চট্টগ্রামে ১১ বছর আগে জমির বিরোধে প্রতিবেশীকে গলাকেটে হত্যায় এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড এবং তার মা ও বোনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ অশোক কুমার দত্ত এ রায় দেন।
দণ্ডিতরা হলেন- মো. আজম এবং তার মা ফরিদা বেগম ও বোন কামরুন নাহার। ঘটনার সময় ২০০৯ সালে ২১ বছরের যুবক ছিলেন আজম, ফরিদার বয়স ছিল ৫৫ এবং কামরুন নাহারের বয়স ছিল ২৫ বছর। এ মামলার অপর আসামি আজমের বাবা আব্দুর রাজ্জাক বিচার চলাকালে মারা যাওয়ায় তাকে অভিযোগ থেকে অব্যহতি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা পিপি লোকমান হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আজম পলাতক। তার মা ও বোন আগে আদালতে হাজিরা দিলেও রায় ঘোষণার সময় অনুপস্থিত ছিলেন।
মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবনের পাশাপাশি আসামিদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
অতিরিক্ত পিপি লোকমান জানান, আসামিরা ২০০৯ সালের ১৯ অক্টোবর চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে তাদের প্রতিবেশী প্রবাসী আব্দুস সালামকে গলাকেটে হত্যা করেন। এ ঘটনায় সালামের স্ত্রী পারভীন আক্তার বাদী হয়ে আজম, তারা বাবা আব্দুর রাজ্জাক, মা ফরিদা বেগম ও বোন কামরুন নাহারকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ তদন্ত করে ২০১০ সালের ৯ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। একই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর আদালত অভিযোগ গঠন করে। মামলার ২১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।
ঘটনার বিবরণে মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী লোকমান বলেন, হত্যাকাণ্ডের সাত দিন আগে আব্দুস সালাম দেশে ফেরেন। ২০০৯ সালের ১৯ অক্টোবর সকালে সালাম তার বাড়ির সামনে ভেঙে যাওয়া গোয়ালঘর ঠিক করছিলেন। এ সময় আজম, তার বাবা-মা ও বোন বাধা দেন।
দুপুরে সালাম স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ভাত খাওয়ার সময় আসামিরা তার ঘরে ঢোকে। সালামকে মাটিতে ফেলে রাজ্জাক মাথা চেপে ধরেন, ফরিদা ও কামরুন নাহার তার হাত-পা চেপে ধরেন, আর আজম ছুরি দিয়ে কণ্ঠনালীতে আঘাত করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর পর আজম ও তার বাবা রাজ্জাক পালিয়ে গেলেও স্থানীয়রা ফরিদা ও কামরুন নাহারকে আটক করে পুলিশে দেয়।
১। কমিউনিটি সেন্টার, ইস্তেরাহা, হোটেল, খিমাসহ যেকোন প্রোগ্রামস্থলে যেকোন ধরণের অনুষ্ঠান (বিবাহ, কোম্পানির এজিএম সহ এজাতীয় সব ধরণের প্রোগ্রাম) আয়োজন আগামি ৩০ দিনের জন্য নিষিদ্ধ থাকবে । নিষিদ্ধের এই সময় আরো বাড়তে পারে। ২। আগামী ১০ দিন ২০ জনের অধিক সংখ্যাক মানুষের উপস্থিতিতে যেকোন ধরণের সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা নিষিদ্ধ থাকবে। নিষিদ্ধের এই সময় আরো বাড়তে পারে। ৩। আগামী ১০ দিন যেকোন ধরণের বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান আয়োজন করা নিষিদ্ধ থাকবে। নিষিদ্ধের এই সময় আরো বাড়তে পারে। ৪। আগামী ১০ দিন যেকোন ধরণের সিনেমা, বিনোদন প্রোগ্রাম, শপিংমলে/ রেস্টুরেন্টে কিংবা অন্যত্র ইনডোর গেমস নিষিদ্ধ থাকবে। নিষিদ্ধের এই সময় আরো বাড়তে পারে। ৫। আগামী ১০ দিন রেস্টুরেন্টের ভেতরে কাস্টমারকে খাবার পরিবেশন নিষিদ্ধ থাকবে, এসময় শুধু আউট সাইড ডেলিভারী চলমান থাকবে। এসময় এমন কোন অফার ঘোষণা করা যাবেনা যাতে জনসমাগম ঘটে। নিষিদ্ধের এই সময় আরো বাড়তে পারে।
