দেশে করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ নিয়ে ভাইরাসটি দেশের ২৭ হাজার ৮৮৭ জনের প্রাণ কেড়ে নিল।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ২৪৭ জন। এখন পর্যন্ত মোট করোনা শনাক্ত হয়েছেন ১৫ লাখ ৭০ হাজার ৪৮৫ জন।
দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত বছরের ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই বছর সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছিল ৬৪ জনের।
ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় চলতি বছর জুন থেকে রোগীর সংখ্যা হু-হু করে বাড়তে থাকে। ২৮ জুলাই একদিনে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল।
চলতি বছরের গত ৭ জুলাই প্রথমবারের মতো দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৫ ও ১০ আগস্ট ২৬৪ জন করে মৃত্যু হয়, যা মহামারির মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু।
বেশকিছু দিন ২ শতাধিক মৃত্যু হয়। এরপর গত ১৩ আগস্ট মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ এর নিচে নামা শুরু করে। দীর্ঘদিন শতাধিক থাকার পর গত ২৮ আগস্ট মৃত্যু ১০০ এর নিচে নেমে আসে।
বাংলাদেশিদের মাথাপিছু আয় আড়াই হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে। নতুন ভিত্তিবছর ধরে অর্থনীতির সূচক পরিমাপ করায় গত অর্থবছরের সংশোধিত হিসেবে বার্ষিক গড় মাথাপিছু আয় বাড়ছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাবে দেশের মাথাপিছু আয় এখন ২ হাজার ৫৫৪ ডলার।
২০২০-২১ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় এক লাফে ৩২৭ ডলার বা ১৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেড়েছে।
২০১৫-১৬ অর্থবছরকে ভিত্তিবছর ধরে নতুন এই খসড়া হিসাব পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অনুমাদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জিডিপি শাখার পরিচালক জিয়াউদ্দিন আহমেদ। এতদিন ২০০৫-২০০৬ ভিত্তিবছর ধরে এসব গণনা করা হতো।
নতুন হিসাবে, বাংলাদেশের জিডিপির বেড়ে ৪০৯ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা বিবিএসের আগের হিসেবে ছিল ৩২৮ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার।
ফলে গড় মাথাপিছু আয়ও ২ হাজার ৫৫৪ ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা আগের হিসেবে ছিল ২ হাজার ২২৭ ডলার।
দেশের অভ্যন্তরে কৃষি, শিল্প ও সেবাসহ সকল খাত থেকে সকল আয়ের সঙ্গে প্রবাসীরা যে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠান তা যুক্ত করে মোট জাতীয় আয় হিসেবে হিসাব করা হয়। এক অর্থবছরে জাতীয় আয়কে দেশের মোট জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে মাথাপিছু আয় হিসাব করা হয়।
মাথাপিছু আয় কোনো ব্যক্তির একক আয় নয়। দেশের অভ্যন্তরের পাশাপাশি রেমিট্যান্সসহ যত আয় হয়, তা দেশের মোট জাতীয় আয়। সেই জাতীয় আয়কে মাথাপিছু ভাগ করে দেওয়া হয়।
গতবারের মতো এবারও মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। গত অক্টোবরে দেওয়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২১ সালে চলতি মূল্যে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি হবে ২ হাজার ১৩৮ ডলার। আর ভারতের মাথাপিছু জিডিপি হবে ২ হাজার ১১৬ ডলার।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সপ্তম আসরটি দু:স্বপ্নের মতো কেটে গেলো বাংলাদেশ দলের।
বাছাই পর্বের বাধা পার করা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের নেতৃত্বাধীন দলটি চূড়ান্ত পর্বে হেরে যায় শ্রীলংকা, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকার ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে রীতিমতো হোয়াইটওয়াশ হলো টাইগাররা।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বাছাই পর্বে হেরে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করা বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট শেষ করে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৮ উইকেটের হারে।
