মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় অভিযোগ দায়ের

মঙ্গলবার ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০২ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

অশালীন ও শিষ্টাচারবহির্ভূত বক্তব্যের জেরে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর পদ খোয়ানো ডা. মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর শাহবাগ থানায় এই অভিযোগ দায়ের করেন জুলিয়াস সিজার তালুকদার নামের এক ঢাবি শিক্ষার্থী। 

শাহবাগ থানার ওসি মওদুদ হাওলাদার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে জানান, ঢাবির শিক্ষার্থী জুলিয়াস সিজার তালুকদার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পক্ষে ডা. মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে আমাদের থানায় একটি অভিযোগ করেছেন। তার বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের চরিত্র হননের অপচেষ্টা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে একটি গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগটি সাইবার ক্রাইম ও রাজনৈতিক হওয়ায় এটি সাইবার ক্রাইম ইউনিটে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি।

ঢাবির সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের শিক্ষার্থী সিজার অভিযোগে বলেন, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের নাহিদ রেইন্স নামক ফেসবুক পেজে গত ৫ ডিসেম্বর বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে বিকৃত যৌনাচার ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ দেখতে পাই।যাতে স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রস্রাব করার সময়ও আমার নাই’।এতে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে দেশের সর্বপ্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠকে তিনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাচ্ছিল্য করেছেন। 

ঢাবির রোকেয়া হল এবং শামসুন্নাহার হলের নারী শিক্ষার্থীদের চরিত্র হননের অপচেষ্টা করে মুরাদ হাসান বলেন, ‘তারা রাতে নিজেদের হলে অবস্থান না করে বিভিন্ন পাঁচ তারকা হোটেলে গিয়ে রাত্রিযাপন করে।’এই বাক্য দিয়ে তিনি (মুরাদ হাসান) ঢাবির নারী শিক্ষার্থীদেরকে চরিত্র হননের অপচেষ্টা করেছেন। 

মুরাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে প্রজ্ঞাপন জারি

মঙ্গলবার ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০২ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

অশালীন ও শিষ্টাচারবহির্ভূত বক্তব্যের জেরে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর পদ খোয়ালেন ডা. মুরাদ হাসান।

তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি কর্তৃক গৃহীত হয়েছে। এ পদত্যাগ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে ডা. মুরাদ হাসানের পদত্যাগপত্র মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হয়। 

এর আগে মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় প্রতিমন্ত্রীর জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের পক্ষে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দপ্তরে পদত্যাগপত্র জমা দেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের পক্ষে তার একান্ত সচিব মাহমুদ ইবনে কাসেম পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করেন।

এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে পদত্যাগপত্রে সই করে পাঠান ডা. মুরাদ হাসান।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিধি শাখার একজন কর্মকর্তা এ বিষয়ে মঙ্গলবার বিকেলে জানান, ‘নিয়ম অনুযায়ী যখনই তিনি (মুরাদ হাসান) পদত্যাগ পত্র দিয়েছেন, তখন থেকেই ওই পদে আর নেই। প্রজ্ঞাপন জারি হচ্ছে সবাইকে জানানো। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পরই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। সন্ধ্যার পর প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠানো হয়েছে।’

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়ায় তাকে মঙ্গলবারের মধ্যে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করতে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগপত্রে মুরাদ হাসান ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়েছেন।

শর্ত পূরণ না করা ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রত্যাহার করা হবে: আল-নাওয়াফ

মঙ্গলবার ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০২ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

কুয়েতঃ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি, লেফটেন্যান্ট-জেনারেল শেখ ফয়সাল আল-নাওয়াফ, সাধারণ ট্রাফিক বিভাগকে নির্দেশ জারি করেছেন যে, প্রবাসীদের জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স ফিল্টার করতে এবং শর্ত অনুযায়ী প্রযোজ্যতা নির্ধারণ করতে, বেতন এবং যোগ্যতা সহ মন্ত্রীর সিদ্ধান্তে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বা যা ‘ব্যতিক্রমী'(ওয়াস্তা) ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে এবং বেতনের প্রয়োজনীয়তা বা অন্যান্য শর্ত পূরণ না হলে লাইসেন্স প্রত্যাহার করা হবে।

তিনি বলেন, উদাহরণস্বরূপ, এবং অ্যাকাউন্ট্যান্ট যিনি ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়েছেন, তিনি একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক এবং যার বেতন ৬০০ দিনার, কিন্তু ৪০০ দিনার বেতনে অন্য চাকরিতে চলে গেছেন, এই ক্ষেত্রে লাইসেন্স প্রত্যাহার করা হবে।

যে ব্যক্তির পেশা ড্রাইভার এবং এই পেশার শক্তিতে লাইসেন্স পেয়েছেন, কিন্তু পরে পেশা পরিবর্তন করেছেন, লাইসেন্স প্রত্যাহার করা হবে।

রিপোর্ট দৈনিক আল-আনবার।

সংযুক্ত আরব আমিরাত সাপ্তাহিক কাজের নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন..!

