প্রবাসী স্বামী দেশে ফেলার মাত্র ৫ দিনের মাথায় লাশ হলেন ইলমা চৌধুরী মেঘলা (২৬)।

বৃহস্পতিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০১ পৌষ ১৪২৮, ১১ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

কানাডা প্রবাসী স্বামী দেশে ফেলার মাত্র ৫ দিনের মাথায় লাশ হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রী ইলমা চৌধুরী মেঘলা (২৬)। তিনি নৃত্য ও কলা বিভাগের ২০-১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের মেধাবী ছাত্রী ছিলেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশ গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে ওই ঢাবি ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

ইলমা চৌধুরী মেঘলা ধামরাইয়ের পাঠানটোলা মহল্লার মো. সাইফুল ইসলাম চৌধুরী খসরুর তিন মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে। অমানুষিক জুলুম নির্যাতনের পর নির্মমভাবে খুন হওয়া মেঘলার পিত্রালয়ে বইছে গভীর শোকের মাতম। তাকে হারানোর শোকে পরিবারের সদস্যরা বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন। সংজ্ঞা ফিরেই বলছেন মেঘলাকে এনে দাও। ওর হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।

ওই ঢাবি ছাত্রীর শরীরে রয়েছে অসংখ্য আঘাত ও নির্যাতনের চিহ্ন। এ ঘটনায় পুলিশ স্বামী ইফতেখার উদ্দিন শাওনকে গ্রেফতার করেছে।

মেঘলার পরিবারের দাবি, মেঘলাকে অমানুষিক জুলুম নির্যাতনের পর নির্মমভাবে হত্যা করেছে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পরিবার ঘাতকদের ফাঁসি দাবি করেছেন।

মাত্র ৫ মাস আগে ইলমা চৌধুরী মেঘলা ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন কানাডা প্রবাসী রাজধানীর বনানী ২নম্বর রোডের ৪৪ নম্বর বাড়ির মো. ইফতেখার উদ্দিন শাওনকে। বেশিদিন সুখ সইল না ইলমা চৌধুরী মেঘলার কপালে। ৫ মাসের মাথায়ই শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্মম নির্যাতনে প্রাণ গেল তার।

মেঘলার চাচা তেনজিন চৌধুরী বলেন, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্য ও কলা বিভাগের ছাত্রী ছিল আমার আদরের ভাতিজি ইলমা চৌধুরী মেঘলা। মেঘলা খুবই নম্র ভদ্র স্বভাবের ছিল। ওকে নিয়ে আমাদের অনেক বড় স্বপ্ন ছিল। আমাদের পরিবারের অমতে ভালবেসে কানাডা প্রবাসী ইফতেখার শাওনকে বিয়ে করে। তাও মাত্র ৫ মাস আগে। পরিবারের সবাই মিলে নানা অজুহাতে আমার ভাতিজির ওপর অমানুষিক জুলুম নির্যাতন চালানো হতো।

তিনি জানান, ইফতেখার শাওন কানাডা থেকে দেশে ফেরার পর তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। এ নির্যাতনেই তার মৃত্যু ঘটে। তার শরীরে রয়েছে নির্যাতন ও আঘাতের অসংখ্য চিহ্ন। পুলিশ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খবর পেয়ে পুলিশ গুলশান ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে আমার ভাতিজির লাশ উদ্ধার ও স্বামীকে গ্রেফতার করেছে। আমরা আমার ভাতিজির ঘাতকদের ফাঁসি চাই।

এ কেমন ভুল!

