তাঁর মুখের কাছে মুখ এনে আদর করেছিল গরুটি। তখন থেকেই মহিলার মনে হত মৃত স্বামীর পুনর্জন্ম হয়েছে গরুরূপে। সেই অনুভূতি গভীর হতেই আর দেরি করেননি। বিয়ে করেছেন গরুকে। সম্প্রতি এ রকম ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ কম্বোডিয়ায়।
কম্বোডিয়ার ক্রাতি প্রদেশে থাকেন খিম হাং। ৭৪ বছরের ওই বৃদ্ধার স্বামী মারা গিয়েছে গত বছর। এর মধ্যেই একটি বাছুর তাঁর মুখের কাছে মুখ এনে আদর করেছিল। যদিও ওই মহিলার দাবি তাঁকে চুম্বন করেছিল গরুটি। তার পর থেকেই খিমের মনে হচ্ছে, এই গরুটিই তাঁর মৃত স্বামী। তা মনে হওয়ার পর গরুকে বিয়েও করেছেন ৭৪ বছরের খিম। গ্রামবাসীদের অনেকেই জানিয়েছেন তাঁরা উপস্থিত ছিলেন খিমের সঙ্গে গরুর বিয়েতে।
গরুটিকে বিয়ে করে নিজের একতলা ঘরেই রেখেছেন খিম। নিয়মিত স্নান করানো, খেতে দেওয়ার পাশাপাশি স্বামী হিসাবেই তিনি যত্ন নিচ্ছেন গরুটির। এমনকি আরাম করে ঘুমের জন্য নরম বালিশ-বিছানার ব্যবস্থাও করেছেন গোরূপী ‘স্বামী’র জন্য।
ঘটনা নিয়ে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে খিম বলেছেন, ‘‘আমি মনে করি ওই গরু আমার স্বামী। কারণ ওই গরু আমার সঙ্গে একই আচরণ করে, যা স্বামী বেঁচে থাকার সময় করতেন।’’ প্রথম কবে তাঁর এই অনুভূতি হয়েছিল, সে কথাও সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন খিম। তিনি বলেছেন, ‘‘গরুটি আমার ঘাড়, চুলের কাছে এসে চেটে দেয়। তার পর আমাকে চুমু খেয়ে সিঁড়ি দিয়ে আমার পিছনে আসছিল। ঠিক যেমন আমার স্বামী করতেন। তার পর থেকেই আমার মনে হচ্ছে আমার স্বামী গরু হয়ে ফের আমার কাছে এসেছেন।’’
কুয়েতে ৪৯ বছর বয়সী একজন মিশরীয় প্রবাসী নিরাপত্তা পয়েন্টের কাছে জুলাইয়া এলাকায় একটি মাইন বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়ে মারা যান।
অন্যদিকে, হাওয়ালিতে নিজ রুমে মারা গেছেন ১ জন মিশরীয় নাগরিক, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন ।
হাওয়ালী জেলা পুলিশের নিরাপত্তা পরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল্লাহ আল-আলি, অ্যাপার্টমেন্টের ভিতরে মিশরীয় ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনার নেতৃত্ব দেন এবং মৃত্যুর কারণ হতে পারে এমন সরঞ্জাম ও উপকরণ জব্দ করা হয়। সুত্রঃ আল আনবা ।
কুয়েত সিটি, ২৮ নভেম্বর: কুয়েত মন্ত্রিসভা আজ রবিবার বায়ান প্যালেসে মহামান্য প্রধানমন্ত্রী শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহ-এর সভাপতিত্বে একটি অসাধারণ বৈঠক করেছেন। বিশেষ অধিবেশনের পরে, পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রী এবং মন্ত্রিপরিষদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ডক্টর আহমেদ নাসের আল-মোহাম্মদ আল-সাবাহ বলেছেন যে মন্ত্রীদের বিশ্বব্যাপী মহামারী সংক্রান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে, বিশেষ করে নতুন রোগের আবির্ভাবের পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দ্বারা ব্রিফ করা হয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকা এবং অন্যান্য আফ্রিকান দেশগুলিতে করোনাভাইরাস, ওমিক্রন এর রূপ নিয়ে।
এই বিষয়ে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার সহকর্মীদের আশ্বস্ত করেছেন যে কুয়েতে স্বাস্থ্যের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে, উল্লেখ করে যে হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটে কোনও করোনাভাইরাস মামলা নেই এবং সংক্রমণের ক্ষেত্রে হ্রাস পেয়েছে।
যাইহোক, মন্ত্রী কিছু দেশ থেকে দেশে আগমনের জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করার এবং প্রাসঙ্গিক ইতিবাচক সূচকগুলি বজায় রাখার স্বার্থে আগতদের জন্য কোয়ারাইন্টাইন ব্যবস্থা আপডেট করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে মন্ত্রিসভাকে পরামর্শ দেন। মন্ত্রীরা স্থানীয় স্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন তবে নাগরিক এবং বাসিন্দাদের মুখোশ পরা স্বাস্থ্যের অবস্থা মেনে চলার বিষয়ে সন্তুষ্ট এবং তা চালিয়ে যেতে আহ্বান জানিয়েছেন। অধিকন্তু, তারা ব্যক্তি ও সমাজের কল্যাণের জন্য অ্যান্টি-করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনের তৃতীয় বুস্টার ডোজ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করেছেন।(KUNA)
📌নিউজ লিংক 👇 নিচে দেওয়া হয়েছে….
