বিমান এমডি (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) আবু সালেহ মোস্তফা কামালের আশ্বাসে কাজে ফিরেছেন বিমানের পাইলটরা। স্থগিত করেছেন ৭৫ ঘণ্টার বেশি কাজ না করার আলটিমেটাম। বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পাইলট এসোসিয়েশনের (বাপা) সভাপতি ক্যাপ্টেন মাহবুবুর রহমান মঙ্গলবার রাতে যুগান্তরকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেছেন, দুপুরে বিমান এমডির সঙ্গে বাপা নেতাদের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে বিমান এমডি আগামী শনিবারের মধ্যে ওভারসিস এলাউন্স নিয়ে তাদের যে বেতন বৈষম্য চলছে সেটি নিরসন করবেন। এই আশ্বাস পেয়ে পাইলটরা তাদের আলটিমেটাম স্থগিত করেছেন। তিনিও রাতে ফ্লাইটে যাচ্ছেন বলে জানান। এই অবস্থায় সোমবার বিমানের দুবাই, দোহা ও মাসকট ফ্লাইট নিয়ে যে সমস্যা হয়েছিল সেটির অবসান হয়েছে।
বাপা সূত্রে জানাগেছে, বর্তমানে বিমানের পাইলট সংখ্যা ১৫৭ জন। মাসে যদি একজন পাইলট সর্বোচ্চ ৭৫ ঘণ্টা ডিউটি (ফ্লাই) করে তাহলে এই সংখ্যা পরের মাসে অর্ধেক হয়ে যাবে। এতে বিমানের অর্ধেকের বেশি ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাবে। এই অবস্থায় মঙ্গলবার বিমান ম্যানেজমেন্ট তড়িঘড়ি করে পাইলটদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে আগামী শনিবারের মধ্যে পাইলটদের সব ধরনের বেতন বৈষম্য নিরসনের আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে এ প্রসঙ্গে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সালেহ মোস্তফা কামালের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি।
এরআগে গত সোমবার বাপা সভাপতি মাহবুবুর রহমান সোমবার বলেছিলেন, মহামারিকালে বিমানে সবার বেতন কাটার সিদ্ধান্ত হয়েছিল; দেড় বছর বাদে অন্যদের আবার আগের মতো বেতন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও পাইলটদের ক্ষেত্রে তা হয়নি। এজন্য তিন মাস আগে পাইলটরা ধর্মঘটের হুমকি দিলেও বিমান কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে আন্দোলনে যায়নি।
মাহবুবুর বলেন, কিন্তু দুই মাসেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পাইলটরা এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাদের সঙ্গে বিমানের যে চুক্তি, সেটার বাইরে তারা কোনো কাজ করবে না। পাইলটরা জানান, বিমান ও বাপার মধ্যে সম্পাদিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী পাইলটদের মাসে ৭৫ ঘণ্টা ফ্লাই করার কথা এবং মাসে ৮ দিন ছুটি পাওয়ার কথা।
পাইলটরা জানান, তারা ‘ওভারসিজ অ্যালাউন্স’ নামে একটি ভাতা পেতেন, যা তাদের বেতনের ২০ শতাংশ। সেটা সম্পূর্ণরুপে বন্ধ বলে মূলত তাদের বেতন ২৫ শতাংশের পরিবর্তে ৪৫ শতাংশ কাটা হচ্ছে। আর যাদের বেতন ৫ শতাংশ কাটা হবে, তাদের ক্ষেত্রেও সেটা ২৫ শতাংশে দাঁড়াবে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ১৪৪ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ১০ বল হাতে রেখেই ৮ উইকেটের বড় জয় পায় প্রোটিয়ারা।
মঙ্গলবার দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৪৩ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টার্গেট তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারে অধিনায়ক টিম্বা বাভুমার উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
