কোভিড-১৯” ওমান ৭ দেশের ভ্রমণকারীদের জন্য প্রবেশ স্থগিত করেছে’।

রোববার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২২ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

নতুন কোভিড-১৯ ভেরিয়েন্ট নিয়ে উদ্বেগের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকা সহ সাতটি দেশের যাত্রীদের জন্য ফ্লাইট ও প্রবেশ স্থগিত করেছে সর্বশেষ উপসাগরীয় দেশ ওমান।

ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ২৮ নভেম্বর রবিবার থেকে কার্যকর হবে।

ওমান সংবাদ সংস্থার মতে, নিম্নলিখিত দেশগুলির তালিকা দেওয়া হয়েছে:

দক্ষিন আফ্রিকা
নামিবিয়া
বতসোয়ানা
জিম্বাবুয়ে
লেসোথো
এস্বাতিনী
মোজাম্বিক
সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং বাহরাইন সহ বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশও নতুন স্ট্রেনটির বিস্তার রোধ করতে একই ব্যবস্থা নিয়েছে।

ইউরোপ দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করার পরে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ইউরোপ, কানাডা, ফিলিপাইন এবং আরও কয়েকটি দেশ শুক্রবার ভোরে এই দেশগুলি থেকে ফ্লাইট নিষিদ্ধ করেছে।

কুয়েতের পরিস্থিতি ভালো, আতঙ্কের কোন কারণ নেই’

রোববার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২২ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

কুয়েতের সরকারী সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, করোনা জরুরী কমিটির বর্তমান বৈঠকে নতুন আফ্রিকান মিউট্যান্ট সম্পর্কে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।

সূত্রগুলি আল-কাবাস পত্রিকাকে ইঙ্গিত করেছে যে, আজকের বৈঠকটি মন্ত্রিপরিষদের কাছে সুপারিশ এবং প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে,যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সূচক এবং রূপান্তরিত ভাইরাসের বিকাশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ।

তবে বিভিন্ন দেশ থেকে আগতদের প্রবেশের মোকাবিলা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং সতর্কতা গ্রহণ করা হবে, যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে।

সূত্রের উল্লেখ করে আল কাবাস আরো জানিয়েছে যে, কুয়েতের পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত ভাল এবং আতঙ্কের কারণ নাই, তবে সরকারের প্রচেষ্টা তৃতীয় ডোজ গ্রহণের জন্য এবং বর্তমান সময়ে মাস্ক পরিধান মেনে চলতে বলা হবে।

আগতদের পরীক্ষা কঠোর করা এবং কিছু আফ্রিকান দেশ এবং যেসব দেশ থেকে নতুন রূপান্তরিত ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে তাদের প্রবেশ না করা।

করোনা ইমার্জেন্সি কমিটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ:

১. প্রয়োজনীয়তা মেনে চলুন।

২. মুখোশ পরার উপর জোর দেওয়া।
৩. তৃতীয় ডোজ টিকা দেওয়ার জন্য একটি জরুরী পরিকল্পনা।

৪. আফ্রিকার লোকদের পরীক্ষা করার উপর জোর দেওয়া।

৫. আফ্রিকার কিছু দেশ যেখানে ভাইরাসটি ছড়িয়ে আছে সেখান থেকে যারা আসছে তাদের প্রবেশ রোধ করা।

মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী শ্রমিকদের মজুরি বাড়বে কীভাবে ?

রোববার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২২ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

বাংলাদেশ ব্যাংকের জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়া শ্রমিকদের মাত্র ২ শতাংশ দক্ষ ।

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে দক্ষিণ এশিয়ার কায়িক শ্রমিকদের মধ্যে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মজুরি সবচেয়ে কম। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক ও নোম্যাডের এক প্রতিবেদনের তথ্যানুসারে, এ অঞ্চলে বাংলাদেশি শ্রমিকদের গড় মাসিক মজুরি মাত্র ২০৩ ডলার। অথচ পাকিস্তানি শ্রমিকদের গড় মজুরি ২৭৬ ডলার, ভারতীয়দের ৩৯৬ ডলার, চীনাদের ৫৩৩ ডলার আর ফিলিপিনোদের ৫৬৪ ডলার।

