কুয়েত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ রবিবার ঘোষণা করেছে যে, নিরাপত্তা পরিষেবাগুলি আগামীকাল সোমবার একটি ব্যাঙ্কে সশস্ত্র ডাকাতি বিষয়ক একটি অনুশীলন মহড়া করবে৷
সম্পর্ক ও নিরাপত্তা মিডিয়ার জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের দ্বারা জারি করা একটি প্রেস বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, এই মহড়াটি নিরাপত্তা পরিষেবা এবং রাষ্ট্রের বেসরকারী কর্তৃপক্ষের মধ্যে সহযোগিতার কাঠামোর মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে এবং নিরাপত্তা সংস্থার কৌশল বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
নিরাপত্তা সদস্যদের দক্ষতা এবং নিরাপত্তা প্রস্তুতির জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ এটি।
তিনি জোর দিয়েছিলেন যে, এই অনুশীলনটি যে কোনও জরুরি ঘটনা বা ডেটা সুরক্ষিত করতে এবং সুরক্ষা প্রস্তুতির স্তর নির্ধারণ করতে ক্ষেত্রের মিথস্ক্রিয়া সম্পর্কিত দক্ষতা এবং তথ্য স্থানান্তর করতে অবদান রাখে। সুত্রঃ আল ওয়াতন আরাবি।
কুয়েতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ খালেদ আল-সাইদ নাগরিক এবং বাসিন্দাদের সুবিধার্থে এবং অভিযোজন, সহাবস্থান এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার বৈশ্বিক প্রবণতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে মহামারী সংক্রান্ত পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য পদ্ধতি সহজীকরণ এবং নমনীয়তা গ্রহণ করতে যাচ্ছেন।
আজ রবিবার (১৩ ফেব্রুয়ারী) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সুত্রে আল আনবা পত্রিকা বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৮১৯ জনে।
একই সময় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৮৩৮ জন। এ নিয়ে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৯ হাজার ৬৬৪ জনে।
রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ৮৫ শতাংশে
এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১৩ হাজার ৮৫৩ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৫৫ জন।
দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ২০২০ সালের ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই বছর সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছিল ৬৪ জনের।
ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় গত বছর জুন থেকে রোগীর সংখ্যা হু-হু করে বাড়তে থাকে। ২৮ জুলাই একদিনে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। ২০২১ সালের ৭ জুলাই প্রথমবারের মতো দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৫ ও ১০ আগস্ট ২৬৪ জন করে মৃত্যু হয়, যা মহামারির মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। এরপর বেশকিছু দিন ২ শতাধিক মৃত্যু হয়।
এরপর গত ১৩ আগস্ট মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ এর নিচে নামা শুরু করে। দীর্ঘদিন শতাধিক থাকার পর গত ২৮ আগস্ট মৃত্যু ১০০ এর নিচে নেমে আসে।
২০২০ সালের এপ্রিলের পর গত বছরের ১৯ নভেম্বর প্রথম করোনাভাইরাস মহামারিতে মৃত্যুহীন দিন পার করে বাংলাদেশ। সর্বশেষ দ্বিতীয়বারের মতো ৯ ডিসেম্বর মৃত্যুশূন্য দিন পার করেছে দেশ।
ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণেই ছিল। কিন্তু এরমধ্যেই বিশ্বে শুরু হয় ওমিক্রন ঝড়। ৩ জানুয়ারি দৈনিক শনাক্তের হার ৩ শতাংশ এবং ৬ জানুয়ারি তা ৫ শতাংশ ছাড়ায়। এরপর থেকে সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে শুরু করেছে।
