ছিলেন দুইবারের সংসদ সদস্য। সহায়-সম্পদ আর চাকচিক্যে ভরা ছিলো সোনালী অতীত। সেই অতীত এখন ভীষণ বিষাক্ত স্মৃতি ময়মনসিংহের এনামুল হক জজ মিয়ার। সব হারিয়ে নিঃস্ব জজ মিয়ার ঠিকানা এখন ভাড়া করা খুপড়ি ঘর। হাত পেতে চলছে জীবন। অবশ্য নতুন আশ্রয়স্থল গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দ দেয়া ঘর।
এনামুল হক জজ মিয়া। ভাড়া থাকেন খুপড়ি ঘরে। ১৯৮৬ ও ৮৮ সালে ময়মনসিংহ-১০ গফরগাঁও আসনে জাতীয় পার্টির টিকিট নিয়ে হয়েছিলেন দুই মেয়াদের সংসদ সদস্য। জীবনযাপনে ছিলো বিলাসিতার ছাপ, পাশে ছিলো দুই স্ত্রী ও সন্তান।
একটা সময় ভালোবেসে জমিজমা-সহায়সম্বল সব লিখে দেন আপনজনদের। এই স্বজনেরই এখন তাকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে রাস্তায়। সব হারিয়ে নিঃস্ব জজ মিয়ার এতোদিনের ঠিকানা গফরগাঁও শহরের এই খুপরি ঘর।
এক রুমের ভাড়া বাসায় শেষ জীবনে সঙ্গী তৃতীয় স্ত্রী ও এক ছেল। খাট কেনার সামর্থ নেই, বৃদ্ধ বয়সের থাকতে হয় মাটিতেই। হাতপেতে যা মিলে তা দিয়েই চলে সংসার।
অবশেষে গৃহহীনদের বরাদ্দকৃত প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘরেই নতুন ঠিকানা খুজে পেলেন দুই বারের সাবেক এই সংসদ সদস্য।
যে মানুষটি আপনজনের জন্য জীবনের ঝুঁকি নেয়, আরাম-আয়েশকে বিসর্জন করে; জীবনের শেষ সময়ে সে মানুষটি আপনজনদের পাবে পাশে এ চাওয়া নিশ্চয় অবান্তর কিছু নয়!
চেহারা দেখে মনে হয়, তিনি বিদেশে থাকেন। নিজের এই সুদর্শন চেহারাকে পুঁজি করেই বারবার পাত্র খোঁজেন। ‘প্রবাসী পাত্রীর জন্য পাত্র চাই’। এই শিরোনামে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেন।
বিজ্ঞাপনে উল্লেখ থাকে, ‘প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী কানাডার সিটিজেন ডিভোর্সি সন্তানহীন, ৩৭ বছর বয়সী, ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি লম্বা, নামাজি পাত্রীর জন্য ব্যবসার দায়িত্ব নিতে আগ্রহী বয়স্ক পাত্র চাই।’ যোগাযোগের জন্য বারিধারা, গুলশানের মতো অভিজাত এলাকার ঠিকানা উল্লেখ করেন।
কখনো তিনি কানাডার সিটিজেন। কখনো আমেরিকার। নানা পরিচয়ে বিজ্ঞাপন দিয়ে আকৃষ্ট করেন পাত্রদের। বিয়ে করে উন্নত দেশের বাসিন্দা হতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন পাত্ররা।
সকল পাত্রকেই নানা প্রলোভন দেখিয়ে ঝুলিয়ে রাখেন। বিদেশের মাটিতে তার বিপুল অর্থ সম্পদের প্রলোভন দেখান। জানান, ব্যবসাও রয়েছে তার। মূলত পাত্রীর বেশে এই নারী একজন প্রতারক।
তার নাম সাদিয়া জান্নাত ওরফে জান্নাতুল ফেরদৌস (৩৮)। তার রয়েছে একটি চক্র। চক্রটির মূল হোতা এই সাদিয়া জান্নাত। অন্যতম সহযোগী তার স্বামী এনামুল হাসান জিহাদ।
বিভিন্ন জনের কাছ থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৩০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। গত বছরের সেপ্টেম্বরে সাদিয়া জান্নাতকে বনানী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ সময় তার স্বামী জিহাদকে পাওয়া যায়নি।
ব্যবসায়ী যেভাবে সুন্দরী সাদিয়ার ফাঁদে পা দেন
সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, পত্রিকায় লোভনীয় বিজ্ঞাপন দেখে অনেকেই আকৃষ্ট হন। মিথ্যা তথ্য দিয়ে কৌশলে প্রতারণা করে পাত্রের কাছ থেকে বিপুল টাকা হাতিয়ে নেয় এই চক্র।
