বছরের শেষ সূর্যগ্রহণ আজ।

শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৮ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

আজ শনিবার (৪ ডিসেম্বর) বছরের শেষ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। গ্রহণটি হবে বলয়গ্রাস গ্রহণ, মানে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হতে চলেছে অমাবস্যার এদিনে। সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে যখন চাঁদ চলে আসে এবং সূর্যকে ঢেকে ফেলে তখন সূর্যের অন্ধকার দিকটি পৃথিবীর দিকে আসে।

ভারতীয় গণমাধ্যম এবিপি জানিয়েছে, শনিবার সূর্যগ্রহণ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সকাল ১১.২৯ মিনিটে। পূর্ণগ্রাস শুরু হবে দুপুর ১টা থেকে। পূর্ণগ্রাস সম্পন্ন হবে দুপুর ১.৩৩ মিনিটে। দুপুর ২.০৩ মিনিটে পূর্ণগ্রাস গ্রহণ শেষ হবে। ৩.৩৭ মিনিটে আংশিক সূর্যগ্রহণ শেষ হবে। মোট, ৪ ঘণ্টা ৮ মিনিট স্থায়ী হবে এই গ্রহণকাল। পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ শুধুমাত্র দক্ষিণ আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং অ্যান্টার্কটিকা ছাড়াও দক্ষিণ আটলান্টিকের কিছু অংশে দৃশ্যমান হবে। ভারতীয় ‍উপমহাদেশ থেকে এ গ্রহণ দেখা যাবে না।

সূর্যগ্রহণ দেখার সময় যথাযথ চোখের সুরক্ষা নিতে হবে। কারণ দীর্ঘ সময় ধরে খালি চোখে সূর্যের দিকে তাকালে তাতে চোখের ক্ষতি করতে পারে। গ্রহণ দেখার জন্য লেন্সে একটি বিশেষ সৌর ফিল্টার প্রয়োজন। সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো উচিত নয়। পানিতে সূর্যের প্রতিফলনের দিকে তাকাবেন না। গ্রহণ দেখার জন্য সাধারণ সানগ্লাস ব্যবহার করবেন না।

Kacha Badam Viral Song: পুলিসের দ্বারস্থ ‘কাঁচা বাদাম’ গানের স্রষ্টা ভুবন বাদ্যকর, কিন্তু কেন?

শুক্রবার , ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৭ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

গান গেয়েছেন তিনি, কিন্তু পাচ্ছেন না তাঁর প্রাপ্য টাকা। ইউটিউবাররা সে গান রেকর্ডিং করে সোশ্যাল মাধ্যমে রোজগার করছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। এই অভিযোগ নিয়ে এবার দুবরাজপুর থানার দ্বারস্থ হলেন বীরভূমের বাদাম বিক্রেতা ভুবন বাদ্যকর। ‘বাদাম বাদাম দাদা কাঁচা বাদাম’ (Kacha Badam Song), আমার কাছে নাই গো বুবু ভাজা বাদাম। এই গানটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। এমনকি সারা বিশ্বে কয়েক মিলিয়ন মানুষ দেখে ফেলেছেন এই গানের ভিডিও। এখন মোবাইলে ফেসবুক, ইউটিউব, রিলসে চোখ রাখলেই বেজে উঠছে এই গান। কিন্তু যে মানুষটি এই গান করেছেন তিনি পেশায় একজন বাদাম বিক্রেতা। তাঁর নাম ভুবন বাদ্যকর। বীরভূম জেলার দুবরাজপুর ব্লকের অন্তর্গত লক্ষ্মীনারায়ণপুর পঞ্চায়েতের কুড়ালজুড়ি গ্রামের বাসিন্দা।

ভুবনবাবুর দাবি, তাঁর এই গান ইতিমধ্যে ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। ইউটিউব মাধ্যমে এই গান গেয়ে প্রচুর মানুষ টাকা রোজগার করছেন, কিন্তু তিনি কিছুই পাচ্ছেন না। ভুবনবাবু জানান, তাঁর গান ভাইরাল হওয়ায় প্রচুর মানুষ প্রত্যেকদিন তাঁর বাড়িতে ভিড় করছেন। সকলে তাঁর গানের ভিডিও রেকর্ডিং করছেন। আজ সেগুলি সোশ্যাল মাধ্যমে দিয়ে টাকাও আয় করছেন, কিন্তু তিনি কিছুই পাচ্ছেন না। এমনকি ইউটিউবেও ওই গানে তাঁর কপিরাইটই দেখাচ্ছে, কিন্তু তিনি নিজে কোনও গানই আপডেট করেননি। তাই তাঁর দাবি, পুলিস প্রশাসন ঘটনার তদন্ত করুক এবং তাঁর প্রাপ্য টাকাটুকু তাঁকে পেতে সাহায্য করুক।