বাংলাদেশি শ্রমিকদের কম মজুরি পাওয়ার এই সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে অভিজ্ঞতার আলোকে নানা মন্তব্য করেন। তাঁদের বক্তব্যের সার কথা হলো—মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বড় বিমানবন্দরে প্রচুর ফিলিপিনো ডিউটি ফ্রি দোকানে কাজ করেন। নেপালিরাও আছেন সেখানে। কিন্তু অধিকাংশ বাংলাদেশি সেখানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করেন। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে পিছিয়ে থাকাই এর মূল কারণ। শ্রমিক কত মজুরি পাবেন তা নির্ভর করে মূলত শ্রমিকের দক্ষতা ও দর-কষাকষির সক্ষমতার ওপর। দর-কষাকষির সক্ষমতা আবার নির্ভর করে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ওপর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়া শ্রমিকদের ৬২ শতাংশ অদক্ষ ও ৩৬ শতাংশ আধা দক্ষ, অর্থাৎ মাত্র ২ শতাংশ দক্ষ। এ তথ্য আমাদের শঙ্কিত করে তোলে। শিক্ষাগত যোগ্যতার সাপেক্ষেও একই চিত্র মেলে—প্রবাসী শ্রমিকদের মধ্যে প্রাথমিক, নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাসের হার যথাক্রমে ২৪ দশমিক ৯, ২৬ দশমিক ২, ২৩ দশমিক ২ ও ১২ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ ৮৬ শতাংশ প্রবাসী শ্রমিকের পড়াশোনার দৌড় উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত। বাংলাদেশে যে বিদেশিরা কাজ করেন, তাঁদের সঙ্গে আমাদের শ্রমিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতার পার্থক্য আকাশ-পাতাল।

অনেক সময় দেখা যায়, বাংলাদেশে কর্মরত একজন বিদেশি কর্মী গড়ে যে বেতন পান, বিদেশে কর্মরত ১০০ বাংলাদেশি শ্রমিকের বেতনও তাঁর সমান নয়। প্রবাসে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মধ্যে নারীর সংখ্যা ১ লাখ ২১ হাজার ৯২৫, যা মোট সংখ্যার ১২ দশমিক ৯ শতাংশ। বলার অপেক্ষা রাখে না যে তাঁরা সবচেয়ে বেশি নিগৃহীত হচ্ছেন এবং অনেকে মেয়াদ শেষের আগেই দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন।

আরেকটি সমস্যা হচ্ছে, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় অদক্ষ শ্রমিকের চাহিদা কমতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় বিদেশে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শ্রমিক পাঠানোর দিকেই মনোযোগ বাড়াতে হবে। সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশে যে শ্রমিকেরা যান, তাঁরা স্থানীয় ভাষা না জানায় নানা সমস্যার সম্মুখীন হন। এসব সমস্যা কিছু প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব নয়, শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা দরকার। নতুন পাঠ্যসূচি এই বাস্তবতার আলোকেই প্রণয়ন করা হয়েছে।

শিক্ষা খাতে বাংলাদেশের বরাদ্দ দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে কম—জিডিপির মাত্র ২ দশমিক ১ শতাংশ। অথচ ইউনেসকো বা জাতিসংঘের পরামর্শ হচ্ছে, শিক্ষা খাতে জিডিপির ৪ থেকে ৬ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাইরেও কিছু মন্ত্রণালয় শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে। তারাও এই খাতে কিছু বরাদ্দ পায়। সে কারণে ওই

অর্থ হিসাবের মধ্যে আসে না বলে জানা যায়। বৈশ্বিক অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, যেসব দেশ শিক্ষায় বেশি বরাদ্দ দেয়, তারাই অন্যদের চেয়ে এগিয়ে যায়।

এদিকে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে বেরিয়ে আসবে ২০২৬ সালে। তারপর হয়তো দেনদরবার করে আরও কিছুদিন অগ্রাধিকারমূলক কিছু সুবিধা পাওয়া যাবে। সেই পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক পরিসরে প্রতিযোগিতা করতে হবে। ফলে তখন আর অদক্ষ ও কম মজুরির শ্রমিকদের দিয়ে চলবে না। প্রতিযোগিতা করতে দক্ষ শ্রমিকের দরকার হবে।

সরকার নতুন যে পাঠ্যসূচি প্রণয়ন করেছে, তা অনেকটা এই উদ্দেশ্যেই। মূলত মুখস্থ করে পরীক্ষার হলে উগরে দেওয়ার রীতি থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে আনাই এর মূল উদ্দেশ্য। লক্ষ্য হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা রপ্ত করানো। সে লক্ষ্যে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোনো ধরনের পরীক্ষা থাকবে না।

এ ছাড়া এসএসসি ছাড়া আর কোনো বোর্ড পরীক্ষাও থাকবে না। তবে বছরজুড়ে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও সক্ষমতার পরীক্ষা নেওয়া হবে। উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গ্রাফিকস ডিজাইন, কাঠের কাজ, গাড়ি মেরামত, শিশুর যত্নআত্তি, পানির লাইন মেরামত—এসব কোর্সের মধ্য থেকে দুটি বাধ্যতামূলক করা হবে। শেখানো হবে কোডিং। আর সরকার আরও কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করবে।

তবে বাস্তবতা হলো, এর জন্য বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষিত করতে হবে। কারণ হিসেবে সৃজনশীল ব্যবস্থার ব্যর্থতার প্রসঙ্গ টানা যায়। অনেক ঢাকঢোল পিটিয়ে সৃজনশীল পদ্ধতি চালু করার পরও দেখা গেল, যে লাউ সে-ই কদু।