বৃহস্পতিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০১ পৌষ ১৪২৮, ১১ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তিতে সারা দেশের মানুষকে শপথ পাঠ করিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে আজ (১৬ ডিসেম্বর) বিকালে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে শপথ করান।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে- প্রধানমন্ত্রী যে ডায়াসে দাঁড়িয়ে দেশবাসীকে শপথ পড়িয়েছেন, সেই ডায়াসে মুজিববর্ষ বানান-ই ভুল!সেখানে মুজিববর্ষের জায়গায় লেখা হয়েছে মুজিবর্ষ! এত বড় একটি ঐতিহাসিক জাতীয় অনুষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষের এটি নজরে পড়েনি।দায়িত্বরতদের খামখেয়ালিপনায় সারা বিশ্ব

জাতির পিতার নামের এমন বিকৃতির ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।প্রশ্ন তুলছেন এমন জাতীয় অনুষ্ঠানের দায়িত্বরতদের দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজের। 

একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী তার টাইমলাইনে ছবিটি পোস্ট করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ওই নেটিজেন এত বড় আয়োজনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে ডায়াসের এই একমাত্র ছোট্ট লেখাটাও দেখার কি কেউ ছিল না? এটাও কি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসেনি বলে সমাধান/ত্রুটিমুক্ত হয়নি- এমন প্রশ্নও রাখেন।

জাতীয় এই অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছিল বহুদিন আগ থেকে। এরপরও প্রধানমন্ত্রীর ডায়াসে এমন ভুল মেনে নেওয়া যায় না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন মানুষ।

বিকাল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠানস্থলে আসেন।এরপরই জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়।কিছুক্ষণ পরেই জাতীকে শপথ করাতে প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে উঠেন।এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পাশে ছিলেন তার ছোট বোন শেখ রেহানা।

বিকাল পৌনে ৫টায় প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি সারা দেশের সঙ্গে যুক্ত থেকে শপথ বাক্য পাঠ করান।দেশের সব বিভাগ/জেলা/উপজেলা স্টেডিয়াম/মহান বিজয় দিবসের নির্ধারিত ভেন্যু থেকে শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

গণমাধ্যমসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর শপথের ছবি প্রকাশ হওয়ার পরই বানান ভুলের বিষয়টি সবার চোখে পড়ে।প্রশ্ন তোলে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন অনেকে।

দেশে,দেশে করোনায় আরও ৩ জনের মৃত্যু

বৃহস্পতিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০১ পৌষ ১৪২৮, ১১ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল বুধবার সকাল আটটা থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল আটটা পর্যন্ত) করোনায় সংক্রমিত আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ২৫৭ জন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগের দিন ৪ জনের মৃত্যু ও ২৯৭ জন রোগী শনাক্তের খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে মোট ২৫ হাজার ২০৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ১ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। আগের দিন এ হার ছিল ১ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ।

গত বছরের মার্চে দেশে প্রথম করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১৫ লাখ ৮০ হাজার ৫৫৯। তাঁদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ৪১ জনের এবং এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৪৫ হাজার ১১৪ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৮১ জন সুস্থ হয়েছেন।

পাকিস্তানির মুখে বাংলাদেশের উন্নয়নের গল্প

বৃহস্পতিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০১ পৌষ ১৪২৮, ১১ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

পাকিস্তানের অর্থনীতিবিদ ও দেশটির প্রধানমন্ত্রীর ইনস্টিটিউশনাল রিফর্মস অ্যান্ড অস্টারিটি উপদেষ্টা ইশরাত হুসাইন বলেছেন, বাংলাদেশ বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপন করছে। একসময় সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বা ‘বাস্কেট কেস’ বলেছিলেন। অথচ সেই বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোলমডেল।

দ্য ডনে প্রকাশিত এক নিবন্ধে ইশরাত হুসাইন বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় আয় বেড়েছে ৫০ গুণ আর মাথাপিছু আয় বেড়েছে ২৫ গুণ, যা ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে বেশি। দেশটির খাদ্য উৎপাদনও বেড়েছে চার গুণ। রপ্তানি বেড়েছে শতগুণ। ১৯৯০ সালে বাংলাদেশে ৬০ শতাংশ দারিদ্র্য ছিল। তা কমে এখন ২০ শতাংশে নেমেছে। গড় আয়ু বেড়ে ৭২ বছর হয়েছে। অধিকাংশ সামাজিক সূচক শ্রীলঙ্কা ছাড়া আঞ্চলিক দেশগুলোর তুলনায় বেশ ভালো। দেশটির মানব উন্নয়ন সূচকের মান বেড়েছে ৬০ শতাংশ।