✍️ Collected, translated and posted by Nahar Hoque
কুয়েতে প্রবাসীদের জন্য বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য বীমা ১৩০ দিনার বার্ষিক ফি থেকে শুরু হবে এবং প্রতি দুই বছরে ২০ দিনার বৃদ্ধি করে নয় বছরে জনপ্রতি সর্বোচ্চ ১৯০ দিনারে পৌঁছাবে, নির্ভর যোগ্য একজন কর্মকর্তা প্রকাশ করেছেন।
হেলথ ইসুরেন্স হসপিটাল কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ধামান, থামের আরব, যোগ করেছেন যে নতুন পরিষেবাটি কুয়েতের সমস্ত প্রবাসীদের জন্য প্রযোজ্য হবে।
একজন প্রবাসীর ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য বীমা বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য বীমাকে প্রতিস্থাপন করে না যা রেসিডেন্সি পারমিট নবায়নের জন্য প্রয়োজন হবে, তিনি বলেছিলেন।
আধিকারিক ব্যাখ্যা করেছেন যে পরিষেবাটির মূল মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং কুয়েতের অন্যান্য সরকারী সংস্থাগুলির দ্বারা পরিচালিত বেশ কয়েকটি গবেষণার উপর ভিত্তি করে। “স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুসারে কুয়েত জনপ্রতি যে স্বাস্থ্যসেবার গড় খরচ বহন করে তা বছরে ৪১৩ দিনারে পৌঁছেছে,” এই তথ্যটি তিনি কুয়েতের সংবাদপত্র আল আনবাকে বলেছেন৷
“আরো বলেছেন,১৩০ দিনার এর খরচ, যা প্রতি দুই বছরে ২০ দিনার করে বৃদ্ধি পাবে, এটি একটি খুব যুক্তিসঙ্গত খরচ যা স্বাস্থ্যসেবাতে বর্তমান ব্যয়ের পরিপ্রেক্ষিতে বার্ষিক ছয়টি সরকারি হাসপাতাল এবং অধিভুক্ত কেন্দ্রে মোট ৮৬৭ মিলিয়ন দিনার।”
নতুন ব্যবস্থাটি কবে নাগাদ কার্যকর হবে তা তিনি নিশ্চিত করে বলেননি।
সৌদি আরব সরকারারের সৌদি পরিবহন ও লজিস্টিক সার্ভিস মন্ত্রী সালেহ নাসের এ আল জাসের মীরসরাইয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর পরিদর্শন করেন। সোমবার (২৯ নভেম্বর) সকালে সফর সঙ্গীদের নিয়ে বেজা অফিসের সামনে বৃক্ষরপন ও ৩নং সুপার ডাইক সংলগ্ন ভূমি পরিদর্শন সহ বেজা কনফারেন্স রুমে মতবিনিময় করেন।
এ সময় সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্টদূত জাবেদ পাটোয়ারী, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কতৃপক্ষের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অতিরিক্ত সচিব মো: ইরফান শরীফ, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল সহকারী ব্যাবস্থাপক আমজাদ হোসেন, মীরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিনহাজুররহমান,মীরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মজিবুর রহমান পিপিএম সহ বেজার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সৌদি আরব মন্ত্রী সালেহ নাসের এ আল জাসের সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন কর্মকান্ড দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। সৌদি সরকার সব সময় বাংলাদেশের সাথে ছিলো এবং ভবিষ্যতে এধারা অব্যাহত থাকবে।এই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প অঞ্চলে সৌদি সরকারের সাথে কথা বলে বিনিয়োগ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কুয়েতে এক ইন্ডিয়ান প্রবাসী এবং তার বান্ধবীকে সালমিয়া এলাকায় তাদের পার্ক করা গাড়িতে অশ্লীল কার্যকলাপে ধরা পড়েছে।