তাঁর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার কারণে তিনি এতই আতঙ্কিত যে, তিনি জানান, থানায় আসবার সময়েও তিনি হেলমেট পরে এসেছেন। কারণ তাঁর সন্দেহ, কেউ তাঁকে কিডন্যাপও করে নিতে পারে। আবার, থানাতেও তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতে ভিড় জমিয়েছিলেন প্রচুর মানুষ।

করোনা পুনরায় ভয়াবহ হচ্ছে

শুক্রবার , ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৭ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

প্রাণঘাতি কাভিড-১৯ পুনরায় ভয়াবহ হচ্ছে বিভিন্ন দেশে। এতে রাশিয়ায় গড়ে দৈনিক এক হাজারের অধিক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। আক্রান্তের সংখ্যা আরও অনেক। ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও করোনার প্রকোপ অনেক বেড়েছে। এর মধ্যে জার্মানিতে বেশি। হু’র ইউরোপ অঞ্চলের পরিচালক ক্লুগ গত ২০ নভেম্বর বিবিসিকে বলেছেন, অঞ্চলটিতে দৈনিক মৃতের সংখ্যা ৪,২০০-তে দাঁড়িয়েছে, যা গত সেপ্টেম্বরের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। ইউরোপের ৫৩টি দেশের মধ্যে ২৫টি দেশেই করোনা পরিস্থিতি ‘অতিমাত্রার উদ্বেগজনক। এই ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে আগামী বছরের মার্চের শুরুতে মোট মৃতের সংখ্যা ২২ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। কোনো কোনো দেশে করোনার ৪র্থ ও পঞ্চম ঢেউ চলছে। তাই করোনা প্রতিরোধের জন্য ইউরোপে টিকা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। শিশুদেরও টিকা দেওয়া হচ্ছে। ইউরোপের কোনো কোনো দেশে লকডাউন দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে কোথাও কোথাও ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়েছে। এশিয়ায় চীন, ভারত, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও আমেরিকা মহাদেশেও করোনা পুনরায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ অবস্থায় সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকা, বতসোয়ানা, হংকং, ভারত, ইসরাইল ও বেলজিয়ামে ‘বি.১. ১.৫২৯’ নামে করোনার নতুন ধরন শনাক্ত হয়েছে, যা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের চেয়েও বেশি সংক্রামক। এটি ৩২ রূপ নিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন দেশে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর নামকরণ করেছে ‘ওমিক্রন’। সংস্থাটি এ ধরনকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে আখ্যায়িত করেছে। এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত টিকা ‘ওমিক্রনকে প্রতিরোধ করতে পারবে কি-না তা নিয়ে চিন্তিত বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান চিকিৎসা পরামর্শক নতুন এ ধরনকে ‘ভয়াবহ’ ও ‘এখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে খারাপ ধরন’ বলে উল্লেখ করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাশের দেশগুলোর সাথে বিমান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বহু দেশ। ওমিক্রন শনাক্ত হওয়া দেশগুলোর সঙ্গে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এছাড়া, নিউইয়র্কে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। ৩০ নভেম্বর থেকে ৩ ডিসেম্বর জেনেভায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার দ্বাদশ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। আতংকে জ্বালানি তেলের মূল্য অনেক কমেছে এবং স্টক মার্কেটের দর পতন হয়েছে। পরিস্থিতি মূল্যায়নে প্রতীয়মান হচ্ছে, করোনা পুনরায় মহামারির আকার ধারণ করবে বিশ্বব্যাপী। করোনা মহামারির ব্যাপক ক্ষতি সামাল দিয়ে বিশ্ববাসী যখন ঘুরে দাঁড়ানোর প্রাণান্তকর চেষ্টা করছে, তখনই এই এ ব্যাধি পুনরায় ব্যাপকতর হওয়া মড়ার উপর খাঁড়ার ঘার শামিল!