একপর্যায়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। কুমিল্লার দেবিদ্বারের মেয়ে সাদিয়া জান্নাতের প্রতারণার শিকার ব্যবসায়ী নাজির হোসেন। নাজির হোসেনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।
পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে মোবাইল ফোনে জান্নাতের সঙ্গে যোগাযোগ করেন নাজির। জান্নাতের সঙ্গে বিয়ের আলাপ-আলোচনা হয়। শিগগিরই বিয়ে করে নাজিরকে কানাডা নিয়ে যাবেন বলে জানান সাদিয়া জান্নাত।
গত ১২ই জুলাই গুলশান-২ এর একটি রেস্টুরেন্টে দেখা করেন তারা। প্রাথমিকভাবে ১৫ লাখ টাকা ও নিজের পাসপোর্ট দেন জান্নাতের কাছে। পরবর্তীতে সাদিয়া জান্নাত জানায় কানাডায় তার ২শ’ কোটি টাকার ব্যবসা আছে। কিন্তু কানাডায় অনেক শীত, নাজির সেখানে থাকতে পারবেন না। তাই টাকাগুলো বাংলাদেশে এনে নাজিরকে দিতে চান।
দেশে ব্যবসা করে দু’জনে সুখে থাকবেন। এই প্রলোভন দিয়ে ভিক্টিমের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ট্যাক্স, ভ্যাট, ডিএইচএল বিল ইত্যাদির খরচের কথা বলে ১ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।তারপর ফোনসহ সকল প্রকার যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
ঠিকানাও পরিবর্তন করে। নাজিরের মতো অনেকের কাছ থেকে এই চক্র ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে সিআইডি।
সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে সাদিয়া প্রতারণার নানা কলাকৌশল বলতে শুরু করেছে। কখনও অবিবাহিত যুবক, কখনও বিপত্নীক, কখনও তালাকপ্রাপ্ত, কখনও নামাজি আবার কখনও বয়স্ক পাত্র চেয়ে বিজ্ঞাপন দিতো সাদিয়া। যে পাত্রের জন্য যেমন পাত্রী দরকার তেমন রূপেই নিজেকে উপস্থাপনের চেষ্টা করতো।
বিশেষ করে ধনাঢ্য পাত্রদের টার্গেট করে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দিয়েই বেশি প্রতারণা করতো। এভাবে গত প্রায় ১০ বছর ধরে শতাধিক পাত্রের সঙ্গে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সাদিয়া।
আরেক সুন্দরীর নাম তামান্না আক্তার। বয়স ২৭ এর কোঠায়। ১১ বছর আগে জামালপুরের ফারুক হোসেনের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ১০ বছর বয়সী এক ছেলে রয়েছে। তারপরও তামান্না অবিবাহিতা, সম্ভ্রান্ত পরিবারের পাত্রী সেজে এখন পর্যন্ত এক ডজনেরও বেশি ব্যক্তির কাছ থেকে বিয়ে করে বিদেশ নেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি। তার এই প্রতারণার কথা জানতেন না স্বামী ফারুক এবং তার একমাত্র ছেলে।
টার্গেটে উচ্চপদস্থ চাকরিজীবী
এই সুন্দরী তামান্না সর্বশেষ একজন সরকারি উচ্চপদস্থ চাকরিজীবীর সঙ্গে প্রতারণা করে ৭ লাখ টাকার বেশি হাতিয়ে নেয়। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির কাছে তার বিরুদ্ধে অসংখ্য ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ করেছেন। প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি সিআইডি ভুয়া পাত্র দেখার ফাঁদ পেতে একটি রেস্টুরেন্ট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
যেভাবে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে তামান্না