অসিদের বিপক্ষে হারের পর বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বলেন, আপনার যখন এই ধরণের পারফরম্যান্স থাকে, তখন অনেক কিছুই বলা যায়। এমন অনেক ক্ষেত্র রয়েছে যা আমাদের দেখতে হবে, বিশেষ করে আমাদের ব্যাটিং। বাংলাদেশে ফিরে গেলে কী ভুল হয়েছে তা বের করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জিততে হলে পাওয়ার প্লের ম্যাচগুলো কাজে লাগাতে হবে। সে জন্য আপনার হার্ড হিটার ব্যাটসম্যান প্রয়োজন। দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সেই গতির প্রয়োজন, কিন্তু আমরা তা করতে করিনি। কারণ আমাদের হার্ড হিটার ব্যাটার নেই।
রিয়াদ আরও বলেন, বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিয়ে কথা হচ্ছে, বিশ্বকাপ খেলতে আসার আগে আমাদের কিছু ম্যাচে ধারাবাহিক জয় এসেছে। সেটা আমাদের আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে আপনাকে সব কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।
অধিনায়ক বলেন, আপনি যদি দেখেন, চূড়ান্ত পর্বে আমরা শ্রীলংকা আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয়ের সুযোগ তৈরি করেছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। আমি আশা করি সমর্থকরা আমাদের ওপর ভরসা রাখবেন; আগের মতোই সমর্থন করে যাবেন।
গত বছরের ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়। এরপর থেকে এই মহামারি এখনো সংক্রমণ করেই যাচ্ছে। তবে বাংলাদেশ এই মহামারিকে শঙ্কভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু এই মহামারিকালে বহু মানুষ কর্ম হারিয়েছেন, রুটি-রুজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।এর প্রভাবে দেশে নতুন করে ৩ কোটি ২৪ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়েছেন। করোনাকালে অভাব-অনটনে পড়ে বহু মানুষ রাজধানীসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহর ছেড়ে গ্রামে চলে গেছেন।
বৃহস্পতিবার ‘জীবিকা, খাপ খাইয়ে নেওয়া ও উত্তরণে কোভিড-১৯ এর প্রভাব’ শীর্ষক ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) এবং পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) যৌথ জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সংস্থা দুটি বলছে, চলতি বছরের মার্চ মাসে নতুন দরিদ্রের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৪৫ লাখ। গত ৬ মাসে ৭৯ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়েছেন। এ বছর এপ্রিল মাস থেকে দেওয়া লকডাউনের পর এই সংখ্যা বেড়েছে।
করোনাকালে মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর প্রভাব নিয়ে চার দফায় জরিপ করে সংস্থাটি দুটি। গত বছরের এপ্রিল মাসে প্রথম দফায় জরিপ করে তারা। পরে ওই বছরের জুন মাসে দ্বিতীয় দফায়, চলতি বছরের জুন মাসে তৃতীয় দফায় এবং সর্বশেষ গত ২১ আগস্ট থেকে ৮ সেপ্টেম্ববর পর্যন্ত জরিপ চালায় তারা। বিআইজিডি-পিপিআরসির এই জরিপে ৪ হাজার ৮৭২টি পরিবার। এর মধ্যে শহরের ৫৪ শতাংশ, গ্রামের ৪৫ শতাংশ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় এক শতাংশ পরিবার ছিল।
জরিপ প্রতিবেদনে সংস্থা দুটি জানিয়েছে, করোনাকালে দারিদ্র্যের কারণে দেশের ২৮ শতাংশ মানুষ শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যায়। সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, এদের মধ্যে ১৮ শতাংশ মানুষ শহরে আবার ফিরে এসেছে। অর্থাৎ ১০ শতাংশ মানুষ এখনো শহরে ফিরতে পারেনি।
জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, মানুষের খাদ্যের ক্ষেত্রে ব্যয় করোনাকালে তুলনামূলক কমে গেছে। শহরে দরিদ্র মানুষের মাথাপিছু ব্যয় ছিল ৬৫ টাকা। এখন তা ৫৪ টাকা। গ্রামে ব্যয় ছিল ৬০ টাকা, এখন ৫৩ টাকা। শুধু খাদ্য নয়, বাড়িভাড়া, চিকিৎসার ব্যয় শিক্ষা ও যোগাযোগ খাতে দরিদ্র মানুষের ব্যয়ও বেড়েছে। এ বছরের মার্চ মাসে শহরের বস্তিতে এ ব্যয় ছিল ৯৩৬ টাকা। গ্রামে এ সংক্রান্ত ব্যয় ৬৪৭ টাকা থেকে বেড়ে হয় ৭৭৭ টাকা। বাড়তি এসব ব্যয় মেটাতে শহরের দরিদ্র এবং গ্রামের মানুষদের ধার করতে হয়েছে। গ্রাম ও শহর- দুই জায়গার দরিদ্র মানুষ দোকানিদের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি ধার করেছেন। গ্রামে এই হার ৬২ শতাংশ, শহরে ৬০ শতাংশ। দৈনন্দিন চলার জন্যই সবচেয়ে বেশি ঋণ নেওয়া হয়েছে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর বলেন, সবচেয়ে বেশি বিপর্যয়ে শহুরে মানুষ। দারিদ্র্য বিমোচনের প্রচলিত প্রচেষ্টায় বা সামাজিক সুরক্ষার চলমান ধারায় এ দারিদ্র্য থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এ নিয়ে নতুন চিন্তা দরকার বলে মনে করেন তিনি।
এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বে চরম ব্যর্থ বাংলাদেশ অলিম্পিক ফুটবল দল এখন ঢাকায়। টুর্নামেন্ট শেষে বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টায় উজবেকিস্তান থেকে শূন্য হাতেই দেশে ফিরেছেন কোচ মারুফুল হকের শিষ্যরা। উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দে অনূর্ধ্ব-২৩ এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ কুয়েতের কাছে ১-০ গোলে হারলেও দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে টুটুল হোসেন বাদশাহরা সউদী আরবের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে হার মানে। বাছাইয়ে প্রথম ম্যাচের পর মাঝে স্বাগতিক উজবেকিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র ম্যাচে বাংলাদেশ অলিম্পিক দল ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল।
উজবেকিস্তান সফরে তিন ম্যাচে ১০ গোল হজম করা বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলের সব ফুটবলার ঢাকায় ফেরেননি। এখান থেকে জাতীয় দলে ডাক পাওয়া ৬ ফুটবলার বৃহস্পতিবার সকালে তাসখন্দ থেকে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন। এরা হলেন- টুটুল হোসেন বাদশা, ইয়াসিন আরাফাত, রিয়াদুল হাসান, রহমত মিয়া, মো. হৃদয় ও মাহবুবুর রহমান সুফিল। এদের সঙ্গে যোগ হয়েছেন তরুণ ফয়সাল আহমেদ ফাহিম। এই ৭ ফুটবলার এবং ৫ কর্মকর্তা এখন কলম্বোর পথে।
জাতীয় দলের বাকি খেলোয়াড়দের নিয়ে শুক্রবার ঢাকা থেকে কলম্বো রওয়ানা হবেন পর্তুগিজ কোচ মারিও লেমোস। সেখানে ৮ নভেম্বর চারজাতি টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ জাতীয় দল খেলবে সিসেলসের বিপক্ষে। টুর্নামেন্টের অন্য দুই দল হচ্ছে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ।
ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের মধ্যে ঢাকা থেকে নিউইয়র্কে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী বছরের মধ্যে বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশনের ক্যাটাগরি-ওয়ান অর্জন করতে পারলে ইউএস বাংলা ২০২৩ সালের মধ্যে নিউইয়র্কে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে। এছাড়া ইউরোপের বিভিন্ন গন্তব্যে লন্ডন, আমস্টারডাম, রোম, প্যারিসসহ বেশ কয়েকটি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষে বা আগামী বছরের জানুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এছাড়া একই বছর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে নতুন অনেক গন্তব্যে ফ্লাইট শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে ইউএস-বাংলার। এ লক্ষ্যে আগামী বছর ইউএস বাংলার বহরে তিনটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এবং ৪টি এটিআর ৭২-৬০০ এয়ারক্রাফট যুক্ত হতে যাচ্ছে।
২০২৩ সালের মধ্যে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজের বহরে আরও ৮টি এয়ারবাস, ৩২১-এলআর সিরিজের এয়ারক্রাফট যোগ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর ইউএস বাংলা একমাত্র দেশীয় এয়ারলাইন্স যারা প্রথমবারের মতো চীনের গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পেয়েছে। ২৬ এপ্রিল ২০১৮ থেকে এখন পযর্ন্ত ঢাকা থেকে গুয়াংজু রুটের ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পেয়েছে। এছাড়া চেন্নাই বাংলাদেশি নাগরিক যারা চিকিৎসা নিতে যান তাদের সেবা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে ইউএস বাংলা।
তিনি জানান, করোনাকালে বিভিন্ন দেশে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনতে ইউএস-বাংলা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১৫০টির বেশি স্পেশাল ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। কোভিড মহামারির মধ্যে বাংলাদেশ সরকার তথা সিভিল এভিয়েশন অথরিটির অনুমতি নিয়ে ইউএস-বাংলা প্যাসেঞ্জার এয়ারক্রাফটগুলোকে সাময়িকভাবে কার্গো এয়ারক্রাফটে রূপান্তর করে আয়ের পথকে কিছুটা সচল রাখার চেষ্টা করেছে।
