ট্যাগ বিমান বাংলাদেশের হয়রানি ও একজন প্রবাসীর আক্ষেপ

বিমান বাংলাদেশের হয়রানি ও একজন প্রবাসীর আক্ষেপ

বুধবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ২৬ মাঘ ১৪২৮, ০৭ রজব ১৪৪৩ হিজরী

গতকাল বাংলাদেশ থেকে সিংগাপুর আসার সময় কি পরিমাণ হয়রানির শিকার হইছি যা বলে প্রকাশ করা যাবে না। এমন হাজার অভিযোগ যুগ যুগ ধরে প্রবাসীদের মুখ থেকে শুনে আসছি, আজ আমি নিজেই ভুক্তভোগীদের একজন ছিলাম । আমাদের এয়ারপোর্টে কি পরিমাণ অযোগ্যদের দায়িত্বে বসানো হয়েছে তা গতকাল বুঝলাম। প্রথমে বোডিং পাস করতে গেলাম সেখানে বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক কর্মকর্তা আমাকে জিজ্ঞাসা করল আপনার (এন্টি এপ্রোভাল) মানে সিংগাপুরে প্রবেশ এর জন্য অনুমতি। কি সিংগাপুর থেকে দিছে? আমি ভদ্রতার সাথে উওর দিলাম স্যার এন্টি এপ্রোভাল তো সিংগাপুর থেকে দেয়। সে বলল এটা ফেক এন্টি এপ্রোভাল। আমি বললাম স্যার আমার এন্টি এপ্রোভাল টা সিংগাপুর সেফ ট্রাভল থেকে দিছে কারন আমি সার্ভিস সেক্রেটরে এসপাসে জব করি। তাই আমার এন্টি এপ্রোভাল টা অন্যরকম আর আমি ছুটিতে আসছি একমাসের জন্য। আমি তাকে মোবাইল বের করে অনলাইনে আমার এন্টি এপ্রোভাল টা চেক করে দেখাইলাম। সে কিছুই বিশ্বাস করল না সে আমাকে বলল আপনি এটা দিয়ে যেতে পারবেন না বাসায় চলে যান। কি আর করা সিংগাপুরে আমাদের অফিসের মেডাম কে কল দিলাম সে বলল আমি অফিসে যাচ্ছি পরে আমি এমওএম কল দিতাছি। তারপর আরেক সমস্যা আমার বাংলাদেশের কভিড টেস্টের রেজাল্ট এর তারিখ এর সাথে সময় লিখা নাই কেন? আমি বললাম স্যার এটা আমি অনলাইন থেকে ডাউনলোড করছি টাইম না আসলে আমি কি করব। বলল সাস্থ্য বিভাগ থেকে ঠিক করে আনতে। হাতে আমার সময় আছে এক ঘন্টা। সাস্থ্য বিভাগ আরেক যায়গায় যেতে বলল সেখানে একশত টাকার বিনিময়ে ঠিক করে দিল। পরে আসলাম বোডিং পাস করতে এসে দেখি বোডিং পাস বন্ধ করে ফেলছে। একজন বলতাছে আপনি জানেন না ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাইট এর কত ঘন্টা আগে এয়ারপোর্ট থাকতে হয়? আমি বললাম আমি তো ফ্লাইট এর 2.5 ঘন্টা আগে আসছি। সে আমাকে বলল এখন তো মাত্র 30 মিনিট সময় আছে দেখি হেড স্যার এর সাথে কথা বলে দেখি। এর মধ্যে অফিসের ম্যাডাম আমাকে কল দিয়ে বলল তর এন্টি এপ্রোভাল ঠিক আছে আমি মাত্র এমওএম এর সাথে কথা বলছি। বাংলাদেশের এয়ারলাইনসের বড় স্যার এসে বলল তুমি নিজের রিস্কে যেতে পারো যদি তোমাকে সিংগাপুর থেকে ফিরিয়ে দেয় সব খরচ তুমি বহন করবা জরিমানাসহ। আমি সাথে সাথে রাজি হইলাম বললাম স্যার আমার কাছে মাস্টার কার্ড আছে। তারপর আমাকে একজন সাথে নিয়ে বিমানে উঠায় দিয়ে আসল। গিয়ে দেখি শুধু বিমান আমার জন্য ওয়েট করতাছে। পরে আলহামদুলিল্লাহ্ সিংগাপুর আসলাম আর সিংগাপুর immigration আমাকে একাবারের জন্যও জিজ্ঞাসা করে নাই এন্টি এপ্রোভাল এর বেপারে। কারণ এই দেশের সব কিছুই অনলাইনের অন্তর্ভুক্ত কাউকে কিছু জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন নেই। এখন বুঝতে পারছি বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা কেন লোকসান হয়। এখন মনে চায় বাংলাদেশর এয়ারলাইন্সের বোডিং পাস কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসা করতে আমার এন্টি এপ্রোভাল টা আদৌ কি ফেক ছিল? বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুরোধ এয়ারপোর্টে প্রবাসীদের হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড গুলো বন্ধের ব্যবস্থা করুন।

লিখেছেন : আরিফুল ইসলাম অনিক, সিঙ্গাপুর প্রবাসী