মিউনিসলিটি/ বলদিয়া মিনিস্ট্রি এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে, কোন প্রতিষ্ঠানকে এই নির্দেশনা অমান্যের কারণে ২৪ ঘন্তার জন্য বন্ধ করে দেয়া হবে, পূনরাবৃত্তি ঘটলে ২ দিনের জন্য বন্ধ করে দেয়া হবে, আবারো পূনরাবৃত্তি ঘটলে এক সপ্তাহ, এরপর দুই সপ্তাহ, এরপর পূনরাবৃত্তি ঘটলে চার সপ্তাহের জন্য বন্ধ করে দেয়া হবে।
ইতোমধ্যে রিয়াদ, দাম্মাম, আল কাসিমসহ বিভিন্ন অঞ্চলের আমীর/ গভর্ণরগণ এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় তাদের আওতাধীন দপ্তরসমূহকে করোনা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ মেনে চলার জন্য কঠোরতা অবলম্বনের নির্দেশনা প্রদান করেছেন। তাওয়াক্কালনা এপ সক্রিয় করা ছাড়া কোন শপিং মল কিংবা অফিসে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছেনা। এমতাবস্থায় সংশ্লিষ্ট সকলকে তাওক্কালনা এপ সক্রিয় করাসহ সৌদি নিয়ম কানুন মেনে চলার অনুরোধ রইল।
দুবাইয়ের ট্যুরিজম অথরিটি হোটেল এবং রেস্তোঁরা ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শুক্রবারের অনুষ্ঠান স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছে। সে সাথে ট্যুর এবং পার্টিতে এখন আগের মতো ৫০ জনের পরিবর্তে মাত্র ১০ জন লোকের থাকার ব্যবস্থা করা হবে। নিয়ম না মানলে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ। করোনা ভাইরাস বেড়ে যাওয়ায় সরকার এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
হারুন-অর-রশীদ, দোহা, কাতার: করোনা ভাইরাসের কারণে কাতার সরকার আজ বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে দেশটির রেস্টুরেন্টগুলোতে নতুন নিয়ম জারি করেছে। যা প্রতিটি রেস্টুরেন্টগুলোকে মেনে চলতে হবে বলে জানানো হয়েছে। ০১. কাতারের সকল রেস্টুরেন্ট ও কফি শপ ইন্ডোরে সর্বোচ্চ ১৫ ভাগ ব্যবহার করা যাবে। ০২. ক্লিন কাতার সার্টিফিকেটধারী রেস্টুরেন্ট ও কফি শপ ইন্ডোরে সর্বোচ্চ ৩০ ভাগ ব্যবহার করা যাবে। ০৩. রেস্টুরেন্ট ও কফি শপ আউটডোরে সর্বোচ্চ ৫০ ভাগ ব্যবহার করা যাবে। ০৪. শপিং সেন্টার এবং শপিং মলের ভিতরে অবস্থিত ফুড কোর্ট পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
জানা গেছে, দুই সন্তানের জননী রুবি বেগমের বাড়ি পঞ্চগড় জেলার দিঘীগঞ্জ উপজেলার মাটিয়াপাড়া গ্রামে। তার স্বামীর নাম হোসেন খান। রুবি আট বছর আগে গৃহকর্মীর ভিসায় লেবাননে যান। বাবদা জেলার হাদাত এলাকায় থাকতেন তিনি। এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড শ্বাসকষ্টসহ অন্যান্য শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। গত ১ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় একটি হাসপাতালে পরীক্ষা করলে তার করোনা পজিটিভ আসে। এর একদিন পরই তিনি নিজ কক্ষে মৃত্যুবরণ করলেন। পরে স্থানীয় পুলিশ এসে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যায়।