করোনায় এ পর্যন্ত সারাবিশ্বে প্রায় ২৭ কোটি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। তন্মধ্যে প্রায় ৫৩ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সুস্থ হয়েছে প্রায় ২৪ কোটি মানুষ। এসব ক্ষেত্রে বয়স্ক মানুষ বেশি। তবে, শিশুরাও রয়েছে। বহু স্বাস্থ্যকর্মী পর্যন্ত এই ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছে, মৃত্যু হয়েছে অনেকের। করোনার কারণে বেশিরভাগ মানুষের মানসিক বিষন্নতা সৃষ্টি হয়েছে। করোনা প্রতিরোধ করার জন্য বহু দেশে দীর্ঘদিন লকডাউন দেওয়া হয়েছিল। তাতে সব কিছু বন্ধ হয়ে মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েছিল। ফলে বিশ্ব অর্থনীতি অনেক সংকুচিত হয়ে বৈশ্বিক মহামন্দা সৃষ্টি হয়েছে। যা ১৯২০ সালের মন্দার চেয়েও বেশি।ফলে নতুন করে প্রায় ১০ কোটি মানুষ দরিদ্র হয়েছে। বেকার হয়েছে কয়েক কোটি শ্রমিক।কর্মরত শ্রমিকদেরও মজুরি কমে গেছে অনেক। এছাড়া, চরম খাদ্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে বিশ্বব্যাপী। দীর্ঘদিন শিক্ষাঙ্গন বন্ধ থাকায় ৬০ কোটি শিক্ষার্থীর শিক্ষায় চরম অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। ড্রপ আউটের সংখ্যা বেড়েছে ব্যাপক।তাদের বেশিরভাগ শ্রমে নিযুক্ত হয়েছে। বাল্য বিবাহও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র করোনার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকা তৈরি করেছে। তিন ক্যাটাগরিতে বিভক্ত এ তালিকায় রয়েছে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’, ‘মোটামুটি ঝুঁকিপূর্ণ’ ও ‘নিম্ন ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশ। এ তালিকায় রয়েছে মোট ৭০টি দেশের নাম। আঙ্কটাডের ‘লিস্ট ডেভেলপড কান্ট্রিস রিপোর্ট ২০২১’ মতে, করোনা মহামারির কারণে দারিদ্র্য, শিক্ষা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে স্বল্পোন্নত দেশগুলো যে অগ্রগতি অর্জন করেছিল তা থেমে গেছে। হু সম্প্রতি জানিয়েছে, করোনা মহামারিতে বিশ্বব্যাপী মেন্টাল ডিপ্রেশন বৃদ্ধির কারণে ব্যক্তি পর্যায়ে উৎপাদনশীলতা কমে যাচ্ছে আশঙ্কাজনকভাবে। ফলে প্রতিবছর ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।

করোনা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের নিরলস প্রচেষ্টায় এর মধ্যেই প্রতিষেধক তথা ভ্যাকসিন বা টিকা আবিষ্কার হয়েছে। এ পর্যন্ত অ্যাষ্ট্রাজেনেকা, ফাইজার, সিনোভ্যাক্স, মডার্না, বায়োএনটেক, কোভ্যাক্সিন ও কোভিশিল্ড ইত্যাদি আবিষ্কার হয়েছে। এছাড়া, করোনার পিল (ব্রিটেনের মলনুপিরাভি ও ফাইজারের প্যাক্সলোছিড) এবং ভাপ (চীনা বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত এটি জার থেকে মুখ দিয়ে শ্বাসের সঙ্গে টেনে নিতে হয়। যা সরাসরি শ্বাসযন্ত্রে পৌঁছে কোভিডের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করে) আবিষ্কার হয়েছে। এসবের বেশিরভাগ আবিষ্কার করেছেন চীন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা। এগুলো ব্যবহারের ফলে করোনার প্রকোপ কমতে থাকে। কিন্তু অবশ্য করোনার টিকা নেওয়ার পরও অনেক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া, যারা সুস্থ হয়েছে, তাদের অনেকের মধ্যেই লং কোভিড সমস্যা দেখা দিয়েছে। উপরন্তু তাদের খাবারের স্বাদও নষ্ট হয়েছে। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা রিপোর্ট মতে, মহামারি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়েছেন এমন আমেরিকানরা ৬ মাসের অধিক সময় ধরে ঘ্রাণের অনুভূতি হারিয়ে ফেলেছিলেন। সর্বোপরি টিকা গ্রহণের পর অনেকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়েছে। তবুও বেশিরভাগ মানুষ টিকা নিতে আগ্রহী। জার্মান স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, টিকা নিন। নইলে এবারের শীত মৌসুম শেষ হতে হতে হয় সবাই করোনায় ভুগবেন, নয়তো মরবেন। যুক্তরাজ্যে দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পরও ৬ মাস পরে সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

