জাহিদ কায়ছার, পর্তুগাল: পর্তুগালের করোনা পরিস্থিতি দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। দেশটিতে মোট ৬৮৫৩৮৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১১৬০৮ জন মারা গেছেন। যেখানে গতকাল মৃতের সংখ্যা ৩০৩ জন, আক্রান্তের সংখ্যা ১৬৪৩২ জন।পর্তুগালের করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা রোধে চলমান লকডাউনের সময়সীমা আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।
৩১ জানুয়ারি রাত ১২টা থেকে পর্তুগালের সকল সংযোগ পথ যেমন আকাশপথ, নৌপথ ও স্থলপথ বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। শুধুমাত্র পর্তুগিজ নাগরিক ও পর্তুগালের রেসিডেন্সধারীরা অনুমতি সাপেক্ষে আকাশপথ, স্থলপথ ও নৌপথে পর্তুগালে আসা যাওয়া করতে পারবেন।
ঘন কুয়াশার কারণে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর রাজধানীর শাহজালালসহ দেশের সব বিমানবন্দরে বিমান অবতরণ ও উড্ডয়ন স্বাভাবিক হয়েছে।শুক্রবার ৯টার দিকে কুয়াশার তীব্রতা কমে গেলে বিমান ওঠানামা স্বাভাবিক হয়।শাহজালাল বিমানবন্দর সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এদিকে শুক্রবার ভোরে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে আসে দুটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। তবে ঘন কুয়াশার কারণে ওসমানী ও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট দুটি অবতরণ করতে পারেনি। তবে জরুরি ভিত্তিতে চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে ফ্লাইট দুটি অবতরণ করে। পরে সকাল ৯টার দিকে দুটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছায়।
সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ পবিত্র শহরকে করোনাভাইরাস মুক্ত বলে ঘোষণা দিয়েছে…..
প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্মৃতি বিজড়িত শহর পবিত্র নগরী মদিনা মুনাওয়ারা। সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ পবিত্র শহরকে কোভিড-১৯ তথা করোনাভাইরাস মুক্ত বলে ঘোষণা দিয়েছে। খবর গলফ নিউজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার করোনামুক্ত ঘোষণা করার আগে মদিনা মুনাওয়ারার আল-আইস শহরে ১৩ জন কোভিড-১৯ রোগী ছিলেন। তারা সবাই এখন সুস্থ হয়েছেন। নবির শহর মদিনায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষ বসবাস করেন।
সৌদি সরকার হারামাইন ওয়াশ শরিফাইন খ্যাত পবিত্র দুই নগরী মক্কার মসজিদে হারাম তথা কাবা শরিফ এবং মদিনার মসজিদে নববির নিরাপত্তায় শুরু থেকেই ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করে। নিরাপত্তার লক্ষ্যে এ দুই পবিত্র শহরে ওমরাহ ও জেয়ারত পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সতর্কতায় জারি করা বিধি-নিষেধ। অবশেষ পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনার ব্যাপারে দীর্ঘ মেয়াদি কারফিউ। অবশেষ চলতি মাসের শুরুর দিকে পবিত্র নগরী মদিনার মসজিদে নববি মুসল্লিদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়। আর মদিনা গত বুধবার পবিত্র নগরী মদিনাকে করোনাভাইরাস মুক্ত শহর হিসেবে ঘোষণা দেয়।
তবে এখনও ব্যতিক্রম পবিত্র নগরী মক্কা ও মক্কার মসজিদে হারাম তথা কাবা শরিফ। এ নগরীতে এখনও চলছে কারফিউ। মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুকি কমাতে এখনও সেখানে কারফিউ রয়েছে।
মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সৌদি আরব সরকার এবারের হজ সীমিত পরিসরে করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এ বছর সৌদি আরবের বাইরে থেকে কেউ হজে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। স্থানীয় সৌদি ও সৌদি বসবাসরত বাইরের দেশের লোকজনই শর্তসাপেক্ষে এবার হজে অংশগ্রহণ করত পারবে।
