করোনায় মৃত্যু যেন লাফিয়ে বাড়ছে। আর লাগামহীনভাবে ছুটছে করোনা শনাক্তের সংখ্যাও। কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না সংক্রমণ। একদিনে মৃতের সংখ্যা ২৪৭ জনে ঠেকেছে। যা একদিনে রেকর্ড মৃত্যু। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত দেশে মোট মৃত্যু ১৯ হাজার ৫২১ জনে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ হাজার ১৯২ জন। এ নিয়ে দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৮২৭ জনে।
সোমবার (২৬ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১১ হাজার ৫২ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ১০ লাখ ৯ হাজার ৯৭৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০ হাজার ৯৫২ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ২৯ দশমিক ৮২ শতাংশ।এর আগে, গতকাল রোববার (২৫ জুলাই) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২২৮ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া করোনা শনাক্ত হয় ১১ হাজার ২৯১ জন।
এদিকে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশ সময় সোমবার (২৬ জুলাই) সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে করোনায় মৃতের সংখ্যা ও সংক্রমণ কমেছে। এ সময় মারা গেছেন আরও ৬ হাজার ৮৫৯ জন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৪ লাখ ২৭ হাজার ৮০ জন।
এর আগে রোববার (২৫ জুলাই) সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে করোনায় মারা গিয়েছিল ৮ হাজার ১৮২ জন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৪ লাখ ৯০ হাজার ৩৫৮ জন।
এ নিয়ে বিশ্বে এখন পর্যন্ত মোট করোনায় মৃত্যু হলো ৪১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৬৭ এবং আক্রান্ত হয়েছেন ১৯ কোটি ৪৮ লাখ ১ হাজার ২০৯ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৭ কোটি ৬৭ লাখ ৪৯ হাজার ৯০৫ জন।
করোনায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও মৃত্যু হয়েছে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশ যুক্তরাষ্ট্রে। তালিকায় শীর্ষে থাকা দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ৩ কোটি ৫১ লাখ ৯৯ হাজার ৪৬৫ জন। মৃত্যু হয়েছে ৬ লাখ ২৬ হাজার ৭৬২ জনের।
আক্রান্তে দ্বিতীয় ও মৃত্যুতে তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে এখন পর্যন্ত মোট সংক্রমিত হয়েছেন ৩ কোটি ১৪ লাখ ৯ হাজার ৬৩৯ জন এবং এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৪ লাখ ২০ হাজার ৯৯৬ জনের।
আক্রান্তে তৃতীয় এবং মৃত্যুতে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ব্রাজিলে এখন পর্যন্ত করোনায় এক কোটি ৯৬ লাখ ৮৮ হাজার ৬৬৩ জন সংক্রমিত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ৫ লাখ ৪৯ হাজার ৯৯৯ জনের।
আক্রান্তের দিক থেকে চতুর্থ স্থানে রয়েছে রাশিয়া। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬১ লাখ ৬ হাজার ৫৪১ জন। মারা গেছেন ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮৭৪ জন।
এ তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে ফ্রান্স। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ৫৯ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩৭ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ১ লাখ ১১ হাজার ৬৬২ জন।
আক্রান্তের তালিকায় যুক্তরাজ্য ষষ্ঠ, তুরস্ক সপ্তম, আর্জেন্টিনা অষ্টম, কলম্বিয়া নবম ও ইতালি দশম স্থানে রয়েছে। এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ২৬তম।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২১৮টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে কোভিড-১৯।
কুয়েতের আপিল আদালত বাংলাদেশী এমপির মামলায় দোষী সাব্যস্ত সকল আসামীদের সমস্ত আপিল এবং আপিল আদালত কর্তৃক জারি করা তাদের কারাদণ্ডের রায় বাতিল করে দিয়েছে।
আদালতে আরও কঠোর শাস্তির দাবিতে পাবলিক প্রসিকিউশনের করা আবেদন গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ।
আপিল কোর্টের ১ম রায়ে বাংলাদেশের সাংসদ কাজী শহীদ ছাড়াও কুয়েতের সাবেক পদস্থ পুলিশ অফিসার মাজন আল-জাররাহ, হাসান আল-খাদার, নওয়াফ আল-শালাহী এবং সাবেক সাংসদ সালাহ খুরশিদকে ৭ বছরের কারাদন্ড দিয়েছিল । সুত্রঃ আল কাবাস ।
