কুয়েতের জাতীয় পরিষদের স্পিকার মারজুক আল গানিম প্রধানমন্ত্রী শেখ সাবাহ আল খালিদকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের উদ্যোগের বিষয়টি পুনর্বার বিবেচনা করতে রাজী করিয়াছেন।
শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারী) স্পীকার মারজুক আল গানিম এক টুইট বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন ।
এর আগে কুয়েত সিটির আল ইরাদা স্কয়ারে সমবেত হয়ে সরকারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতে থাকে সেলুন, ক্যাফে, রেস্তোরা, ক্লাব ইত্যাদির মালিকরা ।
গত বৃহস্পতিবারের মন্ত্রী পরিষদ বৈঠকে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি রোধে কাল রবিবার থেকে কুয়েতের সকল সেলুন ও ক্লাব পুরোপুরি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয় ।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এমন সিদ্ধান্ত পুনঃ বিবেচনা করার দাবী জানান ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকরা, তাদের দাবীর প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন কুয়েতি সংসদের স্পীকার ও সাংসদরা ।
স্পীকার মিঃ মারজুক জানান, বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে আলোচনার জন্য কমিটি আগামীকাল বৈঠকে মিলিত হইবে ।
অন্যদিকে এমন আশ্বাসের পর ইরাদা স্কয়ার থেকে নিজেদের বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে নিয়েছে ব্যবসায়ীরা ।
জল্পনা সত্যি করে আজ ভিয়েতনামে লঞ্চ হল Samsung Galaxy M12। গত কয়েকমাস ধরে এই ফোনটিকে একাধিক সার্টিফিকেশন সাইটে দেখা যাচ্ছিলো। যারপরেই নিশ্চিত হয় স্যামসাং গ্যালাক্সি এম১২ লঞ্চ হওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা। অবশেষে আজ এই ফোনটিকে স্যামসাং ভিয়েতনামের ওয়েবসাইটে দেখা যায়। এই ফোনটি ৬.৫ ইঞ্চি ইনফিনিটি ভি ডিসপ্লে সহ এসেছে। এছাড়াও Samsung Galaxy M12 ফোনে আছে ৬,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি, ৪৮ মেগাপিক্সেল কোয়াড রিয়ার ক্যামেরা।
Samsung Galaxy M12 এর দাম
স্যামসাং তাদের ভিয়েতনামের ওয়েবসাইটে গ্যালাক্সি এম১২ এর দাম উল্লেখ করেনি। তবে ফোনটি Mobile World Hanoi, Viettel Store এর মত রিটেল স্টোর থেকে কেনা যাবে বলে জানানো হয়েছে। ফোনটি এলিগেন্ট ব্লু, ব্ল্যাক অ্যাট্ট্রাকশন, টাইমলি গ্রীন জেড কালারে পাওয়া যাবে। Samsung Galaxy M12 ফোনটি ৩/৪/৬ জিবি র্যাম এবং ৩২/৬৪/১২৮ জিবি স্টোরেজ বিকল্প সহ লঞ্চ হয়েছে।
Samsung Galaxy M12 এরস্পেসিফিকেশন
ডুয়েল সিমের স্যামসাং গ্যালাক্সি এম১২ ফোনে ৬.৫ ইঞ্চি এইচডি প্লাস (৭২০ x ১৬০০ পিক্সেল) টিএফটি এলসিডি দেওয়া হয়েছে। এই ডিসপ্লের ডিজাইন ইনফিনিটি ভি নচ। এই ফোনে ২.০ গিগাহার্টজ ক্লক স্পিড যুক্ত অক্টা কোর প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও কোম্পানির তরফে এর নাম জানানো হয়নি। তবে অনুমান করা হচ্ছে এটি এক্সিনস ৮৫০ প্রসেসর হতে পারে। সাথে থাকতে পারে Mali G76 জিপিইউ। আবার ফোনটি ৬ জিবি পর্যন্ত র্যাম ও ১২৮ জিবি স্টোরেজ সহ পাওয়া যাবে। মাইক্রোএসডি কার্ডের মাধ্যমে এর স্টোরেজ ১ টিবি পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।