এ ছাড়াও করোনার কারণে দীর্ঘদিন স্থবির থাকা সৌদি আরবের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে দেশটির সরকার নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
যুক্তরাজ্য থেকে দেশে আসা ব্যক্তিদের সরকারি প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের বদলে নিজ খরচে হোটেলে থাকতে হচ্ছে। এজন্য সরকার নির্ধারিত ১৭টি আবাসিক হোটেলের যেকোনো একটিতে বাধ্যতামূলকভাবে সাতদিন থাকতে হচ্ছে তাদের। বিষয়টি তদারকি করছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
গত ১ জানুয়ারি থেকে আজ (২৯ জানুয়ারি) পর্যন্ত আবাসিক হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে থেকেছেন যুক্তরাজ্যফেরত সহস্রাধিক যাত্রী।শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রিপন আহমেদ জাগো নিউজকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় (২৮ জানুয়ারি সকাল ৮টা থেকে ২৯ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত) ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৩৫টি ফ্লাইটে ৫ হাজার ৭২৪ জন যাত্রী বিদেশ থেকে আসেন। তাদের মধ্যে যুক্তরাজ্যফেরত ৮৮ জনসহ মোট ৯৩ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়।
যুক্তরাজ্য ছাড়া অন্যান্য দেশ থেকে আসা ৫ জনের মধ্যে রিয়াদ থেকে আসা একজন যাত্রী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। বাকি চারজন র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের সনদ নিয়ে আসায় তাদেরকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়।
ডা. রিপন জানান, সাতদিন হোটেলে রাখার পর যুক্তরাজ্যফেরত এসব যাত্রীর নমুনা সংগ্রহ করে পিসিআর ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। ফলাফল নেগেটিভ হলে মোট ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইন শেষ করার জন্য তাদেরকে বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে।
থাকার নির্দেশ দেয়া হয়। আর পিসিআর ল্যাবরেটরির পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ হলে তাদেরকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন থেকে সরকার নির্ধারিত হাসপাতালে আইসোলেশনে পাঠানো হবে। হাসপাতালের যাবতীয় খরচ বহন করতে হবে যাত্রীকেই।
লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শহিদ ইসলাম পাপুলের বিরুদ্ধে কুয়েত সরকারের রায়ের পর প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
এদিকে পাপুলের সাজা কুয়েত সরকারের বিচার বিভাগের নিজস্ব ব্যাপার বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস। আর সাধারণ প্রবাসীরা বলছেন, পাপুলের এ সাজা অন্যান্য মানব পাচারকারীদের জন্য সতর্কবার্তা।
অন্যদিকে জিয়া উদ্দিন নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি বলেন, এটা নিঃসন্দেহ দুর্নীতিবাজ অন্য প্রবাসীদের জন্য দুঃসংবাদ। এ ছাড়া যারা বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত হচ্ছেন তারাও এখান থেকে শিক্ষা নেবে।
কুয়েত বাংলাদেশে দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল (অব.) আশিকুজ্জামান বলেন, তাদের নিজস্ব বিচার বিভাগের মাধ্যমে এ সাজা দেওয়া হয়েছে। এখানে আমাদের কিছুই করার নেই।