ইশরাত হুসাইন কর্মসূত্রে বাংলাদেশের পটুয়াখালী, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় ছিলেন। তিনি বাংলায় কথা বলতে পারেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বেশির ভাগ উন্নয়ন অর্জিত হয়েছে গত তিন দশকে। এর আগের দুই দশকে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজমান ছিল।
এ সময়ে এতটাই অগ্রগতি হয়েছে যে ১৯৯০ সালে পাকিস্তানের মাথাপিছু আয় বাংলাদেশের চেয়ে দ্বিগুণ ছিল। কিন্তু আজ পাকিস্তানের মাথাপিছু আয় কমে মাত্র সাত-দশমাংশে নেমে এসেছে। ২০১১ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে (কোভিড পরিস্থিতির আগে) বাংলাদেশের গড় মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি (জিডিপি) ৭ ও ৮ শতাংশ ছিল, যা পাকিস্তানের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

ইশরাত হুসাইন বলেন, বাংলাদেশের গল্পটি খুবই আকর্ষণীয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত একটি দেশ কীভাবে তার চেয়ে অনেক বড় ও উন্নত প্রতিবেশী দেশ—ভারত ও পাকিস্তানের অধিকাংশ আর্থসামাজিক সূচককে ছাড়িয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশ একটা কঠিন সময় পার করেছে। নতুন দেশের জন্য নতুন প্রশাসন গঠন, বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন, দেশটির প্রতিষ্ঠাতা ও শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের হত্যাকাণ্ড এবং বেশ কয়েকটি বাতিল ও সফল সামরিক অভ্যুত্থান মোকাবিলা করতে হয়েছে দেশটিকে। দেশটিতে সামরিক বাহিনী ১৯৯১ সাল (প্রকৃত ১৯৭৫-১৯৯০) পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল। তখন জেনারেল এরশাদ দেশটির সংসদীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এর পর থেকে দেশটির প্রধান দুই রাজনৈতিক দল—শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায় আসতে শুরু করে।

২০০৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগ টানা তিনবার নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসীন। এ সময়ে খালেদা জিয়া নির্বাচন বর্জন করেন। তাঁর দলের নেতা-কর্মীরা গ্রেপ্তার হন। তাঁকেও কারাগারে যেতে হয়। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে যেভাবে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে, তা সত্যিই আকর্ষণীয়।
এর কারণ হিসেবে বলা যায়—প্রথমত, ভারত ও পাকিস্তানের বিপরীতে বাংলাদেশ একই ভাষা, জাতিসত্তা এবং ইতিহাসের অংশীদারত্বের সঙ্গে সাংস্কৃতিকভাবে এক। দেশটিতে কার্যত কোনো ধর্মীয়, সাম্প্রদায়িক ও সামন্ত বিভাজন নেই। দেশটিতে গ্রাম ও শহরের মধ্যে বিভাজন রয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে তেমন অসন্তোষ না থাকায় বাংলাদেশ দ্রুত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পেরেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশে কোনো মারাত্মক বাহ্যিক হুমকিও নেই।

দ্বিতীয়ত, দেশটির সরকারের একক রূপ কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রশাসনিক, রাজনৈতিক, আইনি ও আর্থিক ক্ষমতার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দিয়েছে। এতে কারও কোনো হস্তক্ষেপ নেই। নীতি ও এর বাস্তবায়ন একটি নির্দিষ্ট চেইন অব কমান্ড অনুসরণ করে। একটি দুর্বল বিরোধী দলের কারণে ক্ষমতাসীন দল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্ষমতা ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নিজেদের ক্ষমতাকে শক্তিশালী করেছে। এতে আমলাদেরও অন্তর্ভুক্ত করেছে।

তৃতীয়ত, ১৯৭১ সালের আগেও নারীর ক্ষমতায়ন প্রবল ছিল। পরিবার পরিকল্পনা, নারীশিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে সব স্তরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) সঙ্গে দেশটির সরকার অব্যাহতভাবে প্রচারাভিযানে অংশ নেয়। ব্র্যাক, গ্রামীণ, আশার মতো বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসুবিধা দেওয়া এবং নারীদের ক্ষুদ্রঋণের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। সংকটের কথা ভেবে সরকার সুশীল সমাজের সংস্থাগুলোকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে এবং এনজিওকে স্বাধীনভাবে কাজ করার অনুমতি দিয়েছে। দেশে নারীদের কাজে অংশগ্রহণ ও লিঙ্গবৈষম্যের হার কমেছে।