** এপোয়েন্টমেন্ট ছাড়া যারা ফিঙ্গার করতে যাবেন তাদের ফিংগার নেওয়া হচ্ছেনা, এপোয়েন্টমেন্ট লাগবে মাস্ট (এপোয়েন্টমেন্টের প্রিন্ট আউট প্যপার রাখবেন সাথে)
** কমার্শিয়াল ভিজিট ভিসা নিয়ে যারা ২৪-১১-২০২১ তারিখের আগে কুয়েতে প্রবেশ করেছেন তারা আকামা (হাউল) ট্রান্সফার করে ওয়ার্ক পার্মিট করতে পারবেন তবে এর শেষ সময় নির্ধারন করা হয়েছে ৩১-৩-২০২২ তারিখ পর্যন্ত।
** আকামা ১৮ (বেসরকারী খাত), ২২ এবং ২৪ নাম্বার আকামাধারী যারা আছেন তারা কুয়েতে বাহিরে থাকলে ৬ মাস পর অটোমেটিক আকামা বাতিল হয়ে যাবে। এছাড়া কুয়েতের বাইরে থাকা লোকদের জন্য অনলাইনে আকামা নবায়নের সিস্টেম এখনও চালু রয়েছে।
লেখা: #kawsar এডমিন ও কন্ট্রলার কুয়েত প্রবাসী সাপোর্ট টিম পেইজ এবং গ্রুপ রিলেটেড।
উন্নয়ন প্রকল্পে বিদেশ সফরের জন্য মরিয়া এক শ্রেণির কর্মকর্তা। এজন্য প্রকল্প প্রস্তাব প্রস্তুত করার সময়ই প্রথম নজর দেওয়া হয় বিদেশ সফর ও গাড়ি কেনার ওপর। প্রয়োজন না থাকলেও যেনতেন সাধারণ বিষয়েও বিদেশ সফরের প্রস্তাব খাড়া করা হয়। বিষয়টি নিয়ে নানা বিতর্ক শেষ না হতেই এবার সামনে এলো খাদ্যগুদাম দেখতে বিদেশ সফরের প্রস্তাব।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন খাদ্য অধিদপ্তরের এমন একটি প্রকল্পে বিদেশ যেতে চান ৩০ জন কর্মকর্তা। বৈদেশিক প্রশিক্ষণের নামে এ খাতে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। যেখানে প্রত্যেকের জন্য খরচ ধরা হয়েছে ৯ লাখ টাকা।
দেশের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে নতুন খাদ্য গুদাম ও আনুষঙ্গিক সুবিধাদি নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পে এমন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এই ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে যাচ্ছে পরিকল্পনা কমিশন। মঙ্গলবার অনুষ্ঠেয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় এ বিষয়ে যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে হবে সংশ্লিষ্টদের। এমনটিই জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।
উন্নয়ন প্রকল্পে বিদেশ সফরের বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এর আগে যুগান্তরকে বলেন, ‘অপচয় কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অর্থ অপচয়ের একটি অন্যতম উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে উন্নয়ন প্রকল্প। একান্ত প্রয়োজন না হলে প্রশিক্ষণ বা শিক্ষা সফরের নামে পিকনিক করার জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ রাখাটাকে সমর্থন করি না। এ বিষয়ে আমরা সচেতন আছি। আরও তৎপর হতে হবে।’
সূত্র জানায়, ‘দেশের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে নতুন খাদ্য গুদাম ও আনুষঙ্গিক সুবিধাদি নির্মাণ’ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৯২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। সরকারি অর্থায়নে এটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পটি দেশের ৮ বিভাগের ৫৩টি জেলার ১২৮ উপজেলা এবং চারটি সিটি করপোরেশনে বাস্তবায়িত হবে। এর আওতায় ১৯৬টি খাদ্য গুদাম নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেলে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে খাদ্য অধিদপ্তর।
প্রকল্পের আওতায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪০ জনকে স্থানীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩০ জনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণের সংস্থান রাখা হয়েছে। তবে পিইসি সভার কার্যপত্রে বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণের যৌক্তিকতাসহ এর বিস্তারিত বিভাজনের বিষয়ে সভায় আলোচনা যেতে পারে।
সেই সঙ্গে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে রাজস্ব খাতে সুপারভিশন কনাসালট্যান্টের জন্য ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে। কিন্তু পরিকল্পনা কমিশন সূত্র মনে করে, এভাবে গড়পড়তা কোনো ব্যয় বা বরাদ্দ অনুমোদন করা সমীচীন হবে না। এর চুলচেরা বিশ্লেষণ করে যতটুকু বা যা প্রয়োজন, সেটিই অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হবে। পাশাপাশি পরামর্শক ব্যয় যৌক্তিকভাবে কমানো প্রয়োজন। পরামর্শকের বিস্তারিত ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) যুক্ত করতেও বলা হবে পিইসি সভায়।