মহামারি করোনা ভাইরাসে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরও ১৩ জন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮ হাজার ১৭৫ জনে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও ৪৮৫ জনের শরীরে। এ নিয়ে দেশে মোট করোনা শনাক্ত দাঁড়াল ৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩০ জন।
বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে করোনাভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।সংস্থার অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এদিন সুস্থ হয়েছেন আরও ৬১১ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৪ লাখ ৮১ হাজার ৯১৭ জন।
এর আগে বুধবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দেশে আরও ৫২৫ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। এছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে মারা যান ১৩ জন।আরও এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১০ কোটি ৪৯ লাখ ১ হাজার ৭০৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২২ লাখ ৭৮ হাজার ৪৪০ জনের। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন সাত কোটি ৬৬ লাখ ২৯ হাজার ৪৩৪ জন।করোনায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। তালিকায় শীর্ষে থাকা দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন দুই কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার ৪৫৭ জন। মৃত্যু হয়েছে চার লাখ ৬১ হাজার ৯৩০ জনের।আক্রান্তে দ্বিতীয় ও মৃত্যুতে তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে এখন পর্যন্ত সংক্রমিত হয়েছেন এক কোটি সাত লাখ ৯১ হাজার ১২৩ জন এবং মারা গেছেন এক লাখ ৫৪ হাজার ৭৪২ জন।আক্রান্তে তৃতীয় এবং মৃত্যুতে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে এখন পর্যন্ত করোনায় ৯৩ লাখ ৩৯ হাজার ৪২০ জন সংক্রমিত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে দুই লাখ ২৭ হাজার ৫৬৩ জনের।আক্রান্তের দিক থেকে রাশিয়া চতুর্থ স্থানে রয়েছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩৯ লাখ ১ হাজার ২০৪ জন। ভাইরাসটিতে মারা গেছে ৭৪ হাজার ৬৮৪ জন।আক্রান্ত ও মৃত্যুর হিসাবে যুক্তরাজ্য বিশ্বে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ৩৮ লাখ ৭১ হাজার ৮২৫ জন। এর মধ্যে মারা গেছে এক লাখ নয় হাজার ৩৩৫ জন। এদিকে আক্রান্তের তালিকায় ফ্রান্স ষষ্ঠ, স্পেন সপ্তম, ইতালি অষ্টম, তুরস্ক নবম এবং জার্মানি দশম স্থানে আছে। এছাড়া বাংলাদেশের অবস্থান ৩১তম।গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২১৮টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে কোভিড-১৯। ৪ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার)-এর