মঙ্গলবার ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০২ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

ছুটির দিন শনিবার, রবিবার… এবং শুক্রবার অর্ধদিবস কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সরকারী এমিরেটস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছেন যে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার সাপ্তাহিক কাজের নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন, এই নতুন নিয়মে থাকছে প্রতি সপ্তাহে সাড়ে চার দিন কার্যদিবস এবং ছুটির দিন গুলো হলো শনিবার, রবিবার এবং শুক্রবার অর্ধ কার্যদিবস থাকবে যা দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলবে।

📌নিউজ লিংক 👇 নিচে দেওয়া হয়েছে….

📌 নিউজ লিংক 👇
https://www.facebook.com/471897892832582/posts/4706011339421195/

✍️ Collected, translated and posted by Nahar Hoque

আগামীকালের মধ্যে তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ৩০ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

আগামীকালের মধ্যে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানকে মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। মুরাদ হাসানকে এরমধ্যেই এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সোমবার রাতে তার বাসভবনে ডাক্তার মুরাদ হাসানের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান। ওবায়দুল আজ বলেন, আজ সন্ধ্যায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে এবং আমি আজ রাত ৮ টায় প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে বার্তাটি পৌঁছে দিই।

এর আগে, তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে অশালীন ও বর্ণবাদী মন্তব্য করায় বাংলাদেশের তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ মুরাদ হাসানের পদত্যাগ দাবি করেছে বিরোধী দল বিএনপি। এছাড়া নারী বিদ্বেষী মন্তব্যের কারণে তার পদত্যাগ দাবি করে বিবৃতি দিয়েছেন নারী অধিকার কর্মীরাও।

এদিকে, চলমান এই সমালোচনার মধ্যেই ফেসবুকে মুরাদ হাসানের একটি টেলিফোন আলাপ ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে একজন চিত্রনায়িকাকে নানা অশোভন কথাবার্তা ও হুমকি দিতে শোনা গেছে। এ ফোনালাপের সত্যতা গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করে সেটিকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন চিত্রনায়ক ইমন। তার ফোনে কল দিয়েই সেই চিত্রনায়িকার সাথে অশোভন কথা বলেন মুরাদ।

এদিকে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এর আগে বলেছেন, মন্তব্যগুলো প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত। তখন প্রধানমন্ত্রীর সাথে তারা এ বিষয়ে আলোচনা করবেন বলেও জানান তিনি।

আল-আকসায় ইসরাইলি নেতার সফর যেভাবে দ্বিতীয় ইন্তিফাদার সূচনা করেছিল

সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ৩০ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

ফিলিস্তিনিদের দ্বিতীয় ইন্তিফাদার সূচনা হয় আল-আকসায় অ্যারিয়েল শ্যারনের সফরের পর। অ্যারিয়েল শ্যারন ছিলেন ইসরাইলের সবচেয়ে বিতর্কিত এক রাজনীতিক। ২০০০ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নিলেন, তিনি আল আকসা মসজিদ সফরে যাবেন।

জেরুসালেমের পুরনো অংশে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ ইসলামের পবিত্রতম স্থানগুলোর একটি। ফিলিস্তিনিদের কাছে এটি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আল-আকসার অবস্থান এমন এক জায়গায়, যার ঠিক পাশেই আবার ইহুদীদের পবিত্রতম এক জায়গা টেম্পল মাউন্টের অবস্থান। এই পুরো কম্পাউণ্ডটি মুসলিম, ইহুদী এবং খ্রিস্টান- এই তিন ধর্মের মানুষের কাছেই খুব পবিত্র এবং স্পর্শকাতর এক জায়গা। জেরুসালেম নিয়ে যে শত শত বছরের লড়াই, তার কেন্দ্রে কিন্তু এই ধর্মীয় তীর্থগুলো, কে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করবে, সেই প্রশ্ন।

কাজেই, ইসরাইলের বিরোধী দল লিকুদ পার্টির তৎকালীন নেতা মিস্টার শ্যারনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মারাত্মক উদ্বেগ তৈরি হলো। সবাই এটিকে খুবই উস্কানিমূলক এক সিদ্ধান্ত বলে বর্ণনা করলেন এবং এটি ফিলিস্তিনিদের মারাত্মকভাবে ক্ষুব্ধ করে তুললো। এরিয়েল শ্যারন আল-আকসা কম্পাউন্ড সফর করলেন কড়া নিরাপত্তায়। কিন্তু তার এই পদক্ষেপের পর বিক্ষুব্ধ ফিলিস্তিনিরা হাজারে হাজারে রাস্তায় নেমে আসে এবং পুরো ফিলিস্তিনি অঞ্চল জুড়ে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এটি ছিল ফিলিস্তিনিদের দ্বিতীয় ইন্তিফাদা।

বলা হয়ে থাকে অ্যারিয়েল শ্যারনের আল-আকসা সফরই আসলে দ্বিতীয় ইন্তিফাদার জন্য দায়ী। তার সফরটি একটি মারাত্মক উস্কানি হিসেবে কাজ করেছে। একজন ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারী সেদিন বলেছিলেন, “তিনি হচ্ছেন একজন উস্কানিদাতা। তিনি এবং তার সঙ্গে আর যারা যোগ দিয়েছেন তারা সবাই। তিনি এখানে এসেছেন আমাদের এই এলাকা থেকে নিষিদ্ধ করতে। আল আকসা একটি ইসলামী তীর্থ। আল আকসা ফিলিস্তিনিদের জায়গা।”