কথা হয় খাদ্য অধিদপ্তরের নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) আবু বকর সিদ্দিকীর সঙ্গে। শনিবার তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘প্রকল্প প্রস্তাবে অনেক কিছুই থাকে। মিটিংয়ে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। তারপরই কথা বলা যাবে। এখন বলে কি হবে? তবে গুদামগুলোতে অনেক আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হবে। এসব বিষয়ে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজন আছে। আমরা প্রস্তাব দিয়েছি কর্তৃপক্ষ (পরিকল্পনা কমিশন) যদি মনে করে রাখার দরকার নেই, তাহলে আমরাও বাদ দেব।’
প্রকল্প প্রস্তাবে খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম একটি জনবহুল ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিপূর্ণ একটি দেশ। প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের এ দেশ। বিপুল এ জনগোষ্ঠীকে পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ ও তাদের পুষ্টি নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক সংগ্রহ কার্যক্রমের আওতায় খাদ্যশস্য (ধান, চাল, গম) সংগ্রহ করে। এসব খাদ্য বিভিন্ন খাদ্য গুদাম যেমন-এলএসডি (লোকাল সাপ্লাই ডিপো), সিএসডি (সেন্ট্রাল সাপ্লাই ডিপো) ও সাইলোতে (বৃহৎ খাদ্য সংরক্ষণাগার) সংরক্ষণ ও বিতরণ করা হয়।
বর্তমানে খাদ্য বিভাগের অধীন ৬টি সাইলো, ১২টি সিএসডি এবং ৬৩৫টি এলএসডি আছে। এসবের মোট ধারণক্ষমতা ২১ দশমিক ৮০ লাখ টন। পর্যায়ক্রমে ২০২৫ সালের মধ্যে এ ধারণক্ষমতা ৩৭ লাখ টনে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এছাড়া প্রতি বছর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে বিদ্যমান গুদামগুলো খাদ্যশস্য সংরক্ষণের উপযোগী করা হয়। পাশাপাশি প্রকল্প প্রণয়নের মাধ্যমেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাদ্যগুদাম নির্মাণ করা হয়।
জরাজীর্ণ গুদাম অপসারণ করে নতুন গুদাম নির্মাণ করা গেলে স্বল্প ব্যয়ে খাদ্যশস্য সংরক্ষণের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করা যাবে। প্রয়োজনে গুদাম ভাড়া দিয়ে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়ানো সম্ভব। এসব বিবেচনায় প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ১ দশমিক ৩৫ লাখ টন ধারণ ক্ষমতার গুদাম নির্মাণ করা হবে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ১৯৬টি খাদ্য গুদাম নির্মাণ এবং ৭২৫টি সিসি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া ৩৫ হাজার ৮৫০টি খাদ্যশস্য সংরক্ষণের জন্য ডানেজ (এক ধরনের যন্ত্র) সংগ্রহ করা, ৫০টি ময়েশ্চার স্টাবিলাইজার স্থাপন, কর্মকর্তাদের জন্য ১০টি যানবাহন ক্রয় এবং জনবল নিয়োগ করা হবে।
দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরতা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এতে সার্বিক অর্থনীতিতে ঝুঁকির মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে-এমন মন্তব্য বিশেষজ্ঞদের। তাদের মতে, বৈদেশিক বাণিজ্যের ঘাটতি, আমদানিতে ঘাটতি অর্থায়নে প্রধান ভূমিকা রাখছে রেমিট্যান্স।
পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে স্থিতিশীলতা রক্ষা ও টাকার প্রবাহ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও রয়েছে এর অগ্রণী ভূমিকা। এছাড়া শুধু রেমিট্যান্সের ওপর ভর করে অর্থনীতির অনেক সূচক সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আবার রেমিট্যান্স হঠাৎ করে কমতে থাকলে অর্থনীতির নানা সূচকে চাপ বেড়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের আরও অভিমত-অতীতে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের জন্য শ্রীলংকা রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক ঋণের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভর করে এখন সংকটে পড়েছে। চীন ও কানাডা রপ্তানির ওপর নির্ভর করে ২০০৭ সালের বৈশ্বিক মন্দায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশকে এখন বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের জন্য এককভাবে রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভর না করে বহুমুখী উৎস বাড়ানোর পদক্ষেপ নিতে হবে। কোনো কিছুতেই বেশিদিন একক নির্ভরশীলতা ভালো নয়।
তিনি আরও বলেন, রেমিট্যান্সের অর্থ ভোগবিলাসে ব্যয় না করে উৎপাদন খাতে ব্যয় করতে হবে। সরকারকে সেদিকে নজর দিতে হবে। তাহলে শিল্প হবে, উৎপাদন বাড়বে, কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার খুলবে। ফলে আরও বেশি সুফল পাওয়া যাবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের অর্থনীতির আকার বড় হচ্ছে। আমদানি বাড়ছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানোরও কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু রেমিট্যান্সের পাশাপাশি অন্যান্য উৎস যেমন-রপ্তানি, বিদেশি বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সেবা প্রদান, পরামর্শক বাবদ ফি আয় বাড়ানো উচিত। তা না হলে হঠাৎ করে রেমিট্যান্স কমে গেলে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় চাপ বেড়ে যায়। যেটা বাংলাদেশে ২০০১ সালে হয়েছে। বর্তমানেও হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ৪৯৩ কোটি ডলার। গত অর্থবছরে তা বেড়ে ২ হাজার ৪৭৮ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত ছয় বছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্সে আগের বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধির হার ছিল আড়াই শতাংশ নেতিবাচক। ২০১৯-২০ অর্থবছরের তুলনায় গত অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ।
সূত্র জানায়, রেমিট্যান্স বাড়ায় দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এর মধ্যে টাকার প্রবাহ বেড়েছে, দরিদ্রতা কমেছে, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে, বাজারে ভোগের চাহিদা তৈরি হয়েছে, এতে বেড়েছে উৎপাদন। সব মিলে জিডিপির প্রবৃদ্ধিতে এর অবদান বেড়েছে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য রাখতেও ভূমিকা রাখছে রেমিট্যান্স। আমদানির ঘাটতির অর্থায়নে রেমিট্যান্সের অবদান বেড়েছে।
এদিকে রেমিট্যান্স ছাড়া সরকারিভাবে এগুলো করা খুব কঠিন। দেশের বিভিন্ন সংকটে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স অর্থনীতিতে ভারসাম্য রক্ষা করেছে।
২০১৫-১৬ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) রেমিট্যান্সের অবদান ছিল ৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এর আগে আরও বেশি ছিল। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা কমে ৫ দশমিক ১১ শতাংশে নেমে আসে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা আরও কমে নেমে আসে ৪ দশমিক ৬৬ শতাংশে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জিডিপিতে রেমিট্যান্সের অবদান সামান্য বেড়ে দাঁড়ায় ৪ দশমিক ৬৭ শতাংশে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে আরও বেড়ে ৪ দশমকি ৮৭ শতাংশে ওঠে। ২০২০-২১ অর্থবছরে তা আরও বেড়ে ৬ দশমিক ০৩ শতাংশ অবদান রেখেছে।
দেশের রপ্তানি আয় দিয়ে আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব হয় না। ফলে বৈদেশিক বাণিজ্যে ঘাটতি থাকে। রপ্তানি আয়ের তুলনায় আমদানি ব্যয় বেশি বাড়ায় এ ঘাটতি আরও বাড়ছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আমদানি হয়েছিল ৩ হাজার ৯৭২ কোটি ডলার। গত অর্থবছরে আমদানি হয়েছে ৬ হাজার ৬৮ কোটি ডলার। আলোচ্য সময়ে আমদানি বেড়েছে ২ হাজার ৯৬ কোটি ডলার বা ৫৩ শতাংশ।
একই সময়ে রপ্তানি আয় ৩ হাজার ৩৪৪ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ৩ হাজার ৮৭৬ কোটি ডলার হয়েছে। আলোচ্য সময়ে আয় বেড়েছে ৫৩২ কোটি ডলার বা ১৬ শতাংশ। ওই সময়ে রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেড়েছে প্রায় চারগুণ বেশি। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বৈদেশিক বাণিজ্যে ঘাটতি হয়েছিল ৬২৭ কোটি ডলার। গত অর্থবছরে ঘাটতি বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ১৯২ কোটি ডলার।
আমদানি ব্যয়ের তুলনায় রপ্তানি আয় কম বাড়ায় আমদানিতে ঘাটতি অর্থায়ন করতে হচ্ছে রেমিট্যান্স থেকে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মোট আমদানির ৩৭ দশমিক ৪২ শতাংশ ঘাটতি রেমিট্যান্স থেকে মেটানো হয়েছিল। গত অর্থবছরে ৪০ দশমিক ৮৩ শতাংশ আমদানির ঘাটতি মেটানো হয়েছে রেমিট্যান্স থেকে।
রেমিট্যান্স থেকে আমদানি ব্যয়ের ৪০ দশমিক ৮৩ শতাংশ মেটানোর পর বাকি ৫৯ শতাংশ দেশের রিজার্ভে যোগ হচ্ছে। এতে হু-হু করে বেড়েছে রিজার্ভ। ২০১৬ সালের জুনে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার কোটি ডলার। এখন তা বেড়ে ৪ হাজার ৫৪৮ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশাল আমদানি ব্যয় মেটানোর পরও রেমিট্যান্সের ওপর ভর করে রিজার্ভ বেড়েছে।
বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের চেয়ে আয় বেশি হলে বৈদেশিক মুদ্রার চলতি হিসাবে ডলার উদ্বৃত্ত থাকে। কম হলে ঘাটতি দেখা দেয়। এ হিসাবে ঘাটতি হলে টাকার মান ধরে রাখার ওপর চাপ পড়ে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত ছিল ৩৭১ কোটি ডলার। গত অর্থবছরে উদ্বৃত্ত কমে ঘাটতি হয়েছে ৪৫৭ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বরে এ ঘাটতি আরও বেড়ে ৮১৮ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।
মূলত রেমিট্যান্স কম আসায় এ হিসাবে ঘাটতি বেড়েছে। ফলে টাকার মানে চাপ পড়েছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হিসাবে গত এক বছরে ডলারের বিপরীতে গড়ে টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে আড়াই থেকে সাড়ে ৩ শতাংশ। এতে ডলারের দাম বেড়েছে। ফলে আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে। আমদানি পণ্যের মূল্য বাড়ছে। এতে মূল্যস্ফীতিতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
সূত্র জানায়, ২০০১ সালে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে গিয়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১০০ কোটি ডলারের নিচে নেমে এসেছিল। তখন এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের বা আকুর (বাংলাদেশসহ নয়টি দেশ বাকিতে পণ্য আমদানি রপ্তানি করে দুই মাস পর পর দায়দেনা সমন্বয় করে) দেনা পরিশোধ করতে পারেনি। সোয়াপ পদ্ধতিতে (আকু থেকে স্বল্পমেয়াদি ঋণ নিয়ে দেনা সমন্বয় করেছিল।
আফগানিস্তানের জব্দ করা অর্থের মধ্যে ৩৫০ কোটি ডলার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে টুইন টাওয়ারে হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিলিয়ে দিতে চান।
যুক্তরাষ্ট্রের এ মনোভাবের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে শনিবার বিশাল বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে আফগানিস্তানে। খবর আরব নিউজের।
তালেবান সরকারের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট বাইডেনের এ সিদ্ধান্তকে ‘চুরি’ এবং ‘নৈতিক অবক্ষয়’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন আফগানিস্তানের জনগণ।
রাজধানী কাবুলের গ্র্যান্ড ঈদগাহ মসজিদের সামনে শনিবার জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীরা গত দুই দশক ধরে আফগানিস্তানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের জন্য উল্টো যুক্তরাষ্টকে জরিমানা দেওয়ার দাবি জানান।
তারা বলেন, আজ যুক্তরাষ্ট্রের কারণে আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষ না খেয়ে মারা যাচ্ছে। রিজার্ভের ৭০০ কোটি ডলার আটকে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানের জনগণকে দুর্ভিক্ষের দিকে ঢেলে দিয়েছে।
