মাকসুদুল হক আরিফ, প্যারিস, ফ্রান্সঃ ফ্রান্সে যুক্তরাজ্যে পাওয়া নতুন করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কারণে গত ২৭ জানুয়ারি বুধবার ডিফেন্স কাউন্সিলের এক বৈঠকে ফ্রান্সে তৃতীয় বারের মতো লকডাউন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে ২৯ জানুয়ারী শুক্রবার ডিফেন্স কাউন্সিলর বৈঠকে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী জন কস্টেক্স জানিয়েছে, নতুন করে লকডাউন দেওয়া হবে না। তবে করোনা মোকাবিলায় নতুন কিছু নিয়ম জারি করা হয়েছে…
১। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যালয় গুলো খোলা থাকবে।
২। ৩১ জানুয়ারি থেকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বাহিরের দেশগুলোর সাথে বর্ডার গুলো বন্ধ করে দেয়া হবে।
৩। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশ গুলোর বাহিরের দেশগুলো থেকে পরবর্তী ঘোষণা দেওয়ার আগ পর্যন্ত কেউ ফ্রান্সে প্রবেশ করতে পারবে না, তবে যদি জরুরি কারণ হয়ে থাকে সেটা বিবেচনা করে দেখবে বলে জানানো হয়।
৪। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে যেসকল শপিংমল, মার্কেট বা দোকানপাট ২০ হাজার বর্গমিটারের চেয়েও বেশি দীর্ঘায়িত, সেগুলো পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
৫। জারিকৃত কারফিউ আইন বা স্বাস্থ্যবিধির কোনো নিয়ম ভঙ্গ করলে ১৩৫ ইউরো জরিমানা বাধ্যতামূলক।
৬। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর নাগরীকরা ফ্রান্সে প্রবেশ করতে হলে বাধ্যতামূলক করোনা নেগেটিভ টেস্টের সার্টিফিকেট এবং পিসিআর টেস্ট করাতে হবে।
সিঙ্গাপুর: আজ রবিবার (৩১ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে নতুন ২৯ জন করোনায় আক্রান্ত। সিঙ্গাপুরে মোট ৫৯৫৩৬ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। আজকে আক্রান্তের মধ্যে সবাই বিদেশ ফেরত। যারা সিঙ্গাপুরে ফেরার পর স্টে হোম নোটিশে ছিলেন। কমিউনিটি এবং ডরমিটরি থেকে কোন করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত করা হয়নি৷
আজ রবিবার (৩১ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সংসদে জানান, পাঁচ হাজার করোনা ভ্যাকসিন দেয়ার জন্য বাংলাদেশের কাছে আবেদন করেছে হাঙ্গেরি। মানবিক দিক বিবেচনায় টিকা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
করোনার কারণে প্রায় এক বছর বন্ধ থাকার পর চালু হচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-কাঠমান্ডু-ঢাকা রুটের ফ্লাইট। আজ রবিবার (৩১ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে সোমবার ও বৃহস্পতিবার ঢাকা-কাঠমান্ডু-ঢাকা রুটে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।
বিমানের মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট, কল সেন্টার এবং সেলস কাউন্টার থেকে টিকিট কেনা যাবে। এছাড়া ট্রাভেল এজেন্ট ও ট্যুর অপারেটরদের কাছেও ঢাকা-কাঠমান্ডু-ঢাকা রুটের বাণিজ্যিক ফ্লাইটের টিকিট পাওয়া যাবে।