পাপুলের বিরু;দ্ধে ঘু;ষ লেনদেনের অভিযোগের মামলার রায় হলেও এখনো মানব ও অ;র্থপাচা;রের দুটি মা;মলার রায় অপেক্ষমাণ রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের একটি অস্থায়ী শরণার্থী শিবির থেকে কয়েকশ রোহিঙ্গা মুসলমান নিখোঁজ হয়েছেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে এসব রোহিঙ্গা মুসলমানকে প্রতিবেশী মালয়েশিয়ায় পাচার করা হয়েছে।
উপকূলীয় শহর লকসিয়েমাওয়ের রোহিঙ্গা টাস্ক ফোর্সের প্রধান রিদওয়ান জামিল গতকাল (বৃহস্পতিবার) বলেন, “এসব রোহিঙ্গা কোথায় গেছেন আমরা তো জানি না।” লকসিয়েমাওয়ে শহরের কাছেই রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির প্রতিষ্ঠিত।
রিদওয়ান জামিল বলেন, “রোহিঙ্গা শরণার্থীদের লক্ষ্য হচ্ছে পালিয়ে যাওয়া; তারা সামান্য একটু সুযোগ পেলেই পালিয়ে যায়।”
তিনি জানান, লকসিয়েমাওয়ে শহরের শরণার্থী শিবিরে এখন মাত্র ১১২ জন রোহিঙ্গা মুসলিম রয়েছেন অথচ গত সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ওই শরণার্থী শিবিরে প্রায় ৪০০ মুসলিম ছিলেন।
ইন্দোনেশিয়ার পুলিশ বলছে, তারা অন্তত ১৮ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ওই শহর থেকে আটক করেছে। একই সঙ্গে সন্দেহভাজন আরো অন্তত এক ডজন পাচারকারীকেও সুমাত্রা দ্বীপের মেদান শহর থেকে আটক করা হয়। সাধারণত সুমাত্রা দ্বীপের এই পয়েন্ট দিয়ে ইদানিং মালয়েশিয়াতে মানুষ পাচার করা হচ্ছে।
মিয়ানমারে উগ্রবাদী বৌদ্ধ এবং তাদের সমর্থক সেনা বাহিনীর অত্যাচারে টিকতে না পেরে লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম প্রতিবেশী বাংলাদেশ আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। এছাড়া জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগর পাড়ি দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তারা আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করছেন।
দেশে করোনাভাইরাসে কমেছে মৃত্যু ও শনাক্ত। গত এক দিনে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা গত সাড়ে আট মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম। এর আগে গত বছরের ৮ মে সাতজনের মৃত্যু হয়েছিল। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮ হাজার ৯৪ জনে।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৪৫৪ জন। গত ১ মে শনাক্ত হয়েছিলেন ৫৭১ জন এবং ২৮ এপ্রিল শনাক্ত হয়েছিলেন ৫৪৯ জন। এ নিয়ে দেশে মোট করোনা রোগী শনাক্ত হলো ৫ লাখ ৩৪ হাজার ৪০৭ জন।শুক্রবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে করোনাভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংস্থার অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এদিন সুস্থ হয়েছেন ৪১৪ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৯৬০ জন।এর আগে বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) দেশে আরও ৫০৯ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। এছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে মারা যান আরও ১৫ জন।প্রসঙ্গত, বুধবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে দেশে করোনা ভ্যাকসিন দেওয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) ঢাকার ৫টি হাসপাতালে দ্বিতীয় দিনের মতো করোনার টিকা দেওয়া হয়। এছাড়া শুক্রবার সারাদেশে পাঠানো হয় করোনার টিকা।এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১০ কোটি ২০ লাখ ৩৪ হাজার ৭৬৮ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২২ লাখ ৯১০ জনের। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন সাত কোটি ৩৮ লাখ ৬৩ হাজার ৫২২ জন।