কথা ছিল, এ পদ্ধতিতে মুখস্থনির্ভরতা বা প্রাইভেট টিউশনের ওপর নির্ভরশীলতা কমে আসবে। কিন্তু বাস্তবে তার উল্টো ঘটল। শিক্ষকদের প্রস্তুতি না থাকাটা যার প্রধান কারণ। আরেকটি কারণ হলো, শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন। এ বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে শিক্ষকদের বড় অংশ শ্রেণিকক্ষে এই সৃজনশীল পদ্ধতিতে পাঠদানে আগ্রহী নয়।

প্রাথমিক শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তিতে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশীদের ছাড়িয়ে গেলেও গুণগত মানের দিক থেকে এখনো অনেকটাই পিছিয়ে। বিশ্বব্যাংকের তথ্যানুসারে, ১০ বছর বয়সী শিশুর অর্ধেকের বেশি বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করলেও পড়ার দক্ষতার দিক থেকে পিছিয়ে আছে। আর ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী কিশোর-তরুণদের এক-তৃতীয়াংশের বেশি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ বা কাজে নেই।

কোভিডের কারণে দীর্ঘদিন বিদ্যালয় বন্ধ থাকার কারণে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। কিন্তু এখন সামনে এগোনোর সময়। শিক্ষার মানোন্নয়নে মনোযোগ দিয়ে শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি ও যুক্তিবোধ শাণিত করতে হবে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত আজ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সিইও সরবরাহকারী দেশ। সে জন্য তাঁদের আয়ও বেশি। অন্যদিকে আমাদের দেশের মানুষ মূলত কায়িক শ্রম দিতে বিদেশে যাচ্ছেন। তাই তাঁদের আয় কম।

এখন সারা পৃথিবীতে নিয়োগদাতারা কর্মীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যে দুটি গুণ খোঁজেন, তা হলো বিশ্লেষণী দক্ষতা, সমস্যা সমাধান ও যোগাযোগ দক্ষতা। প্রযুক্তিভিত্তিক এক কোম্পানির প্রধান নির্বাহীর ভাষ্য—একজন নিয়োগপ্রার্থী পাবলিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েও যদি কোম্পানির বাস্তব সমস্যা সমাধানে দক্ষ না হন, তাহলে তো চলবে না। অর্থাৎ শিক্ষার উদ্দেশ্য এখন নিছক জ্ঞানার্জন নয়, সমস্যা সমাধান করাও তার উদ্দেশ্য। তবে জ্ঞানার্জনের সঙ্গে সমস্যা সমাধানের বিরোধ নেই।

বাস্তবতা হলো, আধুনিক জগতের এসব চাহিদা পূরণের সমাধান আমাদের পাঠ্যক্রমে নেই। কেউ যদি ইংরেজিমাধ্যম (ভার্সন নয়) ও বাংলামাধ্যমের পাঠ্যক্রম তুলনা করেন, তাহলেই ব্যাপারটা পরিষ্কার হয়ে যাবে। তবে সরকারের প্রাক্‌-প্রাথমিক শিক্ষাক্রমে বেশ পরিবর্তন নিয়ে আসা হয়েছে। সেই পাঠ্যক্রম ঠিকঠাক অনুসৃত হলেও শিক্ষণ জোরদার হতো। জেলা বা উপজেলা সদরে তা কিছুটা হলেও ইউনিয়ন পর্যায়ের পরিস্থিতি একেবারেই নাজুক। সেখানে কে কী করল তা দেখার কেউ নেই। আর যে দেশে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি হয়, সেখানে শিক্ষকেরা পাঠদানের চেয়ে ঘুষের টাকা তুলতেই বেশি ব্যস্ত থাকবেন, সেটাই স্বাভাবিক।

আর এই পাঠ্যসূচি পড়ানোর মতো প্রশিক্ষণ শিক্ষকদের নেই। ফলে প্রত্যেক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যেই শিক্ষণের ঘাটতি দেখা যায়। স্বল্পশিক্ষিত যে মানুষেরা বিদেশে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে যাচ্ছেন, তাঁরাও এই শিক্ষাব্যবস্থার ফসল। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও সেভাবে পান না তাঁরা। ফলে যা হওয়ার তাই হয়, তাঁরা বিদেশে গিয়ে কম মজুরিতে কায়িক শ্রম করেন।

নতুন এই পাঠ্যসূচি ২০২৫ সাল থেকে বাস্তবায়ন শুরু হবে। সম্প্রতি দ্য ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে এই পাঠ্যসূচির প্রশংসা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, বাংলাদেশ শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। উচ্চবিদ্যালয়ের জন্য যে পাঠ্যসূচি করা হয়েছে, তাতে দক্ষতার ঘাটতি অনেকটাই মেটানো যাবে, আমরা এখন তেমন আশাই করি। তবে সবকিছু নির্ভর করছে বাস্তবায়নের ওপর।