ফটোগ্রাফির জন্য Samsung Galaxy M12 ফোনের পিছনে আছে কোয়াড ক্যামেরা সেটআপ। যার প্রাইমারি ক্যামেরা ৪৮ মেগাপিক্সেল সেন্সর (এফ/২.০)। এছাড়াও আছে ৫ মেগাপিক্সেল আলট্রা ওয়াইড লেন্স (এফ/২.২), ২ মেগাপিক্সেল ম্যাক্রো সেন্সর (এফ/২.৪) ও ২ মেগাপিক্সেল ডেপ্থ সেন্সর (এফ/২.৪)। সেলফি ও ভিডিও কলের জন্য এতে আছে এফ/২.০ অ্যাপারচার সহ ৮ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা।
Samsung Galaxy M12 ফোনটি ৬,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি সহ এসেছে। এর সাথে ১৫ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট করবে। চার্জিংয়ের জন্য এই ফোনে আছে ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট। সিকিউরিটির জন্য এতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর ও ফেস আনলক উপলব্ধ। অ্যান্ড্রয়েড ১১ বেসড এই ফোনটি OneUI সিস্টেমে চলবে। এর ওজন ২২১ গ্রাম।
ফোন ব্যবহার করতে করতে হুট করে বিরক্ত অনুভব হওয়ার অন্যতম কারণ হলো বিজ্ঞাপন। এটা হতে পারে কোনো কোম্পানির, হতে পারে অনলাইন শপের। আবার হতে পারে কোনো খাবারদাবারের। এগুলো আসার পর বিরক্ত হয়ে যাওয়া অস্বাভাবিক কিছু না। এগুলো বন্ধ করার কোনো উপায় কি নেই? বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ফোনে ভিন্ন ভিন্নভাবে এসব বিজ্ঞাপন বন্ধ করার উপায় রয়েছে। ফোনে থাকা সেটিংস অথবা কিছু অ্যাপসের মাধ্যমে সেই সেটিংসগুলো অ্যাপ্লাই করলে এ অ্যাড বন্ধ করা সম্ভব।
অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন থেকে অ্যাড বন্ধ করার জন্য সাধারণ কিছু নিয়ম রয়েছে-প্রথমে স্মার্টফোনের সেটিংসে যেতে হবে। সেখানে গিয়ে ‘গুগল’কে বের করতে হবে।‘গুগলে’ এ ঢোকার পরে শুরুতেই থাকা ‘অ্যাডস’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। ক্লিক করলে ‘অ্যাডস পারসোনালাইজড’ নামে একটি অপশন আসবে, সেটি অন করতে হবে।
এবার ‘ইউর অ্যাডভারটাইজিং আইডি’ নামের অপশনটি রিসেট করে দিতে হবে। রিসেট করার পর ‘অ্যাডভারটাইজিং আইডি’ পরিবর্তন হয়ে যাবে। এ আইডির ক্ষেত্রে এটুকু করতে হবে। এতে বিরক্তিকর বিজ্ঞাপন দেখা থেকে মুক্তি মিলবে।এ ছাড়াও ফোনের ব্রাউজার থেকেও এ বিরক্তিকর বিজ্ঞাপন বন্ধ করা যায়। এ জন্য প্রথমে ফোনের ‘ক্রোম’ ব্রাউজারে গিয়ে ‘মাই অ্যাকটিভিটি’ নামের সাইটে ঢুকতে হবে। ফলাফল আসার পর ‘ওয়েলকাম টু মাই অ্যাকটিভিটি’তে ঢুকবেন। এটিতে যাওয়ার পরে এ সাইটের বাম পাশে উপরে থ্রি স্কেলের দাগে ক্লিক করবেন।সেখান থেকে আপনাকে যেতে হবে ‘অ্যাকটিভিটি কন্ট্রোল’ নামের অপশনে। সেখানে ঢোকার পরে আপনাকে ‘অ্যাডস’ অপশনে গিয়ে ‘অ্যাডস পারসোনালাইজেশন ইজ অন’। এই ‘অন’টাকে আপনার ‘অফ’ করে দিতে হবে। এরপর উপরে ডানপাশে থ্রি ডটের মেন্যুটিতে চাপ দিয়ে চলে যাবেন সেটিংসে। সেখানে যাওয়ার পরে নিচে ‘সাইড সেটিংস’ নামে একটি অপশন দেখা যাবে। এটিতে ঢোকার পরে ‘কুকিজ’এ গিয়ে ‘ব্লক থার্ড পার্টি কুকিজ’ অন করে দিলেই অ্যাড আসা বন্ধ হয়ে যাবে।
ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ। ফেসবুকের এই মেসেজিং অ্যাপ নিয়মিত ব্যবহার করেন অনেকেই। যদিও সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের প্রাইভেসি নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। হোয়াটসঅ্যাপে লাস্ট সিন বন্ধ করে রাখলেও চ্যাট করার সময় আপনাকে অনলাইন দেখাবে। যদিও অনেক সময় গোপনীয়তার জন্য হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের সময় অদৃশ্য থাকতে চান অনেকেই। আর সেই জন্যই রয়েছে এমন এক উপায় যেখানে হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাট করলেও আপনাকে অনলাইন দেখাবে না। ‘অনলাইন’ না থেকেই হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাট চালিয়ে যাবেন যেভাবে? যদিও এই কাজে অন্য একটি অ্যাপের সাহায্য নিতে হবে।
শুরুতেই প্লে স্টোরে গিয়ে ‘ডব্লিউএ বাবল ফর চ্যাট’ ইন্সটল করুন। এই অ্যাপ ইন্সটলের পরে আপনার ফোনে ‘অ্যাকসেসিবিলিটি পারমিশন’ চাইবে এই অ্যাপ। এই অনুমতি দেওয়ার পরেই নতুন অ্যাপ ব্যবহার শুরু করা যাবে।এই অ্যাপ ব্যবহার শুরু করলে মেসেঞ্জারের মতোই হোয়াটসঅ্যাপের সব চ্যাট বাবলে দেখা যাবে। আর এই অ্যাপ ব্যবহার করে চ্যাট করার সময় আপনাকে কখনই অনলাইন দেখাবে না। যদিও আপনি সহজেই হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাট চালিয়ে যেতে পারবেন। যদিও শুধু অ্যানড্রয়েড গ্রাহকরাই এই ফিচার ব্যবহার করতে পারবেন। এ ছাড়াও ‘জিডব্লিউবি হোয়াটসঅ্যাপ’ অ্যাপ ব্যবহার করেও এই ফিচার কাজে লাগানো যাবে।
সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের শর্তাবলিতে পরিবর্তন এসেছে। নতুন শর্তে গ্রাহকের বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য কোম্পানি বিজ্ঞাপন দেখানোর কাজে সংগ্রহ করবে। এর পরেই বিশ্বব্যাপী বহু মানুষ ফেসবুকের এই মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার বন্ধ করেছেন। আর এই ঘটনার পরেই মেসেজিং অ্যাপ সিগন্যালের জনপ্রিয়তা বাড়তে শুরু করেছে। টেসলা প্রধান ইলন মাস্ক টুইটারে মানুষকে সিগন্যাল ব্যবহার করার আবেদন জানিয়েছেন। সিগনালের সঙ্গেই জনপ্রিয়তা পেয়েছে টেলিগ্রাম।
মাতৃভূমি, পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন ছেড়ে সাত সমুদ্র তের নদী পাড়ি দিয়ে আজ পরবাসী হয়েছি। একবুক আশা নিয়ে বিদেশ আসার পর স্বপ্নই দুঃস্বপ্ন হয়ে যায়। রেমিট্যান্সযোদ্ধারা মরে গেলেও বেঁচে থাকে আপনজনের হৃদয়ে অনন্তকাল, বাঁচে থাকে আমাদের স্বপ্নগুলো।
সম্প্রতি ডালিম, নিতাই, মাহবুবুর, রোমানেরা বিভিন্ন দেশে মৃত্যুবরণ করেছেন। এভাবেই দুই বছর আগে প্রাণপ্রিয় সন্তান অপি বড়ুয়াকে সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আবদুল্লাপুর গ্রামের প্রয়াত মোহন বড়ুয়ার একমাত্র সন্তান ডালিম বড়ুয়া (৪৪) স্ত্রী ও এক কন্যা সন্তানকে বিদায় দিয়ে ফ্রান্সে পাড়ি জমিয়েছিলেন।
কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস! কে জানত যে, সেটাই হবে তাদের মধ্যে শেষ দেখা। ৩০ জানুয়ারি সকাল ৭টায় প্যারিস হাসপাতালে দূরারোগ্য ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। ছোটবেলা থেকেই তিনি কঠোর পরিশ্রম করে জীবনযুদ্ধে জয়ী হয়েছেন।
তার অকাল মৃত্যুতে একমাত্র সন্তান অপি দিশেহারা। যে সূর্যের আলোর আশায় ভালোবাসায় প্রবাসের পথে চলছিল অপি, সেই সূর্যসম বাবার মৃত্যুতে সন্তানের জীবন যেন অন্ধকার। এখন কে দেবে তাকে সান্ত্বনা, কে শোনাবে ভরসার গান। তার দু’চোখ বেয়ে শুধুই অশ্রু আর অশ্রু।
এদিকে ডালিম বড়ুয়াসহ পরপর তিনজন প্রবাসী বাংলাদেশিকে হারিয়ে ফ্রান্সের বৌদ্ধ কমিউনিটিসহ আবদুল্লাপুর, গহিরা ও খাগড়াছড়ির দীঘিনালয়ে চলছে শোকের মাতম। ২৬ জানুয়ারি খাগড়াছড়ির দীঘিনালার কলিন চাকমা (২৮) নামক ফ্রান্স প্রবাসী মৃত্যুবরণ করেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তার লাশ এখনও হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
১২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রাউজান গহিরা, ফ্রান্স প্রবাসী মানিক বড়ুয়া (৪৩) লন্ডনে বেড়াতে গিয়ে রাতে ঘুমানোর পর সকালে আর ঘুম থেকে ওঠেনি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মানিক বড়ুয়ার মরদেহ ২ ফেব্রুয়ারি ব্রিটেন থেকে কার্গো বিমানে করে প্যারিসের এয়ারপোর্টে এসে পৌঁছায়। এখন থেকে দৈনিক এক ঘণ্টা করে তার মরদেহ দর্শনার্থীদের দেখানো হবে।
ডালিম বড়ুয়ার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে। করোনাকালে শিডিউল পরিবর্তন হলেও দৈনিক এক ঘণ্টা করে তার মরদেহ পরিদর্শন করা যাবে কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের মাধ্যমে। এ ব্যাপারে ডালিম বড়ুয়ার একই গ্রামের সন্তান ফ্রান্স প্রবাসী বাবলু বড়ুয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়।
সূত্র জানায়, ডালিম বড়ুয়ার মরদেহ বাংলাদেশ পাঠানোর কথা থাকলেও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে না পাঠিয়ে ফ্রান্সেই তার শেষকৃত্যানুষ্ঠান শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিউনিটির নেতারা ও পরিবার।
এদিকে ১৮ দিনের ব্যবধানে তিনজনের অকাল মৃত্যুর পর সবধরনের আইনানুগ কার্যক্রম শেষ করে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার দিন ধার্য করা হয়েছে। ৮ ফেব্রুয়ারি কলিন চাকমার শেষ কৃত্যানুষ্ঠান হবে ভারিটি সুর সাইন নামক স্থানে।
নতুন বছরে তিন প্রবাসীকে হারিয়ে ফ্রান্সের বাংলাদেশ বৌদ্ধ কমিউনিটি শোকে স্তব্ধ। এ বিষয়ে ফ্রান্স কূশলায়ন মেডিটেশন সেন্টারের অধ্যক্ষ জোতিসার থেরো বলেন, এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনা সামাল দিতে আমরা অনেকক্ষেত্রে অপ্রস্তুত, ইতোমধ্যেই পরিলক্ষিত হয়েছে। সকলে মিলে একটি সামগ্রীক উদ্যোগ ও পরিকল্পনা গ্রহণের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও আলোচনা চলছে। তাই একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠন সময়ের দাবি।