চীনের জিনজিয়ান অঞ্চলের ‘পুনঃশিক্ষণ’ শিবির নামে সংখ্যালঘু ১০ লাখের বেশি উইঘুর নারী-পুরুষকে বন্দি করে ব্যাপক নির্যাতনের তথ্য উঠে এসেছে বিবিসির এক প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিরাতেই বন্দিশিবির থেকে বাছাই করে উইঘুর নারীদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয় সিসিটিভি ক্যামেরা নেই, এমন কোনো কক্ষে। সেখানে দুই থেকে তিন ব্যক্তি পালাক্রমে তাদের ধর্ষণ করে। সেখানকার ব্যবস্থা এতই কঠোর যে, শিবিরের ভেতরে কী ঘটে, তার খবরাখবর তেমন বাইরে আসে না।
প্রসঙ্গত, উইঘুর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের একটি সন্ত্রাসী হামলার জেরে ২০১৪ সালে জিনজিয়ান সফর করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং। ফাঁস হওয়া নথি থেকে জানা যায়, এর পরই তিনি স্থানীয় কর্মকর্তাদের উইঘুরদের ব্যাপারে চরম নীতি গ্রহণের নির্দেশনা দেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, চীন সরকার ধীরে ধীরে উইঘুরদের ধর্মীয়সহ অন্যান্য স্বাধীনতা কেড়ে নিচ্ছে। জিনজিয়ানের শিবিরে উইঘুর নর-নারীকে সবসময় কড়া নজরদারির মধ্যে রাখা হয়।
শিবিরে তাদের ওপর নানা নির্যাতন-নিপীড়ন চালানো হয়। সেখানে তাদের প্রজনন ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। জোর করে তাদের বিশেষ মতবাদ শেখানো হচ্ছে।
মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, উইঘুরদের সঙ্গে চীনা কর্তৃপক্ষের আচরণ গণহত্যার শামিল। চীন দাবি করছে, উইঘুরদের গণহারে আটক ও জোর করে তাদের প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট করার অভিযোগ ভিত্তিহীন, মিথ্যা।
কুয়েতে ফের নতুন করে কারফিউ , লকডাউন ও বিমানবন্দর বন্ধ হচ্ছে না । বুধবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ সাবাহ আল খালেদের নেতৃত্বে সংসদীয় কমিটির এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় । স্থানীয় ইংরেজি দৈনিক আরব টাইমস তাদের অনলাইন সংস্করণে এই খবরটি প্রকাশ করে । এছাড়া উক্ত সংসদীয় কমিটির নেওয়া সিদ্ধান্তের উদ্ধৃতি দিয়ে ওই দৈনিকটি জানায় , ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে দুই সপ্তাহের জন্য সব দেশের প্রবাসীরা কুয়েত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরােপ করা হয় । তবে স্থানীয় নাগরিক ও গৃহকর্মী ভিসার প্রবাসীদের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে । প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন পূর্বের ১৪ দিনের পরিবর্তে ৭ দিন নির্ধারণ করা হয় । আর এটি ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে । 5 অন্যদিকে , সব বাণিজ্যিক কার্যক্রম রাত ৮ টা থেকে ভাের ৫ টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে । তবে ফার্মেসি , কোওপারেটিভ ও ফুড সাপ্লাই স্টোর গুলাে যথারীতি আগের ন্যায় খােলা থাকবে ।
রেস্টুরেন্ট ও কফিশপ রাত ৮ টা থেকে ভাের ৫ টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে । তবে শুধুমাত্র টেকাওয়ে ও ডেলিভারির জন্য অনুমােদন দেওয়া হয়েছে । এছাড়াও একসাথে জড়াে হওয়া ও জাতীয় দিবস উদ্যাপনও নতুন নিয়মের আওতাধীন থাকবে বলে ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় । উল্লেখ্য , আকস্মিক কুয়েতে করােনা আক্রান্তদের সংখ্যা বেড়ে গেছে । মঙ্গলবার দেশটিতে নতুন করে করােনায় আক্রান্ত হন ৮১১ জন , বুধবার ৭৫৬ জন । যদিও সাতদিন আগেও আক্রান্তদের সংখ্যা এর অর্ধেকের চেয়েও কম ছিল । এ পরিস্থিতিতে দেশটির নীতিনির্ধারকদের অনেকে মনে করছেন কুয়েতের বাহির থেকে কিছু সংখ্যক প্রবেশকারীদের কারণেই আক্রান্তদের সংখ্যা বেড়ে গেছে । কারণ সম্প্রতি কুয়েতের বাহির থেকে দেশটিতে যারা প্রবেশ করেছেন , তাদের অনেকের শরীরে করােনা ধরা পড়েছে । যদিও তারা করােনা আক্রান্ত নয় এই মর্মে সনদ নিয়ে দেশটিতে প্রবেশ করেছিলেন ।
ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ বলছে, গরু পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অপরাধে তিনজন অফিসারকে বরখাস্ত এবং ১২ জনকে বদলি করেছে।
দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো- সিবিআই গত বছর থেকেই দক্ষিণবঙ্গ সীমান্ত অঞ্চলে গরু পাচার চক্রের সঙ্গে বিএসএফ কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার বিষয়ে তদন্ত করছে।
কিন্তু বিবিসি জানতে পেরেছে, অন্তত ৪ বছর আগেই বাহিনীর মহাপরিচালকে এ বিষয়টি জানিয়ে চিঠি লিখেছিলেন এক কমান্ডান্ট। তারপরও এত বছরে কেন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় নি, বাহিনীটির ভেতরেই সেই প্রশ্নও উঠছে।
বিএসএফের কয়েকটি সূত্র বলছে, “সর্ষের মধ্যেই ভূত ছিল। যাদের দায়িত্ব ছিল দুর্নীতি রোখা, গরু পাচার চক্রে জড়িত ছিলেন সেই সব সিনিয়র অফিসারদের একাংশও। এদের মধ্যে কয়েক জনের নাম সামনে এসেছে, কিন্তু আরও অনেকেই জড়িত ছিলেন। তারা কেউ বিএসএফ থেকে অন্য কোনও বাহিনীতে চলে গেছেন, বা তাদের যেতে দেওয়া হয়েছে, কেউ চাকরী ছেড়ে দিয়েছেন।”
বাহিনীর পূর্ব কমান্ডের প্রধান, অতিরিক্ত মহানির্দেশক পঙ্কজ কুমার সিং প্রকারান্তরে স্বীকারও করলেন সেটা।
তিনি বলছিলেন, “সৎ কর্মীদের থেকে অসৎদের পৃথক করতেই হবে আমাদের। কর্মী-অফিসারদের ওপরে নজরদারি চালানোর জন্য যথেষ্ট কড়া ব্যবস্থা আছে। আজ না হোক একদিন পরে খবর পাবই আমরা যে কোন অফিসার বা জওয়ান কাদের সঙ্গে যোগসাজশে দুর্নীতি করছে। সেই ব্যবস্থার মাধ্যমেই কিন্তু অফিসারদের একাংশের ব্যাপারে তথ্য পাওয়া গেছে। আবার সি বি আই-ও আমাদের কিছু তথ্য দিয়েছে। যাদের ব্যাপারে অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাদেরই শাস্তি দেওয়া হয়েছে – বরখাস্ত করা হয়েছে।”
কিন্তু বাহিনীর অভ্যন্তরেই প্রশ্ন উঠছে গরু পাচারের সঙ্গে যে বিএসএফ কর্মকর্তাদের একাংশ জড়িত, তা তো ২০১৬ সালের পাঁচ জানুয়ারি মহাপরিচালককে চিঠি দিয়ে জানিয়েছিলেন রাজ কুমার বাসাট্টা নামে এক কমান্ডান্ট।
দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তের কাছে পাচারের জন্য ধরা পড়া গরু আটকে রেখেছে বিএসএফ।
ওই চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন যে, দক্ষিণ বঙ্গ সীমান্তের হেডকোয়াটার্স থেকে শীর্ষ কর্মকর্তাদের নির্দেশ আসত যে, কোম্পানি কমান্ডার এবং পোস্ট কমান্ডারেরা যেন পাচারকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করে।
এরকম নির্দিষ্ট অভিযোগ আসা সত্ত্বেও কেন তখন কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? বাহিনীর ভেতরেই তো নজরদারি বিভাগ আছে, সিনিয়র অফিসারেরা আছেন। তারা কেন চোখ বুজে ছিলেন?