দেশের উপজেলা হিসেবে যোগ হলো আরও তিনটি নাম। কক্সবাজারের ঈদগাঁও, মাদারীপুরের ডাসার, সুনামগঞ্জের মধ্যনগরকে নতুন উপজেলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)। সোমবার (২৬ জুলাই) জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৈঠকটি হয়। গণভবন প্রান্ত থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। অন্যরা যুক্ত হন সচিবালয় থেকে। তিনটি নতুন উপজেলার সঙ্গে একটি উপজেলার নাম পরিবর্তন, একটি সিটি করপোরেশন ও দুটি পৌরসভার সীমানা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। নতুন ৩টি নিয়ে দেশে উপজেলার সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৪৯৫টি।
কাল সোমবার ২৬ জুলাই কুয়েতের মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে ১লা আগস্ট নিষিদ্ধ দেশ সমূহের মধ্যে আপাতত মিশর, মরক্কো এবং মালদ্বীপের সাথে সরাসরি বিমান চলাচলের বিষয়ে অধ্যয়ন করছেন কতৃপক্ষ।
তবে আর কোন কোন দেশের সাথে সরাসরি বিমান পরিচালনা করেছেন ১লা আগষ্ট থেকে সে বিষয়টি কাল বিকেলে মন্ত্রীসবার বৈঠকের পর জানা যাবে।
সিনিয়র সূত্র নিশ্চিত করেছেন যে ১লা আগষ্ট থেকে সরকার কমপ্লেক্সগুলির খোলার সময়টি ধীরে ধীরে সন্ধ্যা আটটার পরিবর্তে রাত দশটা পর্যন্ত বাড়ানো হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
📌 নিউজ লিংক কমেন্টে দেওয়া হয়েছে… 👇
✍️ Collected, Translated and posted by Nahar Hoque
কাল সোমবার ২৬ জুলাই কুয়েতের মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে ১লা আগস্ট নিষিদ্ধ দেশ সমূহের মধ্যে আপাতত মিশর, মরক্কো এবং মালদ্বীপের সাথে সরাসরি বিমান চলাচলের বিষয়ে অধ্যয়ন করছেন কতৃপক্ষ।
তবে আর কোন কোন দেশের সাথে সরাসরি বিমান পরিচালনা করেছেন ১লা আগষ্ট থেকে সে বিষয়টি কাল বিকেলে মন্ত্রীসবার বৈঠকের পর জানা যাবে।
সিনিয়র সূত্র নিশ্চিত করেছেন যে ১লা আগষ্ট থেকে সরকার কমপ্লেক্সগুলির খোলার সময়টি ধীরে ধীরে সন্ধ্যা আটটার পরিবর্তে রাত দশটা পর্যন্ত বাড়ানো হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
📌 নিউজ লিংক কমেন্টে দেওয়া হয়েছে… 👇
✍️ Collected, Translated and posted by Nahar Hoque
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে খেলার মাঠে গরু ঢুকে পড়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামে গতকাল রোববার (২৫ জুলাই) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ও নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শনিবার বিকেলে চাতলপাড় ইউনিয়নের রতনপুর খেলার মাঠে পার্শ্ববর্তী ভলাকুট ইউনিয়নের কয়েকজন যুবক ফুটবল খেলছিল। এসময় রতনপুর গ্রামের হুমায়ূন মাঠে গরু চরাতে যান। গরুর দড়ি ছিঁড়ে যাওয়াতে গরুটি খেলার মাঝখানে ঢুকে পড়ে। খেলার মাঠে গরু চলে আসায় খেলা বাধাগ্রস্ত হয়। পরে তারা গরুটিকে মাঠ থেকে তাড়িয়ে দেয়। এ নিয়ে রতনপুর গ্রামের ছাড়ন গোষ্ঠীর হুমায়ূনের সঙ্গে পাশের গ্রাম ভলাকুট ইউনিয়নের হুনারু গোষ্ঠীর ছুট্টু মিয়া ও মঙ্গল মিয়ার কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে হুমায়নকে একা পেয়ে হুনারু গোষ্ঠীর লোকজন মারধর করেন। পরে এ ঘটনার জেরে রোববার হুনারু গোষ্ঠীর ও ছাড়ন গোষ্ঠীর লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িতে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন।
এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আহতদের উদ্ধার করে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিল্লাহ সরকার জানান, সংঘর্ষের ঘটনার পর চাতলপাড় এবং ভলাকুট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এখন পর্যন্ত দুই পক্ষের কেউ থানায় মামলা দায়ের করেননি।
নাগেশ্বরীর কচাকাটা থানা এলাকায় কচাকাটা বাজারে কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে লোকজনকে নির্ধারিত সময় পার করে বাজারে অযথা ঘোরাফেরা ও জটলা পাকানো বন্ধ এবং মাস্কবিহীনদের মাস্ক পরিধান করতে বলায় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য এএসআই বুলবুল ইসলামকে ধাওয়া করেছে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিতরা। এ সময় কর্তব্যরত ঐ পুলিশকে খুঁজে লাঞ্চিত করতে উত্তেজিত জনতাকে লাঠিসোঠা হাতে নিয়ে কচাকাটা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সড়কে কর্তব্যরত ঐ পুলিশের ভাড়া বাসার সামনে অবস্থান নিয়ে তাদেরকে বাসার গেট ভেঙ্গে ফেলার চেষ্টা করতে দেখা গেছে।