কুয়েতের পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, একজন নাগরিকের ধারণ করা ভিডিও ক্লিপটি হাওয়ালির নিরাপত্তাকর্মীদের দেওয়া হলে, পুলিশ উভয়কে আটক করে।
সুত্রের বরাত দিয়ে আরব টাইমস জানায় যে, ভিডিও ক্লিপটিতে একজন ভারতীয় এবং তার গার্ল ফ্রেন্ড সামনের সিটে বসে পিছনে কাত হয়ে একে অপরকে স্মুচ করছে।
একজন কুয়েতি নাগরিক একটি গাড়ি কাঁপতে দেখেন এবং তিনি গাড়িটির কাছে গিয়ে অবাক হয়ে যান এবং তিনি একটি অশ্লীল দৃশ্য দেখেন এবং পুরো দৃশ্যটি তিনি মোবাইল ফোনে রেকর্ড করেন।
তাদের এমন অশ্লীল কার্যকলাপের অপরাধে কুয়েত থেকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
নতুন কোভিড-১৯ ভেরিয়েন্ট ওমিক্রন-এর আবির্ভাবের পর বিভিন্ন দেশে ছুটিতে থাকা প্রবাসীরা ফেরত আসছে, সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন সুত্রে প্রকাশ, গত ২৭ নভেম্বর শনিবার কুয়েতে ফেরার টিকিটের মূল্য প্রায় দ্বিগুণ করেছে ।
আরবী দৈনিক আল-আনবার রিপোর্টে জানাযায় যে, কুয়েতে ফেরার জন্য প্রবাসীদের টিকিট পুনঃনির্ধারণ করার জন্য ক্রমবর্ধমান চাহিদা রয়েছে, বিশেষ করে এই মাসের আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এবং পরের মাসের শুরুতে কুয়েত ফেরত আসতে চায় ছুটিতে থাকা প্রবাসীরা।
আফ্রিকায় শনাক্ত হওয়া নতুন করোনা অমিক্রনের প্রভাবে অনেক প্রবাসী তাদের বার্ষিক ছুটি না কাটিয়ে কুয়েতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কারণ তাদের আশংকা যে, কোন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দ্বারা নেওয়া হতে পারে, যা তাদের কুয়েতে প্রবেশের ক্ষমতাকে সীমিত করবে, যেমন মহামারীর প্রথম দিনগুলিতে করা হয়েছিল।
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কুয়েত থেকে সমস্ত গন্তব্যে ফ্লাইট টিকিটের দাম এখনও তাদের স্বাভাবিক হারে রয়েছে, যা ইকোনমি ক্লাসের টিকিটের মুল্য ২৫ দিনার থেকে শুরু হয়৷
তবে, এখন সরাসরি রিটার্ন টিকিটের দাম ১৮০ শতাংশের বেশি বেড়েছে, বিশেষ করে যে দেশগুলি থেকে বেশিরভাগ প্রবাসীরা ফিরে আসে, যেমন মিশর থেকে।
এ প্রসঙ্গে বাশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম এজেন্সির মহাপরিচালক মুহাম্মদ আল-বশির বলেন, কুয়েত থেকে সমস্ত গন্তব্যে ফ্লাইট এখনও স্বাভাবিক মূল্যে আছে।
তিনি বলেন, “যদি কুয়েত কোনো নতুন ব্যবস্থা নেয় বা ভ্রমণ বিধিনিষেধ আরোপ করে যা গন্তব্যস্থল ব্যতীত অন্য গন্তব্য থেকে ফেরার মূল্যকে প্রভাবিত করবে, এবং সমস্ত গন্তব্য থেকে রিটার্ন টিকিটের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।
