যৌন হয়রানির অভিযোগে এবার অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ২২ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে আটক করেছে দেশটির পুলিশ। সোমবার (১৮ জানুয়ারি) তাকে গ্রেফতার করার পর মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) অস্ট্রেলিয়ার কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
ওই শিক্ষার্থীর নাম জামিল আহমেদ। সিডনির ব্যাংকস টাউনের ভিলাউড এলাকার ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে সোশ্যাল মিডিয়ায় যৌন হয়রানি করার কারণে তার বিরুদ্ধে ‘সম্ভাব্য ধর্ষণ’-এর অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। পরে ওই কিশোরীর পরিবার জামিলকে আটক করে স্থানীয় পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে তাকে গ্রেপ্তার করে।ওই কিশোরীর পরিবার জামিলের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে দাবি করেন, ‘গত ডিসেম্বর মাস থেকে কিশোরীর সঙ্গে স্ন্যাপচ্যাট, ইনস্টাগ্রামের মতো সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে অতিমাত্রায় কথা বলত জামিল। তার কথার বেশির ভাগই ছিল যৌনতামূলক। এ বিষয়টি ওই কিশোরীর মা জেনে গেলে জামিলকে এসব থেকে বিরত থাকতে বলে।
তবে এই কথা শোনেন নি জামিল। পরে তাকে ধরতে পরিকল্পনা করে কিশোরীর মা। কিশোরীর অ্যাকাউন্ট থেকে জামিলকে বাসায় আসতে বলা হয়। জামিল কিশোরীর বাড়িতে উপস্থিত হলে তাকে আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করে কিশোরীর পরিবার।এদিকে জামিলের বিরুদ্ধে এর আগে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে দেশটির পুলিশ। জামিল সিডনির ব্যাংকস টাউন এলাকাতেই বসবাস করতেন। তিনি তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে অধ্যয়ন করছিলেন এবং পাশাপাশি সিডনির একটি সুপার মার্কেটে খণ্ডকালীন চাকরি করতেন। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি এ মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
করোনায় বিদেশে কাজ হারিয়ে দেশে ফেরত আসা শ্রমিকদের পুনর্বাসন করবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। সেই লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়টি কমিশনে একটি প্রকল্প পরিকল্পনা পাঠিয়েছে। পুনর্বাসনের এ প্রকল্পে পরামর্শক খাতে ১১৫ কোটি ২৫ লাখ ৬৩ হাজার টাকা খরচের প্রস্তাব করা হয়েছে। পরামর্শক খাতে এত খরচ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
‘প্রত্যাগত অভিবাসী কর্মীদের পুনঃএকত্রীকরণের লক্ষ্যে অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থান সৃজনে সহায়ক’ শিরোনামের প্রকল্পে খরচ প্রস্তাব করা হয়েছে ৪৩০ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার টাকা। তার মধ্যে বিশ্ব ব্যাংকের ঋণ ৪২৫ কোটি টাকা এবং সরকার দেবে ৫ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার টাকা।
সূত্র জানায়, প্রকল্পটির ওপর পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হবে।
পিইসি সভার কার্যপত্রে বলা হয়েছে, ‘এ প্রকল্পে ১০ জন ব্যক্তি পরামর্শক এবং ৮টি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হবে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান খাতে বরাদ্দ ৯৪ কোটি ৫০ লাখ ৬৩ হাজার টাকা এবং ব্যক্তি পরামর্শকরা পাবেন ১৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এত সংখ্যক পরামর্শক এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা আছে মর্মে প্রতীয়মান হয় না। তাছাড়া পরামর্শকদের জন্য বাড়ি ভাড়া ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। এটার প্রয়োজন আছে কি-না, তা নিয়ে সভায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে।’
পরামর্শক খাতে ১১৫ কোটির বেশি খরচ করা হলেও কাজ হারিয়ে দেশে ফেরা শ্রমিকরা যেন চাকরি বা ব্যবসা করতে পারে, সেজন্যে প্রত্যেককে এককালীন ৭ হাজার টাকা করে দেয়া হবে। এরকম ২ লাখ কর্মীকে ৭ হাজার করে মোট ১৪০ কোটি টাকা প্রদান করা হবে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। এর মহাপরিচালক মো. হামিদুর রহমানকে ফোন করা হলে একজন রিসিভ করে জাগো নিউজকে জানান, ‘মহাপরিচালক চেম্বারে নেই’।