অ্যারিয়েল শ্যারন অবশ্য দাবি করেছিলেন, তিনি সেখানে গিয়েছিলেন শান্তির বার্তা নিয়ে। তিনি বলেছিলেন, “ইহুদী জনগণের কাছে খুবই পবিত্র এক স্থানে আমি এসেছি। আমি এসেছি তাদের অনুভূতির কথা জানতে। একথা জানতে, কিভাবে আমরা বর্তমান সমস্যা থেকে সামনে আগাতে পারি। উস্কানি দেয়ার জন্য আমি এখানে আসিনি। উস্কানি যেটা, সেটা অন্যপক্ষ থেকে।”

গোলযোগের আশংকায় সেদিন সকাল থেকেই আল-আকসা মসজিদের চারপাশ ছিল শত শত পুলিশে সয়লাব। পুলিশ কার্যত আল আকসা মসজিদ বন্ধ করে দেয়, এমনকি যারা ফজরের নামাজ পড়তে এসেছিল, তাদেরও মসজিদের ভেতর আটকে রেখেছিল পুলিশ। খালিদ সিগারি একজন ফিলিস্তিনি ক্যামেরাম্যান, তিনি তখন কাজ করেন রয়টার্স বার্তা সংস্থার সঙ্গে। সেদিন খুব ভোরেই দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি চলে যান আল-আকসায়। “শ্যারন, মসজিদে আসার দু ঘণ্টা আগে থেকে আমি মসজিদের ভবনের ভেতরেই অপেক্ষা করছিলাম। শ্যারনের নিরাপত্তা টিমের সদস্যরা এবং ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী তখন সব কিছু স্ক্যান করছে, নিরাপত্তা তল্লাশি চালাচ্ছে, শ্যারন যাতে নিরাপদে সেখানে যেতে পারেন তার জন্য সবকিছু ঠিক আছে কিনা দেখছে।”

সারি সারি পুলিশ তখন মসজিদের চারপাশ ঘেরাও করে পাহারা দিচ্ছে। সেখানে যেন কেউ নামাজ পড়তে না পারে, এবং মসজিদ থেকে যেন কেউ বেরুতে না পারে, তারা সেটা দেখছিল। খালিদ সিগারি পুলিশের সঙ্গে বাদানুবাদের পর মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেন। অ্যারিয়েল শ্যারন এবং তার ২০ জন সমর্থক তখন জেরুসালেমের পুরোনো অংশের সরু ঘোরানো রাস্তা ধরে উপরে উঠছেন। তারা ওয়েলিং ওয়াল বা ওয়েস্টার্ন ওয়াল পেরিয়ে এগুতে শুরু করলেন আল-আকসা মসজিদের দিকে।

যালমান শোভাল হচ্ছেন ওয়াশিংটনে ইসরাইলের সাবেক রাষ্ট্রদূত। সেদিন আল-আকসা সফরে তিনি অ্যারিয়েল শ্যারনের সঙ্গী হয়েছিলেন। “আমরা যখন ওয়েস্টার্ন ওয়ালের কাছে পৌঁছলাম, যেটা আসলে টেম্পল মাউন্ট, তখন সেখানে কয়েকটি প্রার্থনা চলছিল। তারা আমাদের দেখে উল্লাস করছিল, আমাদের করতালি দিয়ে সমর্থন জানাচ্ছিল। অবশ্যই সেখানে কিছুটা উত্তেজনা ছিল, তবে খুব বেশি নয়।”

এর আগের সপ্তাহেই লিকুদ পার্টির এক বৈঠক শেষে আল-আকসা মসজিদে অ্যারিয়েল শ্যারনের এই বিতর্কিত সফরের কথা জানানো হয়েছিল। মিস্টার শোভাল সেই বৈঠকেও ছিলেন। তখনই তিনি মিস্টার শ্যারনের সঙ্গী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেদিন লিকুদ পার্টির সভায় নানা গুজব ভেসে বেড়াচ্ছিল। সভার শুরুতে মিস্টার শ্যারন তার আল-আকসা সফর সম্পর্কে কিছুই জানাননি।

যালমান শোভেল জানান, “হঠাৎ তিনি উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, হ্যাঁ, এরকম একটা কাজ আমরা করতে যাচ্ছি। কেউ যদি তার সঙ্গে যোগ দিতে চান, তিনি খুশি হবেন। আমাদের অনেকেই তার সঙ্গে যোগ দিতে চেয়েছি, কিন্তু তিনি কিন্তু বলেননি, আমাদেরকে তার সঙ্গে যেতে হবে। আমরা সবাই স্বেচ্ছায় গিয়েছি।” অ্যারিয়েল শ্যারনের এই পদক্ষেপ যে ফিলিস্তিনিরা একটা মারাত্মক উস্কানি হিসেবে দেখবে, এটা কি তাদের একবারও মনে হয়নি?