বিভিন্ন টুইটার পোস্ট থেকে আরটিএম নিউজ জানতে পারে যে, মিশর, ইন্ডিয়্ বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ফিলিপাইনে ছুটিতে থাকা প্রবাসীরা দ্রুত কুয়েত ফেরত আসার জন্য টিকেট বুকিং দিচ্ছে, তবে সবচেয়ে বেশী সংখ্যক মিশরীয় প্রবাসী ফেরত আসছে ।
কুয়েত থেকে মোঃ আলাল আহমদঃ বাংলাদেশ প্রেসক্লাব কুয়েতের নব নির্বাচিত সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ হেবজু মিয়া স্বল্প কালীল ছুটি শেষে কুয়েত আগমনে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছলে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব কুয়েতের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান ।
সাংগঠনিক সম্পাদক হেবজু মিয়াকে ফুলের শুভেচ্ছা জানাতে কুয়েত এয়ারপোর্ট, উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব কুয়েতের সহ-সভাপতি জালাল উদ্দিন, ও সাধারণ সম্পাদক আ হ. জুবেদ ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক, সেলিম হাওলাদার, প্রচার সম্পাদক মোঃ আলাল আহমদ, মোঃ নাজিম উদ্দিন, মোঃ বেলাল উদ্দিন প্রমুখ।
পৃথিবীর অনেক দেশ থেকে রিকশার ব্যবহার উঠে গেলেও বাংলাদেশে রয়েছে এর বহুল প্রচলন। ঢাকাকে অনেকে বলেন রিকশার নগরী। সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধুমাত্র ঢাকায় বৈধ অবৈধ মিলে প্রায় ১৫ লাখ রিকশা চলাচল করছে। আর পুরো দেশে কি পরিমাণ রিকশা চলছে সেটার সঠিক কোন পরিসংখ্যান নেই।
গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের ২০১৫ সালের প্রকাশনা অনুযায়ী, ঢাকার ৪০ শতাংশ মানুষ নিয়মিত চলাচলের ক্ষেত্রে রিকশার ওপর নির্ভরশীল। অথচ এই রিকশার উদ্ভব বাংলাদেশে হয়নি। হয়েছে জাপানে। বেশিরভাগ গবেষণা তাই বলছে। আবার কোন কোন গবেষকদের মতে এই রিকশা তৈরি করেছেন মার্কিনীরা। রিকশা আবিষ্কারের সঠিক ইতিহাস নিয়ে এমন অনেক মতভেদ আছে। বাংলাদেশে যে প্যাডেল দেয়া সাইকেল রিকশার প্রচলন সেটা সিঙ্গাপুর থেকে এসেছে বলে ইতিহাসবিদ ও গবেষক মুনতাসির মামুনের স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী ঢাকা বইটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিকশা’ শব্দটি এসেছে জাপানি ‘জিন্রিকিশা’ শব্দ থেকে। যেখানে জিন্ অর্থ মানুষ, রিকি অর্থ শক্তি এবং শা অর্থ বাহন। শব্দগুলোকে যোগ করলে রিকশার আভিধানিক অর্থ দাঁড়ায় মানুষের শক্তিতে চলা বাহন বা মানুষ চালিত বাহন। তবে শুরুর দিকে কোন রিকশাই তিন চাকার ছিল না। সেগুলো মূলত দুই চাকায় ভর করে চলতো এবং সামনে ছিল লম্বা হাতল। এই হাতল ধরে একজন মানুষ ঠেলাগাড়ির মতো হেঁটে বা দৌড়ে এই রিকশা টেনে নিতেন। সে সময় ‘রিকশা’ বলতে এ ধরনের হাতে টানা রিকশাকেই বোঝানো হতো। পরে দুই চাকার রিকশার ডিজাইন তিন চাকার রিকশায় বিকশিত হয়।