শ্রমভিত্তিক ও অনানুষ্ঠানিক খাতনির্ভর অর্থনীতির জন্য খুব বেশি শিক্ষিত-প্রশিক্ষিত মানুষের প্রয়োজন হয় না, বাংলাদেশই এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। কোভিডের সময় দেখা গেল, এই অনানুষ্ঠানিক খাতের মানুষের জীবন সবচেয়ে অরক্ষিত। তাঁদের আয় কমেছে সবচেয়ে বেশি, অনিশ্চয়তাই তাঁদের নিত্যসঙ্গী। ফলে এ পরিস্থিতির উত্তরণে অর্থনীতি ও শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তন দরকার। আর এলডিসি উত্তরণের পর প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে গেলে এই অদক্ষ মানুষদের দিয়ে যে চলবে না, তা এখন সবাই বলছেন। এখন সেটা অনুধাবনের সময় এসেছে।

সংগ্রহঃ প্রতীক বর্ধন প্রথম আলোর সহসম্পাদক।

বরিশালে ৫ সদস্যের পুরো পরিবারের ইসলাম গ্রহণ।

বৃহস্পতিবার ২৬ নভেম্বর ২০২১, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২০ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নের কলাবাড়িয়া গ্রামের খ্রিস্টানপাড়ার পুরো পরিবারের পাঁচ সদস্য খ্রিস্টান ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) বিকালে বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এনায়েত উল্লাহর আদালতে উপস্থিত হয়ে এফিডেভিটের মাধ্যমে তাদের নামও পরিবর্তন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রথমে স্থানীয় মসজিদের ইমামের কাছে কালেমা পড়ে এবং পরে আদালতের মাধ্যমে খ্রিস্টান ধর্ম ছেড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন ছিন্টু রায়, তার স্ত্রী লিন্ডা রায়, ছেলে ভিক্টর রায়, এ্যাডমন্ড রায় ও মেয়ে উর্মী রায়।

দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে যাতায়াত করতেন ছিন্টু রায়। পেশায় তিনি মাঠমিস্ত্রী। ছিন্টু খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারী হলেও মোবাইলে শুনতেন ইসলামি বক্তাদের বয়ান। পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথেও ইসলামের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন। এক পর্যায়ে ইসলাম ধর্মের প্রতি ভালো লাগার সৃষ্টি হয় ৫ সদস্যের পুরো পরিবারটির।

বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. এনায়েত উল্লাহ’র আদালতে উপস্থিত হয়ে এফিডেভিটের মাধ্যমে তাদের নতুন নাম রাখা হয়েছে সেন্টু ইসলাম খলিফা, স্ত্রী আয়েশা খলিফা, ছেলে তামিম ইসলাম খলিফা, রিয়াজুল ইসলাম খলিফা ও মেয়ে উর্মী ইসলাম খলিফা।

সেন্টু ইসলাম খলিজা জানান, ইসলামের প্রতি ভালো লাগা, ভালোবাসা থেকেই পুরো পরিবার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। সারা জীবন রাসুলের (স.) দেখানো পথেই চলতে চান তারা।

সুত্র ঃ- https://www.facebook.com/526492510779948/posts/4704167089679115/

বিয়ের পোষাকেই পরীক্ষা দিয়ে ভাইরাল তরুণী।

বৃহস্পতিবার ২৬ নভেম্বর ২০২১, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২০ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

বিয়ে মানেই কি সংসারের জালে জড়িয়ে যাওয়া? নিজের পছন্দ-অপছন্দ, চাহিদা জলাঞ্জলি দেওয়া? এসব প্রশ্ন নিয়ে তর্ক বিতর্কের শেষ নেই। তবে ইচ্ছা থাকলে নিজের চাহিদাপূরণে বিয়ে যে কোনও বাধাই হতে পারে না, তা প্রমাণ করে দিলেন গুজরাটের তরুণী। তাকে নিয়েই চর্চায় মশগুল নেটদুনিয়া।

বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, কনের সাজে সেজে এক তরুণী মাথা নিচু করে পরীক্ষায় খাতায় লিখে চলেছেন। তার পরনে লাল রংয়ের লেহেঙ্গা। খুব মন দিয়ে লেখালেখি করছেন তিনি। তার আশেপাশে আরও অনেকেই পরীক্ষা দিচ্ছেন। ভিডিও দেখেই স্পষ্ট ওই তরুণী পরীক্ষাকেন্দ্রে বসেছিলেন।