তিনে ব্যাটিংয়ে নামা রিশি ভেন দার ডুসেনকে সঙ্গে নিয়ে ৫৭ রানের জুটি গড়েন অন্য ওপেনার রেজা হেনরিক্স। ৯.২ ওভারে দলীয় ৬১ রানে ফেরেন হেনরিক্স। তার আগে ৩০ বলে করেন ৩৯ রান।
এরপর তৃতীয় উইকেটে এইডেন মার্কওরামকে সঙ্গে নিয়ে ৫৪ বলে ৮৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন রিশি ভেন দার ডুসেন। দলের জয়ে মাত্র ২৬ বলে দুই চার ও ৪টি ছক্কায় সর্বোচ্চ ৫১ রান করেন মার্কওরাম। ৫১ বলে ৪৩ রান করেন ডুসেন।
এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে দুর্দান্ত শুরুর পরও ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। উদ্বোধনী জুটিতে ৭৩ রান করা ক্যারিবীয় দলটি এরপর ৭০ রানের ব্যবধানে হারায় ৮ উইকেট। দলের তারকা ব্যাটসম্যানরা আসা-যাওয়ার মিছিলে অংশ নেওয়ায় ৮ উইকেটে ১৪৩ রানের বেশি করতে পারেনি ক্যাারিবীয়রা।
এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের কারণে ৫৫ রানের লজ্জা পায় ক্যারিবীয়রা।
মঙ্গলবার দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে পাঠায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে রীতিমতো তাণ্ডব চালান এভিন লুইস। ৩৫ বলে ৩টি চার ও ৬টি ছক্কায় ৫৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন এ ওপেনার। প্রোটিয়া বাঁহাতি স্পিনার কেশব মহারাজের বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ধরা পরেন লুইস। লুইসের বিদায়ে ১০.৩ ওভারে ৭৩ রানে প্রথম উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
লুইস আউট হওয়ার পর আর কোনো ব্যাটসম্যান দলের হাল ধরতে পারেননি। তারকা ব্যাটসম্যানরা আসা-যাওয়ার মিছিলে অংশ নেওয়ায় শেষ ৭০ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৩/৮ রানে ইনিংস গুটায় উইন্ডিজ।
দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৬ রান করেন লুইস। ১২ রান করে করেন ক্রিস গেইল ও নিকোলাস পুরান। ৩৫ বলে মাত্র ১৬ রান করেন ওপেনার লেন্ডন সিমন্স। ২০ বলে ২৬ রান করে বিতর্কিত ক্যাচ আউট হয়ে ফেরেন অধিনায়ক কায়রন পোলার্ড। দুই অঙ্কের ফিগার রান করতে পারেননি ডুয়াইন ব্রাভো, আন্দ্রে রাসেল ও সিমরন হিতমায়ার।
দক্ষিণ আফ্রিকা ও উইন্ডিজ দুই দলই নিজেদের প্রথম খেলায় হেরে গেছে। দক্ষিণ আফ্রিকা নিজেদের প্রথম ম্যাচে হেরে যায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। আর দুইবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন উইন্ডিজ হেরে যায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।
দেশে করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ নিয়ে ভাইরাসটি দেশের ২৭ হাজার ৮২৮ জনের প্রাণ কেড়ে নিল।
সোমবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ২৮৯ জন। এখন পর্যন্ত মোট করোনা শনাক্ত হয়েছেন ১৫ লাখ ৬৭ হাজার ৯৮১ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় ২০ হাজার ৭৭৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৪১৩ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৩১ হাজার ৭৪০ জন।
দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত বছরের ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই বছর সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছিল ৬৪ জনের।
ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় চলতি বছর জুন থেকে রোগীর সংখ্যা হু-হু করে বাড়তে থাকে। ২৮ জুলাই একদিনে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল।
চলতি বছরের গত ৭ জুলাই প্রথমবারের মতো দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৫ ও ১০ আগস্ট ২৬৪ জন করে মৃত্যু হয়, যা মহামারির মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু।
বেশকিছু দিন ২ শতাধিক মৃত্যু হয়। এরপর গত ১৩ আগস্ট মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ এর নিচে নামা শুরু করে। দীর্ঘদিন শতাধিক থাকার পর গত ২৮ আগস্ট মৃত্যু ১০০ এর নিচে নেমে আসে।
কোটিপতির স্ত্রীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল এক অটোচালকের সাথে। বয়সে সে ১৩ বছরের ছোট। অবশেষে সেই সম্পর্ককে পরিণতি দিতে বাড়ি থেকে পালালেন প্রেমিকের অটোরিকশায় করে। সাথে নিলেন মোটা অঙ্কের অর্থ। সম্প্রতি ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইনদওরের খাজরানায় ঘটেছে এই ঘটনা। জানা গেছে, ওই নারীর স্বামী একজন ব্যবসায়ী। এর জেরে তার কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তিও রয়েছে। খবর ডিএনএ ইন্ডিয়ার।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১৩ অক্টোবর থেকে নিখোঁজ ছিলেন ওই ব্যক্তির স্ত্রী। ওইদিন রাতে স্ত্রী বাড়ি না ফেরায় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। সেই অভিযোগে তিনি জানিয়েছিলেন, তার স্ত্রী ফেরেনি এবং বাড়ি থেকে ৪৭ লাখ রুপি গায়েব হয়ে গেছে। স্বামীর অভিযোগ, এক অটোচালকের সাথে পালিয়েছেন তার স্ত্রী।
জানা গেছে, ওই অটোচালকের নাম ইমরান। তিনি ওই নারীর থেকে প্রায় ১৩ বছরের ছোট। ইমরান ওই নারীকে প্রায়শই বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে যেতেন। সেখান থেকেই সম্পর্কের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওই ধনী ব্যক্তির অভিযোগ পেয়ে ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ। তারপর ইমরানের এক বন্ধুর বাড়ি থেকে ৩৩ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। যদিও ইমরান এবং ওই নারীর খোঁজ এখনো পায়নি পুলিশ।
তাদের খোঁজে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মোবাইলের লোকেশন দেখে তাদের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন পুলিশকর্মীরা।
আপন দুই বোনকে পাশবিক কায়দায় ধর্ষন। বড় বোন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিল ৩দিন পর। ছোট বোন শোকে পাথর। লজ্জা, ঘৃণা, অভিমানে বাকরুদ্ধ। তার অবস্থাও ভালো নয়। ভাল হবেই বা ক্যামন করে? ১৬ বছরের কিশোরীর সামনে ঘটে যাওয়া এমন পাশবিক, নির্মম ঘটনার পর সে ঠিক থাকে কি করে?
হ্যা, ঠিক এমনই খবর এসেছিল চাঁদপুর জেলার হাজিগঞ্জ থানায়। চলতি বছরের অক্টোবর মাসের ১২ তারিখের ঘটনা। খবরটা শুনে ক্যামন জানি হকচকিয়ে গেলেন ওসি সাহেব। এত্ত বড় সংবাদ, অথচ তিনি কিছুই জানেন না! দ্রুত মাননীয় পুলিশ সুপার মহোদয়কে জানালেন। পুলিশ সুপার মহোদয় ঘটনাস্থলে সরেজমিনে যেতে বললেন। এক মুহুর্ত দেরী না করে পুর্ব হাটিলা গ্রামের আব্দুল করিমের বাড়িতে হাজির হল পুলিশ। তবে সরেজমিনে গিয়ে যা জানা গেল তা প্রাপ্ত সংবাদের সাথে একেবারেই মিলল না।