এ ব্যাপারে ফ্রান্স ত্রিরত্ন বাংলা বুড্ডিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পিনু বড়ুয়া বলেন, বর্তমানে ফ্রান্সে বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বিশাল জনগোষ্ঠীর বসবাস। তাই মৃত ব্যক্তিকে সহযোগিতা করতে আমরা সকলে মিলে একটা তহবিল সংগ্রহ করে প্রবাসী হয়ে পরবাসীর পাশে দাঁড়াতে চাই।
সম্প্রতি আবদুল্লাপুরের ইতালি প্রবাসী রোমান বড়ুয়া (৩৩) টিউমার ক্যান্সারজনিত রোগে মৃত্যুবরণ করে। তার লাশ দেশে নিয়ে আসলে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। বৃহস্পতিবার ফ্রান্সে অবস্থানরত আবদুল্লাপুর প্রবাসীদের উদ্যোগে ডালিম বড়ুয়ার স্মৃতিচারণ ও সূত্রপাট সভার আয়োজন করা হয়েছে।
সর্বশেষ তথ্যমতে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক ফটিকছড়ি আবদুল্লাপুর শাক্যমুনি বৌদ্ধ বিহারে ডালিম বড়ুয়ার মৃত্যুতে এক বৈকালিক সংঘদান ও স্মৃতিচারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে ডালিম বড়ুয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন আবদুল্লাপুর শাক্যমুনি ও ধাতুচৈত্য বৌদ্ধ বিহারের সকল দায়ক ও দায়িকা মন্ডলী। ফটিকছড়ির অষ্ঠগ্রাম ভিক্ষু সমিতির যুগ্ম সম্পাদক এম ধর্মবোধি স্থবির, কোরিয়া বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট টেম্পলের অধ্যক্ষ সংঘানন্দ ভান্তে, আবদুল্লাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জুয়েল অহিদুল আলম এবং জ্ঞান অন্বেষণ নিউজের প্রকাশক ফ্রান্স প্রবাসী সঞ্জীব বড়ুয়া প্রমুখ।
বিশ্বব্যাপী উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা তৈরি এবং তরুণদের বিভিন্ন সুযোগ সৃষ্টির ইকোসিস্টেম হিসেবে কাজ করে আসছে ‘অপরচুনিটিস হাব’। অপরচুনিটি হাব সেরা ১০০ প্রভাবশালী তরুণের তালিকায় স্থান পেয়েছেন মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা পাভেল সারওয়ার।
অপরচুনিটিস হাব ২০২০ সালের জন্য ১০০ প্রভাবশালী তরুণের অ্যাওয়ার্ডের তালিকা প্রকাশ করেছে। এই অ্যাওয়ার্ডের উদ্দেশ্য হচ্ছে বিশ্বব্যাপী পরিবর্তনের জন্য তরুণদের অসামান্য কাজের জন্য স্বীকৃতি দেওয়া।
পাভেল সারওয়ার সামাজিক উদ্ভাবক ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত হন। তিনি তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে সামাজিক ও নাগরিক সমস্যার সমাধান, তথ্য-প্রযুক্তি শিক্ষা ও ইয়ুথ ডেভেলপমেন্টে সক্রিয়ভাবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এবং জাতীয় সংস্থায় কাজ করছেন। বিশেষ করে বিগত কয়েক বছর ধরে নাইজেরিয়া ও বিভিন্ন আফ্রিকান দেশে তরুণদের সামাজিক উদ্যাক্তা ও উদ্ভাবক হিসেবে কাজের অবদান স্বরূপ তাকে এই স্বীকৃতি দেয়া হয়।
ব্যক্তি জীবনে তিনি একজন উদ্যোক্তা, সামজিক উদ্ভাবক গুগল সার্টিফায়েড এডুকেটর ও ট্রেইনার। পাভেলের প্রতিষ্ঠান কোডেক্স সফটওয়্যার সলিউশন মূলত প্রযুক্তির ব্যবহার করে নাগরিক সমস্যার সমাধান ও উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করে। বর্তমানে বাংলাদেশ ছাড়াও নেপাল এবং মালয়েশিয়াতে কাজ করছে কোডেক্স।
