বুধবার, ১০ নভেম্বর ২০২১, ২৫ কার্তিক ১৪২৮, ০৪ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী
দক্ষতা – যোগ্যতা থাকার পরেও, ক্লিনার, গার্ড ….
এই ব্যাপারটিকে নিয়তি বলবেন? নাকি ভাগ্য দোষ, আমার জানা নেই, তবে আমি একে কোন শব্দেই সংজ্ঞায়িত করিনা, করার ইচ্ছা ও নেই!
আমি নিজে বাংলাদেশী হিসাবে একটা কথা সবসময়ই গর্ব করি, আমাদের দেশের মানুষের মেধা বেশি আলহামদুলিল্লাহ, ভাষাগত দক্ষতা বলুন বা কাজ রপ্ত করার ক্ষমতা বলুন, বাকী ন্যাশনালিটির মানুষের কাছে আমরা আদর্শ, কিন্ত ভাগ্যদেবী সুপ্রসন্ন হয়না অন্য কারনে!
ভিসা – আকামা – ট্রান্সফার, এই ৩ টা শব্দই প্রবাসের ১২ টা বাজিয়ে দেয়, দক্ষতা – যোগ্যতা সব সাইড পকেটে রেখে আমাদের স্মার্ট – এক্সপার্ট ভাইগুলো নিজেরে বিলিয়ে দেয় ক্লিন, ফরাস বা অন্যান্য কাজে! কোন কাজকেই ছোট করিনি, স্যালুট সমস্ত শ্রমজীবী মানুষকে, তবে সুযোগ পেলে আমাদের অবস্থান হয়তো অন্যরকম হতো 🙃
কুয়েতে বাংলাদেশী শ্রমিকদের বিরাট একটা অংশ, কুয়েতে এসেছে হাতে শিকল ও পায়ে বেদী পড়ে, একথা কেন বলছি জানেন? কারন, ক্লিনিং বা আকদ হুকুমার কোম্পানি গুলোতে আমাদের দেশের ” স্মার্ট ছেলে ” গুলো এসেছে এক ভ্রমে পড়ে, কেউ প্রবাসের নেশায় উন্মত্ত হয়ে, কেউ আবার টাকার স্বপ্নে বিভোর হয়ে ……
আমাদের ম্যাজোরিটি শ্রমিকদের ভিসার ক্যাটাগরি হয়তো খাদেম নয়তো আকুদ / মাশরুর ছাগীরা আকামাধারী! এখানেই মুল সমস্যাটা হয়ে যাচ্ছে, আপনি কোম্পানির ইচ্ছাধীন থাকা লাগছে, আবার শ্রমের মজুরি ও খুব কম … অন্য কোম্পানিতে ট্রান্সফার হবেন? সেই আশায় ও গুড়ে বালি …. দিন শেষে বাকি থাকে একরাশ হতাশা, একজোড়া নির্ঘুম চোখ, বেদানার্ত হৃদয় ।
আমি গত কয়েকদিনে প্রচুর লেখেছি, এবং ম্যাজোরিটি লেখাই হচ্ছে প্রবাস নিয়ে নেতিবাচক, জ্বী ….. 🙂
আমি আমার স্বার্থে লিখিনি ভাই, আমি চাই আমরাই কুয়েতে নাম্বার ওয়ান কমিউনিটি হই, আমরাই সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স দেশে পাঠায়, কিন্ত ভাই দিন শেষে দেখা যাবে, আমাদেরই স্বজাতির আকামা লাগে না, হাজার হাজার শ্রমিকের আকামা থাকে না, কোম্পানি খুজেঁ পাইনা, পাসপোর্ট বা কোম্পানির অফিস কই তাও জানেনা ….. এমন যেন না হয় 🙂
পৃথিবীর যে দেশেই যান, দক্ষ হয়ে যান এবং পেশার সাথে আপনার আকামা / ভিসার সামঞ্জস্যতা রাখুন! প্রবাস বড়ই পিচ্ছিল জায়গা, হোচট খাওয়া বা ব্যাকে যাওয়ার চান্স সবার জন্য থাকেনা ….