জানা গেল চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ থানার পুর্ব হাটিলা গ্রামের করিম সাহেব জীবন জীবিকার তাগিদে দীর্ঘ দিন ধরে দুবাই থাকেন। রিবা, রেখা সহ তিন মেয়ে নিয়ে তার সংসার। বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন বেশ কয়েক বছর আগে। মেঝ মেয়ে রিবার বিবাহ হয়েছে এ বছরেরই মার্চ মাসে। সুখের সংসার তার। হঠাৎই ঘটে গেছে এক দুর্ঘটনা। গত- ০৯/১০/২০১৮ খ্রিঃ রাতে করিমের স্ত্রী ঢাকায় ছিলেন চিকিৎসার জন্য। শুধুমাত্র বাড়িতে ছিল তার মেঝ মেয়ে রিবা আর ছোট মেয়ে রেখা। রাত এগারটার দিকে একটা চিৎকারের শব্দ শোনে প্রতিবেশীরা। কিছুক্ষণ পর প্রতিবেশীরা এসে দেখে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে আছে রিবা আর বিধ্বস্ত ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে বসে আছে রেখা। দ্রুত হাজিগঞ্জ হাসপাতালে নেওয়া হয় রিবাকে। তারপর কুমিল্লা হাসপাতালে। শেষ রক্ষা হয়নি।
অভিমানে পৃথিবী ছেড়েছে সে। এদিকে করিম সাহেব শোকে দিশেহারা। দুবাই থেকে মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে চলে এসেছেন তিনি। এক মেয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেল, অন্য জনের (রেখার) অবস্থাও ভালো না। সে নির্বাক। প্রচন্ড জ্বর তার। শোকে পাথর হয়ে গেছে মেয়েটা। একটু সুস্থ হলে, ছোট মেয়ে রেখা জানালো আসলে ঐ দিন পাশের ঘরে পড়ছিল সে। হঠাৎ শব্দ শুনে ছুটে আসে বোনের ঘরে। দেখে যে, তার বোন মেঝেতে পড়ে আছে। কাউকে ঢুকতে বা বের হতে দেখেনি সে। হয়তো পিছলে পড়ে গিয়ে মাথায় বা নাজুক কোন স্থানে আঘাত পেয়ে ঘটেছে এই মর্মান্তিক ঘটনা। মায়ের মত বোনের মৃত্যুতে সে নিজেকে সামলাতে পারেনি। তাই সে নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়েছিল।
ঘটনা শুনে দুবাই থেকে ছুটে এসেছে রিবার স্বামী। প্রিয়তমার এমন মৃত্যুতে সেও শোকে বিহ্বল । সবাই সান্তনা দিচ্ছে। শ্বশুর- শাশুড়ি জামাইকে ধৈর্য্য ধরার জন্য বলছেন। সে যাই হোক, রিবার পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ কোন মামলা করতে রাজি নন। আর মামলাইবা করবে কার বিরুদ্ধে। নিছক দুর্ঘটনা। এত তোলপাড়ের তো কিছু নাই। ঘটনার এখানেই সমাপ্তি হতে পারতো। কিন্তু সমস্যা বাঁধালো ওসি নিজে। ভালো সহজ জিনিসকে জটিল করাই যেন এদের কাজ। সবাই যেখানে লাশ দাফন কাফনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, তিনি বললেন পোস্ট মর্টেম করতে হবে। সবাই বলল, “পয়সা খাওয়ার ধান্দা, এরা মরা মানুষও ছাড়ে না।” সে যে যাই বলুক, ওসি সাহেব গোঁ ধরে বসেই রইলেন। এসপি স্যার বললেন, “সমস্যা কি ?”। ওসি সাহেব জানালেন লাশের গলায় আঁচড়ের মত দাগ আছে। কি আর করা, অতঃপর পরিবারের অমত সত্বেও জিডি মূলে পোস্ট মর্টেম করা হল। যদিও পরিবার নানা আপত্তি করেছিল, দুষ্টু পুলিশ তা শোনেনি।
পোস্ট মর্টেম কালেই জানা গেল, রিবার বুকের একটা হাড় ভেঙ্গে গেছে। গলায় আঁচড়ের দাগ আছে। এবার ঘটনা আর নিছক দুর্ঘটনা রইল না। ঘরের দরজাগুলি বন্ধ ছিল, চিৎকারের শব্দ ছিল, গলায় আঁচড় এসব আর যাই হোক স্বাভাবিক মৃত্যুর আলামত হতে পারে না। পুলিশ সুপার মহোদয় ওসিকে রিবার লাইফ হিস্ট্রি ঘাটতে বললেন। পরিবার সম্পর্কে জানতে বললেন। সামান্য খুঁজতেই জানা গেল কিছু অস্বাভাবিক তথ্য। স্বামীর সাথে তার সম্পর্ক অতটা ভালো ছিল না।