২০১৭ সালে মালয়েশিয়াতে আসেন এই তরুণ প্রযুক্তি উদ্যোক্তা। প্রতিষ্ঠা করেন তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক সংগঠন ইয়ুথ হাব। ইয়ুথ হাব স্কুল পর্যায়ে উদ্ভাবন, তথ্য-প্রযুক্তি ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরি নিয়ে কাজ করছে। বিশেষ করে মেয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে তথ্য-প্রযুক্তি শিক্ষাকে প্রাধান্য দিচ্ছে প্রতিষ্ঠনটি।
মালয়েশিয়ার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংগঠনের সহযোগিতায় দেশটির বিভিন্ন রাজ্যের স্কুল পর্যায়ে তথ্য-প্রযুক্তির শিক্ষা নিয়ে কাজ করছেন পাভেল। এছাড়া বিশ্বের ১৭টি দেশে এখন ইয়ুথ হাবের ধারণা নিয়ে কাজ হচ্ছে।
করোনাকালে সুবিধাবঞ্চিত নারীদের মাঝে বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ ও পিরিয়ড নিয়ে সচেতনতা তৈরির জন্য জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত বই ‘টাইগার বনাম কভিড’ বইতে তাকে নিয়ে একটা ফিচার পাবলিশ করা হয়। ওই সময়ে সেরা ৫০টি উদ্যোগ নিয়ে বইটি প্রকাশিত হয়।
নারীদের মাঝে তথ্য-প্রযুক্তি শিক্ষা নিয়ে কাজের জন্য সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের সংগঠন ‘দেয়ার ওয়াল্ডের্র’ আমন্ত্রণে ২০১৯ সালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিয়ে বিশ্ব নেতাদের সামনে বক্তব্য দেন পাভেল।
পাভেল মনে করেন মানসম্মত শিক্ষা কোনো কিছুর জন্য আটকে থাকতে পারে না। তাই সবার মাঝে মানসম্মত শিক্ষা পৌঁছানোর লক্ষ্যে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ডেমরা আইডিয়াল কলেজ। এছাড়া তিনি কমনওয়েলথ ইয়ুথ ইনোভেশন হাবের একজন তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পাভেল গুগলের বিভিন্ন পরিষেবা ও কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত আছেন দীর্ঘদিন ধরে। তিনি একজন গুগল ম্যাপ এক্সপার্ট, গুগল স্ট্রিট ভিউ ট্রাস্টেড ও গুগল ক্রাউডসোর্সের প্রতিনিধি। ২০১৭ সালে গুগলের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মাউন্টেন ভিউতে গুগলের প্রধান কার্যালয়ে যান তিনি।
গুগল কমিউনিটির হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন। গুগলের অফিসিয়াল ব্লগ, লোকাল গাইডস কানেক্টে ‘মিট দ্য কাপল দ্যাট গাইডস টুগেদার’ শিরোনামেও একটি ফিচার পাবলিশ করা হয় এ বাংলাদেশিকে নিয়ে।
এছাড়া ২০১৮ সালে গুগল ক্রাউডসোরাস থেকে সেরা কমিউনিটি লিডারের অ্যাওয়ার্ড পান পাভেল। তিনি বিভিন্ন সময় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নানান স্বীকৃতি লাভ করেন। বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে আরও সম্মানের সঙ্গে তুলে ধরতে চান এ তরুণ তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা পাভেল সারওয়ার।