এই প্রশ্নের উত্তরে পঙ্কজ কুমার সিং বলছিলেন, “এ বিষয়টা আমার জানা নেই, কারণ আমি বাহিনীতে যোগ দিয়েছি ২০২০ সালে। মহাপরিচালক যদি ২০১৬ সালে বিষয়টা জেনে থাকেন, নিশ্চয়ই তিনি কিছু ব্যবস্থা নিয়েছিলেন, যেটা আমি জানি না।”
ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত অঞ্চলে কাজ করে, এমন একটি মানবাধিকার সংস্থা মাসুমের প্রধান কিরিটি রায় বলছিলেন, তাদের কাছেও অনেক তথ্য প্রমাণ আছে যে বিএসএফের সহায়তা নিয়েই গরু-মানুষ-নিষিদ্ধ ড্রাগ পাচার হয় সীমান্ত দিয়ে।
মি. রায়ের মতে শীর্ষ অফিসারেরা জড়িত না থাকলে এটা সম্ভব হত না
“অজস্র প্রমাণ আমাদের হাতে আছে, যা থেকে স্পষ্ট, যে বিএসএফের একাংশের মদত ছাড়া সীমান্তে কোনও কিছু পাচার হওয়া সম্ভব নয়। গোটা বাহিনীকে দোষ দেব না, কিন্তু এক শ্রেণীর জওয়ান এবং অফিসার পাচার চক্রের সঙ্গে নিশ্চিতভাবেই যুক্ত”।
“এদের সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ, রাজনৈতিক দলগুলো – তারাও থাকে। বিজেপির হয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন, এমন একজন তো দলীয় প্যাডে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রাজনাথ সিংকে লিখেছিলেন যে কীভাবে বিএসএফের মদতে সীমান্তে পাচার চলছে,” বলছিলেন মি. রায়।
তিনি আরও বলছিলেন, “কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কতটা ব্যবস্থা নেওয়া হবে, বা তদন্তও কতদিন চলবে, তা নিয়েও সন্দেহ আছে। এই পাচার চক্রের সঙ্গে রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় স্তরের রাজনৈতিক নেতারাও জড়িয়ে আছেন।”
বিএসএফের সূত্রগুলি বলছে, ২০১৪ থেকে ২০১৯ – এই পাঁচ বছরেই সবথেকে বেশি গরু পাচার হয়েছে দক্ষিণ বঙ্গ সীমান্ত দিয়ে। অথচ সেই সময়ের যে সব পরিসংখ্যান দেওয়া হত বিএসএফের তরফে, তাতে দাবী করা হত তারা কঠোর হাতে গরু পাচার বন্ধ করতে উদ্যোগ নিয়েছে বলেই প্রচুর গরু বাহিনীর সদস্যদের হাতে আটক হচ্ছে।
ভারত থেকে যে গরু বাংলাদেশে পাচার হয়, সেগুলি প্রায় সবই আসে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশের মতো রাজ্যগুলি থেকে।
২০১৫ থেকে ২০১৭ — প্রতিবছরই এক থেকে দু’লাখ গরু আটক হয়েছে বলা হয়েছিল।
কিন্তু যারা সীমান্তে গরু পাচারের ব্যাপারে ওয়াকিবহাল – তারা বলছেন, যত বেশি গরু আটক হবে, বুঝতে হবে ততই বেশি পাচার হচ্ছে। কারণ মোট পাচারের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ গরু বি এস এফ আটক করে।
তাহলে কি আসল তথ্য চেপে যাওয়ার চেষ্টা করা হত ওই সময়কালে?
মি. কিরিটি রায় বলছিলেন, এভাবে ভুল তথ্য দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ।
যদিও সেই ‘ভুল তথ্যের’ ভিত্তিতেই ২০১৭-১৮ সালের জন্য ‘মহারাণা প্রতাপ ট্রফি’ পেয়েছিল দক্ষিণ বঙ্গ সীমান্ত, যে পুরস্কার দেওয়া হয় সেরা সীমান্ত ব্যবস্থাপনার জন্য।
আবার বিএসএফ অভ্যন্তরে এই প্রশ্নও উঠছে যে, যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বা যাদের সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে, তাদের বেশীরভাগই বিএসএফ ক্যাডার অফিসার। কিন্তু শীর্ষ পদগুলিতে ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিস বা আই পি এস অফিসাররা তো ছিলেন – তাদের ভূমিকা কেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে না?