কুয়েতে মারাত্মক শৈত্যপ্রবাহ, তাপমাত্রা নামবে শূন্য ডিগ্রিতে।
তেল সমৃদ্ধ দেশ কুয়েত দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায় পারস্য উপসাগরের তীরে অবস্থিত। দেশটি ইরাক এবং সৌদি আরবের মাঝখানে অবস্থিত। মরু অঞ্চলের এই দেশটিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার যেমন রেকর্ড রয়েছে তেমনি শীতকালে শৈত্যপ্রবাহ পড়ার ঘটনাও রয়েছে।
কুয়েতে আজ বুধবার সন্ধ্যা থেকে তাপমাত্রা কমতে থাকবে। তাপমাত্রা এতটাই কমবে যে মরু অঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও সেখানে শূন্য ডিগ্রি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
দেশটির আল কাবাস এর এক খবরে বলা হয়, আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ কারাম জানিয়েছেন যে, শৈত্যপ্রবাহ বুধবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হলেও তা স্থায়ীত্ব হবে শনিবার পর্যন্ত। এরপর তাপমাত্রা আস্তে আস্তে বেড়ে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাবে বলেও জানান তিনি।
নিখোঁজের ৭ দিন পর সন্ধান পাওয়া গেছে মালয়েশিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থী সাদমান সাকিফের। সাদমান সাকিফকে ফেনী থেকে উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিষয়টি সময়নিউজকে নিশ্চিত করেছেন সাদমানের মা।
বুধবার (২০ জানুয়ারি) সাদমানের মা মনোয়ারা হোসেন জানান, সাদমানের জন্ম ও বেড়ে ওঠা সৌদি আরবে। তিন বছর আগে মালয়েশিয়ার এপিইউতে ভর্তি হয়। এক বছর আগে ঢাকায় আসে।মনোয়ারা হোসেন আরো বলেন, সাদমান বাইরে গেলেও ৩০ মিনিটের বেশি থাকেনি। বাংলাদেশে তার কোনো বন্ধু নেই কারণ আমার ছেলে যেহেতু বিদেশ ছিল তাই। অল্প কিছু দিন হল দেশে এসেছে তাই তেমন কিছু চেনাজানাও নেই তার।
এর আগে সকালে পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্তে সাদমানের জঙ্গিবাদে জড়ানোর বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাকে খুঁজে বের করতে বিশেষ দল গঠন করা হয়, পাশাপাশি কাজ করেছে গোয়েন্দা সংস্থাও।গুলশান বিভাগের উপকমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী জানান, এ ছেলেটি মালয়েশিয়ায় পড়াশোনা করত, ঢাকাতেও পড়ত; তার লেখাপড়াতে গ্যাপ ছিল। মূলত একাকী জীবনযাপনে সে অভ্যস্ত ছিল।তিন ভাইবোনের মধ্য সাদমান দ্বিতীয়। ছোটবেলা থেকেই শান্ত স্বভাবের বলে জানান স্বজনরা।১৩ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরার বাসা থেকে বের হন সাদমান সাকিফ। ওই সময় তার হাতে ল্যাপটপ আর ব্যাগ ছিল।
সিরিজের ১ম ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৬ উইকেটে হারিয়ে ৩ ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।
শুরুতে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১২২ রানে গুটিয়ে যায় সফররতরা। জবাব দিতে নেমে লক্ষ্যে পৌঁছাতে স্বাগতিকদেরকে হারাতে হয় ৪ উইকেট। মিরপুরের শের-এ বাংলা স্টেডিয়ামে টস জিতে উইন্ডিজকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানান টাইগার অধিনায়ক তামিম ইকবাল। ম্যাচে ৭ জন ক্রিকেটারের অভিষেক হয়। এরমধ্যে ৬ ক্যারিবীয় ক্রিকেটারের পাশাপাশি টাইগারদের পক্ষে অভিষেক হয় তরুণ পেসার হাসান মাহমুদের।
শুরুতে ব্যাট করতে নেমে স্বাগতিক বোলারদের তোপের মুখে পড়ে ক্যারিবীয় ব্যাটিং লাইন আপ। মাত্র ৯ রানে নিজেদের ১ম উইকেট হারায় তারা। নিজের ১ম ওভারে বোলিং করতে এসেই ব্রেকথ্রু দেন মুস্তাফিজুর রহমান। তুলে নেন অ্যামব্রিসের উইকেট। আরেক ওপেনার জশুয়া ডি সিলভাকেও ফেরান মুস্তাফিজ। উইন্ডিজদের রান তখন মাত্র ২৪। এরপর শুরু হয় সাকিব আল হাসান ঝড়। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরার পর ১ম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাঠে নামেন টাইগার অলরাউন্ডার। তার স্পিন ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত হতে থাকে ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানরা। আন্দ্রে ম্যাককার্থিকে বোল্ড করার মাধ্যমে শুরু। এরপর একে একে ফেরান জেসন মোহাম্মদ, বোনার ও আলজারি জোসেফকে। সাকিব আল হাসানের সঙ্গে আক্রমণে যোগ দেন অভিষিক্ত হাসান মাহমুদও। একপ্রান্তে হাসানের পেস ও অন্যপ্রান্তে সাকিবের স্পিনবিষে নীল উইন্ডিজরা, নিয়মিত বিরতিতে হারাতে থাকে উইকেট। ফলে মাত্র ৩২.২ ওভারে তারা গুটিয়ে যায় ১২২ রানে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন মায়ার্স। এছাড়া রভমেন পাওয়েল করেন ২৮ রান। ৭.২ ওভার বোলিং করে মাত্র ৮ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট তুলে নেন সাকিব। ২৮ রানে ৩ উইকেট নেন হাসান মাহমুদ। আর মুস্তাফিজের শিকার ২ উইকেট। জবাব দিতে নেমে ধীরস্থির সূচনা এনে দেন দুই টাইগার ওপেনার লিটন দাস ও তামিম ইকবাল। তাদের জুটিতে আসে ৪৭ রান। উইন্ডিজ স্পিনার হোসেইনের বলে বিভ্রান্ত হয়ে লিটন আউট হন ১৪ রান করে। বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ৩-এ নামা নাজমুল হোসেন শান্তও। মাত্র ১ রান করে তিনিও শিকার হন হোসেইনের। অধিনায়ক তামিমের সঙ্গী সাকিব আল হাসান। ধীরেসুস্থে ব্যাট চালাতে থাকেন দু’জন। তবে ফিফটির আশা জাগিয়েও ব্যর্থ হন তামিম। টাইগারদের ওয়ানডে অধিনায়কের সংগ্রহ ৪৪ রান। এরপর দলীয় ১০৫ রানে আউট হয়ে যান সাকিব আল হাসানও। তার সংগ্রহ ১৯ রান। ৪ উইকেট খোয়ানোর পরও দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে ঝামেলা পোহাতে হয়নি দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। মুশি অপরাজিত থাকেন ১৯ রানে। রিয়াদের সংগ্রহ ৯ রান। সহজ জয়ে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল টাইগাররা।