দেশের এভিয়েশন ও ট্যুরিজম ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম ইন্ডাস্ট্রি বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারি সহায়তা চেয়ে আবেদন করেছে বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো। বিশেষ করে অ্যারোনটিক্যাল ও নন-অ্যারোনটিক্যাল চার্জকে সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা, জেট ফুয়েল প্রাইসকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিরূপণ করা ইত্যাদি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলো গঠনমূলক লেখনির মাধ্যমে ভূমিকা রাখতে আহ্বান জানান তিনি।
দেশে ভোক্তাপর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম আরও বাড়ানো হয়েছে। চলতি নভেম্বর মাসের জন্য বেসরকারি পর্যায়ে মূসকসহ প্রতি কেজি এলপিজি ১০৪ টাকা ৯২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০৯ টাকা ৪২ পয়সা করা হয়েছে।
একইসঙ্গে পরিবহণে ব্যবহৃত অটোগ্যাস নামে প্রচলিত এলপি গ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। নভেম্বর মাসের জন্য অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৫৮ দশমিক ৬৮ থেকে বাড়িয়ে ৬১ টাকা ১৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। লিটারে বেড়েছে প্রায় ২ টাকা ৫০ পয়সা। গেল মাসেই (অক্টোবর) ৮ টাকা ১২ পয়সা বাড়ানো হয়েছিল। এখন আবার বাড়ানো হলো।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এই দাম নির্ধারণ করেছে। বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) থেকেই এই দাম কার্যকর হবে। ফলে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম পড়বে ১ হাজার ৩১৩ টাকা, যা আগে ছিল ১ হাজার ২৫৯ টাকা। সে হিসাবে সিলিন্ডারপ্রতি ৫৪ টাকা বাড়ানো হলো।
এদিন রাজধানীর কাওরান বাজারে বিইআরসি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নতুন এই দাম ঘোষণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- কমিশনের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল, সচিব রুবিনা ফেরদৌসী, সদস্য মকবুল ই ইলাহি, আবু ফারুকসহ অন্য সদস্যরা।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাসাবাড়িতে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত (রেটিকুলেটেড) এলপিজির দাম প্রতি কেজি ১০১ টাকা ৬৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০৬ টাকা ১৯ পয়সা করা হয়েছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সময়টা বেশ খারাপ গেছে। একে একে সুপার টুয়েলভের চারটি ম্যাচে হারে তারা। আজ দুবাই ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিজেদের পঞ্চম ও শেষ ম্যাচে খেলতে নামে টাইগাররা। দলের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তারা চেস্টা করবেন অন্তত শেষ ম্যাচটায় যেন ভালো কিছু করতে পারেন। কিন্তু তা হলো না। টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৭৩ রানেই গুটিয়ে গেছেন তারা। অজিদের গতি, ঘূর্ণির তোপে পরে মাত্র ১৫ ওভার খেলতে সমর্থ হয় বাংলাদেশ। ম্যাচটিতে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মাত্র ১৯ রান দিয়ে পাঁচটি উইকেট নিয়েছেন অ্যাডাম জাম্পা। অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেনে টুনে ৭৩ রান করায় আজও বিশ্বকাপে নিজেদের সর্বনিম্ন রানের লজ্জার রেকর্ড ভাঙার হাত থেকে বেঁচে গেছে টাইগাররা। নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে লজ্জার রেকর্ড গড়ায় শঙ্কায় পরেও সেবার তা পার করতে সমর্থ হয়েছিল বাংলাদেশ। আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও লজ্জার হাত থেকে বেঁচেছে টাইগাররা। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন রান হলো ৭০। ভারতের মাটিতে হওয়া ২০১৬ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এ রান করেছিল বাংলাদেশ। এর আগে দুবাই স্টেডিয়ামে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পাওয়ার প্লেতেই চার উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে প্রথম ১০ ওভারে পাঁচটি উইকেট হারিয়ে ৫৮ রান তুলতে সমর্থ হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। প্রথম ১০ ওভারে মূলতঅজি পেসারদের গতির কাছে পরাজিত হয়েছে টাইগার ব্যাটসম্যানরা। ম্যাচের প্রথম ওভারে কোন রান করার আগে মিচেল স্টার্কের বলে বোল্ড হন লিটন দাস। একই ভাগ্য বরণ করেন সৌম্য সরকারও। তিনি ৫ রান করে জস হ্যাজেলউডের বলে বোল্ড হন। কয়েকদিন ধরে রান খরায় ভোগা মুশফিক ১ রান করে ম্যাক্সওয়েলের বলে এলবিডব্লিউ আউট হন। তখন দলের রান মাত্র ১০। এই সময়ে কিছুটা ধরে খেলার চেস্টা করেন নাঈম শেখ ও অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। দুজন মিলে বেশ কয়েকটি বাউন্ডারিও হাঁকান। তবে দলীয় ৩২ রানের সময় নাঈম হ্যাজেলউডের গতির বল মারতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন। তিনি ১৭ রান করে ফেরেন। এরপর চাপ আরো বাড়ে অ্যাডাম জাম্পার বলে আফিফ কোন রান করেই সাজঘরে ফিরলে। এরপর ১১তম ওভারেই জাম্পার বলে ফেরেন শামীম। তিনি ১৯ রান করেন। জাম্পার পরের বলেই এলবিডব্লিউ আউট হন মেহেদী হাসান। অ্যাডাম জাম্পা এরপর নিজের চতুর্থ ওভারে মোস্তাফিজকে ৪ ও শরিফুলকে শূণ্য রানে ফেরান। নিজেদের শেষ ম্যাচটসে হেরে মাহমুদউল্লাহ বলেছেন, আমাদের একটি ভালো সংগ্রহ করতে হবে। এই টুর্নামেন্টটা খারাপ যাচ্ছে। আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারিনি। আমাদের এখন গৌরব নিয়ে খেলতে হবে এবং নিজেদের প্রমাণ করতে হবে। কিন্তু অন্তত শুরুর দিকে তারা এটি করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ‘শেষ ভালোর আশায়’ ব্যাটিংয়ে নেমে চরম ব্যর্থ বাংলাদেশ দল। ‘মান রক্ষার’ ম্যাচে ১৫ ওভারে ৭৩ রানে অলআউট টাইগাররা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চলমান সপ্তম আসরে চরম ব্যর্থ বাংলাদেশ দল। বিশ্বকাপের মূলপর্বে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৪ রানে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। আর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩৪ রানে ৫ উইকেট হারায় টাইগাররা।
বৃহস্পতিবার দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টস হেরে ব্যাট করতে নেমেও বিপদে বাংলাদেশ দল। সবশেষ দক্ষিণ আফ্রিকার মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে টাইগাররা।
প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ৩৪ রানে ৫ উইকেট হারানো দলটি অসিদের বিপক্ষে ৬.১ ওভারে ৩৩ রানে বাংলাদেশ হারায় ৫ উইকেট। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতনের কারণে ১৫ ওভারে ৭৩ রানেই অলআউট হয় বাংলাদেশ।
মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজলউডের গতি আর গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের অফ স্পিন আর অ্যাডাম জাম্পার লেগ স্পিনে বিভ্রান্ত হয়ে একের পর এক সাজঘরে ফেরেন ওপেনার লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ নাঈম শেখ, ও আফিফ হোসেন।
প্রথম ওভারেই সাজঘরে ফেরেন লিটন দাস। ইনিংসের তৃতীয় বলেই মিচেল স্টার্কের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। দলীয় ১ রানে ফেরেন এ ওপেনার।
এরপর দ্বিতীয় ওভারে জশ হ্যাজলউডের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন সৌম্য সরকার। ৮ বলে ৫ রান করে ফেরেন তিনি।
২.৫ ওভারে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের স্পিনে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক মুশফিকু রহিম। ২ বলে ১ রানে আউট হন মুশফিক।
দলীয় ৩২ রানে হ্যাজলউডের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখ। অ্যাডাম জাম্পার লেগ স্পিনে বিভ্রান্ত হয়ে ফেরেন আফিফ হোসেন।
৩৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়া দলকে খেলায় ফেরানোর চেষ্টা করেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ষষ্ঠ উইকেটে রিয়াদের সঙ্গে ২৮ বলে ২৯ রানের জুটি গড়ে ফেরেন শামিম হোসেন। তার বিদায়ে ১০.৫ ওভারে ৬২ রানে ৬ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
১৮ বলে এক চার ও এক ছক্কায় ১৯ রান করে আউট হন শামিম। আট নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমেই এলবিডব্লিউ হন মেহেদি হাসান। পর পরা দুই বলে শামিম ও মেহেদিকে আউট করেন অ্যাডাম জাম্পা।
১২.২ ওভারে দলীয় ৬৫ রানে মিচেল স্টার্কের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ১৮ বলে দুটি বাউন্ডারিতে ১৯ রান করেন তিনি।
এ ম্যাচটি বাংলাদেশ দলের জন্য নিয়মরক্ষার। এই ম্যাচে জিতলে বাংলাদেশের নামের পাশে দুটি পয়েন্ট যোগ হবে। প্রাইজমানি কিছুটা বাড়বে। র্যাংকিংয়ে অবনমন ঠেকানো যাবে। তবে হেরে গেলে ব্যর্থতার ষোলোকলা পূর্ণ হবে।
বিশ্বকাপের চলতি আসরের মূলপর্বে প্রথম চার ম্যাচে শ্রীলংকা, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হেরে যায় টাইগাররা।