টিকার মূল্য অত্যধিক হওয়ায় বেশিরভাগ দেশের অধিকাংশ মানুষ টিকা নিতে পারেনি! উৎপাদকদের অতি মুনাফার কারণেই এটা হয়েছে। ফাইজার-বায়োএনটেক ও মডার্না তাদের টিকা বিক্রি করে গড়ে প্রতি মিনিটে ৬৫ হাজার মার্কিন ডলার আয় করছে বলে সিঙ্গাপুরের এক পত্রিকায় প্রকাশ। এছাড়া, অ্যাস্ট্রাজেনেকাও অলাভজনকের পথ পরিহার করে লাভের পথ খুঁজছে বলে জানা গেছে। বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষ এবং জাতিসংঘ টিকা প্রযুক্তি বিশ্বজনীন ও সুষম বণ্টন এবং স্বল্প মূল্যের করার কথা বলার পরও তা করা হয়নি, যা একবিংশ শতকের প্রধান মানবতা বিবর্জিত কর্ম। করোনার টিকার মূল্য মাত্রাতিরিক্ত হওয়ার জন্য ধনী দেশগুলোও দায়ী। তারা প্রয়োজনের অধিক টিকা কিনে দেশের বেশিরভাগ মানুষকে দুই ডোজ দেওয়ার পর এখন বুষ্টার তথা তৃতীয় ডোজ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনও তৃতীয় ডোজ হিসাবে স্পুটনিক নিয়েছেন নাক দিয়ে। হু বুস্টার ডোজের ওপর স্থগিতাদেশের আহ্বান জানানোর পরও তারা এটা করছে। উপরন্তু ধনী দেশগুলো বিপুল পরিমাণে টিকা নষ্ট করেছে মেয়াদ শেষ হওয়ায়। অবশ্য তারা কিছু টিকা গরিব দেশকে দান করেছে। করোনার টিকা প্রদান, বহু দেশে দান ও বিক্রি করার ক্ষেত্রে চীন শীর্ষে রয়েছে। দেশটি এ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে ১৮০ কোটি ডোজ টিকা সরবরাহ করেছে। তদুপরি চীনের প্রেসিডেন্ট শি বলেছেন, এ বছরের মধ্যে চীন ২শ’ কোটি ডোজ টিকা বিশ্বে সরবরাহ করবে।

করোনা মহামারি ব্যাপকতর হওয়ার জন্য মানুষও কম দায়ী নয়। বিনা ব্যয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কাজটিও করেনি তারা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য বিশেষজ্ঞরা বহুবার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রচার মাধ্যমগুলোতে তা ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। কোনো কোনো দেশের সরকার স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য কঠোর পন্থা গ্রহণ করেছে। তবুও বেশিরভাগ মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানেনি! স্বাস্থ্যবিধির অন্যতম হচ্ছে, নির্ধারিত দূরত্ব মেনে চলা, বাইর থেকে ঘরে বা কর্মস্থলে ফেরার পর সাবান দিয়ে হাত-মুখ ধোয়া, মাস্ক ব্যবহার করা ও করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে কোয়ারেন্টিনে রাখা। কিন্তু এই সামান্য কাজটিও বেশিরভাগ মানুষ করেনি।