সিআইডি সূত্র জানায়, তামান্নার গ্রামের বাড়ি জামালপুর। যদিও প্রথমে সে তার বাড়ি সম্পর্কে ভুল ঠিকানা হিসেবে কিশোরগঞ্জ জানায়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। তার স্বামী রাজধানীর একটি বেসরকারি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। স্বামী এবং ছেলেকে নিয়ে রামপুরা ব্লক-ই ভাড়া বাসায় থাকেন।
স্বামীর চোখে ফাঁকি
অর্থের লোভে স্বামীর চোখ ফাঁকি দিয়ে তামান্না প্রায় এক বছর আগে চক্রের মূল হোতা সাদিয়া জান্নাতের সঙ্গে অপকর্মে যোগ দেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তামান্নাও সাদিয়া জান্নাতের মতো খুবই ধূর্ত প্রকৃতির। ১ বছর আগে পার্কে হাঁটতে গিয়ে সাদিয়া জান্নাতের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর তারা নিজেদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখলে এক সময় সাদিয়ার চক্রে যোগ দেয় তামান্না।
ফাঁদে পা দেওয়া পাত্রের চাহিদা মেটাতেন:
সূত্র জানায়, পাত্রের চাহিদা অনুযায়ী তামান্না নিজেকে ওই মোতাবেক উপস্থাপন করতেন। প্রায় ৬ মাস আগে একজন সরকারি চাকরিজীবীর সঙ্গে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে যোগাযোগ হয়। এরপর তারা প্রায়ই রেস্টুরেন্টে দেখা করতেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলতো তাদের ফোনালাপ। পরবর্তীতে ইউরোপে নেয়ার কথা বলে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে কয়েক দফায় প্রায় ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় তামান্না। চক্রের মূল হোতা সাদিয়া সর্বপ্রথম ওই পাত্রের কাছে নিজেকে পাত্রী হিসেবে উপস্থাপন করেন। সাদিয়ার চলন-বলন অতিরিক্ত আধুনিক হওয়ায় প্রতারণার শিকার ব্যক্তি তাকে অপছন্দ করেন। পরবর্তীতে সে কি ধরনের পাত্রী চায় জানতে পেরে তামান্না নিজেকে ওই ব্যক্তির সামনে চাহিদা মোতাবেক উপস্থিত হতেন।
উল্টো ফাঁদে রেস্টুরেন্টে ধরা:
গত ১৭ই সেপ্টেম্বর চক্রের মূল হোতা সাদিয়া জান্নাত ও তার স্বামী এনামুল হাসানকে গ্রেপ্তারের খবরটি গণমাধ্যমে দেখতে পেয়ে সিআইডির সঙ্গে যোগাযোগ করেন এক ভুক্তভোগী। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এক ডজনেরও বেশি ব্যক্তি তামান্নার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ করেছেন। তারা মূলত পত্রিকার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিয়ে করে বিদেশ নেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করতেন। অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি সিআইডির একটি টিম এক ব্যক্তিকে মিথ্যা পাত্র সাজিয়ে তামান্নার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় সে একইভাবে পাত্রের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেন। পরবর্তীতে স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে পাত্রের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।
সিআইডির ঢাকা মেট্রো পশ্চিমের এসএসপি (বিশেষ পুলিশ সুপার) শামসুন্নাহার বলেন, ভূক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তামান্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রতারণার বিষয়টি তামান্না স্বীকার করেছিলো। পরে তাকে রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হয়।