আজ রবিবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীর বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে (বিইউপি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, মিয়ানমারের সাথে সচিব পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে বেশ কিছু প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। সেখানে তারা বলেছে, তারা কিছু রোহিঙ্গা ফেরত নেবে। এরই মধ্যে আমরা তাদের আট লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার একটা তালিকা দিয়েছি। তারা মাত্র ৪২ হাজার ভেরিফাই করেছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে ডিজি লেভেলের বৈঠক হবে। সেখানে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। আমরা চাই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হোক।
কুয়েতের শ্রম ও জনশক্তি কর্তৃপক্ষের (পিএএম) প্রকাশিত সরকারী পরিসংখ্যান অনুসারে, ২৫ জানুয়ারি থেকে মাত্র তিন কার্যদিবসের (৭২ ঘন্টা) মধ্যে প্রবাসীদের একামা বা ওয়ার্ক পারমিট বাতিলের পরিমাণের সংখ্যা ৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আল-রাই সুত্রের বরাত দিয়ে আরব টাইমস আরো জানিয়েছে যে, গত ২৫শে জানুয়ারীতে থেকে বাতিল হওয়া ওয়ার্ক পারমিটের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫,২১৫ জন।
গত ২৪ জানুয়ারি বাতিল হওয়া ৩,৬২৭ ওয়ার্ক পারমিটের তুলনায়, এভাবে তিন দিনের মধ্যে ওয়ার্ক পারমিট বাতিলকরণের পরিমাণ ছিল ১,৫৮৮।
পরিসংখ্যান অনুসারে জানাযায়, এটি প্রবাসীদের জন্য ওয়ার্ক পারমিট বাতিলকরণে নতুন গতি নির্দেশ করে।
বাতিলের কারণগুলি মূলত চারটিঃ কুয়েত থেকে প্রবাসীর চূড়ান্তভাবে চলে যাওয়া, কুয়েতের বাইরে প্রবাসীদের রেসিডেন্সির মেয়াদ শেষ হওয়া, অনেক প্রবাসীর মৃত্যু এবং পারিবারিক ভিসায় ওয়ার্ক পারমিট স্থানান্তর।
গত তিন দিনে প্রবাসীদের চূড়ান্তভাবে চলে যাওয়ার কারণে বাতিল করা একামার সংখ্যার মধ্যে ৩০ শতাংশ বেড়েছে।
কোম্পানির আভ্যন্তরীণ ও ফাইলগত সমস্যায় প্রবাসীদের একামা বাতিল হয়েছে।
এদিকে কুয়েত পৌরসভার যৌথ টীম ফারওয়ানিয়া ও জিলিবে নিবিড়ভাবে অভিযান শুরু করেছে বলে জানিয়েছে আল রাই পত্রিকা।
কানাডার ম্যানিটোবা প্রদেশে নিখোঁজের ১৮ দিন পর সামিউজ্জামান (২৪) নামে এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার (২৭ জানুয়ারি) প্রদেশের রাজধানী উইনিপেগের রেড রিভার নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
সামি ইউনিভার্সিটি অব ম্যানিটোবার কম্পিউটার বিজ্ঞানের স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন বলে জানা গেছে। এর পাশাপাশি তিনি ম্যানিটোবায় বাইসন ট্রান্সপোর্ট নামের একটি কোম্পানিতে ডেটা অ্যানালিস্ট হিসেবে খণ্ডকালীন চাকরি করতেন।
জানা গেছে, রেড রিভার নদীর কাছেই বাংলাদেশি বন্ধুদের সঙ্গে একটি অ্যাপার্টমেন্টে ভাড়া থাকতেন সামি। তার গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায়। বাবার নাম মোহাম্মদ আসাদুল ইসলাম। দুই ভাইয়ের মধ্যে সামি ছোট।
উইনিপেগ সিটি পুলিশ জানায়, গত ৯ জানুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিলেন সামি। তার বন্ধুরা বেশ কয়েকদিন খোঁজাখুঁজি করে তাকে পাননি। পরে ২০ জানুয়ারি তারা পুলিশকে বিষয়টি জানান।
এর সাতদিন পর রেড রিভার থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করল পুলিশ। মরদেহটি পুলিশের হেফাজতে আছে। উইনিপেগ পুলিশ সামির মৃত্যুর কোনো কারণ এখনো উল্লেখ করেনি।
কুয়েতে অর্থ ও মানবপাচারের অভিযোগে গ্রেফতার লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শহিদ ইসলাম পাপুলের কারাদণ্ড বাংলাদেশের জন্য ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।
