ ডলার কমে প্রতি ব্যারেল বিক্রি হচ্ছে ৬৬ দশমিক ২৬ ডলারে। অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্টের দাম ০.৩০ শতাংশ অর্থাৎ ০.২১ ডলার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৬৯ দশমিক ৮৮ ডলার। এছাড়া হিটিং অয়েলের দাম ০.২৪ শতাংশ কমে হয়েছে ২ দশমিক ০৯৮ ডলার।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের অক্সফোর্ড হাইস্কুলে গুলিবর্ষণের ঘটনায় হত্যার অভিযোগে বন্দুকধারীর বাবা-মাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ জেমস এবং জেনিফার ক্রাম্বলির জন্য একটি পলাতক পরোয়ানা জারি করেছে, যারা বন্দুকের তাণ্ডবের আগে সতর্কতা চিহ্ন উপেক্ষা করার অভিযোগে অভিযুক্ত।-বিবিসি
ইথান ক্রাম্বলি (১৫) এসপ্তাহে ডেট্রয়েট থেকে প্রায় ৩৫ মাইল (৬০ কিলোমিটার) উত্তরে অক্সফোর্ডে সহপাঠীদের গুলি করার জন্য তার বাবার বন্দুক ব্যবহার করার দায়ে অভিযুক্ত। তিনি সন্ত্রাসবাদসহ একাধিক অভিযোগে দোষী নন। জেমস এবং জেনিফার ক্রাম্বলি চারবার আদালতের মুখোমুখি হচ্ছেন। ওকল্যান্ড কাউন্টির কর্তৃপক্ষ মার্কিন মিডিয়াকে বলেছে যে, ক্রাম্বলির আইনজীবীরা ফোনে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে না পারায় তারা বর্তমানে এই জুটির সন্ধান করছেন।
ওকল্যান্ড কাউন্টি শেরিফ মাইকেল বাউচার্ড সিএনএনকে বলেছেন, যদি তারা মনে করে যে, তারা পালিয়ে যাবে, তবে তারা তা পারবে না। তিনি বলেছিলেন যে, তার বেশ কয়েকজন গোয়েন্দা, এফবিআই এবং ইউএস মার্শাল সার্ভিস এই দম্পতিকে খুঁজছে। কিন্তু বিবিসি আইনজীবী শ্যানন স্মিথ এবং মেরিয়েল লেহম্যানের কাছে টেক্সট বার্তার মাধ্যমে একটি যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন যে, ক্রাম্বলিরা আইন প্রয়োগ থেকে পালিয়ে যাচ্ছে না এবং “নিজের নিরাপত্তার জন্য” শুটিংয়ের রাতে শহর ছেড়েছিল।
তারা যোগ করেছে যে, এই জুটি তাদের অভিযোগের উত্তর দিতে ফিরে আসবে, যা শুক্রবার পরে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হয়েছিল। মঙ্গলবার গোলাগুলিতে চারজন নিহত ও সাতজন আহত হয়েছিল। নিহতরা হলেন টেট মাইরে (১৬), ম্যাডিসিন বাল্ডউইন (১৭), হানা সেন্ট জুলিয়ানা (১৪) এবং জাস্টিন শিলিং (১৭)।
অভিভাবকদের অভিযুক্ত করা হলো কেন?
শুক্রবার, ওকল্যান্ড কাউন্টির প্রধান প্রসিকিউটর কারেন ম্যাকডোনাল্ড স্বীকার করেছেন যে, একটি শিশুর অভিযুক্ত অপরাধে পিতামাতাকে অভিযুক্ত করা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। তার অফিসের তদন্ত অনুসারে, গত শুক্রবার ছেলেটি তার বাবার সাথে ছিল, যখন মিস্টার ক্রাম্বলি আগ্নেয়াস্ত্রটি কিনেছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই দিন পরে ছেলেটির একটি ইমোজিসহ পোস্ট তার বাবার নতুন অস্ত্রকে “আমার নতুন সৌন্দর্য” হিসাবে দেখায়।
চার্টে আমেরিকার বন্দুক সংস্কৃতি : কিভাবে একটি মধ্যযুগীয় ইংরেজি আইন নিউ ইয়র্কে বন্দুক প্রভাবিত করে। শুটিংয়ের ঠিক একদিন আগে, মিসেস ম্যাকডোনাল্ড নামে একজন শিক্ষিকা বলেছিলেন যে, তিনি ছেলেটিকে অনলাইনে গোলাবারুদ খুঁজতে দেখেছেন, যা স্কুলের কর্মকর্তাদের সাথে একটি বৈঠকের জন্য প্ররোচিত করেছিল। ঘটনা সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পর, মিসেস ক্রাম্বলি তার ছেলেকে টেক্সট করেছিলেন: হা হা, আমি তোমার উপর ক্ষিপ্ত নই। তোমাকে ধরা না পড়া শিখতে হবে।
মঙ্গলবার সকালে, তাণ্ডব চালানোর কয়েক ঘন্টা আগে, শিক্ষকরা তাদের ছেলের একটি নোট খুঁজে পাওয়ার পরে মিস্টার এবং মিসেস ক্রাম্বলিকে একটি জরুরী বৈঠকের জন্য স্কুলে ডাকা হয়েছিল। যার মধ্যে বন্দুকের বেশ কয়েকটি অঙ্কন এবং রক্তাক্ত ব্যক্তিদের ক্যাপশনসহ যেখানে লেখা ছিল “চিন্তাগুলি থামবে না” আমাকে সাহায্য করুন, এবং “সর্বত্র রক্ত”। প্রসিকিউটরের মতে, ছেলেটি “আমার জীবন অকেজো” এবং “জগত মারা গেছে” লিখেছিল। স্কুলের কর্মকর্তারা দম্পতিকে বলেছিলেন যে, তাদের তাদের ছেলের জন্য কাউন্সেলিং নিতে হবে।