ভাইরাল হওয়া ওই তরুণী শিবাঙ্গী বাগথারিয়া। তিনি গুজরাটের বাসিন্দা। রাজকোটের পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলেন তিনি। পঞ্চম সেমিস্টারের পরীক্ষা ছিল তার। এবার নিশ্চয়ই জানতে ইচ্ছা করছে কী কারণে কনের পোশাকে পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলেন ওই তরুণী? শিবাঙ্গী জানান, দিওয়ালির মরশুমে বিয়ের দিনক্ষণ স্থির হয়েছিল। পরীক্ষার দিন ঘোষণার পর কার্যত মাথায় হাত পড়ে তরুণীর। কারণ, তিনি দেখেন বিয়ের দিনই পড়ে গিয়েছে পঞ্চম সেমিস্টারের পরীক্ষা। জীবনের বিশেষ দিনেও পরীক্ষা না দিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি তরুণী। তাই কনের পোশাকেই পরীক্ষাকেন্দ্রে চলে যান তিনি। সঙ্গে ছিলেন তার হবু স্বামী। পরীক্ষা দেওয়ার পর সোজা অনুষ্ঠানস্থলে চলে যান শিবাঙ্গী। এরপর বিশেষ মানুষের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন তিনি।

বিয়ের পোশাকে পরীক্ষা দেওয়ার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হওয়া মাত্রই ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটিতে লাইক এবং কমেন্টের ঝড় বইতে থাকে। জীবনের বিশেষ দিন বলে যে তিনি পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করেননি, তাতে ওই তরুণীকে সাধুবাদ জানিয়েছেন প্রায় সকলেই। এখনও বহু তরুণীই বিয়ের পর নিজের পছন্দ, অপছন্দকে গুরুত্ব দেন না। তাদের কাছে শিবাঙ্গীই উদাহরণ হয়ে উঠুন, এমনটাই চান অনেকেই। সূত্র: টাইমস নাউ।

ইলিশের গায়ে চিহ্ন দিয়ে উজানে ছাড়ছে ভারত।

বৃহস্পতিবার ২৬ নভেম্বর ২০২১, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২০ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

ফারাক্কায় গঙ্গা নদীর উত্তরে ইলিশের গায়ে চিহ্ন দিয়ে উজানের দিকে সেগুলোকে ছেড়ে দিচ্ছে ভারতের সেন্ট্রাল ইনল্যান্ড ফিশারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউট।
ফারাক্কা বাঁধে গঙ্গার মূলধারার যেসব এলাকায় ইলিশ ডিম পাড়ে, সেসব সংরক্ষণই এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। সেই সঙ্গে, উত্তরে ইলিশের গতিপথ জানতেও নেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগ।
বিশ্বের যে ১১টি দেশে ইলিশ উৎপাদন হয় তার মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে শীর্ষস্থানে। বর্তমানে বিশ্বের ৮৬ শতাংশ ইলিশের জোগান দেয় বাংলাদেশ, যেখানে ভারত দেয় ১০ শতাংশ জোগান।
মাত্র ৪ বছর আগেই বিশ্বের ৬৫ শতাংশ ইলিশের জোগান দিত বাংলাদেশ। এদিকে, ৫ বছর আগে ভারতে ইলিশের উৎপাদন ছিল বিশ্বের মোট উৎপাদনের ২৫ শতাংশ। ইলিশ বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট ইলিশ ধরার ফলেই ইলিশের এই সঙ্কট। ফলে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ইলিশ নিয়ে ফারাক্কা থেকে এলাহাবাদ পর্যন্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাড়াতে চাইছে ভারত সরকার।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই নতুন এই উদ্যোগ নিল ভারতের সেন্ট্রাল ইনল্যান্ড ফিশারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউট। জাটকা (ছোট ইলিশ) মাছ ধরে সেগুলোর গায়ে চিহ্ন দিয়ে গঙ্গার উত্তর দিকে নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। পানি থেকে তোলা হলে বেশ অল্প সময়ই বাঁচে ইলিশ। ফলে বেশ সতর্কতার সাথে এই কাজ করা হচ্ছে।
ছেড়ে দেওয়া চিহ্নিত ইলিশগুলো যদি নদীর উত্তর দিকের এলাকার কোনো মৎস্যজীবীর হাতে পড়ে, তাহলেই ইলিশের গতিবিধি বোঝা যাবে। সেজন্য মৎস্যজীবীদের চিহ্নিত ইলিশ প্রতি দু’শো টাকা করে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা।
ইনস্টিটিউটের একজন কর্মকর্তা সঞ্জীবকুমার জানান, ইতোমধ্যে প্রায় আড়াইশো চিহ্নিত ইলিশ ধরা পড়েছে গঙ্গার উজানের বিভিন্ন এলাকা থেকে।
সেন্ট্রাল ইনল্যান্ড ফিশারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এক সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, ফারাক্কার পর থেকে উজানের দিকে ইলিশের প্রজনন এখন প্রায় বন্ধ। ফারাক্কা বাঁধ টপকে গঙ্গার উজানে ইলিশ প্রবেশ করতে না পারায় এই পরিস্থিতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অথচ এই বাঁধ চালু হওয়ার আগে এলাহাবাদ পর্যন্ত প্রচুর ইলিশ পাওয়া যেত।
নদীর উজানে ব্যাপক পলি, নদী দূষণ এবং নির্বিচারে জাটকা ধরার ফলে ফারাক্কায় ইলিশের পরিমাণ ব্যাপকহারে কমে গিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে গঙ্গার নির্দিষ্ট এলাকাগুলোকে ডিম পাড়ার উপযোগী করে তুলে সেগুলো সংরক্ষণের মাধ্যমে নদীতে ইলিশের সংখ্যা বাড়ানোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ভারত।
এদিকে ফারাক্কায় ২৫০ মিটার লম্বা ও প্রায় ২৬ মিটার চওড়া একটি নতুন নেভিগেশনাল লকগেট তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। পুরনো লকগেটটি চালু হয় ১৯৭৮ সালে। তারপর থেকেই উজানে ইলিশের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, নতুন নেভিগেশনাল লকগেট চালু হয়ে গেলে উজানে এলাহাবাদ পর্যন্ত ইলিশের জোগান বাড়বে। এছাড়া মাছের ডিম পাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সেন্ট্রাল ইনল্যান্ড ফিশারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মৎস্য বিশেষজ্ঞ এ কে সাহু জানান, “ফারাক্কায় ইলিশ নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা শুরু হয়েছে। ডাউন স্ট্রিমে গঙ্গা থেকে ইলিশ ধরে বিশেষ ব্যবস্থায় ট্যাগিং করে তা ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে আপ স্ট্রিমে। এরপর মাছগুলোর গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছে। এতে ইলিশের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে।” সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