যা’হোক, আবার করোনার প্রকোপ পুনরায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞ ডা. ফাউসি বলেছেন, সামনের শীতে করোনার নতুন ঢেউ শুরু হতে পারে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, ২০২২ সালেও চলবে করোনা মহামারি। অনেক বিশেষজ্ঞ বলেছেন, করোনা আজীবন থেকে যাবে বিভিন্ন ভাইরাসের ন্যায়।তাই করোনার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে বিশ্বের সর্বত্রই। করোনা প্রতিরোধী ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যার প্রধান হচ্ছে, টিকা, পিল ও ভাপ ইত্যাদি। এ জন্য বিশ্বের অন্তত অর্ধেক মানুষকে দুই ডোজ টিকা দিতে হবে। সে সাথে পিল ও ভাপেরও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করতে হবে। বায়োএনটেকের সিইও শাহিন বলেছেন, করোনা মহামারির মধ্যে সুস্থ থাকতে প্রতি বছরই টিকা নেয়া প্রয়োজন। তাই করোনার টিকা, পিল ও ভাপের প্রযুক্তি বিশ্বজনীন করা দরকার। তাহলে বহু দেশ সক্ষমতা অনুযায়ী এগুলো উৎপাদন করতে পারবে। তাহলে মূল্য ও পরিবহন ব্যয় অত্যন্ত কমে গিয়ে গরিব দেশের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আসবে। ফাইজার ইতোমধ্যেই প্রযুক্তি সকলের জন্য উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। এখন বাকী সংস্থাগুলোরও এটা করা দরকার। করোনার টিকা, পিল ও ভাপ ক্রয়, সংরক্ষণ ও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মতো সামর্থ্য নেই গরিব দেশগুলোর। তাই এ ক্ষেত্রে ধনী দেশ ও সংস্থাগুলোর সহায়তা করা আবশ্যক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গত ২৮ অক্টোবর বলেছে, বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে আগামী এক বছরে ২,৩৪০ কোটি ডলার প্রয়োজন। যা বিশ্বজুড়ে করোনার টিকা প্রদান, পরীক্ষা করা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করায় ব্যয় করা হবে। একইসঙ্গে চলমান মহামারির রাস টানতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রীর উন্নয়ন, উৎপাদন, ক্রয় এবং বণ্টনে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে করোনার টিকা ব্যবস্থায় ব্যাপক বৈষম্য রোধেও এই অর্থ কাজে লাগবে। হু’র মহাপরিচালক বলেছেন, করোনা থেকে জীবন রক্ষা করে টিকা। কিন্তু টিকা পুরোপুরি সংক্রমণ রোধ করে না। সংক্রমণ রোধ করে স্বাস্থ্যবিধি। বলা বাহুল্য, স্বাস্থ্যবিধি মাণ্য করার বিকল্প নেই।
লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

দক্ষিণ আফ্রিকায় ওমিক্রন’ সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতি’

শুক্রবার , ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৭ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

মহামারী করোনাভাইরাসের নতুন ধরণ ওমিক্রনের ‘এপিসেন্টার’ দক্ষিণ আফ্রিকায় সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বিবিসি বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাতে জানিয়েছে, দেশটিতে দৈনিক সাড়ে ১১ হাজারের বেশি মানুষের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন; গত সপ্তাহের চেয়ে যা তিন হাজার বেশি। ‘ওমিক্রন’ এর খবর প্রকাশের আগে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে দেশটিতে দৈনিক দুই বা তিন শতাধিক মানুষের আক্রান্ত হতেন।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ‘ওমিক্রন’ সংক্রমণের পর দেশটিতে চতুর্থবারের মতো করোনাভাইরাস মহামারী হানা দিয়েছে। হাসপাতালগুলোতে ধীরে ধীরে বাড়ছে রোগী।

দক্ষিণ আফ্রিকার সংক্রামক রোগ বিষয়ক রাষ্ট্রীয় সংস্থা এনআইসিডি বলছে, যারা সম্প্রতি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তাদের অধিকাংশই এখনও টিকা নেননি।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, মাত্র ২৪ শতাংশ মানুষ টিকার পূর্ণ ডোজ সম্পন্ন করেছেন।

ওমিক্রন সংক্রমণ যখন ভয়াবহ আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে, তখন দক্ষিণ আফ্রিকা দেশজুড়ে টিকাদান কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, যারা এখনও টিকা নেননি, তাদের অবশ্যই টিকার আওতায় আনা হবে।

দক্ষিণ আফ্রিকার করোনাভাইরাস বিষয়ক টাস্কফোর্সের সদস্য অধ্যাপক সেলিম আব্দুল করিম অবশ্যই এখন আতঙ্কগ্রস্ত হতে নারাজ।

তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন, একপর্যায়ে তাদের হাসপাতালেও যেতে হচ্ছে… এটা সাধারণত আক্রান্ত হওয়ার দুই থেকে তিন সপ্তাহ পরে হয়… এখনও হাসপাতালে রোগীর তেমন ভিড় নেই। তাই সংক্রমণ পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে রয়েছে তা বলা মুশকিল। মাঠপর্যায় থেকে তথ্য আসছে, কোথাও এখনও কোনো লাল পতাকা টানানো হয়নি। খুব নাটকীয় পরিবর্তন নেই।’

