মায়ের মমতায় দেশ চালালে জনগণ অবশ্যই সমর্থন দেবে: প্রধানমন্ত্রী

মঙ্গলবার, ০৮ মার্চ ২০২২, ২৩ ফাল্গুন ১৪২৮, ০৪ শাবান ১৪৪৩ হিজরী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘মায়ের মমতা নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করলে জনগণ অবশ্যই সমর্থন করবে।’ শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আমাদের একটা বিষয় অনুধাবন করতে হবে, নারী কেবল নারী নয়; নারীরা হলেন মা। তাই মায়ের মমতায় যদি আপনি রাষ্ট্র পরিচালনা করেন, অবশ্যই জনগণ আপনাকে সমর্থন দেবে।’

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার দুবাই এক্সিবিশন সেন্টারে আয়োজিত ‘রিডিফাইনিং দ্য ফিউচার অব উইমেন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ সরকারপ্রধান এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে স্পিকার, সংসদ নেতা, সংসদ উপনেতা এবং বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্বও যে নারীরা পালন করছেন, সে কথা তুলে ধরেন। বলেন, ‘এটাকে আমরা কীভাবে ব্যাখ্যা করব? আমাদের পুরুষরা খুব দুর্বল? না তা নয়। তারা খুব কো-অপারেটিভ। আমি অবশ্যই বিষয়টির প্রশংসা করি।’

বাংলাদেশের সমাজ একসময় ‘খুব বেশি রক্ষণশীল’ ছিল জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের একটি সংবিধান দেন। সেই সংবিধানে বলা হয়েছে, নারী ও পুরুষ সমান অধিকার ভোগ করবে।’

টানা ১৩ বছর ধরে বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্ব দিয়ে আসা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে নারী নেতৃত্বের বিকাশে জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য ৫০টি আসন সংরক্ষিত রাখার বিষয়টিও তুলে ধরেন।

শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বাংলাদেশে দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে গণতন্ত্র পাওয়ার কথা তুলে ধরার পাশপাশি স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে দেশ গঠনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যার পর সামরিক শাসকেরা রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করলে নারীরা কোনো সুযোগ পায়নি।  সামরিক শাসকরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দীর্ঘ ২১ বছর বাংলাদেশ শাসন করেছে। দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে নারীদের উন্নয়নে কাজ শুরু করে। আমি যখন সরকার গঠন করি, তখন দেখলাম কোথাও নারীর কোনো জায়গা ছিল না। তারা ছিল পুরোপুরি অবহেলিত।আপনারা জানেন এই পৃথিবীর যেখানেই সামরিক শাসকেরা শাসন করেন… তারা খুবই রক্ষণশীল। কিন্তু আমি নারীদের জন্য সব কিছু উন্মুক্ত করে দিই।’

অনুষ্ঠানে নারীদের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন ক্ষমতাসীন দলটির সভাপতি। 

ছাত্রজীবন থেকে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘আমি দেশটাকে জানতাম, সমস্যাগুলো কী সেটা জানতাম। আমি আমার বাবার থেকে শিখেছি। আমার বাবা আমার মেন্টর। আমি শিখেছি আমার জনগণ ও দেশকে কীভাবে ভালোবাসতে হয় এবং দরিদ্র মানুষের জন্য কীভাবে কাজ করতে হয়।’

বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এভাবেই আমি জনগণের সমর্থন অর্জন করেছি। এটাই আমার মূল শক্তি। জনগণের সমর্থন, জনগণের বিশ্বাস… জনগণ অনুভব করে যে আমি যদি এখানে থাকি (রাষ্ট্র ক্ষমতায়), অবশ্যই তারা লাভবান হবে।’

এ সময় তিনি শোষিত বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন সংগ্রামের কথা তুলে ধরে জাতির পিতাকে হত্যার পর ছয় বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরার কথা উল্লেখ করেন।

যখন সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়, তখন বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। ছয় বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ১৯৮১ সালে দেশে ফিরেন দুই বোন। বড় মেয়ে শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামী লীগের হাল ধরেন। সেসব দিনের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশে ফেরার পর আমার চলার পথও মসৃণ ছিল না। সব খুনি, যুদ্ধাপরাধী, তারা সেই সময় ক্ষমতায় ছিল।… কিন্তু আমি সেগুলো পরোয়া করিনি। আমি ভেবেছি আমাকে জনগণের জন্য কাজ করতে হবে।’

মায়ের মমতায় দেশ চালালে জনগণ অবশ্যই সমর্থন দেবে: প্রধানমন্ত্রী

মঙ্গলবার, ০৮ মার্চ ২০২২, ২৩ ফাল্গুন ১৪২৮, ০৪ শাবান ১৪৪৩ হিজরী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘মায়ের মমতা নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করলে জনগণ অবশ্যই সমর্থন করবে।’ শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আমাদের একটা বিষয় অনুধাবন করতে হবে, নারী কেবল নারী নয়; নারীরা হলেন মা। তাই মায়ের মমতায় যদি আপনি রাষ্ট্র পরিচালনা করেন, অবশ্যই জনগণ আপনাকে সমর্থন দেবে।’

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার দুবাই এক্সিবিশন সেন্টারে আয়োজিত ‘রিডিফাইনিং দ্য ফিউচার অব উইমেন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ সরকারপ্রধান এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে স্পিকার, সংসদ নেতা, সংসদ উপনেতা এবং বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্বও যে নারীরা পালন করছেন, সে কথা তুলে ধরেন। বলেন, ‘এটাকে আমরা কীভাবে ব্যাখ্যা করব? আমাদের পুরুষরা খুব দুর্বল? না তা নয়। তারা খুব কো-অপারেটিভ। আমি অবশ্যই বিষয়টির প্রশংসা করি।’

বাংলাদেশের সমাজ একসময় ‘খুব বেশি রক্ষণশীল’ ছিল জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের একটি সংবিধান দেন। সেই সংবিধানে বলা হয়েছে, নারী ও পুরুষ সমান অধিকার ভোগ করবে।’

টানা ১৩ বছর ধরে বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্ব দিয়ে আসা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে নারী নেতৃত্বের বিকাশে জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য ৫০টি আসন সংরক্ষিত রাখার বিষয়টিও তুলে ধরেন।

শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বাংলাদেশে দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে গণতন্ত্র পাওয়ার কথা তুলে ধরার পাশপাশি স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে দেশ গঠনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যার পর সামরিক শাসকেরা রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করলে নারীরা কোনো সুযোগ পায়নি।  সামরিক শাসকরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দীর্ঘ ২১ বছর বাংলাদেশ শাসন করেছে। দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে নারীদের উন্নয়নে কাজ শুরু করে। আমি যখন সরকার গঠন করি, তখন দেখলাম কোথাও নারীর কোনো জায়গা ছিল না। তারা ছিল পুরোপুরি অবহেলিত।আপনারা জানেন এই পৃথিবীর যেখানেই সামরিক শাসকেরা শাসন করেন… তারা খুবই রক্ষণশীল। কিন্তু আমি নারীদের জন্য সব কিছু উন্মুক্ত করে দিই।’

অনুষ্ঠানে নারীদের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন ক্ষমতাসীন দলটির সভাপতি। 

ছাত্রজীবন থেকে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘আমি দেশটাকে জানতাম, সমস্যাগুলো কী সেটা জানতাম। আমি আমার বাবার থেকে শিখেছি। আমার বাবা আমার মেন্টর। আমি শিখেছি আমার জনগণ ও দেশকে কীভাবে ভালোবাসতে হয় এবং দরিদ্র মানুষের জন্য কীভাবে কাজ করতে হয়।’

বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এভাবেই আমি জনগণের সমর্থন অর্জন করেছি। এটাই আমার মূল শক্তি। জনগণের সমর্থন, জনগণের বিশ্বাস… জনগণ অনুভব করে যে আমি যদি এখানে থাকি (রাষ্ট্র ক্ষমতায়), অবশ্যই তারা লাভবান হবে।’

এ সময় তিনি শোষিত বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন সংগ্রামের কথা তুলে ধরে জাতির পিতাকে হত্যার পর ছয় বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরার কথা উল্লেখ করেন।

যখন সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়, তখন বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। ছয় বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ১৯৮১ সালে দেশে ফিরেন দুই বোন। বড় মেয়ে শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামী লীগের হাল ধরেন। সেসব দিনের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশে ফেরার পর আমার চলার পথও মসৃণ ছিল না। সব খুনি, যুদ্ধাপরাধী, তারা সেই সময় ক্ষমতায় ছিল।… কিন্তু আমি সেগুলো পরোয়া করিনি। আমি ভেবেছি আমাকে জনগণের জন্য কাজ করতে হবে।’

কুয়েতে করোনায় আরো ৬১০ জন শনাক্ত’ সুস্থ ৯১২ জন এবং মারা গেছে ১ জন।

সোমবার, ০৭ মার্চ ২০২২, ২২ ফাল্গুন ১৪২৮, ০৩ শাবান ১৪৪৩ হিজরী

কুয়েতে গত ২৪ ঘণ্টার কোভিড-১৯ সংক্রমিত হয়েছে আরো ৬১০ জন, যাদের মধ্যে নাগরিক ও প্রবাসী রয়েছে।

একই সময়ে সুস্থ হয়েছে ৯১২ জন, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ১ জন।

আজ সোমবার (৭ই মার্চ ) কোভিড-১৯ ও ওমিক্রন বিষয়ক আপডেট ব্রিফিং-এ এই তথ্য নিশ্চিত করা হয় ।

হাসপাতালের আইসিইউতে আছেন ২৬ এবং করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন ১৪৮ জন, নিয়মিত চিকিৎসাধীন আছেন ৫,৭১৪ জন।

দেশে,করোনায় মৃত্যু ও শনাক্ত কমল

সোমবার, ০৭ মার্চ ২০২২, ২২ ফাল্গুন ১৪২৮, ০৩ শাবান ১৪৪৩ হিজরী

দেশে একদিনের ব্যবধানে করোনায় মৃত্যু ও শনাক্ত কিছুটা কমেছে।  গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৪৩৬ জনের।  যা গতকাল ছিল ৫২৯ জনে। এ নিয়ে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৪৭ হাজার ৭০২ জনে। 

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে  করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৮৯ জনে। 

সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ২০২০ সালের ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই বছর সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছিল ৬৪ জনের। 

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় গত বছর জুন থেকে রোগীর সংখ্যা হু-হু করে বাড়তে থাকে।  ২৮ জুলাই একদিনে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। 

২০২১ সালের ৭ জুলাই প্রথমবারের মতো দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৫ ও ১০ আগস্ট ২৬৪ জন করে মৃত্যু হয়, যা মহামারির মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। এরপর বেশকিছু দিন ২ শতাধিক মৃত্যু হয়। 

এরপর গত ১৩ আগস্ট মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ এর নিচে নামা শুরু করে। দীর্ঘদিন শতাধিক থাকার পর গত ২৮ আগস্ট মৃত্যু ১০০ এর নিচে নেমে আসে।

২০২০ সালের এপ্রিলের পর গত বছরের ১৯ নভেম্বর প্রথম করোনাভাইরাস মহামারিতে মৃত্যুহীন দিন পার করে বাংলাদেশ। সর্বশেষ দ্বিতীয়বারের মতো ৯ ডিসেম্বর মৃত্যুশূন্য দিন পার করেছে দেশ। 

ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণেই ছিল।  কিন্তু এরমধ্যেই বিশ্বে শুরু হয় ওমিক্রন ঝড়। ৩ জানুয়ারি দৈনিক শনাক্তের হার ৩ শতাংশ এবং ৬ জানুয়ারি তা ৫ শতাংশ ছাড়ায়। এরপর থেকে সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে শুরু করে। ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে আবারও নিয়ন্ত্রণে আসে করোনা পরিস্থিতি।  

কুয়েতে করোনায় আরো ৬৭০ জন শনাক্ত’ সুস্থ ৯২৮ জন এবং মারা গেছে ১ জন।

রোববার, ০৬ মার্চ ২০২২, ২১ ফাল্গুন ১৪২৮, ০২ শাবান ১৪৪৩ হিজরী

কুয়েতে গত ২৪ ঘণ্টার কোভিড-১৯ সংক্রমিত হয়েছে আরো ৬৭০ জন, যাদের মধ্যে নাগরিক ও প্রবাসী রয়েছে।

একই সময়ে সুস্থ হয়েছে ৯২৮ জন, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ১ জন।

আজ রবিবার (৬ই মার্চ ) কোভিড-১৯ ও ওমিক্রন বিষয়ক আপডেট ব্রিফিং-এ এই তথ্য নিশ্চিত করা হয় ।

হাসপাতালের আইসিইউতে আছেন ৩২ এবং করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন ১৭৯ জন, নিয়মিত চিকিৎসাধীন আছেন ৬,০১৭ জন।

দেশে করোনায় আরও ৮ মৃত্যু, শনাক্ত ৫২৯।

রোববার, ০৬ মার্চ ২০২২, ২১ ফাল্গুন ১৪২৮, ০২ শাবান ১৪৪৩ হিজরী

রাজধানীসহ সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে পুরুষ ৬ জন ও নারী ২ জন। মৃত ৮ জনের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ১ জন মারা গেছেন।

এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৮৫ জনে। মৃত্যুহার ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

আজ রোববার (৬ মার্চ) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা পরিস্থিতি সংক্রান্ত নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

একই সময়ে করোনা শনাক্তে নমুনা পরীক্ষায় নতুন ৫২৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ২ দশমিক শূন্য ৬৩ শতাংশ।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সরকারি ও বেসরকারি ৮৭৬টি ল্যাবরেটরিতে ২০ হাজার ৬২টি নমুনা সংগ্রহ ও ২০ হাজার ১৩২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ নিয়ে মোট শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৪৭ হাজার ২৬৬ জনে। আর মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১ কোটি ৩৫ লাখ ২৬ হাজার ৯৪১ জন।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত ও ১৮ মার্চ করোনা আক্রান্ত প্রথম রোগীর মৃত্যু হয়। ৬ মার্চ পর্যন্ত মোট মৃত ২৯ হাজার ৮৫ জনের মধ্যে পুরুষ ১৮ হাজার ৫৬৬ জন ও নারী ১০ হাজার ৫১৯ জন।

২০২০ সালের ৮ মার্চ থেকে আজ (৬ মার্চ) পর্যন্ত নতুন রোগী শনাক্তের হার ১৪ দশমিক শূন্য ৪০ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে ৩ হাজার ৩৪০ জন রোগী সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৪৩ হাজার ৩৩৮ জনে। রোগী সুস্থতার হার ৯৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত ৮ জনের মধ্যে ত্রিশোর্ধ্ব ১ জন, চল্লিশোর্ধ্ব ১ জন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১ জন, ষাটোর্ধ্ব ৩ জন এবং সত্তরোর্ধ্ব ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিভাগীয় হিসেবে করোনায় মৃত ৮ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪ জন, চট্টগ্রামে ২ জন এবং খুলনায় ২ জন মারা গেছেন।

ইউক্রেন ইস্যুতে পরোক্ষভাবে নীরব কেন মধ্যপ্রাচ্য?

রোববার, ০৬ মার্চ ২০২২, ২১ ফাল্গুন ১৪২৮, ০২ শাবান ১৪৪৩ হিজরী

ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র পুরো বিশ্বই যেন নতুন করে দলে-উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় দেশগুলো মিলে এক ধরনের মোর্চা গড়ে তুললেও যুদ্ধ-বিরোধী মনোভাব নিয়ে সারা বিশ্বই যে সেই মোর্চায় যুক্ত হয়ে পড়েছে- বাস্তবে সেটি ঘটেনি।

আবার রাশিয়ার প্রতি সহানুভূতিশীল রাষ্ট্রগুলো প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে পশ্চিমাবিরোধী আরেকটি জোটও গড়ে তোলেনি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা দেশগুলো আর রাশিয়ার মুখোমুখি অবস্থানের অনেক দেশই নিজেদের মতো করে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। ভিন্ন অবস্থানে থাকা দেশগুলোর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অবস্থান অত্যন্ত কৌতূহলোদ্দীপক।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কারো কারো সাথে যুক্তরাষ্ট্রের মাখামাখি, কারো কারো সাথে সীমাহীন বৈরীতা- বিশ্বব্যাপী নতুন একটি অস্থির পরিস্থিতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে সেদিকে সবারই কৌতূহলী দৃষ্টি ছিল। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘শাস্তিমূলক পদক্ষেপ’ আর বিরোধিতায় নাস্তানাবুদ হওয়া ইরান কী ধরনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তা নিয়েও কৌতূহলের কমতি ছিল না। বাস্তবতা হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো, বিশেষ করে প্রভাবশালী দেশগুলো এক ধরনের ভারসাম্যমূলক অবস্থানে নিজেদের সীমিত রেখেছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। সিরিয়া বরাবরের মতোই রাশিয়াপন্থি হিসেবে অবস্থান নিয়েছে। সিরিয়ার বর্তমান শাসককে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে রাশিয়ার সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে, কিংবা রাশিয়া বরাবরই বর্তমান সরকারের সহায়ক শক্তি হিসেবে পাশে থেকেছে। সিরিয়া রাশিয়ার পক্ষেই প্রকাশ্যে অবস্থান নেবে – এটাই স্বাভাবিক। রাশিয়ার হয়ে রাশিয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধে শামিল হতে সিরিয়া প্রস্তুত- এমন একটি বার্তা তারা আগেভাগেই দিয়ে রেখেছিল।

লেবানন এবং কুয়েত- দুটি দেশই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের দখলের শিকার হয়েছে এবং তাদের অবস্থান প্রতিবেশী দেশকর্তৃক অন্য দেশ দখল চেষ্টার বিপক্ষে। আরব দেশগুলোর মধ্যে লেবাননই সম্ভবত একমাত্র দেশ, যারা সরাসরি বিবৃতি দিয়ে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় বৈরুতে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন, ‘‘দুঃসময়ে কারা আমাদের পক্ষে থাকে, কারা বিরোধিতা করে সেটা আমরা সবসময় মনে রাখি।’’ আর কুয়েত জাতিসংঘের অধিবেশনে দেয়া বক্তৃতায় সরাসরি রাশিয়াকে ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তৃতা করেছে।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিশালী দেশগুলোর প্রায় সবার অবস্থানই অনেকটা ‘ফেন্স সিটারের’ ভুমিকায়, অনেকটা বেড়ায় বসে বসে পরিস্থিতি অবলোকন করার মতো। তারা সরাসরি রাশিয়ার বিরোধিতায় নামছে না, আবার যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষেও সোচ্চার হয়ে উঠছে না। বরং আমেরিকাকে কিছু বার্তা দিয়ে তারা অনেকটা ভারসাম্যমূলক একটা অবস্থানে থাকার চেষ্টা করছেন।

এদের মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), সৌদি আরব এবং মিশর। এই তিনটি দেশেরই যুক্তরাষ্ট্রের নানা ধরনের টানাপড়েন আছে। আবার মধ্যপ্রাচ্যের অনেক সরকার প্রধানের সাথেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুটিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক বিদ্যমান। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বিদ্যমান এই বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে কৌশলী অবস্থান নিচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযানের পর ২৮ ফেব্রুয়ারি আরব লীগ যে বিবৃতি দেয় তাতে রাশিয়া যে আগ্রাসন চালিয়েছে’- তার উল্লেখ ছিল না। পরিস্থিতিকে একটি সংকট হিসেবে উল্লেখ করে কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছিল। এখন পর্যন্ত তারা এই অবস্থান থেকে তেমন একটা সরে যায়নি। ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের বিভিন্ন কার্যক্রমেও তাদের এই অবস্থানই ছিল। এমনকি রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিন্দা জানাতে এবং ইউক্রেনে সামরিক অভিযান বন্ধে জাতিসংঘের দুটি অধিবেশনে ভোটাভুটিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত অনুপস্থিত থেকেছে। অথচ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে অস্থায়ী সদস্য একমাত্র আরব দেশ এই সংযুক্ত আরব আমিরাত।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এই সভায় ইউক্রেন নিয়ে জাতিসংঘের প্রস্তাবে ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে ১৪১টি দেশ পক্ষে এবং ৫টি দেশ বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। ৩৫টি দেশ ভোটদানে বিরত থেকেছে। পক্ষে ভোট দেয়া ৫টি দেশের একটি দেশ হচ্ছে সিরিয়া। ভোটদানে বিরত থাকা দেশগুলোর মধ্যে ইরান, ইরাকসহ বেশ কয়েকটি মধ্যপ্রাচ্যের দেশ রয়েছে।

এর বাইরে ইরানের অবস্থানটা অবশ্যই আলাদাভাবে আলোচনার দাবি রাখে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা অর্থনৈতিক অবরোধের ধাক্কায় ঠোকর খেতে খেতে এগিয়ে চলা ইরানের অবস্থান এবং ভূমিকার দিকে সঙ্গত কারনেই সবার কৌতূহলী দৃষ্টি। ইরান সরকার নিজেদের ‘ভারসাম্যমূলক’ অবস্থানে থাকার দাবি করলেও দেশটির উদারপন্থি বুদ্ধিজীবী এবং জনসাধারণের কাছে কাছে সেটি ভিন্ন রকম।

২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউক্রেনে হামলার পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে বক্তব্য দেন। তিনি ‘ন্যাটোর উসকানিমূলক অবস্থান’ এই পরিস্থিতি সৃস্টি করেছে বলে উল্লেখ করেন। সারা বিশ্ব যখন ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের সমালোচনায় মুখর, তখন ইরানের এই অবস্থান পর্যবেক্ষকদের মনোযোগ কাড়ে। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ইরান রাশিয়ার সামরিক হামলার সমালোচনা পর্যন্ত করেনি।

তবে রাশিয়ার ইউক্রেন অভিযানের দুদিনের মধ্যেই ইরানে রাশিয়াবিরোধী, যুদ্ধবিরোধী সমাবেশ হয়েছে। সংখ্যায় স্বল্প সংখ্যক লোকের উপস্থিতিতে সেই প্রতিবাদ হলেও সেটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন ইরানের উদারপন্থিরা। সেই সমাবেশে রাশিয়ার আগ্রাসনের পাশাপাশি ইরান সরকারের ভূমিকারও সমালোচনা হয়েছে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়। তবে ইরানের ক্ষমতা বলয়ের অবস্থানটা অবশ্যই অন্যরকম।

পশ্চিমের বিরোধিতা এবং আমেরিকার শাস্তিমূলক অবরোধে থাকা ইরান নিজেদের অস্তিত্বের কারণে পূবমূখী নীতিমালা নিয়ে টিকে থাকার লড়াই করেছে। রাশিয়ার সহযোগিতা সে পেয়েছে, চীনের সঙ্গেও তার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। ইরান তার নিজের অস্তিত্বের জন্যই ‘মস্কো- বেইজিং’ বেড়াজাল গড়ে তুলেছে। সেই বেড়াজালের বেষ্টনিতে থেকে ইরানের কৌশলী অবস্থানের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। ইরান অনেকটা সেই কৌশল অবলম্বনই করার চেষ্টা করছে ইউক্রেনকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে।

ইরান একবারের জন্যও রাশিয়ার সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেনি, তবে যুদ্ধ বা সামরিক অভিযান যে সমস্যার সমাধান নয়- সে কথা বলেছে, বার বার বলছে। কূটনৈতিক উদ্যোগের তাগিদ দিচ্ছে। ইরানের এই তাগিদের সাথে চীনের বক্তব্যের সামঞ্জস্য পাওয়া যায়। চীনও বলছে, আলোচনার মাধ্যমে এই পরিস্থিতির সমাধান করা হোক, চীন আলোচনায় মধ্যস্থতা বা কোনো ধরনের ভূমিকা রাখার আকাঙ্খাও প্রকাশ করেছে। ইরান আবার বর্তমান যুদ্ধপরিস্থিতির জন্য ন্যাটোকেই দায়ী করছে। ন্যাটোর সম্প্রসারণ উদ্যোগ স্বাধীন আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করছে, যা আসলে রাশিয়ার বক্তব্যেরই প্রতিধ্বণি।

ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সরকারের অবস্থান যা-ই হোক না কেন আরব দেশগুলোর কোথাও যুদ্ধবিরোধী বড় ধরনের কোনো বিক্ষোভ বা প্রতিবাদ হতে দেখা যায়নি। কারণ, একইভাবে ফিলিস্তিনে ইসরাইলের আগ্রাসন নিয়ে নীরবতা পালন করেছে আমেরিকা ও ইউরোপ। এছাড়াও ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাও দায়ী বলে মনে করেন তারা। সূত্র: ডয়চে ভেলে।

সুত্র ঃ- https://www.facebook.com/318792851589933/posts/2577218425747353/

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত।

রোববার, ০৬ মার্চ ২০২২, ২১ ফাল্গুন ১৪২৮, ০২ শাবান ১৪৪৩ হিজরী

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তের ওপার ভারত ভূ-খন্ডে বিএসএফ’র গুলিতে লিটন বিশ্বাস (৩২) নামে এক বাংলাদেশী মাদক চোরাকারবারী নিহত হয়েছে। সে দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের সীমান্ত সংলগ্ন বিলগাথুয়া গ্রামের আকবর আলী বিশ্বাসের ছেলে। গতরাত (শনিবার) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, লিটন বিশ্বাসের নেতৃত্বে একদল মাদক চোরাকারবারী ভারত থেকে মাদক পাচার করছিল। এসময় ১৫১-৬(এস) সীমান্ত পিলার সংলগ্ন ভারতের নদীয়া জেলার হোগলবাড়িয়া থানার মেঘনা সীমান্তে ১৪১ বিএসএফ কমান্ডেন্ট অধিনস্থ মেঘনা ক্যাম্পের টহলরত বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে লিটন বিশ্বাস নিহত হলে অপর মাদক চোরাকারবারীরা বাংলাদেশ সীমানায় পালিয়ে আসে। পরে বিএসএফ লিটন বিশ্বাসের লাশ উদ্ধার করে হোগলবাড়িয়া থানায় সোপর্দ করে।

বিএসএফ’র গুলিতে বাংলাদেশী চোরাকারবারী নিহত হওয়ার বিষয়ে ১৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনস্থ প্রাগপুর বিজিবি কোম্পানী কমান্ডার (ভারপ্রাপ্ত) নায়েক সুবেদার আমজাদ হোসেন স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, এ ঘটনার এখনও সত্যতা পায়নি এবং পরিবারের পক্ষ থেকেও কোন অভিযোগ করা হয়নি। তবে প্রাগপুর ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল সরকার এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার বলেছেন, বিএসএফ’র গুলিতে লিটন নামে এক মাদক চোরাকারবারী নিহত হয়েছে। লাশ ফেরতের বিষয়ে বিজিবি’র কাছে বিএসএফ কোন পত্র দেয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কুয়েতের একটি আদালত স্ত্রীকে হত্যার দায়ে একজন নাগরিককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে।

রোববার, ০৬ মার্চ ২০২২, ২১ ফাল্গুন ১৪২৮, ০২ শাবান ১৪৪৩ হিজরী

আসামী তার স্ত্রীকে বার আল-সালমিতে মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে হত্যার করার পর আবর্জনার স্তুপে ফেলে দিয়েছিল।
@almajlliss #Kuwait

কুয়েত থেকে হজযাত্রীদের সুবিধার্থে সৌদিআরব কর্তৃক নেওয়া নতুন সুবিধাগুলি ঘোষণা করেছে আওকাফ।

রোববার, ০৬ মার্চ ২০২২, ২১ ফাল্গুন ১৪২৮, ০২ শাবান ১৪৪৩ হিজরী

কুয়েতের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের বিদেশ বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারী নাসের আল মুতাইরি ওমরা পালনে সৌদি আরব কতৃক ঘোষিত সুবিধাসমূহ ঘোষণা করেছেন।

করোনা পরবর্তী সৌদি সরকার কতৃক ঘোষিত সুবিধা সমুহ নিম্নরূপঃ
#মাস্ক পরা অব্যাহত রেখে গ্র্যান্ড মসজিদ ও নবীর মসজিদে, শারীরিক দূরত্বের ব্যবস্থার প্রয়োগ বন্ধ করা হয়েছে।

#সৌদিআরবে প্রবেশের আগে (পিসিআর) পরীক্ষা বাতিল করা এবং রাজ্যে আসা ব্যক্তিদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক এবং হোম কোয়ারেন্টাইনের আবেদন বাতিল করা হয়েছে।

মক্কা ও মদীনায় থাকার সময়কালে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে চিকিৎসার খরচ মেটাতে বীমা প্রয়োজন রয়েছে বা তাহা এখনো বলবৎ আছে।

যাহা আজ রবিবার (৬ মার্চ ) থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

কুয়েত থেকে ২০২২ সালে স্থল বন্দরগুলি খোলার বাসে চড়ে ওমরাহ পালনকারী হাজীর সংখ্যা ২০০০ ছাড়িয়ে গেছে।