এরই ফাঁকে এক সোর্স জানালো, যদিও রিবার স্বামী হযরত বলেছে সে মৃত্যুর খবর পেয়ে দেশে এসেছে, কিন্তু কেউ কেউ ঘটনার দিন রাত্রেই তাকে তার বোনের (হযরতের) বাসায় যেতে দেখেছে। বিষয়টা দারুন সন্দেহজনক। খোঁজ শুরু হল হযরতের। সে লাপাত্তা। অনেক খোঁজার পর দু’দিন বাদে দেখা মিলল তার। পাসপোর্ট চেক করতেই ধরা পড়ে গেল সে। ঘটনার দিনই সকলের অগোচরে দেশে এসেছে সে। উদ্দেশ্য ছিল তার স্ত্রীর সাথে বোঝাপড়া। অনেকদিন যাবৎই তার সাথে বনিবনা হচ্ছিল না। তাই চুপিসারে ঐদিন রাতের বেলা রিবার বাসায় আসে সে। রিবা তাকে দরজা খুলে ঘরে ঢুকতে দেয় তাকে। এরপর শুরু হয় কথাকাটি। এক পর্যায়ে সে রিবাকে ধাক্কা দিলে খাটের সাথে রিবা ধাক্কা খেয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়। এরপর ভয়ে সে পালিয়ে যায়। সুন্দর একটা গল্প। ঘটনা এখানেও শেষ হতে পারতো। আবারো সমস্যা করলো ওসি সাহেব। কারণ, তার কৌতুহলী মন তাকে নানা প্রশ্নের সন্মুখীন করছে। কেননা রিবা মারা যাওয়ার দুইদিন পার না হতেই রেখার সাথে হযরতের বিয়ের আয়োজন শুরু হচ্ছে। এই বিষয়টা মাথা খটকা লাগাচ্ছিল মনে। তাছাড়া, এমনকি ঘটনা ছিল যে, রেখা এই ক’দিন নির্বাক থাকলো ? এবার রেখাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হল। ষোড়শী তরুনী সে। প্রথম ক’দিন অসুস্থ থাকলেও এখন সে বেশ ফুরফুরে মেজাজেই আছে। ডাক্তারী রিপোর্টেও কোন অসুখ ধরা পড়েনি। তার বোন পাশের রুমে ঝগড়া করলো, হাতাহাতি করলো, সে কিছুই জানলো না, বিষয়টা খুবই অস্বাভাবিক। কিছু তো সে অবশ্যই জানে। তার এত ছল চাতুরির কি দরকার ছিল। এবার কৌশল অবলম্বন করল তদন্তকারী দল। রেখাকে বলা হল, দুলাভাই (হযরত) সব বলে দিয়েছে। এ কথা শোনার পর হঠাৎ বেলুনের মত চুপসে গেল সে। বলতে শুরু করলো সেই ভয়াল রাতের কথা।
বিয়ের পর থেকেই বোন দুলাভাইয়ের সম্পর্ক ভালো ছিল না। এরই ফাঁকে দুলাভাইয়ের সাথে সম্পর্ক হয় তার। সম্পর্ক এতটাই গাঢ় হয় যে তা শারীরিক সম্পর্ক পর্যন্ত গড়ায়। বিষয়টা কেউই আঁচ করতে পারেনি। দু মাস আগে হযরত দুবাই যাওয়ার পর থেকেই সে একাকিত্ব সহ্য করতে পারছিলো না। রেখা জানায়, তাকে বিয়ে করতে হবে।
প্রয়োজনে রিবাকে সরিয়ে দিতে হবে। রেখা জানতো ঘটনার দিন বাড়িতে কেউ থাকবে না। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, হযরতকে দুবাই থেকে ডেকে আনে সে। সঙ্গোপনে খুলে দেয় ঘরের দরজা। প্রথমে দু’জন প্রনয়ে লিপ্ত হয়। এরপর ঠান্ডা মাথায় এগিয়ে যায় রিবার ঘরে। অঘোরে ঘুমাচ্ছিল মেয়েটা। প্রথমেই ওড়না দিয়ে রেখা বেঁধে ফেলে রিবার পা। তারপর চেপে বসে রিবার উপর। আর হযরত রিবার মুখে বালিশ চাঁপা দেয়। এতেও কিছু না হলে গলা টিপে ধরে সে। ধস্তাধস্তির সময় ভেঙ্গে যায় বুকের হাড়। একবার একটা চিৎকার দিতে পেরেছিল সে। আর সুযোগ হয়নি তার। এরপরের ঘটনা সবার জানা।
বুক দিয়ে আগলে রেখেছিল যাকে, সেই ছোট বোনই যখন বুকে চেপে বসেছে, তখন হয়তো হতবাক হয়ে গেছে রিবা। যে স্বামীর পায়ের নিচে বেহেশত খুঁজেছে এতদিন, তারই পা যখন তার গলার উপর উঠেছে, অবাক বিস্ময় আর ক্ষোভে ডুকরে কেঁদে উঠেছে সে। শেষ বার হয়তো বিস্ময়ভরা কন্ঠে বলেছিল “তোরা ! সবাই বলে ঘটনার পরও কটা দিন বেঁচে ছিল সে। কিছুই বলতে পারেনি। আমার মনে হয়, ইচ্ছা করেই কিছু বলেনি রিবা। এত ঘৃণা, এত লজ্জা, এত
সাম্প্রতিক সময়ের কুয়েতে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা অভিযান, ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ সোমবার সন্ধ্যায় তিন ঘণ্টার মধ্যে ১৯৪০ টি ট্রাফিক লঙ্ঘন এর জন্য মামলা করেছে।