চতুর্থত, তিক্ত রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক নীতি, প্রকল্প ও কর্মসূচিতে দেশটির ধারাবাহিকতা রয়েছে। কোনো দল মূল জায়গা—সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, রাজস্ব বিচক্ষণতা, মুক্তবাণিজ্য, বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করা এবং সামাজিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি থেকে বিচ্যুত হয়নি।

পঞ্চমত, বাণিজ্য উদারকরণ, মুক্তবাজার, বিদেশি প্রযুক্তি আনা এবং রপ্তানিকারকদের প্রণোদনা প্রদানে বাংলাদেশের প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হয়েছে। তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে চীনের ঠিক পেছনে থেকেও সফল বাংলাদেশ। বিশ্বের নামকরা অনেক ব্র্যান্ডের পোশাক বাংলাদেশেই তৈরি হয়। পোশাকশিল্প খাতে নারীর কর্মসংস্থান তাদের সামাজিক মর্যাদা ও পরিবারে গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে তুলেছে। তরুণদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবণতা শুরু হয়েছে।

ষষ্ঠত, টেকসই উচ্চ প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছিল যখন দেশীয় সঞ্চয় ও বিনিয়োগের হার ১৫ থেকে ৩০ শতাংশে দ্বিগুণ হয়। ক্রমবর্ধমান সামগ্রিক চাহিদার কারণে দেশটি রপ্তানি ও রেমিট্যান্স থেকে আয় করছে। এ কারণে চলতি হিসাবের ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে আছে।

ইশরাত হুসাইন বলেন, ‘এ দেশ থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। নির্বাচনে প্রার্থীর ব্যক্তিগত অবস্থানের চেয়ে কর্মক্ষমতা, জনপ্রিয়তা ও দলের রেকর্ড বেশি গুরুত্ব পায়। প্রতিদ্বন্দ্বিতা সেভাবেই হয়। বেসরকারি খাত, রাজনীতিক ও আমলাদের মধ্যে স্থিতিশীল ভারসাম্য রয়েছে। রাজনীতিকেরা নির্বাচনী প্রচারের জন্য ব্যবসা থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন, আমলারা তাঁদের অল্প বেতনকে উপহার ও পারিশ্রমিক দিয়ে পরিপূরক করেন এবং ব্যবসায়ীরা শ্রম ও পরিবেশের মাধ্যমে ব্যবসার প্রসার ঘটান। তাঁরা টাকা বিদেশে নিয়ে যাননি।’

ট্যাক্স-টু-জিডিপির হার এখনো ৮ থেকে ৯ শতাংশে আছে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, নীতির ধারাবাহিকতা, রপ্তানি উন্নয়ন, মানব পুঁজিতে বিনিয়োগ (বিশেষত নারী) এবং সরকারি–বেসরকারি খাত একসঙ্গে কাজ করায় বাংলাদেশ এ সফলতা পেয়েছে।

ফাইভ-জি যুগে বাংলাদেশ

বৃহস্পতিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০১ পৌষ ১৪২৮, ১১ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

গত রোববার ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর হোটেল রেডিসনে রাতে ফাইভ-জি প্রযুক্তির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব আহমেদ ওয়াজেদ জয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্তরাষ্ট্র থেকে যুক্ত হন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এই এগিয়ে যাওয়ার পথে বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তিতে উন্নত দেশ থেকে পিছিয়ে থাকতে চায় না, থাকবে না। ফাইভ-জি কেবল উন্নত দেশগুলো চালু করছে। আমরাও সেই একই সময়ে ফাইভ-জি সময়ে চালু করতে যাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফাইভ-জি যদি আমরা মিস করি তাহলে ভবিষ্যৎ ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য সমস্যা হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। ফাইভ-জি কেবল উন্নত দেশগুলো চালু করছে। আমরাও সে সময়ে চালু করতে যাচ্ছি। আমরা পিছিয়ে থাকতে চাই না।’