চীন-মার্কিন শীতল যুদ্ধ, উভয়সঙ্কটে পড়েছে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো।

বৃহস্পতিবার ২৬ নভেম্বর ২০২১, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২০ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

একটি সম্ভাব্য ইউএস-চীন স্নায়ুযুদ্ধ রোধ করা উপসাগরীয় আরব দেশগুলো, বিশেষ করে ওয়াশিংটনের প্রধান অংশীদার- সউদী আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্য একটি শীর্ষ পররাষ্ট্রনীতি অগ্রাধিকার হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে৷ কিন্তু, সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতে নির্মিত একটি গোপন চীনা বন্দরের কথা প্রকাশ্যে আসার পরে দুই পরাশক্তির সাথে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখা ছোট রাষ্ট্রগুলোর জন্য কঠিন হয়ে উঠছে।

ওয়াশিংটনের প্রতিবাদের কারণে আমিরাতের রাজধানী আবুধাবির কাছে চীনা স্থাপনাটির নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জোর দিয়ে বলে যে, এটি নিছক একটি শিপিং পোর্ট ছিল। তবুও, এটি বোধগম্য যে মার্কিন কর্মকর্তারা সন্দেহ করেন যে, চীন উপসাগরে একটি সামরিক স্থাপণা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে। উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য, তাদের প্রধান কৌশলগত অংশীদার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের সবচেয়ে বড় জ্বালানি গ্রাহক চীনের মধ্যে বেছে যে কোন একজনকে নিতে বাধ্য হওয়ার ভয় এখন ইরান এবং মুসলিম ব্রাদারহুড থেকে আল-কায়েদা পর্যন্ত গোষ্ঠীগুলোর হুমকির পাশাপাশি স্থান পেয়েছে। এই উদ্বেগগুলো বিশ্বব্যাপী শক্তির কেন্দ্রস্থলে ক্ষমতার অনিশ্চিত বাস্তবতা সম্পর্কে অনেক কিছু প্রকাশ করে।

এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ চীনের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতার দিকে স্থানান্তরিত হওয়ার পরেও, উপসাগরীয় ভূ-রাজনৈতিক কথোপকথনের একটি বড় অংশ রয়ে গেছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যখন চীনের উত্থানকে মোকাবেলা করার জন্য ‘এশিয়ার পিভট’ এর পক্ষে কথা বলছিলেন, তখন তিনি পরোক্ষভাবে ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে সম্পদের স্থানান্তরের পরামর্শ দিয়েছিলেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অধীনেও সেই আকাঙ্ক্ষা অব্যাহত রয়েছে। তবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক সম্পদের কোনো বড় ধরনের স্থানান্তর হয়নি।

এর কারণ হল পূর্ব এশিয়ার প্রতি মার্কিন মনোযোগের একটি পিভট উপসাগর এবং এর শক্তি সংস্থানগুলোকে টেনে আনবে। চীনসহ পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ গতিশীল অর্থনীতি উপসাগর থেকে রপ্তানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। দুটি অঞ্চল অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। তবুও, ওয়াশিংটনের উপসাগরীয় আরব অংশীদারদের তাদের নিরাপত্তার প্রতি মার্কিন প্রতিশ্রুতি দুর্বল হওয়ার বিষয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার অনেক কারণ রয়েছে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ইরান যখন সউদী আরামকোর তেল স্থাপনায় হামলা চালায়, তখন ট্রাম্প প্রশাসন কোনো আমেরিকান নিহত হয়নি বলে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। কিন্তু হামলার পরে প্রায় এক সপ্তাহের জন্য সউদী উৎপাদন বন্ধ করে দেয় যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করে। অধিকন্তু, এটি নির্ভুল দিকনির্দেশনা এবং নির্ভুলতায় ইরানি দক্ষতার একটি উদ্বেগজনক যোগ্যতা প্রদর্শন করেছে।