মহামারি করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ৮ মাসের মধ্যে আজই সর্বনিম্ন মৃত্যু হলো। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৭ হাজার ৯৫০ জনে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬৫৬ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। এ নিয়ে দেশে মোট করোনা রোগী শনাক্ত হলো ৫ লাখ ২৯ হাজার ৬৮৭ জন।
বুধবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে করোনাভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।সংস্থার অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এদিন সুস্থ হয়েছেন ৬১৭ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৪৭২ জন।
এর আগে মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) দেশে আরও ৭০২ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। এছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে মারা যান আরও ২০ জন।এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, বুধবার সকাল পর্যন্ত বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন নয় কোটি ৬৬ লাখ ২২ হাজার ৬৩২ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২০ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৪ জনের। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬ কোটি ৯২ লাখ ৭০ হাজার ৯২২ জন।করোনায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। তালিকায় শীর্ষে থাকা দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন দুই কোটি ৪৮ লাখ ৬ হাজার ৯৬৪ জন। মৃত্যু হয়েছে চার লাখ ১১ হাজার ৪৮৬ জনের। আক্রান্তে দ্বিতীয় ও মৃত্যুতে তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে এখন পর্যন্ত সংক্রমিত হয়েছেন এক কোটি ৫ লাখ ৯৬ হাজার ৪৪২ জন এবং মারা গেছেন এক লাখ ৫২ হাজার ৭৫৪ জন আক্রান্তে তৃতীয় এবং মৃত্যুতে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে এখন পর্যন্ত করোনায় ৮৫ লাখ ৭৫ হাজার ৭৪২ জন সংক্রমিত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে দুই লাখ ১১ হাজার ৫১১ জনের।আক্রান্তের দিক থেকে রাশিয়া চতুর্থ স্থানে রয়েছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩৬ লাখ ১২ হাজার ৮০০ জন। ভাইরাসটিতে মারা গেছে ৬৬ হাজার ৬২৩ জন। পঞ্চম স্থানে থাকা যুক্তরাজ্যে এখন পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ৩৪ লাখ ৬৬ হাজার ৮৪৯ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ৯১ হাজার ৪৭০ জন।এদিকে আক্রান্তের তালিকায় ফ্রান্স ষষ্ঠ, তুরস্ক সপ্তম, ইতালি অষ্টম, স্পেন নবম এবং জার্মানি দশম স্থানে আছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের অবস্থান ২৭তম।গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২১৮টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে কোভিড-১৯। ২০ জানুয়ারি (বুধবার)-এর,আপডেট
ইউরোপে অ’বৈ’ধভাবে প্রবেশ করায় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে মাল্টা থেকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে ৪৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে।মাল্টায় স্থানীয় সময় ১২ জুন রাতে বিশেষ চাটার্ড ফ্লাইটে করে তাদের ফেরত পাঠানো হয়। সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের ফেরত পাঠানোর কথা জানিয়েছে মাল্টা কর্তৃপক্ষ।প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই ৪৪ জন বাংলাদেশি বিভিন্ন সময়ে অ’বৈ’ধ উপায়ে সমুদ্রপথে মাল্টায় প্রবেশ করেছেন। এর আগে লিবিয়া হয়ে মানবপাচারকারীদের সহযোগিতায় তারা সমুদ্রপথে মাল্টায় পাড়ি জমান।
দেশে ফেরত যাওয়া একজন জানান, তাদের সঙ্গে অনেক খা’রা’প আচরণ করা হয়েছে। গভীর রাতে তাদের ঘুম থেকে জাগ্রত করে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে চার্টার্ড ফ্লাইটে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বাংলাদেশে। অনেকের দাবি, তাদের জো’রপূর্বক ফেরত পাঠানো হয়েছে।মাল্টায় বাংলাদেশের স্থায়ী দূতাবাস নেই, তবে বাংলাদেশ দূতাবাস এথেন্স, গ্রিস ও মাল্টায় বাংলাদেশিদের কনস্যুলার সেবা এবং দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক বিভিন্ন বিষয় দেখে থাকেন। ৪৪ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০১৭ সালের ইউরোপীয় ইউনিয়ন আর বাংলাদেশ সরকারের মাঝে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া শেষে ৪৪ জন বাংলাদেশিকে দেশে পাঠানো হয়েছে।
অ’বৈ’ধ অ’ভিবাসীদের ফেরত নিতে ২০১৬ সালে ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল ক্রিশ্চিয়ানলেফরারের নেতৃত্বে প্রতিনিধিরা সে সময় বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কা’মালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইইউ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওই সময় সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিনিধি দল আমাকে জানিয়েছে যে, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে মোট আড়াই লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন।উল্লেখ্য, আইনি প্রক্রিয়া শেষে বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ এশীয় বিভিন্ন দেশের অ’ভিবাসীদের তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। তাই এটা শুধু বাংলাদেশি অ’ভিবাসীদের ব্যাপারে একান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নয়।
কাতারে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বেঁধে দেওয়া কিছু স্বাস্থ্যবিধির উপরে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে কাতার পুলিশ।
কাতারে প্রতিদিনই বিভিন্ন জায়গায় অভিযান অব্যাহত রেখেছে কাতার পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার কাতার পুলিশ জানায় গত ২৪ ঘণ্টায় কাতারের বিভিন্ন জায়গায় মাস্ক না পড়ে ঘর থেকে বাইরে বের হওয়ার অপরাধে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন ১৪০ জন।
মাস্ক ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়া করোনাভাইরাস এর পরিস্থিতিতে কাতারের আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। এই অপরাধে সবাইকে আর্থিক জরিমানা ও জেল হতে পারে।
এ পর্যন্ত মাস্ক না পরার অপরাধে কাতারের ৬৩৮১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এবং গাড়িতে ৪ জনের বেশি ওঠার অপরাধে ২৭৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
দেশে আটকেপড়া বাহরাইন প্রবাসীদের ফিরিয়ে নিতে বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
করোনার কারণে আটকেপড়া বাহরাইন প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেদেশে ফিরিয়ে নিতে বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল লতিফ বিন রশিদ আল জায়ানিকে অনুরোধ করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন। গতকাল মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে টেলিফোনে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ অনুরোধ করেন। সাধারণ ক্ষমার আওতায় আনুমানিক ৩০ হাজার অনিয়মিত প্রবাসী বাংলাদেশির ভিসা নিয়মিত করায় ধন্যবাদ দেয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য সাধারণ ক্ষমার মেয়াদ বৃদ্ধির অনুরোধ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।
২০১২ সালের বিধিমালা বাতিল করে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ বিধিমালায় ‘যাত্রী’ বলতে বিদেশ থেকে আসা কোনো যাত্রীকে বোঝানো হয়েছে। সবার সুবিধার্থে নতুন বিধিমালাটি তুলে ধরা হলো-
১. কোনো যাত্রী কর্তৃক আমদানিকৃত যুক্তিসংগত পরিমাণের খাদ্যদ্রব্য, পরিধেয়, গৃহস্থালি বা অন্যবিধ ব্যক্তিগত সামগ্রী, যার প্রতিটি আইটেমের ওজন ১৫ কেজির বেশি হবে না। ২. আকাশ এবং জলপথে আসা ১২ বছর বা তার বেশি বয়সের যাত্রীর সঙ্গে আনা হাতব্যাগ, কেবিনব্যাগ বা অন্য উপায়ে আনা মোট ৬৫ কেজি ওজনের অতিরিক্ত নয়, এমন ব্যাগেজ সব ধরনের শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়া খালাসযোগ্য হবে। ৩. ব্যাগেজের অতিরিক্ত অনূর্ধ্ব ৩৫ কেজি ওজনের আনা পরিধেয় বস্ত্র, ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী, বই, সাময়িকী এবং পড়াশোনার সামগ্রী সব ধরনের শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়া খালাসযোগ্য হবে। ৪. ১২ বছরের কম বয়সের যাত্রীর ক্ষেত্রে অনধিক ৪০ (চল্লিশ) কেজি ওজনের একটি কার্টন, ব্যাগ বা বস্তায় আনা ব্যক্তিগত ব্যাগেজ সব ধরনের শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়া খালাসযোগ্য হবে। তবে এ সুবিধা ছাড়া অন্য কোনো সুবিধা ১২ বছরের কম বয়সের যাত্রীর ক্ষেত্রে হবে না। ৫. ওই ব্যাগেজ খালাসের সময় ঘোষণাপত্রের একটি অনুলিপি সংশ্লিষ্ট কাস্টমস কর্মকর্তার কাছে দাখিল করতে হবে। ৬. একজন যাত্রী দুইটি মোবাইল ফোন সব ধরনের শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়া এবং উল্লিখিত পণ্যের প্রত্যেকটির একটি করে তফসিলে উল্লিখিত শুল্ক ও কর পরিশোধ সাপেক্ষে আমদানি করতে পারবেন। ৭. একজন বিদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রী ১ লিটার পর্যন্ত মদ বা মদ্য জাতীয় পানীয় যেমন স্পিরিট, বিয়ার, ইত্যাদি সব ধরনের শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়া আমদানি করতে পারবেন। ৮. কোনো যাত্রী তফসিল-২ এবং তফসিল-৩ এ উল্লিখিত পণ্য বিদেশ থেকে সঙ্গে না নিয়ে এলে তফসিল-৪ এ বিধৃত ফরমে উল্লেখক্রমে তা বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সিটি সেলস সেন্টার থেকে যাত্রী আসার ৭ কার্যদিবসের মধ্যে ক্রয় করতে পারবেন।
৯. একজন যাত্রী তার পেশাগত কাজে ব্যবহার্য এবং সহজে বহনযোগ্য যন্ত্রপাতি সব ধরনের শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়া আমদানি করতে পারবেন। ১০. একজন যাত্রী অনধিক ১০০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণালংকার বা ২০০ গ্রাম ওজনের রৌপ্যের অলংকার (এক ধরনের অলংকার ১২টির বেশি হবে না) সব ধরনের শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়া আমদানি করতে পারবেন। ১১. একজন যাত্রী বিদেশ থেকে দেশে আসার সময় অনধিক ২৩৪ গ্রাম (২০ তোলা) ওজনের স্বর্ণবার বা স্বর্ণপিণ্ড অথবা ২৩৪ গ্রাম (২০ তোলা) ওজনের রৌপ্যবার বা রৌপ্যপিণ্ড সব ধরনের শুল্ক ও কর পরিশোধ সাপেক্ষে আমদানি করতে পারবেন।
স্থলপথের যাত্রী
বিদেশে অবস্থানের মেয়াদ নির্বিশেষে স্থলপথে আসা একজন যাত্রী সর্বোচ্চ ৪০০ মার্কিন ডলার মূল্যের ব্যাগেজ সব ধরনের শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়া আমদানি করতে পারবেন।
অসুস্থ, পঙ্গু ও বৃদ্ধ যাত্রী
আকাশপথ, জলপথ বা স্থলপথে আগত একজন অসুস্থ, পঙ্গু অথবা বৃদ্ধ যাত্রীর ব্যবহার্য চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও হুইল চেয়ার সব ধরনের শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়া খালাস করা যাবে।
ক্রু, নাবিক এবং অন্যান্য
১. পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে বিদেশ থেকে আগত বাংলাদেশি এয়ারলাইন্সে কর্তব্যরত কোনো বাংলাদেশি ক্রু বা কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশের কোনো বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনাকারী কোন বিদেশি এয়ারলাইন্সে কর্তব্যরত কোন বাংলাদেশি ক্রু বা কর্মকর্তা সর্বোচ্চ ৩০০ মার্কিন ডলার মূল্যের ব্যাগেজ সব ধরনের শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়া আমদানি করতে পারবেন। ২. বিদেশি সমুদ্রবন্দর থেকে আগমনকারী কোনো জাহাজের বাংলাদেশি নাবিক বা কর্মকর্তা সর্বোচ্চ ৩০০ মার্কিন ডলার মূল্যের ব্যাগেজ সব ধরনের শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়া আমদানি করতে পারবেন। ৩. উপ-বিধি (২) এ উল্লিখিত নাবিক বা কর্মকর্তা সাইন অব করলে তিনি অনূর্ধ্ব ২ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যের ব্যাগেজ আরোপযোগ্য সব ধরনের শুল্ক ও কর পরিশোধক্রমে আমদানি করতে পারবেন। ৪. বিদেশ থেকে আসা যাত্রীবাহী বাসের চালক ও স্টুয়ার্ডগণ (হেলপার বা অ্যাসিস্টেন্ট) পরিধেয় বস্ত্র, বিছানা (বেডিং) ও রন্ধনকৃত খাদ্য সামগ্রী এবং সর্বোচ্চ ৫০ মার্কিন ডলার মূল্যের ব্যক্তিগত ও গৃহস্থালি পণ্য সব ধরনের শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়া আমদানি করতে পারবেন।
গ্রীন এবং রেড চ্যানেল ব্যবহার
১. কোনো যাত্রী শুল্ক ও কর আরোপযোগ্য পণ্য বহন না করলে তিনি বিমানবন্দরের গ্রীন চ্যানেল (যদি থাকে) ব্যবহার করতে পারবেন। ২. গ্রীন চ্যানেল অতিক্রমকারী সর্বোচ্চ ৫% যাত্রীর ব্যাগেজ দৈবচয়নের ভিত্তিতে কাস্টমস কর্মকর্তা কর্তৃক স্ক্যানিং ও পরীক্ষা করা যাবে। ৩. উপ-বিধি (১) ও (২) এ যা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো কাস্টমস কর্মকর্তা, যুক্তিসঙ্গত সন্দেহবশত গ্রীন চ্যানেল অতিক্রমকারী যে কোনো যাত্রীর ব্যাগেজ স্ক্যানিং ও পরীক্ষা করতে পারবেন।
কাস্টমস ঘোষণাপত্রের বিধান
১. বিদেশ থেকে আগত সব যাত্রীকে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে তফসিল-১ এ বর্ণিত ফরম পূরণ করে ব্যাগেজ ঘোষণা দিতে হবে। ২. যাত্রীর সঙ্গে আনা হয়নি এমন ব্যাগেজের ক্ষেত্রে কাস্টমস হল বা কাস্টমস এলাকা ত্যাগ করার আগেই যাত্রী কর্তৃক কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে তফসিল-১ এ বর্ণিত ফরম পূরণ করে ব্যাগেজ ঘোষণা দিতে হবে। ৩. ভুলবশত অথবা অন্য কোনো অনিবার্য কারণে উপ-বিধি (১) ও উপ-বিধি (২) এর বিধান অনুযায়ী কোনো যাত্রী কর্তৃক ঘোষণা প্রদান করা সম্ভব না হলে আগমনের ৭ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট অ্যাসিস্টেন্ট কমিশনার অব কাস্টমসের নিচে নন এমন কাস্টমস কর্মকর্তার কাছে তফসিল-১ এ বর্ণিত ফরম পূরণ করে তিনি ব্যাগেজ ঘোষণা দিতে পারবেন। ৪. একজন যাত্রী ১ পঞ্জিকা বছরে মাত্র ১ বার আনঅ্যাকোম্পানিড ব্যাগেজ আনতে পারবেন।
মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে
এ বিধিমালায় যা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো বাংলাদেশি নাগরিক বিদেশে মারা গেলে তার ব্যাগেজ সব ধরনের শুল্ক ও কর প্রদান থেকে অব্যাহতি পাবে।
বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে
এ বিধিমালার অন্যান্য বিধানে যা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো যাত্রী তফসিল-২ এবং তফসিল-৩ এ উল্লেখিত পণ্যের অতিরিক্ত বা ভিন্ন কোনো পণ্য (আমদানি নীতি আদেশ বা অন্য কোনো আইনের আওতায় নিয়ন্ত্রিত বা নিষিদ্ধ পণ্য ব্যতীত) আমদানি করলে প্রধান আমদানি ও রফতানি নিয়ন্ত্রকের ছাড়পত্র উপস্থাপন সাপেক্ষে, ন্যায়-নির্ণয়নপূর্বক প্রদেয় সমুদয় শুল্ক-কর, অর্থদণ্ড ও জরিমানা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, পরিশোধ সাপেক্ষে খালাস করতে পারবেন।
পশ্চিম এশিয়ার দেশ কুয়েত। আয়তন ১৭ হাজার ৮২০ বর্গকিলোমিটার। সৌদি ও ইরাক বর্ডার ঘেঁষে অফরা, আবদালি ও জাহারা অঞ্চলজুড়ে বিশাল বিস্তৃত মরু অঞ্চল। মধ্যপ্রাচ্যের তেল সমৃদ্ধ অন্যতম ধনী কুয়েত।
সবুজ শাক-সবজি ও ফলমূলের ব্যাপক চাহিদা থাকায় বাইরের দেশ থেকে আমদানি করতে হয় তাদের। প্রত্যেক বাজেটে কৃষিখাতে উৎপাদন ও উন্নয়নের জন্য অগ্রাধিকার দেয়া হয়। অসংখ্য বাাংলাদেশি দেশটির অফরা, আবদালি ও জাহারা অঞ্চলে কৃষিকাজে কর্মরত।
বাংলাদেশিদের হাতের ছোঁয়ার কুয়েতের মরু অঞ্চল আজ সবুজের সমারোহ। বাংলাদেশিরা ধৈর্য্য, মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে দেশি-বিদেশি নানা জাতের শাক-সবজি ও ফলমূল ফলায় এখান থেকে উৎপাদিত ফসল কুয়েত সেন্ট্রাল সবজি মার্কেটে ও সুপারশপগুলোতে বিক্রি করা হয়।
অনেক বাংলাদেশি স্থানীয় কুয়েতিদের থেকে মাজরাগুলো ইজারা নিয়ে শ্রমিক দিয়ে কাজ করান। তেমনি একজন চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার রহিম উদ্দিন ভুঁইয়া। তিনি মালিক থেকে প্রতিমাসে ৭শ কুয়েতি দিনারে মাজারা ভাড়া নিয়ে নিয়ে নিজে শ্রমিক দিয়ে তার বাগানে বিভিন্ন জাতের শাক-সবজি চাষাবাদ করেন।
তার মাজারায় বর্তমানে দৈনিক ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করে যাদের সবাই বাংলাদেশি। রহিম উদ্দিন ভুঁইয়া আরও বলেন, ‘ভিসা বন্ধ হওয়াতে লোকবলের অভাবে অনেক জায়গা অনাবাদি পড়ে রয়েছে। কৃষি কাজে যারা কাজ করে তাদের মধ্যে বেশিরভাগ বাংলাদেশি।’
‘এই দেশে কৃষিতে অন্যদেশের চেয়ে বাংলাদেশি শ্রমিকের কাজের দক্ষতা ও সুনাম রয়েছে। বাংলাদেশিরা যেভাবে মেধা ও পরিশ্রম করে মরুর বুকে নানা জাতের শাক-সবজি ফলমূল ফলায় তাতে মাজারার মালিক ও স্থানীয়রা সন্তুষ্ট। বাংলাদেশ সরকার উদ্যোগ নিলে এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে কূটনৈতিক চেষ্টার মাধ্যমে কৃষি খাতে কম খরচে সরকারিভাবে দেশটিতে শ্রমিক পাঠাতে পারে। তাহলে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পাবে। যা বর্তমান দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ও ভূমিকা রাখবে।’
মাজারায় কৃষি কাজে জড়িত এক বাংলাদেশি শ্রমিক মোহাম্মদ নাসির বলেন, ‘আমরা এখানে টমেটো, বেগুন, বটবটি, লাল শাক, ধনিয়া, মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, পুদিনা পাতা, কলমি শাক কুমড়াসহ নানা জাতের দেশি বিদেশি শাক ও সবজি ফলের চাষাবাদ করি।’
তিনি বলেন, ‘দৈনিক হিসেবে কাজ করলে তাদের ৮ দিনার থেকে ১০ দিনার হাজিরা। আমরা যারা কোম্পারি ভিসার লোক তাদের বেতন শুরু ৮০ দিনার থেকে ১৫০ দিনার পর্যন্ত। থাকা খাওয়া মালিক বহন করে। সব কিছু মিলিয়ে কোনো রকমের চলে যায় সংসার।’
শীতের মৌসুমে কুয়েতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কুয়েতিরা প্রতিসপ্তাহে পরিবার বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ঘুরতে আসে। এছাড়া বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের নাগরিকরাও ঘুরে বেড়ায় এক মাজারা থেকে অন্য মাজারা।
প্রবাস জীবন আকর্ষণীয় হলেও পেছনে থাকে অন্যকিছু। কেউ হয়তো কর্মজীবনের কিছু সময়ের জন্য প্রবাসী হন, আবার কেউ সারা জীবন কাটাতে। এ জীবন কারো জন্য সুখের, কারো জন্য দুঃখের। দেশ থেকে মানুষ বিদেশ যায় দেশের মানুষগুলোকে ভালো ও আনন্দে রাখার জন্য। দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখা ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও প্রবাসীদের ভূমিকা কম নয়।
প্রবাসের কর্মজীবিরা মা-বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রী-সন্তানকে ভালো রাখার জন্যই রাত-দিন পরিশ্রম করে থাকেন। তাই প্রবাসের জীবন একটু ভিন্ন। প্রবাসের চলমান জীবন ও সম্পর্কের নানা অনুষঙ্গ নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন- জাগো নিউজ মালয়েশিয়া প্রতিনিধি আহমাদুল কবির।
দেশ থেকে যারা বিদেশ যান আমরা তাকে প্রবাসী বলি। কেননা তারা আপন জায়গা ফেলে একটু ভালো থাকার জন্য পরবাসে চলে যান। কেন যান? আমাদের দেশে কর্মসংস্থানের অভাব বলে, বিদেশের মতো সুযোগ-সুবিধা নেই বলে, বেতন কম বলে ইত্যাদি কারণে। এই কারণগুলোও থাকত না, আমরা যদি আমাদের দেশের ভেতরের, দেশের মানুষদের জন্য যদি সঠিক উপায়ে সুষ্ঠু কর্মসংস্থানের বৃদ্ধি করতে পারতাম। এ নিয়ে আসলে একার পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়, কাজ করতে হবে সরকারকেও।
দেশ থেকে প্রবাসে গিয়ে কি খুব ভালো থাকে কেউ? না, দেশ থেকে সবকিছু ছেড়ে যেমন তার মা-বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রী-সন্তান, আত্মীয়-স্বজনদের রেখে যখন প্রবাসে একা একটা মানুষ যায় বা কাজ করে তখন তার মনটা কিন্তু পড়ে থাকে দেশের মাটিতেই। মনে পড়ে তার মা-বাবার কথা, ভাই-বোনের কথা, স্ত্রী-সন্তানের কথা। তখন তার আর কাজ করতে ইচ্ছে হয় না।
ইচ্ছে হয় সবকিছু ছেড়ে দিয়ে পুনরায় দেশে চলে আসতে। কিন্তু না, সময় এবং পরিস্থিতি তা করতে দেয় না, কেননা সে যদি বিদেশ থেকে দেশে এসে পড়ে তবে তার আপন মানুষগুলো অর্থকষ্টে ভুগবে, তিনবেলার খাবার একবেলা খেতে হবে, কোনো কোনো বেলা আবার না খেয়েই থাকতে হবে। এটা তার চোখের সামনে ঘটলে সে সহ্য করতে পারবে না।
তাই শত যন্ত্রণার পরও দেশের মানুষটি প্রবাসে থাকে তার কষ্ট হলেও যাতে তার প্রিয় মানুষগুলো একটু ভালো থাকে, একটু স্বস্তিতে থাকে, একটু সুন্দর থাকে, সে যেন পরবর্তীতে দেশে ফিরে সে মানুষগুলোর হাসিমুখ দেখতে পারে। আহা, তার কাছে তখনই পরম শান্তি বলে মনে হয়। মনে হয় এই মুহূর্তটার জন্যই তো দেশের বাইরে থাকা, খানিক কষ্ট করা।
আব্দুল মালেক (২৯) টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার সুজামুরি গ্রামের মো. মুচারবের ছেলে ২০০৭ সালের কলিং ভিসায় অ্যালমুনিয়াম কোম্পানিতে মালয়েশিয় আসেন। দীর্ঘদিন কাজ করেন কোম্পানিতে। ৩ বছর পর আর ভিসা করেনি কোম্পানি বাধ্য হয়ে কোম্পানি থেকে ফেরারি হন। পরে রি-হিয়ারিং এর আওতায় বৈধতা লাভ করেন কিছুদিন হলো। কাজ করেন মুরগী কাটার দোকানে। মাসে বেতন পান ১২ শ রিংগিত তা দিয়ে চলে না।
পার্ট টাইম কাজ করেন পুত্রাযায়া একটি কাপড়ের দোকানে সেখান থেকে আসে আরো এক হাজার রিংগিত। সর্বমোট মাস শেষে ২২শ রিংগিত পান। সেখান থেকে নিজের খরচের টাকা রেখে বাকি টাকা দেশে পাঠিয়ে দেন। ইচ্ছে করলেও নিজের আরাম আয়েশ ছেড়ে বীরদর্পে কাজ করে চলেছেন আব্দুল মালেক। কারন দেশে দুটি জমজ মেয়ে সন্তান চিনহা/চিন্তা, স্ত্রী, মা-বাবা রয়েছেন। তাদেরকে সুখে শান্তিতে রাখতে এই কষ্ট। আবদুল মালেকের মতো হাজারো আবদুল মালেক মালয়েশিয়ায় কাজ করে যাচ্ছেন।
আমরা আসলে জানি না একটা দেশের ছেলে অন্য আরেকটা দেশের মাটিতে কেমন কষ্ট করে আয়-উপার্জন করে। এই বিষয়গুলো আমাদের জানারও তেমন বিষয় নয়, কেন নয়? এই বিষয়গুলো জানা কি আমাদের দরকার নয়। নাকি এই বিষয়গুলো পাথর চাপা দেয়ার মতো কোনো বিষয়। না, দেশে থেকে একটা মানুষ বুকে কতটা কষ্ট নিয়ে দেশের বাইরে যায় তা হয়তো যে মানুষটা যায় সে মানুষটার থেকে ভালো আর কেউ বলতে পারবে না বা জানে না।
কেননা দেশ থেকে একটা মানুষ সুস্থ অবস্থায় বিদেশে গেল ঠিকই সে মানুষটা বিদেশ থেকে অসুস্থ অবস্থায় ফিরে আসে দেশে। তখন তার প্রিয়গুলোর কষ্ট হয় কিন্তু প্রিয় মানুষ ছাড়া বাইরের কোনো মানুষের কষ্টের লেশমাত্র হয় না। কেননা সে মানুষটা তো শুধু তার আপন মানুষগুলোর জন্যই কষ্ট করছে। তা ভুল। সে মানুষটা কষ্ট করছে একটি দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য, দেশের সতেরো কোটি জীবনের জন্য, জীবনগুলোর বেঁচে থাকার জন্য।
তাহলে আমরা কেন প্রবাসে থাকা মানুষটাকে কোনো মূল্যায়ন করছি না বা সম্মান দেখাচ্ছি না বা শ্রদ্ধাবোধের জায়গাটাও হারিয়ে ফেলেছি তা কেন। তা আমাদের সমাজব্যবস্থা, আমাদের দেশ এবং দেশের মানুষের কাছে প্রবাসীদের ছোট করে রেখেছে তার কারণ রাজনৈতিক ইস্যু। এই ইস্যু দ্বারা দেশের প্রত্যেকটা মানুষ বিভক্ত হলেও প্রবাসীরা কিন্তু কখনোই বিভক্ত হওয়ার কথা চিন্তা করে না। কারণ তারা বোঝে যে, দেশটা তো আমার, দেশের মানুষগুলো তো আমার, দেশের মানুষগুলোর এই সুখ-দুঃখ এগুলোও তো আমার। তাহলে কেন দেশ থেকে বিভক্ত হতে যাব। এই বিভক্ত হওয়ার জন্য তো আমাদের প্রবাসে আসা নয়, এই বিভক্ত হওয়ার জন্য তো আমাদের এই রাত-দিন পরিশ্রম করে যাওয়া নয়।
এই বিভক্তের পেছনে লুকিয়ে আছে একটা স্বার্থ। যে স্বার্থটা আসলে দেশের মানুষ বুঝলেও প্রবাসীরা তা বোঝে না, তাদের একটাই চিন্তা যে, আমার দেশের মানুষগুলোকে আমারই ভালো রাখতে হবে। আমরা আসলে টের পাই না বা বুঝতে পারি না আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রবাসীদের ভূমিকা কতটুকু। প্রবাসীরা এখানে কতটুকু দায়িত্ব পালন করছে বা কি করে যাচ্ছে। তা আমরা দেখতে পাই গুটিকয়েক মানুষের কথা চিন্তা করলে যেমন মা-বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রী-সন্তান যে মানুষগুলোর জন্য একজন মানুষ আসলে বিদেশে যায়। আমাদের বুঝতে একটু কষ্ট হয় যে প্রবাসীরা বিদেশ গেলে কেন দেশে আসে না বা দেশে আসার কথা চিন্তা করে না, না করার কারণ তারা দেশে ফিরলে তাদের আপন মানুষগুলোর যে সুখটা আছে বিদেশ থাকাবস্থায়।
তাদের সে সুখ থাকবে না দেশে ফিরলে। তাদের জন্যই ওদের বিদেশ থাকা, দেশে না ফেরা। দেশের সঙ্গে, দেশের মানুষজনদের সঙ্গে প্রবাসীদের সম্পর্কের কথা চিন্তা করলে আমরা দেখতে পাই দেশের প্রতি, দেশের মানুষজনদের প্রতি প্রবাসীদের যে টান-সে টান দেশের মানুষদের নেই। কেননা তারা তাদের কাছে থাকা মাতৃভূমিকে অনুভব করতে পারছে না যেমনটা পারে দেশের বাইরে থাকা প্রবাসীরা। দেশের মাটির গন্ধ পর্যন্তও তারা শুকতে পায় কেননা তাদের কাজের মধ্যে থাকে দেশকে উদ্দেশ্য করে খেটে খাওয়া মানুষদের কথা, আপন মানুষগুলোর হাসিমুখের জন্য অপেক্ষা এবং তার আরো কাছের যেমন স্ত্রী-সন্তান তাদের ভালো থাকার কথা।
সন্তানের পড়াশোনার খরচ, বৃদ্ধ মা-বাবার ওষুধের খরচ সবকিছুর কথাই যেন তার মাথায় কেউ গেঁথে রেখেছে যে, তোমার টাকার জন্য তোমার সন্তান স্কুলের বেতন দিতে পারছে না, তোমার বৃদ্ধ মা-বাবা ওষুধ কিনতে পারছে না এই কথাগুলো যেন তার কানে বাজতেই থাকে। যার জন্য সে তার কাজ ছাড়াও বাড়তি কাজ করে যেন তারা হতাশ না হয় বা যত টাকা খরচ করে ঋণ নিয়ে সে বিদেশ এসেছে তা পরিশোধ করার আগ পর্যন্ত তার যেন কোনো নিদ্রা নেই। সে কাজ করতেই থাকে তার মতো করে। সেই কাজ করার মধ্য দিয়েই মনে পড়ে দেশের কথা, দেশের মানুষজনদের কথা, আরো মনে পড়ে চেনা পরিচিত কিংবা অচেনা অপরিচিত দেশের পথ-ঘাটের কথা।
নাড়ির টান ও দেশাত্মবোধ
প্রবাসে থাকা একজন মানুষের সবচেয়ে বড় যে টান তা হলো নাড়ির টান। এই টানের কারণেই একজন প্রবাসীকে দেশ নিয়ে ভাবায়, ভাবায় তাকে ভালো কিছু নিয়ে তার দেশের কাছে, তার নাড়ির কাছে ফিরতে হবে। নইলে তার প্রবাস জীবন ব্যর্থ। এই ব্যর্থতার কারণে কেউ কেউ দেশ ত্যাগই করে না, জীবন পর্যন্ত ত্যাগ করে। এটা আসলে একটা হতাশার কারণ। এই কারণের মূল ব্যাখ্যা পাওয়া না গেলেও বোঝা যায় একটা মানুষের দেশ, দেশের মানুষ নিয়ে তার কতটা টান, কতটা বন্ধন মিশে আছে।
যে মানুষগুলো দেশে থাকে বা দেশে আছে তারা সাধারণত নাড়ির টানটা গাঢ়ভাবে অনুভব করতে পারে না। কেননা তারা দেশ দেখতে পাচ্ছে, দেশের মানুষ দেখতে পাচ্ছে, আরো দেখতে পাচ্ছে মা, ইচ্ছে করলেই ক্লান্তি এলেই তারা তাদের মায়ের আঁচল পেতে জীবনের সব ক্লান্তি দূর করতে পারছে নিমিষেই। হতাশ লাগলেও মা সেই হতাশা দূর করারও চেষ্টা করছে। আহ এর থেকে প্রশান্তির আর কী হতে পারে। কিছুই না। আসলে মা হলো সন্তানের মূল চাবিকাঠি।
মা এক পৃথিবীর সন্তানদের জন্য তার আঁচল বিছিয়ে রেখেছেন তারা তাদের ক্লান্তির সময়টুকুতে এসে আশ্রয় নেবে বলে। মা, এই মায়ের মধ্যে যেমন মমতাবোধ আছে বা কাজ করে ঠিক তেমনই মমতা আছে বা কাজ করে দেশের মধ্যে। যে দেশ কিনা প্রবাসীদের আবার তার কাছে, তার আঁচলে ফিরিয়ে আনে, শুধুই আনে না, গভীর মমতাবোধের জায়গাটুকু দিয়ে পরম যত্নে লালন করে তাদের মানুষের মতো মানুষ হয়ে বেঁচে থাকার ক্ষমতা দিয়ে বাঁচিয়ে রাখে।
নাড়ির টানে প্রবাসে গিয়েও শান্তি পায় না বা প্রশান্তির জায়গা খুঁজে পায় না বা পেলেও তারা তার তৃপ্তিটুকু পায় না। এই পাওয়া না পাওয়ার হিসাব মেলাতে গিয়ে তারা তাদের নাড়ির কাছে হার মেনে যায়, ফিরে আসে, দিনশেষে নাড়ির কাছে হাত পেতে বলে, আমাকে তোমার আঁচল দিয়ে খানিক আশ্রয় দাও, যে আশ্রয়ে কোনো ভয় নেই, গ্লানি নেই, আছে শুধু তৃপ্তি আর প্রশান্তি।
একটা মানুষের ভেতরে দেশ নিয়ে বোধ জাগে তখনই যখন সে দেশের কথা ভাবে, দেশ নিয়ে ভালো কিছু চিন্তা করে, দেশের জন্য নিজের শান্তি বিসর্জন দিয়ে কষ্ট বেছে নিয়েও প্রবাসে থাকে। দেশের ভেতরে নিজেকে খুঁজে পায় কিংবা নিজের ভেতরে দেশকে খুঁজে পায়। যে খুঁজে পাওয়ার মধ্যেও থাকে গাঢ়-গভীর মমতাবোধ। যে মমতাবোধের টানে কেউ দেশে ফিরে আসে। দেশের মানুষ দেশ ছেড়ে কি আর বিদেশ শান্তি পায়। নিজের দেশে যতটা স্বাধীনতা নিয়ে চলাফেরা করা যায়, যেখানে ইচ্ছে সেখানে যাওয়া যায় সেটা কি আর অন্যদেশে সম্ভব?
বা সম্ভব হলেও সম্ভবপর তৃপ্তিটুকু মনে আসে না বা এলেও নিজের কাছে ভালো লাগে না। ভালোলাগার তৃপ্তি পূর্ণ হয়ে গেলেও না। তার একটাই কারণ বিদেশে যা কিছুই করুক না কেন প্রবাসীরা তাদের শুধু একটা কথাই মনে হয় যে, এই দেশটা তো আমার না! কিন্তু তবুও সেদেশে নিজের দেশকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য, নিজের দেশকে বিশ্বের দরবারে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য সে দেশের কাজ, সে দেশের সংস্কৃতি নিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। আহারে কী নিঃস্বার্থ এগিয়ে যাওয়া।
প্রবাসীরা যদি এমনভাবে এগিয়ে না যেত তাহলে আমাদের দেশ এখন যে পরিচিত পেয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তখন এটাও পেত না। এই পাওয়ার অবদান পুরোটাই প্রবাসীদের। যে প্রবাসীরা কিনা রাত কী দিন না ঘুমিয়ে দেশের কথা, দেশের মানুষের কথা মাথায় রেখে এগিয়ে যাচ্ছে সে প্রবাসীদের মূল্য দেশে যেমন থাকা উচিত তেমনই দেশের বাইরেও থাকা উচিত। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, বড় হতাশার বিষয় তাদের কোনো মূল্য, তাদের কোনো সম্মান আমাদের দেশে নেই।
যেখানে কিনা প্রবাসীরা তার নিজের দেশেই অবহেলিত সেখানে কী করে তারা অন্যের দেশে সম্মান পাবে তা নিয়ে যদি আমাদের দেশের রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা একটু ভাবতেন তাহলে হয়তো একটা না একটা সুরাহা হতো। ফলে প্রবাসীরা তাদের কাজ করার জায়গাটা নতুন করে খুঁজে পেত বা তাদের বিস্তৃতি আরো বিশাল, তাদের পরিধিটা আরো বড় হয়ে যেত। কেননা তারা মাথা গুঁজে দাঁড়ানোর মতো একটা সাপোর্ট পেত।
প্রবাসীদের সুখ-দুঃখ
প্রবাসীদের সুখ-দুঃখের কথা যদি বলি তবে আমি বলব তাদের কোনো সুখ নেই বরং দুঃখেরও কোনো শেষ নেই। কেননা তারা না ঘুমিয়ে, সময়মতো না খেয়ে, ক্ষুধার্ত পেট নিয়ে দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তবে তারাও সুখের কাঙাল। তারাও সুখ চায়। আর তারা তখনই সুখ পায় যখন কিনা তারা প্রবাস থেকে নিজের দেশে কিছু নিয়ে আসে বা প্রিয় মানুষদের হাতে তুলে দিতে পারে তাদের কষ্টের টাকা। তারা তখন আনন্দ পায়, সুখে আত্মহারা হয়ে ওঠে। তাদের কাছে তখন মনে হয় তাদের প্রবাস জীবন সার্থক। সার্থক হয়ে উঠবারই কথা, তারা যে কারণে দেশ ছেড়ে প্রবাসে গিয়ে কষ্টের জীবন বেছে নিয়েছে সে জীবনের যে মূল কথা ছিল তাদের বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফুটিয়ে তোলা, স্ত্রী-সন্তানের জন্য ভালোভাবে জীবন কাটানোর জন্য কিছু সময় নিয়ে আসা এটাই যেন তাদের কাছে বড় পাওয়া বলে মনে হয়।
কেননা তারা তো এটার জন্যও বিদেশে দেশ ছেড়ে। প্রবাসে কী কেউ সুখের জন্য যায়? না প্রবাসে কেউ নিজের সুখের জন্য যায় না বরং অন্যের সুখটা দেখার জন্য প্রবাসে যায় দেশ ছেড়ে। তারা তাদের অর্জিত কাঙ্খিত সম্পদ দিয়ে যখন প্রিয় মানুষগুলোর জন্য প্রিয় কিছু নিয়ে আসে তখন তাদের ভালো লাগে বরং আনন্দ হয় যখন কিনা তারা বুঝতে পারে, দেখতে পারে তাদের প্রিয় মানুষ, কাছের মানুষের আনন্দ তখন তারা রীতিমতো অবাক হয়, বিস্মিত হয়।
দেশে প্রবাসীদের গুরুত্ব
আমাদের দেশের কথা যদি আমি বলি তবে বলব যে, আমাদের দেশে প্রবাসীদের কোনো গুরুত্ব নেই, আছে অবহেলা। একজন প্রবাসী দেশের জন্য কাজ করতে গিয়েও যতটুকু অবহেলা সহ্য করে আত্মসম্মানের বোধ ত্যাগ করে কাজ করে সেটা আসলে আমাদের এই দেশ কখনোই বোঝেনি বা বোঝার চেষ্টা করেছে বলে তা ততটা স্পষ্ট মনে হয় না আমার কাছে কারণ আমার কাছে আমাদের দেশে প্রবাসীদের মূল্য শূন্য। কেন এমন তা হয়তো আমার জানা না থাকলেও জানা আছে সরকার কিংবা সরকারের উচ্চপদস্থ নেতাদের।
আমাদের দেশে যে হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রবাসীরা যদি দেশ ত্যাগ করে না যেত তাহলে দেশ আর দেশের মতো থাকত না। দেশ বৃন্দাবনে চলে যেত। ব্যাপারটা অনেকটা হাস্যকর মনে হলেও তা সত্যি।
প্রবাসীদের ভাবনা
যারা প্রবাসে চলে গেছেন দেশ ছেড়ে তাদের আপন মানুষজন ছেড়ে তাদের ভাবনায় শুধু একটা ভাবনাই থাকে, আমার মা ভালো আছে তো! আমার বাবা ভালো আছে তো! আমার সন্তানরা ভালো আছে তো! এই ভাবনাগুলো তাদের আরো ভাবিয়ে তোলে যে, তাদের যত কষ্টই হোক না কেন তাদের উপার্জন করতে হবে। তখন তারা বুকে পাথর চাপা দিয়ে কাজে নেমে যায়, যে নেমে যাওয়ার মধ্যে আর কোনো দ্বিধা থাকে না, দ্বন্দ্ব থাকে না, থাকে শুধু একটাই ভাবনা যে, আমাকে ভালো কিছু করে দেশে গিয়ে পরিবারের প্রত্যেকটা মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে হবে। যে ফোটানোর মধ্যে কোনো ক্লান্তি থাকবে না, ক্লেদ থাকবে না, তৃষ্ণা থাকবে না, থাকবে না এর কোনোকিছু।
কেননা তারা তাদের কথা ভেবে প্রবাসে যায় না, তারা তাদের পরিবারের কথা, দেশের কথা ভেবে বিদেশ যায়। গিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করে তারা অর্থ উপার্জন করে দেশে পাঠায়। দেশ থেকে একজন মানুষ যখন প্রবাসে যায় তখন তার ভাবনায় সবচেয়ে আগে যে ভাবনাটা থাকে সেটা হলো আমাকে ঋণ পরিশোধ করতে হবে, যে অর্থ দিয়ে আমি বিদেশে এসেছি আমাকে তা শোধ করে পরিবারের জন্য কিছু নিয়ে দেশে ফিরতে হবে। যে ফেরার মধ্যে থাকবে মমতা বা পাওয়ার ফেরা এবং তার কোনো কিছুর পাওয়ার ইচ্ছা পূরণের আকাঙ্খা।
দেশের সঙ্গে প্রবাসীদের সম্পর্ক
দেশের সঙ্গে প্রবাসীদের সম্পর্ক গভীর হয়েও গভীর হতে পারে না, তার কারণ প্রবাসীদের কখনোই দেশ সম্মানের চোখে দেখে না বা তাদের মূল্যবোধের জায়গাটা দেয় না। কারণ প্রবাসীরা দেশের বাইরে থাকে বলে। প্রবাসীরা দেশের জন্য দেশ ছেড়ে যায় অন্য দেশে এটা বুঝলেও বোঝে না দেশের মানুষ। বেশ বড় বড় মানুষ বলে, প্রবাসীরা দেশ ছেড়েছে দেশের প্রতি তাদের মায়া, দেশের প্রতি তাদের টান নেই বলে, কিন্তু তারা এটুকু বোঝে না বা এটুকু বোঝার ক্ষমতা তাদের নেই যে, আমাদের দেশে কর্মসংস্থানেরর অভাবেই তারা দেশ ছেড়েছে, আমাদের দেশের মানুষজনদের ভালো রাখার জন্য তারা দেশ ছেড়েছে।
দেশ প্রবাসীদের ভুলে গেলেও প্রবাসীরা কখনো দেশের কথা ভোলে না, তারা ভুলতে পারে না, কেননা সে সেদেশের নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে। সুতরাং বলা যায়, প্রবাসীদের সঙ্গে দেশে সম্পর্কটা ততটা বন্ধুত্বপূর্ণ না হলেও দেশের প্রতি প্রবাসীদের একটা টান আছেই শুরু থেকে। কেননা তারা তাদের আপনজনদের দেখা পাওয়ার জন্য যেখানেই যাক না কেন সবশেষে তাদের দেশেই ফিরে আসতে হয়, মা বলে ডাকার জন্য নিজের গ্রামটার মনোমুগ্ধকর প্রতিচ্ছবি তাকে বার বার দেখায় যেন তার টান, দেশের প্রতি তার মায়া আরো তীব্র হয়ে ওঠে তার কাছে।
যে তীব্রতায় মিশে থাকে মা, মাটি, দেশ, মমতা অনেক কিছু। যা আসলে প্রবাসীদের মতো করে ভেতরে ভেতরে আর কেউ এত গভীর করে লালন করতে পারে না। পারবেই বা কেমন করে, প্রবাসীরা যে তাদের মায়া ত্যাগ করে অন্য দেশের নাগরিকত্ব অর্জন করতে পারে না বা অর্জন করলেও তাদের বিবেক তাদের অর্জন করতে দেয় না, সবসময় তাদের ভেতরে ভেতরে বুকের মধ্যে বাজতে থাকে যে, এটা তোমার দেশ না, এটা তোমার দেশ না। তোমার দেশ বাংলাদেশ। তখন প্রবাসীরা নতুন করে সবকিছু দেখতে শুরু করে, যে দেখায় মিশে থাকে দেশের প্রতি গভীর মমতা।
এই মমতাই তাদের আবার দেশে ফিরিয়ে আনে, প্রিয় মানুষের কাছে এসে তারা তাদের মুখ দেখে প্রবাসে থাকার তৃষ্ণা দূর করে। প্রবাসীরা আমাদের দেশের সম্পদ। তারা না থাকলে আমাদের দেশের উন্নতি এতটা চোখে পড়ত না, বাংলাদেশের নামটা অন্যান্য দেশের মতো এত স্পষ্ট করে পরিচিতি পেয়ে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারত না বা তার কাজ সম্পর্কে, এই দেশ সম্পর্কে মানুষের কোনো ধারণা হতো না।
প্রবাসীরা হলো একটি দেশের মোহর। যে মোহরের কারণে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে দেশ এবং দেশের মানুষ সুতরাং প্রবাসীদের ভালো থাকা বা ভালো রাখা আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে কিন্তু আমরা তার কতটুকু পালন করতে পেরেছি বা পারি তা হয়তো একটু লক্ষ্য করলেই বলতে পারি। দেশ থেকে প্রবাসীরা যখন বিদেশ যায় তখন তাদের প্রতি আমাদের বোধের জায়গাটা আরো খোলাসা হওয়া উচিত, যে খোলাসায় থাকবে স্পষ্টতা, গভীরতা, মমতা ও সম্মানবোধ।
দেশ-বিদেশের পার্থক্য
একজন মানুষ দেশে থেকে যে কোনো কাজ করতে পারে না কিন্তু প্রবাসে গিয়ে যে কোনো কাজ করতে পারে। কেননা তাকে অর্থ উপার্জন করে দেশে বাবা-মায়ের কাছে, স্ত্রী-সন্তানের কাছে পাঠাতে হবে। তখন তারা লোকচক্ষুর লজ্জা আড়াল করে ভাবে যে, আমাকে আমার যে কোনো কাজ করতে হবে এবং করেও। একজন প্রবাসী অন্যের বাসাবাড়ি দেখাশোনা থেকে শুরু করে সুইপারি পর্যন্ত করে। কিন্তু এতে লজ্জাটা কোথায়, এতে তো আনন্দ থাকার কথা, যে আনন্দের কিনা অর্থ উপার্জন করার সক্ষমতা থাকে বা তা পরিবারের মানুষদের মুখে হাসি ফোটানোর মতো বিন্দু পরিমাণ ক্লেদও যেন জমা না থাকে।
দেশে যে মানুষটা রিকশা চালিয়ে অর্থ উপার্জন করে সমাজ তাকে অবহেলার চোখে, অনীহার চোখে দেখে, কেননা সে মানুষটা রিকশা চালিয়ে অর্থ উপার্জন করছে। কিন্তু বিদেশে সেই মানুষটা গিয়ে এই একই কাজ করছে। কিন্তু এতে লজ্জা কোথায়। সে তো চুরি করছে না, সে কর্ম করছে, কষ্ট করে অর্থ উপার্জন করছে। এতে লজ্জা থাকবে কেন। এটাই তফাৎ দেশ আর বিদেশের মধ্যে। আমাদের দেশটা যে কারণে পেছনে পড়ে আছে তা হলো দেশের মানুষগুলোর মন ও মানসিকতা এখনো খুব নিচু হয়ে আছে। যে দেশ নিচু মনমানসিকতার মানুষ লালন করে সে দেশ কী করে এগিয়ে যাবে বা তার যোগ্য অনুযায়ী কর্ম দেবে, তা কখনোই সম্ভব নয়।
তা এখনো অবাস্তব আমাদের দেশে। এটা কখনো বাস্তব হওয়ার নয়। কেননা আমার দেশের সরকার যদি এই বিষয়টা নিয়ে একটু কাজ করত তাহলে হয়তো আমার দেশের মানুষেরা এই দেশ ছেড়ে প্রবাসে যেত না বা তাদের নিজ নিজ দেশে তারা কর্মসংস্থানের খোঁজে এগিয়ে আসত। কিন্তু না, তা এখনো সম্ভবপর হয়ে ওঠেনি আমার দেশে বা সম্ভবপর হয়ে উঠবেও না কখনো।