বিবিসি জানিয়েছে, বড়দিন ও নতুন বছর উদযাপনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসলেও দক্ষিণ আফ্রিকার বড় শহর জোহানেসবার্গের দোকানপাট সব বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। শহরজুড়ে আলোচনার বিষয়বস্তু কেবল একটাই ‘ওমিক্রন’।

চলতি সপ্তাহে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ আফ্রিকার বেশকয়েকটি দেশে বিমান চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রেইসুস বলেছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য এটা ‘কড়া শাস্তি’র মতো।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, এখনও পর্যন্ত বিশ্বের ২৪টি দেশে ‘ওমিক্রন’ সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, আগে করোনাভাইরাসের অন্য কোনো ধরনে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তিরা ‘ওমিক্রনে’ আক্রান্ত হবেন না এমন ধারণার কোনো ভিত্তি নেই। তবে টিকা নেওয়া ব্যক্তিরা অনেকটাই সুরক্ষিত থাকবেন।

দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘ওমিক্রন’ গবেষক ও সংক্রামক ব্যাধিবিষয়ক ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটের মাইক্রোবায়োলজিস্ট অ্যান ভন গোটেবার্গ বিবিসিকে বলেন, ‘ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণের চেয়ে এবারের পরিস্থিতি একেবারে আলাদা।’

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানির পর ভারত, ঘানা, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ‘ওমিক্রনে’ আক্রান্ত রোগী শনাক্তের কথা জানিয়েছে সম্প্রতি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘ওমিক্রনকে’ উদ্বেগজনক হিসেবে আখ্যা দেওয়ার পর বিশ্বজুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন আলোড়িত হচ্ছে। তা হল, করোনা প্রতিরোধে এর আগে যেসব টিকা দেওয়া হচ্ছে তা কি ‘ওমিক্রন’ প্রতিরোধেও কার্যকর হবে?
সুত্রঃ সমকাল ।

ওমিক্রন”কুয়েতের ২০% ভ্রমণকারী বাতিল করেছে টিকিট’

শুক্রবার , ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৭ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

নতুন মিউট্যান্ট “ওমিক্রন” ঘোষণার পর থেকে কুয়েতের প্রায় ২০% ভ্রমণকারী তাদের ভ্রমণের টিকিট বাতিল করেছে।

কুয়েত ট্রাভেল এন্ড ট্যুরিজম সংস্থার বরাত দিয়ে স্থানীয় মিডিয়া জানিয়েছে যে, ভ্রমণকারীরা তারিখ পরিবর্তন করছে এবং বিমানবন্দর বন্ধ হয়ে যাবে এমন ভয়ে ভ্রমণ বা ছুটিতে যাওয়া বাতিল করছে।

তবে অনেকে কী ঘটবে তার জন্য অপেক্ষা করছে।

নতুন বছরের ভ্রমণ পরিকল্পনার চাহিদাও তীব্রভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং তুরস্ক, কায়রো ইত্যাদির মতো পর্যটন গন্তব্যগুলির চাহিদাও কমে গেছে ।

দেশে,করোনা ধরা পড়ল আরও ২৪৩ জনের শরীরে, মৃত্যু ৩

শুক্রবার , ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৭ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ২৭ হাজার ৯৮৯ জনে। 

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা ধরা পড়েছে ২৪৩ জনের শরীরে। এ নিয়ে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১৫ লাখ ৭৭ হাজার ৭০ জনে।

দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত বছরের ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই বছর সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছিল ৬৪ জনের। 

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় চলতি বছর জুন থেকে রোগীর সংখ্যা হু-হু করে বাড়তে থাকে। ২৮ জুলাই একদিনে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। 

চলতি বছরের গত ৭ জুলাই প্রথমবারের মতো দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৫ ও ১০ আগস্ট ২৬৪ জন করে মৃত্যু হয়, যা মহামারির মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। 

বেশকিছু দিন ২ শতাধিক মৃত্যু হয়। এরপর গত ১৩ আগস্ট মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ এর নিচে নামা শুরু করে। দীর্ঘদিন শতাধিক থাকার পর গত ২৮ আগস্ট মৃত্যু ১০০ এর নিচে নেমে আসে।

২০২০ সালের এপ্রিলের পর গত ১৯ নভেম্বর প্রথম করোনাভাইরাস মহামারিতে মৃত্যুহীন দিন পার করেছে বাংলাদেশ।

সাউথ আফ্রিকাসহ সাত দেশ থেকে বাংলাদেশে আসলে ১৪ দিন হোটেলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

করোনার নতুন ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের কারণে সাউথ আফ্রিকাসহ সাত দেশ থেকে বাংলাদেশে আসলে ১৪ দিন হোটেলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। ২ ডিসেম্বর রাতে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। এছাড়া পৃথিবীর সব দেশ থেকেই বাংলাদেশে আসতে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আরটি পিসিআর পদ্ধতিতে করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট থাকতে হবে, যা আগে ছিলো ৭২ ঘণ্টা।

বেবিচকের ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড রেগুলেশন্সের সদস্য গ্রুপ ক্যাপ্টেন চৌধুরী এম জিয়া উল কবির স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, এই নির্দেশনা ৪ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

সাত দেশ হচ্ছে বতসোয়ানা, এসওয়াতিনি, ঘানা, লেসোথো, নামিবিয়া, সাউথ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে। এই দেশগুলো থেকে আসলে ১৪ দিন নিজ খরচে হোটেলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। সেখানে সাত দিন পর এক বার এবং ১৪ দিন পর আবার করোনা পরীক্ষা করা হবে। পরীক্ষার খরচ যাত্রীকেই বহন করতে হবে।

ফ্লাইটে উঠার আগেই সরকার নির্ধারিত হোটেল বুক করতে হবে। হোটেলে সপ্তম দিনে করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ রিপোর্ট আসলে আলাদা করে আইসোলেশনে পাঠানো হবে। নেগেটিভ রিপোর্ট আসলে হোটলে বাকি সাত দিন কোয়ারেন্টিনে থাকবেন। ১৪তম দিনে নেগেটিভ রিপোর্ট আসলে যাত্রী নিজের বাড়িতে যেতে পারবেন। এই সাত দেশ ছাড়া অন্যান্য দেশ থেকে আসলে ২৩ অক্টোবর জারি করা বেবিচকের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
©️

কুয়েতে গোয়েন্দা পুলিশের জালে বাংলাদেশী ভুয়া ডাক্তার ও নার্স

শুক্রবার , ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৭ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী ছাড়াই মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পরিচয়ে ডাক্তার বাবু সেজেছেন এক বাংলাদেশী নাগরিক, সাথে ছিল নার্সও, অবশ্য ধরা খেয়েছেন প্রশাসনের নিকট, আটক করা হয়েছে দুইজনকে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আরবী দৈনিক আল কাবাস জানিয়েছে যে, বুধবার (১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশী অধ্যুষিত হাছাবিয়া থেকে তাদের আটক করা হয়।

সুত্র মতে, ফারওয়ানিয়া গভর্নরেটের গবেষণা ও তদন্ত বিভাগের লোকেরা একজন বাংলাদেশি নাগরিকত্বের ডাক্তার এবং নার্সকে জালিয়াতির মাধ্যমে ওষুধের অনুশীলনের অপরাধে আল-হাসাউই এলাকায় তাদের একটি অ্যাপার্টমেন্টের ভিতর থেকে হাতে নাতে আটক করে, যখন তারা একটি লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিকে রোগীদের গ্রহণ এবং তাদের চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহ করছিলেন।

আটককৃতেদর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি’ তাদের বিরুদ্ধে প্রতরণা ও ড্রাগ আইনে মামলা রজু করা হয়েছে।

করোনায় আরও দুইজনের মৃত্যু, শনাক্ত ২৮২

বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৬ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ২৭ হাজার ৯৮৩ জনে। 

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন করে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ধরা পড়েছে আরও ২৮২ জনের শরীরে। এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ৫৬৬ জনে।

এ সময়ে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৩৮৩ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৪১ হাজার ৩৪৮  জন।

সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের একজন পুরুষ ও অপরজন নারী। এ সময়ে ঢাকা ও খুলনা বিভাগে একজন করে মারা গেছেন। বাকি বিভাগগুলোতে ২৪ ঘণ্টায় কারো মৃত্যু হয়নি।

দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত বছরের ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই বছর সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছিল ৬৪ জনের। 

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় চলতি বছর জুন থেকে রোগীর সংখ্যা হু-হু করে বাড়তে থাকে। ২৮ জুলাই একদিনে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। 

চলতি বছরের গত ৭ জুলাই প্রথমবারের মতো দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৫ ও ১০ আগস্ট ২৬৪ জন করে মৃত্যু হয়, যা মহামারির মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। 

বেশকিছু দিন ২ শতাধিক মৃত্যু হয়। এরপর গত ১৩ আগস্ট মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ এর নিচে নামা শুরু করে। দীর্ঘদিন শতাধিক থাকার পর গত ২৮ আগস্ট মৃত্যু ১০০ এর নিচে নেমে আসে।

২০২০ সালের এপ্রিলের পর গত ১৯ নভেম্বর প্রথম করোনাভাইরাস মহামারিতে মৃত্যুহীন দিন পার করেছে বাংলাদেশ।

ওমিক্রন: বিদেশ ফেরতদের বিষয়ে কঠোর হুশিয়ারি

বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৬ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

করোনার নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’ সংক্রমণ ঠেকাতে দক্ষিণ আফ্রিকাসহ কয়েকটি দেশ থেকে এলে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। যদি কেউ কোয়ারেন্টিন থেকে পালায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থাপিত বিদেশগামীদের করোনাভাইরাস নমুনা পরীক্ষাগার পরিদর্শনে গিয়ে এই হুশিয়ারি দিয়েছেন।

গত বছর দেশে বিদেশ ফেরতদের কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক ছিল। সে সময় কোয়ারেন্টিন থেকে পালানোর বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটে। এতে দেশকে অনেক ভুগতে হয়েছে।তাদের মাধ্যমে অনেকে সংক্রমিত হয়েছিলেন তখন।

করোনার দেড় বছর পর এবার ভাইরাসটির নতুন ধরন ওমিক্রন সংক্রমণ ঠেকাতে আফ্রিকার দেশগুলো থেকে ফিরলে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। এ ছাড়া ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে- এমন দেশগুলো থেকে কেউ আসলেও তাকে ৪৮ ঘণ্টা আগে নমুনা পরীক্ষা করে রিপোর্ট নিয়ে আসতে হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হবে, তাদের পাসপোর্ট রেখে দেওয়া হবে। কোনো হোটেল থেকে পালিয়ে গেলে ওই হোটেলকেও জরিমানা করা হবে।অনেক দায়িত্বহীন লোক যারা নিজের কথা, দেশের কথা ভাবে না, তারা হোটেল থেকে বেরিয়ে গেছে। ঘোরাফেরা করেছে, বাড়িতে চলে গেছে। এই বিষয়টা আমরা জেনেছি। আমরা এ বছর একটা কঠোর অবস্থানে যাচ্ছি।’

জাহিদ মালেক আরও বলেন, যতদিন কোয়ারেন্টিন ততদিন আমরা তাদের পাসপোর্ট ধরে রাখব। সামরিক বিভাগ, পুলিশ এবং আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগও বিষয়টি তদারক করবে। আরেকটি জিনিস আমরা করব, যে হোটেল থেকে রোগী বেরিয়ে যাবে, সেই হোটেলকেও আমরা পেনাল্টিতে নিয়ে আসব।

বর্তমানে বিমানবন্দরের টার্মিনাল-২-এ দুই হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে বিদেশগামীদের করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর পরিবর্তে বিমানবন্দরের গাড়ি পার্কিংয়ের ভবনের দোতলায় ৩৬ হাজার বর্গফুট জায়গায় নমুনা পরীক্ষাগার করা হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, এই গবেষণাগার তৈরি হয়ে গেলে বিদেশগামীদের করোনার নমুনা পরীক্ষায় ভোগান্তি কমবে। এ ছাড়া বিশ্রামাগার, টয়লেট, খাওয়া-দাওয়ার সুবিধা রাখা হচ্ছে।কাজ শেষ হয়ে গেলে ‘অল্প কিছুদিনের মধ্যেই’ নতুন পরীক্ষাগারটি তা চালু হয়ে যাবে।

দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দেশে আসা ২৪০ জনকে খুঁজে পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের খুঁজে বের করতে স্থানীয় প্রশাসন কাজ করছে। এটা একমাস আগের কথা, তারপরও আমরা ছাড়ছি না, সবাইকে খুঁজে বের করব।’