সোমবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২৯ ভাদ্র ১৪২৮
দীর্ঘ দেড় বছর পর সেই চিরচেনা ঘণ্টা বেজেছে স্কুল-কলেজে। করোনার ভয়কে দূরে ঠেলে নিজের প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরেছে শিক্ষার্থীরা। নাচ গান বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে করতালি চকোলেট মাস্ক ও ফুল দিয়ে শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেয়া হয়। রোববার সকাল থেকেই কলকাকলিতে মুখর ছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। মাঠগুলোতে বসেছিল চাঁদের হাট। মুক্ত বাতাসে বন্ধুর সঙ্গে খেলায় মেতেছিল দিনভর। সকাল থেকেই প্রিয় আঙিনায় আনন্দ ধারায় ভেসেছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। কিছু ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধিও লঙ্ঘন হয়েছে। সর্বশেষ যেদিন তারা স্কুল ছেড়েছে সেদিনও সবাই বসেছিল এক শ্রেণিকক্ষে। দীর্ঘ ছুটির মধ্যেই তারা উঠেছে এক ধাপ ওপরের শ্রেণিতে। সেই নতুন শ্রেণির বয়সও আট মাস পার হয়ে গেছে। এরপরও চেনা স্কুলে অচেনা নতুন শ্রেণিকক্ষ খুঁজে পেতে তাদের কষ্ট হয়নি। আগে থেকেই তাদের জন্য প্রস্তুত ছিল স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা।
ঘরবন্দি জীবন থেকে মুক্ত বাতাসে, বিশেষ করে প্রিয় অঙ্গনে ফিরতে পেরে ছাত্রছাত্রীরা ছিল দারুণ উল্লসিত। সহপাঠীদের সাক্ষাৎ এই আনন্দকে আরও বহু গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রিয় ছাত্রছাত্রীদের কাছে পেয়ে শিক্ষকরাও ছিলেন আপ্লুত। এ যেন নবজীবনের আনন্দ। ৫৪৩ দিন পর ক্লাসে আসছে শিক্ষার্থীরা- এজন্য এক সপ্তাহ ধরে আয়োজনও চলেছে। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাঠদানের উপযোগী করা হয়। ছিল সাজসাজ রব। ফুলের টব, ব্যানার ফেস্টুন আর রঙিন পতাকা উড়ছিল স্কুলে। স্কুলের বাইরে ছাত্রছাত্রীদের তাপমাত্রা মাপা হয়। ছিল হাত ধোয়ার ব্যবস্থা। শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে অনেক প্রতিষ্ঠানই ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছিল। কোথাও বেজেছে ড্রাম। ছিল নৃত্যের আয়োজন। কোথাও ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। আবার চকোলেট, মাস্ক ইত্যাদি উপহার দেওয়া হয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বাইরে স্কুলের ভেতরেও যথাসম্ভব সাজানো হয়েছিল। এ যেন ভিন্ন এক আয়োজন। দীর্ঘ বিরতির পর প্রিয় স্কুল ও কলেজের প্রথম দিনটি এভাবেই স্মরণীয় হয়ে ওঠে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর কাছে।