গবেষক এম উইলিয়াম স্টিলির “রিকশা ইন সাউথ এশিয়া, ইন্ট্রোডাকশন টু স্পেশাল সেকশন” গবেষণা প্রবন্ধে দাবি করা হয়েছে, ১৮৬৯ সালের দিকে জাপানে কাহার-টানা পালকির বিকল্প হিসেবে এই হাতে টানা রিকশার উদ্ভব হয়। পালকি টানা ছিল কষ্টসাধ্য, গতি ছিল অনেক কম। সে হিসেবে রিকশা অপেক্ষাকৃত দ্রুত বাহন হওয়ায় এটি বাজারে আসতেই বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। দেশটির মিজি সাম্রাজ্যের শাসনামলে এই রিকশা তৈরি হয়।
শুরুর দিকে কেবল ভারী মালপত্র বহনের জন্য রিকশা ব্যবহৃত হতো, যা ১৮৭০ সালের পর মানুষের চলাফেরার জনপ্রিয় বাহন হয়ে ওঠে। ওই গবেষণা অনুযায়ী ১৮৭৫ সাল নাগাদ জাপানে রিকশার সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যায়। এরপর আকিহা দাউসুকে নামে এক ব্যবসায়ী রিকশার আকার ছোট, আকর্ষণীয় ও আরামদায়ক করে তোলেন। তখন থেকেই নরম সিট, হুড এবং ফুট রেস্ট, টায়ার যুক্ত করা হয়। সেখান থেকেই এসব রিকশা চীন (১৮৭৩) , হংকং (১৮৭৪), সিঙ্গাপুরে (১৮৮০), ছড়িয়ে পড়ে।
জাপানের ইতিহাসবিদ সিডেনস্টিকার, এই রিকশা প্রথম তৈরি করেছিলেন ইজুমি ইয়োসুকি নামের এক রেস্তোরাঁর মালিক, ১৮৬৯ সালে। অবশ্য এই রিকশা আবিষ্কারের পেছনে ইজুমি ইয়োসুকির সাথে আরও দুজনের নামও জুড়ে দেয়া হয়। তারা হলেন: সুজুকি টোকোজিরো ও তাকায়ামা কোসুকি। মানুষ বহনের কাজে বাহনটি জনপ্রিয়তা পেলে ১৮৭০ সালের জাপান সরকার ওই তিনজনকে এই বাহনটি বাণিজ্যিকভাবে তৈরি ও বিক্রির অনুমোদন দেয়। রিকশা চালানোর লাইসেন্স হিসেবে এ তিনজনের যে কোনও একজনের অনুমোদনের সিল লাগতো। গবেষণায় তাই তাদেরকেই রিকশা আবিষ্কারের কৃতিত্ব দেয়া হয়েছে।
এভাবে আস্তে আস্তে রিকশা জাপান থেকে ভারত, চীন, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। একেক দেশে এই রিকশার গঠন ও আকৃতি একেকরকম, নামও হয় আলাদা। চীনে একে বলা হয় সানলুঞ্চে, কম্বোডিয়ায় সিক্লো, মালয়েশিয়ায় বেকাক, ফ্রান্সে স্লাইকো নামে রিকশা পরিচিতি পায়। আবার ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এটি পেডিক্যাব নামেও পরিচিত। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জ্বালানি সংকটের কারণে বিভিন্ন দেশে রিকশার প্রচলন ব্যাপক বেড়ে যায়।
রিকশা জাপানে উদ্ভাবিত হলেও সেটির নকশা করেছিলেন জোনাথন স্কোবি বা জোনাথন গোবলে নামের একজন মার্কিন খ্রিস্টান মিশনারী। পারকার এফ ক্যালভিনের লেখা জোনাথন গোবলে ইন জাপান বইয়ে এমনটাই দাবি করা হচ্ছে। মি. জোনাথন ধর্ম প্রচারের কাজে জাপানের ইয়োকোহামা শহরে থাকতেন। তার স্ত্রী এলিজা গোবলে হাঁটতে চলতে পারতেন না। স্ত্রীকে ইয়োকোহামা শহর ঘুরিয়ে দেখাতে মি. স্কোবি ১৮৬৯ সালে দুই চাকার সামনে হাতল বিশিষ্ট বাহনের নকশা আঁকেন এবং কাঠ দিয়ে তৈরি করেন। সেই বাহনের নাম তিনি দেন জিনরিকশা। যা কালের বিবর্তনে রিকশা নামেই পরিচিতি পায়।