করোনায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। তালিকায় শীর্ষে থাকা দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন দুই কোটি ৬৩ লাখ ৩৮ হাজার ৬০৭ জন। মৃত্যু হয়েছে চার লাখ ৪৩ হাজার ৭৬৯ জনের।আক্রান্তে দ্বিতীয় ও মৃত্যুতে তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে এখন পর্যন্ত সংক্রমিত হয়েছেন এক কোটি ৭ লাখ ২০ হাজার ৯৭১ জন এবং মারা গেছেন এক লাখ ৫৪ হাজার ৪৭ জন।আক্রান্তে তৃতীয় এবং মৃত্যুতে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে এখন পর্যন্ত করোনায় ৯০ লাখ ৬০ হাজার ৭৮৬ জন সংক্রমিত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে দুই লাখ ২১ হাজার ৬৭৬ জনের।আক্রান্তের দিক থেকে রাশিয়া চতুর্থ স্থানে রয়েছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭ লাখ ৯৩ হাজার ৮১০ জন। ভাইরাসটিতে মারা গেছে ৭১ হাজার ৬৫১ জন।আক্রান্ত ও মৃত্যুর হিসেবে যুক্তরাজ্য বিশ্বে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ৩৭ লাখ ৪৩ হাজার ৭৩৪ জন। এর মধ্যে মারা গেছে এক লাখ ৩ হাজার ১২৬ জন। এদিকে আক্রান্তের তালিকায় ফ্রান্স ষষ্ঠ, স্পেন সপ্তম, ইতালি অষ্টম, তুরস্ক নবম এবং জার্মানি দশম স্থানে আছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের অবস্থান ২৭তম।গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২১৮টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে কোভিড-১৯। ২৯ জানুয়ারি (শুক্রবার)-এর
২৭ বাংলাদেশী কর্মীকে সৌদি আরবে পাঠানোর দেড় বছর পরও তাদের কারোরই বৈধ আকামা, কাজ ও বেতন দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব কর্মীর স্বজনরা রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো উপায় না পেয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
এদিকে এর আগে জনশক্তি কর্মসংস্থান ব্যুরোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে রিক্রুটিং এজেন্সি মেসার্স লাব্বাইক ইন্টারন্যাশনালের মালিককে দ্বিতীয় দফা চিঠি দিয়ে গত ৭ জানুয়ারির মধ্যে কর্মীদের সমস্যা সমাধান করে বিএমইটিতে প্রমাণ দাখিলের নির্দেশ দিয়ে আলটিমেটাম দেন। সেই সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও প্রতারিত শ্রমিকদের কোনো সুরাহা করা হয়নি বলে কর্মীর স্বজনদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, তাদের সাথে যারা এসেছিল বর্তমানে তাদের অনেকেই আকামা না হওয়ার কারণে পালিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। বর্তমানে তারা ২৭ জন পালিয়ে কোনোভাবে টিকে আছেন। যেকোনো সময় তারাও পুলিশের হাতে ধরা পড়ে কারাগারে যেতে পারেন বলে স্বজনদের কাছে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, প্রতারিত কর্মীদের নিয়ে আগেই নয়া দিগন্তে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছিল।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর সহকারী পরিচালক (কর্মসংস্থান) তানভীর হোসেন গত বছরের ২২ ডিসেম্বর রিক্রুটিং এজেন্সিকে দেয়া চিঠিতে উল্লেখ করেন, উপযুক্ত বিষয়ে রিক্রুটিং এজেন্সি মেসার্স লাব্বাইক ইন্টারন্যাশনাল (আরএল-৭০৮)-এর বিরুদ্ধে আব্দুল্লা আল নোমান কর্তৃক আনীত অভিযোগটি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে সৌদি আরবে কর্মরত ১১ জন কর্মীর আকামা না পাওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে। রিক্রুটিং এজেন্সি ১১ জন কর্মীর আকামা সমস্যা সমাধানের জন্য এক মাস সময় চেয়ে অঙ্গীকারনামা দাখিল করেছেন। বিএমইটি পত্র নং-৯৭৬৯, তারিখ ১৯/১১/২০২০-এর মাধ্যমে ২০-১২-২০২০ এর মাধ্যমে ১১ জন কর্মীর আকামা সমস্যা সমাধান করে বিএমইটিতে