দেশে,করোনায় প্রাণ হারালেন আরও ৬ জন।

সোমবার, ০১ নভেম্বর ২০২১, ১৬ কার্তিক ১৪২৮

দেশে করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ নিয়ে ভাইরাসটি দেশের ২৭ হাজার ৮৬৮ জনের প্রাণ কেড়ে নিল।

রোববার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ২১১ জন। এখন পর্যন্ত মোট করোনা শনাক্ত হয়েছেন ১৫ লাখ ৬৯ হাজার ৫৩৯ জন।

‌আইপিএলের বাঘ বিশ্বকাপে মিউ মিউ…?

সোমবার, ০১ নভেম্বর ২০২১, ১৬ কার্তিক ১৪২৮, ২৪ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

পাকিস্তানের কাছে প্রথম ম্যাচে ১০ উইকেটে হার। দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৮ উইকেটে- বিরাট কোহলির ভারতের টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন কার্যত বিলীন।

অংকের হিসেবে ক্ষীণতর একটা সম্ভাবনা আছে। অর্থাৎ গ্রুপের বাকি তিনটি ম্যাচ স্কটল্যান্ড, নামিবিয়া এবং আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে বিপুল ব্যবধানে জিততে হবে এবং এই তিনদলের সঙ্গে অন্তত একটি ম্যাচে হারতে হবে নিউজিল্যান্ডকে। অর্থাৎ, আইপিএলে বাঘদের এখন তাকিয়ে থাকতে হবে ক্রিকেটের বিড়াল স্কটল্যান্ড, নামিবিয়া এবং আফগানিস্থানের দিকে।

অথচ ভারতীয় ক্রিকেটাররা আইপিএল উপলক্ষ্যে প্রায় দেড়মাস দুবাইতে আছেন। পরিবেশ এবং মাঠ সম্পর্কে তাদের পরিচিতি সব থেকে ভালো। কিন্তু, দেশের হয়ে জার্সিতে আইপিএল বাঘেরাই যেন বিড়াল হয়ে মিউ মিউ করছে।

বিরাট নিউজিল্যান্ড ম্যাচ শেষে দু’টি কথা বলেছেন। এক, জেতার মতো সাহস আমরা দেখাতে পারিনি। দুই, দেশের ক্রিকেট অনুরাগীদের প্রত্যাশার চাপটা নিতে পারিনি।

বিরাটকে সবিনয়ে প্রশ্ন করতে হয়- কাপুরুষরা কবে সাহস করে বুক চিতিয়ে থেকেছে? আর দেশের মানুষের প্রত্যাশা? যখন বোর্ডের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা মাইনে, বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেন বিরাট কোহলি এবং অন্য ভারতীয় ক্রিকেটাররা তখন কি দেশের মানুষের কথা তাদের একবারও মনে থাকে? মনে থাকে কি দেশের অভুক্ত মানুষেরা এই ভারতীয় দলের খেলা দেখার জন্য টিভি সেটের সামনে বসে পড়ে কলের জল খেয়ে! প্রত্যাশার চাপ আর কোহলিরা কি অনুভব করেছেন! ভারতীয় ক্রিকেট দলের একটি জয় কি প্রত্যাশার পাহাড় তৈরি করে? মাঠে কোহলিদের লড়াই দেখে এই হ্যাভ-নট ভারতীয়রা ক্ষুধা তৃষ্ণা ভুলে নিজেরাই এক একজন কোহলি হয়ে যায়। আর দলকে কাপুরুষের মতো হারতে দেখলে অন্ধকারের বিবরে মুখ লুকায়। এদের প্রত্যাশা যখন খান খান করে ভেঙে দেন ক্রিকেটাররা, তখন? তেলের শিশি ভাঙলো বলে খুকুর ওপর রাগ কর, আর তোমরা যে সব বুড়ো খোকা ভারত ভেঙে ভাগ কর, তার বেলা!

ভারতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়দের গড়পড়তা পড়াশোনা এমন নয় যে, তারা এই লাইনগুলো শুনবেনই। কিন্তু, আজও বোধহয় এই লাইনগুলো প্রাসঙ্গিক। টি টোয়েন্টিতে কোহলি – শাস্ত্রীরা নোটিশ পিরিয়ডে আছে বলেই ভারতের এই অবস্থা । নেটিজেনদের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত হওয়া গেল না। মাঠে খেলতে নেমে কেউই হারতে চায় না। না, বিরাট কোহলিও নয়, রবি শাস্ত্রীও নয়। আসলে অপারগতা আর আসামর্থ আজ ক্রিকেটারদের এই জায়গায় এনে ফেলেছে। ওঁরা নাকি পেশাদার! যে পেশাদারিত্বে হারের পর অনুশোচনা থাকে না, সেই পেশাদারিত্ব শিকেয় তোলা থাক। ভারতীয় ক্রিকেট দলকে কেন্দ্র করে জাতীয় আবেগ তার জায়গাতেই থাক। শুধু আমরা বাঘ আর বিড়ালের তারতম্যটা বুঝতে পারলেই হলো!

সুত্র ঃ- https://www.facebook.com/318792851589933/posts/2469575339844996/

কর্মী সংকটে ১৪শ’ ফ্লাইট বাতিল করল আমেরিকান এয়ারলাইন্স

সোমবার, ০১ নভেম্বর ২০২১, ১৬ কার্তিক ১৪২৮, ২৪ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

‘কর্মী সংকট ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে চলতি সপ্তাহে ১৪শ’র বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে আমেরিকান এয়ারলাইন্স। এর মধ্যে গত দুই দিনেই বাতিল করা হয়েছে এক হাজারের বেশি ফ্লাইট।

আমেরিকান এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভিড সেইমৌর সাংবাদিকদের জানান, খারাপ আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার থেকে এই সংকট শুরু হয়। প্রচণ্ড ঝড়ের কারণে ডালাস হাবে কোম্পানির কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

এ সময় ফ্লাইটগুলোর জন্য নির্ধারিত কর্মীদের শিডিউলে বিপর্যয় দেখা দেয়। কর্মী সংকটের কারণে অনেক ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। তবে নতুন মাসের শুরুতে এই সংকট কেটে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ডেভিড আরও জানান, করোনা মহামারীর কারণে চাকরি হারানো ১৮শ কর্মীকে কাজে ফিরিয়ে আনা হবে এসময়। এবং ডিসেম্বরের শেষে বিমানবন্দরসহ ফ্লাইট পরিচালনায় আরও সাড়ে চার হাজার কর্মী নিয়োগ দেয়া হবে।

আমেরিকান এয়ারলাইন্স প্রতিদিন ৫০টি দেশের ৩৫০টির বেশি শহরে ৬ হাজার ৭শ ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। এদিকে করোনার বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার পর ভ্রমণ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দেশটির অনেক এয়ারলাইন্স কোম্পানিই কর্মী সংকটে পড়েছে। সূত্র : সিএনএন

তিন দুধের শিশুর দিকে তাকিয়ে কোহিলীরা : আনন্দবাজার।

সোমবার, ০১ নভেম্বর ২০২১, ১৬ কার্তিক ১৪২৮, ২৪ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

এ বারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে কার্যত ছুটি হয়ে গেল বিরাট কোহলীর ভারতের।

নিউজিল্যান্ডের কাছে হারার ফলে ভারতের সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। এখন ভারতকে তাকিয়ে থাকতে হবে তিন দুধের শিশু আফগানিস্তান, নামিবিয়া ও স্কটল্যান্ডের দিকে।

কোহলীদের সামনে শেষ চারে ওঠার আপাতত একটাই অঙ্ক। নিজেদের বাকি তিনটি ম্যাচই জিততে হবে। আফগানিস্তান, নামিবিয়া ও স্কটল্যান্ডের মধ্যে কোনও একটি দলকে হারাতে হবে নিউজিল্যান্ডকে। কোহলীরা বাকি তিনটি ম্যাচ জিতলে ছয় পয়েন্টে শেষ করবে।