“এটা হয়তো মনে হয়েছিল। কিন্তু আপনাকে মনে রাখতে হবে, এখানে আরেকটা দিক আছে। কিছু আরব, বা বিশেষ করে কিছু মুসলিমের কাছে তো সেখানে ইহুদীদের উপস্থিতিটাই এক বিরাট উস্কানি। কাজেই ‌এখানে একটা যুক্তি ছিল-সেটা হচ্ছে, দেখ আমরা তোমাদের ধর্মীয় আচারে কোন বাধা দিচ্ছি না, মাথা গলাচ্ছি না, তোমরাও আমাদের ধর্মীয় আচার নিয়ে মাথা গলাতে যেও না। তোমরা যা করছো আমরা তার প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল।

”ইসরাইলি সরকারতো এমনকি টেম্পল মাউন্টে ইহুদীদের দলবদ্ধ সংগঠিত প্রার্থনা পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু আমরা যদি সেই জায়গাটা পরিদর্শনে যাই, সেটাতে হস্তক্ষেপ করতে এসো না।” কিন্তু অ্যারিয়েল শ্যারনের এই কাজটি ছিল একটা রাজনৈতিক চাল। ইসরাইলি এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে যে শান্তি আলোচনা চলছিল, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও সেটা ভেঙ্গে গিয়েছিল।

এরকম এক অগ্নিগর্ভ সময়ে অ্যারিয়েল শ্যারন আল-আকসা কম্পাউন্ডে ঢুকলেন। ফিলিস্তিনি ক্যামেরাম্যান খালিদ সিগারি তখন তার ছবি ধারণ করার জন্য ক্যামেরা কাঁধে ছোটাছুটি করছেন। “আমি তখন এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়াচ্ছি, দেখতেই পাচ্ছেন আমার ক্যামেরায় তোলা ভিডিওগুলো বেশ কাঁপা হাতে ধারণ করা। আপনি হয়তো কণ্ঠগুলো শুনতে পাচ্ছেন। আমাকে মাঝে মধ্যে তার দেহরক্ষী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা এসে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিচ্ছিল।

”ওরা আমাদেরকে মিস্টার শ্যারনের কাছ থেকে দূরে রাখতে চাইছিল। কারণ তারা ভয় পাচ্ছিল মিস্টার শ্যারনের কিছু একটা হতে পারে। কিছু লোক তার কাছাকাছি পর্যন্ত যেতে পেরেছিল। শ্যারনের বিরুদ্ধে তারা শ্লোগান দিচ্ছিল। উনার মুখের ভিডিও ধারণ করা কঠিন হচ্ছিল। কারণ তাকে ঘিরে রাখা হয়েছিল কড়া নিরাপত্তায়। শ্যারনের যে বিখ্যাত ফ্রেমটি, বিখ্যাত ছবিটি আপনারা দেখেন, সেটি তার একটি ক্লোজ আপ, তবে তার মুখ প্রায় আড়াল করে রেখেছে তার দেহরক্ষী,” বলেন খালিদ সিগারি।

মিস্টার শ্যারন এবং তার দলবল সেদিন বেশ সতর্ক ছিলেন যেন তারা খোদ আল-আকসা মসজিদে না ঢোকেন। ইসরাইলি সরকারের সঙ্গে এক বিষয়ে আগেই তাদের একটা সমঝোতা হয়েছিল। তবে যালমান শোভেলের মতে, ফিলিস্তিনিরা প্রতিবাদ শুরু করার পরেই কেবল বিষয়টা তিক্ততার দিকে গড়িয়েছিল। “প্রথমে, আমাকে বলতেই হচ্ছে, সবকিছু শান্তিপূর্ণভাবেই হচ্ছিল। সেখানে অবশ্যই কিছু আরব ছিল। কিন্তু আমরা আমাদেরকে নিয়েই ছিলাম, ওরা ওদের মতো ছিল। আমার যতদূর মনে পড়ে, এক আরব লোকের সঙ্গে বেশ একটা হাস্যরসাত্মক সাক্ষাতের ঘটনাও সেখানে ঘটেছিল।

”মোটামুটি বয়স্ক এক আরব লোক, একদম সাদা পোশাক পরা, আমার কাছে এসে বললো, তুমি জানো, আমিও কিন্তু ওয়াশিংটনে থাকতাম, সেখানে তোমার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। তখন আমরা ওয়াশিংটনে আমাদের অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করতে শুরু করলাম। কিন্তু সব কিছু নাটকীয়ভাবে পাল্টে গেল যখন ইসরাইলি পার্লামেন্টের একজন আরব সদস্য বিক্ষোভে উস্কানি দিতে লাগলেন। তিনি অনেক ধরনের উস্কানিমূলক বিবৃতি দিচ্ছিলেন। তখন থেকেই আসলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে শুরু করলো।”

অ্যারিয়েল শ্যারন সেদিন আল-আকসা ছেড়ে চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গোলযোগ শুরু হয়ে গেল। শত শত মানুষ সেখানে বিক্ষোভ করছিল, তারা ইসরাইলি পুলিশের দিকে পাথর ছুঁড়তে শুরু করলো। ইসরাইলি পুলিশ তখন রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার গ্যাস ছুঁড়ে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করছিল। সেদিনের বিক্ষোভ স্তিমিত হয়ে আসলো। কিন্তু পরের দিন খালিদ সিগারিকে আবার ফিরে আসতে হলো জেরুসালেমের পুরোনো অংশে। এরিয়েল শ্যারনের কাজে বিক্ষুব্ধ শত শত ফিলিস্তিনি শুক্রবারের জুমার নামাজের পর আল আকসা মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসছিল।