প্রমাণ দাখিল করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয় চিঠিতে। কিন্তু অদ্যাবধি উক্ত কর্মীদের আকামা সমস্যা সমাধান করার প্রমাণ দাখিল করা হয়নি। এমতাবস্থায় ৭ জানুয়ারি ২০২১ এর মধ্যে কর্মীদের কাজ, বেতন ও আকামা দেয়াসহ সমস্যা সমাধানপূর্বক বিএমইটিতে প্রমাণ দাখিল করার জন্য নির্দেশক্রমে পুনরায় অনুরোধ করা হলো। অন্যথায় অভিবাসী আইনের ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে চিঠিতে এজেন্সি মালিককে আলটিমেটাম দেয়া হয়। তারপরও এজেন্সি মালিক এই চিঠিকে ‘থোরাই কেয়ার’ করছেন বলে প্রতারিত কর্মীদের স্বজনরা গতকাল নয়া দিগন্তকে জানান। এর আগেও একইভাবে ২০২০ সালের ১৯ নভেম্বর বিএমইটি থেকে একই কর্মকর্তা এজেন্সিকে চিঠি দিয়েছিলেন।
সৌদি আরবে মানবেতর জীবন কাটানো কর্মীদের মধ্যে একজন হচ্ছেন কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা। গতকাল তার বড় ভাই শামীম হাওলাদার টেলিফোনে নয়া দিগন্তকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বড় আশা করে আমার ভাইকে লাখ লাখ টাকা খরচ করে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু যাওয়ার দেড় থেকে দুই বছর হতে চলল এখনো তার আকামাই হয়নি। শুধু আমার ভাই নয়, ওই এজেন্সি থেকে যাওয়া এমন শতাধিক কর্মীর কারোরই আকামা হয়নি। এ নিয়ে এজেন্সি মালিকের সাথে অনেক দেন-দরবার হয়েছে। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। পরে আমাদের ২৭ কর্মীর পক্ষ হয়ে ভোলার দৌলতখান হাজীপুর মাদরাসার বাসিন্দা এক কর্মীর স্বজন আব্দুল্লাহ আল নোমান রিক্রুটিং এজেন্সি মেসার্স লাব্বাইক ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারীর বিরুদ্ধে জনশক্তি কর্মসংস্থান ব্যুরোতে লিখিত অভিযোগ দেন। ডকুমেন্ট হিসেবে ২৭ জন কর্মীর নামের তালিকা ও পাসপোর্ট নাম্বারের কপি বিএমইটিতে জমা দেয়া হয়।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিএমইটিতে আমরা ২৭ জনের নামের তালিকা দিলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা আমাদের বলেছেন, প্রথমে ১১ জনের আকামা, বেতন ও কাজের আগে সুরাহা হউক। এরপর বাকিদের সমস্যা সমাধান করা হবে। এসব কথা বলার ফাঁকে শামীম হাওলাদার বলেন, আপনারা জানেন না, তারা সেখানে এখন কত কষ্টের মধ্যে আছে। বিকাশে আমরা টাকা পাঠালে সেই টাকা দিয়ে তারা এখন কোনোমতে বাজার সদাই করে খেয়েপরে বেঁচে আছে। তার দাবি সমস্যার সমাধান করতে না পারলে আমার ভাইদের দ্রুত সরকার দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসুক। একই সাথে রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হউক। আমার মনে হচ্ছে বিএমইটিকেও এজেন্সি মালিক ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন। যার কারণে আমরা বিএমইটির ডিজির সাথে বুধবার সকালে তার দফতরে দেখা করে আবারো অভিযোগ জানিয়েছি। তিনি সব কিছু শুনে রিক্রুটিং এজেন্সির সমস্ত কার্যক্রম বন্ধে সার্ভার বন্ধ রাখতে কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। তারপরও এজেন্সির সার্ভার বন্ধ করা হয়নি। সুত্রঃ নয়া দিগন্ত ।
অর্থ ও মানব পাচারের দায়ে কুয়েতে আটক থাকা লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলকে চার বছরের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে দেশটির আদালত। পাশাপাশি ১ দশমিক ৯ মিলিয়ন কুয়েতি দিনার জরিমানা করা হয়েছে। এ অর্থদন্ড বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৩ কোটি ২০ লাখ টাকার সমান। একই সঙ্গে পাপুলের সহযোগী কুয়েতের এক অ্যাটর্নি ও সর্বশেষ মধ্যস্থতাকারী মাজন আল-জারাহকেও একই সাজা দিয়ে তাদের বন্দী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ মামলায় কুয়েতের সংসদ সদস্য সাদউন হাম্মাদ ও সাবেক সংসদ সদস্য সালাহ খোরশিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। গতকাল কুয়েতের বিচারপতি আবদুল্লাহ আল-ওথমানের আদালত এ রায় প্রদান করে।