দুই চাকার এই হাতে টানা বাহনটি রিকশার প্রাথমিক সংস্করণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পেটেন্ট নিবন্ধন পায়। তারপর সেটির অনুকরণে জাপানে এই বাহনটি নির্মাণ শুরু হয়। তবে এটি কোন মানুষ পরিবহনে নয় বরং ব্যবহৃত হতো মালপত্র পরিবহনের জন্য। আবার এমনটাও বলা হয় যে, ১৮৮৮ সালে এক মার্কিন এক ব্যাপ্টিস্ট রিকশা আবিষ্কার করেছেন। উইলিয়াম ই লুইসের থ্রু দ্য হার্টল্যান্ড অন ইউএস বইয়ে বলা হয়েছে, রিকশা আবিষ্কার হয়েছিল ১৮৪৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের ওরচেস্টারে। সেখানকার এক কামার অ্যালবার্ট টোলম্যান দক্ষিণ আমেরিকান মিশনারীর চলাচলে সুবিধার জন্য রিকশাটি তিনি আবিষ্কার করেছিলেন বলে জানা যায়।
আবার বার্লিংটন কাউন্টি হিস্ট্রিকাল সোসাইটির গবেষণায় বলা হয়েছে, মার্কিন গাড়ি নির্মাতা জেমস বার্চের জাদুঘরে এ ধরণের একটি রিকশার মডেল প্রথম প্রদর্শন করতে দেখা যায়। সেটাও ১৮৬৭ সালের দিকে। মি. বার্চের দাবি করেছিলেন, এটি তার ডিজাইন করা বাহন। রিকশা আবিষ্কারের পেছনে যেসব দেশের নাম উঠে এসেছে, সেখানকার কোথাও এই বাহনটির কোন অস্তিত্ব নেই।
বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে, জাপানি ভাষায় ‘নিনতাকু’ নামে পরিচিত রিক্সার উৎপত্তি জাপানে হলেও বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকের মধ্যে জাপান থেকে সাইকেল রিক্সা উঠে যায়। বরং বাংলাদেশে এসেই এই বাহনটি প্রসার ও জনপ্রিয়তা পেয়েছে। মুনতাসির মামুনের গবেষণা প্রবন্ধ অনুযায়ী বাংলাদেশে এই রিকশা এসেছে ১৯৩০ এর দশকে ভারত থেকে। আর ভারতে প্রথম রিকশার প্রচলন শুরু হয় ১৮৮০ সালের দিকে সিমলা শহরে। বলা হয়, রেভারেন্ট জে ফরডাইস নামের এক স্কটিশ মিশনারী প্রথম এই রিকশা এনেছেন।
এর প্রায় ২০ বছর পর ১৮৯০ সালে সেই রিকশা কলকাতায় আসে। সেখানেও প্রথমে যাত্রী বহনের জন্য নয় বরং মালামাল টানার জন্য রিক্সা ব্যবহার করা হত। কলকাতায় রিকশায় যাত্রী বহন শুরু হয় ১৯১৪ সাল থেকে। তখনকার পৌরসভা কর্তৃপক্ষ, প্রথমবারের মতো রিকশায় যাত্রী পরিবহনের অনুমতি দিয়েছিল বলে জানা গেছে। মিয়ানমারের রেঙ্গুনে ততদিনে রিকশা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বলে বাংলাপিডিয়ায় উল্লেখ করা হয়। কথিত আছে সেই রেঙ্গুন থেকেই চট্টগ্রামে প্রথম রিকশা আসে ১৯১৯ সালের দিকে। এরপর রিকশা আসে ঢাকায়। তবে ঢাকার রিকশা এসেছিল ভারতের কলকাতা থেকে। ১৯৩০ এর দশকে। এ কারণে দুই রিকশার কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য ছিল আলাদা।
তবে মুনতাসির মামুনের গবেষণা প্রবন্ধে এই সময়কাল কিছুটা ভিন্নভাবে উল্লেখ আছে। সেখানে বলা হয়েছে ১৯৩০ এর দশকে কলকাতায় প্যাডেল চালিত সাইকেল রিকশা চালু হয়েছিল। এরপর ১৯৩০ এর দশকের মাঝামাঝি সেই রিকশা বাংলাদেশে আসে এবং ১৯৩৭ সালে আসে ঢাকায়। বাংলাদেশে শুরু থেকে এই সাইকেল রিকশার প্রচলন ঘটে, মানুষের হাতে টানা রিকশা নয়। মুনতাসির মামুন বলেছেন, সিঙ্গাপুরে গত শতকের ত্রিশের দশকে ব্যাপক হারে সাইকেল