ব্রাজিলে বিমান দু’র্ঘট’নায় চতুর্থ বিভাগের ক্লাব পালমাসের চার ফুটবলার, ক্লাব সভাপতি ও পাইলট নিহত হয়েছেন। রোববার রাতে এ দু’র্ঘ’টনা ঘটে। ব্রাজিলিয়ান কাপের ম্যাচ খেলতে গোইয়ানিয়ায় যাচ্ছিলেন পালমাসের সভাপতি ও খেলোয়াড়রা। উড়োজাহাজটি ছোটই ছিল। কিন্তু সেটি ঠিকমতো ওড়ার আগেই দুর্ঘ’টনা। টেকঅফের সময়ই বিধ্বস্ত হলো। উড়োজাহাজের ভেতরে থাকা কেউই বেঁচে ফিরতে পারেননি।
ক্লাবের সভাপতি লুকাস মেইরা, চার ফুটবলার লুকাস প্রাসেদেস, গিলের্মে নো, রানুলে ও মার্কাস মলিনারি—পালমাস হারিয়েছে এই পাঁচজনকে। ‘বিমান টেকঅফ করেছিল, এরপর তোকানতিনেসে এভিয়েশন অ্যাসোসিয়েশনের রানওয়ের শেষ প্রান্তে গিয়ে বি’ধ্বস্ত হয়’—বিবৃতিতে জানিয়েছে পালমাস।
তোকানতিনেসে এভিয়েশন অ্যাসোসিয়েশন পালমাস শহরের পাশে ছোট্ট একটি বিমানঘাঁটি। বিবৃতিতে দুঃসংবাদটাও জানিয়েছে পালমাস, ‘শো’কের সঙ্গে জানাচ্ছি, কেউই বেঁচে ফিরতে পারেননি।’
৮০০ কিলোমিটার দূরের শহর গোইয়ানিয়ার ক্লাব ভিলা নোভার বিপক্ষে আগামী মঙ্গলবার ব্রাজিলের ঘরোয়া কাপ টুর্নামেন্ট কোপা ভের্দের শেষ ষোলোতে খেলার কথা ছিল পালমাসের। ব্রাজিলের দক্ষিণ ও উত্তর–পূর্ব অঞ্চ’লের বি’খ্যাত দলগুলোর বাইরের ছোট দলগুলোকে নিয়েই আয়োজিত হয় টুর্নামেন্টটা।
কোন উড়োজাহাজে চড়েছিলেন খেলোয়াড়েরা, সেটি জানায়নি পালমাস।
ব্রাজিলে গত সাত বছরে এমন দু’র্ঘ’টনা হলো তিনটি। এর মধ্যে ২০১৬ সালের ২৮ নভেম্বর শাপেকোয়েনসে ক্লাবের বিমান দু’র্ঘ’টনা বিশ্ব ফুটবলকেই নাড়িয়ে দিয়ে গেছে। দক্ষিণ আমেরিকার মহাদেশীয় ক্লাব ফুটবলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ টুর্নামেন্ট কোপা সুদামেরিকানার (ইউরোপে যেটি ইউরোপা লিগ)
ফাইনালে কলম্বিয়ার আতলেতিকো নাসিওনালের বিপক্ষে খেলার কথা ছিল শাপেকোয়েনসের। সে জন্য খেলোয়াড়-কোচ-কর্মকর্তা ও সাংবাদিক মিলিয়ে মোট ৭৭ জন চেপেছিলেন বিমানে। কিন্তু মেদেলিনে বি’ধ্বস্ত হয় উড়োজাহাজটি। ৭৭ জনের মধ্যে ৭১ জনই তখন প্রা’ণ হারান।
এর দুই বছর আগে ব্রাজিলের শীর্ষ স্তরের বিখ্যাত ক্লাব ইন্তা’রনা’সিওনালের সাবেক অধিনায়ক ফের্নানদাও হেলিকপ্টার দু’র্ঘ’টনায় মা’রা যান। ব্রাজিলের গোই’য়াস রাজ্যে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি বি’ধ্বস্ত হয়।
নাগরিক বিমান পরিবহন অধিদফতরের (ডিজিসিএ) কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (কেআইএ) ও পরিচালিত সমস্ত বিমান সংস্থাগুলিকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে যে কুয়েতের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের জারি করা নতুন নির্দেশনা অনুসারে, কুয়েত
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণকারী সমস্ত বিমানকে অবশ্যই ৩৫ জনের বেশি যাত্রী বহন করতে পারবে না।
চিঠিতে বলা হয়েছে যে কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কেআইএতে অবতরণ করা প্রতিটি ফ্লাইটে ২৪ জানুয়ারী থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩৫ এর বেশি যাত্রী না নিয়ে আসা উচিত এবং বহিরাগত বিমানের ক্ষেত্রেও একই প্রযোজ্য।
তবে কুয়েত এয়ারলাইন কর্পোরেশন (কেএসি) তার টুইটার অ্যাকাউন্টে জানিয়েছে যে এই নিয়ম গৃহকর্মী এবং ট্রানজিটে যাত্রীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