জয় বলেন, ‘২০০৮ সালে আমরা ফিরে এসে কী দেখলাম? টেকনোলজিতে আমরা পিছিয়ে গেছি। যখন সারাবিশ্ব ফোরজিতে চলে যাচ্ছে, তখনও বাংলাদেশ টুজিতে আটকে আছে। তখন বিটিআরসি একটি অকশন করে।

‘আমরা ক্ষমতায় আসার পরই দেশে থ্রিজি চালু করি। মোবাইল অপারেটরগুলো এটি দ্রুত ছড়িয়ে দেয়। তখন আমরা উদ্যোগ নিই ফোরজিতে যাওয়ার। স্পেকট্রাম অকশন করে তখন আমরা ফোরজি চালু করে দিই। এখন বেশির ভাগ শহরেই ফোরজি নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়। কিছু কিছু গ্রামেও পাওয়া যায়। আমার আশা, মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো সারাদেশেই ফোরজি ছড়িয়ে দেবে।’

সজীব ওয়াজেদ বলেন, ‘আমরা বসে থাকতে চাই না। আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্য বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আমরা এটিকে দায়িত্ব মনে করি। আমরা থেমে থাকতে রাজি নই।

প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতি আওয়ামী লীগের মধ্যে এই যে দায়িত্ববোধ, তা কোথা থেকে আসে? এটি আসে স্বাধীনতার চেতনা থেকে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু থেকে। তিনি (বঙ্গবন্ধু) সব ত্যাগ করেছেন একটিমাত্র স্বপ্নের জন্য। সেটি ছিল দেশের মানুষের উন্নয়ন।

‘সেই স্বপ্ন ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা তিনি দিয়ে গেছেন প্রধানমন্ত্রী, আমার মাকে। মায়ের কাছ থেকে শেখা। তিনি আমাকে, আমার পরিবারকে এই দায়িত্ববোধ শিখিয়েছেন। দেশপ্রেম ছোট থেকেই আমাদের ঘরে একটি দায়িত্ব-কর্তব্য হিসেবে আমাদের শেখানো হয়। আমাদের পরিবারের সবার মধ্যেই এই আত্মবিশ্বাস যে বাংলাদেশের জন্য কাজ করতে হবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, বাংলাদেশ প্রযুক্তি গ্রহণে আর কখনও পিছিয়ে থাকবে না। যখন যে প্রযুক্তি আসবে, হয়তো সবার আগে বাংলাদেশ সেই প্রযুক্তি গ্রহণ করবে। ফাইভ-জিতে বাংলাদেশ খুব বেশি দেরি করেনি। আগামী মার্চ মাসে মাসে মালয়েশিয়া ফাইভ-জি চালু করবে।

তিনি জানান, ২০১৮ সালে দেশে ফাইভ-জির টেস্ট অপারেশন চালানো হয়। সেই সফল পরীক্ষার ফলই আজকের দিনটি।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, টেলিটকের মাধ্যমে ঢাকা শহরের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, ধানমন্ডি ৩২, বাংলাদেশ সচিবালয়, মানিক মিয়া এভিনিউ (সংসদ ভবন এলাকা) এবং ঢাকার বাইরে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকা ও টুঙ্গিপাড়ায় ফাইভ-জি কাভারেজের আওতায় আসছে।

আরও জানানো হয়, বিশ্বে ফাইভ-জি প্রযুক্তি চালুর ২ বছরের মধ্যে বাংলাদেশেও এই প্রযুক্তি চালু হলো। ফাইভ-জি প্রযুক্তির সুবিধার কথা বলতে গিয়ে বলা হয়, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মোবাইল গ্রাহকরা অধিকতর উন্নত গুণগত মানের ভয়েস কল ও ফোরজি থেকে বহুগুণ দ্রুত মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারে সক্ষম হবে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ঢাকায় বসে প্রত্যন্ত অঞ্চলে রোগীর রোবট সার্জারি করা যাবে। ড্রাইভারবিহীন গাড়ি চালানো যাবে, স্মার্ট ফ্যাক্টরি স্থাপনের মাধ্যমে অটোনোমাস উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন করে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা যাবে।