রিকশা চালু করা হয়। সেখান থেকে ঢাকাসহ এশিয়ার বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে মোমিনুল হকের আত্মজীবনীতে এ সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, ১৯৪০ সালের জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতে নারায়ণগঞ্জের পাট কোম্পানি রেলি ব্রাদার্সের এক কেরানী কলকাতা থেকে একটি রিকশা নারায়ণগঞ্জে নিয়ে আসেন। তার মতে, “এর আগে পূর্ববঙ্গে কেউ রিকশা দেখেনি।”
প্রথম রিকশার মালিক ছিলেন যদু গোপাল দত্ত। প্রথম রিকশা চালকের নাম নরেশ বলে মোমিনুল হকের আত্মজীবনীতে উল্লেখ আছে। এরপর যদু গোপাল দত্তের প্রতিবেশী শিশির মিত্র ৪টি রিকশা আমদানি করেন। সেই থেকেই অল্প অল্প করে রিকশা আমদানি শুরু হয়। হাতে টানা কিছু রিকশাও আমদানি করা হয়েছিল কিন্তু তাতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হওয়ায় পৌরসভা তা বন্ধ করে দেয়। মূলত আমদানি করা রিকশাগুলোয় চেইন লাগানো ছিল বলে বইটিতে উল্লেখ করা হয়। যেন মানুষের পরিশ্রম কম হয়।
বাংলাপিডিয়া বলছে, নারায়ণগঞ্জ এবং নেত্রকোনা শহরে বসবাসরত ইউরোপীয় পাট রপ্তানিকারকরা তাদের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য, ১৯৩৮ সালে প্রথম কলকাতা থেকে চেইন লাগানো রিকশা আমদানি করে। এরপর ঢাকার সূত্রাপুর এলাকার একজন বাঙালি জমিদার এবং ওয়ারীর এক গণ্যমান্য ব্যক্তি রিকশা কিনে ঢাকায় প্রচলন করেন বলে জানা যায়। এভাবেই বাংলাদেশে রিকশা চলাচল শুরু হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে বলা যেতে পারে ঢাকায় রিকশা প্রচলিত হয়েছে ১৯৪০ সালে বা তার কিছু পরে।
তবে তখনও রিকশা তেমন একটা জনপ্রিয় বাহন হয়ে ওঠেনি। পৌরসভার রেকর্ড মতে ১৯৪১ সালেও ঢাকায় রিকশার সংখ্যা ছিল মাত্র ৩৭টি। ১৯৪৭ সালে সেটি বেড়ে ১৮১টিতে দাঁড়ায়। ১৯৫১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ঢাকার জনসংখ্যা ছিল মাত্র চার লাখ। কিন্তু ১৯৯৮ সালে, শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৮০ লাখে গিয়ে দাঁড়ায় এবং নিবন্ধভুক্ত রিকশার সংখ্যা দাঁড়ায় ১,১২,৫৭২-এ। সে বছর বাংলাদেশের অন্যান্য সব জেলায় রিকশার সংখ্যা ২,৭৪,২৬৫ এবং দেশের গ্রামাঞ্চলে এর মোট সংখ্যা ছিল ৯১,০৪০টি। এরপর ধীরে ধীরে এই সংখ্যা বাড়তেই থাকে। ঢাকাতে প্রথম রিকশার লাইসেন্স ১৯৪৪ সালের দিকে দেয়া হয় বলে জানা গেছে।
ঢাকায় রিকশা আসার আগে শহরের মানুষ ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ি, পালকি এবং শহরের খালে নৌকা ব্যবহার করত। রিকশা আসার পর এই যান ঢাকার অধিবাসীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল জাগায়। ধীরে ধীরে রিকশা এবং রিকশা ভ্যান এখন দ্রুত ঘোড়ার গাড়ি এবং গরুর গাড়ির মতো সনাতন যানের স্থান দখল করে নেয় বলে বাংলাপিডিয়া সূত্রে জানা গেছে। এখন বাংলাদেশে যেসব রিকশা চলতে দেখা যায়, সেগুলো আগের চাইতে অনেকটাই আলাদা।