শনিবার (৩০ জানুয়ারি) এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা জানেন উনি আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন না, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ছিলেন। এটা খুবই দুঃখজনক, অবশ্যই এটা দুঃখজনক, লজ্জাজনক ব্যাপার।’
সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় প্রথম বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমেটিক টেনিস টুর্নামেন্টের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, রায়ের বিষয়ে কুয়েত সরকার আমাদেরকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। সেখানে উনার বিচার হয়েছে, যেটা আমরা গণমাধ্যমের বদৌলতে শুনেছি। ওদেশের সরকার ওনার সম্পর্কে আমাদেরকে কিছু বলেনি। প্রথম দিকে জানতে চেয়েছিলাম, তারা তখন রেসপন্স করেনি। আর এখন পেপারে দেখলাম ওনার শাস্তি হয়েছে, উনি জেলে আছেন অনেক দিন ধরে। আমরা সরকারিভাবে জানার জন্য আমাদের রাষ্ট্রদূতকে বলেছি।’
সরকারিভাবে জেনে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টা তারা আমাদের সরকারিভাবে জানালে পরে আমরা সংসদকে জানাব। তখন বিধি মোতাবেক উনার সম্পর্কে কি করা হবে, দেখা যাবে।’ কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানার জন্য রাষ্ট্রদূতকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ‘স্বদেশের নাগরিক বিদেশে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হলে আমাদের লজ্জা লাগে। আমাদের জন্য দুঃখজনক। আমাদের লোক যখন বিদেশে সম্মান পায়, আমরা সবাই খুব খুশি হই। নিউ ইয়র্কে যখন ট্যাক্সি ড্রাইভার সম্মানিত হয়, কেউ তার গাড়িতে টাকা-পয়সা ফেলে গেছে, সে সেটা ফেরত দিয়েছে। তখন মেয়র আমাদের বাংলাদেশের নাগরিককে সম্মাননা দেয়, আমাদের কলিজা গর্বে ভরে ওঠে। অপরদিকে আমাদের দেশের কেউ যদি বিদেশে ক্রাইম করে, তাহলে আমাদের প্রত্যেকের জন্য এটা লজ্জার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।’
তবে পাপুলের সাজার ফলে কুয়েতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের কোনো সমস্যা হবে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কুয়েতের সঙ্গে আমাদের বিভিন্নভাবে সম্পর্ক এবং সেটা অনেক দিনের পুরোনো। বঙ্গবন্ধুর সময় থেকে আমাদের ভালো সম্পর্ক। এই একটি ঘটনার কারণে আমাদের সম্পর্কের কোনো ঘাটতি হবে না। তবে আমাদের দেশের জন্য এটা একটা লজ্জাজনক ঘটনা, দুঃখের ব্যাপার।’
গত বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) অর্থ ও মানবপাচার মামলায় এমপি পাপুলের চার বছরের কারাদণ্ড দেন দেশটির ফৌজদারি আদালত। এছাড়া পাপুলের কাজে সহায়তাকারী হিসেবে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা মাজেন আল জাররাহসহ কুয়েতি দুই কর্মকর্তাকেও চার বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। পাশাপাশি প্রত্যেককে ১৯ লাখ কুয়েতি দিনার অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫৩ কোটি টাকা।
গত ৬ জুন কুয়েতের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সংসদ সদস্য পাপলুকে গ্রেফতার করে। ওই সময় গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, পাপুলের বিরুদ্ধে কুয়েতের সরকারি কৌঁসুলিরা তিনটি অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগগুলো হলো- মানবপাচার, অবৈধ মুদ্রাপাচার এবং স্বদেশী কর্মীদের কাছে রেসিডেন্ট পারমিট বিক্রি।
পাঁচ বাংলাদেশি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার পর পাপুলকে গ্রেফতার করা হয়। ওই বাংলাদেশিরা জানিয়েছিলেন, পাপুল তাদের কুয়েতে পাঠানোর জন্য প্রত্যেকের কাছে সোয়া আট লাখেরও বেশি করে টাকা নিয়েছেন। এছাড়া রেসিডেন্সি ভিসা নবায়নের জন্য প্রতি বছর পাপুলকে নতুন করে অর্থ প্রদান করতে হতো তাদের।
লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পাপুলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি কুয়েতে সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ হিসেবে পাঁচটি বিলাসবহুল গাড়ি সরবরাহ করেছিলেন, যাতে তিনি সেখানে যে সংস্থাটি চালাচ্ছিলেন তার চুক্তি পেতে পারেন।
কুয়েতের গণমাধ্যমও তার বিরুদ্ধে ভিসা বাণিজ্য ও অবৈধ অর্থপাচারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে সেই অর্থ পাঠানোর অভিযোগ তুলেছে। একটি সূত্রের বরাতে মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন তিন সদস্যের মধ্যে একজন বাংলাদেশি এমপি রয়েছেন, যার স্ত্রীও একজন এমপি (সংরক্ষিত আসন)।
ইউরোপ হাজার বছরের ইতিহাস ঐতিহ্যের এক সমৃদ্ধ মহাদেশ। শুধু যে ইউরোপ ইতিহাস সমৃদ্ধ হয়েছে তা নয়; সাথে সাথে তাদের অর্থনৈতিক উন্নতি সাধন করতে পেরেছে। বলতে গেলে বিভিন্ন যুদ্ধ-বিগ্রহ বিপ্লবের মাধ্যমে নিজেদেরকে সমৃদ্ধ করেছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।
প্রবাস ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৬:১৫ পিএম, ৩০ জানুয়ারি ২০২১
ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী, পর্তুগাল থেকে
ইউরোপ হাজার বছরের ইতিহাস ঐতিহ্যের এক সমৃদ্ধ মহাদেশ। শুধু যে ইউরোপ ইতিহাস সমৃদ্ধ হয়েছে তা নয়; সাথে সাথে তাদের অর্থনৈতিক উন্নতি সাধন করতে পেরেছে। বলতে গেলে বিভিন্ন যুদ্ধ-বিগ্রহ বিপ্লবের মাধ্যমে নিজেদেরকে সমৃদ্ধ করেছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।
বিজ্ঞাপনnull
এরপরে ইউরোপকে আর তেমন কোনো প্রতিবন্ধকতা সইতে হয়নি। অর্থনীতির চাকা গতিশীলতা বিবেচনা করলে কৃষি বিপ্লব, শিল্প বিপ্লব থেকে শুরু করে আধুনিক প্রযুক্তির অধিকাংশই ইউরোপ দ্বারা সৃষ্টি। সে কারণেই উন্নত বিশ্বের আরেক নাম ইউরোপ।
সংগত কারণেই বিভিন্ন দেশ থেকে উন্নত জীবনের জন্য সবাই ইউরোপের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাতে চায়। সঠিক পন্থা না জানার কারণে মানুষ বিপরীতমুখী হয়ে স্বপ্নযাত্রায় বেরিয়ে পড়ে। অনেকেই প্রতারিত এবং বিপদের সম্মুখীন হন।
তবে একটি পরিকল্পনা করলে খুব সহজেই যে যার অবস্থান থেকে ইউরোপে যেতে পারেন এবং প্রতিটি দেশের নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারেন।
পাঁচটি উপায়ে ইউরোপে বসবাসের সুযোগ
চলুন জেনে নেয়া যাক কী কী উপায়ে আপনি ইউরোপের যেতে পারেন এবং বসবাসের সুযোগ পাবেন। প্রধানত পাঁচটি উপায়ে আপনি ইউরোপে বসবাসের সুযোগ পেতে পারেন। প্রথমত হাইলি কোয়ালিফাইড ওয়ার্কার বা উচ্চ যোগ্যতা সম্পন্ন কর্মী অর্থাৎ প্রফেশনাল, আন্ত: কোম্পানি স্থানান্তর কর্মী, গবেষক, ছাত্র, ভলেন্টিয়ার বা অবৈতনিক কর্মী।
এছাড়া আপনি ট্যুরিস্ট ভিসায় ভ্রমণ করতে যদি পর্তুগাল, স্পেন এবং ইতালিতে চাকরি খুঁজে পান সেক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করা সম্ভব। আজকে আমরা আলোচনা করব শুধুমাত্র হাইলি কোয়ালিফাইড ওয়ার্কার বা উচ্চ যোগ্যতা সম্পন্ন কর্মী এই প্রোগ্রামকে ইইউ ব্লু-কার্ড হিসেবেও আখ্যা দেওয়া হয়।
ইইউ ব্লু-কার্ড কী?
উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের জন্য এটি একটি স্কিম যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের উক্ত উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন কর্মীদের ইইউ বসবাস এবং কাজ করার অধিকার দেয়। এই প্রোগ্রামের আওতায় আপনাকে অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি এবং কাজের দক্ষতা থাকতে হবে।
ডেনমার্কে এবং আয়ারল্যান্ড ছাড়া ইইউ-এর বাকি ২৫টি দেশে এই প্রোগ্রামের আওতায় বসবাস এবং চাকরি করতে পারবেন। তাছাড়া জব কন্টাক্ট এবং যে দেশে আবেদন করবেন তাদের গড় বেতনের দেড় গুণ বা এ প্রোগ্রাম দ্বারা নির্দিষ্ট বেতনের সমপরিমাণ বেতন পাওয়ার অধিকারী হতে হবে।
ইইউ ব্লু কার্ডের জন্য প্রতিটি দেশেরই আলাদা আলাদা নিয়ম রয়েছে। চলুন জেনে নেই পর্তুগালের প্রেক্ষাপটের ব্লু-কার্ডের জন্য আপনার কী কী যোগ্যতা প্রয়োজন এবং কিভাবে আপনি আবেদন করতে পারবেন।
আপনার কী কী যোগ্যতা প্রয়োজন
আবেদনকারীকে পর্তুগালের যে কোনো কোম্পানিতে কমপক্ষে এক বছরের চাকরির চুক্তিপত্র (কন্ট্রাক বা অ্যাপয়নমেন্ট লেটার লাগবে (উভয় ক্ষেত্রেই পেশাগত প্রমাণের জন্য স্থানীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সত্যায়নসহ)। উক্ত চাকরির বেতন পর্তুগালের গড় বেতন কাঠামো ১ দশমিক ৫ গুণ হিসেবে ২৪ হাজার ৫৩৫ ইউরো বাৎসরিক বেতন পাওয়ার অধিকারী হতে হবে।
আবেদনকারীর পেশা পর্তুগালের আইন অনুযায়ী স্বীকৃত হতে হবে। রেগুলেটেড চাকরির ক্ষেত্রে এবং সে অনুযায়ী প্রমাণপত্র উপস্থাপন করতে হবে। নন রেগুলেটর চাকরির ক্ষেত্রে উচ্চ পেশাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট উপস্থাপন করতে হবে। মেডিকেল ইনস্যুরেন্স এবং ভ্যালিড ট্রাভেল ডকুমেন্ট অর্থাৎ পাসপোর্ট, রেসিডেন্ট কার্ড (যারা ইতোমধ্যে ইউরোপের অন্যান্য দেশে আছেন তাদের ক্ষেত্রে)।
এখানে একটি প্রশ্ন থেকে যায় আপনি কীভাবে চাকরি জোগাড় করবেন? ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি চাকরির সাইট রয়েছে ইউরেস (EURES) এখানে বিভিন্ন পেশাগত হাজার হাজার চাকরির সুযোগ রয়েছে এবং আপনি দেশ মোতাবেক চাকরি সংস্থান করে নিতে পারবেন।
তাছাড়া আপনি বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে চাকরির সংস্থান করতে পারেন। আমাদের দেশ থেকে না হলেও প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন কর্মী ইউরোপে কাজ করছেন।
কোথায় আবেদন করবেন
ইইউ ব্লু-কার্ড প্রোগ্রামের আওতায় আপনাকে পর্তুগালের যেতে হলে প্রথমে একটি স্বল্পমেয়াদি ওয়ার্ক পারমিট ভিসার আবেদন করতে হবে। পর্তুগালের ক্ষেত্রে সাধারণত ডি-৩ ভিসার আবেদন করতে হয়।
ভিসা আবেদনের জন্য, আপনাকে পর্তুগালে বা ইইউ-এর যে দেশে আপনি চাকরি পেয়েছেন তার চুক্তিপত্রের কপি অথবা অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার, ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স, পেশাগত সার্টিফিকেট, রিটার্ন টিকিট এবং পাসপোর্ট সহকারে সংশ্লিষ্ট অ্যাম্বাসিতে জমা দিতে হবে। অনেকক্ষেত্রে অ্যাম্বাসি কার্যক্রম ভিএসএফ-এর মাধ্যমে পরিচালিত হয়; সেক্ষেত্রে আপনি ভিএসএফ অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে জমা দিতে পারেন।
পর্তুগালে প্রবেশ করার পর আর্টিকেল ১২১-(এ) টেম্পোরারি রেসিডেন্ট পারমিটের জন্য আপনাকে পর্তুগাল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ (এসইএফ) অ্যাপয়নমেন্ট নিতে হবে। অ্যাপয়নমেন্ট তারিখে আপনাকে কাজের চুক্তিপত্র (উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী হিসেবে), বসবাসের ঠিকানা, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর, নিজ দেশের এবং পর্তুগালের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট এবং ইতোপূর্বে অন্য কোনো দেশে থাকলে সংশ্লিষ্ট দেশের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ইত্যাদি উপস্থাপন করতে হয়।
সবকিছু ঠিক থাকলে বর্তমানে অস্থায়ী রেসিডেন্ট পার্মিট প্রথমে দুই বছরের জন্য পাবেন এবং পরবর্তীতে নবায়ন করলে তিন বছরের মেয়াদ প্রদান করা হবে।
ইইউ ব্লু-কার্ডের ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে চাকরি এবং বেতনের হিসাব অনুযায়ী যদি ঠিক থাকে তাহলে একশভাগ ভিসা পাওয়া যায় এবং পরবর্তীতে পর্তুগালের রেসিডেন্ট পেতেও কোনো সমস্যা হয় না। তবে ইতোপূর্বে যদি ইউরোপের যে কোনো দেশে ভিসা আবেদন করে রিফিউজ হয়ে থাকেন অথবা ইতোপূর্বে আপনাকে ইউরোপের কোন দেশ থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে অথবা আপনি কোনো অপরাধ কর্মকাণ্ড করেছেন; সেক্ষেত্রে এটি গ্রহণযোগ্য হবে না অর্থাৎ আপনার ভিসা আবেদন গ্রহণ করবে না।
তাছাড়া পর্তুগালে আসার পর যদি কোনো কারণে পর্তুগাল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আপনাকে আবেদন রিফিউজ করে সেক্ষেত্রে আপনার আপিল করার অধিকার থাকবে। পর্তুগালের রেসিডেন্ট কার্ড পাবার পর কোনো কারণে যদি আপনার চাকরি চলে যায় এবং যদি রেসিডেন্ট কার্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে যায় তাহলে নতুন চাকরি পাওয়ার আগে আপনি তা নবায়ন করতে পারবেন।
ইচ্ছা করলে চাকরি ছেড়ে দিয়ে যদি যে কোনো প্রকার ব্যবসা করতে চান সেক্ষেত্রে খুব সহজেই ব্যবসায়িক অ্যাক্টিভিটি খুলে আপনি ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন।
পর্তুগালে ৫ বছর অস্থায়ী রেসিডেন্ট হিসেবে বসবাস করার পর পর্তুগিজ ভাষা সম্পর্কে দক্ষতাসহ পর্তুগিজ ভাষা শিক্ষা সনদ থাকলে পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি কার্ড বা লং টাইম রেসিডেন্ট কার্ডের জন্য আবেদন করা যায়। একই সঙ্গে পর্তুগিজ নাগরিকত্ব আবেদন করা যায় এবং আবেদনের তিনমাস থেকে ১৮ মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব লাভ করা যায়।
ইইউ ব্লু কার্ডের ক্ষেত্রে ইউরোপের সকল দেশের ক্ষেত্রে সাধারণত একই নিয়ম। তবে পার্থক্যটা হয় ওই দেশের গড় বেতনে পরিমাণের উপর এবং নির্দিষ্ট চাকরি নিয়ে আপনি যাচ্ছেন সেই চাকরি ক্ষেত্রে যদি তাদের লোক কম থাকে।
এর বাইরে ভিসা নেওয়ার ক্ষেত্রে দেশভেদে সামান্য কিছু পার্থক্য রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আপনি যেই পেশাগত কাজে বা যে ধরনের পেশায় যাচ্ছেন অবশ্যই ওই পেশায় যে দেশে যাচ্ছেন সে দেশের স্থানীয় পেশাজীবী অপ্রতুল হলে বা চাহিদা পূরণে অক্ষম হলে সে ক্ষেত্রে তা গ্রহণযোগ্য হবে।
ইইউ ব্লু-কার্ডের সাথে সাধারণ ওয়ার্ক পারমিটের অনেক পার্থক্য রয়েছে। কেননা ব্লু-কার্ডের মাধ্যমে আপনি ইউরোপের যে দেশেই থাকুন না কেন পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে গেলে অথবা নাগরিকত্ব আবেদনের ক্ষেত্রে আপনি ইউরোপের অন্য দেশে থাকাকালীন হিসাব করা হয়।
ধরুন আপনি ইতোপূর্বে জার্মানিতে তিন বছর কাজ করেছেন ব্লু কার্ডের মাধ্যমে। এখন যদি আপনি পর্তুগালে একইভাবে চাকরি জোগাড় করে থাকতে পারেন সেক্ষেত্রে আপনার দুই বছর থাকলেই আপনি স্থায়ী (পার্মানেন্ট) রেসিডেন্ট বা দীর্ঘমেয়াদি রেসিডেন্ট আবেদন করতে পারবেন।
নাগরিকত্বের ক্ষেত্রেও কিছুটা ব্যতিক্রম রয়েছে। তবে বর্তমানের প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে যে নাগরিকত্ব আইন প্রতিবেশী খুবই দ্রুত পরিবর্তন এবং সংশোধন করছে। সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ে দেশের অর্পিত আইন কার্যকর হবে।
লেবাননে লিফট দুর্ঘটনায় শরীফুল ইসলাম নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ২৭ জানুয়ারি দেশটির বালবাক জেলার একটি কোম্পানিতে সকালে এ ঘটনা ঘটে। মরদেহ স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে পরিবারে স্বচ্ছলতা আনার আশায় কুমিল্লা জেলার ফুলতলি গ্রামের আব্দুর রহিমের একমাত্র সন্তান শরীফুল ইসলাম দীর্ঘ ১৩ বছর আগে গ্রিন ওয়ার্ল্ড নামে একটি খাবার পক্রিয়াজাতকরণ কোম্পানির ভিসায় লেবানন আসেন।
বুধবার স্থানীয় সময় সকালে কোম্পানির ভেতরে কর্মরত অবস্থায় মালামাল নিয়ে লিফট দিয়ে উপরে উঠার সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। পরে স্থানীয় পুলিশ এসে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ তাদের হেফাজতে নিয়ে যায়।
এদিকে তিন কন্যা সন্তানের জনক নিহত শরীফুল ইসলামের মর্মান্তিক মৃত্যু সংবাদে পরিবারসহ গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মরদেহটি অতি দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে অসহায় পরিবারটি লেবাননস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতা কামনা করেছেন।