কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় রাষ্ট্রদূত জনাব মেজর জেনারেল আশিকুজ্জামান মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি! স্যার, কুয়েত থেকে দেশে ছুটিতে গিয়ে আকামা ( বৈধতা) হারানো প্রবাসীদের ব্যাপারে আপনার ও বাংলাদেশ দুতাবাস – কুয়েত এর দিকে তাকিয়ে আছে হাজার হাজার আকামার বৈধতা হারানো প্রবাসী!
প্রিয় রাষ্ট্রদূত মহোদয়ের প্রতি আমাদের অগাধ বিশ্বাস আছে, আস্থা আছে শতভাগ! কুয়েত দুতাবাসের বর্তমান কার্যক্রম প্রবাসে জনে জনে প্রশংসিত হচ্ছে। হাতে লিখা পাসপোর্ট প্রদান, দেশে আটকে থাকা প্রবাসীদের ডাটাবেজ তৈরী, দুবাইয়ে আটকেপড়া কুয়েতের যাত্রীদের তদারকি ইত্যাদি প্রবাসবান্ধব কার্যক্রমে প্রবাসীদের কাছে কুয়েত দুতাবাস ও মাননীয় রাষ্ট্রদুত মহোদয়ের প্রতি কৃতজ্ঞ!
স্যার, আমাদের কাছে নির্দিষ্ট কোন তথ্য নেই, যে ঠিক কত জন কুয়েত প্রবাসী দেশে গিয়ে আকামার বৈধতা হারিয়েছেন, তবে এই সংখ্যা নেহাতই কম নয়!
মাননীয় রাষ্ট্রদূত জনাব মেজর জেনারেল আশিকুজ্জামান স্যারের সদয় অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, ইতিমধ্যে কাতারের প্রবাসী যারা আকামার মেয়াদ দেশে থাকতে হারিয়েছেন, তারা কাতার সরকারের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় কাতারে প্রবেশানুমতি পেয়েছেন!
আমরাও চাই, আমাদের সম্পদ / আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধা বা আমাদের সুর্য সন্তান গুলো যারা এখন প্রবাসের বৈধতা হারিয়ে দেশে মানবেতর জীবন যাপনে বাধ্য হচ্ছে তারা সম্ভব হলে আপনার একটু আন্তরিক দৃষ্টি পাক, আমরা বিশ্বাস করি স্যার, কুয়েতে আমাদের অবিভাবক হিসাবে আপনি একজন দক্ষ ও সুদুরপ্রসারী দৃষ্টি সম্পন্ন মানুষ! কোন ভাবে যদি আটকে পড়ে আকামা হারানো এই মানুষ গুলোর বৈধতা কুয়েতে ফেরানো যায়, কুয়েতের বাংলাদেশ কমিউনিটি আপনাকে আজীবন কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করবে ❤
এটাও কি আমাদের দেশে সম্ভব ? পৃথিবীর প্রতিটি দেশে সবচেয়ে নিরাপদ জায়গার মধ্যে অন্যতম একটি হিসেবে ধরা হয় বিমানবন্দরকে I বাংলাদেশে কি সেটাও অনিরাপদ হয়ে গেলো ?
মাত্র ২২ বছর বয়সের একটা মেধাবী ছেলে স্কুল ও নটরডেম কলেজের মতো প্রতিষ্ঠানে ফাস্ট বয় হওয়া সত্বেও ইসলামিক শিক্ষায় সর্বোচ্চ শিক্ষা নিতে মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে যান I
সেখান থেকেই গত ৪ আগস্ট দেশে ফেরেন রাকিন I
সাথে আরেকজন বন্ধু ছিলেন রাকিনের I
কি ভয়ঙ্কর ঘটনা !
ইমিগ্রেশনে আসার সাথে সাথেই কিছু লোক এসে তাঁকে পাশে ডেকে নিয়ে যায় I সেখান থেকেই চোখ বেঁধে দুজনকেই মাইক্রোবাসে তুলে কোথাও নিয়ে যায় I
পরদিন রাকিনের বন্ধুকে চোখ বাঁধা অবস্থায় আত্বীয়র বাড়ির সামনে ফেলে দিয়ে গেলেও রাকিনকে আজ ১ মাসের বেশি হলো ফেরত পায়নি তাঁর পরিবার I
কোথায় কারা কেনো নিয়ে গেছে সেটাও জানায়নি পরিবারকে I
এটি একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ I দেশের আইনশৃঙ্খলার এই চরম অবস্থা আন্তর্জাতিক ভাবে ফুটে উঠবে এই ঘটনার ফলে I
একটা বাচ্চা ছেলে যার মাত্র জীবন শুরুর কথা তাঁকে এমন একটি সময়ের ভিতর অতিবাহিত করতে হচ্ছে যা আমাদের জাতির জন্য চরম হতাশাজনক I এই ঘটনায় তার মানসিক ও মেধাবৃত্তির চরম বিপর্যয় হবে নিঃসন্দেহে I
এয়ারপোর্টের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে I তাহলে কি এয়ারপোর্টও নিরাপদ নয় ?
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেখানে দেশ উন্নয়নে ব্যস্ত I সেখানে কিছু অতি-উৎসাহী আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকান্ডের দরুন পুরো সরকারের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে নিঃসন্দেহে I
রাকিন যদি অপরাধী হয় তাকে বিচারের সম্মুখীন করুন I একমাস এভাবে নিরুদ্দেশ রাখার মানে কি দাঁড়ায় ?
এই মেধাবী ছেলেকে নিঃশেষ করে দিয়ে কি একটা নিশ্চিত সম্ভাবনাকে গলা টিপে হ*ত্যা করতে চান ? কেন ? কাদের ইঙ্গিতে ?
সে এবং তার পরিবার তো কখনোই কোনো রাজনীতির সাথেও সম্পৃক্ত নয় I তার বাবা গত ৩০ বছর ধরে সৌদি আরবে বাস করেন I কি অপরাধ তাঁদের ?
তার মা ও বাবার জীবনে অন্ধকার নেমে এসেছে I তারা পাগলপ্রায় হয়ে আছে I
রাকিনের খোঁজ দিতে হবেই I মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই খবর যাবে এবং যারা এই ২২ বছরের মেধাবী বাচ্চাকে অপহরণ করে গুম করে রেখেছে তাদের বিচারও হবে I
দেশকে অস্থিতিশীল রাখার এই অপপ্রয়াস করতে দেয়া হবেনা I গুম অপহরণের মতো জঘন্য অমানবিক ঘৃণিত কাজ করতে দেয়া হবেনা I
করোনাভাইরাসের কারণে গত ১ জুন থেকে টানা লকডাউনে মালয়েশিয়ার জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে। লকডাউনে কাজ হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে দেশটিতে থাকা প্রবাসীরা। তবে করোনাভাইরাস কমতে শুরু করায় লকডাউনসহ সব ধরনের বিধিনিষেধ ধীরে ধীরে শিথিল করা হচ্ছে।
গতকাল শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) থেকে রাজধানী কুয়ালালামপুর, সেলেঙ্গর ও প্রশাসনিক এলাকা পুত্রজায়া থেকে কিছু শর্ত সাপেক্ষে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী ইসমাইল সাবরী ইয়াকুব লকডাউন শিথিলের ঘোষণা দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস কমতে শুরু করায় ব্যবস্থাপনার বিশেষ কমিটির এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্য রাজ্যগুলোকে ধাপ ১-এর আওতায় আনা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ব্যবস্থাপনা কমিটি একটি সাধারণ সংক্রমণ এলাকা হিসেবে সেলাঙ্গোর, কুয়ালালামপুর ও পুত্রজায়াকে একত্রিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের মধ্যে স্বাভাবিক চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং বাইরে বের হতে পুলিশের কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই। দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন এমন দম্পতিরা এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে যেতে পারবেন।
এছাড়া, খেলাধুলা, বিনোদন কেন্দ্র, রেস্তোরাঁ, বাণিজ্য ও বিতরণখাতের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রথম পর্বের অধীনে রাজ্যগুলোতে আগামীকাল থেকে ফুল বিক্রেতাদের দোকান, নার্সারি, বহিরাঙ্গন সরঞ্জামের দোকান এবং হাউজিং গ্যালারিগুলো পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হবে।
এ সমস্ত সুবিধা তাদেরই দেওয়া হচ্ছে- যারা দুই ডোজ টিকা সম্পন্ন করে ১৪ দিন পার করেছেন। মালয়েশিয়ায় করোনা পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। জাতীয় অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে সরকার ধাপ-১, ধাপ-২ ও ধাপ-৩ কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। ধাপে ধাপে এগুলো বাস্তবায়ন করে মালয়েশিয়া স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার চেষ্টা করছে বলে মালয়েশিয়া সরকার জানিয়েছেন।