খালিদ সিগারির স্পষ্ট মনে আছে সেদিনের বিক্ষোভের কথা। “খুবই মারাত্মক সংঘর্ষ চলছিল। এর আগে আমি কখনো এরকম তীব্র সংঘর্ষ দেখিনি। সবাই, তরুণ, বৃদ্ধ, শিশু- সবাই পাথরের টুকরো হাতে বা যা পাচ্ছে সেটা নিয়ে ইসরাইলি পুলিশের দিকে ছুঁড়ে মারছে।” এরপর শুধু জেরুসালেম নয়, খুব দ্রুত এই সংঘর্ষ ছড়িয়ে গেল সব ফিলিস্তিনি এলাকায়। পশ্চিম তীর এবং গাযা এলাকাতেও সংঘর্ষ শুরু হলো। প্রচণ্ড বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন ফিলিস্তিনিরা। বিক্ষোভের আগুনে জ্বলছিল পুরো অঞ্চল।

এই সংঘাত পরে ফিলিস্তিনিদের দ্বিতীয় ইন্তিফাদায় রূপ নিল। এই গণবিক্ষোভে প্রথম বছরেই মারা গেল আটশোর বেশি মানুষ। ইসরাইলি-ফিলিস্তিনি শান্তি প্রক্রিয়া একেবারে ভেস্তে গেল। কিন্তু এরিয়েল শ্যারনের আল আকসা মসজিদে যাওয়ার কারণেই যে এটা ঘটেছে, তা মানতে নারাজ যালমান শোভাল। “এই আল-আকসা ইন্তিফাদা ছিল আসলে পূর্ব-পরিকল্পিত একটি ব্যাপার। ক্যাম্প ডেভিডে এহুদ বারাক, ইয়াসির আরাফাত এবং বিল ক্লিনটনের মধ্যে যে সম্মেলন হয়, সেটি ব্যর্থ হয়েছিল আরাফাত কোন ছাড় দিতে অস্বীকৃতি জানানোর জন্য। ইন্তিফাদা শুরুর পরিকল্পনা তাদের আগে থেকেই ছিল, সেটি তারা হাতে রেখেছিলেন। কাজেই আল-আকসা নিয়ে বিক্ষোভ শুরুর পর তারা পরে সেটিকেই ইন্তিফাদা বলা শুরু করলেন। অথচ এরকম একটি ইন্তিফাদার ব্যাপারে তারা আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলেন।”

ইসরাইলে পরের বছরের নির্বাচনে অ্যারিয়েল শ্যারন বিপুল ভোটে জয়ী হলেন। তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হলেন। কিন্তু ২০০৬ সালে তিনি এক ম্যাসিভ স্ট্রোকে অচেতন হয়ে গেলেন, ২০১৪ সালে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি কোমাতেই ছিলেন। জেরুসালেম নগরীর ভবিষ্যৎ এবং আল-আকসার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, সেটি এখনো অমীমাংসিত। এই স্পর্শকাতর বিষয়গুলো এখনো ইসরাইলি-ফিলিস্তিনি বিরোধের একেবারে কেন্দ্রে। সূত্র: বিবিসি।

করোনা শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু চারজনের

সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ৩০ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট দেশে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ২৮ হাজার ৫ জনে। 

সোমবার (৬ ডিসেম্বর)  স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা ধরা পড়েছে ২৭৭ জনের শরীরে। এ নিয়ে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১৫ লাখ ৭৭ হাজার ৭২০ জনে।

দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত বছরের ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই বছর সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছিল ৬৪ জনের। 

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় চলতি বছর জুন থেকে রোগীর সংখ্যা হু-হু করে বাড়তে থাকে। ২৮ জুলাই একদিনে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। 

চলতি বছরের গত ৭ জুলাই প্রথমবারের মতো দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৫ ও ১০ আগস্ট ২৬৪ জন করে মৃত্যু হয়, যা মহামারির মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। 

বেশকিছু দিন ২ শতাধিক মৃত্যু হয়। এরপর গত ১৩ আগস্ট মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ এর নিচে নামা শুরু করে। দীর্ঘদিন শতাধিক থাকার পর গত ২৮ আগস্ট মৃত্যু ১০০ এর নিচে নেমে আসে।

২০২০ সালের এপ্রিলের পর চলতি বছরের ১৯ নভেম্বর প্রথম করোনাভাইরাস মহামারিতে মৃত্যুহীন দিন পার করেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে অবৈধ অভিবাসনের নতুন রুট তৈরি হয়েছে?

সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ৩০ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

বাংলাদেশের অভিবাসন প্রত্যাশী মানুষের মধ্যে আজকাল রোমানিয়া, সার্বিয়াসহ পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। এসব দেশ কি আসলেই মধ্যপ্রাচ্য বা ধনী ইউরোপের দেশগুলোর মতো শ্রমিক গন্তব্যে পরিণত হয়েছে, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কারণ?

ফেসবুকের বেশ কিছু গ্রুপ ও পাতা বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, পূর্ব ইউরোপের এসব দেশে যেতে আগ্রহীদের নানা ধরণের প্রশ্নের পোস্টে সয়লাব। রোমানিয়া প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটি নামে পাবলিক গ্রুপ যার সদস্য সংখ্যা ২০ হাজারের বেশি, সেখানে গিয়ে নানা ধরণের পোস্ট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, বেশিরভাগই রোমানিয়া কিভাবে যাওয়া যাবে সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে। এছাড়া রোমানিয়ায় কাজের সুযোগ, ভিসা কিভাবে হয়, রোমানিয়া যাওয়ার খরচ ইত্যাদি নানা বিষয়ে জানতে চেয়েছেন এর সদস্যরা।

শুধু তাই নয়, এসব গ্রুপে বিভিন্ন ধরণের বিজ্ঞাপনও রয়েছে যেখানে রোমানিয়া, সার্বিয়া, ইউক্রেন, বুলগেরিয়া এবং ক্রোয়েশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেয়া হচ্ছে। তবে, উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে রোমানিয়া যাওয়ার স্বপ্নের পেছনে না দৌঁড়ানোর পরামর্শও দেয়া হয়েছে অনেক পেইজ এবং গ্রুপে। সতর্ক করা হয়েছে বিজ্ঞাপনী সংস্থার মিথ্যা আশ্বাসের বিষয়েও।

এরকম একটি গ্রুপ রোমানিয়া বাংলাদেশ হেল্প সেন্টার যার সদস্য সংখ্যা ৫ হাজারের বেশি। সেখানে সুজন নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশির একটি লেখা শেয়ার করেছেন একজন। যেখানে রোমানিয়ায় যাওয়া নিয়ে হাজারো মন ভোলানো বিজ্ঞাপন সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। রোমানিয়া নামে আরেকটি ফেসবুক পেইজ থেকে একটি সতর্কতামূলক পোস্ট দেয়া হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে যে, “কেউ কেউ রোমানিয়ায় গিয়ে এক দুই মাস কিংবা ১০-২০ দিন পরেই পালাচ্ছে। আর এ কারণে বাংলাদেশিদের ভিসার বিষয়ে কঠোর হয়েছে রোমানিয়ার দূতাবাস। যা পরবর্তীতে বাংলাদেশিদের জন্য আরো সংকটাপন্ন অবস্থা তৈরি করতে পারে”।

সম্প্রতি বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে যেখানে বলা হচ্ছে যে, বাংলাদেশি পাঁচজন যুবক রোমানিয়ায় মানব পাচারকারী দালাল চক্রের হাতে আটকা পড়েছেন। পাঁচ যুবকের বাঁচার আকুতির ওই ভিডিওটি নিয়ে ফেসবুকে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন ধরণের গ্রুপেও রয়েছে নানা সতর্কবার্তা। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কক্ষে আটক পাঁচ জন যুবক তাদেরকে প্রাণে বাঁচানোর আকুতি করছেন। তাদের অভিযোগ, ১৫ দিন ধরে ওই কক্ষে তালাবন্ধ অবস্থায় রাখা হয়েছে তাদেরকে। খাবার হিসেবে দেয়া হচ্ছে শুধু এক প্যাকেট করে রুটি।

এদের মধ্যে একজন বলেন, “আমাদের পাঁচটা জীবন ভাই আমাদের বাঁচান।” যদিও ভিডিওটির সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করতে পারেনি বিবিসি, কিন্তু এই ভিডিওটিতে থাকা যুবকদের বাংলাদেশে থাকা পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় থানায় মানবপাচার আইনে একটি মামলা করেছেন। ভিডিওটিতে থাকা যুবকদের বাড়ি বাংলাদেশের মাদারীপুর জেলায় বলে জানা যাচ্ছে। মাদারীপুর সদর থানার পুলিশ জানায়, ওই ভিডিওতে দেখা যাওয়া যুবকদের মধ্যে একজনের আত্মীয় বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম মিয়া বলেন, গত পহেলা ডিসেম্বর মামলার বাদী এবং তার পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন যে, ওই যুবকরা রোমানিয়ায় আটক রয়েছেন। পরে তারা স্থানীয় দালাল যাদের মাধ্যমে ইটালিতে পাড়ি জমানোর আশ্বাসে দেশ ছেড়েছেন ওই যুবকরা তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত এক থেকে দেড় বছর আগে গ্রিসে যান তারা। সেখানে থেকে তাদেরকে ইউরোপের দেশ ইটালিতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেয় পুলিশের কাছে আটক ওই ব্যক্তি। বিনিময়ে প্রতি জনের জন্য স্বজনদের কাছে বেশ কয়েক লাখ করে টাকা দাবি করে। মি. মিয়া বলেন, যে ব্যক্তি প্রস্তাব দিয়েছিল তার মামা গ্রিসে থাকেন এবং তিনি তার মামার মাধ্যমে ওই যুবকদের ইটালিতে পৌঁছানোর আশ্বাস দেন। স্বজনরা ওই প্রস্তাবে রাজি হয়ে টাকা পরিশোধ করলেও ওই যু্বকরা ইটালিতে পৌঁছায়নি।