পরে কচাকাটা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থানার অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং কর্তব্যরত ঐ পুলিশকে থানায় নিয়ে আসে।
গতকাণ রবিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যা ৬ টা ৪৫ মিনিটের দিকে নাগেশ্বরীর প্রস্তাবিত কচাকাটা উপজেলায় কচাকাটা বাজারে এ ঘটনাটি ঘটে। এবিষয়ে জানতে চাইলে জনতার রোষাণলের স্বীকার এসআই বুলবুল বলেন, লকডাউনে হাট বাজারের বেঁধে দেয়া সময় পার হওয়ায় কচাকাটা বাজারে মানুষজনকে বিভিন্ন স্থানে দলবদ্ধ হয়ে জটলা পাকাতে দেখি। তাদের জটলা ছত্রভঙ্গ এবং মাস্কবিহীন কিছু মানুষকে মাস্ক পরিধান করতে বলি। এসময় কয়েকজন মানুষ আমার উপর চড়াও হয়। কচাকাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুব আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।
সাধারন মানুষকে করোনা ভাইরাসের টিকা গ্রহনে উৎসাহ প্রদান এবং টিকা নেওয়ার বিষয়ে যে গুজব ও ভয় তা দূর করার উদ্দেশ্যে মাহমুদাবাদহেল্পিংটিমের উদ্যােগে কোভিডভ্যাকসিনসচেতনতার
করোনার টিকা নিন, অপপ্রচার বন্ধ করুন ভাইরাস প্রতিরোধে বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার অনুমোদন পেয়ে যেসব টিকা দেশে এসেছে, তা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ এ টিকা আমাদের দেহে করোনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলে। রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা যত মজবুত হবে, রোগের আশংকা ততই কমে যাবে। তাই গুজবে কান না দিয়ে, বসে বসে দুশ্চিন্তা না করে টিকা নিন, রোগ প্রতিরোধে অংশ নিন। একটি পরিবারে একজন আক্রান্ত হলে অন্যদেরও আক্রান্ত হওয়ার আশংকা থাকে, এজন্য সবাই মিলে টিকা নিয়ে এ ভাইরাসজনিত রোগের আক্রমণের গতিকে সমন্বিতভাবে প্রতিরোধ করতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার অনুমোদিত করোনার টিকা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জরুরি উদ্যোগে দেশে এসে পৌঁছেছে। পৃথিবীব্যাপী করোনার টিকা নেয়া শুরু হয়েছে, কারণ রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করতে টিকা নেয়ার কোনো বিকল্প নেই। গবেষণা চলছে, গবেষণা চলবে, দিনে দিনে আরো উন্নত ধরনের টিকা বিজ্ঞানীরা তৈরি করবেন। এটাই স্বাভাবিক এবং চলমান এক প্রক্রিয়া। এক সময় কলেরা, বসন্তসহ নানাবিধ রোগের টিকার মতোই আরো উন্নত টিকা পৃথিবী থেকে এ রোগ নির্মূলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। তাই ভাইরাস আক্রমণ ঠেকাতে সব শ্রেণির মানুষকে এ যাত্রায় অংশ নিতে হবে। সমগ্র বিশ্বকে আলোড়িত করে এ পর্যন্ত ১০ কোটির বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে এবং প্রায় ২২ লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যুও ঘটিয়েছে এই করোনা ভাইরাস। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে প্রথম ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। রোগের উৎপত্তি স্থল নিয়ে মতভেদ থাকলেও এ নিয়ে সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। যেহেতু বর্তমানে রোগটি পৃথিবীব্যপী বিস্তার লাভ করেছে, তাই এর মোকাবিলা আমাদের একসাথেই করতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) গত ১১ মার্চ বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারি ঘোষণা করে। বর্তমানে বিভিন্ন দেশে করোনার দ্বিতীয় ও তৃতীয় ঢেউ লেগেছে। যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশে করোনার নতুন ধরন দেখা দিয়েছে। করোনায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। মানুষ চেষ্টা করেছে স্বাস্থ্যবিধি যথাসম্ভব মেনে চলার, কিন্তু জীবনধারণের নানা ক্ষেত্রে অনেক সময়েই সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাও কষ্টসাধ্য এবং তা সম্ভবও হয়নি। তাই এ রোগ নিরাময় এবং নির্মূল স্বাস্থ্যবিধির সাথে সাথে টিকা গ্রহণও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সত্যিকারের জীবাণু শরীরে প্রবেশ করলে যেমন অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, টিকার ক্ষেত্রেও সেই একই ভাবে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এমনভাবে তৈরি