তিনটি ম্যাচ খেলে তিনটিতেই জিতে থাকা পাকিস্তানের আর ম্যাচ বাকি নামিবিয়া (২ নভেম্বর) ও স্কটল্যান্ডের (৭ নভেম্বর) সঙ্গে। পাকিস্তান সবকটি ম্যাচ জিতে ১০ পয়েন্টে শেষ করবে বলেই ধরে নেওয়া যায়।

কাতার ফেরত অসুস্থ প্রবাসীকে সহায়তা প্রদান।

সোমবার, ০১ নভেম্বর ২০২১, ১৬ কার্তিক ১৪২৮, ২৪ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

কাতার হতে আগত অসুস্থ প্রবাসী কর্মী রিয়াজ হোসেন দেশে ফিরলে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহায়তায় প্রয়োজনীয় সকল সেবা প্রদান করে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের এ্যাম্বুল্যান্স এর মাধ্যমে উক্ত প্রবাসীকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সূত্রঃ প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক, ঢাকা এয়ারপোর্ট।

আজ থেকে,১ নভেম্বর থেকে ১৭ দেশের পর্যটকদের থাইল্যান্ড ভ্রমণের অনুমতি।

সোমবার, ০১ নভেম্বর ২০২১, ১৬ কার্তিক ১৪২৮, ২৪ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার ঘোষণা করেছে যে আজ ১ নভেম্বর থেকে এটি ১৭টি দেশের বিদেশী পর্যটকদের জন্য তার সীমানা খুলে দেয়া হয়েছে, যার মধ্যে কুয়েতও রয়েছে। পর্যটকদের টিকা দেওয়া বা নেতিবাচক পিসিআর পরীক্ষা জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিজ কোয়ারেন্টিন না করেই দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। ১৭টি দেশ হলো কুয়েত, ভারত, তাইওয়ান, লাওস, মায়ানমার, ফিলিপাইন, ক্রোয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, ওমান, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া, শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম এবং লুক্সেমবার্গ।

সুত্রঃ আরব নিউজ।

জরুরী নিয়োগ,(শুধু যারা কুয়েতে আছেন তাদের জন্য)।

সোমবার, ০১ নভেম্বর ২০২১, ১৬ কার্তিক ১৪২৮, ২৪ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

(শুধু যারা কুয়েতে আছেন তাদের জন্য)

পোস্টঃ মাচনাতে ক্লিনার/হেলপার
লোকেশনঃ আমগারা
আকামাঃ যেকোনো আকামা চলবে।
ডিউটি টাইমঃ সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৩টা(৮ঘন্টা)
হলিডেঃ প্রতি শুক্রবার
বেতনঃ ১৬০কেডি
***যাতায়াত কোম্পানি বহন করবে, আকামা না থাকলে ও চলবে।
**** গাড়ি শুধু মাত্র হাসাবিয়া থেকে।

যোগাযোগ – ৬৯৯৯৬১৮৮

বিএফইউজের নব কমিটিকে কুয়েত বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের অভিনন্দন’

সোমবার, ০১ নভেম্বর ২০২১, ১৬ কার্তিক ১৪২৮, ২৪ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

মোঃ আলাল, কুয়েত প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) নির্বাচনে ওমর ফারুক সভাপতি ও দীপ আজাদ মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব কুয়েত।

শনিবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানী হোটেলে অভিনন্দন সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আ হ জুবেদের সঞ্চালনায় বক্তারা বলেন,দেশের ন্যায় প্রবাসেও দায়িত্ব পালেন প্রবাসী সংবাদকর্মীরা নানা ভাবে হয়রানি শিকার হয়।

সংবাদকর্মীদের জন্য সুস্থ পরিবেশ তৈরী এবং দেশের উন্নয়ন ও প্রবাসীদের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই।

এসময় অন্যান্য সংবাদকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, শরীফ মিজান, আলা আমিন রানা, সাদেক রিপন, নাসির উদ্দিন খোকন, রুহুল আমিন মোহাম্মদ মোশাররফ, মোঃ আলাল আহমেদ, আবু বক্কর পাভেল,রবিউল হোসেন,আমবিয়া খোকন, কুয়েত ফ্যামিলি ফোরামের সভাপতি আব্দুল হাই ভূঁইয়া প্রমুখ।

কুয়েতে নির্মাণ সামগ্রী চুরির অভিযোগে আটক দুই বাংলাদেশি..!!

সোমবার, ০১ নভেম্বর ২০২১, ১৬ কার্তিক ১৪২৮, ২৪ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

বিঃদ্রঃ [নিউজ পড়ে এবং যে নিউজ লিংক দেওয়া থাকে ওই নিউজ দেখে কমেন্ট করবেন যেভাবে নিউজ প্রকাশ করা হয় ঠিক সেই ভাবেই অনুবাদ করে পোষ্ট করে থাকি, ধন্যবাদ সবাইকে।]

কুয়েত আল মুতলা এলাকায় একটি নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নির্মাণ সামগ্রী চুরির অভিযোগে দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এটি প্রকাশ্যে আসে যখন একজন কুয়েতি নাগরিক তার নিজের প্লটে নির্মাণ কাজের ফলোআপের জন্য পরিদর্শনে যান, তিনি হাঁটতে হাঁটতে লক্ষ্য করেন যে দুটি প্রবাসী খালি প্লটের একটির সামনে সন্দেহজনকভাবে চলাচল করছে। কেন তারা কাজ করছে না তা খুঁজে বের করার জন্য তিনি তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন, এটি পরিষ্কার হয়ে যায় যে তারা চোর যারা নির্মাণ সামগ্রী চুরি করতে এসেছিল।

পথচারীর সহায়তায় সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

✍️ Collected and posted by Nahar Hoque

কথার আগুনে পুড়ছে বিশ্বকাপ স্বপ্ন।

সোমবার, ০১ নভেম্বর ২০২১, ১৬ কার্তিক ১৪২৮, ২৪ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

কথার লড়াই চলছে খুব৷ যেন যুদ্ধ৷ যেন সবাই সবার প্রতিপক্ষ৷ বিসিবি প্রেসিডেন্ট ঢিল ছুড়ছেন৷ অধিনায়ক থেকে সিনিয়র ক্রিকেটাররা ছুড়ছেন পালটা পাটকেল৷ স্বজনরাও কাদা ছোড়াছুড়ি করছেন৷ আছে সামাজিক মাধ্যমে আমজনতার নিরন্তর কাটাছেঁড়াও৷

এসবের ফাঁকে ক্রিকেটটাই কেবল মিইয়ে যায় হাওয়াই মিঠাইয়ের মতো৷ অথবা কে জানে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রত্যাশিত ক্রিকেটটা হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে বলেই এসব!

বড় আশা নিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গিয়েছিল এবার বাংলাদেশ৷ বড় বড় কথা বলে; বড় স্বপ্নের মাদল বাজিয়ে৷ ক্রিকেট-মাদকতায় বুঁদ হয়ে থাকা ১৭ কোটির হৃদয়ে সেমিফাইনালের আশার রঙ ছড়িয়ে৷ কিন্তু প্রত্যাশার সঙ্গে পারফরম্যান্সের বিশ্বাসঘাতকতা তো বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই! আততায়ী স্কটল্যান্ডের কাছে অতর্কিত পরাজয়ে৷

ব্যস, ঢোলে বাড়ি! বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হোসেন পাপন কাঠগড়ায় দাঁড় করান পুরো দলকে৷ বিশেষত তিন সিনিয়র মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসানকে৷ জবাব দিতে তারাও সময় নেননি৷ না, মাঠের ক্রিকেটে না৷ মুখের কথার তুবড়িতে৷ তাতে মিশে থাকে যাবতীয় যন্ত্রণা, হতাশা, কষ্ট, ক্রোধ৷

হোঁচটে শুরুর পর খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ওমানের বিপক্ষে জয় বাংলাদেশের৷ বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভস, মানে মূল পর্বে ওঠাটাই তখন অনেক যদি-কিন্তুর বিন্দুতে৷ সেমির স্বপ্ন বুঝি-বা দূরের অলৌকিক অদেখা ভুবন৷ কিন্তু এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করতেই সাকিবের অহমে আঘাত লাগে৷ ‘‘স্বপ্ন কি প্রতিদিন বদলায় নাকি? আপনারা বললে বদলে ফেলব” – এমন উত্তরে মিশে থাকে ব্যঙ্গ৷ তাচ্ছিল্য৷

পরের ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর আবেগের অগ্নুৎপাত৷ ক্রিকেটারদের ‘ছোট’ করা, পরিবারের দুঃখগাঁথা, পেইনকিলারের ব্যথা – সব উঠে আসে তাঁর ব্যথাতুর শব্দ-বাক্যে৷ ত্রয়ীর তৃতীয়জন মুশফিক এরপর দেন আয়না-তত্ত্ব৷ সমালোচকদের আয়নায় মুখ দেখার পরামর্শে৷

ক্রিকেটাররা এভাবেই প্রথমে ঠারেঠোরে, এরপর একরকম ঘোষণা দিয়ে প্রতিপক্ষ বানিয়ে তোলেন সবাইকে৷ বিসিবি প্রেসিডেন্ট৷ গণমাধ্যম৷ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম৷ বুঝ-অবুঝ সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমী৷ নির্বিশেষে৷ স্ফ‚লিঙ্গ হয়ে ওঠে দাবানল৷ সমালোচনার দাউ দাউ আগুনে মোমের মতো পুড়তে থাকে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপ স্বপ্ন৷

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল এখানে দায় দেখেন সব পক্ষের, ‘‘এটা আমাদের সবার দোষ৷ স্কটল্যান্ডের কাছে প্রথম ম্যাচ হারের পর বোর্ড প্রেসিডেন্ট যেভাবে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলেছেন, সেভাবে না বললেই হত৷ এটার প্রভাব সবার মধ্যেই পড়েছে৷’’

বোর্ড প্রেসিডেন্টের কথাতেই কি সাকিব-মুশফিক-মাহমুদউল্লাহদের অমন প্রতিক্রিয়া? ‘‘আমার কাছে তাই মনে হয়৷ এটা স্পষ্ট বোঝা গেছে৷ ওমানের সঙ্গে ম্যাচে সব ক্রিকেটারের চেহারা দেখে খুব টেনসড মনে হয়েছে৷ সবাই একদম ছোট হয়ে ছিল৷ মাহমুদউল্লাহ, মুশফিককে সাত-আট নম্বরে পাঠানো…৷ টুর্নামেন্টের শুরুতে এই ধরনের ব্যাপারের একটা প্রভাব পড়েছে” বলে উপলব্ধি আশরাফুলের৷

কিন্তু মাঠে গিয়ে তো শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটাররা খেলেন৷ তারা যদি অমন প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া না দেখাতেন, তাহলে তাদের জন্য আরেকটু নির্ভার হয়ে খেলাটা সম্ভব ছিল? নাকি নিজেদের হতাশা দূর করার জন্য এভাবে বলাটাও প্রয়োজন ছিল? আশরাফুল তুলে আনেন অতীতের উদাহরণ, ‘‘বোর্ড প্রেসিডেন্ট তো ৯ বছর ধরে আছেন৷ উনি সবসময়ই এমন বলেন৷ (২০১৫ সালে) দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে প্রথম ম্যাচে আমরা ১৬০ রানে অলআউট হয়ে গেলাম৷ উনি সবাইকে ডেকে কথা বললেন৷ এরপর আমরা সিরিজ জিতে গেলাম৷ আসলে একেকজন একেকভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়৷ তখন মাশরাফি অধিনায়ক ছিল; সে একভাবে রিঅ্যাক্ট করেছে৷ তখন হাতুরাসিংহে কোচ থাকায় এবং সুজন ভাই (খালেদ মাহমুদ) দলের সঙ্গে থাকায় ব্যাপারটি ভালোভাবে সামলাতে পেরেছে৷ এখন ওই জায়গাতে কেউ নেই বলেই হয়তো ক্রিকেটারদের প্রতিক্রিয়া একটু বেশি হয়েছে৷ তবে ক্রিকেটাররা এমনভাবে প্রতিক্রিয়া না দেখালে আরেকটু ভালো পারফর্ম করতে পারত৷”

এ সামগ্রিকতায় কি বোর্ডের সঙ্গে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের দূরত্বটাই মিডিয়ার সামনে বেরিয়ে এল? আশরাফুলের সেটাই মনে হচ্ছে, ‘‘ভেতরের খবর তো জানি না৷ বাইরে থেকে আমার কাছে তো তাই মনে হচ্ছে৷ বোর্ড প্রেসিডেন্ট এমন কথা নতুন বলছেন না৷ যখনই খারাপ হয়, বলেন৷ এরপর আমরা আবার সাফল্যও পেয়ে যাই৷ ক্রিকেটাররা ওভাবে রিঅ্যাক্ট না করে টুর্নামেন্টটা ভালোভাবে শেষ করার কথা ভাবতে পারত৷ আসলে দুই দিকেই আছে৷ ক্রিকেটাররাও হয়তো ভেবেছে, যথেষ্ট হয়েছে৷ প্রতি সিরিজেই হয়তো-বা এসব শুনতে আর ভালো লাগে না৷”

বাংলাদেশের প্রথম টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক শাহরিয়ার নাফীস সামনে আনতে চান বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স৷ এসব কথা চালাচালির প্রভাবেই কি দল খারাপ খেলছে? ‘‘আমার মনে হয় উলটা৷ দলের পারফরম্যান্স খারাপ হয়েছে বলেই এত কিছু হচ্ছে৷ পাপন ভাইয়ের সঙ্গে ক্রিকেটারদের সম্পর্কের ব্যাপারে তো আগে আমার খুব স্পষ্ট ধারণা ছিল না৷ কিন্তু এখন বোর্ডে কাজ করার সূত্রে সেটি জানি৷ বোর্ড প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ক্রিকেটারদের যেমন সম্পর্ক, তাতে এমন কিছু বলার অধিকার পাপন ভাইয়ের আছে৷ সাকিবও তো সেদিন বলল, পাপন ভাই যে কথা বলেন, সেগুলো মাঝেমধ্যে আমাদের কাজে লাগে৷ সব মিলিয়ে আমার মনে হয়, মাঠের ক্রিকেটে আমাদের প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না বলেই সবাই চাপ অনুভব করছে৷ সে চাপ থেকেই সব কিছু হচ্ছে” – নাফীসের উপলব্ধি৷

আর গণমাধ্যমের সঙ্গে ক্রিকেটারদের কথা বলার সময় আরো সতর্কতার প্রয়োজনীয়তাও দেখেন তিনি, ‘‘পরিস্থিতি ক্রিকেটারদের পক্ষে যাচ্ছে না৷ মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার সময় ক্রিকেটারদের আরো অনেক সচেতন থাকা উচিত৷ হ্যাঁ, সামাজিক মাধ্যমে সবসময় যে রেসপন্সিবল বিহেভিয়ার হয়, তা আমি বলব না৷ এটি ঝোঁকের উপর চলে, নিয়ন্ত্রণের উপায় তো নেই৷ ক্রিকেটারদের সেদিকে মনোযোগ দেবার প্রয়োজনও আমি দেখি না৷ তবে মূলধারার গণমাধ্যমের সঙ্গে কথাবার্তা বলার সময় অবশ্যই ওদের আরো সতর্ক হওয়া উচিত৷ তাহলে শেষ পর্যন্ত ওদেরই লাভ হবে৷”

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের লাভের খাতায় কিছু যোগ হবে কিনা, কে জানে! তবে সব পক্ষ ফুঁ দিয়ে জ্বালিয়েছে যে আগুন, সেটি নেভাতে পারে কেবল মাঠের পারফরম্যান্স৷ নইলে মাঠ ও মাঠের বাইরে বাংলাদেশ ক্রিকেট হয়ে উঠবে জতুগৃহ৷ সে আগুনের আঁচ এড়াতে পারবেন কি কেউ!