ওয়াশিংটনের নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে উপসাগরীয় আরবদের সন্দেহ এখান থেকে সূত্রপাত হলেও পুরোপুরি শুরু নয়। সুতরাং, কৌশলগত বৈচিত্র্যের বিস্তৃত প্যাটার্নের অংশ হিসাবে, সউদী আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত রাশিয়া এবং চীনের সাথে সম্পর্ককে মজবুত করছে। ইরান ও তুরস্ক সহ প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে ক্রমবর্ধমান হারে উন্নতি করছে এবং সম্ভাব্য নতুন অংশীদার ইসরাইলের সাথেও যোগাযোগ করছে। আপাতত, এই দেশগুলোর বাইরেও তাদের নিরাপত্তা সমর্থন প্রয়োজন, এবং শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রই এটি কার্যকরভাবে প্রদান করতে পারে। তাই তারা ওয়াশিংটনকে তাদের প্রধান কৌশলগত অংশীদার হিসেবে রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

গাদ্দাফিপুত্রের আপিল ঠেকাতে আদালতে বন্দুকধারীদের হামলা।

বৃহস্পতিবার ২৬ নভেম্বর ২০২১, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২০ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন করতে চেয়েছিলেন গাদ্দাফিপুত্র সাইফ আল-ইসলাম আল-গাদ্দাফি (৪৯)। সেই আবেদন করার আগে বন্দুকধারীরা আদালতে হামলা চালিয়েছে বলে শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে ১৪ নভেম্বর সাইফ আল-ইসলাম আল-গাদ্দাফি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। গত বুধবার তাঁর মনোনয়নপত্রসহ ২৫ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করে নির্বাচন কমিশন

নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে আবেদন জানাতে পারবেন তিনি। আগামী ২৪ ডিসেম্বর লিবিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

লিবিয়ার সরকার শুক্রবার ওই হামলাকারীদের ‘অপরাধীদের একটি দল’ বলে অভিহিত করেছে। সরকার জানায়, তাদের ‘ঘৃণ্য’ আক্রমণের ফলে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের শহর সেবার আদালত বন্ধ হয়ে যায়।

ওই হামলার ব্যাপারে গাদ্দাফিপুত্রের আইনজীবী খালেদ আল-জাইদি জানান, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাতে আবেদন করতে যাওয়ার সময় বন্দুকধারীরা তাকে বাধা দেয়।

খালেদ আল-জাইদি এক ভিডিও বার্তায় বলেন, আপিল শুনানির কয়েক ঘণ্টা আগে অস্ত্রের মুখে বন্দুকধারীরা আদালতের সব কর্মীকে আদালত ভবন থেকে বের করে দেন।

লিবিয়ার নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় নির্বাচনী আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট পদে লড়াই করার যোগ্যতা হারিয়েছেন সাইফ আল-ইসলাম। ২০১৫ সালে তার অবর্তমানে ত্রিপোলির একটি আদালত সাইফ আল–ইসলামের নামে আমৃত্যু কারাদণ্ড ঘোষণা করেন। তার বিরুদ্ধে গাদ্দাফির আমলে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ ছিল।

আগামী ২৪ ডিসেম্বর লিবিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গাদ্দাফি যুগের অবসানের পর লিবিয়াজুড়ে যে সংঘাত চলছে, এ নির্বাচনকে সেই সংঘাত থামানোর মাধ্যম মনে করা হচ্ছে। সূত্র : রয়টার্স।

সাবধান, আসছে করোনার ‘সুপার ভ্যারিয়েন্ট’।

বৃহস্পতিবার ২৬ নভেম্বর ২০২১, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২০ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

করোনাভাইরাসের আরও একটি নতুন ভ্যারিয়েন্ট বা ধরন শনাক্ত হয়েছে বলে দাবি ব্রিটিশ গবেষকদের। নতুন এই ধরনটিকে বলা হচ্ছে ‘সুপার ভ্যারিয়েন্ট’।

গবেষকরা বলছেন, এটা এখন পর্যন্ত শনাক্ত করোনার ধরনগুলোর মধ্যে সর্বাধিক রূপান্তরিত ধরন এবং এটি ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে। আফ্রিকার মরুপ্রধান দেশ বতসোয়ানায় এটি প্রথম শনাক্ত হয়।

বর্তমানে তিনটি দেশে ১০ জন এতে আক্রান্ত হয়েছেন। এদিকে করোনা সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, টিকা জীবন বাঁচায়মাত্র, সংক্রমণ রোধ করে না। খবর দ্য গার্ডিয়ান ও এএফপিসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের।