অনুষ্ঠানে টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক  মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন বলেন, টেলিটকের পরিকল্পনা হচ্ছে ২০২২ সালে রাজধানীকে ২০০ ফাইভজি বিটিএস তৈরি করা এবং প্রধান এলাকাগুলোকে ফাইভজি নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসা।

হুয়াওয়ে বাংলাদেশের প্রধান ঝ্যাং ঝিং জুন বলেন, গত ২১ বছর ধরে হুয়াওয়ে বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ ইকো সিস্টেমের অন্যতম অংশীদার হিসেবে দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। বাংলাদেশে ফাইভ-জি যুগে প্রবেশের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে হুয়াওয়ে জানাতে চায় উদ্ভাবনী সব প্রযুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের পাশে থাকবে হুয়াওয়ে।

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, সচিব মো. খলিলুর রহমান, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার, টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন। ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন হুয়াওয়ে’র এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট সাইমন লিন এবং হুয়াওয়ে বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী ঝ্যাং ঝিং জুন।

বিয়ে করতে অস্বীকার করায় প্রেমিকের বুকে গুলি করে হত্যা

বৃহস্পতিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০১ পৌষ ১৪২৮, ১১ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

প্রেমিককে দেখা করার জন্য ডেকে পাঠিয়েছিলেন প্রেমিকা। দেখা হতেই প্রেমিককে জড়িয়ে ধরেন প্রেমিকা, করেন চুম্বনও। এরপরই প্রেমিকের বুকে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলিবর্ষণ করেন তিনি। তবে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছেন প্রেমিক।
গতকাল বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) রাতে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া শহরে। ঘটনার জেরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। অভিযুক্ত প্রেমিকার নাম মনীষা খাতুন। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন তিনি। অবশ্য তার খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, বর্ধমানের কাটোয়া শহরের কেশিয়া মাঠপাড়ার বাসিন্দা লালচাঁদ শেখের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বাগানেপাড়ার মনীষা খাতুনের। প্রায় তিন বছর ধরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল।
কিন্তু সম্প্রতি তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয় বলে পুলিশকে জানান লালচাঁদ। মনীষাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। একপর্যায়ে কাটোয়া ছেড়ে ঝাড়খণ্ডেও চলে গিয়েছিলেন প্রেমিকা মনীষা।
পুলিশ জানিয়েছে, দিন দু’য়েক আগেই ঝাড়খণ্ড থেকে কাটোয়ায় ফিরে আসেন মনীষা। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কাটোয়ার সার্কাস ময়দানের একটি গলিতে লালচাঁদকে দেখা করার জন্য আসতে বলেন তিনি।
এরপর ফিল্মি কায়দায় চুম্বন করে বুকে গুলি চালিয়ে দেন। গুলি লালচাঁদের জ্যাকেট ভেদ করে পেট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। অল্পের জন্য বেঁচে যান লালচাঁদ।
ইতোমধ্যেই কাটোয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন লালচাঁদ। প্রেমিকা মনীষা খাতুনের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। অবশ্য ঘটনার পর থেকেই পলাতক ওই তরুণী। সূত্র : এনডিটিভি