ট্রাফিক সেক্টরের আন্ডার সেক্রেটারি, মেজর জেনারেল জামাল আল-সায়েগের সরাসরি নির্দেশে, ৭ টি দল জিলিব আল-শুয়ুখ, হাওয়ালি, খাইতান এবং জাহরা-তে নিরাপত্তা পরিদর্শন করেছে, যার ফলে ১৯৪০ টি লঙ্ঘন টিকিট দেওয়া হয়েছে।
কর্মকর্তারা ব্যাখ্যা করেছেন যে লঙ্ঘনকারী গাড়িগুলি প্রশাসনিকভাবে বাজেয়াপ্ত করা হবে, এবং তাদের মালিকরা লঙ্ঘনের অর্থ প্রদান করতে সক্ষম হবে না এবং প্রযুক্তিগত পরিদর্শন বিভাগ পর্যালোচনা না করা পর্যন্ত একটি ব্লক রাখবে এবং গাড়িটি একটি বিশেষ কমিটি দ্বারা পরিদর্শন করা হবে।
কর্মকর্তারা আরও বলেছেন যে প্রযুক্তিগত পরিদর্শন বিভাগ রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহনের প্রতি কঠোর এবং দৃঢ় থাকবে।
সুদানে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্যকে গ্রেফতারের পর সামরিক নেতা জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান সার্বভৌম কাউন্সিল এবং অন্তর্র্বতীকালীন সরকার ভেঙে দিয়ে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে দেশটির আরও কয়েকজন নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এদিকে জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর বিক্ষোভকারীরা রাজধানী খার্তুমসহ বিভিন্ন শহরের রাস্তায় নেমে আসেন। বিক্ষোভে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে জানা গেছে।
বিবিসির স্থানীয় প্রতিনিধি জানান, বিক্ষোভকারীদের বেসামরিক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করতে দেখা গেছে। এ সময় রাস্তায় বিক্ষোভকারীরা আগুন ধরিয়ে দেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে।
এদিকে, রাজধানীতে সেনাবাহিনী ছাড়াও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে খার্তুম বিমানবন্দরের সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। দেশটিতে ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত নেতাদের মধ্যে রয়েছেন- শিল্পমন্ত্রী ইব্রাহিম আল-শেখ, তথ্যমন্ত্রী হামজা বালৌল ও প্রধানমন্ত্রীর গণমাধ্যমবিষয়ক উপদেষ্টা ফায়সাল মোহাম্মেদ সালেহ। এছাড়া দেশটির ক্ষমতাসীন সার্বভৌম পরিষদের মুখপাত্র মুহাম্মদ আল-ফিকে সুলিমান ও রাজধানী খার্তুমের গভর্নর আয়মান খালিদকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান সুদানের সার্বভৌম কাউন্সিলের প্রধান। সামরিক ও বেসামরিক নেতাদের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির যৌথ কাউন্সিল এটি। বিবিসি জানায়, বুরহান দেশের ক্ষমতা দখলের জন্য রাজনৈতিক কোন্দলকে দায়ী করেছেন। টিভিতে এক ভাষণে তিনি বলেন, রাজনীতিবিদদের মধ্যে কোন্দল, উচ্চাকাঙ্খা এবং সহিংসতায় উস্কানির কারণে তাকে বাধ্য হয়ে দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় ব্যবস্থা নিতে হয়েছে।
বুরহান আরও বলেন, সুদান এখনও আন্তর্জাতিক সব চুক্তি এবং বেসামরিক শাসনে ফিরতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে র্নির্বাচনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই তা করা হবে।
