করোনা মহামারীতে যারা খালি হাতে দেশে ফেরার পর যারা বেকার রয়েছেন তাদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সহজ শর্তে লোন দিচ্ছে অগ্রনী ব্যাংক।
আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে একেবারে সহজ শর্তেই ঋন দিচ্ছে এই ব্যাংক। বাড়ি কিংবা জমির দলিল এবং কোন জামানত ছাড়াই সহজেই লোন পেতে পারেন যে কোন প্রবাস ফেরত প্রবাসী। গ্রামাঞ্চলে ৫ লাখ এবং শহরাঞ্চলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত লোন দেওয়া হচ্ছে। মাত্র ৭% সূদে ৩ বছর মেয়াদে এই লোন পরিশোধ করার সময় পাবেন।
তবে অগ্রনী ব্যাংকের লোন পেতে হলে প্রবাসীদের সহজ কয়েকটি শর্ত মানতে হবে । প্রথমত প্রবাসে কর্মরত থাকা অবস্থায় অগ্রনী রেমিট্যান্স হাউজ এর মাধ্যমে দেশে বৈধ উপায়ে রেমিট্যান্স প্রেরনের রেকর্ড থাকতে হবে। দ্বীত্বিয়ত ভিসা, পারমিট ও পাসপোর্টের কপি লাগবে। সেগুলোর মেয়াদ না থাকলেও সমস্যা নেই।
এই লোন নিয়ে যে কোন প্রবাস ফেরত প্রবাসী মৎস্য খামার, গরু কিংবা মুরগীর খামার সহ যে কোন ব্যবসা করে স্বাবলম্বী হতে পারেন। এতে করে প্রবাসীরা বৈধপন্থায় রেমিট্যান্স প্রেরনে যেমন উৎসাহিত হবেন তেমনি প্রবাস ফেরত কর্মহীনরা মাথা গোঁজার ঠাঁই পাবে।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে মালয়েশিয়া কুয়ালালামপুরস্থ অগ্রণী রেমিট্যান্স হাউজ এর পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খালেদ মোরশেদ রিজভী বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড সবসময় প্রবাসীদের কল্যানে কাজ করে যাচ্ছে ।
ব্যাংকের উর্ধতন ব্যাবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও জনাব শামস উল ইসলাম কোভিড কালীন ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাস ফেরত বাংলাদেশীদের জন্য সহজ শর্তে ”প্রবাসীর ঘরে ফেরা ঋণ” অনুমোদন করেছে।
কোভিড-১৯ এর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ বিদেশ ফেরত বৈদেশিক রেমিট্যান্স প্রেরণকারীগণ ক্ষুদ্র ব্যবসা ও অত্ম-কর্মসংস্থানমূলক কর্মকান্ডে নিয়োজিত হওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে সমাজে প্রতিষ্টিত করাই এই ঋণের মূল লক্ষ্য।
যেকোন বিদেশ ফেরত বাংলাদেশী প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদী উপস্থাপন করে সহজে তাদের নিকটস্থ যেকোন অগ্রণী ব্যাংকে এই ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবে।
বুধবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর ১টা। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসেছেন সৌদিগামী মো. রাসেল। দুহাতে ভা’রী ব্যাগ। হন্যে হয়ে খুঁজছেন একটা ট্র’লি। কিন্তু পাচ্ছেন না। তার মতো অনেকেই পড়েছেন ট্রলি সংক’টে। বিমানবন্দরের প্রবেশপথটাও যেন মাছবাজার। স্বা’স্থ্যবি’ধি তো দূরে থাক, সাধারণ শৃঙ্খলাও নেই। অতিমাত্রায় ভি’ড়ের কারণে ফ্লাইট বিল’ম্বের ঘটনাও ঘটছে। মূলত আরব আমিরাতগামী যাত্রীদের ক’রো’না পরীক্ষার ব্যবস্থা টার্মিনালের ভেতরে করাতেই বিপ’র্যস্ত হয়ে পড়ছে বিমানবন্দর।
অতিরিক্ত ভি’ড় ও শ’ব্দের কারণে এয়ারলাইন্সগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় বি’ঘ্ন ঘটছে। অন্য রু’টের যাত্রীরাও পড়েছেন ভো’গান্তি’তে। টার্মিনালের ভেতর ক’রো’নার নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা সরা’নো না গেলে জ’টিলতা আরও বাড়বে বলে শঙ্কা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের। সংযুক্ত আরব আমিরাতের শর্ত অনুযায়ী, দেশটিতে বাংলাদেশিদের প্রবেশ করতে হলে ফ্লাইটের ৬ ঘণ্টা আগে ক’রো’না পরী’ক্ষা করাতে হবে। যে কারণে ফ্লাইটের অন্তত আট ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে আসতে হচ্ছে যাত্রীদের। প্রবেশের সময় প্রত্যেকে একটি করে ট্র’লি নিয়ে প্রবেশ করছেন। কিন্তু বোর্ডিংয়ের আগ পর্যন্ত প্রায় সাত ঘণ্টা সেই ট্রলি আ’টকে রাখতে হচ্ছে তাদের। এতে অন্য যাত্রীরা পড়ছেন ট্র’লি সংক’টে।
বেশি জ’টিলতা দেখা দেয় সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার ভেতর। এ সময় অন্য গন্ত’ব্যের যাত্রী ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী প্রায় ১২শ’ যাত্রী অবস্থান করেন। কারণ, বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে এমিরেটস, ৬টা ১৫ মিনিটে এয়ার অ্যারাবিয়া আবুধাবি, ৭টায় ফ্লাই দুবাই, ইউএস-বাংলা, সাড়ে ৭টায় এমিরেটস এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনের আরব আমিরাতগামী ৬টি ফ্লাইট রয়েছে।
অন্যরা বির’ক্ত, আছে স্বাস্থ্যঝুঁ’কিও: বিমানবন্দরের ১ নম্বর টার্মিনালের ১ নম্বর গেট দিয়ে উত্তর পাশে অবস্থান করেন সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী যাত্রীরা। ফ্লাইটের আগে ৭-৮ ঘণ্টা সেখানেই থাকতে হয় তাদের। উড়োজাহাজে ওঠার আগ পর্যন্ত কমপক্ষে ১০ বার লাইনে দাঁ’ড়াতে হয়। লাইন সামলাতেও হিমশি’ম খাচ্ছে কর্তৃপ’ক্ষ। যাত্রীদের হইচই তো আছেই, তাদের নির্দেশনা দিতে হ্যান্ডমা’ইক ব্যবহার করায় হচ্ছে শ’ব্দদূষ’ণও। এতে প্রবল আপ’ত্তি জানিয়েছেন এয়ারলাইন্সের কর্মী ও অন্য যাত্রীরা। শ’ব্দদূ’ষণের কারণে তাদের এক কথা গলা চড়িয়ে দু-তিনবার করেও বলতে হচ্ছে।
এদিকে বিমানবন্দরে ক’রো’না পরী’ক্ষা করা হলেও স্বাস্থ্যবি’ধির বা’লাই নেই। শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই হিমশিম খাচ্ছেন কর্মীরা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের ফেলা আবর্জনায় নোং’রাও হচ্ছে বিমানবন্দর। ঢাকা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, এমিরেটস, ইতিহাদ, ফ্লাই দুবাই, এয়ার অ্যারাবিয়া, এয়ার অ্যারাবিয়া আবুধাবি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এসব এয়ারলাইনের ফ্লাইটে সপ্তাহে ১৮-২০ হাজার যাত্রী সংযুক্ত আরব আমিরাত যাচ্ছেন। আরও ছয়-সাতটি এয়ারলাইন্স আমিরাতগামী যাত্রী পরিবহন করছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক’রো’না পরী’ক্ষার জন্য ৬টি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষায় ১ হাজার ৬০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রবাসী কর্মীদের ফি দেবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। উল্লেখ্য, ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত বিমানবন্দরে ক’রো’না পরী’ক্ষায় আরব আমিরাতগামী ৩১ যাত্রীর ‘পজি’টিভ রিপোর্ট পাওয়া যায়।