মালয়েশিয়ায় পুন:বৈধকরণ প্রক্রিয়ার মেয়াদ বাড়ল ২০২৪ সাল পর্যন্ত

বুধবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২১, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ১০ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর অনিশ্চিয়তার পর অবশেষে ২০১৬ সালে চালু হওয়া রিহায়ারিং প্রোগ্রাম (পুন:বৈধকরণ) কার্যক্রম ২০২৪ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ প্রোগ্রামটি ৫ বছর মেয়াদি হওয়ায় এ বছর ২০২১ সালে সমাপ্ত হয়ে যায়। এতে প্রবাসীরা ৫ম ভিসা নবায়ন করার পর ৬ষ্ঠতম ভিসা রিনিউ বা নবায়ন করতে পারছিলেন না।  তখন লাখ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী অবৈধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম এবং অনিশ্চিয়তার মধ্যে পড়েছিল।  অবশেষে সেদেশের সরকারের এ ঘোষণায় দেশটিতে থাকা  প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকালে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক খায়রুল দাজায়মি দাউদ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রিহায়ারিং প্রোগ্রামে অস্থায়ী ওয়ার্ক ভিজিট পাস হলো বেসরকারি সংস্থা মাইইজির মাধ্যমে সরকার কর্তৃক অভিবাসী কর্মীদের বৈধতার মাধ্যমে কর্মসংস্থান ব্যবস্থা। এ অস্থায়ী ভিজিট পাস (পিএলকেএস) রিহায়ারিং প্রকল্পটি ২০১৬ সালে শুরু হয়ে একটানা ৫ বছর ২০২১ সাল পর্যন্ত চালু ছিল। এ বছর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ায় প্রবাসী কর্মীরা পড়েছেন বিপাকে।

নিয়োগকর্তারা যারা রিহায়ারিং প্রোগ্রামের অধীনে কর্মচারী নিয়োগ করেন তাদের নিম্নলিখিত প্রধান শর্তগুলোর প্রতি মনোযোগ দিতে বলা হয়েছে এবং কী শর্তে পুন:ভিসা নবায়ন করতে পারবেন তার একটি নমুনা নিচে দেওয়া হলো—
১. নিয়োগকর্তারা রিহায়ারিং প্রোগ্রামের অধীনে নিয়োগের পর কোনো শর্ত লঙ্ঘন করেনি এমন কর্মী।
২.  যে কর্মচারীদের কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে তারা ভিসা নবায়নের জন্য আবেদন করার যোগ্য নয়।
৩. স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (KDN) বিশেষ অনুমোদন ছাড়া কর্মচারীরা বা নিয়োগকর্তা সেক্টর পরিবর্তন করতে পারবেন না।
৪.  শুধুমাত্র নিয়োগকর্তা এবং অনুমোদিত নিয়োগকর্তা প্রতিনিধিদের এক্সটেনশন আবেদন জমা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
৫. এ অস্থায়ী ভিজিট পাস (PLKS) এক্সটেনশন শুধুমাত্র ePLKS বা MyEG এর মাধ্যমে অনলাইনে অনুমোদিত হবে।

ঘরে বসেই কাবার ‘হাজরে আসওয়াদ ছুঁয়ে’ দেখতে পারবেন মুসলিমরা

বুধবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২১, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ১০ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মুসলিমরা ঘরে বসেই পবিত্র কাবা শরিফে স্থাপিত কালো পাথর ‘হাজরে আসওয়াদ ছুঁয়ে’ দেখতে পারবেন। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর) প্রযুক্তির মাধ্যমে মুসলমানদের জন্য ‘হাজরে আসওয়াদ ছুঁয়ে’ দেখার সুযোগ করে দিতে সৌদি সরকার এই নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বলে আল আরাবিয়া ও গালফ নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

মক্কা-মদিনার পবিত্র দুই মসজিদের জেনারেল প্রেসিডেন্ট শেখ ডক্টর আবদুল রহমান বিন আবদুল আজিজ আল-সুদাইস এই ভার্চুয়াল প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।

‘ভার্চুয়াল ব্ল্যাক স্টোন ইনিশিয়েটিভ’ নামে এই প্রকল্পটির লক্ষ্য হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর) এবং ডিজিটাল অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সত্যিকারের অনুভূতি দেওয়া। 

এর আগে চলতি বছরের মে মাসে সৌদি কর্তৃপক্ষ হাজরে আসওয়াদের কাছ থেকে তোলা একটি প্রকাশিত ছবি প্রকাশ করে। মক্কা-মদিনার দুই পবিত্র মসজিদের পরিচালনা পর্ষদ প্যারানমিক ফোকাস ব্যবহার করে হাজরে আসওয়াদের ওই ছবি ধারণ করেছিল। 

মুসলামদের বিশ্বাস বিখ্যাত হাজরে আসওয়াদ বা কালো পাথরটিকে জিব্রাইল (আ.) বেহেশত থেকে এনে হজরত ইব্রাহিমকে (আ.) দিয়েছিলেন। এজন্য হাজরে আসওয়াদকে বলা হয় জান্নাতি পাথর।

হাজরে আসওয়াদ পবিত্র কাবা শরিফের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে মাতাফ থেকে দেড় মিটার (চার ফুট) উঁচুতে অবস্থিত।

কাল দেশবাসীকে যে শপথ করাবেন প্রধানমন্ত্রী

বুধবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২১, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ১০ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তিতে সারা দেশের মানুষকে শপথ পাঠ করাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামীকাল ১৬ ডিসেম্বর বিকালে প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী ওই শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন। দেশের বিভাগীয় জেলা, জেলা ও উপজেলা স্টেডিয়াম ও বিজয় দিবসের নির্ধারিত ভেন্যু থেকে সাধারণ মানুষ জাতীয় পতাকা হাতে শপথ বাক্য পাঠ করবেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় শপথ অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) চিঠি পাঠায়।

ওই চিঠিতে জানানো হয়, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে শপথ অনুষ্ঠান আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে বিকাল ৪টায় সারা দেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে। দেশব্যাপী সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এই শপথে অংশ নেবেন।

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি সারা দেশের সঙ্গে যুক্ত থেকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। সব বিভাগ/জেলা/উপজেলা স্টেডিয়াম/মহান বিজয় দিবসের নির্ধারিত ভেন্যুতে শপথ অনুষ্ঠানটি আয়োজনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

‘মহাবিজয়ের মহানায়ক’ শিরোনামে আগামী ১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষের কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান হবে। এতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ উপস্থিত থাকবেন।

বিজয় দিবসের দিনে দেশবাসীকে সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষের যে শপথ পাঠ করাবেন প্রধানমন্ত্রী- তা নিচে দেওয়া হলো:

‌‌জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পাকিস্তানি শাসকদের শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে এক রক্তক্ষয়ী মুক্তিসংগ্রামের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। বিশ্বের বুকে বাঙালি জাতি প্রতিষ্ঠা করেছে তার স্বতন্ত্র জাতিসত্তা।

আজ বিজয় দিবসে দৃপ্তকণ্ঠে শপথ করছি যে, শহিদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না- দেশকে ভালোবাসব, দেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণে সর্বশক্তি নিয়োগ করব। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আদর্শে উন্নত, সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার সোনার বাংলা গড়ে তুলব।

মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের সহায় হোন।

মালয়েশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে পড়ে নৌকাডুবিতে অন্তত ১১ জন

বুধবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২১, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ১০ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

মালয়েশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে পড়ে নৌকাডুবিতে অন্তত ১১ জন ইন্দোনেশিয়ান অভিবাসী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ২৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। খবর এএফপির।

কোস্টগার্ড জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার সকালে মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে কমপক্ষে ৬০ জন অভিবাসী ছিলেন বলে ধারণা করছে তারা।

কোস্টগার্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ জুবিল মাত সুম বলেছেন, টহলরত কোস্টগার্ডের সদস্যরা ৭ জন পুরুষ ও ৪ জন নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছেন।

নৌকাডুবির পর ২০ জন পুরুষ ও ২ জন নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অভিবাসী পার্শ্ববর্তী ইন্দোনেশিয়ার একটি দ্বীপ থেকে এসেছিলেন। বর্তমানে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়েছে।
কোস্টগার্ডের প্রধান বলেছেন, ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজদের কেউ ডুবে গেছেন অথবা কেউ পালিয়েও থাকতে পারেন। তাঁদের সন্ধানে কোস্টগার্ডের নৌকা ও হেলিকপ্টার ঘটনাস্থলে কাজ করছে। তিনি আরও বলেছেন, ‘এই দুঃখজনক ঘটনায় আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি। আমি অভিবাসীদের অনুরোধ করব, তাঁরা যেন অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ না করেন।’

সূত্রঃ প্রথম আলো