জানুয়ারির মধ্যেই মালয়েশিয়ায় কর্মী ‘নিয়োগ শুরু’

শুক্রবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯ পৌষ ১৪২৮, ১৯ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

দীর্ঘদিন পর মালয়েশিয়া শ্রমবাজার খুলেছে বাংলাদেশিদের জন্য।দেশটির সরকার ইতোমধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ আশা করছেন, আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যেই মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ শুরু হবে।

মন্ত্রী বলেন, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ডাটাবেজের মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানো হবে। কর্মীরা ন্যূনতম খরচে সেখানে যেতে পারবেন। মালয়েশিয়া যাওয়ার ব্যাপারে কারো সঙ্গে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করার জন্য পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের ব্যাপারে সমঝোতা স্মারক সই শেষে দেশে ফিরেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন।

কর্মী নিয়োগের বিষয়ে গত ১৯ ডিসেম্বর একটি সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) সম্পন্ন হয়েছে। এতে বাংলাদেশের পক্ষে মন্ত্রী ইমরান আহমদ ও মালয়েশিয়ার পক্ষে দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী এম সারাভানান চুক্তিতে সই করেন। এই চুক্তির ফলে প্রায় তিন বছর বন্ধ থাকার পর আবারো বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলল।

উল্লেখ্য, গত ১০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার ঘোষণা দেয় মালয়েশিয়া। তার আগে দেশটির মন্ত্রিপরিষদ তাদের সব সেক্টরে বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার অনুমোদন দেয়। বিশেষ করে গৃহকর্মী, বাগান, কৃষি, উৎপাদন, পরিষেবা, খনি ও খনন এবং নির্মাণ খাতে বাংলাদেশি কর্মী নেবে মালয়েশিয়া।

প্রবাসীদের আত্মবিশ্বাসী হওয়ার ডাক প্রধানমন্ত্রীর।

শুক্রবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯ পৌষ ১৪২৮, ১৯ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

সব চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বাংলাদেশ সামনে এগিয়ে যাচ্ছে এবং এগিয়ে যাবে- এমন দৃঢ় প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুক্রবার মালদ্বীপে বাংলাদেশি প্রবাসীদের দেওয়া এক সংবর্ধনায় তিনি একথা বলেন।

মালদ্বীপে প্রবাসীদের আত্মবিশ্বাসী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধী ও খুনিরা সবসময় তৎপর আছে, তৎপর থাকবে। তাদের ষড়যন্ত্র চলতে থাকবে, কিন্তু ওই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই আমাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে। আমাদের দেশ আজকে এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আর এদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেলতে পারবে না। কাজেই একটা আত্মবিশ্বাস নিয়ে চলবেন।’

প্রবাসীদের কল্যাণ করা তার সরকারের দায়িত্ব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বর্তমানে যে সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হচ্ছেন তার সমাধানে তার সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মালদ্বীপের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ইস্কান্ধার স্কুল অডিটোরিয়ামে, মালে চাঁদনী মাগুতে সমবেত হন। প্রধানমন্ত্রী মালদ্বীপে তার আবাসস্থল থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীরা আপনাদের (মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশি) সঙ্গে তাদের সমস্যা নিয়ে কথা বলেছেন। তার সমস্যার সমাধানে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমি একটি সফল দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেছি। অনথিভুক্ত বাংলাদেশি শ্রমিকদের বৈধ করার বিষয়টি সংলাপে প্রাধান্য পেয়েছে।’

এখানে আকস্মিক এসে পড়ায় যারা এখনো বৈধতা পাননি সে বিষয়ে মালদ্বীপ সরকারের সঙ্গে তার সরকারের এমওইউ স্বাক্ষরের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশি প্রবাসীরা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ সরাসরি মালদ্বীপের মুদ্রায় যাতে দেশে পাঠাতে পারেন সে ব্যবস্থাও তিনি নেবেন, যাতে তাদের লোকসানের মুখে পড়তে না হয়।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে এখানকার প্রবাসীরা যাতে দেশে টাকা পাঠাতে পারেন সে ব্যবস্থা তার সরকার করে দেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এখানকার বিভিন্ন দ্বীপের অভিবাসীরা যাতে বির্বিঘ্নে দেশে টাকা পাঠাতে পারেন- সেজন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে আমি বলব, এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে এবং এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক মানি এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাটা করে দেবে, যাতে ডলার কিনে আবার বাংলাদেশে পাঠানোতে যে লোকসানটা হয়, সেটা বন্ধ হয়।

দেশে রেমিটেন্স পাঠানোদের জন্য সরকার ২ শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে টাকা আপনারা পাঠান তার থেকেও বেশি টাকা কিন্তু সরাসরি আপনার পরিবার পেয়ে থাকে।

মালদ্বীপের সঙ্গে কানেকটিভির উন্নয়নে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ৯৬ সালে সরকারের আসার পরই তার সরকার বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করে দেয় এবং বেসরকারি খাতে বিমান পরিচালনারও সুযোগ সৃষ্টি করে। যে কারণে আজকে একটি বেসরকারি খাতের বিমান মালদ্বীপে আসা শুরু করেছে। সরকারি বিমানে আমরা মালদ্বীপে যাতায়াতের একটা ব্যবস্থা করব, সেলক্ষ্য আমাদের রয়েছে।

উল্লেখ্য, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে সংযোগ জোরদারে সম্মত হওয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ বিমান ভারতের চেন্নাই হয়ে মালদ্বীপের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ চালু করার বিষয়ে গতকাল (বৃহস্পতিবার) দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশসহ ৩২ দেশ থেকে ৭০ হাজার শ্রমিক নেবে ইতালি

শুক্রবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯ পৌষ ১৪২৮, ১৯ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

অবশেষে ইতালিতে স্পন্সরে শ্রমিক নেওয়ার অনুমোদন দিল মন্ত্রিপরিষদ। বুধবার ২২ ডিসেম্বর স্পন্সরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০ হাজার শ্রমিক নেওয়ার অনুমোদন দেয় ইতালির মন্ত্রিপরিষদ। এতে সই করেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘি। বিভিন্ন সেক্টরে এসব শ্রমিক বৈধভাবে ইতালিতে এসে কাজ করতে পারবেন।

যেসব সেক্টরে শ্রমিক আসতে পারবে এর মধ্যে- মৌসুমি, অমৌসুমিসহ অন্যান্য ভিসায় মোট ৬৯ হাজার ৭০০ শ্রমিক এসে এবার কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন। মৌসুমি ও অমৌসুমিসহ অন্য কোটায় বাংলাদেশসহ ৩২টি দেশের শ্রমিক নেবে ইতালি। এর মধ্যে আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, বাংলাদেশ, বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, কোরিয়া (কোরিয়া প্রজাতন্ত্র), আইভরি কোস্ট, মিসর, এল সালভাদর, ইথিওপিয়া, ফিলিপাইন, গাম্বিয়া, ঘানা, জাপান, গুয়াতেমালা, ভারত, কসোভো, মালি, মরক্কো, মরিশাস, মলদোভা, মন্টিনিগ্রো, নাইজার, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, উত্তর মেসিডোনিয়া প্রজাতন্ত্র, সেনেগাল, সার্বিয়া, শ্রীলঙ্কা, সুদান, তিউনিসিয়া, ইউক্রেন রয়েছে। 

অন্যদিকে মালামাল পরিবহন, ট্যুরিজম, পর্যটন হোটেল, নির্মাণ কাজের জন্য শ্রমিক আসতে পারবেন। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এখনো চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়নি। এ কারণে কবে থেকে আবেদন জমা নেবে তা জানা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়রা বলছেন, খুব শীঘ্রই চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় জাসদের আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও আইন পরামর্শক অ্যাডভোকেট আনিচুজ্জামান আনিচ বলেন, এবার সিজন্যাল (কৃষি) ভিসায় বেশি শ্রমিক আনবে। কৃষিপ্রধান এ দেশে করোনার কারণে যেটুকু ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল তা পুষিয়ে নিতেই ৪২ হাজার শ্রমিক ইতালি সরকার দ্রুত সময়ে আনবে। আর নন-সিজন্যাল ভিসার প্রক্রিয়া অনেকটা জটিল। ১২ বছর আগে এটা অনেকটা উন্মুক্ত ছিল। গত দুই টার্ম বিভিন্ন নিয়মের বেড়াজালে কঠিন করেছে। যদিও উল্লেখিত দেশগুলো থেকে মাত্র ১২ হাজারের কোটা রয়েছে। সেখানে অতিরিক্ত হলে বাংলাদেশের কোটা ১ হাজারেরও কম হতে পারে।