এদিকে কুয়েতের জনপ্রিয় পত্রিকা আল কাবাস জানিয়েছে, কুয়েতে আগমনকারীদের কমিয়ে আনার সিদ্ধান্তে বুকিং দেওয়া ৬০ হাজার টিকিট বাতিল ঘোষণা।ফলে কুয়েতে যেতে চাওয়া ভ্রমণকারী ও প্রবাসীদের মাঝে নতুন শ’ঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে প্রবাসীদের কুয়েত ফেরা আরও দেরি হয়ে যাবে।
একই প্রসঙ্গে ডিজিসিএ-র বিমান পরিবহন বিভাগের পরিচালক আবদুল্লাহ আল রাজি বলেছেন, কুয়েত বিমানবন্দরে প্রতিদিন আগতদের সংখ্যা হ্রাস করা সিভিল এভিয়েশন সিদ্ধান্তে শিপিং সংস্থাগুলি অন্তর্ভুক্ত নয়, সিদ্ধান্তকে জোর দিয়ে বলা হচ্ছে কেবল যাত্রীবাহী ফ্লাইটের জন্য।
তিনি জোর দিয়েছিলেন যে কুয়েতের লক্ষ্য ছিল তাদের সময়সূচী পরিবর্তন না করেই কার্গো ফ্লাইট পরিচালনা করা বা অন্যথায় বাজারে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এবং কোনও অভাব এড়াতে দেশে পণ্যদ্রব্যের আগমন অব্যাহত রাখা।নাগরিক বিমান পরিবহণের মহাপরিচালক কুয়েত রাজ্যে পরিচালিত সমস্ত বিমান সংস্থা এবং ভ্রমণ ও পর্যটন সংস্থাগুলিকেও একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে জানিয়েছে যে যাত্রী ফেরত বিমানের টিকিট, হোটেল রিজার্ভেশন এবং অন্যান্য পর্যটন পরিষেবাদির জন্য অনুরোধ করার অধিকার রাখে যা ছিল সংরক্ষণের শর্ত নির্বিশেষে, ২০২০ সালের ২১ শে ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারী, ২০২১ পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের স্ত্রী ও কন্যার অর্থপাচারের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাক্ষরিত নথি জালিয়াতি হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে শুনানির জন্য আগামীকাল সোমবার (২৫ জানুয়ারি) দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।
রোববার (২৪ জানুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে আজ এমপি পাপুলের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমেদ রাজা। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক। আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন খুরশীদ আলম খান।
এর আগে পাপুল ও তার স্ত্রী-কন্যার মানিলন্ডারিং নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-পরিচালক আরেফিন আহসান মিঞা স্বাক্ষরিত সমস্ত নথি তলব করেছিলেন হাইকোর্ট। পরে এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য এ দিন ঠিক করেন আদালত।
নথিতে আরেক তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মশিউর রহমানের স্বাক্ষর নেই কেন তা নিয়েও প্রশ্ন তুলে গত ১২ জানুয়ারি হাইকোর্টের একই বেঞ্চ এ বিষয়ে আদেশ দেন।
ওই দিন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের স্ত্রী সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য সেলিনা ইসলাম ও তার মেয়ে ওয়াফা ইসলামের অর্থপাচারের বিষয়ে দায়মুক্তি দেয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-পরিচালক আরেফিন আহসান মিঞা স্বাক্ষরিত সমস্ত নথি তলব করেছেন হাইকোর্ট। অর্থপাচারের বিষয়টি খুঁটিয়ে দেখতে আদালত মূল নথি তলব করেছেন।
মামলার শুনানিকালে পাপুলের স্ত্রী-কন্যাকে দায়মুক্তি দেয়া নথিতে আরেক তদন্ত কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক মশিউর রহমানের স্বাক্ষর না থাকার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন আদালত। পরে আদালত এ সংক্রান্ত সব নথি তলবের আদেশ দেন।