করোনার নতুন ওই ধরনটি প্রথমে বতসোয়ানায় শনাক্ত হওয়ায় একে বতসোয়ানা ভ্যারিয়েন্ট বলে ডাকা হচ্ছে। তবে আগের ভ্যারিয়েন্টগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে এর নামকরণ করা হবে। এটি একই সঙ্গে ৩২ মিউটেশন বা রূপ নিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। এর মধ্যে কয়েকটি রূপ অতি সংক্রামক। এমনকি সেগুলো টিকা প্রতিরোধী।

করোনা মূলত একটি সার্স ভাইরাস। এর শাস্ত্রীয় নাম হচ্ছে সার্স-কভ-২। সব ভাইরাসই সময়ের সঙ্গে স্বভাবতই বদলাতে থাকে। সার্স-কোভ-২-এর ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ২০২০ সালের শুরুর দিকে ভাইরাসটি প্রথম চিহ্নিত হয়। এরপর এটির হাজার হাজার মিউটেশন হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বেশির ভাগ মিউটেশনের ফলে ভাইরাসটির মূল গঠনের ওপর খুব কম বা একেবারেই কোনো প্রভাব পড়ে না। সময়ের সঙ্গে এটি বিলুপ্তও হয়ে যায়। কিন্তু কোনো কোনো মিউটেশন এমনভাবে ঘটে, যা ভাইরাসটিকে টিকে থাকতে এবং বংশবৃদ্ধিতে সহায়তা করে। সার্স-কভ-২-এর এখন পর্যন্ত অসংখ্যবার মিউটেশন হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর ভ্যারিয়েন্টগুলো হচ্ছে, আলফা (প্রথম ধরা পড়ে ব্রিটেনে), বেটা (দক্ষিণ আফ্রিকা), গামা (ব্রাজিল) ও ডেল্টা (ভারত)। এছাড়া ল্যাম্বডা ও মিউ প্রথম শনাক্ত হয় যথাক্রমে পেরু ও কলম্বিয়ায়।

গত বছরের ডিসেম্বরে ভারতে প্রথম করোনার ডেল্টা ধরন শনাক্ত হয়। দ্রুত এই ধরনটি রূপ বদলাতে থাকে। সেই সঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে থাকে ভারতের সীমানার বাইরেও। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে এখন করোনাভাইরাসের জিনবিন্যাসের ৯৯.৫ শতাংশ নমুনাই ডেল্টা ধরনের। শুধু ডেল্টা নয়, করোনার এই ধরনটি রূপ বদলে আরও শক্তিশালী হয়েছে ব্রিটেনে। দেশটিতে ইতোমধ্যে শনাক্ত হয়েছে করোনার ডেল্টা প্লাস ধরন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেল্টার তুলনায় ডেল্টা প্লাস ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বেশি সংক্রামক।

টিকা সংক্রমণ রোধ করে না-বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা : করোনাভাইরাস নিয়ে আবারও সতর্কতা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বড়দিনের উৎসবকে সামনে রেখে সংস্থাটি নতুন হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বলেছে, সামাজিক মেলামেশা আবারও মহামারি শুরুর আগের অবস্থায় গিয়েছে।

এর ফলে সামনে ছুটির দিনগুলোয় এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানম গেব্রিয়াসুস বলেন, আমাদের মধ্যে একটি ধারণা সৃষ্টি হয়েছে যে, করোনাভাইরাসের টিকা নেওয়ার ফলে বুঝি এই মহামারি শেষ হয়ে গেছে। যেসব মানুষ টিকা নিয়েছেন তারা মনে করছেন, তাদেরকে আর কোনো সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে না। মূলত টিকা জীবন বাঁচায়, সংক্রমণ রোধ করে না।

মার্চের মধ্যে ইউরোপে আরও ৭ লাখ মানুষ মারা যাবে: হু

বৃহস্পতিবার ২৬ নভেম্বর ২০২১, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২০ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

ইউরোপের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)।

সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, করোনা সংক্রমণে বর্তমান গতি অব্যাহত থাকলে আগামী মার্চের মধ্যে এই অঞ্চলে আরও সাত লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটতে পারে।  খবর আলজাজিরা ও  বিবিসির।

প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে ইউরোপে এ পর্যন্ত ১৫ লাখ মানুষ মারা গেছেন।  মহামারির কেন্দ্রস্থল হিসাবে ইউরোপের প্রত্যাবর্তনের জন্য কিছু দেশের ভ্যাকসিন প্রদানের মন্থরগতিকে দায়ী করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি কারণ হিসেবে অত্যন্ত সংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট, ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় ঘরে মানুষের সময় কাটানো এবং বিধিনিষেধ শিথিলের কথা বলা হয়েছে।

ডব্লিউএইচও বলেছে, ইউরোপের ৫৩ দেশের মধ্যে ২৫টি দেশেই করোনা পরিস্থিতি ‘অতিমাত্রার উদ্বেগজনক’।

এই ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে আগামী বছরের মার্চের শুরুতে মোট মৃতের সংখ্যা ২২ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে।