অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, মাহমুদউল্লাহ বললেন আশার কথা

বৃহস্পতিবার, ০৪ নভেম্বর ২০২১, ১৯ কার্তিক ১৪২৮, ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হতে যাওয়া ম্যাচটিতে টসে জিতেছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। আর তিনি প্রথমে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছেন।  ম্যাচটিতে একটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। স্পিনার নাসুম আহমেদের বদলে দলে এসেছেন পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়াও একটি পরিবর্তন এনেছে দলে। আজ বাংলাদেশের বিপক্ষে অ্যাস্টন আগারের বদলে খেলবেন মিচেল মার্শ। টসে হেরে মাহমুদউল্লাহ বলেছেন, আমাদের একটি ভালো সংগ্রহ করতে হবে। এই টুর্নামেন্টটা খারাপ যাচ্ছে। আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারিনি। আমাদের এখন গৌরব নিয়ে খেলতে হবে এবং নিজেদের প্রমাণ করতে হবে।

এখনও সিলেট সীমান্তে পড়ে আছে হতভাগা দুই বাংলাদেশীর লাশ

বৃহস্পতিবার, ০৪ নভেম্বর ২০২১, ১৯ কার্তিক ১৪২৮, ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

এখনোও সিলেট কানাইঘাটের ডোনা সীমান্তের নো-ম্যান্স ল্যান্ডে পড়ে আছে হতভাগা দুই বাংলাদেশীর লাশ। গুলিতে প্রাণ হারান তারা। বুধবার সকাল থেকে ভারত অভ্যন্তরে লাশ দুটি পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে জানান স্থানীয়রা। এ ঘটনার প্রায় দুইদিন অতিবাহিত হতে চললেও লাশ দুটি একই স্থানে পড়ে আছে এখনোও। বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) দুপুর ২ টায় কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাজুল ইসলাম পিপিএম বলেন, বিজিবি-বিএসএফ আলোচনা চলছে, লাশ উদ্ধার হলে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান তিনি। আর কত সময় লাগতে পারে- এমন প্রশ্নে ওসি তাজুল ইসলাম বলেন, ব্যাপারটি বিজিবি ভালো বলতে পারবে। আমারা কেবল লাশ বুঝে নিতে পারার দায়িত্ব রাখি। এর আগে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে অথবা গতকাল বুধবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে জানিয়েছিলো পুলিশ। এমনকি পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ’র গুলিতে মৃত্যু হয় তাদের। নিহতরা হলেন সীমান্তবর্তী এরালীগুল গ্রামের আব্দুল লতিফের পুত্র আসকর আলী (২৫) একই গ্রামের আব্দুল হান্নানের পুত্র আরিফ হোসেন (২২)। নিহতদের স্বজনরা জানান, মঙ্গলবার বিকালে তাঁরা দুইজন বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এর পর আর ফেরেননি। বুধবার ভোরে সীমান্তের নো-ম্যান্স ল্যান্ডে স্থানীয়রা লাশ দেখতে পান।

আজাদ কাশ্মীরে যাত্রীবাহী বাস খাদে, নিহত ২৩

বৃহস্পতিবার, ০৪ নভেম্বর ২০২১, ১৯ কার্তিক ১৪২৮, ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর বা আজাদ কাশ্মীরের পালান্দ্রি এলাকায়  একটি যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে ২৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো অন্তত নয়জন।

স্থানীয় সময় বুধবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রায় ৪০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে বাসটি রাওয়ালপিন্ডি যাচ্ছিল। যাত্রাপথে সেটি কারিগরি ত্রুটির কারণে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে  পাহাড়ের গায়ে ধাাক্কা লেগে প্রায় ৫০০ মিটার গভীর গিরিখাতে পড়ে যায়।

স্থানীয় পুলিশ প্রথমে নিহতের সংখ্যা সাতজন বলে জানিয়েছিল। কিন্তু পরে মৃতের সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে জানানো হয়। হতাহতদের সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পালান্দ্রির উপ পুলিশ কমিশনার জানান, দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন নারী ও শিশু রয়েছে। প্রতিকূল পরিবেশের কারণে উদ্ধারকারীদের বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। তবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজ না পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

করোনার টিকা নিয়ে দেশে আসলে থাকতে হবে না প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে

বৃহস্পতিবার, ০৪ নভেম্বর ২০২১, ১৯ কার্তিক ১৪২৮, ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

করোনার টিকা নিয়ে দেশে আসলে থাকতে হবে না প্রবাসীদের হোটেল কোয়ারেন্টিনে। তবে বাংলাদেশে আসতে হলে অবশ্যই আরটি পিসিআর পদ্ধতিতে করোনা পরীক্ষা করে নেগেটিভ রিপোর্ট থাকতে হবে। ফ্লাইটের ৭২ ঘন্টার মধ্যে পরীক্ষা করতে হবে। তবে ১২ বছরের নিচে বাচ্চাদের ক্ষেত্রে করোনা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক নয়। ১৩ টি দেশ থেকে করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন নিয়ে আসলে ৭ দিন বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। আর ভ্যাকসিন না নিয়ে আসলে ৭ দিন নিজ খরচে সরকার অনুমোদিত হোটেলে নিজ খরচে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। দেশগুলো হচ্ছে,আর্মেনিয়া, বুলগেরিয়া, ইস্তোনিয়া, জর্জিয়া, ল্যাটভিয়া, লিথুনিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, ফিলিস্তান, রোমানিয়া, সার্বিয়া, স্লোভেনিয়া, ইউক্রেন।
এই ১৩ দেশ ছাড়া পৃথিবীর অন্য দেশে থেকে করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন নিয়ে আসলে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না। আর যার ভ্যাকসিন না নিয়ে আসবেন তাদের ১৪ দিন বাড়িতে যেয়ে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

সূত্রঃ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে চায় অস্ট্রেলিয়া

বৃহস্পতিবার, ০৪ নভেম্বর ২০২১, ১৯ কার্তিক ১৪২৮, ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা সৃষ্টিতে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে চায় অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ কথা জানিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) কপ২৬-র সাইডলাইন আলোচনায় তিনি এ আগ্রহ প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে দুই নেতার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত দেশ। অস্ট্রেলিয়ারও দাবানল, বন্যা ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চরম ক্ষতির অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাই আমরা দুই দেশ জলবায়ু ক্ষতিকর প্রভাবের বিরুদ্ধে স্থিতিস্থাপকতা গঠনে একসঙ্গে কাজ করতে পারি।

তিনি আরও বলেন, প্রধান প্রধান কার্বন নির্গমনকারী উন্নত দেশগুলোর উচিত জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রয়োজনে সাড়া দেওয়া। উন্নত দেশগুলোকে অবশ্যই তাদের প্রতিশ্রুত ১০০ বিলিয়ন ডলার জলবায়ু তহবিল ছাড় দেওয়া এবং এটি বাস্তবায়ন করা উচিত।

বৈঠকে শেখ হাসিনা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব, স্থিতিস্থাপকতা সৃষ্টি এবং করোনা পরবর্তী পুনরুদ্ধারে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রতি কার্যকর সাড়া দিয়ে গ্রিন ও ক্লিন প্রযুক্তি স্থানান্তরের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। সেই সাথে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন।

এসময় দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে সহযোগিতার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তারা বিশেষ করে জলবায়ু সহযোগিতা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা ইস্যুতে অব্যাহত সমর্থনের জন্য অস্ট্রেলিয়াকে ধন্যবাদ জানান।

অস্ট্রেলিয়ার সাথে ১ ম্যাচ জিতেও বাংলাদেশ যেভাবে সেমিফাইনালে যেতে পারে।

বুধবার, ০৩ নভেম্বর ২০২১, ১৮ কার্তিক ১৪২৮, ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

লাল-নীল রঙিন স্বপ্ন নিয়ে বিশ্বকাপে আসা। প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি সাজানো হয়েছিল ম্যাচের পর ম্যাচ জয়ের আশার ফুল দিয়ে। মরুর বিশ্বকাপে মরীচিকা হয়ে গেছে সেসব দিনের কথা।

শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বড় হারের পর প্রতিশ্রুতির কথা মনে করে হয়তো লজ্জায় লাল হচ্ছেন ক্রিকেটাররা।

এখনো হাতে বাকি আছে এক ম্যাচ। এক ম্যাচ বাকি থাকলেও নীরস গাণিতিক সমীকরণ বলছে, টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে।

কিন্তু আমরা তো আশাবাদী মানুষ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ম্যাচটির আগেও আমরা হিসাবনিকাশ করে বের করেছিলাম, টাইগাররা কীভাবে সেমিতে যেতে পারে।

এখনো এক ম্যাচ বাকি, আমরা কেন আশা হারাব! আসুন, দেখা যাক, এক ম্যাচ জিতেও বাংলাদেশ কীভাবে সেমিফাইনালে যেতে পারে…

প্রশ্ন এক- এক ম্যাচ জিতেও বাংলাদেশ কীভাবে সেমিফাইনালে যেতে পারে? বাংলাদেশকে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে জিততে হবে এবং পরের বিশ্বকাপে অংশ নিতে হবে। সেখানে ভালো করলেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত।

প্রশ্ন দুই- এক ম্যাচ জিতেও বাংলাদেশ কীভাবে সেমিফাইনালে যেতে পারে? সেমিফাইনাল নামে একটা দেশ তৈরি করতে হবে। তারপর বিমানের টিকিট কেটে সোজা সেমিফাইনালে যাওয়া ওয়ান–টুর ব্যাপার।

প্রশ্ন তিন- এক ম্যাচ জিতেও বাংলাদেশ কীভাবে সেমিফাইনালে যেতে পারে? সেমিফাইনাল ম্যাচের কিছু টিকিট কিনে গ্যালারিতে বসলেই ইচ্ছেটা পূরণ হবে।

প্রশ্ন চার- এক ম্যাচ জিতেও বাংলাদেশ কীভাবে সেমিফাইনালে যেতে পারে? ব্যাটা, ফুটলি! পাগল পাইছস আমারে?

মালয়েশিয়ায় বন্দীদের দেশে ফেরানোর উদ্যোগ।

বুধবার, ০৩ নভেম্বর ২০২১, ১৮ কার্তিক ১৪২৮, ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

মালয়েশিয়ায় অবৈধ হয়ে কিংবা বিভিন্ন কারণে গ্রেফতার হয়ে কারাভোগের পর ডিটেনশন সেন্টারে বন্দী রয়েছেন সহস্রাধিক বাংলাদেশী অভিবাসী। কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হলে অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আগে এই ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হয়। দেশে ফেরত পাঠাতে যে তথ্য উপাত্ত দরকার হয় সেগুলো নিশ্চিত হলেই নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়। কিন্তু বিভিন্ন কারণে অনেক সময় এই প্রক্রিয়া বিলম্ব হয়।

মালয়েশিয়ায় এই বন্দীদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদককে জানিয়েছেন কুয়ালালামপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম সারোয়ার।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী এসব বন্দী অবৈধ হয়ে অথবা দেশটির অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের কারণে গ্রেফতার হয়ে কারাভোগ করেন। তবে বেশিরভাগ বন্দী ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর অবৈধ হিসেব আটক হন। আবার এক কোম্পানির নামে ভিসা নিয়ে অন্য কোম্পানিতে কাজ করলেও তাদের আটক করা হয়, যাকে বলে ‘ছালা কিরজা’।

করোনায় টানা লকডাউন, এসওপি বিধিনিষেধের কারণে বন্দীদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে। কম বেশি এক হাজার ৬৭৮ জন বাংলাদেশী দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছেন। এ সময় ফ্লাইট শিডিউল নিয়মিত ছিল না। স্বাভাবিক বিমান চলাচল এখনো স্থগিত রয়েছে। শুধু স্পেশাল ও চাটার্ড ফ্লাইটগুলো যাতায়াত করছে।

দূতাবাস থেকে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস একজন বন্দীর পক্ষে দেশটির ইমিগ্রেশন ও ডিটেনশন সেন্টারে পৌঁছানো ছাড়া বন্দী প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া বিলম্ব হয়। অনেক সময় দূতাবাস থেকে এসব তথ্যাদি পৌঁছাতে বিলম্ব হয়। তাছাড়া সর্বশেষ যে জটিলতা সৃষ্টি হয় সেটা হলো, বিমানের টিকেট নিয়ে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একজন প্রবাসী দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে যখন আটক হন তখন খালি হাতে আটক হন। এয়ার টিকেট ক্রয় করার মতো সামর্থ্য থাকে না। এ কারণে অনেক বন্দী আছেন টিকেট সংগ্রহ করতে না পেরে মাসের পর মাস বা বছরের পর বছর ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকেন। তাই বাংলাদেশী কমিউনিটি ও প্রবাসীদের পরিবারের দাবি, সরকারিভাবে যেন এই বিমান টিকেটের ব্যবস্থা করা হয়। তাহলে ভোগান্তি অনেক কমবে।

যোগাযোগ করা হলে রাষ্ট্রদূত গোলাম সারোয়ার প্রতিবেদককে আরো জানান, করোনায় বিভিন্ন বিধিনিষেধ যেমন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং সিস্টেমের (এসওপি) কারণে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ আমাদের বন্দী বাংলাদেশী ভাই-বোনদের সাথে দেখা করার অনুমতি দেয়নি। তাছাড়া আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী দূতাবাস চাইলেই বন্দীদের সাথে দেখা করতে পারে না। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমোদন লাগে, যেটা একটু সময় সাপেক্ষও বটে। তবে সম্প্রতি আমরা দূতাবাস থেকে সকল কারাগার, ডিটেনশন সেন্টার ভিজিট শুরু করেছি। ইনশাআল্লাহ শিগগিরই আমরা প্রত্যাবসন প্রক্রিয়া আরো বেগবান করতে পারবো।

আজহারীর জন্য অধীর আগ্রহে ব্রিটেনের বাংলাদেশীরা।

বুধবার, ০৩ নভেম্বর ২০২১, ১৮ কার্তিক ১৪২৮, ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

পূর্ব লন্ডনের স্টেপনিগ্রীনে তিন সন্তান ও শাশুড়ি নিয়ে বাস করেন আরিফুর রহমান। জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারীর যুক্তরাজ্য সফরের খবরে নানা ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তারা। আজহারির যুক্তিপূর্ণ ও হৃদয়গ্রাহী বক্তব্য শুনতে অনলাইনে টিকিট কিনে রাখেন সবার জন্য। আর ৩১ অক্টোবর মেয়ের ইউনিভার্সিটিতে কোন সময় ক্লাস এবং ছেলের কোচিং কখন তা চিন্তা করে আগে থেকেই সেসবের বিকল্প ব্যবস্থা করে রাখেন তারা। কিন্তু মিজানুর রহমান আজহারীর লন্ডনে আসার স্থগিতের খবরে মন ভীষণ খারাপ তাদের।

লন্ডনের আরিফুর রহমানের মতো লুটন, বার্মিংহাম, লেইস্টার, কার্ডিফ ও ওল্ডহামসহ যুক্তরাজ্যের কয়েকটি শহরের হাজার হাজার মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছেন তাদের প্রিয় বক্তার বক্তব্য শোনার জন্য। লন্ডনের সাংবাদিক আবদুল কাদির মুরাদ ও মজনু তাদের পরিবারের সকলের জন্য টিকেট কিনেছেন। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে বসবাসরত এরকম আরো অনেক বাঙালি পরিবার মিজানুর রহমান আজহারীর ওয়াজ শোনার জন্য অনলাইনে টিকেট কিনেছেন। আজহারীর ভিসা বাতিলের খবরে তারাও উৎকণ্ঠিত। প্রায়ই তারা আয়োজকদের কাছে ফোন করে জানতে চাচ্ছেন, কবে আসছেন প্রিয় মিজানুর রহমান আজহারী। তারা আজহারীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগকারী ও তার আগমনের বিরোধীতাকারীদের নিন্দা জানিয়েছেন। তারা এই ঘটনাকে নাস্তিক্যবাদী গোষ্ঠীর চক্রান্ত বলে সবাইকে হুশিয়ার করে দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব বিবিসিসিআই’র সাবেক প্রেসিডেন্ট শাহগীর বখত ফারুক বলেন, ‘মিজানুর রহমান আজহারীর মতো এত বড় একজন ইসলামী বক্তা আমাদের দেশে আর নেই। তাই আমি আমাদের কমিউনিটির সর্বস্তরের, সকল বর্ণের, সকল ধর্মের মানুষকে অনুরোধ করবো বিরোধিতা বন্ধ করে আপনারা সবাই আসেন। এসে আপনারা দেখেন মিজানুর রহমান আজহারী কী ধরনের মানুষ, উনি কী ধরনের কথা বলেন। এগুলো শোনার জন্য আমাদের প্রত্যেকের আশা উচিত।’

নিউহাম কাউন্সিলের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার নাজির আহমেদ বলেন, ‘মিজানুর রহমান আজহারী স্মরণকালের সবচেয়ে বড় ইসলামী ব্যক্তিত্ব। লাখো কোটি যুবকের আইডল। আমাদের সকলের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকা দরকার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানানোর।’

ব্রিটেনে বাংলাদেশী কমিউনিটির সর্বজন শ্রদ্ধেয় ও সিনিয়র সাংবাদিক কে এম আবু তাহের চৌধুরী বলেন, ‘উনি (আজহারী) যুক্তরাজ্যে আসছেন শুনে আমরা দারুণভাবে খুশি হয়েছিলাম। তাকে যুক্তরাজ্যে স্বাগত জানিয়েছিলাম। আশাকরি তার ভিসা পুনর্বহাল করা হবে এবং তার প্রোগ্রাম সাফল্যমণ্ডিত হবে। এজন্য কমিউনিটির সকলকে এগিয়ে আসার জন্য আমি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।’

গ্রেটার সিলেট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আতাউর রহমান বলেন, ‘ড. মিজানুর রহমান কোটি কোটি বাঙালি তরুণের আইডল। আমি সবাইকে বলবো, যুক্তরাজ্যে ড. মিজানুর রহমান আজহারীর যতগুলো প্রোগ্রাম আছে সবগুলোকে আমরা যেনো সাফল্যমণ্ডিত করে তুলি।’

ইস্ট লন্ডন মসজিদের ফাইন্যান্স ডিরেক্টর দেলোয়ার হোসাইন খান বলেন, ‘ড. মিজানুর রহমান আজহারীর যে এলেম এবং জ্ঞান তাতে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশী মুসলিম কমিউনিটি উনার ওয়াজ শুনলে অনেক ফায়দা পাবেন। অনেক বড় প্রেরণা পাবেন। বিশেষ করে মুসলমান হিসেবে আমরা এদেশে কিভাবে সুন্দরভাবে কাজ করতে পারি, কিভাবে অন্য কমিউনিটির মানুষের মাঝে উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারি আশাকরি এই বিষয়ে উনি ওয়াজ করবেন এবং সকল বাধা কাটিয়ে অবশ্যই তিনি যুক্তরাজ্যে আসবেন। উনাকে আমরা উদাত্ত আহ্বান জানাই।’

মিজানুর রহমান আজহারীর ভিসা বাতিলের সর্বশেষ
মিজানুর রহমান আজহারী তার বাতিল করা ভিসা পুনর্বহালের জন্য যুক্তরাজ্যের হাইকোর্টে আপিল করেছেন। আপিলের পর কেন মিজানুর রহমান আজহারীর ভিসা বাতিল হলো সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য হাইকোর্ট হোম অফিসকে দুই দিনের সময় দিয়েছেন। আয়োজকরা আজহারীর সকল অনুষ্ঠান আপাতত স্থগিত ঘোষণা করেছেন। আশা করা হচ্ছে, আজ বা আগামীকালের মধ্যে মিজানুর রহমান আজহারীর ভিসার বিষয়ে হোম অফিস সিদ্ধান্ত নিবে। নতুন তারিখ ঘোষণা হলে আগের টিকিটেই কনফারেন্স দেখা যাবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

আয়োজকরা আশা করছেন, হোম অফিসের রিপ্রেজেন্টেশনের পরে মাওলানা আজহারীর ভিসা পুনর্বহাল করা হবে।

গত শুক্রবার হোম অফিসের মিডিয়া অ্যান্ড প্রেস অফিসে এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কিছু বাধ্যবাধকতা থাকায় তারা কোনো তথ্য দিতে রাজি হয়নি।

মিজানুর রহমান আজহারীর যুক্তরাজ্যের ভিসা বাতিলের নেপথ্যে।

বুধবার, ০৩ নভেম্বর ২০২১, ১৮ কার্তিক ১৪২৮, ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

বর্তমান প্রজন্মের তুমুল জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারীকে যুক্তরাজ্য সফরের ভিসা দিয়েও পরে ভিসা বাতিল করে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে দেয়নি দেশটির হোম অফিস। গত ৩১ অক্টোবর শুক্রবার মিজানুর রহমান আজহারী যুক্তরাজ্যে এসে লন্ডন, লুটন, বার্মিংহাম, লেইস্টার, কার্ডিফ ও ওল্ডহামসহ যুক্তরাজ্যের বেশ কয়েকটি শহরে পূর্বঘোষিত ইসলামী কনফারেন্সে যোগ দেয়ার কথা ছিল।

মিজানুর রহমান আজহারীর যুক্তরাজ্য আগমন উপলক্ষে যুক্তরাজ্যে বাঙালি মুসলিম কমিউনিটিতে সাজ সাজ রব ছিল। এ উপলক্ষে যুক্তরাজ্যের ৬টি শহরে ১৫ পাউন্ড থেকে শুরু করে ১০০ পাউন্ড মূল্যের টিকিট বিক্রি করা হয়েছিল। মানুষ হলরুমের ধারণ ক্ষমতারও অতিরিক্ত টিকিট ক্রয় করেছিল।

অন্যদিকে সেক্যুলার বাংলাদেশ মুভমেন্টের সভাপতি কাউন্সিলার পুস্পিতা গুপ্তা ও প্রগতিশীল দাবিদার লিপি হালদারসহ অন্য কিছু ব্যক্তি ও সংগঠন মিজানুর রহমান আজহারীর যুক্তরাজ্য আগমনের বিরোধিতা করছিল। তারা অনেকেই স্থানীয় এমপি থেকে শুরু করে ফরেন অফিসে মিজানুর রহমান আজহারীর বিভিন্ন বক্তব্য থেকে অংশ বিশেষ কেটে জুড়ে হোম অফিসসহ বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে মিজানুর রহমান আজহারীকে ‘অন্য ধর্মবিদ্বেষী’ ও ‘উগ্রবাদে তরুণদের উস্কানি প্রদানকারী’ বক্তা হিসেবে তার ভিসা বাতিলের আবেদন করেছিল। শেষ পর্যন্ত ভিসা বাতিলের আবেদনকারীরা সফল হয়েছেন। মিজানুর রহমান আজহারীর ভিসা বাতিলের খবরে আজহারী ভক্তরা যতটা হতাশ হয়েছেন, আজহারীর বিরোধিতাকারীরা ঠিক ততটাই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

ভিসা বাতিলের ক্রেডিট নিয়ে কাড়াকাড়ি
মিজানুর রহমান আজহারীর ভিসা বাতিলের খবরে কাউন্সিলার পুষ্পিতা গুপ্তা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে তার নিজের ক্রেডিট দাবি করেছেন। কালের কণ্ঠের লন্ডন প্রতিনিধি জুয়েল দাস সর্বপ্রথম সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বলে তিনিও নিজের ক্রেডিট দাবি করেছেন। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি হুরমুজ আলী এই ব্যাপারে প্রথম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন বলে তিনিও নিজের ক্রেডিট দাবি করেছেন।

অন্যদিকে প্রথমে আস্তিক ও পরে নিজেকে নাস্তিক দাবি করা মোফাসসিল ইসলাম বলেন, ‘আজহারী আমাকে উল্লুকা পাট্টা বলেছেন, আমি তার প্রতিশোধ নিয়েছি, আমিই তার ভিসা বাতিলের নেপথ্যে কাজ করেছি’।

ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি যুক্তরাজ্য শাখাও দাবি করেছেন তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ব্রিটিশ হোম অফিস মিজানুর রহমান আজহারীর ব্রিটেনের ভিসা বাতিল করেছে।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি যুক্তরাজ্যে শাখার প্রতিবাদ সভা
এদিকে গত ২৯ অক্টোবর শুক্রবার একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি যুক্তরাজ্যে শাখার সদস্যরা ইসলামী বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারীর যুক্তরাজ্যে ইসলামী সমাবেশে যোগদানের বিরুদ্ধে স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে প্রতিবাদ সভা করেন। সংগঠনের সাধারন সম্পাদক রুবি হকের সঞ্চালনায় উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ এনামুল ইসলাম।

প্রতিবাদ সভায় লিখিত বক্তব্য রুবি হক বলেন, লন্ডনস্থ আইওএন টেলিভিশন এখানকার কতিপয় মৌলবাদী সংগঠনের সহযোগিতায় ৩১ অক্টোবর ২০২১ সালে স্থানীয় একটি হলে বিতর্কিত ধর্মাচারী, হিন্দু ও ইহুদিবিদ্বেষী মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারীর উপস্থিতিতে একটি সমাবেশ করার আয়োজন করেছিল যা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি যুক্তরাজ্য শাখা এবং অন্যান্য প্রবাসী বাংলাদেশী অসাম্প্রদায়িক সংগঠন ও বেশ কয়েকটি ইহুদি সংগঠনের প্রতিবাদের মুখে প্রতিহত হয়। আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ব্রিটিশ হোম অফিস মিজানুর রহমান আজহারীর ব্রিটেনের ভিসা বাতিল করে। মিজানুর রহমান আজাহারী বেশ কয়েক বছর যাবত বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ওয়াজ মাহফিলের নামে যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামায়াত-শিবিরসহ মুক্তিযুদ্ধ চেতনাবিরোধী শক্তিকে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতার কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। ওইসব ওয়াজ মাহফিলের মাধ্যমে যুব সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বাঙালি সংস্কৃতি ও বাঙালি জাতির ইতিহাস-ঐতিহ্যের উপর বিরূপ মন্তব্য করে যুব সম্প্রদায়ের মগজ ধোলাই করে আসছিলেন। বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের কড়া পদক্ষেপের কারণে এক পর্যায়ে তিনি সব ছেড়ে মালয়েশিয়ায় চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। কিন্তু মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েও তিনি বাংলাদেশ ও বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মুক্তিযুদ্বের চেতনা বিরোধীদের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছিলেন। যার প্রমাণ হলো, যুক্তরাজ্যে এসে তার এই ইসলামী সমাবেশ করার চেষ্টা চালানো। বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী চৌধুরী মঈনুদ্দিনসহ অনেক মুক্তিযুদ্ধ চেতনা বিরোধীদের স্বর্গরাজ্য হলো এই যুক্তরাজ্য। মিজানুর রহমান আজহারীর যুক্তরাজ্য আগমন আপাতত রহিত হয়েছে সত্য কিন্তু ভবিষ্যতেও তার এমন প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করার জন্য আমরা এই সভা থেকে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তির সকলের প্রতি আহ্বান জানাই।

প্রতিবাদ সভা থেকে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি যুক্তরাজ্যে শাখার নেতৃবৃন্দ ব্রিটিশ সরকারের প্রতি এবং সাংবাদিকদের প্রতি নিম্নলিখিত চারটি দাবি উপস্থাপন করেন। দাবিগুলো হচ্ছে : ১। মিজানুর রহমান আজহারীসহ সকল সাম্প্রদায়িক ধর্মচারীদেরকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ না করতে দেয়ার সিদ্ধান্তে ব্রিটিশ সরকারকে অনড় থাকতে হবে; ২। ভবিষ্যতে মৌলবাদী মোল্লাদেরকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের আগে ব্রিটিশ সরকারকে অবশ্যই সম্ভাব্য রিস্ক এসেসমেন্ট করতে হবে; ৩। শহীদ বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী চৌধুরী মঈনুদ্দিনসহ যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী সকল যুদ্ধাপরাধীদেরকে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে; ৪। মিজানুর রহমান আজহারীর মতো সাম্প্রদায়িক এবং অন্যধর্ম বিদ্বেষী ধর্মচারীরা যেনো যুক্তরাজ্যে এসে আমাদের নতুন প্রজন্মের মগজ ধোলাই করতে না পারে সেদিকে সাংবাদিকদের সোচ্চার থাকতে হবে।