সমাধান কী: নমুনা সংগ্রহে বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনের দ্বিতীয় তলায় ১০টি বুথ আছে। পরীক্ষা হয় নিচতলার ল্যাবে। ৬টি প্রতিষ্ঠানের ২টি করে মোট ১২টি আরটি পিসিআর মেশিন আছে। একটি মেশিনে একসঙ্গে ৯৪টি নমুনা পরী’ক্ষা করা যায়। এতে সময় লাগে আড়াই ঘণ্টা। যে কারণে ক’রো’না পরীক্ষাসহ যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতায় প্রায় সাত ঘণ্টা লেগে যায় আমিরাতের যাত্রীদের।
ক’রো’না পরিস্থি’তির অবনতি হলে প্রায় তিন মাস বাংলাদেশের জন্য ফ্লাইট নিষেধা’জ্ঞা ছিল আরব আমিরাতের। ৪ আগস্ট বাংলাদেশসহ ছয়টি দেশের যাত্রীদের ট্রানজিট সুবিধা চালু করে দেশটি। শ’র্ত দেওয়া হয়—ফ্লাইট ছাড়ার ৬ ঘণ্টা আগে র্যা’পিড পি’সিআর পরীক্ষায় নে’গেটিভ রিপোর্ট থাকতে হবে। তখন বিমানবন্দরে ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও জায়গা নিয়ে তৈরি হয় জ’টিলতা।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরের পার্কিং ভবনের ছাদে ল্যাব স্থাপনের প্রস্তাব করলে সংশ্লিষ্ট ল্যাব ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের আপত্তির মুখে তা হয়নি। পরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী বিমানবন্দরের ভেতর জায়গা নির্ধারণ করে দেন। যদিও তখন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান জানিয়েছিলেন, বিমানবন্দরে ল্যা’ব স্থাপন করা হলে স্বাভাবিক কার্যক্রম দারুণভাবে বি’ঘ্নিত হবে।
এ প্রসঙ্গে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদ-উল আহসান বলেন, ‘বিমানবন্দরটি ছোট। স্বাভাবিকভাবেই চা’প বেশি থাকে। আরব আমিরাতগামী যাত্রীদের ক’রো’না পরী’ক্ষা বিমানবন্দরের ভেতরে হওয়ায় চা’প বেড়েছে। স্বাভাবিক পরিবেশ রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এ জন্য শুরু থেকেই বিমানবন্দরের বাইরে ল্যা’ব স্থাপনের প্রস্তাব ছিল বেবিচকের। সমস্যাগুলো স্বাস্থ্য অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। পার্কিং ভবনের দ্বিতীয় তলায় যাত্রীদের ন’মুনা সংগ্রহ ও বসার ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সেটা হলে এ সমস্যা দূর হবে।’
সালামা বেগম জরুরি কাজে চট্টগ্রাম যাবেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের তার ফ্লাইট সকাল সাড়ে ৮টায়। তিনি বিমানবন্দরে এসে হা’জির হলেন সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে। গাড়ি থেকে নেমে লাগেজ নিয়ে বিমানবন্দরে ঢু’কলেন। সকাল ৮টা ৫ মিনিটে বিমানের কাউন্টারে গেলেন বোর্ডিং করতে। কিন্তু বিমানের কাউন্টারের লোকজন জানালেন, কাউন্টারে ক্লোজ, তাকে আর বোর্ডিং করা সম্ভব নয়।
শুধু সালমা নয়, আরও কয়েকজন যাত্রী একই রকম পরিস্থিতিতে পড়েছেন। সালমা বেগম বিমানের কর্মীদের সঙ্গে বা’কবিত’ণ্ডা’ জ’ড়িয়ে পড়লেন। রেগে গিয়ে ফেসবুকে স্টাটাস দিলেন সালামা বেগম। মুহুর্তে হাজার হাজার লাইক, শত শত কমেন্ট। সবাই একহাত নিলো বিমানে। কিন্তু বাস মিস করা আর ফ্লাইট মিস করা তো এক কথা নয়। প্রশ্ন হচ্ছে, ফ্লাইটের কতক্ষণ আগে বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন?
একটি ফ্লাইটে ৭০ জন যাত্রী। সবাই যদি ফ্লাইট ছাড়ার ২০ মিনিট আগে কাউন্টারে আসেন, তাহলে কি সবার বোর্ডিং করে নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইট ছাড়া সম্ভব হবে? দেশের ভেতরে অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নির্দেশনা অনুসারে ৩০ মিনিট আগে বোর্ডিং কাউন্টার ক্লো’জ হবে। ফ্লাইটের ৩০ মিনিট আগে আপনি কাউন্টারে না আসলে, এয়ারলাইন্স আপনাকে বোর্ডিং করতে বাধ্য নয়।
আপনি হয়ত ভাবতে পারেন, ফ্লাইটের ৩০ মিনিট আগে কাউন্টার বন্ধ কেন। বিমানযাত্রার জন্য সব সময়ই কিছু প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। অভ্যন্তরীণ গন্তব্যের ফ্লাইটের উড়োজাহাজগুলো টার্মিনাল থেকে দূরবর্তী বে এলাকায় পা’র্কিং করা থাকে। সেখানে যাত্রীদের নিয়ে উড়োজাহাজে উঠতেও সময়ের প্রয়োজন আছে। যাত্রীদের বুকিং করা লাগেজগুলো টার্মিনালের বোর্ডিং কাউন্টার থেকে নিয়ে উড়োজাহাজে উঠাতে সময়ের প্রয়োজন হয়।
যাত্রীরা আসন গ্রহন করার পর উড়োজাহাজের ডো’র ক্লোজ করার পর ফ্লাইট ছাড়ার জন্য প্রস্তুতি নেন পাইলট। ফলে বোর্ডিং করার পরও কিছু আনুষ্ঠানিকতার জন্য এয়ারলাইনের সময়ের প্রয়োজন। তবে কখনও কখনও কোন যাত্রীর সঙ্গে যদি কোন লাগেজ না থাকে, সেই সব যাত্রী দে’রিতে আসার পরও কোনও কোনও এয়ারলাইন্স চেষ্টা করে তাকে ফ্লাইটে নিতে। তবে ফ্লাইটের ৩০ মিনিট আগে আপনি কাউন্টারে না আসলে, এয়ারলাইন্স আপনাকে বোর্ডিং করতে বা’ধ্য নয়।
অনেকে যাত্রী এ বিষয়গুলো গুরুত্ব দেন না, ভু’ল করে বসেন। তাই বিমানবন্দরে ফ্লাইট ছাড়ার কমপক্ষে ৪৫ মিনিট আগে পৌঁছানোই ভালো। আর যদি তা না করেন, আপনি ফ্লাইট মিস করবেন। রেগে গিয়ে সালামা বেগমের মতো ফেসবুকে স্টাটাস দিলে হাজার হাজার লাইক, শত শত কমেন্ট পেতে পারেন। কিন্তু ফ্লাইট ধরতে পারবেন না। লেখা: বাংলা এভিয়েশন।
দেশে করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ নিয়ে ভাইরাসটি দেশের ২৭ হাজার ৮৪৭ জনের প্রাণ কেড়ে নিল।
বৃহস্পতিবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ২৯৪ জন। এখন পর্যন্ত মোট করোনা শনাক্ত হয়েছেন ১৫ লাখ ৬৮ হাজার ৮৫৭ জন।
দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত বছরের ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই বছর সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছিল ৬৪ জনের।
ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় চলতি বছর জুন থেকে রোগীর সংখ্যা হু-হু করে বাড়তে থাকে। ২৮ জুলাই একদিনে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল।
চলতি বছরের গত ৭ জুলাই প্রথমবারের মতো দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৫ ও ১০ আগস্ট ২৬৪ জন করে মৃত্যু হয়, যা মহামারির মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু।
বেশকিছু দিন ২ শতাধিক মৃত্যু হয়। এরপর গত ১৩ আগস্ট মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ এর নিচে নামা শুরু করে। দীর্ঘদিন শতাধিক থাকার পর গত ২৮ আগস্ট মৃত্যু ১০০ এর নিচে নেমে আসে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড দেশের ৩০ জেলায় প্রবাসীদের জন্য ওয়েলফেয়ার সেন্টার স্থাপন করবে। এসব ওয়েলফেরার সেন্টার থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া ২ লাখ কর্মীকে জনপ্রতি ১৩ হাজার ৫০০ টাকা করে প্রণোদনা দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে কোভিডফেরত (কোভিডের কারণে বিদেশফেরত) কর্মীদের রিইন্টিগ্রেশন প্রজেক্টের সাবসিডি চুক্তি সই হয়।
চুক্তি সই অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন।
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে কোভিডফেরত কর্মীদের রিইন্টিগ্রেশন প্রজেক্ট থেকে এসব ওয়েলফেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হবে। এই প্রকল্পে ব্যয় হবে ৪২৭ কোটি টাকা। ওয়েলফেয়ার সেন্টারে কোভিডফেরত কর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান শেষে যাচাই-বাছাই করে ২ লাখ কর্মীকে ১৩ হাজার ৫০০ টাকা করে প্রণোদনা দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে বয়স্ক, নারী ও খুব বেশি অর্থের প্রয়োজন যাদের, তাদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এ ছাড়া এই প্রকল্প থেকে ২৫ হাজার ৫০০ বিদেশ ফেরত কর্মীকে রিকগনেশন অব প্রাইম লার্নিং সার্টিফিকেটও দেওয়া হবে।
আজ থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুরে যাত্রী পরিবহন শুরু করতে যাচ্ছে। সিঙ্গাপুর যেতে হলে যাত্রীদেরকে অবশ্যই সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দেশটিতে প্রবেশের অনুমতিপত্র গ্রহণ করতে হবে। বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিমান। বিমান জানিয়েছে, ২৮ অক্টোবর থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত সপ্তাহে প্রতি বৃহস্পতিবার এবং ১৩ নভেম্বর থেকে সপ্তাহে প্রতি শনিবার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার ফ্লাইট পরিচালনা করবে বিমান। ঢাকা থেকে স্থানীয় সময় সকাল ৮:৩০ টায় সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে বিমানের ফ্লাইট ছেড়ে যাবে এবং সিঙ্গাপুর থেকে সেখানকার স্থানীয় সময় বিকাল ৩:৫০ টায় ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবে। যাত্রীরা বিমানের যে কোন সেলস্ অফিস এবং অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে টিকেট ক্রয় করতে পারবেন। সিঙ্গাপুর যেতে হলে যাত্রীদেরকে অবশ্যই সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি পত্র গ্রহণ করতে হবে এবং অনুমোদিত কোভিড-১৯ এরটিকার পূর্ণ ডোজ গ্রহণ করতে হবে। ফাইজার, মডার্না, অস্ট্রাজেনেকা, সেরামের কোভিশিল্ড, সিনোফার্ম, সিনোভ্যাক টিকার যে কোন একটির ২ ডোজ এবং জনসনের টিকার ক্ষেত্রে ১ ডোজ নেয়ার কমপক্ষে ১৪ দিন পর থেকে সিঙ্গাপুরে যাওয়া যাবে। ২ বছরের বেশি বয়সী যাত্রীদেরকে ফ্লাইট ছাড়ার পূর্ববর্তী সর্বোচ্চ ৪৮ ঘন্টার মধ্যে করোনা পরীক্ষা করাতে হবে এবং নেগেটিভ সনদ থাকতে হবে। সিঙ্গাপুর পৌঁছে ১০ দিন হোটেল কোয়ারেন্টাইন থাকতে হবে। কোয়ারেন্টাইনের তৃতীয় ও সপ্তম দিনে নিজ খরচে অ্যান্টিজেন রেপিড টেস্ট করাতে হবে এবং ১০ম দিনে নিজ খরচে কোভিড-১৯ পিসিআর পরীক্ষা করাতে হবে। সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য ভ্রমণে গেলে যাত্রীদেরকে চাঙ্গি বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষা করাতে হবে যার জন্য পূর্বেই অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ও ফি প্রদান করতে হবে। সিঙ্গাপুর যাওয়ার পূর্বে মোবাইলে ‘Trace Together’ অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে। সিঙ্গাপুর বিমানবন্দরে যাত্রীদেরকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য বাইরের কোন ব্যক্তি প্রবেশ করতে পারবেন না। সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশে আসতে হলে ১২ বছরের বেশি বয়সী যাত্রীগণকে ফ্লাইট ছাড়ার পূর্ববর্তী সর্বোচ্চ ৭২ ঘন্টার মধ্যে করোনা পরীক্ষা করাতে হবে এবং নেগেটিভ সনদ থাকতে হবে। করোনা টিকা নেয়া না থাকলে বাসায় যেয়ে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর করোনার লক্ষণ দেখা গেলে যাত্রীকে সরকার নির্ধারিত হোটেলে নিজ খরচে কোয়ারেন্টাইন থাকতে হবে।
লিবিয়া হতে আইওএম এর একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে মেতিগা বিমানবন্দর হতে স্বেচ্ছায় দেশে গমনে মোট ১২৪ জন বাংলাদেশিকে দেশে পাঠানো হয়েছে।প্রত্যাবাসনকৃত বাংলাদেশিদের মধ্যে ২২ জন অসুস্থ এবং কয়েকজন লিবিয়ার ডিটেনশন সেন্টারে দীর্ঘদিন আটক ছিলেন। উল্লেখ্য, লিবিয়া হতে আইওএম এর সকল ফ্লাইট বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি পুনরায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দূতাবাসের সর্বাত্মক প্রচেষ্টার ফলে আইওএম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আবেদনকারী বাংলাদেশিদের পর্যায়ক্রমে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করছে। এই লক্ষ্যে বেনগাজীসহ লিবিয়ার পূর্বাঞ্চল হতে নিবন্ধিত প্রবাসীদের প্রত্যাবসনের জন্য দূতাবাস হতে ২৮ অক্টোবর আইওএম এর একটি চার্টার্ড ফ্লাইট বেনিনা বিমানবন্দর হতে পরিচালনা করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও লিবিয়ার ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশিদের দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশে প্রত্যাবাসন করার জন্য দূতাবাসের সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।
বিদেশ থেকে বাংলাদেশি প্রবাসীরা করোনার টিকা ছাড়া দেশে আসতে পারবেন।
করোনার কারণে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়া এবং বিদেশ থেকে বাংলাদেশে আসার ক্ষেত্রে বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) পক্ষ থেকে যেসব নিষেধাজ্ঞা ও নির্দেশনা ছিল সেগুলো তুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে এখন থেকে যে কোনো দেশে (সেসব দেশের বিধিনিষেধ অনুযায়ী) যাওয়া বা সেসব দেশ থেকে বাংলাদেশে আসার ক্ষেত্রে আর নিষেধাজ্ঞা থাকছে না।
তবে ১৩টি দেশ থেকে আসা যাত্রীদের জন্য কিছু বিধিনিষেধ থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। কিছু নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া দেশগুলো হলো- আরমেনিয়া, বুলগেরিয়া, এস্তোনিয়া, জর্জিয়া, লাটভিয়া, মলডোভা, ফিলিস্তিন, মঙ্গোলিয়া, রোমানিয়া, সার্বিয়া, স্লোভেনিয়া ও ইউক্রেন। এসব দেশ থেকে যারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত যে কোনো একটি করোনাভাইরাসের টিকার পূর্ণাঙ্গ ডোজ নিয়ে বাংলাদেশে আসবেন তাদের সাত দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।