গত ১১ নভেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে দুই কোটি ৩১ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ ও ১৪৮ কোটি টাকার অর্থপাচারের অভিযোগে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শহিদ ইসলাম পাপুল, তার স্ত্রী সংরক্ষিত আসনের এমপি সেলিনা, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম এবং শ্যালিকা জেসমিন প্রধানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
অর্থ ও মানবপাচারের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেফতার হন সংসদ সদস্য শহিদ ইসলাম পাপুল। বর্তমানে তিনি কুয়েতের
কারাগারেই আছেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচারসহ জ্ঞাত আয় বহির্ভূত উপায়ে শত শত কোটি টাকা অর্জন করে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।
জানা গেছে, শারমিন জাহান পাপিয়া সিডনিতে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বেশ পরিচিত ছিলেন। তিনি কুমিল্লার কাজী বাড়ির মেয়ে। সিডনির মিন্টোতে বসবাস করতেন। পাপিয়া মৃ;ত্যুকা;লে স্বামী হায়দার চৌধুরী বাবু ও একমাত্র কন্যা তাসফিয়া এবং ছোট বোন জু;লিয়াসহ অসংখ্য আ;ত্মী;য়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও শু;ভাকা;ঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।
মরহুমার নামাজে জানাজা আগামীকাল ২৫ জানুয়ারি বেলা ১১টায় সিডনির নারেলেন কবরস্থানে অনুষ্ঠিত হবে। কোভিড-১৯এর স্বাস্থ্যবিধি মেনে জানা;জায় অং;শগ্র;হণের জন্য অব;শ্যই পূর্বে নাম রেজি;স্ট্রেশন করার জন্য অনু;রো;ধ করা হয়েছে;।এ বাংলাদেশির মৃ;ত্যু;তে পরিবার ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শো;কের ছা;য়া নেমে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসাবে আবারো নিয়োগ পেয়েছেন শেখ খালেদ আল সাবাহ, কুয়েতের মহামান্য আমীর শেখ নওয়াফ আল আহামদ আল জাবের তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন ।
নব নি্যুক্ত প্রধানমন্ত্রী তাকে পুনরায় দায়িত্ব প্রদান করায় মহামাম্বিত আমীরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ খালেদ বলেছেন, আমরা পরবর্তী পর্যায়ে গঠনমূলক সহযোগিতার ফর্মগুলি উন্নত করতে এবং সংসদ সদস্যদের সাথে সমন্ময় করে কাজ করব ।
কুয়েত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় প্রবাসীদের সিভিল আইডি কার্ড ব্যবহারের নিয়মটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন..!
কুয়েত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক গবেষণার ভিত্তিতে একটি প্রকল্পের পরিকল্পনা তৈরি করেছেন, যার লক্ষ্য হচ্ছে প্রবাসীদের সিভিল আইডি বাতিল করা এবং শুধুমাত্র কুয়েতি নাগরিকের মধ্যেই সিভিল আইডি কার্ড পদ্ধতিটি সীমাবদ্ধ রাখা।
রেসিডেন্সি বিষয়ক পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হচ্ছে কুয়েতে প্রবাসীদের জন্য একটি বিশেষ চৌম্বকীয় কার্ড তৈরি করা হবে, যার মধ্যে থাকবে প্রবাসীদের সমস্ত তথ্যাদি যা সমস্ত রাজ্যের মন্ত্রনালয় এবং এজেন্সিগুলিতে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম করতে বা ব্যবহার করতে সক্ষম হবে।
📌 নিউজ লিংক 👇 কমেন্টে দেওয়া হয়েছে…
✍️ Collected,translated and posted by #nahar_haque