হোয়াইট হাউস থেকেও সম্প্রতি বলা হয়েছে, জব্দ করা আফগান অর্থ নিয়ে মার্কিন আদালতে মামলা চলছে। ৯/১১ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা ওই অর্থ দাবি করে মামলাটি করেছিলেন। এ কারণে ৩৫০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ যুক্তরাষ্ট্রেই রাখা হবে।
উল্লেখ্য, গত আগস্টে রাজধানী কাবুল দখল করে তালেবান। ওই মাসেই আফগানিস্তান ছেড়ে চলে যান দেশটিতে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে অবস্থান করা মার্কিন সেনারা। এর পর তালেবান সরকার গঠন করে।
জাতিসংঘে তালেবানের পক্ষ থেকে নিয়োগের জন্য আফগান প্রার্থী সুহাইল শাহিন আমেরিকায় থাকা ওই পুরো অর্থ আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তহবিলে জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
শাহিন বলেন, ‘ওই অর্থ আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এবং প্রকারান্তরে আফগান জনগণের সম্পদ। আমরা ওই সমুদয় অর্থ ছাড় দিয়ে আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভে জমা দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
তালেবানের দোহা দপ্তরের মুখপাত্র শাহিন এক টুইটার বার্তায় আরও বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আফগান জনগণের অর্থ চুরি ও হাতিয়ে নেওয়া একটি দেশ এবং জাতির সর্বনিম্ন স্তরের মানবিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের প্রমাণ।’
কাবুলের পতনের পর শুধু আমেরিকাই আফগান জনগণের অর্থ আটক করেনি; সেই সঙ্গে আফগানিস্তানে আন্তর্জাতিক সহায়তাও স্থগিত করে। ফলে দেশটিতে দেখা দিয়েছে তীব্র খরা এবং চরম আর্থিক সংকট। গত মাসে জাতিসংঘ জানিয়েছে, ৯৫ শতাংশ আফগানের খাওয়ার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ খাদ্য নেই।
ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস ইহুদিবাদী ইসরাইল সরকার এবং জেরুজালেমে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সাবধান করে দিয়েছে।
তাদের আগুন নিয়ে খেলা বন্ধ করতে হুশিয়ার করে বলেছে, শিগগিরই ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতন বন্ধ না হলে এর ভয়াবহ পরিণতি তাদের বরণ করতে হবে। খবর তাসনিম নিউজের।
পবিত্র আল-কুদস (জেরুজালেম) শহরের শেখ জাররাহ শরণার্থী শিবিরে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের সামরিক বাহিনী এবং অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার পর এ হুশিয়ারি বার্তা উচ্চারণ করল হামাস।
বায়তুল মুকাদ্দাস শহরের হামাস মুখপাত্র মোহাম্মদ হামাদেহ রোববার এক বিবৃতিতে বলেন, শেখ জাররাহ শরণার্থী শিবিরের ফিলিস্তিনিদের ওপর ইহুদিবাদীদের হামলা আন্তর্জাতিক ও মানবাধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং তারা প্রকৃতপক্ষে আগুন নিয়ে খেলছেন।
তিনি অধিকৃত ভূখণ্ডের সব ফিলিস্তিনিকে বিশেষ করে আল-কুদস শহরের বাসিন্দাদের শেখ জাররাহ শরণার্থী শিবিরের ফিলিস্তিনি মুসলমানদের সমর্থনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
এক ইসরাইলিকে গাড়িচাপা দেওয়ার কথিত অভিযোগ তুলে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালায় অবৈধ বসতি স্থাপনকারী ইহুদিবাদীরা।
ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে এ অঞ্চলে পশ্চিমা দেশগুলোকে কোনো ধরনের আতঙ্ক ছড়াতে বারণ করেছে তুরস্ক।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রী মেভলুত কেভুসোগ্লু শনিবার এ কথা বলেছেন। তিনি ইউক্রেন ইস্যুতে বিবৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে পশ্চিমা দেশগুলোকে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান। খবর হুরিয়েতের।
ইউক্রেনে যেকোনো সময় হামলা করতে পারে রাশিয়া- যুক্তরাষ্ট্রের এ মন্তব্যের পর তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রী পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি এ আহ্বান জানালো।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার এক আদেশে তাদের দূতাবাস কর্মীসহ সব নাগরিককে ইউক্রেন ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে। এজন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছে। পেন্টাগন বলছে, এরইমধ্যে দেড়শ সেনা প্রশিক্ষককে ইউক্রেন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান বলেন, দুই দিনের মধ্যে ইউক্রেনে হামলা চালাতে পারে রাশিয়া। আর হামলার শুরু হতে পারে আকাশপথে।
সুলিভান আরও জানান, ইউক্রেন সীমান্তে রুশ সেনা বাড়ানোর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো।
কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ইউক্রেন ইস্যুতে ফোনালাপ হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের। এখনো তারা কূটনৈতিক পর্যায়ে উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে মত দিয়েছেন বলেও নিশ্চিত করেন সুলিভান।
এদিকে রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেন ইস্যুতে জল ঘোলা করছে পশ্চিমা দেশগুলো। তারা কিয়েভে হামলার পরিকল্পনার মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়ার সেনা তৎপরতার কারণ জানতে চেয়েছে কিয়েভ।
রোববার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট থেকে এ ফল ঘোষণা করা হয়।
গণভবন থেকে অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে ফলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সার্বিকভাবে পাশের হার ৯৫.২৬। এর মধ্যে রাজশাহী বোর্ডে পাশের হার ৯৭.২৯ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩২ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থী; বরিশাল বোর্ডে পাশের হার ৯৫.৭৬ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৯৭১ শিক্ষার্থী; কুমিল্লা বোর্ডে পাশের হার ৯৭.৪৯ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪ হাজার ১৫৩ শিক্ষার্থী; দিনাজপুর বোর্ডে পাশের হার ৯২.৪৩ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫ হাজার ৩৪৯ শিক্ষার্থী।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম বোর্ডে পাশের হার ৮৯.৩৯ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৭২০ শিক্ষার্থী; সিলেট বোর্ডে পাশের হার ৯৪.৮০ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৭৩১ শিক্ষার্থী; যশোর বোর্ডে পাশের হার ৯৮.১১ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০ হাজার ৮৭৮ শিক্ষার্থী।
ফল প্রকাশের পর থেকে শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে (www.educationboardresults.gov.bd) এবং এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানা যাবে। এ ছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেও ফল সংগ্রহ করা যাবে।
মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে HSC লিখে স্পেস দিয়ে শিক্ষা বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০২১ লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসেই ফল পাওয়া যাবে।
আলিমের ফল পেতে ALIM লিখে স্পেস দিয়ে Mad লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০২১ লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে।
কারিগরি বোর্ডের ক্ষেত্রে HSC লিখে স্পেস দিয়ে Tec লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০২১ লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠালে ফিরতি এসএমএসে ফল জানানো হবে।
এ পরীক্ষায় এবার ১৪ লাখ ১৪৫ পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। পরীক্ষা শুরু হয় ২ ডিসেম্বর। শেষ হয় ৩০ ডিসেম্বর।
এবার সব বিষয়ের পরীক্ষা হয়নি। শুধু বিভাগভিত্তিক তিনটি করে নৈর্বাচনিক বিষয়ে এ পরীক্ষা নেওয়া হয়। তবে অন্যান্য বিষয়ে এসএসসি ও জেএসসিতে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে ‘সাবজেক্ট ম্যাপিং’ করে শিক্ষার্থীদের গ্রেডিং দেওয়া হবে।