জাগো নিউজের ফোন রিসিভ করেন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পরিচালক (প্রশাসন ও উন্নয়ন) মুশাররাত জেবীন। এই প্রকল্পে পরামর্শক খাতে ১১৫ কোটি টাকার বেশি খরচের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন। এরপর তার ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও ব্যস্ত দেখায়।
প্রকল্পটি যাচাই-বাছাই করছে পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগ। এর সদস্য (সচিব) মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম জাগো নিউজকে বলেন, ‘এটা এখন যাচাই-বাছাই পর্যায়ে আছে। তাই এই মুহূর্তে এটা নিয়ে মন্তব্য করতে পারবো না। বরং যে মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প, তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন।‘
দুই লাখ উপকারভোগীদের প্রশিক্ষণ দেয়ার পর ৭ হাজার টাকা করে প্রণোদনা দেয়া হবে। ৭ হাজার টাকা দিয়ে একজন প্রত্যাগত অভিবাসী কীভাবে উপকৃত হতে পারেন, তা নিয়ে সভায় আলোচনা হতে পারে বলেও পিইসির কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকল্পের বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বলছে, বিশ্বের ১৭৮টির বেশি দেশে বাংলাদেশের প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ কর্মী বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছেন। সম্প্রতি করোনা মহামারির কারণে বিদেশে কর্মরতরা দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। করোনার কারণে বিদেশে কাজ হারিয়ে ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৫ লাখ কর্মী দেশে ফিরে এসেছেন, যা এখনও অব্যাহত আছে। ফেরত আসা এসব কর্মীরা দেশে আসার পর অধিকাংশই কর্মহীন অবস্থায় রয়েছেন। তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে দিশেহারা। আর্থিকসহ সমাজে তারা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এসব ফেরত আসা কর্মীদের সমাজে পুনঃএকত্রীকরণ তথা পুনর্বাসনে সহায়তা করার লক্ষ্যে আলোচ্য প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে বিদেশ থেকে ফেরত আসা কর্মীদের বাছাই করে পূর্ণাঙ্গ তথ্যসমৃদ্ধ তালিকা তৈরি করা হবে। বাছাই করা কর্মীদের ওরিয়েন্টেশন ও কাউন্সেলিং প্রদান করে এককালীন ক্যাশ ইনসেনটিভ প্রদান করা হবে যেন তারা নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে উপযুক্ত চাকরি অথবা ব্যবসায় সম্পৃক্ত হতে পারেন। তাদেরকে আর্থিক ও অন্যান্য সহযোগিতা প্রদানকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং ঋণ/আর্থিক সহয়তা পেতে সহযোগিতা করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বছরের পর বছর কাজ করে দেশে টাকা পাঠান বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকরা। কিন্তু দেশে ফিরে অনেকে দেখেন, সেই টাকার আর হিসাব দিতে পারছেন না স্বজনরা। এতে বিপাকে পড়েন তারা। এত বছর ধরে পাঠানো পরিশ্রমের টাকা এভাবে বেহাত হওয়া দেখে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এরকমই ঘটনা ঘটে সৌদি প্রবাসী মো. নাসিরউদ্দিনের সঙ্গে।
১৭ বছর পর দেশে ফিরে তিনি দেখলেন, স্বজনদের কাছে এত বছর ধরে তিনি যে টাকা-পয়সা পাঠিয়েছিলেন, তা বেহাত হয়ে গেছে। দেশে ফিরে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার মতো টাকা-পয়সাও তার হাতে নেই। অবশেষে তাকে ঠাঁই নিতে হয়েছে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সেফ হোমে। তার পরিস্থিতির একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরালও হয়েছে।