দেশে,করোনায় আরও ১ জনের মৃত্যু।

শুক্রবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯ পৌষ ১৪২৮, ১৯ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ২৮ হাজার ৫৫ জনে। 

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায়  ৩৪২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। দেশে বর্তমানে মোট শনাক্ত রোগী ১৫ লাখ ৮২ হাজার ৭১০ জন। এক দিনে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ২৯২ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৪৬ হাজার ৯৫৬ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬ হাজার ৮৫৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ১৬ হাজার ৯১৩টি নমুনা। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ২ দশমিক ০২ শতাংশ। 

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। চলতি বছরের ৫ ও ১০ আগস্ট দুদিন সর্বোচ্চ ২৬৪ জনের মৃত্যু হয়।

দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত বছরের ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই বছর সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছিল ৬৪ জনের। 

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় চলতি বছর জুন থেকে রোগীর সংখ্যা হু-হু করে বাড়তে থাকে। ২৮ জুলাই একদিনে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। 

চলতি বছরের গত ৭ জুলাই প্রথমবারের মতো দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৫ ও ১০ আগস্ট ২৬৪ জন করে মৃত্যু হয়, যা মহামারির মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। 
বেশকিছু দিন ২ শতাধিক মৃত্যু হয়। এরপর গত ১৩ আগস্ট মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ এর নিচে নামা শুরু করে। দীর্ঘদিন শতাধিক থাকার পর গত ২৮ আগস্ট মৃত্যু ১০০ এর নিচে নেমে আসে।

প্রাণে বাঁচতে লঞ্চের তিনতলা থেকে লাফ দেন ইউএনও ও তার স্ত্রী

শুক্রবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯ পৌষ ১৪২৮, ১৯ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ নামক যাত্রীবাহী লঞ্চের ইঞ্জিন থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসাইন মোহাম্মদ আল মুজাহিদ। তিনি লঞ্চের ভিআইপি কেবিনের নীলগিরির যাত্রী ছিলেন।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় লঞ্চ থেকে লাফিয়ে বাঁচায় সময় তার স্ত্রী উম্মুল ওয়ারার ডান পা ভেঙে গেছে। বর্তমানে তারা ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) বরগুনার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। শতাধিকের বেশি যাত্রী আহত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ৭২ জনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত ২০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ইউএনও মোহাম্মদ আল মুজাহিদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ঢাকা থেকে অফিশিয়াল কাজ সেরে বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় লঞ্চে বরগুনার আসছিলেন তিনি। রাত ৩টার দিকে লঞ্চে অন্য যাত্রীদের চিৎকারে তার ঘুম ভাঙে। এ সময় লঞ্চটি সুগন্ধা নদীর মাঝখানে অবস্থান করছিল। অনেককেই নদীতে লাফিয়ে বাঁচার চেষ্টা করেন। ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন লঞ্চ থেকে তারাও লাফ দিলে তৃতীয় তলা থেকে দোতলায় পড়ে যান। তখন তার স্ত্রী উম্মুল ওয়ারার ডান পা ভেঙে যায়। তিনি আরও বলেন, লঞ্চে থাকা বৃদ্ধ এবং শিশুরাই বেশি হতাহত হয়েছেন। এ ছাড়া লঞ্চে অনেক নারী ছিলেন যারা নদীতে লাফিয়ে পড়েছেন।

লঞ্চের কয়েকজন যাত্রী জানান, লঞ্চটি ঢাকা থেকে বরগুনা ফিরছিলেন। ঝালকাঠি লঞ্চ টার্মিনালের ঠিক আগে গাবখান সেতুর কিছু আগে লঞ্চের ইঞ্চিনরুমে আগুন লেগে যায়। এরপর সেই আগুন পর্যায়ক্রমে ছড়িয়ে পড়ে পুরো লঞ্চে। এসময় যাত্রীরা অনেকেই নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে সাঁতরে তীরে উঠতে পেরেছেন। অনেকে হয়তো পারেননি।

উদ্ধার হওয়া যাত্রীরা গণমাধ্যমকে জানান, রাত তিনটার দিকে লঞ্চের ইঞ্জিনরুম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে সে আগুন পুরো লঞ্চে ছড়িয়ে পড়ে। জীবন বাঁচাতে অনেক যাত্রী লঞ্চ থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এতে হতাহতের সংখ্যা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লঞ্চটিতে প্রায় পাঁচ শতাধিক যাত্রী ছিল বলেও জানান উদ্ধার হওয়ারা।