এছাড়া যারা টিকা ছাড়া আসবেন তাদের সাত দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।
এছাড়া এই ১৩ দেশ ব্যতীত অন্যান্য দেশের যাত্রীরা যদি টিকার পূর্ণাঙ্গ ডোজ নিয়ে দেশে আসেন, সেক্ষেত্রে তাদের কোনো কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে না। আগে তাদের ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হতো। এই ১৩ দেশ ব্যতীত অন্যান্য দেশের যাত্রীরা টিকার পূর্ণাঙ্গ ডোজ না নিয়ে বাংলাদেশে আসতে পারবেন। তবে তাদের ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। আদেশটি গতকাল রোববার থেকে কার্যকরের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া যেসব যাত্রী বাংলাদেশে আসবে এবং বাংলাদেশ ছেড়ে যাবে তাদের ফ্লাইটের ৭২ ঘণ্টা আগে আরটি পিসিআর পরীক্ষা করে নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিতে হবে। তবে ১২ বছরের নিচে কোনো শিশুর ক্ষেত্রে এই বাধ্যবাধকতা নেই। বিদেশি কূটনীতিকদের কোয়ারেন্টাইনের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত গাইডলাইন মানতে বলা হয়েছে।
করোনাকালে প্রবাস ফেরত কর্মীদের জন্য বিশ্বব্যাংকের ৪২৫ কোটি টাকা ঋণের চুক্তি সই।
করোনাকালে দেশে ফেরত প্রবাসী কর্মীদের পুনর্বাসনের জন্য বিশ্বব্যাংকের দেয়া ৪২৫ কোটি টাকা ঋণের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে অনলাইনে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। দেশে ফেরা প্রবাসী কর্মীদের সমাজে পুনঃএকত্রীকরণ তথা পুনর্বাসনের সহায়তা করার জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এই প্রকল্পটি হাতে নিয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে ২০২০ সালের জানুয়ারির পর থেকে যারা চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরেছেন তাদের ব্যাংকের মাধ্যমে এককালীন ১৩ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া এই প্রবাসী কর্মীদের উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য ঋণের প্রয়োজন হলে সে ব্যবস্থা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
সচিব আরও জানান, দেশের ৩০টি অভিবাসন প্রবণ জেলায় কল্যাণ বোর্ড স্থাপন করা হবে। সেখান থেকে সারাদেশে এই প্রকল্পের জন্য দেশে ফেরা ২ লাখ প্রবাসী কর্মীকে যাচাই-বাছাই করে তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই অর্থ সহায়তা দেয়া হবে। এক্ষেত্রে উপজেলা থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যন্ত সকলকে অন্তর্ভুক্ত করে এই প্রকল্প পরিচালনা করা হবে। এই বছরের শেষে অথবা আগামী বছরের শুরুতে এই কার্যক্রম শুরু হবে বলে তিনি জানান।
প্রবাসীরা যেন সমাজে নিজেদের সম্মানজনক একটি অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেন, সেটি এই প্রকল্পের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের কল্যাণমূলক সেবাগুলো সাধারণ মানুষকে অবহিত করতে জেলা-উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যায়ে সভা-সেমিনার এবং ওয়ার্কশপ আয়োজন ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রচারের ব্যবস্থা করা হবে বলেও সচিব জানান।