শুধু নাসিরউদ্দিন না, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবনে এমন ঘটনা যেন নিয়মিতই ঘটে। বিদেশ থেকে আসা অর্থের বড় অংশটি আসে রেমিট্যান্স খাতে, অর্থাৎ প্রবাসী আয়ের মাধ্যমে। এ আয়ের একটি বড় অংশ দেশে পাঠান বিদেশে কাজ করা অদক্ষ কর্মীরা। পুরো বছরে প্রবাসীরা ২ হাজার ১৭৪ কোটি মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ কমবেশি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। কিন্তু যে প্রবাসীরা কঠোর পরিশ্রম করে অর্জিত অর্থ দেশে পাঠান, তাদের অনেকেই দেশে ফিরে স্বজনদের দ্বারা প্রতারণার শিকার হন। ওই অর্থ যাদের কাছে পাঠানো হয়, তারা নানা কারণে বা নানা অজুহাতে টাকা খরচ করে ফেলেন, আবার অনেক প্রবাসীর পাঠানো অর্থে গড়া সম্পদ শেষ পর্যন্ত অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে হয়।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরীফুল হাসান বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘প্রতিবছর ঠিক কত সংখ্যক প্রবাসী শ্রমিক দেশে পাঠানো টাকা নিয়ে প্রতারণার শিকার হন, তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান আমাদের কাছে নেই। তবে আমরা যারা প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করি, বিশেষ করে বিমানবন্দরে একটি জরুরি সেবা দিই, আমরা দেখেছি, প্রায়ই এই ধরনের ঘটনা ঘটে। যে মানুষদের জন্য তারা বিদেশে থেকে কষ্ট করে টাকা পাঠাচ্ছেন, তারা সেগুলো খরচ করে ফেলছে, তাদের গ্রহণ করতে চায় না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পর্যবেক্ষণে দেখেছি, পুরুষদের চেয়ে নারীদের ক্ষেত্রে এটা বেশি হয়। যে নারী এত কষ্ট করে টাকা পাঠাচ্ছেন, তার স্বামী হয়তো আরেকটা বিয়ে করে ফেলছে, অথবা সেই আয় তার নিজের নামেই নেই।’
অন্যদিকে প্রবাসী পুরুষদের বিষয়ে শরীফুল হাসান বলেন, ‘এক্ষেত্রে এমনটা দেখা যায়, একজন প্রবাসী কর্মীর স্ত্রী হয়তো টাকা খরচ করে ফেলেছেন, অথবা তার বাবা-ভাই সম্পত্তি নিজেদের নামে নিবন্ধন করেছে।’
প্রবাসী শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা আরেকটি প্রতিষ্ঠান রামরুর চেয়ারপারসন তাসনীম সিদ্দিকী জানান, ‘এমন অনেক হয়েছে যে, প্রবাসীর টাকায় হয়তো পরিবারের সম্পত্তি হয়েছে, কিন্তু প্রবাসীকে দেশে ফিরে এসে তা বাবা-ভাই-বোনদের সাথে ভাগ করে নিতে হচ্ছে। অথবা এমনও হয়েছে, কেউ হয়তো ভাইয়ের কাছে কাছে টাকা পাঠিয়েছেন, কিন্তু ভাই নিজের নামে সম্পত্তি করেছেন। অথবা স্ত্রীর নামে অর্থ পাঠিয়েছেন, তিনি হয়তো ভাই বা অন্য কারো সঙ্গে ব্যবসা করতে গিয়ে হারিয়েছেন।’
তিনি জানান, ব্যাংকের সঙ্গে তারা একটি প্রশিক্ষণ করতে গিয়ে বেশকিছু পরামর্শ পেয়েছেন এবং এখন সেগুলোই তারা প্রবাসীদেরকে অনুসরণ করার পরামর্শ দেন।
তাহলে কীভাবে নিজেদের অর্থ সঞ্চয় করতে পারেন প্রবাসীরা— রামরু এবং ব্র্যাকের অভিবাসনবিষয়ক কর্মকর্তারা প্রবাসীদের এই ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন-
অন্তত দুটি হিসাব খুলে বিদেশে যাওয়া
তাসনীম সিদ্দিকী বলেন, তারা এখন একটি ক্যাম্পেইন চালাচ্ছেন। সেখানে বলা হচ্ছে, প্রত্যেক প্রবাসীর উচিত বিদেশে যাওয়ার আগে দুটি ব্যাংক হিসাব খুলে যাওয়া। তার একটিতে তিনি পরিবারের ভরণপোষণের জন্য অর্থ পাঠাবেন, আরেকটিতে থাকবে তার নিজের জমানো টাকা।
তাদের পরামর্শ হলো, এজন্য তারা ব্যাংকে নানা মেয়াদী সঞ্চয়ী স্কিম খুলে যেতে পারেন, যেখানে তাদের হিসাব থেকে সরাসরি টাকা জমা হবে।
তাসনীম সিদ্দিকী বলেন, বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে এমনটা অনেক সময় দেখা যায়, অনেক প্রবাসী কর্মী দেশে থাকা মামা-বাবার নামে টাকা পাঠান। অনেক ক্ষেত্রে আবার অনেক সময় স্ত্রীর কাছ থেকে অভিযোগ আসে যে, তাকে ঠিকভাবে খরচ দেয়া হচ্ছে না। এসব ক্ষেত্রে স্ত্রী ও ববা বা পরিবারের অন্য সদস্যদের নামে আলাদা আলাদা হিসাব খুলে সেখানে টাকা পাঠানো যেতে পারে। তাহলে যেমন কোনো জটিলতা থাকবে না, আবার নিজের টাকার ওপরেও তার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে।
শুরু থেকেই সঞ্চয়ের পরিকল্পনা
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়ে বলছেন, অর্থ উপার্জনের জন্য বা চাকরি নিয়ে যখন কেউ বিদেশে যাচ্ছেন, তখন থেকেই তাকে পরিকল্পনা করতে হবে যে, উপার্জিত অর্থ তিনি কীভাবে কাজে লাগাবেন।
অধ্যাপক তাসনীম সিদ্দিকী বলেন, ‘আপনি যখন বিদেশে যাচ্ছেন, যে টাকা-পয়সা উপার্জন করছেন, আপনি ভাববেন না যে সেটা শুধুমাত্র আপনার পরিবারের বর্তমান খাওয়া-পরার অর্থ। আপনি যখন দেশে ফিরে আসবেন, তখন আপনার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেও টাকা প্রয়োজন। শুরু থেকেই আপনাকে সঞ্চয়ের ব্যাপারটি ঠিক করতে হবে– কীভাবে বিনিয়োগ করবেন, কোথায় বিনিয়োগ করবেন, তা ভাবতে হবে।’
পারিবারিক বিনিয়োগ
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরীফুল হাসান বলেন, প্রবাসীদের নিজেদের নামে বাংলাদেশে সরাসরি বিনিয়োগের সুযোগ খানিকটা সীমিত। দেখা গেছে, প্রবাসীরা বরং জমি, বাড়ি ইত্যাদির পেছনে বেশি বিনিয়োগ করেন। এমনকি তাদের জন্য সঞ্চয়ের স্কিমও বেশি নেই।
এ ব্যাপারে তার পরামর্শ, প্রবাসীরা তাদের পারিবারিক স্বজন বা স্ত্রীর মাধ্যমে বাড়ি-কেন্দ্রীক খামার বা ছোটখাটো ব্যবসা করতে পারেন। যেমন : মুরগির খামার, মাছের চাষ ইত্যাদি ছোটখাটো ব্যবসাও করতে পারেন।
শরীফুল হাসান বলেন, বিদেশে অনেক বড় বড় বিনিয়োগকারী রয়েছেন, যারা দেশেও বড় আকারে বিনিয়োগ করতে চান। তাদের জন্য সরকারিভাবে বিশেষ পরিকল্পনা নিতে হবে। অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করা যেতে পারে, যাতে তারা দেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হন।’
জমি বা বাড়ির নিবন্ধনে নিজের নাম নিশ্চিত করা
অনেক সময় বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থে প্রবাসীর স্বজনরা নিজেদের নামে জমি বা বাড়ি রেজিস্ট্রি (নিবন্ধন) করে থাকেন। পরবর্তীতে দেশে ফিরে মালিকানা জটিলতায় পড়েন প্রবাসীরা। এক্ষেত্রে অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, জমি বা বাড়ির পুরো টাকা পরিশোধের আগে অবশ্যই সেটি তার নিজের নামে হচ্ছে কি-না, তা নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় যদি তিনি বাংলাদেশে থাকার সময়ই এ ধরনের সম্পত্তির হস্তান্তর নিশ্চিত করা যায়।
দেশে পাঠানো টাকার হিসাব রাখা
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে যে টাকা-পয়সা পাঠানো হয়, অভিবাসীদের উচিত সেই টাকা কোথায়, কীভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে, কীভাবে খরচ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে নিয়মিতভাবে খবর রাখা। প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেসব কাগজপত্রের ছবি দেখা এবং অনলাইনে যাচাই করে দেখা। ফলে একজন স্বজন চাইলেও প্রবাসী অর্থ আয়কারীকে কোনোরকম প্রতারণা করতে পারবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রবাসী বাংলাদেশি দন্ত চিকিৎসক ও গীতিকার ডা. মেসের আহমেদ মারা গেছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে নর্থশোর ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর।
ডা. মেসের আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রস্থ বাংলাদেশ ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছিলেন। চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি সংস্কৃতি চর্চাও করতেন তিনি। তার দেশের বাড়ি বরিশাল জেলার মেহেনদীগঞ্জ উপজেলার চানপুর গ্রামে। তিনি ঢাকা ডেন্টাল কলেজ থেকে ডিগ্রি লাভের পর রাশিয়ার থার্ড ডেন্টাল ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। সেখান থেকে আশির দশকের শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন।
যুক্তরাষ্ট্র ডিডিএস সম্পন্ন করে জ্যাকসন হাইটস ও ব্রঙ্কসে চিকিৎসা পেশা শুরু করেন। তিনি নিউ ইয়র্কের এস্টোরিয়া ও জ্যাকসন হাইটসের পর সর্বশেষ লং আইল্যান্ডে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে এবং দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন।
সাকসেসফুল পিপল্ ইন মালয়েশিয়া শীর্ষক বইয়ে বাংলাদেশি ড. নাজমুলের নাম স্থান পেয়েছে। পুরো নাম ড. মোহাম্মদ নাজমুল হাসান মাজিজ, তার পরিবার এবং বন্ধুদের কাছে ‘পিকু’ নামে পরিচিত তিনি।
যুক্তরাজ্যের ব্রিটিশপিডিয়া ২০১৯ ও ২০২০ সালে মালয়েশিয়ার অন্যতম সফল ব্যক্তি হিসেবে তাকে ভূষিত করে। তার জীবনী ‘সাকসেসফুল পিপল্ ইন মালয়েশিয়া’ শীর্ষক বইটিতে প্রকাশিত হয়েছে যেখানে মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডা. মাহাথির মোহাম্মদসহ মালয়েশিয়ার অন্যান্য সফল ব্যক্তিদের নামও স্থান পেয়েছে।
এই বইটির তালিকায় অন্যান্য সফল ব্যক্তিদের মধ্যে মালয়েশিয়ার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, অধ্যাপক, বিজ্ঞানী, শিল্পী, গভর্নর, বিশিষ্ট ব্যবসায়ীদের নাম রয়েছে।
সফল ব্যক্তি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার মানদণ্ড হিসেবে যেসব বিষয় দেখা হয়েছে- তাদের অসামান্য একাডেমিক এবং নন-একাডেমিক কৃতিত্ব, সমাজে তাদের অবদান, বিশ্বে অবদান ইত্যাদি বিষয়। ‘সাকসেসফুল পিপল্ ইন মালয়েশিয়া বইয়ের প্রথম সংস্করণটি ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয়েছিল এবং দ্বিতীয় সংস্করণটি ২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয়। ড. নাজমুলের জীবনী উভয় সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে।
যদিও বইটি কেবল মালয়েশিয়ার লোকদের জন্যই ছিল, তারপরও ড. নাজমুলের অসামান্য কীর্তি ও মালয়েশিয়ার সমাজ এবং বিশ্বজুড়ে তার অবদান ব্রিটিশপিডিয়াকে মুগ্ধ করেছে। তারা তার জীবনী সেই বইতে অন্তর্ভুক্ত করেছে। বিদেশের একজন সফল ব্যক্তি হিসেবে তিনি স্বীকৃত হওয়ায় এটি বাংলাদেশের জন্য গর্বের।
ড. নাজমুল একজন শিক্ষাবিদ ও চিকিৎসা বিজ্ঞানী। বর্তমানে তিনি পরিবারসহ মালয়েশিয়ায় বসবাস করছেন। তিনি কুয়ালালামপুরের পেরদানা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুল অফ মেডিসিনের ডেপুটি ডিন এবং সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে মেডিকেল মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড রিসার্চ ফেলো হিসেবে কাজ করছেন।
তিনি মাস্টার্স অফ মেডিকেল ইকুইপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামের প্রধান এবং এডুকেশন নীতি ও পাঠ্যক্রম কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মেডিকেল সায়েন্টিস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য। পেরদানা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের আগে তিনি মালয়েশিয়ার সরকারি ও বেসরকারি উভয় বিশ্ববিদ্যালয়েই কাজ করেছেন।
তিনি ডক্টর অফ মেডিসিন (এমডি), এমবিবিএস, ব্যাচেলর অফ ডেন্টাল সার্জারি (বিডিএস), ব্যাচেলর অব বায়োমেডিকাল সায়েন্সেস (বিবিএমএস), ব্যাচেলর অব অপ্টোমেট্রি, এমএসসি ইন পাবলিক হেলথ, এমএসসি মেডিকেল সায়েন্সেস এবং পিএইচডির মতো বিভিন্ন প্রোগ্রামের শিক্ষকতায় জড়িত ছিলেন। মালয়েশিয়ায় ২ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি চিকিৎসক (মেডিকেল ও ডেন্টাল) তৈরিতে তার অবদান রয়েছে। মালয়েশিয়ার এমবিবিএস, বিডিএস, বিবিএমএসসহ বিভিন্ন প্রোগ্রামের কারিকুলাম উন্নয়নে ও প্রোগ্রাম অনুমোদনে তার অবদান রয়েছে।
১৯৭৬ সালে তিনি বাংলাদেশের কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মৃত মো. মাজিজুল ইসলাম এবং মা শাহানারা বেগম পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে কুমিল্লার কালিয়াজুরীতে বসবাস করছেন।
তিনি ১৯৯১ সালে কুমিল্লা হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ১৯৯৩ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর বেঙ্গালুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাইক্রোবায়োলজিতে অনার্স, ভারতের মণিপালের কস্তুরবা মেডিকেল কলেজ থেকে মেডিকেল মাইক্রোবায়োলজিতে এমএসসি পাস করেন।
পরে উচ্চ শিক্ষার জন্য মালয়েশিয়া যান এবং ২৮ বছর বয়সে ইউনিভার্সিটি অফ মালয়েশিয়া থেকে মলিকুলার মেডিকেল মাইক্রোবায়োলজিতে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। পিএইচডি শেষে তিনি ২০০৫ সালে ইউনিভার্সিটি টেকনোলজি মারা-তে (ইউআইটিএম) মেডিকেল মাইক্রোবায়োলজির প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন।
তিনি তার মেধার কারণে খুব দ্রুত সিনিয়র প্রভাষক এবং পরে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছিলেন এবং তিনি তার বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বকনিষ্ঠ সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন।
তিনি ২০১৫ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সেগী ইউনিভার্সিটিতে যোগদান করেন। ২০১৮ সালে তিনি পেরদানা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন।
ড. নাজমুল দুই শতাধিক একাডেমিক ও নন-একাডেমিক সার্টিফিকেট পেয়েছেন। তিনি দুটি মাইক্রোবায়োলজি বইয়ের লেখক। যারা মলিকুলার বায়োলজি, মেডিকেল মাইক্রোবায়োলজি, ফার্মাকোলজি বা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে মাস্টার্স বা পিএইচডি করতে চান তাদের জন্য তার বইগুলো প্রয়োজন হয়।
ড. নাজমুল একজন অত্যন্ত সুপরিচিত চিকিৎসা বিজ্ঞানী। তার গবেষণা সাধারণত ইনফেকশাস ডিজিজ অ্যান্ড পাবলিক হেলথের ওপর। মলিকুলার টেকনিক, মলিকুলার কারাক্টারাইজেশন, প্লাজমিড এবং ক্রোমোজোমাল ডিএনএ এক্সট্রাকশন, ইলেক্ট্রোফোরসিস, জেল পিউরিফিকেশন, পিসিআর, হাইব্রিডাইজেশনসহ ইত্যাদি বিষয়ে তিনি পারদর্শী।
তিনি মালয়েশিয়ার সরকার থেকে এক কোটিরও বেশি টাকা (অর্ধ মিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত) গবেষণার জন্য অনুদান পেয়েছেন। তিনি অনেক অনার্স, মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের গবেষণা প্রকল্পের সুপারভাইজ করেছেন।
ড. নাজমুলের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালে ৮০টিরও বেশি গবেষণা আর্টিকেল প্রকাশিত হয়েছে। তিনি আমন্ত্রিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভারত প্রভৃতি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অনেক গবেষণা নিবন্ধ উপস্থাপন করেছেন। তিনি বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনার এবং ওয়ার্কশপ পরিচালনা করেছেন।
ভাইরোলজি ও ইমিউনোলজিতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার কারণে তিনি কোভিডের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে আর্টিকেল লিখেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন। মালয়েশিয়ার জাতীয় টিভি চ্যানেল তাকে নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি ফিল্ম প্রচার করে।
শৈশব থেকে ড. নাজমুল বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। তিনি উচ্চ ফিদে (ওয়ার্ল্ড দাবা ফেডারেশন) রেটিংসহ খুব ভাল দাবা খেলোয়াড়। তিনি বিভিন্ন জেলা, রাজ্য ও জাতীয় স্তরের দাবা প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ, ভারত ও মালয়েশিয়ার অনেক চ্যাম্পিয়নশিপ পুরস্কার জিতেছেন।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি ছাত্র থাকাকালীন কয়েক বছর ধরে ‘ওয়ার্ল্ড ইন্টার-ভার্সিটি দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ’-এর জন্য ইউনিভার্সিটি অফ মালায়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তিনি বাংলাদেশ, ভারত ও মালয়েশিয়ার ক্যারাম প্রতিযোগিতায় অনেক পুরস্কার জিতেছিলেন।
ড. নাজমুল বাংলাদেশের চিকিৎসা ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি বলেন, আমাদের মোটেই সাফল্যের পিছনে দৌড়ানো উচিত নয়। আমাদের কেবল মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা দরকার। আমরা যদি এগুলো অনুসরণ করি তবেই জীবনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাফল্য আসবে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় স্ত্রী ও সন্তান খুনের দায়ে সন্দেহভাজন বাংলাদেশি যুবককে ধরতে কমিউনিটির সহযোগিতা চেয়েছে স্থানীয় পুলিশ।
দেশটির লিম্পুপো প্রদেশের মোকুপান শহরে একটি আবাসিক হোটেলে স্ত্রী ও ৮ মাস বয়সী কন্যা সন্তানকে হত্যা করে পালিয়েছে দেশটি বসবাস করে আসা বাংলাদেশি নাগরিক মোহাম্মদ নাসির (২৯)।
পুলিশের সূত্র দিয়ে বাংলাদেশ কমিউনিটি দায়িত্বশীল শফিকুল ইসলাম জানান, গত ১৪ জানুয়ারি কোনো এক সময় মোহাম্মদ নাসির হোটেল কক্ষে স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে খুন করে পালিয়ে যান। দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ নাসিরকে আইনি হেফাজতে নিতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করে আসছে পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাস করা বাংলাদেশি কমিউনিটির কাছে মোহাম্মদ নাসিরের সন্ধান পেতে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দেশটিতে বসবাস করা কোনো বাংলাদেশি যদি মোহাম্মদ নাসিরের (বাবা সাহাব উদ্দীন মাতবর, তাল কান্দা, পীরের চর, থানা ভাঙ্গা, জেলা ফরিদপুর) তথ্য থাকে তাহলে অবশ্যই এই নাম্বারে (0748370243) যোগাযোগ করে সহযোগিতা করার জন্যে বাংলাদেশ কমিউনিটির পক্ষ হতে অনুরোধ করা হয়েছে।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নায়িকা সাদিকা পারভীন পপি। ১৯৯৭ সালে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘আমার ঘর আমার বেহেশত’ সিনেমায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে পা রাখেন। কিন্তু তার মু’ক্তিপ্রাপ্ত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কুলি’।
মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত সিনেমাটি ৭ কোটি টাকা ব্যবসা করেছিল। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। তারপর রিয়াজ, মান্না, শাকিব খানসহ জনপ্রিয় নায়কের সঙ্গে জুটি বেঁ’ধে অভিনয় করেছেন তিনি।
অভিনয়ে নিয়মিত না হলেও চলচ্চিত্রের বিভিন্ন কর্মকা’ণ্ডে সক্রিয় ছিলেন পপি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধ’রে তাকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না। ফেসবুকেও নেই তার আপডেট।
এছাড়া তার মুঠোফোনটিও ব’ন্ধ রয়েছে। হঠাৎ অন্তরালে চলে যাওয়ায় চলচ্চিত্র পাড়ায় গুঞ্জন উড়ছে-বিয়ে করেছেন পপি। যদিও এই গুঞ্জনের কোনো স’ত্যতা এখনো পাওয়া যায়নি।
মুঠোফোন ব’ন্ধ পেয়ে এই প্রতিবেদক যোগাযোগ করেন পপির ঘনিষ্ঠ একজনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ক’রোনামু’ক্ত হওয়ার পর খুলনা থেকে ঢাকায় আসেন পপি। তা-ও অনেক দিন আগের কথা।
তখন পপি বলেছিল, ‘নতুন বাসা নিয়েছি।’ কিন্তু বিয়ে বা অন্য কোনো বিষয়ে কিছু বলেননি। নাম প্র’কাশ না করার শর্তে ফিল্মপাড়ার একজন জানান, বিয়ে হয়েছে কি-না জানি না। তবে পপি তার প্রবাসী ব্যবসায়ী বয়ফ্রেন্ডের দেয়া ফ্ল্যাটে থাকছেন।
এদিকে শোবিজ অঙ্গনের অনেকেই জানিয়েছেন—গত বছর পপি বেশ জোরালোভাবে বলেছিলেন খুব শিগগির বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন তিনি।
এ-ও বলেছিলেন, বিয়ের জন্য পাত্র খোঁ’জা হচ্ছে। সৎ ও যোগ্য পাত্র পেলে এ বছরই বিয়ে করব। ‘জান খেয়েছো! জান ঘুমিয়েছো!’-এসব লিখে একই এসএমএস দশজন মেয়েকে যে ছেলে পাঠায়, অন্তত এমন ছেলেকে বিয়ে করতে চাই না।
সৎ ও বি’শ্বাসযোগ্য ছেলে পাওয়া খুব কঠিন। বিশ্বাসযো’গ্য ছেলে না পেলে আগামী বিশ বছরেও বিয়ে করব না। সাদেকসিদ্দিকী পরিচালিত ‘সাহসী যো’দ্ধা’ সিনেমার শু’টিং শে’ষ করেছেন পপি। এছাড়া ‘ভালোবাসার প্রজাপতি’ সিনেমার কাজও শে’ষ করেছেন ৪২ বছর বয়েসি এই অভিনেত্রী। সূত্রঃ সময়নিউজ
ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সৌদি প্রবাসীর সাথে বিয়ের নাটক সাজিয়ে ২৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অ’ভিযোগে জয়পুরহাটে পাঁচবিবিতে কনে ও তার বাবা-মাকে আটক করেছে পু’লিশ।
সোমবার গভীর রাতে পাঁচবিবি উপজে’লার মালঞ্চা গ্রাম থেকে ওই ৩ জনকে পু’লিশ আ’টক করে। আ’টককৃতরা হলেন- জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজে’লার মালঞ্চা গ্রামের অবসর প্রাপ্ত পু’লিশ সদস্য ইমদাদুল হক (৫৭), তার স্ত্রী রুবিনা বেগম ও তাদের মেয়ে কথিত বিয়ের কনে শবনম মুস্তারী এমি।
ঘ’টনার বিবরণে ও পু’লিশ সুত্রে জানা যায়, এমি’র সাথে ফেসবুকে পরিচয় হয় ল’ক্ষীপুরের রা’য়পুর উপজে’লার দক্ষিন চর মোহনা গ্রামের কাজী আয়াতুল্লার ছেলে সৌদি প্রবাসী যুবক কাজী হারুন সাগরের।
এক পর্যায়ে তাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে মোবাইলের ভিডিও কনফারেন্সের এর মাধ্যমে বিয়ের নাটক সাজিয়ে দীর্ঘ ৪ বছরে সৌদি আরব থেকে ওয়েষ্টার্ন ইউনিয়ন ও বিকাশের মাধ্যমে ওই সৌদি প্রবাসী যুবকের কাছ থেকে ২৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় এমি ও তার মা-বাবা।
গত ১৫ ডিসিম্বর দেশে ফিরে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজে’লার মালঞ্চা গ্রামে কথিত শ্বশুর বাড়ি আসলে এমি ও তার
মা-বাবা ওই বিয়ের কথা অ’স্বীকার করলে প্রমানাদিসহ পাঁচবিবি থা’নায় মা’মলা দা’য়ের করেন ওই প্রবাসী যুবক।
প্রাথমিক ত’দন্তে অ’ভিযোগ প্র’মানিত হওয়ায় পু’লিশ বাবা, মা ও মেয়েকে তাদের নিজ বাড়ি থেকে গ্রে’ফতার করে। এ ঘ’টনায় এলাকায় তোলপাড় চলছে।
পাঁচবিবি থা’নার অফিসার ইনচার্জ ফরিদ হোসেন করে জানান, ঘ’টনার স’ত্যতা স্বী’কার পাওয়ায় আ’টককৃতদের বি’রুদ্ধে থা’নায় মা’মলা হয়েছে এবং তাদেরকে কো’র্টে প্রেরণ করা হয়েছে।
স্থানীয় মিডিয়া জানিয়েছে, কুয়েত এক সপ্তাহে ১৭৭৪ প্রবাসীর ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করেছে।
জনশক্তি পাবলিক কর্তৃপক্ষের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে তাদের মধ্যে ১০৮৬ জনের অনুমতিপত্র স্থায়ীভাবে দেশ থেকে চলে গেছে ও তাদের বাতিল করা হয়েছে।
মৃ;ত্যু’র কারণে আরও ১২৭ জন এবং কুয়েতের বাইরে থাকার কারণে ৫৬১ জনের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে এজেন্সি, ১২ জানুয়ারি লেনদেন প্রক্রিয়াজাত করার জন্য একটি ইলেক্ট্রিক সিস্টেম চালু করার পর থেকে ১০৪৬১ প্রবাসীর কাজের অনুমতি নবায়ন করেছে।সংস্থাটি নিয়োগকারীদের তাদের আবেদনগুলি ইলেকট্রনিক পোর্টাল আশাল (সহজ) এর মাধ্যমে প্রেরণের আহ্বান জানিয়েছে।
সরকারী পরিসংখ্যান অনুসারে এটি মোট ২৫৫৬৫টি পরিচালনা করেছে।কুয়েতের ৪.৮ মিলিয়নেরও বেশি জনসংখ্যার প্রায় ৩.৪ মিলিয়ন বিদেশী লোক।বিশ্বব্যাপি করোনভাইরাস মহামারীর মধ্যে কুয়েত সম্প্রতি শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণে নতুন পদক্ষেপ স্থাপন করেছে।
তেমনি উপসাগরীয় রাজ্যের বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রীয় সংস্থা দেশটিতে জনসংখ্যার ভারসাম্য রোধের চেষ্টার অংশ হিসাবে কুয়েতিদের কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিদেশিদের নিয়োগের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।
ফলে এখন থেকে প্রবাসীদের সংখ্যা কমিয়ে নিজ দেশের লোকদের নিয়োগের প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে।আস্তে আস্তে বিভিন্ন খাতে প্রবাসীদের অনুৎসাহিত করা হবে।
এদিকে আল-কাবাস প্রতিদিন জানিয়েছে, প্রবাসী শ্রমিকের সংখ্যা হ্রাস করার রাষ্ট্রের প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হয়েছে এবং জনসংখ্যার কাঠামোর সাম্প্রতিক পরিবর্তনগুলি বিবেচনায় নিয়েছে।
২০২০ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে স্থানীয় শ্রমবাজারে দৈনিক একটি প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি পেয়েছে, তাতে বলা হয়েছে যে, সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর ২০২০ পর্যন্ত ৮৩৫৭৪ জন প্রবাসী স্থায়ীভাবে দেশ ত্যাগ করেছেন; এভাবে প্রবাসী শ্রমিকের সংখ্যা হ্রাস পেয়ে পঁচিশ মিলিয়ন হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার কাতার পুলিশ জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় কাতারের বিভিন্ন জায়গায় মাস্ক না পরে ঘরের বাইরে বের হওয়ায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন ১৪০ জন।পুলিশের দাবি, এঁরা মাস্ক ছাড়া ঘরের বাইরে বের হয়েছিলেন, যা করোনাভাইরাসের এই পরিস্থিতিতে কাতারের আইনে দন্ডনীয় অপরাধ।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে এখন কাতারের ১৯৯০ সালের ১৭ নং আইন অনুসারে আটকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এঁদের প্রত্যেককে কমপক্ষে দু হাজার রিয়াল করে জরিমানা করা হতে পারে।
এই নিয়ে এখন পর্যন্ত কাতারে ৬,৩৮১ জনকে মাস্ক না পরার দায়ে আটক করলো পুলিশ।তবে এক গাড়িতে চার জনের বেশি থাকার উপর যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেটি অমান্য করার প্রবণতা কমেছে। ফলে গত কয়েকদিন ধরে এই অপরাধে কেউ আটক হননি। এর আগে কয়েক সপ্তাহে এই অপরাধে আটক হয়েছিলেন মোট ২৭৭ জন।
কাতার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের পক্ষ থেকে সবার প্রতি আহবান জানিয়ে বলা হয়েছে, বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই গাড়িতে যেন চালকসহ ৪ জনের বেশি না থাকেন।তবে পরিবারের সদস্য হলে চারজনের বেশি এক গাড়িতে থাকা যাবে।