এ সময় একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি যুক্তরাজ্য শাখার সহ সভাপতি মতিয়ার চৌধুরী, মোহাম্মদ হরমুজ আলী, অর্গানাইজিং সেক্রেটারি শাহ মোস্তাফিজুর রহমান বেলাল, জামাল আহমেদ খান, হামিদ মোহাম্মদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আনসার আহমেদ উল্লাহ ও অন্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এই কমিটির যুক্তরাজ্য শাখার অন্যান্য সদস্যরা হলেন, ইন্টারন্যাশনাল সেক্রেটারি কাউন্সিলার পুষ্পিতা গুপ্তা, প্রেস সেক্রেটারি আ স ম মাসুম, পাবলিকেশন সেক্রেটারি জুয়েল দাস, কালচারাল সেক্রেটারি সেলিনা আক্তার জোছনা, ট্রেজারার এনামুল হক, অ্যাসিস্টেন্ট জেনারেল সেক্রেটারি স্মৃতি আজাদ, নির্বাহী সদস্য সুশান্ত দাশ প্রশান্ত, জোছনা পারভীন, নিলুফা ইয়াসমীন হাসান প্রমুখ।

সংবাদ সন্মেলনে তারা হোম সেক্রেটারি প্রীতি পাটেলের কাছে লেখা তাদের আবেদনপত্রের একটি কপি সাংবাদিকদের সরবরাহ করেন। সেখানে দেখা যায়, আবেদনপত্রে মিজানুর রহমান আজহারীর আগমনের বিরোধিতা করে তারা বলেছেন, মিজানুর রহমান আজহারী একজন ইহুদি ও হিন্দুবিরোধী মুসলিম ধর্ম প্রচারক। তিনি একজন চরমপন্থী ইসলামী মৌলবাদী এবং সম্প্রদায়ের সংহতির জন্য হুমকিস্বরূপ। এই কারণে বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে তাকেসহ জনসমক্ষে তার ওয়াজ প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ২০১৯ সালে গ্রেফতারের ভয়ে তিনি বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন।

আবেদন পত্রের শেষদিকে তারা উল্লেখ করেছেন, Allowing such extremist like Azhari to enter the UK will only promote extremist ideology amongst the UK Muslim community and will fathom hatred of other faith communities especially against the Jews and the Hindus. অর্থাৎ আজহারীর মতো চরমপন্থীকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের অনুমতি দিলে তা শুধুমাত্র ইউকে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে চরমপন্থী মতাদর্শের প্রচার করবে এবং অন্যান্য ধর্ম সম্প্রদায়ের বিশেষ করে ইহুদি ও হিন্দুদের বিরুদ্ধে ঘৃণা জাগাবে।

তারা আরো উল্লেখ করেছেন, We are concerned that his presence in the UK and attendance in several conferences would encourage more hatred, anti-Semitism and extremist activities in the UK. অর্থাৎ আমরা উদ্বিগ্ন যে, ইউকেতে তার উপস্থিতি এবং বেশ কয়েকটি সম্মেলনে অংশগ্রহণ ইউকেতে আরো ঘৃণা, সেমিটিজম বিরোধী এবং চরমপন্থী কার্যকলাপকে উৎসাহিত করবে।

এই কারণে প্রথমে ভিসা দিয়েও পরে হোম অফিস তার ভিসা বাতিল করেন।

‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’ ও ‘নাস্তিক নির্মূল কমিটি’র ‘নির্মূল’ শব্দটি বাংলাদেশের সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক কিনা, দেশের সংবিধান কাউকে নির্মূলের অধিকার দেয় কিনা সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে একজন সাংবাদিকের এই প্রশ্নের কোনো সদুত্তর না দিয়ে ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’ নেতৃবৃন্দ সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

নানা প্রতিকূলতাকে কাটিয়ে রাশেদ এখন ব্যারিস্টার।

বুধবার, ০৩ নভেম্বর ২০২১, ১৮ কার্তিক ১৪২৮, ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনে মাস্টার্স (এলএলএম) শেষ করার পর থেকেই দীর্ঘ সাত বছর ধরে দুরারোগ্য রিউমাটয়েড আর্থাইটিস রোগে ভুগছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী আইনজীবী মো: রাশেদ খান। সেই থেকেই মানসিক শক্তি জড়ো করে ব্যারিস্টারি পড়ালেখা শুরু করেন। নানান রোগ ও বাধা পেরিয়ে সেই রাশেদ খান এখন ব্যারিস্টার।