এদিকে সুদানে সামরিক অভ্যুত্থানের নিন্দা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। সুদান এবং দক্ষিণ সুদানে যুক্তরাজ্যের বিশেষ দূত অভ্যুত্থানের নিন্দা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ, ইইউ এবং আরব লিগও অভ্যুত্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সুদানের দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরকে ২০১৯ সালে সরিয়ে দেওয়ার পর সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক গোষ্ঠীগুলোর নড়বড়ে এক ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তির মধ্য দিয়ে গত দুই বছর ধরে পরিচালিত হয়ে আসছিল পূর্ব আফ্রিকার দেশটি।
সেপ্টেম্বরে বশিরের অনুগত সেনাদের ব্যর্থ এক অভ্যুত্থান চেষ্টার পর থেকে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বেসামরিক নিয়ন্ত্রিত জোট ফোর্সেস অব ফিডম অ্যান্ড চেইঞ্জের (এফএফসি) সংস্কার এবং মন্ত্রিসভায় রদবদলের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অন্যদিকে, বেসামরিক নেতারা এ দাবিগুলোকে দেখে আসছিলেন সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের ‘ক্ষমতা দখলের উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ হিসেবে।
শুক্রবার এক বক্তৃতায় দেশটির বেসামরিক প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লা হামদক চলমান রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে একটি রোডম্যাপ দিয়েছিলেন এবং সমাধানে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে তা দেশের ভবিষ্যৎকে ভয়াবহ অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেবে বলে হুঁশিয়ার করেছিলেন। এর মধ্যেই এফএফসি জোটে থাকা সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত একটি অংশ গত শনিবার বিক্ষোভের ডাক দেয়। তাতে সাড়া দিয়ে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী রাজধানী খার্তুমে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের সামনে জড়ো হয়ে ‘ভুখা সরকারের’ অপসারণের দাবিতে স্লোগান দেয় এবং সশস্ত্র বাহিনী ও সুদানের যৌথ সামরিক-বেসামরিক সার্বভৌম পরিষদের প্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ অল-বুরহানকে ‘অভ্যুত্থানের মাধ্যমে’ ক্ষমতা নেওয়ার আহ্বান জানায়। সূত্র : রয়টার্স।
সরাসরি খেলার যোগ্যতার প্রমাণ রেখেই সুপার টুয়েলভ শুরু করলো আফগানিস্তান। বাংলাদেশকে হারের লজ্জা দেওয়া স্কটল্যান্ডকে গুড়িয়ে দিয়েছে মুজিব-উল-হক, রশিদ খান, মোহাম্মদ নবীর দল।
আজ সোমবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভের একমাত্র ম্যাচে ১৩০ রানে জিতেছে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটি।
শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ওভারে মাত্র ৪ উইকেট হারিয়ে ১৯০ রান তোলে আফগানরা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১০.২ ওভারে মাত্র ৬০ রানেই গুটিয়ে যায় স্কটিশরা।
বিবাহযোগ্য নারী পুরুষের জীবনসঙ্গী খুঁজে পেতে সাহায্য করেন ঘটক। তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে বদলে যাচ্ছে এই পেশার রূপ। দেশে চালু হয়েছে বেশকিছু ম্যাট্রিমনি সাইট। আগ্রহীরা এখন জীবন সঙ্গী খুঁজে নিচ্ছেন অনলাইনেই।
ঘটকালি, ভিন্নধর্মী এক পেশা। পাত্রপাত্রীর ছবির অ্যালবাম আর বায়োডাটা নিয়ে এক বাসা থেকে আরেক বাসা। দুপক্ষের পছন্দ হলেই বেজে ওঠে বিয়ের সানাই।
তবে প্রযুক্তির কল্যাণে এখন আর ঘরে ঘরে ছোটেন না পেশাদার অনেক ঘটক। বরং নিজস্ব ওয়েবসাইট আর ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে অনলাইনেই ম্যাচ মেকিং করছেন তারা।
নাগরিক জীবনে দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে অনলাইনে ম্যাট্রিমনি সাইট। বারো বছর আগে শখের বশে ঘটকের কাজ শুরু করেছিলেন তাসলিমা। এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার মানুষকে জীবনসঙ্গী খুঁজে দিয়েছেন তিনি।
গত ছয় বছরে নিজের অনলাইন ম্যাট্রিমনি সাইটের মাধ্যমেই দিয়েছেন অন্তত ছয়শো বিয়ে। সেই সাথে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন অনেকের।
তাসলিমা ম্যারেজ মিডিয়ার সিই তাসলিমা আক্তার বলেন, ‘এই বিয়ে দেবার কাজটা আমি করেই যাবো। কারন অনেকেই আমার নাম শুনে দূর-দূরান্ত থেকে আমার কাছে আসে। এটা আমার খুই ভালো লাগে যে তাসলিমার কাছে গেলে আমার মেয়ের বিয়ে হবে। তাই এই কাজটা ধরে রাখতে চাচ্ছি।’
অনলাইন নির্ভর ঘটকালি পেশায় অংশ নিচ্ছেন প্রযুক্তি জ্ঞ্যান সম্পন্ন তরুণরাও। ওয়েবসাইট ও ফেইসবুকের মাধ্যমেই চলছে আধুনিক ঘটকালি।
তাসলিমা ম্যারেজ মিডিয়ায় কর্মরত রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে যারা এখানে প্রোফাইল করে আমরা তাদের সাথে কথা বলে ডায়োডাটা ও এনআইডি ভেরিফিকেশন করি। তারপর প্রোফাইলকারির গার্ডিয়ান ভেরিফিকেশন করে নম্বর দেই।’
দেশে এ ধরনের প্রায় তিন চারটি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। করোনাকালে সঠিক জীবনসঙ্গী খুঁজে পেতে বহু মানুষই বেছে নিচ্ছেন অনলাইন প্ল্যাটফর্মকেই।
তাসলিমা ম্যারেজ মিডিয়ায় কর্মরত রিয়াদ মোর্শেদ বলেন, ‘যারা ঘটকের কাছে যাবার সময় পাচ্ছেন না তাদের এখান থেকে পাত্র-পাত্রি পছন্দ করার সুযোগ থাকছে। এখানে দরকার শুধু একটা প্রোফাইল করার। তারপর পছন্দ হলেই দুজন দুজনকে বিযের প্রস্তাব দিতে পারবে।’
প্রযুক্তিনির্ভর ঘটকেরা পেশাটির প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চান রাষ্ট্রের সহায়তায়।
দেশে করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ নিয়ে ভাইরাসটি দেশের ২৭ হাজার ৮২৮ জনের প্রাণ কেড়ে নিল।
সোমবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ২৮৯ জন। এখন পর্যন্ত মোট করোনা শনাক্ত হয়েছেন ১৫ লাখ ৬৭ হাজার ৯৮১ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় ২০ হাজার ৭৭৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৪১৩ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৩১ হাজার ৭৪০ জন।
দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত বছরের ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই বছর সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছিল ৬৪ জনের।
ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় চলতি বছর জুন থেকে রোগীর সংখ্যা হু-হু করে বাড়তে থাকে। ২৮ জুলাই একদিনে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল।
চলতি বছরের গত ৭ জুলাই প্রথমবারের মতো দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৫ ও ১০ আগস্ট ২৬৪ জন করে মৃত্যু হয়, যা মহামারির মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু।
বেশকিছু দিন ২ শতাধিক মৃত্যু হয়। এরপর গত ১৩ আগস্ট মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ এর নিচে নামা শুরু করে। দীর্ঘদিন শতাধিক থাকার পর গত ২৮ আগস্ট মৃত্যু ১০০ এর নিচে নেমে আসে।