সারা বিশ্বকে আমরাই ঋণ দেব : বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী

শুক্রবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯ পৌষ ১৪২৮, ১৯ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, দেশের অর্থনীতির সব সূচক আশানুরূপ হয়েছে। বিদায়ি অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৫০ বিলিয়ন ডলার হওয়ার আশা করেছিলাম, সেটা হয়নি। তবে চলতি অর্থবছরে রিজার্ভ ৫০ বিলিয়ন ডলার হবে। অনেকে বলেন, ঋণ করে সংসার চালায় অর্থাৎ দেশ চালায়। ঋণ বেশি। এটা সঠিক নয়। দেশের জিডিপির তুলনায় বিদেশি ঋণ খুব কম। মাত্র ৩৬-৩৭ শতাংশ। এত কম ঋণ কোনো দেশের নেই। সেদিন বেশি দূরে নয়, সারা বিশ্বকে আমরাই ঋণ দেব। ইতোমধ্যে রিজার্ভ থেকে ঋণ দেওয়া শুরু করেছি। মেগা প্রকল্পেও রিজার্ভ থেকে ঋণ পাচ্ছে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক মানেজমেন্ট (বিআইবিএম) মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার রাতে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক পুরস্কার-২০২০’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দেশের অর্থনীতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অধ্যাপক ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদকে পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কাজী ছাইদুর রহমান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক নাজমা বেগম। পুরস্কার হিসেবে তার হাতে স্বর্ণপদক, ক্রেস্ট ও পাঁচ লাখ টাকা তুলে দেন অর্থমন্ত্রী ও গভর্নর।

পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে অধ্যাপক ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, এতদিন যে উন্নয়নের সাফল্য পেয়েছি সেখানে সাধারণ মানুষের ভূমিকা ছিলো। উন্নয়নের একটা বড় বৈশিষ্ট হলো এখানকার কৃষক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড়শিল্প উদ্যোক্তারা যখন যে সুযোগ পেয়েছে তার পূর্ণব্যবহার করেছে। আর সরকার এক্ষেত্রে নীতি সহায়তা দিয়েছে। এটিই হলো বাংলাদেশের সাফল্যের মূলকথা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন সাফল্য নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। তবে মনে রাখতে হবে উন্নয়নের কৌশল সব সময় সমান উপযোগী হতে হয়। সময়ে সময়ে পরিবর্তন, পরিবর্ধন প্রয়োজনে করতে হয়। উচ্চ ফলনশস্যে প্রযুক্তির ব্যবহার, বিদেশে শ্রমবাজারের সুযোগ, তৈরি পোশাক রপ্তানি, ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সুযোগ এসব ছিল এর মধ্যে। এর সঙ্গে আরও একটি বিষয় হলো- বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা আছে। এটা অন্য দেশের মানুষের মাঝে নেই। এই উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা একটা বড় শক্তি। এটা হয়তো মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাসংগ্রাম থেকে এসেছিল, এখনো আছে।

ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, আমি এই পুরস্কার নিতে কিছুটা অস্বস্তি বোধ করছি, কারণ এই পুরস্কার প্রবর্তনের সঙ্গে আমি ও সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন যুক্ত ছিলাম। তবে স্বস্তির বিষয় হলো স্বাধীনতার ৫০ বছরে এই পুরস্কার পাচ্ছি। আমি বাংলাদেশ ব্যাংকে দেড় দশক ছিলাম। যে কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংককে দ্বিতীয় কর্মস্থল বলে মনে করি।

তিনি আরও বলেন, আমরা উন্নয়নের নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছি, বিশ্ব অর্থনীতিও বদলে যাচ্ছে। এই উন্নয়নে নানা চ্যালেঞ্জ আছে। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, মানসম্পন্ন শিক্ষা, উপযুক্ত শিক্ষার মাধ্যমে মানবসম্পদ তৈরি করা। যাতে ডেমোগ্রাফিক সুবিধা নিতে পারি। প্রশাসনের দক্ষতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানো। বিশ্ব আর্থিক অস্থিরতা সামাল দেওয়ার জন্য উন্নত মানের আর্থিক খাত গড়ে তোলা। এলডিসি থেকে উত্তরনের পর বিশ্ববাণিজ্যে সুবিধা নিতে ও টিকে থাকতে এই চ্যালেঞ্জগুলো আমাদের আছে।

ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ আরও বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন কীভাবে হয়, এতদিন এ নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। তবে এখন বিশ্ব অর্থনীতবিদরা প্রায় সবাই একমত যে, উন্নয়নের কোন ধরাবাঁধা ছক নেই। এমনকি বিশ্বব্যাংক ২০১৬ সালে এক প্রতিবেদনে বলেছে, একই নীতি ভিন্ন ভিন্ন দেশে ভিন্ন ফলাফল দেয়। এজন্য অন্য দেশের মডেল অনুসরণ করে লাভ নেই। নিজেদের অভিজ্ঞতার আলোকে নিজেদের উন্নয়ন মডেল করতে হবে। আমাদের পূর্ব এশিয়ার টাইগার না হয়ে এজন্য রয়েল বেঙ্গল টাইগার হতে হবে। অনুষ্ঠানে দেশের অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক পুরস্কার-২০১৭’ যৌথভাবে দেওয়া হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, রিভারসাইডের ইমেরিটাস অধ্যাপক আজিজুর রহমান খান ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও ব্র্যাকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মাহবুব হোসেনকে (মরণোত্তর)। আজিজুর রহমান খান স্বাধীনতার পর পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের প্রধান হিসেবে প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ ১৯৪৮ সালের ১ জুলাই নোয়াখালী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৩ সালে এসএসসি এবং ১৯৬৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় রেকর্ড নম্বর পেয়ে সম্মিলিত মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। ১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে সম্মান ডিগ্রি নেন। ১৯৭৭ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি নেন। ১৯৬৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। তিনি সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি বর্তমান সরকারের রূপকল্প-২০৪১ সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শ কমিটির চেয়ারম্যান।

কুয়েতে নতুন ভেরিয়েন্ট ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়লেও কোন প্রকার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার কোন পরিকল্পনা নেই..!

বৃহস্পতিবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৮ পৌষ ১৪২৮, ১৮ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

কুয়েত সিটি, ২৩ ডিসেম্বর: সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি অসাধারণ বৈঠকে সরকারের গৃহীত স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সিদ্ধান্তগুলি দেশে করোনাভাইরাস – ওমিক্রন – ছড়িয়ে পড়লে কী হতে পারে তা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন, আল-কাবাস দৈনিক রিপোর্ট করেছেন।

দৈনিকটির সাথে কথা বলার সময়, সরকারের সূত্রগুলি নিশ্চিত করেছেন যে ভ্যাকসিনের প্রাপ্যতা, উচ্চ টিকা দেওয়ার হার এবং স্বাস্থ্য বিধিগুলির কঠোর প্রয়োগের পরেও নতুন রূপটি ছড়িয়ে পড়লে বাণিজ্যিক সুবিধাগুলি বন্ধ করার কোনও পরিকল্পনা নেই।

সূত্রগুলি আরও স্পষ্ট করেছেন যে ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়লে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সবচেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কাজের জন্য রিপোর্ট করা কর্মচারীর সংখ্যা হ্রাস করা বা দূরবর্তী কাজের সিস্টেম এবং অনলাইন শিক্ষাকে আবার প্রয়োগ করা; কাউকে মাস্ক ছাড়া বন্ধ জায়গায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

সূত্র যোগ করেছেন এটা সম্ভব যে ওমিক্রন কুয়েতে ছড়িয়ে পড়বে, প্রতিবেশী দেশগুলিতে এই ধরনের ঘটনার প্রেক্ষিতে বিবেচনা করা যায়; তাই সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি সম্পূর্ণভাবে মেনে চলতে হবে এবং করোনা ভ্যাকসিনের বুস্টার ডোজ নিতে হবে কারণ এটি প্রমাণিত যে এটি ভাইরাস থেকে ৯৮ শতাংশ সুরক্ষা প্রদান করে।

📌নিউজ লিংক 👇 নিচে দেওয়া হয়েছে….