একেকজন বাংলাদেশি তরুণ-যুবা আঠারো থেকে বিশ লাখ টাকা খরচ করছেন কয়েক মাস বা বছর ধরে যাত্রা করে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত কোনো একটি দেশে পৌঁছাতে। এই যাত্রায় কখনো কখনো তাদের বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যে দীর্ঘ পথ হাঁটতে হয়, কখনো উত্তাল সাগর পাড়ি দিতে হয়, কখনো পুলিশের নির্মম নির্যাতনের শিকার হতে হয়, কখনো বা মাসের পর মাস লুকিয়ে থাকতে হয় জঙ্গলে বা কোনো গোপন আস্তানায়।
প্রতিকূল এই যাত্রায় জীবনের ঝুঁকিও অনেক। লিবিয়াতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে কিংবা সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে নৌকাডুবিতে মাঝেমাঝেই মারা যান ইউরোপে আসতে আগ্রহী বাংলাদেশিরা। কখনো তাদের মরদেহটা মেলে, কখনো তা-ও মেলে না। অথচ তারপরও হাজার হাজার মানুষ যে কোনো কারণেই হোক বাংলাদেশ ছেড়ে ইউরোপে পাড়ি জমানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখছেন।
তাদের এই আমরণ চেষ্টার পেছনে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের অভিবাসন নীতিও কিছুটা দায়ী। ইতালি বা পর্তুগালের মতো দেশগুলোতে কোনোক্রমে যদি কোনো একজন ব্যক্তি পৌঁছাতে পারেন, তাহলে কয়েক বছরের মধ্যেই বৈধ হয়ে যাওয়ার সুযোগ পান। যাদের ভাগ্য একান্তই সহায়ক নয়, তারা চলে যান ফ্রান্সে, কারণ সে দেশে অবৈধভাবে থাকা যায় যুগের পর যুগ। এ রকম সুযোগ রয়েছে বলে অনেকেই চান কষ্ট করে হলেও সেসব দেশে পৌঁছাতে।
অন্যদিকের বাস্তবতা হচ্ছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোরও নানা খাতে দক্ষ কর্মী প্রয়োজন। ইউরোপ তাই প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষকে বৈধভাবেই ইউরোপে প্রবেশ করার সুযোগ দিচ্ছে। সেই সুযোগ নিতে হলে প্রয়োজন একটু পরিকল্পনা এবং খানিকটা পরিশ্রম।
ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশের একটি সহজ উপায় হচ্ছে উচ্চশিক্ষার জন্য আসা। যে আঠারো বা বিশ লাখ টাকা এবং সময় একজন মানুষ অবৈধ পথে ইউরোপে আসতে ব্যয় করেছেন, সেই সময় ও অর্থ তিনি ইউরোপে শিক্ষার্থী হিসেবে প্রবেশ করতে ব্যয় করলে ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। কেননা এই অঞ্চলের বেশিরভাগ দেশেই বিদেশি শিক্ষার্থীরা চাকুরির সুযোগ পায়।
জার্মানি লেখাপড়া শেষে চাকুরি খোঁজার জন্যও এক বছরের বেশি সময় দেয়। মোটের উপর ব্যবসা-বাণিজ্য করার সুযোগ তো রয়েছেই। আশার কথা হচ্ছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকহাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হিসেবে ইউরোপের এই দেশটিতে এসেছেন।
এছাড়া, চাকরি সূত্রে ইউরোপে প্রবেশের সুযোগও এখন ক্রমশ বাড়ছে। জার্মানি কয়েকবছর আগে এ সংক্রান্ত আইন শিথিল করেছে। ফলে এখন বাংলাদেশে বসেও জার্মানির চাকরির বাজারে আবেদনের সুযোগ রয়েছে। এছাড়া ইউরোপের অন্যান্য দেশেও চাকরি খোঁজা যায়। এই কাজ ইন্টারনেটের মাধ্যমেই করা সম্ভব।
ইউরোপে বৈধভাবে প্রবেশের আরেকটি বড় উপায় হতে পারে বিভিন্ন সেবা খাত। বিশেষ করে কৃষি এবং স্বাস্থ্য সেবা খাতে দক্ষ শ্রমিকের অভাব ইউরোপের দেশগুলোতে প্রকট। জার্মানির কথা আমি জানি যেখানে নার্সের হাহাকার রয়েছে। ইউরোপের মানে প্রশিক্ষিতরা সহজেই এই খাতে চাকরি নিয়ে আসতে পারেন।