অবৈধপথে ইউরোপে যাওয়ার রুট হিসেবে আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা লিবিয়া, তিউনিসিয়াসহ কয়েকটি দেশের সাগরপথ ব্যবহার করছে। এসব পথ ব্যবহার করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেকে স্বপ্নের দেশ ইউরোপে পৌঁছতে পারলেও অধিকাংশের ভাগ্যে আবার জুটছে মৃত্যু অথবা ভয়াবহ নির্যাতন। এই অবস্থায় মাদারীপুরের রাজৈর শ্রীরামপুর লামা বাজার ইউনিয়ন হোসেনপুর এলাকার দালাল সাহিনের পাঠানো বাংলাদেশীদের মধ্যে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি এখনো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ লিবিয়ার একটি ভাড়া বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছে।
এ দিকে লিবিয়া যাওয়ার পর থেকেই যুবক মুন্সী আবু তাহের নামে এক ব্যক্তি গত ১৯ জুলাই থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গতকাল লিবিয়ার ত্রিপোলি থেকে এক বাংলাদেশী নয়া দিগন্তকে টেলিফোনে জানান, দেশে থাকা দালাল সাহিনের সাথে মুন্সী আবু তাহেরের বোনের যোগাযোগ হয়েছে। কিন্তু ১৯ জুলাইয়ের পর থেকে তাহের লিবিয়ায় আসার পর থেকে জেলে আছে না কোথায় রয়েছে সেই খোঁজ অদ্যবধি দালাল সাহিনও বলতে পারছে না। তাহের নিখোঁজের পর থেকে তার মা পাগলের মতো হয়ে গেছেন। তাহের দুই মেয়ে এক ছেলে সন্তানের জনক বলে জানা গেছে। তিনি আরো বলেন, শুধু আবু তাহের নিখোঁজ তা কিন্তু নয়, দালাল সাহিনের পাঠানো প্রায় ৫০ জন বাংলাদেশী লোক এখনো লিবিয়ায় একটি বাড়িতে আটক আছে।
উল্লেখ্য, ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশে সাগর থেকে উদ্ধার হওয়া ওই বাংলাদেশী গতকাল শুক্রবার রাতে নয়া দিগন্তকে আরো বলেন, আমি এই মুহূর্তে লিবিয়াতে খুব বিপদের মধ্যে আছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে লিবিয়ার মানবপাচার সিন্ডিকেটের আরো বিস্তারিত জানাতে পারব।
উল্লেখ্য, প্রতি বছরের মে মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত সাগরপথে ইউরোপে লোক পাঠাতে আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রগুলো সক্রিয় হয়ে উঠে। কারণ এই সময়ে সাগর স্থির থাকে। এর আগে দালালরা বাংলাদেশ থেকে নানা কৌশলে অসহায় বাংলাদেশীদের প্রথমে বিমানপথে নিয়ে যায় দুবাই। সেখানে কয়েক দিন রাখার পর চার্টার্ড ফ্লাইটে নিয়ে যায় লিবিয়ার বেনগাজিতে। সেখান থেকে সড়কপথে দুই দিনের ভ্রমণ শেষে নেয়া হয় ত্রিপোলির শেষ সীমানায়।
সাগর ঘাটের আশপাশে রেখে গ্রিন সিগনাল পাওয়ার পরই চুক্তি মোতাবেক ইতালির উদ্দেশে কাঠের নৌকায় তাদের তুলে দেয়া হয়। অনেকে ইতালি পৌঁছতে পারে। আবার অনেকে সাগরে হারিয়ে যায়। এর মধ্যে অনেকে আবার কোস্ট গার্ডের যৌথ অভিযানে ইউরোপে পাড়ি দেয়ার আগেই ধরা পড়ে যায়। তাদের ঠাঁই হয় দেশটির ডিটেনশন ক্যাম্পে। সেখান থেকেই আবার দালাল চক্র টাকার বিনিময়ে তাদের মুক্ত করে আবারো ঠেলে দেয় একই পথে। সুত্রঃ নয়া দিগন্ত।
করনা ( কোভিড ১৯) এর শুরুর আগে পরে কুয়েত থেকে বাংলাদেশী যেসব প্রবাসী দেশে গিয়ে আটকা পড়েছেন এবং কুয়েতের বৈধতা হারিয়েছেন, তাদের দিকে একটু সুদৃষ্টি দেওয়া উচিৎ!
কুয়েত সরকারের বদান্যতায় প্রচুর মানুষ অনলাইনে আকামা নবায়ন করেছে, কুয়েতের বাইরে থাকা সত্বেও ফিংগার ছাড়া আকামা রিনিউ হয়েছিল / হচ্ছে। কিন্ত দুঃখজনক ভাবে অনেকেই সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কোম্পানির মেলাফ ( ফাইল) সমস্যা, কুয়েতে মামলা ( শ্যুন, বলদিয়া), কোম্পানির অনিচ্ছায় ও বিবিধ সমস্যার কারনে অনলাইনে আকামা নবায়ন করতে পারেনি 😔 জীবিকার তাগিদে কুয়েতে কর্মজীবন শুরু করা বা কর্মক্ষেত্রে থিতু হওয়া মানুষ গুলোর জন্য এটা অত্যন্ত কষ্টের ও বেদনাদায়ক ….
একজন প্রবাসীর উপরে তার পরিবার ও আরো মানুষ জন নির্ভরশীল হয়ে থাকেন, সাংসারিক বা সামাজিক ক্ষেত্রে একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধার ভুমিকা থাকে অনন্য! আমরা চাই না কেউ দেশের বোঝা হউক, ফিরতে না পারা প্রবাসীগুলো আমাদের সম্পদ, আমাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ধারক! তাই আমরা চাই, যদি কোন সমঝোতা বা প্রক্রিয়ায় আকামা হারানো লোকগুলোকে কুয়েতে ফেরত আনা যায়, বেচেঁ যাবে অনেকগুলো পরিবার ও অনেকগুলো মানুষ!
যে মানুষ গুলো রাষ্ট্রের সম্পদ ছিল, আজ তারা মানবেতর জীবনে বাধ্য হচ্ছে, প্রবাস ফেরত হয়ে আছেন বেকার! এই আটকে পড়ে আকামা হারানো মানুষ গুলোর প্রতি নজর দেওয়া হউক, এদের কুয়েত ফেরানোর জন্য রাষ্ট্র ব্যবস্থা নিক …
সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসীদের কাজে ফেরাতে বিমানবন্দরে র্যাপিড পিসিআর টেস্টের ব্যবস্থা করতে উদ্যোগ নিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্য অধিদফতর অক্ষমতা প্রকাশ করলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ল্যাব স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। এরপরই কাজ পেতে তোড়জোর শুরু করে ডিএমএফআর মলিকুলার ল্যাব এন্ড ডায়াগনস্টিক।
আবেদনে নানা অসঙ্গতি থাকলেও প্রতিষ্ঠানটিকে কাজ দিতে তদবির করছেন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। করোনা পরীক্ষার ফি ১৭০০ টাকা রাখার প্রস্তাব করে আবেদন করলেও, কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলে আরও এক হাজার টাকা বাড়ায় প্রতিষ্ঠানটি।
অন্যদিকে, ৭-৮টি প্রতিষ্ঠান ২২শ টাকার মধ্যে টেস্ট-ফি নির্ধারণ করে আবেদন করলেও সেগুলোকে মূল্যয়ন করা হয়নি।
প্রায় তিন মাস বাংলাদেশ থেকে ফ্লাইট নিষেধাজ্ঞার পর গত ৪ আগস্ট বাংলাদেশসহ ছয় দেশের যাত্রীদের ট্রানজিট সুবিধা চালু করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। শর্ত দেওয়া হয়- ফ্লাইট ছাড়ার ৬ ঘণ্টার মধ্যে বিমানবন্দরে র্যাপিড পিসিআর পদ্ধতিতে করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ রিপোর্ট থাকতে হবে। আমিরাতের এই শর্ত বাস্তবায়ন করে ইতোমধ্যে পাকিস্তান, ভারতের কর্মীরা কাজে ফেরা শুরু করেছেন প্রায় ২ সপ্তাহ আগেই।
বাংলাদেশে পর্যাপ্ত মেশিন না থাকাসহ নানা অক্ষমতা প্রকাশ করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। র্যাপিড পিসিআর মেশিন কেনার উদ্যোগ নিলেও সেটি ‘সময়সাপেক্ষ’ বলে জানায় অধিদফতর।
এদিকে কাজে ফিরতে বিমানবন্দরে ল্যাব স্থাপনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন আরব আমিরাত প্রবাসীরা। তৎপর হয় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। দফায় দফায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতর, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান চলচল কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ল্যাব স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি গঠন হয় দুটি কমিটি। প্রধানমন্ত্রীও দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে র্যাপিড পিসিআর টেস্টের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
আর কাউকে আমলেই নেওয়া হয়নি
সূত্র জানায়, কমিটির বৈঠকে বিমানবন্দরে ল্যাব স্থাপনে আগ্রহী প্রতিষ্ঠান খুঁজতে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ৪-৫টি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করে যোগাযোগ করলে পত্রিকায় আর বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়নি। এরমধ্যে থেকে ডিএমএফআর মলিকুলার ল্যাব অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে কাজ দেওয়ার তৎপরতা শুরু হয়। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক), স্বাস্থ্য অধিদফতরসহ বিভিন্ন দফতরের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এই প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার পক্ষে মত দেন। যদিও ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কমপক্ষে ৮টি প্রতিষ্ঠান ল্যাব স্থাপনে আগ্রহ দেখিয়ে আবেদন করেছিল।
জানা গেছে, ডিএমএফআর-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. দ্বীন মোহাম্মদ। যদিও পরে তিনি তার শেয়ার বিক্রি করে দেন। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফাইজুর রহমান। প্রতিষ্ঠানটি ২৯ আগস্ট প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর ল্যাব স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করে আবেদন করে।
৩১ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে সুপারিশ করে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি দেয় ঢাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দূতাবাস। দূতাবাসের কোনও কর্মকর্তার স্বাক্ষরবিহীন সেই চিঠিতে বলা হয় আরব আমিরাতের স্বাস্থ্য অধিদফতরের অনুমোদিত লাইফডিএক্স নামের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এক ধরনের যোগাযোগ রয়েছে ডিএমএফআর-এর।
অলরেডি বাংলাদেশ দুতাবাস – কুয়েত থেকে অফিসিয়াল ভাবে নোটিশ ও অনলাইনে ব্যাপক প্রচার – প্রচারণা চালানো হয়েছে ভুয়া ভিসার বিরুদ্ধে, জনসাধারণ কে এই সব দালালের খপ্পর ও ভুয়া ভিসাতে প্রলুব্ধ হতে নিষেধ করা হয়েছে!
এক শ্রেনীর মানুষ ইতিমধ্যেই ভিসা ট্রডিং এর জন্য প্রস্তুত হচ্ছে, আশেপাশে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে এমন অহরহ কথা, স্পেশালি বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকা সমুহে এই প্রচারণা বেশি!
আমাদের দুতাবাসের নোটিশ প্রনয়নের ব্যাপারটা অনেক ভাল লেগেছে, ভিসা ট্রেডিং ও প্রবাসী কর্মী হয়রানি কমাতে দুতাবাসের এই উদ্যোগ অসাধারণ, ভুয়া বিজ্ঞপ্তি দিয়ে কর্মী নিয়োগ, অর্থের লেনদেন ও হয়রানি বন্ধ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে!
ধন্যবাদ বাংলাদেশ দুতাবাস – কুয়েত ❤
আর আমরা যারা সিনিয়র প্রবাসী আছি, ইনশাআল্লাহ আমরা ও এই বিষয়ে সচেষ্ট থাকব! আমরা বিশ্বাস করি, আমরা সুনামের সঙ্গে কুয়েতে প্রবাস জীবন অতিবাহিত করতে পারব!
আমি গত কয়েক সপ্তাহ আগেও ভুয়া বিজ্ঞপ্তি ও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে লিখেছিলাম, দেশের নাম সর্বস্ব অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় কুয়েতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে হতাশ হয়েছিলাম, কিভাবে সম্ভব? যেখানে কুয়েতের ভিসা নিয়ে এখনো নিষেধাজ্ঞা কাটেনি, এবং অল্পসংখ্যক ভিসা ইস্যু হলেও তা ” ক্ষেত্র ” বিশেষে দেওয়া হচ্ছে, এমন পরিস্থিতিতে বিজ্ঞাপন দিয়ে নিয়োগ!!! আর যে কোম্পানির নাম ব্যবহার করা হয়েছিল, তা নাম সর্বস্ব ছিল ….
দুতাবাসের সর্তকতা ও এই বিষয়ে তৎপরতা দেখে আমরা আশাবাদী, ভবিষ্যতে আমরা কুয়েতে আমরা সোনালী সুদিন দেখতে যাচ্ছি বাংলাদেশীদের ❤
লিখা : মোহাম্মদ কামরুল হাসান ভুঁইয়া, জিএম ( নিব্রাসকো)
আবুধাবীঃ আগামী ১২ ই সেপ্টেম্বর (রবিবার) থেকে পুনরায় শুরু হচ্ছে ইত্তেহাদ এয়ারের ফ্লাইট, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসীরা, যাদের বৈধ ভিসা আছে, যাদেরকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত ভ্যাকসিন দিয়ে পুরোপুরি টিকা দেওয়া হয়েছে, তাদের সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে ।
আজ শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) আবুধাবীর জাতীয় বিমান সংস্থা ইত্তেহাদ এয়ারওয়েজ তাদের অফিসিয়াল টুইটে এই ঘোষণা করেছে।
যারা ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে আমিরাতের বাইরে রয়েছেন, তাদের প্রবেশে কোন বাধা নেই এবং বাংলাদেশ থেকে ভ্রমণকারী যাত্রীরাও আসতে পারবেন।
রিয়াদঃ -ইকামার বৈধতা (রেসিডেন্সি পারমিট), প্রস্থান এবং পুনরায় প্রবেশের ভিসা, সেইসাথে বর্তমানে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন দেশগুলিতে আটকে থাকা প্রবাসীদের ভিসার মেয়াদ ৩০নভেম্বর ২০২১ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান ।
সৌদি প্রেস এজেন্সি শুক্রবার একটি রাজকীয় আদেশের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে।
দুই পবিত্র মসজিদের কাস্টোডিয়ান বাদশাহ সালমানের নির্দেশে অর্থমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত ইকামার মেয়াদ এবং ভিসার বিনামূল্যে মেয়াদ বাড়ানো নাগরিক এবং বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এর প্রশমন করার জন্য সরকারের গৃহীত ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ।
এসপিএ অনুসারে, পাসপোর্ট জেনারেল ডিরেক্টরেট (জাওয়াজাত) নিশ্চিত করেছে যে, জাতীয় তথ্য কেন্দ্রের সহযোগিতায় একামার মেয়াদ সম্প্রসারণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা হবে।
বর্তমানে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন দেশগুলো হল ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মিশর, তুরস্ক, ব্রাজিল, ইথিওপিয়া, ভিয়েতনাম, আফগানিস্তান এবং লেবানন।
গত মাসে, সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন দেশগুলি থেকে সম্পূর্ণরূপে টিকাপ্রাপ্ত প্রবাসীদের সরাসরি প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার নির্দেশনা জারি করেছে।
এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র সেই বিদেশীদের জন্য প্রযোজ্য, যাদের বৈধ রেসিডেন্সি পারমিট (ইকামা) আছে এবং সৌদি আরব থেকে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে দুই ডোজ ভ্যাকসিন নেওয়ার পর প্রস্থান ও পুনরায় ভিসায় সৌদি ত্যাগ করেছেন।
দীর্ঘদিন পর দেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যু পঞ্চাশের নিচে নেমে এসেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে ৩৮ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬ হাজার ৮৩২ জনে।
শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় নতুন শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৩২৫ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১৫ লাখ ২৭ হাজার ২১৫ জনে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ২৭ হাজার ২৩০টি। পরীক্ষা করা হয় ২৬ হাজার ৮৭৮টি নমুনা। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এ পর্যন্ত মোট ৯২ লাখ ২ হাজার ৭৯০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। সেই তুলনায় শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৬০ শতাংশ।
আর গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ৮৫৬ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হলেন ১৪ লাখ ৭২ হাজার ৬৭ জন।
গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম তিনজনের শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। এর দশদিন পর ১৮ মার্চ দেশে প্রথম একজনের প্রাণ কেড়ে নেয় ভাইরাসটি। সেই বছর সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছিল ৬৪ জনের। কিন্তু এবার সবচেয়ে বেশি মৃত্যু দেখেছে দেশ। গত ৭ জুলাই প্রথমবারের মতো দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যায়। বেশকিছু দিন ২ শতাধিক মৃত্যু হয়। এরপর গত ১৩ আগস্ট মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ এর নিচে নামা শুরু করে। দীর্ঘদিন শতাধিক থাকার পর গত ২৮ আগস্ট মৃত্যু ১০০ এর নিচে নেমে আসে।