পূর্ব ও দক্ষিণ পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো ব্যবহার করে ইউরোপের ধনী দেশগুলোতে প্রবেশের প্রবণতা বাড়ছে বলে মনে করেন অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা অধিকার কর্মী এবং মানব-পাচার বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, করোনাভাইরাস মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে গত এক-দেড় বছরে এই প্রবণতা বেড়েছে। পশ্চিম ইউরোপের চেয়ে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোকেই বেছে নিচ্ছে মানুষ। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে রোমানিয়া, সার্বিয়া, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, পোল্যান্ড।

তবে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে কাজের সুযোগ খুব একটা থাকে না। এমনকি এসব দেশে দীর্ঘমেয়াদে অর্থাৎ দুই, চার কিংবা পাঁচ বছর মেয়াদে ভিসাও দেয়া হয় না বলেও জানান তারা। এর অংশ হিসেবেই যেসব দেশে প্রবেশের সুযোগ কিছুটা সহজ সেসব দেশগুলোতে ব্যবহার করার সুযোগ অভিবাসীরা নিয়ে থাকেন। রোমানিয়া, পর্তুগালের মতো দেশগুলো এমনই বলে মনে করেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।

সাম্প্রতিক সময়ে রোমানিয়া থেকে বেশ কিছু বাংলাদেশি দেশে ফিরে এসেছেন। এদের মধ্যে একজন ইশরিয়াক সিদ্দিকী। মি. সিদ্দিকী জানান, রোমানিয়াতে কাজ নিয়ে বাংলাদেশ থেকে গিয়েছিলেন তিনি। কিছুদিন থাকার পর রোমানিয়া থেকে হাঙ্গেরিতে প্রবেশের সময় সীমান্তে ধরা পড়েন তিনি। পরে কয়েক মাস আটক থাকার পর বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয় তাকে। তিনি জানান, তার উদ্দেশ্য ছিল জার্মানিতে পাড়ি জমানো। এর অংশ হিসেবে রোমানিয়া থেকে হাঙ্গেরি ও অস্ট্রিয়া হয়ে জার্মানিতে যেতে চেয়েছিলেন তিনি। মি. সিদ্দিকীর অভিযোগ, রোমানিয়াতে গিয়ে প্রতিশ্রুত পারিশ্রমিক আর কাজ না পাওয়ার কারণেই দেশটি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি।

রোমানিয়া থেকে ফেরত এসেছেন এমন অন্তত চার জনের সাথে কথা হয় যাদের প্রত্যেকেই অভিযোগ করেছেন যে, সেখানে প্রতিশ্রুত পর্যাপ্ত কাজের সুযোগ ছিল না তাদের। দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন এমন একজন সুমাইয়া ইসলাম। বিবিসিকে তিনি বলেন, “ইউরোপে গেলে সেখানে সেটল (স্থায়ী) হওয়ার একটা ব্যবস্থা থাকে। সে কারণেই মানুষ আগ্রহী হয়”। “মানুষ চিন্তা করে ইউরোপে যদি আমি যেতে পারি তাহলে কেন গালফে (মধ্যপ্রাচ্যে) যাব। কারণ গালফে গেলে তো আমাকে ফিরে আসতেই হবে।” এসব কারণেই রোমানিয়া এবং সার্বিয়া যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে বলে মনে করেন তিনি। সূত্র: বিবিসি।

যুক্তরাষ্ট্রে ১৬, ভারতে ২১ রাজ্যে ওমিক্রন, থাইল্যান্ডে প্রথম শনাক্ত

সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ৩০ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন যুক্তরাষ্ট্রের এক তৃতীয়াংশ রাজ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। ৫০টি রাজ্যের মধ্যে ওমিক্রন আক্রান্ত রাজ্যের সংখ্যা এখন ১৬। ভারতে এই ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১। থাইল্যান্ডে প্রথমবারের মতো ওমিক্রন সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। সেখানে একজন মার্কিন নাগরিকের শরীরে রাজধানী ব্যাংককে এই সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়। ওদিকে সংক্রমণ রোধের জন্য বিধি-নিষেধের বিরুদ্ধে সহিংস বিক্ষোভ হয়েছে ব্রাসেলস, বেলজিয়ামে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান।