তবে, এজন্য রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে উদ্যোগ নিতে হবে। ইউরোপের শ্রম বাজার যে ধরনের প্রশিক্ষিত জনশক্তি চায়, সে রকম প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা বাংলাদেশে করা হলে বৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশের হার বাড়ানো যাবে। বাংলাদেশ সরকার এজন্য চাইলে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় চুক্তি করতে পারে।
মোদ্দা কথা হচ্ছে, শুধু অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশের চিন্তা বাদ দিয়ে বৈধ পথে প্রবেশের পথ খুঁজতে হবে। আর এজন্য নিজেকেই তথ্য খুঁজতে হবে, পরিকল্পনা করতে হবে। বর্তমানের মোবাইল-ইন্টারনেটের যুগে কাজটি মোটেই কঠিন নয়। সূত্র: ডয়েচে ভেলে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফেডারেল ন্যাশনাল কাউন্সিলের স্পিকার সাকার গোবাসের সঙ্গে দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আবু জাফর সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সম্প্রতি আবুধাবির এফএনসি ভবনে তাদের দুজনের সাক্ষাৎ হয়।
এ সময় জাতীয় সংসদ ও এফএনসি এবং দুই দেশের সংসদ সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধিসহ সম্পর্ক উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয়ে তারা আলোচনা করেন।
দুই দেশের সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে একটি যৌথ কমিটি গঠন এবং সদ্যস্যদের মধ্যে সফর ও মতামত বিনিময়ের মাধ্যমে দুদেশের দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা যেতে পারে মর্মে ইউএই স্পিকার অভিমত ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত জাফর শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, খাদ্য উৎপাদন, নারীর ক্ষমতায়ন, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং তথ্য প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব সাফল্যের বিষয়টি তুলে ধরেন। এছাড়া করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ এবং করোনাকালীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় প্রধানমন্ত্রীর সফলতার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।
এছাড়া অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে জনশক্তি রফতানি, খাদ্য নিরাপত্তা, বিনিয়োগ ইত্যাদি খাতে দ্বি-পাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও তারা মতবিনিময় করেন। ইউএই স্পিকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী ক্ষমতায়নসহ আর্থ-সামাজিক বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য উন্নয়নের ভূয়সী প্রসংশা করেন।
রাষ্ট্রদূত ইউএই স্পিকারকে বাংলাদেশের স্পিকার ড. শিরিন শারমিনের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন এবং তার পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। সাকার গোবাস এ আমন্ত্রণ গ্রহণ করে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং ড. শিরিন শারমিনকেও ইউএই সফরের আমন্ত্রণ জানান।