📌 নিউজ লিংক 👇
https://www.facebook.com/185411171491289/posts/5038305596201798/

✍️ Collected, translated and posted by Nahar Hoque

দেশে,করোনায় মৃত্যু দুইজনের, শনাক্ত ৩৮২

বৃহস্পতিবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৮ পৌষ ১৪২৮, ১৮ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট ২৮ হাজার ৫৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত হয়েছেন ৩৮২ জন। এ নিয়ে দেশে করোনাতে মোট শনাক্ত হলেন ১৫ লাখ ৮২ হাজার ৩৬৮ জন।

দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত বছরের ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই বছর সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছিল ৬৪ জনের। 

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় চলতি বছর জুন থেকে রোগীর সংখ্যা হু-হু করে বাড়তে থাকে। ২৮ জুলাই একদিনে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। 

চলতি বছরের গত ৭ জুলাই প্রথমবারের মতো দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৫ ও ১০ আগস্ট ২৬৪ জন করে মৃত্যু হয়, যা মহামারির মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। 

বেশকিছু দিন ২ শতাধিক মৃত্যু হয়। এরপর গত ১৩ আগস্ট মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ এর নিচে নামা শুরু করে। দীর্ঘদিন শতাধিক থাকার পর গত ২৮ আগস্ট মৃত্যু ১০০ এর নিচে নেমে আসে।

কক্সবাজারে স্বামী-সন্তানকে জিম্মি করে নারী পর্যটককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ।

বৃহস্পতিবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৮ পৌষ ১৪২৮, ১৮ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

স্বামী-সন্তানকে জিম্মি করে এক পর্যটককে গণধর্ষণ করেছে তিন যুবক। বুধবার সন্ধ্যায় শহরের লাবণী পয়েন্ট থেকে তুলে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পর্যটক। খবর পেয়ে কক্সবাজার হোটেল-মোটেল জোনের জিয়া গেস্ট ইন নামের হোটেলে অভিযান চালিয়ে ঐ রাতেই তাকে উদ্ধার করে র‌্যাব-১৫।

ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) ফুটেজ দেখে ধর্ষণের সাথে জড়িত দুইজনকে শনাক্ত করেছে র‌্যাব। তারা হলেন, কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া এলাকার আশিকুল ইসলাম ও আব্দুল জব্বার জয়া। ভুক্তভোগী ওই নারী সাংবাদিকদের জানান, বুধবার সকালে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে স্বামী-সন্তানসহ কক্সবাজারে বেড়াতে আসেন। ওঠেন শহরের হলিডে মোড়ের একটি হোটেলে। বিকেলে সৈকতের লাবনী পয়েন্টে যান। সেখানে অপরিচিত এক যুবকের সঙ্গে তার স্বামীর ধাক্কা লাগলে, কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে সন্ধ্যার পর পর্যটন গলফ মাঠের সামনে থেকে তার ৮ মাসের সন্তান ও স্বামীকে সিএনজি অটোরিকশায় করে কয়েকজন তুলে নিয়ে যায়।

‘এ সময় আরেকটি সিএনজি অটোরিকশায় তাকে তুলে নেয় তিন যুবক। পর্যটন গলফ মাঠের পেছনে একটি ঝুপড়ি চায়ের দোকানের পেছনে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে তিনজন। এরপর তাকে নেয়া হয় জিয়া গেস্ট ইন নামে একটি হোটেলে। সেখানে ইয়াবা সেবনের পর আরেক দফা তাকে ধর্ষণ করেন ওই তিন যুবক। ঘটনা কাউকে জানালে সন্তান ও স্বামীকে হত্যা করা হবে জানিয়ে রুম বাইরে থেকে বন্ধ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তারা।

ওই নারী আরও জানান, জিয়া গেস্ট ইনের তৃতীয় তলার জানালা দিয়ে এক যুবকের সহায়তায় কক্ষের দরজা খোলেন তিনি। তারপর ফোন দেন ৯৯৯-এ। পুলিশ তাকে থানায় সাধারণ ডায়রি করার পরামর্শ দেয়।

তারপর পাশের একজনের সহযোগিতায় কল দেন র‌্যাবকে। তারা এসে তাকে উদ্ধার করে। তার স্বামী ও সন্তানকে উদ্ধার করা হয় পর্যটন গলফ মাঠ এলাকা থেকে। তিনি আরও বলেন, বারবার হাতে-পায়ে ধরলেও তারা আমার স্ত্রীকে ফেরত দেয়নি। বেড়াতে এসেছিলাম বেতন পেয়েছি সেই খুশিতে। এখন স্ত্রীর অবস্থা ভালো নয়, তাকে নিয়ে চিন্তায় আছি। কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ এর সিপিসি কমান্ডার মেজর মেহেদী হাসান বলেন, খবর পেয়ে স্বামী-সন্তান ও গৃহবধূকে উদ্ধার করা হয়। ছায়া তদন্ত শুরু করেছি, এখন পর্যন্ত তিনজনের মধ্যে দুইজনকে শনাক্ত করা গেছে। তাদের ধরতে অভিযান চলছে। কক্সবাজার ব্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খায়রুল ইসলাম সরকার বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের কঠোর শাস্তি পেতে হবে। বিষয়টি নিয়ে অধিকতর তদন্ত চলছে। মামলার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিজস্ব মুদ্রা রাষ্ট্রের জন্য হুমকি : বাংলাদেশ ন্যাপ।

বৃহস্পতিবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৮ পৌষ ১৪২৮, ১৮ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের অভ্যন্তরে মায়ানমারের নিষিদ্ধ সংগঠন আরসা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের নিজস্ব মদ্রা ছড়িয়ে দেযার বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ। সংগঠনটির চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া এবিষয়ে বলেন, বাংলাদেশের মাটিতে অন্য কোন মুদ্রা চালু করা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। আশ্রিত রোহিঙ্গারা এই রাষ্ট্রদ্রোহিতা করার দু:সাহষ পায় কি করে।

বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে তারা এ সব কথা বলেন। তারা বলেন, একসঙ্গে এতসংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন। সীমিত সম্পদ ও অতি অপ্রতুল বাসযোগ্য ভূখন্ডসত্তে¡ও মানবতার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের পাশে দাড়ায়। সেই রোহিঙ্গারা এখন শুধু অকৃতজ্ঞ নয়, কৃতঘ্ন আচরণ করছে। নিজস্ব মুদ্রা চালুর মত ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে। রোহিঙ্গারা আক্ষরিক অর্থেই বাংলাদেশের জন্য নানা ক্ষতিকর কাজে লিপ্ত হয়ে অকৃতজ্ঞের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।

নেতৃদ্বয় বলেন, রোহিঙ্গা শিবিরগুলো হত্যা, ধর্ষণ, মানবপাচার, চাঁদাবাজি, অস্ত্রপাচার ও মাদকপাচারের ভয়ংকর আখড়ায় পরিণত হয়েছে। রোহিঙ্গা দুর্বৃত্তরা এ দেশের মানুষকেও হত্যা করছে। পাসপোর্ট, এনআইডি জালিয়াতি করে, এমনকি বিদেশে গিয়ে বাংলাদেশের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বাঙালিরাও মিলেমিশে মাদক, অস্ত্র ও মানব পাচারের ভয়াবহ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। রোহিঙ্গা শিবিরে অস্ত্রের চাহিদা এতই বাড়ছে যে বাইরে থেকে আসা অবৈধ অস্ত্রে চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। তাই রোহিঙ্গা শিবিরের পাহাড়েও অস্ত্রের কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে।

তারা বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এমন মুদ্রা প্রচলনের বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য হুমকি। সাধারণত কোনো দেশ প্রতিষ্ঠা লাভের পর তার নিজের মুদ্রা চালু করে থাকে। একটি জঙ্গি সংগঠন কেন মুদ্রা প্রচলন করল? বিষয়টি সন্দেহজনক। বাংলাদেশ সরকারের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত। একই সাথে মুদ্রা প্রচলনের সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

নেতৃদ্বয় বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরসার নতুন মুদ্রা দিয়ে লেনদেন শুরু হওয়া কোন শুভ লক্ষন নয়। একই সাথে মুদ্রা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচরনা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছাড়া অন্য কিছুই নয়। কিছু দিনের মধ্যে আরসা নিয়ন্ত্রিত সবগুলো ক্যাম্পে নতুন এ মুদ্রা চালু হবে যা দেশের আভ্যন্তরিন নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি হতে পারে। জঙ্গি সংগঠন আরসা’র কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে তাদের নিজস্ব মুদ্রা ছেড়ে দেয়া শুধু বাংলাদেশ নয়-গোটা দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের জন্য নিরাপত্তার হুমকি তৈরি করতে পারে।