অন্যদিকে বৃটেনের বিজ্ঞানীরা বলেছেন, করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে বৃটেন যে অগ্রগতি অর্জন করেছে, তা এখন নস্যাৎ হয়ে যাওয়ার পথে। অন্যদিকে করোনা ভাইরাসের টিকার অন্যতম আবিষ্কারক প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড/এস্ট্রাজেনেকার বিজ্ঞানী সারা গিলবার্ট সতর্কতা দিয়ে বলেছেন পরবর্তী মহামারী হতে পারে আরও ভয়াবহ, আরো প্রাণঘাতী।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেছেন, তার দেশে বেশিরভাগ প্রদেশে নতুন যে সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে, তার বেশির ভাগই ওমিক্রন সংক্রমণ। পাশাপাশি তিনি জনগণকে করোনা ভাইরাসের টিকা নেয়ার জন্য উৎসাহিত করেছেন।
তিনি বলেছেন, তার দেশ করোনা ভাইরাস সংক্রমণের চতুর্থ ঢেউয়ের মুখোমুখি। এরইমধ্যে সংক্রমনের যে ঢেউ দেখা দিয়েছে তা মহামারী চলাকালে এর আগে দেখা দেয় নি। গত এক সপ্তাহে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে পাঁচ গুণ। প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা আরো বলেন, ওমিক্রন সংক্রমণের ফলে হাসপাতালের ওপর কী প্রভাব ফেলবে তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে এরই মধ্যে অধিক পরিমাণ রোগী ভর্তি করার জন্য হাসপাতালগুলোতে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের কিভাবে দ্রুততার সাথে চিকিৎসা সম্পন্ন করা যায় সে বিষয় খতিয়ে দেখছে সরকার। একইসাথে অবস্থা পর্যালোচনা করার জন্য ন্যাশনাল করোনাভাইরাস কমান্ড কাউন্সিলের একটি বৈঠক আহ্বান করা হচ্ছে খুব শিগগিরই।
সর্বশেষ খবরে জানা গেছে দক্ষিণ আফ্রিকায় ২৪ ঘণ্টায় করোনায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৩২৫ জন। এ সময়ে মারা গেছেন ১৪৪ জন। ভারতে একদিনে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৩০৬ জন। মারা গেছেন ২১১ জন। নতুন তথ্যে জানানো হয়েছে, ভারতে ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ জনে। দক্ষিণ আফ্রিকায় একদিনে আক্রান্ত হয়েছেন ১১,১২৫ জন। আগের দিনের তুলনায় এ সংখ্যা সামান্য কম।
সোমবার থাইল্যান্ডের স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মকর্তারা বলেছেন গত মাসেই স্পেন সফর করেছিলেন এমন একজন মার্কিন নাগরিকের দেশে প্রথমবারের মতো করোনা ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। ওই ব্যক্তি গত ২৯নভেম্বর থাইল্যান্ডে পৌঁছেছেন। এর মধ্য দিয়ে ওমিক্রন আক্রান্তের দিক দিয়ে থাইল্যান্ড ৪৭তম দেশ। দেশটির ডিপার্টমেন্ট অফ ডিজিজ কন্ট্রোল-এর মহাপরিচালক ওপাস কার্নকাউনপং এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংবাদ সম্মেলনে। তিনি বলেন, ওমিক্রন আক্রান্ত ওই মার্কিন নাগরিকের বয়স ৩৫ বছর। তার হালকা সংক্রমণ রয়েছে। তার সংস্পর্শে এসেছিলেন এমন ব্যক্তিদের করোনার পরীক্ষা করা হচ্ছে।উল্লেখ্য বোতসোয়ানা ইমাতিনি, লেসোথো, মালাবি, মোজাম্বিক, নামিবিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং জিম্বাবুয়েসহ দক্ষিণ আফ্রিকার আটটি দেশের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে থাইল্যান্ড। সূত্র : অনলাইন গার্ডিয়ান।

প্রতিমন্ত্রী মুরাদের অপসারণ চায় সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম

সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ৩০ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

নারী বিদ্বেষী, বর্ণবাদী, বিকৃত ও যৌন হয়রানিমূলক বক্তব্য দেওয়ায় তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানকে অপসারণের দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম। সোমবার (৬ ডিসম্বের) গণমাধ্যমে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রওশন আরা রুশা ও সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী শম্পা বসু।

বিবৃতিতে বলা হয়, তথ্য প্রতমিন্ত্রী ডা. মুরাদ অনলাইন আলোচনায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালদো জিয়া, তার ছেলে তারেক রহমান ও তার নাতনি জায়মা রহমান সম্পর্কে অত্যন্ত অশালীন অশ্রাব্য ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, যা নারী বিদ্বেষী, বর্ণবাদী, বিকৃতরুচি সম্পন্ন ও যৌন হয়রানিমূলক। এসব মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, ভীষণ বিকৃত মানসিকতার অধিকারী এই সংসদ সদস্য।

নেতৃদ্বয় বলেন, নারী বিদ্বেষী বক্তব্যের জন্য ইতোপূর্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে জেলে যেতে হলেও ডা. মুরাদকে এখনো কেন আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না? এতে করে জনমনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক, তাহলে কী ডাক্তার মুরাদ রাষ্ট্র ও সরকারের প্রশ্রয়েই এ ধরনের মন্তব্য করছেন, বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে চলেছেন? জনগণের এসব প্রশ্ন নিরসনে তারা অবলিম্বে ডা. মুরাদের মন্ত্রীত্ব ও সংসদ সদস্য পদসহ সব ধরনের সাংবিধানিক পদ থেকে অপসারণ দাবি করেন। এমন একটি দায়িত্বশীল পদে অবস্থান করে নারী বিদ্বেষী মন্তব্য করার জন্য শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তারা।