বাংলাদেশের কোনো সংসদ সদস্যকে এর আগে কখনই বিদেশের মাটিতে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়নি।
লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য পাপুল ৬ জুন রাতে কুয়েতের মুশরিফ থেকে গ্রেফতার হন। মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানির অন্যতম মালিক পাপুল সেখানে বসবাস করতেন। পাচারের শিকার পাঁচ বাংলাদেশির অভিযোগের ভিত্তিতে পাপুলের বিরুদ্ধে অর্থ ও মানব পাচার এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শোষণের অভিযোগ আনে কুয়েতি প্রসিকিউশন। গ্রেফতার করে ১৭ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে রাখা হয় কুয়েতের কেন্দ্রীয় কারাগারে। গতকাল রায় ঘোষণার সময়ও এমপি পাপুল কারাগারেই ছিলেন। সাধারণ শ্রমিক হিসেবে কুয়েত গিয়ে বিশাল আর্থিক সাম্রাজ্য গড়া পাপুল ২০১৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার মালিকানাধীন মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানি পরিচ্ছন্নতা কর্মী নেওয়ার কাজ করলেও কুয়েতে অন্যান্য ব্যবসার কাজও বাগিয়েছিলেন পাপুল। কুয়েতি কর্মকর্তাদের কীভাবে কত টাকা ঘুষ দিয়েছেন সে বিষয়ে রিমান্ডে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন পাপুল; যা প্রসিকিউটরদের বরাতে প্রকাশ করছে স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। সেখানে নাম আসায় কুয়েতের দুই এমপির বিরুদ্ধেও পাপুলকে বেআইনি কাজে সহযোগিতা ও অর্থ পাচারে জড়িত থাকার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়। মামলার তদন্তের সময় অভিযুক্ত হিসেবে ১৩ জনের নাম উঠে আসে। এর মধ্য থেকে চারজনকে তদন্তকালে বাদ দেওয়া হয়। এর আগে গালফ নিউজের খবরে বলা হয়েছিল, ‘জেনারেল ট্রেডিং অ্যান্ড কন্ট্রাক্টিং’ নামক লাইসেন্স ছিল পাপুলের; যার মাধ্যমে শিশুদের খেলনা থেকে শুরু করে অ্যানটিক কার্পেটের ব্যবসাও তিনি করতে পারেন। পাপুল ও তার কোম্পানির ব্যাংক হিসাব ইতিমধ্যে জব্দ করেছেন কুয়েত কর্তৃপক্ষ। ইংরেজি দৈনিক আরব টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, অর্থ ও মানব পাচারে সহযোগিতার জন্য কুয়েতের জাতীয় পরিষদের দুই সদস্যকে বড় অঙ্কের অর্থ ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন পাপুল। খবরে বলা হয়, এমপি সাদুন হাম্মাদ আল-ওতাইবি ও সালাহ আবদুলরেদা খুরশিদকে ৫ লাখ ৭০ হাজার কুয়েতি দিনার বা ১৫ কোটি ৭০ লাখ ৬৮ হাজার টাকা ঘুষ দেন পাপুল। এর মধ্যে আর্থিক লেনদেন ও বাণিজ্যিক কাজে সহযোগিতার জন্য সাদুন হাম্মাদকে দেন ২ লাখ কুয়েতি দিনার। এক সিরীয় মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে সাদুন হাম্মাদের দক্ষিণ সুরার বাসায় নগদ ৫০ হাজার দিনার পৌঁছে দেওয়া হয়। বাকি দেড় লাখ দিনার দেওয়া হয় চেকের মাধ্যমে। আরবি দৈনিক আল-কাবাসের খবরে বলা হয়, এমপি সালাহ খুরশিদকে দেওয়া হয় ৩ লাখ ৭০ হাজার কুয়েতি দিনার। তার বাসায় কয়েক কিস্তিতে ওই অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়। বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে কর্মী আনার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার জন্য ওই অর্থ দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে পাবলিক