যে, এই টিকার দ্বারা যে ইমিউনিটি তৈরি হয়, তার একটা স্মৃতি শরীরে থেকে যায়। ফলে ভবিষ্যতে যখন সত্যি সত্যি সেই জীবাণু দিয়ে সংক্রমণ ঘটে তখন দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা খুব দ্রুত অ্যান্টিবডি তৈরি করে জীবাণুগুলিকে ধ্বংস করে ফেলে ও শরীর সুস্থ থাকে। এ ভাবেই টিকার মাধ্যমে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। করোনার টিকাও এর ব্যতিক্রম কিছু নয়। বাংলাদেশ সরকারের একটি অন্যতম সফল প্রোগ্রাম হলো সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)। টিকাদানের মাধ্যমে আমাদের দেশ থেকে হাম, পোলিও, ধনুষ্টংকার, যক্ষ্মাসহ অনেক রোগ প্রায় নির্মূল হয়ে যাচ্ছে। অথচ এক সময় এসব রোগে অনেক শিশু মৃত্যুবরণ করতো। টিকাদানের প্রভাব যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ
এবং সফল, তা এ ঘটনার মাধ্যমে সহজেই প্রতীয়মান হয়। টিকাদানে সফলতার জন্য আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০১৯ সালে “ভ্যাক্সিন হিরো” এওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছেন। আশা করা যায়, আমাদের যোগ্য প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্বে অদূর ভবিষ্যতে ইপিআই এর মতো করোনা টিকা দিয়ে আমাদের দেশ থেকে করোনা নির্মূল করতেও আমরা সক্ষম হবো।করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলেও টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে এখনো কিছু মানুষের মধ্যে অনীহা দেখা যাচ্ছে। তারা মনে করছে, যে দেশ থেকে টিকা আনা হচ্ছে সেখানেই টিকা নিয়ে অনেকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়েছে। কিন্তু তাদের যে টিকা নিয়ে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়েছে, তা বাংলাদেশে আনা টিকার চেয়ে আলাদা। আমাদের সরকার যে টিকা এনেছে, তা ভারতের সেরাম ইন্সটিটিউটে তৈরি হলেও এ টিকার মূল ফর্মুলা ও উপাদান অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের। তাছাড়া গত ২৭ জানুয়ারি টিকা গ্রহণের পর থেকে সবাই সুস্থ আছেন, স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চ্যুয়ালি এ টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। টিকাদান উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, “কোভিশিল্ড নামের যে টিকাটি বাংলাদেশে দেয়া হচ্ছে, অন্য সব ভ্যাকসিনের তুলনায়” এ পর্যন্ত এটিই সবচেয়ে নিরাপদ ভ্যাকসিন। ছোটখাট পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আমাদের নিত্যব্যবহার্য যে কোনো ওষুধ থেকেই হতে পারে। কিন্তু তাই বলে নিজের বৃহত্তর উপকারের কথা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। বিশ্বে এই অল্প সময়ে প্রায় ১০ কোটি মানুষ করোনার টিকা গ্রহণ করেছে। টিকা গ্রহণ করে আমাদের নিজের প্রতি, পরিবারের প্রতি এবং দেশের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হবে। গত ২৭ জানুয়ারি বাংলাদেশে প্রথম করোনার টিকা নেন কুর্মিটোলা হাসপাতালের সেবিকা রুনু ভেরোনিকা কস্তা। তিনি বলেন, টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলছেন, তবে তার নিজের মনে হয়েছে যে এটা নিলে কোনো সমস্যা হবে না। এরপর ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে উৎসবমুখর পরিবেশে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথম টিকা নেন নাক-কান-গলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. নুরুল ফাত্তাহ রুমি। এছাড়া টিকা নিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বডুয়া, ডা. অরূপ রতন চৌধুরী প্রমুখ। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক সরকারের মন্ত্রিসভার প্রথম সদস্য হিসেবে করোনাভাইরাসের টিকা নিয়েছেন। টিকা নিয়ে অপপ্রচার বন্ধে তিনি নিজ আগ্রহেই টিকা নিয়েছেন এবং টিকা নিয়ে অপপ্রচারে জনগণকে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পরবর্তীতে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ করোনাভাইরাসের টিকা নিয়েছেন। সরকারের সচিবদের মধ্যে সর্বপ্রথম টিকা নেন তথ্য সচিব খাজা মিয়া ও তাঁর স্ত্রী সরকারের অতিরিক্ত সচিব খালেদা আক্তার, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আবদুল মান্নান। এছাড়া টিকা নিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল ও তার স্ত্রী একই প্রতিষ্ঠানের চক্ষুবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ডা. নুজহাত চৌধুরী। টিকা নেয়ার পর এত দ্রুত টিকা পাবার ব্যবস্থা করে দেবার জন্য সকলেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তাঁরা বলেন – “একটি ভয়াবহ ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অস্ত্র এই ভ্যাক্সিন। কোনো অনর্থক ভয় অথবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হয়ে নিজেকে ও নিজের প্রিয়জনকে রক্ষার এই সুযোগ থেকে নিজেদের বঞ্চিত করবেন না”।
বর্তমানে সারাদেশে টিকা পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে সরকার, যা ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। যারা সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে আছেন, তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে ভ্যাকসিন দিতে হবে। প্রথমেই কোভিড রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত সরকারি বা বেসরকারি ডাক্তার, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের ভ্যাকসিন দিতে হবে। এরপর যাদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি যেমন : ষাটোর্ধ্ব বয়স্ক ব্যক্তি এবং যারা অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত (উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, কিডনি বা লিভারের রোগ, স্ট্রোক) তাদের। কারণ এসব মানুষের সংক্রমণের ঝুঁকি যেমন বেশি, তেমনি সংক্রমিত হলে জটিলতা এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও অনেক বেশি। এ ছাড়াও নিরাপত্তাকর্মীরা (পুলিশ, আনসার, সেনাবাহিনী, বিজিবি), সাংবাদিক, পরিবহণকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী, বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং জনপ্রতিনিধিরা এর আওতায় রয়েছেন। “সুরক্ষা” অ্যাপ এর মাধ্যমে টিকা নেওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করা যাবে। যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে, গর্ভবতী নারী, যাদের অ্যালার্জির সমস্যা আছে, বেশি বয়স্ক মুমূর্ষু রোগী এবং যাদের শারীরিক প্রতিরোধ ক্ষমতা কম (যেমন ক্যান্সারের রোগী যারা কেমোথেরাপি বা রেডিও থেরাপি নিচ্ছেন) তারা টিকা নিতে পারবেন না। তবে গর্ভবতী নারী, যারা পেশাগত বা অন্য কোনো কারণে সংক্রমণের উচ্চঝুঁকিতে রয়েছেন, তারা চাইলে টিকা নিতে পারবেন। সরকারের লক্ষ্য আগামী ৬ মাসের মধ্যে দেশের একটা বড়ো অংশকে টিকার আওতায় এনে করোনার সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা। আমাদের দায়িত্ব টিকা নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করা, দেশকে করোনামুক্ত করা। এ দায়িত্ব আমাদের দেশের স্বার্থে-জাতির স্বার্থে। টিকা নিয়েই আমাদের দায়িত্ব শেষ, এমনটা নয়। টিকার ২ ডোজ পরিপূর্ণ না করা পর্যন্ত আমরা করোনা ভাইরাস থেকে ঝুঁকিমুক্ত হতে পারবো না। তাই এ সময়টাতে আমাদের সতর্কতা কমানো যাবে না। আর করোনা শূণ্যের কোঠায় না নামা অবধি আমাদের স্বাস্থ্যবিধি যেমন মাস্ক ব্যবহার, হাত ধোয়া, সমাজিক দূরত্ব বজায় রাখা মেনে চলতে হবে। শুধু করোনাকালেই নয়, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত এ বিধি সর্বদাই যথাসম্ভব আমাদের মেনে চলা উচিৎ। কারণ এতে করে অন্যান্য অনেক রোগও প্রতিরোধ করা সম্ভব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের জন্য দ্রুত সময়ে টিকার ব্যবস্থা করেছেন। আসুন আমরা টিকা নিয়ে এবং আমাদের দায়িত্ব পালন করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে একটি করোনামুক্ত দেশ উপহার দিতে এগিয়ে আসি এবং সকলে বিশ্বাস করি- ‘টিকা নিয়ে ভয় নয়, করোনা হবে নিরাময়’।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ২২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৯ হাজার ২৭৪ জনের।
নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১১ হাজার ২৯১ জন। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৬৩৫ জন।
মৃত ২২৮ জনের মধ্যে পুরুষ ১২৫ জন ও ১০৩ জন নারী।
রোববার (২৫ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাছিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা সিটিসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ও বাড়িতে উপসর্গ বিহীন রোগীসহ গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১০ হাজার ৫৮৪ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন নয় লাখ ৯৮ হাজার ৯২৩ জন।
সারাদেশে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬৩৯টি ল্যাবে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে আরটি-পিসিআর ল্যাব ১৩০টি, জিন এক্সপার্ট ৫২টি, র্যাপিড অ্যান্টিজেন ৪৫৭টি। এসব ল্যাবে ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৩৭ হাজার ৯৭২টি। মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৭ হাজার ৫৮৭টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৭৪ লাখ ৫৫ হাজার ২৮১টি।
এতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৫ দশমিক ৭৭ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ২৪ ঘণ্টায় মৃত ২২৮ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে রয়েছেন ৬৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪০ জন, রাজশাহী বিভাগে ২১ জন, খুলনা বিভাগে ৫০ জন, বরিশাল বিভাগে ৬ জন, সিলেট বিভাগে ১১ জন, রংপুর বিভাগে ১৬ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১৫ জন। এদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন ১৭৪ জন, বেসরকারি ৪০ হাসপাতালে জন এবং বাড়িতে ১৪ জন মারা যান।
মৃতদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে দুই জন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ছয় জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৩৩ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৭০ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৫০ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৩৪ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ২২ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে আটজন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে দুই জন এবং শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে একজন রয়েছেন।
এতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন তিন হাজার ৭৯২ জন ও আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন তিন হাজার ৫৫৪ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে এসেছেন দুই লাখ ৬৬ হাজার ৫২৬ জন। আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র নিয়েছেন ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪৩৩ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ৭৭ হাজার ৯৩ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। এরপর ধীরে ধীরে আক্রান্তের হার বাড়তে থাকে।
১ আগস্ট ২০২১ এর পরে কেউ টিকা না নিয়ে অন্য দেশ থেকে সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারবেনা। এই তথ্যটি ভুল। সঠিক তথ্যটি হল ১ আগস্ট ২০২১ হতে সৌদি আরবের সরকারী বেসরকারি যেকোন প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করতে পারবে শুধু ইমিউন ব্যক্তিরা। এবিষয়ে বিস্তারিত জানতে আমার আগের পোস্ট দেখতে পারেনঃ https://www.facebook.com/1510368877/posts/10219265968109233/?d=n । সৌদি কর্তৃপক্ষ টিকা দেয়া না দেয়ার সাথে সৌদিতে প্রবেশের কোন বাধ্যবাধকতার নির্দেশনা এখনো দেয়নি।
আরেকটা বিষয়ে অনেকেই জিজ্ঞেস করেন, সেটা হলো বাংলাদেশ থেকে এক টিকা দিয়ে সৌদিতে আসতে পারবে কিনা? উত্তর হলো সৌদিতে আসতে টিকা বাধ্যতামূলক না। টিকার ফুল ডোজ দেয়া থাকলে সৌদিতে আসার পর প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবেনা, আর ফুল ডোজ দেয়া না থাকলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।
ইকামাধারী সৌদি প্রবাসী এক টিকা নিয়ে ছুটিতে দেশে গিয়ে থাকলে ছুটি শেষে পুনরায় সৌদিতে আসার সময় তাওয়াক্কালনায় ইমিউন থাকলে সৌদিতে আসার পর প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন প্রয়োজন হবেনা। তাওয়াক্কালনায় ইমিউন না থাকলে অথবা বাংলাদেশ থেকে ফুল ডোজ টিকা না নেয়া থাকলে সৌদিতে আসার পর প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকা আবশ্যক। তবে আসার আগে অবশ্বই মুকীম ওয়েব সাইটে রেজিস্ট্রেশন করে আসতে হবে (এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে এই পোস্ট দেখুন https://www.facebook.com/1510368877/posts/10219428672776748/?d=n )।