ব্যারিস্টার হওয়ার স্বপ্ন নিয়েই দুই সন্তান ও স্ত্রী নিয়ে পাড়ি জমান ব্রিটেনে। বসবাস শুরু করেন হ্যালিফেক্সে। ওই রোগের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন স্থানীয় ডাক্তার থেকে। ব্যাধিকে জয় করে হার না মেনে কর্ম, সংসারজীবন এবং পড়লেখা একসাথে চালিয়ে ২০১৯ সালে যুগোপৎ বার-এট-ল এবং মাস্টার্স (এলএলএম) ডিগ্রী শেষ করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, কোভিড পরিস্থিতির কারণে ‘কল টু দ্যা বার’ স্থগিত থাকার মাঝেই গত বছরের অক্টোবরে আক্রান্ত হন করোনাভাইরাসে। ডাক্তাররা তার পরিবারকে জানিয়ে দেন একমাত্র সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহ ছাড়া বাঁচানো যাবে না রাশেদকে। হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসা চলে দীর্ঘ চার মাস। সে সময় দুইমাস লাইফ সাপোর্ট থেকে আল্লাহর অশেষ কৃপায় ফিরে আসেন তিনি। এখনো পূর্ণ সুস্থতার জন্য চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এভাবেই হাজারো প্রতিকূলতাকে জয় করে অবশেষে যুক্তারাজ্যের লিংকন্স ইন থেকে বার-এট-ল তথা ব্যারিস্টার হিসেবে স্বীকৃত হলেন ঠাকুরগাঁওয়ের গর্ব আইনজীবী মো: রাশেদ খান।

ঠাকুরগাঁওয়ের ইসলামবাগের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো: ইসাহাক আলী খান ও রাশিদা বেগমের একমাত্র ছেলে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুচিকিৎসা বিভাগের প্রফেসর ড. ইসমত আরা বেগম ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী শাহিনা পারভিনের একমাত্র ভাই এবং রংপুর, মিঠাপুকুর, গোপালপুর, জানকীপুরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শহিদুল হক ও রাজিয়া হকের জৈষ্ঠ জামাতা ব্যারিস্টার মো: রাশেদ খান। তার স্ত্রী সাবিহা সুলতানা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করেছেন এবং ছেলে রাফিখান ও মেয়ে জারা খান যুক্তরাজ্যে যথাক্রমে অষ্টম ও সপ্তম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত।

২০০৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রী শেষ করে রাশেদ ঠাকুরগাঁও আইনজীবী সমিতি ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সদস্য হন। পরবর্তীতে তিনি ২০১০ সালে তার কর্মজীবনে ব্যারিস্টারি পড়ালেখা শুরু করেন। দুর্ভাগ্যবশত তার এই ডিগ্রী অর্জনের পথে প্রায় দীর্ঘ সাতটি বছর জটিল, দুরারোগ্য ও প্রাণঘাতী ব্যাধিতে ভুগেন। কিন্তু ব্যাধি তাকে হার মানাতে পারেনি। তিনি ব্যাধিকে জয় করে হার না মেনে কর্ম, সংসারজীবন ও পড়লেখা একসাথে চালিয়ে গেছেন। থমকে গিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।

অবশেষে তার প্রচেষ্টা মহা পুরস্কার নিয়ে এসেছে। পরিশ্রম কখনো বৃথা যায় না তিনি তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বিখ্যাত লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পুনরায় আইন বিষয়ে গ্রাজুয়েশন ও নর্থাম্ব্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ও বিপিটিসি ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। সম্প্রতি গত ১২ অক্টোবর মো: রাশেদ খান যুক্তরাজ্যের স্বনামধন্য লিংকন্স ইন কর্তৃক ব্যারিস্টার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।

তার এই দুর্গম যাত্রায় পরিবার তথা তার দুই সন্তান, স্ত্রী, বাবা-মা, তিন বোন, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধরা সর্বদা তার পাশে থেকেছেন এবং তাকে উৎসাহ দিয়েছে। এজন্য তিনি নয়া দিগন্তের মাধ্যমে সবার কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন পেশাজীবী ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত হয়ে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে রাশেদ খান বলেন, জনগণের কল্যাণে ও আল্লাহর রাস্তায় দাওয়াতি কাজে তার বাকি জীবন কাটাতে চান তিনি। পাশাপাশি তিনি আইন পেশায় আত্মনিয়োগ করে আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়া দুস্থ-অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের জন্য বিনা খরচে আইনগত সহযোগিতার হাত বাড়াতে চান। নিজের জীবন মানব কল্যাণে যেন ব্যয় করতে পারেন সেজন্য সকলের দোয়া কামনা করেছেন মো: রাশেদ খান।