প্রসিকিউশন। বাংলাদেশেও এমপি পাপুলের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। এদিকে কুয়েতে পাপুলের কত সম্পদ রয়েছে তার তথ্য চেয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কুয়েতে চিঠি পাঠায় দুদক। এতে দেশে পাপুলের বিরুদ্ধে মামলা ও তদন্তের বিষয়ে উল্লেখ করে কুয়েতে থাকা পাপুলের কোম্পানি, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, ব্যাংক হিসাবের তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মানব পাচারের মাধ্যমে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পাপুল ও তার পরিবারের তিন সদস্যসহ আট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। আসামির মধ্যে পাপুল পরিবারের সদস্য তার শ্যালিকা জেসমিন প্রধান (২৩), মেয়ে ওয়াফা ইসলাম (২৬) ও ভাই কাজী বদরুল আলম লিটন রয়েছেন। এ ছাড়া পাপুলের ব্যক্তিগত কর্মচারী মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান মনির (৩৫), জব ব্যাংক ইন্টারন্যাশনালের ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা (৫৬), জেসমিন প্রধানের মালিকানাধীন কোম্পানি জেডব্লিউ লীলাবালী ও কাজী বদরুল আলম লিটনের মালিকানাধীন জব ব্যাংক ইন্টারন্যাশনালসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫-৭ লাখ করে টাকা নিয়েছেন অভিযুক্তরা। অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী অভিযুক্ত আটজনসহ আরও পাঁচ-ছয় জন সংঘবদ্ধভাবে মানব পাচারের মাধ্যমে ন্যূনতম ৩৮ কোটি ২২ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৭ টাকা অবৈধভাবে আয় করেন। অভিযোগ অনুযায়ী পাপুল ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্তরা মানব পাচারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন। অপরাধের মাধ্যমে এসব সম্পদ অর্জন, ভোগ ও অন্যান্য স্থাবর-অস্থাবর সম্পদে রূপান্তর করা আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ছাড়া পাপুল ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তি ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে মানব পাচারের মাধ্যমে অর্জিত আয়ের প্রকৃত উৎস গোপন করে নামে-বেনামে সম্পদে রূপান্তর করা হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেকটাই অপরিচিত শহিদ ইসলাম পাপুল ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনে তাক লাগান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের সমর্থন আদায় করে। মহাজোটের প্রার্থী সরে দাঁড়ান পাপুলকে কেন্দ্রীয়ভাবে তার জোট সমর্থন দেওয়ায়। নির্বাচনের পর আরেক চমক ছিল পাপুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলামের সংরক্ষিত (নারী) আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া। লক্ষ্মীপুরের স্থানীয় অধিবাসীদের তথ্যমতে, ১৯৮৯ সালে একটি প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার হিসেবে চাকরি নিয়ে কুয়েত যান পাপুল। তখন তিনি ছিলেন অনেকটা নিঃস্ব। ১৯৯০ সালে ইরাকের কুয়েত দখলের কারণে দেশে ফিরে আসেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পাপুল আবার কুয়েতে যান। লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শত শত মানুষকে চাকরি দেবেন বলে কুয়েতে পাঠানো শুরু করেন। কুয়েতের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আদম ব্যবসায় নামেন তিনি। মারাফি কুয়েতিয়া গ্রুপ অব কোম্পানির নামে তিনি জনশক্তি রপ্তানি শুরু করেন।
একসময় এ প্রতিষ্ঠানের কর্মী ছিলেন তিনি। পরে নিজেই হয়ে যান মালিক। সুত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন ।